#পর্ব_২২
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
মাইন্ড ক্রাফটস গেমে লেভেল আপ করলেও মনে হয় ছেলেদের এতো কনফিডেন্স বাড়ে না যতটা বর্তমানে কল্পনার কনফিডেন্সের মাত্রার পরিমাণ বেড়েছে।কারণ তার রিস্ক নিয়ে তৈরি করা প্লানের প্রথম ধাপ যে সে পার করেছে! যেখানে সেটাই তার কাছে অসম্ভব মনে হচ্ছিল।সাহিত্য ভাইয়ের মন গলানো।অবশ্য এটা হলো কেমন করে সেটা নিয়ে কল্পনা এখনো গভীর দ্বিধা-দ্বন্ধে ভুগে মাঝে মাঝে।কিন্তু প্রতিবার চিন্তায় ব্যর্থ হয়ে লাজুক হাসিতে ফেটে পড়ে।হয়েছে হোক না।এতো ভাবার কী আছে?তার সাহিত্য ভাই যে মোটেও বদলে যায়নি এতেই যেন বার বার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মেয়েটা।আর মাঝে মাঝে কি সুন্দর করে ডাকবে "জানপাখি"। উফ্!!
কিন্তু মনে মনে খুশি হলেও এটা নিয়েই আবার ভয় পায় কল্পনা।সাহিত্য ভাইয়ের প্রতি এমন কিছু অনুভব করা কি ঠিক হচ্ছে তার?কল্পনা নিজেকে অনেকবার শক্ত রাখার চেষ্টা করেছে।কিন্তু সাহিত্য ভাই এমন করে দেখে যে এখন পর্যন্ত ন্যানো সেকেন্ডের চেয়ে এক মুহুর্তের জন্যও বেশি সময় তাকিয়ে থাকতে পারেনি সেই চোখ জোড়ার দিকে।বুকটা কেমন দুরুদুরু করে।তার সাথে আবার সেই ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউম।মাঝে মাঝে মন চায় সাহিত্য ভাইয়ের সামনেই যেন না পরে সে।আবার মাঝে মাঝে মন চায় লাজ-লজ্জা সব ফেলে দিয়ে আবার সেই ছোটবেলার মতো গিয়ে সাহিত্য ভাইয়ের গা ঘেষে বসে সেই পারফিউমের সুঘ্রাণ নিক।
বেলকুনির রেলিং এ ঝুলে ঝুলে সেই বে'হায়া চিন্তা করা থেকে মাথা ঝাকিয়ে নিজেকে বের করল কল্পনা।আপাতত এসব ফল বিহীন ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে আসল কাজে মন দেওয়া উচিৎ তার।অনেক ছাড় দিয়েছে।এবার কোমড়ে ওড়না বেধে বাড়ির দুই গিন্নির পেছনে লেগে পড়তে হবে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সাধারণত বাড়ির তিন গিন্নিরা রান্নার কাজ ভাগাভাগি করে নেন।এতে ঝামেলা অনেকটাই কম হয়।আর সেক্ষেত্রে একজনের উপর বেশি চাপও পড়ে না।আগে তেমন অসুবিধা হতো না।কিন্তু এই ১১বছর পর আমেনা শেখ ও হেনা শেখের যেন একটু সমস্যাই হয় মাঝে মাঝে।কিন্তু লতিফা শেখ আদরের ছোট জা হিসেবে সেটাও মিটমাট করিয়ে দেন বড় দুই জা এর মাঝে।
আজ দুপুরের সবজি রান্নার দায়িত্ব হেনা শেখ নিয়েছেন।আমেনা শেখ দেশি মুরগীর রান্না চুকিয়ে কিছুক্ষণ আগেই বেড়িয়ে গেলেন।
গিন্নিদের চোখের আড়ালে কল্পনা রান্নাঘরের দরজায় মাথা ঢুকিয়ে দিয়ে হেনা শেখ ও লতিফা শেখকে পরখ করছে।তার সাথে মাথায় আরেক চিন্তা ঘুরছে তার। সামিয়াকে যে কাজটা দিয়েছে ওটা ঠিক মতো করছে কিনা।না করতে পারলে তখন আরেক সমস্যা হয়ে যাবে।
প্রেসার কুকারের সিটির শব্দে ভাবনায় ছেদ পড়ল কল্পনার।লম্বা একটা শ্বাস ছেড়ে হেনা শেখকে গলা উঁচিয়ে ডাকতে লাগল,
"মাআআ,ও মাআআআ"
চুলায় বসা সবজিতে নজর রেখে হাতা দিয়ে নাড়তে নিয়েই শুধালেন হেনা শেখ,
"হুম,বল"
"ওই যে তোমার আসমানী রঙের জামদানী শাড়িটা কোথায়?"
হাত থেমে গেল হেনা শেখের।নিরব রইলেন কিছুক্ষণ।হাত আবার চালাতে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে শুধালেন,
"কোনটা?"
"কোনটা আবার?তোমার তো একটা আসমানী জামদানী শাড়িই আছে।ওই যে সিলভার রঙের সুতার কাজ করা"
আবার সময় নিয়ে একই কন্ঠে বলে উঠলেন হেনা শেখ,
"মনে নেই কোথায় রেখেছি"
"কেন ভাবি?স্টোর রুমের আলমারিতেই তো রাখা আছে।শুধু আপনারটা কেন?তিন জনের টাই রাখা আছে"
লতিফা শেখ কথা শেষে মসলা নেওয়ার জন্য পেছনে ঘুরতেই দেখলেন কল্পনা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে তাকে নিঃশব্দে ফ্লাইং কিস দিচ্ছে।ভাতিজির হঠাৎ এমন উদ্ভট আচরণ দেখে হালকা ভড়কালেন তিনি।
কল্পনা লতিফা শেখকে ফ্লাইং কিস দেওয়া বন্ধ করে হেনা শেখের উদ্দেশ্যে গলা উঁচিয়ে বলল,
"এই যে মা,স্টোর রুমেই নাকি আছে।দাও না একটু বের করে"
"কল্পনা।দেখছিস না,আমি এখন ব্যস্ত আছি"
"দাও না মা।ওই ধুলোগুলো নাড়লে আবার এ্যালার্জি বেড়ে যাবে আমার।চাচীমা তো আছে।কিছুক্ষণ তরকারিটা চাচীমাই দেখে নেবে"
"হ্যাঁ ভাবি,আমি আছি তো।দেন তো কি চাচ্ছে।নাহলে শান্তি মতো রান্নাটাও শেষ করতে দেবে না এই মেয়েটা"
ধোঁয়া ওঠা তরকারির দিকে কিছুক্ষণ দেখে থেকে আনমনে কি যেন ভাবলেন হেনা শেখ।অতঃপর রান্নাঘর থেকে বের হতে নিয়ে সেই আগের গম্ভীর কন্ঠেই লতিফা শেখের উদ্দেশ্যে শুধালেন,
"পানিটা কমিয়ে এলে চুলা বন্ধ করে দিস"
হেনা শেখ রান্নাঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরপরই কল্পনা দৌড়ে এসে লতিফা শেখের গালে একটা চুমু দিল।আবার ভড়কালেন লতিফা শেখ,
"আরে কি করছিস?"
মুখে বড় হাসি নিয়ে বলল কল্পনা,
"আমার যে মশ্চারাইজারটা তোমার পছন্দ,এবার শীতে আমার তরফ থেকে সেটার নতুন একটা গিফট পাচ্ছো তুমি"
আবার চকিত হলেন লতিফা শেখ,
"ওমা কেন?"
"আজকের ছোট্ট একটু হেল্পের জন্য।এখন যাই আমি।অনেক কাজ আছে"
বলেই দৌড়ে রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে গেল কল্পনা।ভ্রু কুচকালেন লতিফা শেখ। এই মেয়ের মাথায় কখন যে কি ঘুরে আল্লাহই ভালো জানেন।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
স্টোর রুমের হ্যান্ড লক ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকলেন হেনা শেখ।সচারাচর এই রুমে ঢুকা হয় না।প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিসগুলো বেশির ভাগ এখানেই রাখা হয়।সেই হিসেবে জামা-কাপড়সহ আরো অনেক জিনিসই আছে এখানে।
রুমের লাইট জ্বালিয়ে বিশাল আলমারিটার দিকে এগিয়ে গেলেন হেনা শেখ।আলমারির ভারী পাল্লা খুলে কাঙ্ক্ষিত জিনিস খুজতে লাগলেন।ক্ষণিক সময়ের ব্যবধানে পেয়েও গেলেন।পরিপাটি করে একই ধরনের তিনটা আসমানী রঙের জামদানী শাড়ি গুছিয়ে রাখা।মুখে হালকা হাসি নিয়ে আনমনেই শাড়ি তিনটাতে হাত বুলিয়ে দিলেন তিনি।পুরনো স্মৃতি স্মরণে আসতেই মনে হয় মুখে হাসি ফুটল তার।এই শাড়ি তিনটা কেনার সময় কী ঝড়টাই না গিয়েছিল!দোকানদারের মাথা ঝালাপালা করে দিয়েছিলেন শেখ বাড়ির তিন গিন্নি।
বাড়ি সুদ্ধ এক শিল্প মেলায় ঘুরতে গিয়েছিল সবাই।সেখানেই এক শাড়ির দোকানে এই শাড়ি দেখে তিন গিন্নিই আটকে গিয়েছিলেন।একই শাড়ি তিনজনকেই বেশ মানাচ্ছিল।কিন্তু দোকানদারের মুখে দাম শুনে মনে হচ্ছিল যেন কোহিনুর কিনতে গিয়েছেন তারা।না কিনে ফেরত আসতে চেয়েও যেন বার বার ঘুরে যাচ্ছিলেন তিনজনই।আর তাদের এই দুর্বলতা দেখে দোকানদারও যেন চালাকি করেই যাচ্ছিল।
অর্ধাঙ্গিনীদের এতো আগ্রহ দেখে তিন শেখ আহমেদ তো সেই কোহিনুর কেনা দামেই কিনতে এগিয়ে এসেছিলেন।কিন্তু বাধা তো তাদের অর্ধাঙ্গিনীদের থেকেই পড়ছিল।সেই শাড়িই নেবেন এবং কোহিনুর ভেঙে পানির দামেই নেবেন।
বড়মাপের শিল্প মেলায় ছোটখাটো এক শিল্প যুদ্ধই হয়েছিল সেবার।যার বিজয়ের পুরস্কার এখন এই আলমারির এক কোণে পড়ে আছে।
একটা শাড়ি হাতে তুলে ভাজ খুলে দেখতে লাগলেন হেনা শেখ।এসবের স্মৃতি যেন এখন শুধু ভাবনায়ই শোভা পায়।
"আম্মু এখানেই আছে।আমি ছোট চাচীকে জিজ্ঞেস করেছি।আর আমার নেক্সট ডান্স প্রোগ্রামের জন্য ওটা একদম পারফেক্ট হওয়ার কথা"
"ও হো সামিয়া,ওটাই কেন লাগবে তোর?আরো কত নীল শাড়ি আছে"
"না।আমি অনু আপুর ফোনে ওই শাড়ি পড়া তোমাদের ছবি দেখেছি।আমার ওটাই লাগবে"
সামিয়া এক প্রকার ঠেলে ঠেলেই আমেনা শেখকে স্টোর রুমে ঢুকালো।সেদিকে নজর পড়তেই ভড়কে গেলেন হেনা শেখ।সামনে ঘুরে মেঝো জা এর হাতে কাঙ্ক্ষিত শাড়িটি দেখে আমেনা শেখও হালকা ভড়কালেন।ক্ষণিকের জন্য চোখাচোখি হলো দুজনেরই।এদিকে সামিয়া তো কল্পনার কথা অনুযায়ী মাকে রুমে ঢুকিয়ে দিয়েই বেড়িয়ে গিয়েছে।
হেনা শেখ মুখে সুক্ষ্ম হাসি নিয়ে নজর ঘুরিয়ে হালকা হাতে শাড়ি ঝাড়তে লাগলেন।
মৃদু স্বরে শুধালেন আমেনা শেখ,
"আমি তো ভেবেছিলাম এতোদিনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে এগুলো"
"যত্নে রাখা জিনিস একটু দেরিতেই নষ্ট হয়......কিন্তু মনে হয় না সব ক্ষেত্রে সেই কথা সত্য"
শেষের কথাটা মনে হয় হতাশার সুরেই বললেন হেনা শেখ।ক্ষণিক সময়ের জন্য নিরব স্রোত বয়ে গেল রুমের ভেতর।
শাড়ির দিকে নজর রেখেই হেসে উঠে আবার শুধালেন হেনা শেখ,
"দোকানদারটাকে আমরা ভালোই ঠোকিয়েছিলাম"
আমেনা শেখও মৃদু হেসে উঠলেন।
হাসি থামিয়ে দিলেন হেনা শেখ,
"ভাবি...সেদিন ওরকম কিছু হয়ে যাবে...আমিও বুঝতে পারিনি"
আমেনা শেখেরও হাসি নিভু নিভু হয়ে গেল।এখন যে আর শাড়ির কথা চলছে না সেটা তিনি ভালো করেই বুঝলেন।
বড় জা এর দিকে দেখে আবার শুধালেন হেনা শেখ,
"সাহিত্যকে আমি সব সময় নিজের ছেলের চোখেই দেখেছি।কিন্তু সুবার আব্বুর রাগ সেই অধিকারটা যে এভাবে কেড়ে নিবে আমার জানা ছিল না"
ভারী নিঃশ্বাস ফেললেন আমেনা শেখ,
"জীবনের সরল পথ পুরোপুরি বেঁকে যেতে মনে হয় বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না"
হাতের শাড়ি রেখে হঠাৎই হেনা শেখ এসে আমেনা শেখের হাত চেপে ধরলেন।অতঃপর ভাঙা গলায় বলতে লাগলেন,
"সাহিত্যকে আমি ভালো করে চিনি ভাবি।ও কখনোই ভুল উদ্দেশ্যে কল্পনার গায়ে হাত তুলবে না।যে নিজেই আমার মেয়েকে কলিজায় ঢুকিয়ে রাখে তার ব্যাপারে আমি সেটা ভাবতেও পারি না......কিন্তু সব কিছু এতো তাড়াতাড়ি হয়ে গিয়েছিল যে বুঝে উঠতে উঠতেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল"
এবার আমেনা শেখের কন্ঠও দুর্বল হয়ে এলো,
"ব্যর্থতা তো আমারই ছিল।বাড়ির বড় বউ হওয়ার আসল দায়িত্বটাই পালন করতে পারিনি।এতো ছোট একটা বিষয় দিয়ে শুরু হওয়া তর্কে পুরো পরিবারকে ভেঙে যেতে দিয়েছি"
"আমাদের পরিবার কি কাচের তৈরি নাকি,যে এতো সহজে ভেঙে যাবে?পুরো ইলাস্টিক রাবার টাইপের।সেটাও আবার ফেবিকল দিয়ে মোড়ানো।শুধু একটু বেশি টানাটানি হয়েছে তো তাই একটু ঢিলা হয়ে গিয়েছে।তিন ফেবিকল রুপি বাড়ির বউমারা থাকতে সেটা ঠিক হতে আবার সময় লাগে?ফেবিকলের পাওয়ার বাড়াতে শুধু একটু এক হতে হবে"
কল্পনার কথায় দুই জা-ই দরজার দিকে ঘুরলেন।লাগানো দরজায় মুখে হাসি নিয়ে হেলান দিয়ে আছে কল্পনা।
মুখে মৃদু হাসি নিয়ে আবার শুধালো কল্পনা,
"বাড়ির দুই রগচটা ব্যক্তির জন্য তোমরা কেন মুখ ফুলিয়ে আছো?এমন ভেঙে পড়লে হবে?"
এক ক্লান্তি ভরা মৃদু হাসি মুখে নিয়ে নজর ঘুরালেন আমেনা শেখ,
"নিজের থেকে বাচ্চার কষ্ট বেশি গায়ে লাগে।সেটাই সহ্য করতে পারিনি"
আমেনা শেখের কথা ঠিক ঠাহর করতে পারল না কল্পনা।ভ্রু কুচকে শুধালো,
"মানে?"
ক্ষণিক সময় নিরব থেকে ভ্রু জোড়া শিথিল হয়ে এলো তার,
"তুমি কি সাহিত্য ভাইয়ের কানাডায় যাওয়ার কথা বলছো,বড় মা?"
আমেনা শেখ কিছু না বলে চুপ রইলেন।অন্য দিকে নজর লুকিয়ে রাখা মায়ের দিকে এক নজর দেখে আমেনা শেখের দিকে এগিয়ে এলো কল্পনা,
"বড় মা কি হয়েছিল সেদিন?বড় বাবা সাহিত্য ভাইকে হঠাৎ কানাডায় কেন চলে যেতে বলেছিল?ঝগড়া তো ওদের দুই ভাইয়ের মাঝে লেগেছিল,তাই না?তো মাঝখান থেকে সাহিত্য ভাই কেন শিকার হলো?"
আমেনা শেখ ভ্রু কুচকে হেনা শেখের দিকে ঘুরলেন।হেনা শেখ আগে থেকেই বড় জা এর দিকে অনুতপ্ত ভরা চেহারা নিয়ে দেখে আছেন।মৃদু স্বরে শুধালেন হেনা শেখ,
"আম্মা কল্পনাকে বলতে নিষেধ করেছিলেন।বলেছিলেন,কল্পনা শুনলেই সম্পুর্ণ দো'ষ নিজেকে দিবে"
কল্পনা যেন এখনো হতভম্ব হয়ে আছে।হেনা শেখের কথার কিছুই বুঝল না সে,
"দাদি আমাকে কি বলতে নিষেধ করেছিল?আর কেনই বা নিষেধ করেছিল?ওই দিন কি হয়েছিল কেউ আমাকে ভালো করে কিছু বলে না কেন?"
শেষের কথাটা জোরেই বলল কল্পনা।
ভারী নিঃশ্বাস ফেললেন হেনা শেখ,
"ওই দিন কি হয়েছিল আমি বলছি"
"থাক হেনা,বলিস না।আম্মা ভুল বলেননি"
হেনা শেখকে থামিয়ে দিলেন আমেনা শেখ।
কিন্তু হেনা শেখ দমলেন না,
"না ভাবি।কল্পনা এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে।এতটুকু তো বুঝবেই এখন সে"
অস্থির হয়ে থাকা মেয়ের দিকে ঘুরলেন হেনা শেখ।অতঃপর ১১বছর আগে হঠাৎ কি নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়েছিল এবং কল্পনার কারণে ফাহাদ শেখ যে সাহিত্যের গায়ে হাত তুলেছিলেন সেসব ঘটনা খুলে বললেন তিনি।
কল্পনা যেন অবাকের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যার দরুণ ভারী ভারী শ্বাস ফেলছে মেয়েটা।কাপা গলায় বলে উঠল কল্পনা,
"তোমাদের কে বলেছে,যে সাহিত্য ভাই আমার গায়ে হাত তুলেছিল?আর ওইদিন যদি সাহিত্য ভাই ওখানে না থাকতো তাহলে তোমার মেয়ে কি পরিমাণের একটা বাজে হ্যারাসমেন্ট এর শিকার হতো,জানো মা?"
এবার দুই গিন্নির চেহারা বদলে গেল।সূক্ষ্ম গলায় শুধালেন হেনা শেখ,
"মানে?"
চকিত হয়ে হালকা তাচ্ছিল্য হাসলো কল্পনা,
"মানে তোমরা ওটাও জানো না?সেটার জন্যই এতো কিছু হবে জানলে তো আমি সেদিনই সব বলে দিতাম।গা'ধার মতো শুধু কেঁদেই গিয়েছি"
হেনা শেখ এগিয়ে এসে কল্পনার দুই বাহু চেপে ধরলেন,
"কল্পনা কি বলছিস তুই ভালো করে বল।কীসের হ্যারাসমেন্টের কথা বলছিস?"
#চলবে
..
সন্ধ্যার পর আরেকটা পর্ব আসবে,পেজে নজর রাখিয়েন😌