#পর্ব_২৪
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
"আব্বে ওয়!না এই জায়গা তোর আর না এই ভার্সিটি"
"জায়গাটাও আমার না আর ভার্সিটিও আমার না।কিন্তু এগুলো সরকারের। আর যেটা সরকারের সেটা সাধারণ জনতার।আর আমি একজন সাধারণ জনতা, সেই হিসেবে এগুলো আমারই"
প্রীতি এবার কল্পনা বসে থাকা টেবিলে সশব্দে থাবা মারল,
"আব্বে চাশমিস!তোর লটকানো লজিক আমারে শুনাস না।এই ব্যানার এখানে থাকবে মানে এখানেই থাকবে"
প্রীতির খোটা শুনে চশমা খুলে পকেটে ঢুকালো সামনের ছেলেটি।অতঃপর গলা পরিষ্কার করে শুধালো,
"দেখো মেয়ে!আমি কিন্তু ভি.সি. স্যারকে ডাকতে বাধ্য হবো।সো,ভালো হবে সোজা ঝাপটা কথা শুনো"
মুখ ভেংচি কেটে শুধালো প্রীতি,
"উ লে লে লে। 'আম্মু আমি স্যারকে ডাক দিব'।ওলে আমার শিশু শ্রেণিতে পড়া দামড়া,ডাকো কোন স্যার রে ডাকবা।আমরা এই জায়গা ইউজ করার ফুল পারমিশন নিয়ে এসেছি"
কল্পনা টেবিলের উপর বসে চিপস চাবাচ্ছে আর সামনে চলা নাটকের মজা নিচ্ছে।কল্পনার ক্লাসমেট দিবা এসে তার কানে বলতে লাগল,
"এই কল্পনা!প্রীতিকে থামা না।গত পনেরো মিনিট যাবত এসব চলছে"
কল্পনা আবার চিপস মুখে পুরে শুধালো,
"আরে একটু মজা নে না।এগুলো আবার প্রতিদিন দেখার সুযোগ পাওয়া যায় নাকি?"
কল্পনার কথা শুনে দিবা মাথায় হাত চাপড়ালো।ভার্সিটির এক প্রোগ্রামের জন্য সেকেন্ড ইয়ারের স্টুডেন্টরা ভার্সিটির বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার-পোস্টার লাগাচ্ছে।হঠাৎই কিছু ছেলে-মেয়ে এসে কল্পনা-প্রীতিদের ব্যানার খুলে তাদের ব্যানার লাগানো শুরু করে।প্রথমে ভালো করে জিজ্ঞেস করায় পুরো ইগনোর করছিল কল্পনাদের।কিন্তু প্রীতির ক্ষেত্রে ভদ্রতা বজায় রাখা যে ক্ষণিকের ব্যাপার সেটা তো আর তারা জানতো না।
প্রীতি তর্কের মাঝে কল্পনার দিকে ঘুরল,
"এই কল্পনা! একদম টেবিল থেকে নামবি না।দেখি কোন চশমা বিহীন চাশমিস আমাদের এখান থেকে সড়ায়"
অমনি সটান হয়ে বসল কল্পনা,
"ইয়েস ম্যাম!"
সামনের ছেলেটি প্রীতিকে সরু চোখে দেখতে লাগল।ওই সময় ছেলেটির পাশের এক ছেলে তার কানে বলতে লাগল,
"ভাই আর লাগিস না।এই প্রীতির নামে অনেক কথা শুনেছি।একদম চিবিয়ে ছেড়ে দেয় নাকি"
ছেলেটির সুক্ষ্ম চোখ দেখে আবার চেচিয়ে উঠল প্রীতি,
"কি দেখো অমনে?ব্যানারে লাগানো লাঠি বের করে একদম চোখে ঢুকিয়ে দেব।তখন পকেটের চশমা পকেটেই থাকবে"
উপরে খোকলা সাহস দেখিয়ে বলল ছেলেটি,
"মেয়ে দেখে ছেড়ে দিচ্ছি।নাহলে দেখে নিতাম"
চুড়িদার জামা পড়া হাতে এ্যাপ্রনের হাতা উঠানোর মতো দেখিয়ে বলল প্রীতি,
"নাহলে কি দেখে নিতে?এখন কি দেখতে পাচ্ছো না?চশমা ছাড়া এতোই কানা?নাকি শুধু ছেলেদের জন্যই চোখ আছে?"
প্রীতির কথায় সেই ছেলেটি হতভম্ব হলেও উপস্থিত বাকি সবাই জিহ্বার মাথায় কামড় বসালো।আর কথা বাড়ানোর সাহস করল না ছেলেটি।নিজেদের মাঝে বিড়বিড় করতে নিয়েই বাকিদের নিয়ে চলে গেল।
প্রীতি ফুসতে ফুসতে এসে কল্পনার পাশে দাড়ালে কল্পনা তার দুই গাল টানতে নিয়েই বলল,
"ওলে আমার এটম বম এ্যাংরি বার্ড।তুমি তো কাবির সিং এর পুরাই ফিমেল ভার্সন।কি পেদানিটাই না দিলে!"
কল্পনার হাত থেকে চিপসের প্যাকেট নিয়ে খেতে লাগল প্রীতি,
"এসেছিল খুব পাওয়ার খাটাতে"
আবার মুখ ভেংচি কেটে শুধালো প্রীতি,
"আমি কিন্তু ভি.সি. স্যারকে ডাকতে বাধ্য হবো"
ক্ষণিক নিরব থেকে দুই বান্ধুবিই এক জোগে হেসে উঠল।তাদের হাসার মাঝেই পেছন থেকে দিবা ডাক দিল,
"এখন দাঁত না কেলিয়ে এদিকে এসে একটু হেল্প করবি?"
মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করে প্রীতি দিবার দিকে ঘুরল,
"গলা শুকিয়ে এতো কিছু করলাম,একটু তো সম্মান দে"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
বর্ষার মাঝেও যেন শান্তি নেই।আবহাওয়া কেমন ভ্যাপসা গরম হয়ে আছে।তার উপর এসব ব্যানারের কাজ।প্রীতি তো কিছুতেই এসবে ঢুকবে না।কিন্তু কল্পনা থাকতে প্রীতির কথা কোন দিনই বা খেটেছিল?মাইন্ড ফ্রেশ করার কথা বলে এসব কাজ চলছে।
কাজের মাঝেই কল্পনাকে উদ্দেশ্য করে বলল প্রীতি,
"তো তোর 'মিশন প্যাচাপ' কত দূর আগালো?"
ভ্রু কুচকালো কল্পনা,
" 'মিশন প্যাচাপ' ? ওটা আবার কি?"
"আরে তোর বাবা আর বড়-বাবার পুনর্মিলন কথা বলছি"
কল্পনা হতাশার নিঃশ্বাস ফেলল,
"ওটাকে 'মিশন প্যাচাপ' নয়, 'মিশন ইম্পসিবল' বল।আমার কোনো প্লানই খাটছে না"
"তুই কি একাই মাথা ঘামাচ্ছিস নাকি?সাহিত্য ভাইয়া কি করছে?"
চোখ জোড়া মারবেল আকার ধারণ করল কল্পনার,
"ওরে বাবা!সাহিত্য ভাই তাদের এই ব্যাপার থেকে দু শো হাত দূরে।কত যে লটকেছি,কিন্তু তিনি কিছুতেই বাবার সাথে কথা বলবেন না"
ফিক করে হেসে দিল প্রীতি,
"তাও ভালো আঙ্কেলের চড়ের প্রতিশোধ তোকে চড় মে'রে নেয়নি"
কল্পনা মাথা টেবিলে ঠেকালো,
"আমিই তো আবার উল্টো চড় মে'রেছি"
প্রীতি এবার হাসিতে ফেটে পড়ল,
"তোরা বাবা-মেয়ে মিলে সাহিত্য ভাইয়ার গালে এতো আদর কেন দিস?এই যে তোর সাথে কথা বলতে শুরু করেছে,দেখিস কোন দিন যে নিশি রাতে গলায় চা'কু চালিয়ে দেবে"
মিনমিনিয়ে শুধালো কল্পনা,
"মা'রার জন্য আবার চা'কু চালানোর দরকার আছে?উনি এমনিতেই আমার সামনে এসে দাঁড়ালে তাতেই আমি আধ ম'রা হয়ে যাই"
সময় নিয়ে শুধালো প্রীতি,
"কল্পনা....তুই কি সাহিত্য ভাইয়াকে পছন্দ করিস?"
ধড়ফড়িয়ে টেবিল থেকে মাথা তুলল কল্পনা,
"কি সব বাজে বকছিস?আমি কেন ওনাকে পছন্দ করতে যাব?"
নজর ঘুরিয়ে কি যেন আনমনে ভাবলো কল্পনা।অতঃপর আবার প্রীতির দিকে ঘুরে শুধালো,
"আআআমার মানে আমি ওনাকে পছন্দ করি।কিন্তু যেটা তুই ভাবছিস ওটা না"
প্রীতি এক ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
"তাই?"
কল্পনা ঘন ঘন চোখের পল্লব ফেলতে লাগল,
"মানে ওটা নাও তো হতে পারে,তাই না?"
প্রীতি এখনো সেভাবেই দেখে থাকায় জোরে নিঃশ্বাস ফেলে শুধালো কল্পনা,
"জানি না আমি।সাহিত্য ভাই আমাকে কত আদর করে জানিস!তারউপর উনি আমার থেকে বয়সেও অনেক বড়।কিন্তু ওনাকে এখন কে বুঝাবে যে আমি একটা অবলা নারী,যে কিনা ওনার বয়সের দিকে না দেখেই প্রায় প্রায় উষ্ঠা খেয়ে পড়ি ওনার ওই আদরে"
ব্যানারে হাতের কাজ চালাতে নিয়ে বলল প্রীতি,
"কেন?বয়স উপেক্ষা করে উষ্ঠা খেতে সমস্যা কোথায়?চাচাতো ভাই ই তো হয়।মানুষের কি সিনিয়র চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয় না?"
নিজের দুই গাল চেপে ধরল কল্পনা,
"মানুষ তো ঠিকই করে।কিন্তু যদি এমন হয় যে সাহিত্য ভাই আমাকে কোনোদিন ওই নজরে দেখেইনি।আর তার উপর আমাদের বাপদের যে মিল।আমার তো মনে হয় এই পরিস্থিতিতে এই ব্যাপারে চিন্তা করাও অসম্ভব।বাবা-বড় বাবা ঠিক হয়ে আসলেও ওই ব্যাপার নিয়ে কখনোই কথা উঠবে না।আমি অতো কিছু সামলাতে পারব না।দাদীর ইচ্ছা পূরণ করাই আসল উদ্দেশ্য আমার"
"ঠিক আছে।কিন্তু ওই একতরফায় আটকানোর আগেই পিছিয়ে আসিস।নাহয় দেবদাসী হয়ে ঘুরতে হবে তোকে"
সময় নিয়ে শুধালো প্রীতি,
"আর ওই কাল সা'পটার কি খবর?আর কিছু বলেছে?"
কল্পনা গম্ভীর কন্ঠে বলল,
"ওটাকে নিয়ে তো আরেক ঝামেলায় আছি।এতো নাটক করার কি আছে?"
"আমি তোকে এখনই বলছি,সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নে।ওটা যে বখাটে দেখলাম।না জানি কি উল্টা-পাল্টা করে বসে।আচ্ছা তুই ওটার সাথে প্রেমই কেন করতে গিয়েছিলি?এতো সতর্ক একটা মেয়ে হয়ে ওই ভুলটা করলি কেমন করে?"
প্রীতির শেষের কথায় ভড়কালো কল্পনা,
"ওসব কথা বাদ দে তো এখন।যা হয়েছে, হয়েছে...."
কল্পনা মাঝ পথেই মিনমিনিয়ে কথা থেমে দিল।কারণ প্রীতি যে একতরফায় পড়তে নিষেধ করছে কল্পনার ভয় হচ্ছে যে সেটাই এর কারণ।চেয়েও যেন কাউকে মুখ ফুটে নিজের অনুভূতি বলার সাহস পায় না কল্পনা।সেখান থেকে সড়ে আসতেই কি না কি ভুল করে বসেছে।
"আপু তোমার নাম কল্পনা,তাই না?"
এক ছেলের গলা শুনে কল্পনা ও প্রীতি দুজনই মাথা তুলল।
কল্পনা মৃদু স্বরে শুধালো,
"জ্বী।কেন?"
"তুমি কি সেকেন্ড ইয়ারের?"
আবার একইভাবে উত্তর দিল কল্পনা,
"জ্বী"
হালকা হাসি ফুটল ছেলেটির মুখে,
"আমার নাম সাগর।কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ফোর্থ ইয়ারে"
এবার গলা পরিষ্কার করল সাগর,
"নওশাদকে চেনো?"
কল্পনা, প্রীতি দুজনই ভ্রু কুচকালো।অতঃপর প্রীতি উত্তর দিল,
"হ্যাঁ, আমি চিনি।কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ফোর্থ ইয়ারের নওশাদ ভাইয়া না?"
প্রীতির দিকে ঘুরল সাগর।হাসি মুখে শুধালো,
"হ্যাঁ, হ্যাঁ। একদম ঠিক ধরেছো"
আবার গলা খাকাড়ি দিয়ে কল্পনার দিকে ঘুরল সে,
"দেখো আমি প্যাচিয়ে কোনো কথা বলব না।নওশাদ তোমাকে পছন্দ করে....পছন্দ করে বললেও ছোট হয়ে যাবে।সে তোমাকে বৈশাখির প্রোগ্রামের ডান্স এ দেখার পর থেকে প্রায় পা'গলই হয়ে গিয়েছে।কিন্তু ওইদিন নওশাদ ছাড়া তোমাকে আমরা আর কেউ দেখিনি।তাই তোমার খোঁজ করতে একটু দেরি হয়ে গেল।তোমার সাথে দেখা করার পা'গলামিতে লাস্ট এক্সামে খারাপ করায় রিটেক দিতে হয়েছে ওকে।আজকে এখানে নওশাদেরই আসার কথা ছিল।কিন্তু হঠাৎই তোমার কথা শুনে বেচারার কাপাকাপি শুরু হয়ে গিয়েছে।আমরা কখনো ওকে কোনো মেয়ের প্রতি এতো উইক হতে দেখিনি।বুঝতেই তো পারছো আমি কি বোঝাতে চাইছি।তো ওর সাথে কি তুমি একটু দেখা করতে পারবা?"
কল্পনা ও প্রীতি এতক্ষণ থেকে ড্যাবড্যাব করে সাগরের পাশে দেখে তার কথা শুনছিল।ভার্সিটিতে উঠার পর থেকে অনেক প্রপোজাল পেয়েছে কল্পনা।অনেক সিনিয়রাও ছিল।কিন্তু এই প্রথম কোনো ফাইনাল ইয়ারের থেকে প্রপোজাল এসেছে।আর বাকিদের থেকে এই ছেলের বিবরণও আলাদা।প্রীতি নওশাদকে দেখলেও কল্পনার চোখে কোনোদিন পরেনি।কিন্তু নাম শুনেছে অনেক।ভার্সিটির রাজনীতি দলে নাকি ভালো পজিশনেই আছে সে।সেই হিসেবে দাপটও বেশ আছে।এসব ছেলেরা কেমন হয় একটু আধটু হলেও ধারণা আছে কল্পনার।
মুখে মৃদু হাসি নিয়ে বলল কল্পনা,
"আপনি এতো ভদ্রভাবে বললেন সেটা শুনে অনেক ভালো লাগল।কিন্তু এ বিষয়ে আমি আগাতে চাচ্ছি না।আমার পার্সোনাল প্রবলেমই ভাবতে পারেন।সেটার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।আসা করছি আপনার বন্ধু আমার দিকটাও বুঝবে"
কল্পনার কথা শুনে চকিত হলো সাগর।অতঃপর একটু হেসে উঠে বলল,
"নওশাদ তোমার ব্যাপারে যেটা চিন্তা করেছিল সেটাই হলো।তুমি বাকি মেয়েদের থেকে একটু আলাদাই।নাহলে আমিও ভাবছিলাম,এতো সুন্দরী এক মেয়ে সেকেন্ড ইয়ারে উঠে গিয়েছে অথচ এতদিন থেকে সবার চোখের আড়ালে আছে কেমন করে?এটা আবার মনে কোরো না যে আমি ফ্লার্ট করছি।যেটা সত্য সেটাই বলছি।এমন মেয়ে এখন পাওয়াই বা যায় কোথায়।সে যাই হোক,তুমি এখন নওশাদের সাথে কথা বলতে চাচ্ছো না সেটাতে কোনো সমস্যা নেই।কিন্তু নওশাদ তোমাকে নিয়ে কিন্তু খুব সিরিয়াস হয়ে আছে।আমি আবারো বলছি,ওকে আগে কোনো মেয়ের প্রতি এতো উইক হতে দেখিনি।সেটা বিষয়ে একটু চিন্তা করিও"
মুখের হাসি রেখেই শুধালো কল্পনা,
"সরি ভাইয়া।কিন্তু আমার উত্তর বদলাবে না"
আর কোনো কথা বাড়ালো না সাগর।এক রাশ হতাশা নিয়ে জায়গা ত্যাগ করল।সাগর যাওয়ার পরপরই প্রীতি কল্পনাকে কনুই দিয়ে টোকা দিতে লাগলো,
"একটা পিছু না ছাড়তেই আরেকটা এসে হাজির।হায় রে ভাগ্য!"
প্রীতির কথায় মুখে হাসি ফুটল না কল্পনার।ভারী মুখশ্রী নিয়ে শুধালো,
"এগুলোকে ভাগ্য না,দশা বলে।এজন্যই স্কুল-কলেজে তেমন কিছুতে পার্টিসিপেট করতাম না।একটু শখ করে এবার করলাম,আর দেখ,কোন পাতি নেতার চোখে পড়েছি।সবাই বলে সুন্দর চেহারার অধিকারীরা সুখে থাকে।কিন্তু আমি বলব তাদেরই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়।রাস্তায় বুক ভরে শ্বাস নিয়ে হাঁটা সম্ভব হয় না।ভয় থাকে কখন যে কে পিছনে পড়ল"
"আরে বাবা,পজিটিভলি থিংক কর না।তোদের মতো সানশাইনদের জন্য আল্লাহ একটা সানশাইন প্রটেক্টর ভাগ্যে রাখে তোদের।দেখিস,একদিন না একদিন তোর ফিউচার পাগলা রোমিও সব হ্যান্ডেল করে নেবে"
মেকি হাসল কল্পনা।তার কাছে তো একটা সানশাইন প্রটেক্টর আগে থেকেই আছে।সেটাই যথেষ্ট।কিন্তু সে কি আর সারাজীবনের জন্য কল্পনার পাশে থাকবে?কল্পনা তো এর উত্তর সব সময় না-তেই পায়।দেখা যাবে সেই ব্যক্তিই কল্পনার জন্য ছেলে খুঁজে এনে দিচ্ছে।কল্পনার ভাগ্যটা যেন ভালো হয়েও ভালো না।
হাবিজাবি ভাবতে গিয়ে আবার মুখের সুক্ষ্ম হাসিটা চলে গেল কল্পনার।
সেপাশে খেয়াল করেই মুখে দুষ্টু হাসি নিয়ে শুধালো প্রীতি,
"অবশ্য,তোর মতো লেয়ার মুরগি কাছে থাকার কারণে এখন আমার নিজেরই ক্যারেক্টারের উপর সন্দেহ হচ্ছে"
প্রীতির কথায় কল্পনা মারবেল আকার চোখ বের করে যান্ত্রিকভাবে প্রীতির দিকে ঘুরল,
"এই জন্যই কি তুই এখনো কোনো বয়ফ্রেন্ড বানাসনি?"
মুখের দুষ্টু হাসি নিয়েই বলল প্রীতি,
"এই তো আমার সোনাটা কত তাড়াতাড়ি বুঝে"
চোখজোড়া খিচে বন্ধ করল কল্পনা,
"ছি!তুই চুপ করবি?আর কতবার বলেছি,যে আমাকে লেয়ার মুরগি ডাকবি না"
"শুনলাম না তোর কথা।এখন কাছে আয় তো,একটা চুমু দেই"
বলেই প্রীতি ঠোঁট গোল করে কল্পনার দিকে এগিয়ে গেল।
অমনি উঠে দৌড় লাগালো কল্পনা,
"একদম আমার কাছে আসবি না নষ্টা মেয়ে একটা!"
প্রীতি সশব্দে হাসতে নিয়েই কল্পনার পিছে ছুটল।
এই বর্ষার মাঝে ক্ষণিকের হালকা রোদেই যেন দুই দুরন্ত চঞ্চল নব যবতী জ্বলজ্বল করছে।আশেপাশের পরিবেশ যেন ক্ষণিকের মাঝেই প্রাণ উজ্জ্বল হয়ে উঠল কল্পনা আর প্রীতির ব্যস্ত পা দু'জোড়ার কারণে।
আর সেই প্রাণ উজ্জ্বল পরিবেশের অধিকারী কল্পনাদের দিকে চোখ রেখেই দুরের কেউ একজন হাতের আধো সি'গারেটে টোকা মেরে সামনের পোড়া অংশটা ঝেড়ে ফেলল।আনমনে কল্পনার দিকে দেখে থাকায় সাগর খুব সহজেই সেই হাত থেকে সি'গারেটটা নিতে সক্ষম হলো।সি'গারেটে এক টান দিয়ে সাগরও কল্পনাদের দিকে চোখ ঘুরালো।অতঃপর পাশে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে শুধালো,
"শুনলিও তো আর দেখলিও তো।ওই মেয়ে পটবে না।তোর নামে এতো তাবিজ শুনিয়েও কোনো কাজ হলো না।মেয়েটা আসলেই আলাদা।খেয়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো জিনিস না।বাদ দে,আরো অনেক আছে"
চোখ জোড়া তাদের লক্ষ্য থেকে অনড় রইল।অতঃপর সেই শিথিল চোখ জোড়ার অধিকারী গম্ভীর কন্ঠে বলল,
"আছে তো পুরো ভার্সিটিই।আর এই নওশাদকে কেউ নাও বলতে পারবে না।তাতে আবার মজা আছে নাকি?এই প্রথম না বলার কেউ একজন এসেছে।এই ওয়ান পার্সেন্টকেও জিরো করে দিতে সমস্যা কোথায়?নাহলে বড়সড় একটা রিগ্রেট থেকে যাবে"
মেকি হেসে আবার সি'গারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া উড়ালো সাগর।
#চলবে
সন্ধ্যার দিকের পর্বটাতে আরো বড় ধামাকা থাকবে😌