ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

১৬তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_১৬

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কোনো প্রকার নক না করেই ধাম করে দরজাটা খুলল কল্পনা।সাহিত্য তখন স্টাডি টেবিলের উপরে রাখা অ্যাশ হোল্ডারে সি'গা'রে'ট দাবাচ্ছে।হঠাৎ কল্পনাকে দেখে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার।

"কতবার বলেছি,পারমিশন ছাড়া রুমে ঢুকবি না"

সাহিত্যের কথার উত্তর দিল না কল্পনা।কাপা গলায় বলল,

"আপনি সি'গা'রে'ট খান?"

"মাইন্ড ইয়র ওন বিজনেস"

কল্পনার উত্তর এর বদলে শক্ত কন্ঠে বলল সাহিত্য।

"কেন খান?কবে থেকে এগুলো খাওয়া শুরু করলেন?"

"আমি কি করি না করি এখন মানুষকে কৈফিয়ত দিতে হবে?গেট আউট অফ মাই রুম"

কল্পনা ঠায় দাঁড়িয়ে রইল,

"কানাডায় গিয়ে এগুলোর অভ্যাস করেছেন,তাই না?কিন্তু আপনি তো এগুলো ছুঁয়ে দেখার মানুষ না"

কটমটিয়ে উঠল সাহিত্য,

"শুধু সি'গা'রে'ট কেন?ড্রিংকসও করি আমি।তোর কোনো সমস্যা?আমার লাইফের ডিসিশন আমি নিব।আমার মন যেটা চাইবে সেটা করব আমি"

কল্পনা এবার সাহিত্যের দিকে অনেকটা এগিয়ে এলো।ভারী ভারী শ্বাস নিচ্ছে মেয়েটা,

"এই সি'গা'রে'টের জন্য বড় বাবা সাতদিন হসপিটালে ভর্তি ছিল মনে নেই আপনার?সেটা জেনে শুনেও আপনি এগুলো খাচ্ছেন?যদি কিছু হয়ে যায়?"

আগের ন্যায় শক্ত ও শীতল কন্ঠে বলল সাহিত্য,

"কি হবে বড়জোর?ম'রে যাব?ম'রলাম।তাতে তোর কি?"

সবচেয়ে আপন ব্যক্তির মুখে এমন কথা শুনে আর তাকে ভুল পথ থেকে ফেরত আনার উদ্দেশ্যেই মনে হয় শরীর আপনাআপনিই সচল হলো কল্পনার।

কল্পনা যে এমন হঠাৎ চড় বসিয়ে দিবে সাহিত্যের গালে সেটা চিন্তাও করতে পারেনি সাহিত্য।যার দরুণ এখনো ডান পাশে ঘাড় কাত করে দাঁড়িয়ে আছে সে।

কাপা আঙুল উঁচিয়ে ভাঙা গলায় বলতে লাগলো কল্পনা,

"খবরদার যদি আর কখনো এমন কথা মুখ দিয়ে বের করেছেন,তাহলে আমি নিজ হাতে আপনাকে মে'রে ফেলব"

কথা শেষে ঘুরে চলেই যাচ্ছিল কল্পনা।কিন্তু সম্পুর্ণ না ঘুরতেই তার দুই বাহু শক্ত করে ধরে নিজের দিকে ঘুরালো সাহিত্য।রা'গে চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে সাহিত্যের।একদম কল্পনার মুখের সামনে মুখ নিয়ে গর্জে উঠলো সে,

"এতো কীসের অধিকার খাটাস তুই আমার উপর?কোন অধিকারে আমাকে শাসন করিস?তোর জন্য আমার পুরো লাইফ চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছে।তোকে অত আদর,ভালোবাসা দিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মে'রেছি আমি।তুই আমার জীবনে অ'ভি'শা'প হয়ে এসেছিস।তুই আমার জীবনে না এলেই সব ঠিক থাকতো"

সাহিত্য জোরে জোরে ঝাঁকুনি দেওয়ার ফলে ধরে রাখা হাতের বাহু দুটো অসহ্য যন্ত্রণা করছে কল্পনার।কিন্তু কয়েক মুহুর্তের জন্য যেন ভুলে গেল সেই যন্ত্রণা।বুকের যন্ত্রণার কাছে যেন সেটা ফিকে পড়ে গিয়েছে।মনের সবচেয়ে কাছের মানুষটাই যখন বলে তার জীবনের অ'ভি'শা'প কল্পনা,তাহলে মনের যন্ত্রণা বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক।মনের যন্ত্রণা চোখ জোড়া দিয়ে বেড়িয়ে এলো কল্পনার।নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলতে লাগলো সে।

সাহিত্য একপ্রকার ধাক্কা দিয়েই ছেড়ে দিল কল্পনাকে।যার দরুণ টাল সামলাতে না পেড়ে মেঝেতে পড়ে গেল কল্পনা।রা'গে ফুসতে নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে গেল সাহিত্য।এদিকে মেঝেতে মাথা নিচু করে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলেই যাচ্ছে মেয়েটা।শরীরখানা মৃদু কেপে উঠছে মাঝে মাঝে।আশেপাশের কোনো পরিস্থিতিই যেন কল্পনার সঙ্গ দিচ্ছে না।একাই সবদিকে সামলাতে গিয়ে যেন হাপিয়ে উঠেছে মেয়েটা।মাঝে মধ্যে মনে হয় সব কিছু ফেলে রেখে দু চোখ যেদিকে যায় সেদিকেই চলে যাক।এসব আর যেন ভালো লাগে না।মনের কথাগুলো খুলে বলার মতো আপন কেউ নেই মনে হয়।সবার কাছেই যেন বোঝা হয়ে আছে সে।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

দুপুরের রোদ গড়িয়ে রাত সেই কখন হয়েছে।কিন্তু সাহিত্য এখনো বাড়ি ফেরেনি।স্বাভাবিকভাবেই সবাই মনে করেছে অফিসের কাজেই হয়তো বেড়িয়েছে।কিন্তু আসল কারণ তো শুধু কল্পনাই জানে।

নিজের উপর যে কি পরিমাণের রা'গটা উঠছে।কোন সাহসে সাহিত্য ভাইয়ের গালে ঠাডিয়ে একটা চড় মা'রতে গিয়েছিল?স্বাভাবিকভাবেই তো বলা যেত।এতো ইমোশনাল হয়ে পড়ার দরকারটাই কি ছিল?

গাড়ি নিয়ে কই বেড়িয়ে গিয়েছে,কখন আসবে আল্লাহই জানে।সেই টেনশনে মাথা ফেটে যাচ্ছে কল্পনার।এখন সে যদি কল করে সেই কল তো জীবনেও ধরবে না।কোনো উপায় না দেখে শেষে অন্তর কাছেই গেল কল্পনা।

কল্পনা তাকে বুঝিয়েই বলল যে এমনি জিজ্ঞেস করতে যে কই আছে সাহিত্য। আর এই অন্ত আগ বাড়িয়ে বলে উঠল,

"হ্যালো ভাইয়া।কই তুমি?তুমি দেরি করছো দেখে কল্পনা টেনশন করছে"

অমনি অন্তর পিঠে দুম করে একটা বারি বসিয়ে দিল কল্পনা।আগ বাড়িয়ে ওটা বলার দরকার ছিল?

ক্ষণিক নিরবতার পর ফোনের ওপাশ থেকে গম্ভীর গলা শোনা গেল,

"ওকে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁ'সি দিতে বল।আমার খেয়াল আমি নিজে রাখতে পারি"

বিপ বিপ করে কল কে'টে গেল।ফোনের পাশে দেখে অন্ত হালকা শ্বাস ছেড়ে কল্পনার দিকে ঘুরল,

"শুনলি তো।তোকে গলায় দড়ি দিতে বলল"

তেতে উঠল কল্পনা,

"তোমাকে যে বললাম আমার কথা বলো না।দেখলে তো।এখন এই রাতে কই আছে কে জানে? দুপুরেও কিছু খায়নি"

অন্ত ভ্রু কুচকালো,

"কিছু হয়েছে কি?"

আমতা আমতা করতে লাগলো কল্পনা,

"না না।ওই তখন হুট করে বের হয়ে যেতে দেখলাম তো তাই বলছি।তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।আমি গেলাম"

বলেই কল্পনা রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।অন্ত আর এ বিষয় নিয়ে তেমন মাথা ঘামালো না।কল্পনা মানেই সাহিত্য ভাইয়ের টেনশন করবে।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

অন্তর সাথে কথা শেষে কল কে'টে গাড়ির ভেতরে ছুড়ে মা'রল ফোনটা।রাস্তার সাইডে গাড়িতে হেলান দিয়ে একদম কিনারে দাড়িয়ে আছে সাহিত্য।টাউনের অনেকটা বাইরেই চলে এসেছে।দিনের বেলা গরম হলেও রাতে হালকা শিরশিরানি বাতাস আছে।দুরের বিল্ডিং এর আলোর কারণে রাতের অন্ধকারটা তেমন ভারী না।

জানালা দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে গাড়ি থেকে সি'গা'রে'ট ও লাইটার বের করল সাহিত্য।মুখে ধরতে গিয়ে হাত থমকে গেল তার।দুপুরে কারো চোখ থেকে অঝোরে গড়িয়ে পড়া পানির দৃশ্য ভাবনায় ভেসে উঠল।আজ মনে হয় প্রথমবার ওই ব্যক্তি সাহিত্যের সামনে কেঁদেছে আর সাহিত্য তার চোখের পানি মুছে দেয়নি।অযথা আগ বাড়িয়ে সাহিত্যের জন্য কাঁদার কি দরকার ছিল?সাহিত্য কি তাকে নিজের জন্য কাঁদতে বলেছে?নাকি আগে বলেছিল?তারপরেও সাহিত্যের রা'গ উঠলে কোনো কারণ ছাড়াই সাহিত্যের সামনে এসে কাঁদতে শুরু করে দিবে।তার একটাই কথা,'ভাইয়া তুমি আমার কারণে রাগ হয়েছো,তাই না?'

আমেনা শেখ সেবার সাহিত্যকে না জিজ্ঞেস করেই কাজের বুয়া দ্বারা সাহিত্যের রুম পরিষ্কার করিয়েছিলেন।সেই সময় সাহিত্য ছিল বাড়ির বাইরে।বাড়িতে এসে নিজের রুমের এমন গোছালো অবস্থা দেখে মাথায় হাত দিয়েছে সাহিত্য।কারণ বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে একটা পেইন্টিং অর্ধেক করে রেখে গিয়েছিল।সেই পেইন্টিং এর প্রয়োজনীয় রঙ মিক্স করে পেইন্টিং প্যালেটে ছড়াছিটা করে রেখে গিয়েছিল সে।কিন্তু এখন সেই প্যালেট ঝকঝকে হয়ে টেবিলের এক সাইডে রাখা।সেটা দেখে শরৎকালেও মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেনি সাহিত্য।হুং'কার ছাড়তে ছাড়তে নিচে নামে,

"আমি কতবার বলেছি,আমার জিনিসপত্রে হাত দিবে না।তারপরেও আমার রুমে কে ঢুকেছিল?"

বাড়ির তিন গিন্নি রান্নাঘরে ছিলেন।সাহিত্যের হুং'কারে চমকালেন তিনজনই।কিন্তু রান্নাঘর থেকে শুধু আমেনা শেখ বের হলেন,

"কি হলো আবার?এমন চিল্লাচ্ছিস কেন?"

"আমার রুম কে পরিষ্কার করতে বলেছে তোমাকে?"

"তো কি হয়েছে?ময়লা রুম পরিষ্কার করতে হবে না?রঙ তো আশপাশ ছড়িয়ে রাখিস সব সময়"

"প্রয়োজন দেখেই তো ছড়িয়ে রাখি,তাই না?"

"কি এমন আজগুবি প্রয়োজনে রঙগুলো এমন ছিটিয়ে রাখিস বলতো দেখি"

রাগে এখনো ফুসছে সাহিত্য,

"একটা ইমেজিনারি কালারের সেড তৈরি করতে কত খাটাখাটুনি করতে হয়,জানো?আর সেটা সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে দিয়েছো একদম"

ছেলের হুং'কার গায়ে মাখালেন না আমেনা শেখ।হাতের পানি আঁচলে মুছতে নিয়ে শুধালেন,

"তো আবার ইমেজিন করে তৈরি করে নিবি"

সাহিত্যের রা'গটা আরেক ধাপ বাড়লো সেই কথায়।পায়ের কাছের ছোট টি-টেবিলটাতে এক লাথি মে'রে হনহন করে নিজের রুমে চলে এলো সাহিত্য।

"ভাইয়া দেখো,আজকে আমি তিনটা রঙ্গন ফুল এনেছি"

সাহিত্য রুমে ঢুকতেই ছোট কল্পনার কন্ঠ কানে এলো।বিছানার উপর পা ঝুলিয়ে বসে হাতের ফুলগুলো সাহিত্যকে দেখাচ্ছে।হাতে-পায়ে,নাকে-মুখে মাটি লেগে আছে।শুভ্রা রঙা জামাটাতেও বেশ ময়লা লাগা।সাহিত্য চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।রা'গটা এখনো কমেনি তার।

"কল্পনা এখন বাইরে যা।আমি ব্যস্ত আছি"

"কেন কি হয়েছে?"

"পরে বলব।এখন বাইরে যা"

"আমি তো তোমার জন্যই ফুল এনেছি।রা'গ করেছো কি?"

"না কল্পনা।আমি রা'গ করিনি। তুই এখন বাইরে যা"

সুক্ষ্ম বিরতির পর নাক টানার শব্দ পাওয়া গেল,

"আমি ফুল ছিড়েছি দেখে তুমি রা'গ করেছো,তাই না?"

সাহিত্য ভড়কে গেল,

"না রে পাখি।বললাম তো আমি রা'গ করিনি"

আবার নাক টানল কল্পনা,

"না।তুমি রা'গ করেছো।তোমার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে"

"আমি তোর উপর রা'গ করিনি কল্পনা। চুপ কর আর বাইরে যা তো এখন"

সাহিত্যের হালকা কড়া কথায় এবার কেঁদে দিল কল্পনা,

"আমি আর ফুল ছিড়বো না।আমার উপর রা'গ করিও না ভাইয়া,প্লিজ"

সাহিত্য যেন পুরো আহাম্মক বনে গেল।দৌড়ে এসে কল্পনার চোখের পানি মুছতে লাগলো,

"বললাম তো আমি, তোর উপর রা'গ করিনি জানপাখি। কেন কাঁদছিস?"

"তুমি রা'গ করেই থাকবে কেন?তুমি রা'গ করে আছো মানেই আমার উপর রা'গ করে আছো"

কল্পনার এসব অযৌক্তিক কথার উত্তর কি দিবে সাহিত্য ভেবে পেল না।অতঃপর কল্পনাকে কোলে তুলে নিল,

"আচ্ছা ঠিক আছে, আমি রা'গ হয়ে থাকবো না।এই দেখ আমি হাসছি।এখন তো চুপ যা,জানপাখি টা আমার।প্লিজ"

কল্পনা কান্না মৃদু কমিয়ে সাহিত্যকে পরখ করতে লাগলো।ক্ষণিক সময় পরে আবার বলে উঠল সে,

"না তুমি এখনো রা'গ করে আছো।তুমি রা'গ হলে তোমার কান লাল হয়ে থাকে"

এই সেরেছে!রা'গ থাকা সত্ত্বেও তো মুখের ভাব-ভঙ্গি বদলেছে।কিন্তু এখন কান কেমন করে ঠিক করবে?হালকা শ্বাস ফেলে কল্পনাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমের দিকে হাঁটা দিল সাহিত্য।মিনিট দশেক পর ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে এলো।মাথা মুখসহ কালো গেঞ্জির প্রায় অর্ধেকই ভেজা।রা'গ থামাতে গিয়ে কতগুলো পানিতে যে মাথা ডুবিয়ে রেখেছিল কে জানে?কিন্তু তবুও যেন রা'গকে হার মানিয়েছে।

সেই ভেজা অবস্থায়ই কল্পনার সামনে এসে হাটু গেড়ে বসল সাহিত্য।ঠোঁটে হালকা হাসি ঝুলিয়ে বলল,

"এবার ঠিক আছে,জানপাখি?"

হাতের ফুল তিনটা পাশে বিছানায় রেখে ছোট ছোট দুই মাটি মাখা হাত সাহিত্যের গালে ঠেকিয়ে ধরল কল্পনা।উপর-নিচ মাথা ঝাকিয়ে বলল,

"হুম,এবার ঠিক আছে।অযথা রা'গ করিও না তো।আমার একদম ভালো লাগে না তুমি রা'গ করলে"

কোমল দৃষ্টি কল্পনার উপর রেখেই সাহিত্য তার পুরুষালী এক হাত কল্পনার ছোট নরম হাতের উপর রেখে ধীমি আওয়াজে শুধালো,

"তোর জন্য শান্তি মতো একটু রা'গও করতে পারি না"

'খবরদার যদি আর কখনো এমন কথা মুখ দিয়ে বের করেছেন,তাহলে আমি নিজ হাতে আপনাকে মে'রে ফেলব'

দুপুরে বলা কল্পনার কথাটা আবার সাহিত্যের কানে বেজে উঠল।

হাতের সি'গা'রে'ট ও লাইটারটা আর ধরে রাখতে পারল না। রা'গে কটমট করে উঠে দূরে ছুড়ে মা'রল সেগুলো।

"আজ মাথায় রা'গ উঠার পরেও সি'গা'রে'ট হাতে নিতে পারছি না কেন?ওর কথা কেন বার বার মনে আসছে? তোকে ঘৃ'ণা করার পরেও তোর ছোট ছোট অনেক স্মৃতি কেন আমার মনে আছে এখনো?"

হুং'কার দিয়ে উঠে বাসার বাটা স্যান্ডেল পড়ে থাকা পা দিয়েই গাড়িতে সজোরে একটা লাথি মা'রল সাহিত্য।ঘুমন্ত পক্ষিকুলের কিছু প্রাণী যেন হালকা সতর্ক হলো সাহিত্যের হুং'কারে।অতঃপর আশেপাশের নিস্তব্ধতা মুহূর্তেই যেন সাহিত্যের সেই হুং'কার গ্রাস করে নিল।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বাড়ির সবাই যখন গভীর ঘুমে তলিয়ে তখন সাহিত্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাসায় ফেরার।কিন্তু কেউ একজন যে আরামের ঘুম না দিয়ে তার অপেক্ষাই বসে থাকবে সেটা মনে হয় অন্তত সাহিত্য কখনো ভেবে দেখেনি।

ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে গেট খুলে বাসায় ঢুকতেই লাইট জ্বালানো ড্রয়িং রুমের দিকে নজর গেল।সেখানে থাকা এক জোড়া ছলছল চোখের দেখা মিললো সাহিত্যের।নাকের ডগা ও গালগুলোও কেমন লাল হয়ে আছে কল্পনার।সাহিত্যকে দেখা মাত্রই ধড়ফড় করে উঠে দাড়ালো।ক্ষণে ক্ষণে নাক টানছে মেয়েটা। সাহিত্য তাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে লাগলো।পেছন থেকে কান্না জড়িত কাপা গলায়ই বলে উঠল কল্পনা,

"সরি সাহিত্য ভাই।আমি অমন কিছু করতে চাইনি।আপনার ওই কথাটা শুনে খুব খা'রা'প লেগেছিল।অন্তত আপনার ব্যাপারে অমন কথা আমি সহ্য করতে পারব না"

দাঁড়িয়ে পড়ল সাহিত্য।কিন্তু পেছনে ঘুরল না।এই মেয়েটা বার বার এমন করে কেনই বা কথাগুলো বলে?সে কি বুঝে না,যে সাহিত্য তাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে।সাহিত্য কোনো কিছু না বলে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে কল্পনা চোখের পানি মুছে আবার শুধালো,

"টেবিলে আপনার জন্য খাবার রেডি করে রেখেছি।আমি দিলে তো মনে হয় না খাবেন।তাই কষ্ট করে একটু খেয়ে নিয়েন।আর.......এখন থেকে আপনাকে আর জ্বালাতে আসবো না।আপনার পার্সোনাল স্পেসেও ঢুকবো না।এতদিনের জন্য সরি"

বলেই সাহিত্যকে পাশ কে'টে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল কল্পনা।সেপাশে কিছুক্ষণ দেখে থাকল সাহিত্য।ঠায় সেখানেই দাঁড়িয়ে থেকে কি যেন আনমনে ভাবতে লাগলো সে।অতঃপর কোনোপাশে না ঘুরে সোজা নিজের রুমে চলে গেল।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

শুক্রবার সকালে ডাইনিং টেবিলে কল্পনাকে না দেখতে পেয়ে মহুয়া বেগম শুধালেন,

"কি ব্যাপার?আজ তো শুক্রবার।সবাই আছে কল্পনা নেই কেন?"

অনু বলে উঠল,

"দাদী, আপুর পরীক্ষা চলছে তো তাই পড়াশোনা ইদানীং একটু বেশি করছে"

"ভালো কথা বই পড়ছে।কিন্তু বেশি পড়তে গিয়ে আবার অসুস্থ যেন না হয়ে পড়ে।সেদিকে খেয়াল রাখিও বউমা"

শেষের কথাটা হেনা শেখের দিকে ঘুরে বললেন মহুয়া বেগম।শাশুড়ীর কথায় মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানালেন হেনা শেখ।

পাঁচ দিন হচ্ছে কল্পনা বাড়ির তেমন কারো চোখে পড়েনি।সাহিত্যও সেদিন রাতে মেয়েটাকে কাঁদতে দেখেছিল তারপর আর দেখেনি।এমনকি আর কোনো চিঠিও দেয়নি কল্পনা।

বাড়ির সবচেয়ে চঞ্চল মেয়েটা রুমে থাকায় পুরো বাড়ি যেন চুপ মে'রে গিয়েছে।হাউকাউ নেই, দৌড় ঝাপ নেই।সব একদম শান্ত।

হয়তো বা কারো একজনের মন এই শান্ত আবহাওয়ায়ও ছটফট করছে।কোনো নতুন চিঠি পড়ার জন্য হাত উসখুস করছে।কিন্তু সেই অনুভূতিকেও দাবিয়ে রেখেছে সেই ব্যক্তি।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন