ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

২৭তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_২৭

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

"জানপাখি......আজ আমার একদিন কি আমারই একদিন।তোর খবর আছে।O.S.S. কোম্পানির সি.ই.ও. এক হাট্টা-কাট্টা যুবক হয়ে মায়ের কাছে ঝাটা পেটা খাচ্ছে।তাও আবার নিজেরই প্রাণপাখিটার জন্য।জাতি কি সেটা মেনে নেবে?অভিমান নাকি মেটেনি।ঠিক আছে,ভালো করেই মিটিয়ে দেব অভিমান।তোর নরম গাল আজ লজ্জায় লাল করেই ছাড়বো"

বিড়বিড় করতে নিয়েই কল্পনার রুমের সামনে এসে দাড়ালো সাহিত্য।ঠোঁটের কোণে বড়সড় এক দুষ্টু হাসি বিরাজ করছে তার।দরজায় নক করে শুধালো সাহিত্য,

"কল্পনা "

কোনো সাড়া নেই।আবার ডাকলো,

"কল্পনা?"

আবারো কোনো সাড়া নেই।মুখের হাসি নিভে গিয়ে কপালে ভাজ পড়ল সাহিত্যের।এবার একটু জোরেই ডাকলো সে,

"কল্পনা"

একই নিরবতা।কিছুক্ষণ আগে সাহিত্য নিচে নামার সময়ই তো তাকে রুমে ঢুকতে দেখলো।রুমেই তো থাকার কথা।তো সাড়া দিচ্ছে না কেন?হঠাৎ গলা শুকিয়ে আসতে লাগলো সাহিত্যের।নক না করে ঢুকতেও পারছে না।

আরো একবার ডাকলো।কিন্তু এবার একটু মৃদু ও কোমলভাবে,

"এই জানপাখি শুনছিস?"

এই নিরবতা সাহিত্যের পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব না।ব্যতিব্যস্ত হয়ে লক ঘুরিয়ে রুমে ঢুকেই পড়ল সে,

"এই জানপাখি,কতক্ষণ থেকে ডা......"

থেমে গেল সাহিত্য।মুখটা অমনি হা হয়ে থাকলো ক্ষণিক সময়।পর মুহুর্তেই নিঃশব্দে হেসে উঠল সে।যার জন্য ঝাটা পেটা খেয়ে,দরজা না খোলায় কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা হচ্ছে সাহিত্যের,সেই মহারাণী,উর্ফে স্লিপিং বিউটি গভীর ঘুমে তলিয়ে আছেন।এতো ঘুম যে কই পায় এই মেয়েটা সাহিত্য ভেবে পায় না।

একপাশ হয়ে থাকায় কল্পনার মুখখানা সাহিত্যের চোখের আড়াল হয়ে আছে।আস্তে করে রুমের দরজা চাপিয়ে পা টিপে এগিয়ে এসে প্রেয়সীর আদলখানা যেপাশ থেকে ভালো করে দেখা যাবে যেপাশে এসে দাড়ালো সাহিত্য।অমনি যেন হাতুড়ি পেটা শুরু হলো পুরুষালী শক্তপোক্ত বুকের ভেতর।সাহিত্যের চোখ জোড়া যেন আবারো তাদের একমাত্র আলো খুঁজে পেল।যেই আলো ছাড়া এই পুরো ভুবন অন্ধকার সাহিত্যের কাছে।

ক্ষণিক আগেই দুপুরে শ্যাম্পু করা ঝলমলে চুলগুলো পুরো বিছানায় ছড়িয়ে আছে।ক্যারামেল রঙের কামিজের নিচে শুভ্রা রঙা প্লাজুটা হালকাভাবে আড়পার করে রাখা ফর্সা পা দুটোকে ভদ্রভাবেই জড়িয়ে নিয়ে আছে। নরম বাম গালটার ভাড় স্বইচ্ছায়ই বহন করে রেখেছে হাত দুটো।যার দরুণ গালটা হালকা ফুলকো হয়েই আছে।আর সব সময়ের মতোই কপালের দুই পাশের কার্টেইন ব্যাঙ কাটের চুলগুলো আদলখানাতে তাদের অধিকার সাহিত্যের থেকেও বেশি খাটিয়ে রেখেছে।

ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘাড় কাত করে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সাহিত্য।চোখের তৃষ্ণা মেটার বদলে যেন আরো বেড়েই যাচ্ছে।হালকা উড়তে থাকা কল্পনার সামনের ছোট চুলগুলোর প্রতি বড্ড হিংসে হচ্ছে তার।

ধীর পায়ে বিছানার একদম কাছে এসে হাটু গেড়ে কল্পনার মুখ বরাবর বসলো সাহিত্য।নিজের কাপতে থাকা ডান হাতটা কোনো রকম কল্পনার দিকে এগিয়ে দিল সে।এই প্রেয়সীকে ছুঁতেও ভয় পায় সাহিত্য।তার ছোঁয়ার দরুন যদি কোনো খুঁত পড়ে যায়?কিন্তু সাহিত্যকে যে আবার তীব্র নেশার মতোই কাছে টানে এই প্রেয়সী।

কাপা হাতেই ফুলকো গালটা হালকা ছুঁয়ে দিল সাহিত্য।অমনি কল্পনা হালকা নড়ে উঠে নরম তুলতুলে ঠোঁট জোড়া সাহিত্যের পুরুষালী পেটানো হাতে ঠেকিয়ে দিল।সাহিত্যের শ্বসনতন্ত্র বন্ধ হওয়ার জন্য সেটাই যথেষ্ট ছিল।প্রেয়সীর সুক্ষ্ম উষ্ণ ছোঁয়া যেন তোলপাড় তুলেছে সাহিত্যের সর্বাঙ্গে।আর সইতে পারল না সাহিত্য।সড়িয়ে নিল হাতখানা।না সড়ালে হয়তো সেটার বিচরণ সীমানা পেড়িয়ে যেত।

নেশালো মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়া সামনে ঘুমিয়ে থাকা সুধা রুপি প্রেয়সীর দিকে রেখেই সাহিত্য সেই হাতের উল্টা পিঠ দিয়ে নিজের নাক আর মুখ ঢেকে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।এবার শ্বাস নিতে পারলেও যেন সেটি অনেক ভারী লাগছে।এই পিদ্দি একটা মেয়ে সাহিত্যের পুরো পুরুষালী সত্ত্বাকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম,হতে পারে একমাত্রও।

নিজেকে কোনো রকম সংযত করল সাহিত্য।কিন্তু সামনের মুখখানা থেকে যে নজর সড়াতে ইচ্ছা করছে না তার।আবার এগিয়ে গেল সাহিত্য।বিছানায় হাত দুটো ভাজ করে রেখে তাদের মাঝে থুতনি ঠেকিয়ে দিল।কল্পনার মুখখানা এখন সাহিত্যের মুখ বরাবর।

কোনো ধারালো অস্ত্র ছাড়া কাউকে কি ক্ষত-বিক্ষত করা সম্ভব?অন্যদের কথা সাহিত্য জানে না।কিন্তু তাকে করা তো সম্ভব।আর সেই কোমল পালকের ন্যায় অস্ত্র যে দৈনন্দিন সাহিত্যের আশেপাশেই ঘুর-ঘুর করে।শুধু এবং শুধুমাত্রই সাহিত্যের হৃদয়ে নিজের অস্ত্র চালানোর পারদর্শিতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে।

সাহিত্য নিজের মাথাটা আরো একটু এগিয়ে দিল কল্পনার দিকে।আর তাতেই যেন চোখ জোড়া আরো ভারী হয়ে এলো সাহিত্যের।ধরণীর প্রাণবন্ত বুকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বাহ্যিক দিক যে মূল্যহীন, এই মুহুর্ত যেন তারই প্রবাহমান উদাহরণ।

✨একজন সুদর্শন পুরুষ তার প্রেয়সীর দিকে এক ধ্যানে দেখে আছে।যে চাহনি সমুদ্রের শান্ত ঢেউ এর মতোই শিথিল,কিন্তু যে কোনো সময় ঝড় তুলতে সক্ষম।যে চাহনি বরফের ন্যায় ঠান্ডা,যা ঠিক কঠিন বরফের ন্যায়ই প্রেয়সীর থেকে সড়তে অনিচ্ছুক। যে চাহনির মধ্যে এক বিশাল পাহাড় সমান আবদার।হয়তো তাকে একটুখানি কাছে পাওয়ার,নাহয় সারা জীবন তাকে এভাবেই দেখার।সময় যেন থমকে যাক,তারপরও এই মুহুর্ত যেন শেষ না হোক।✨

সময় পার হতে বিন্দুমাত্র কারো অপেক্ষা করে না।কিন্তু সেই চিন্তা উপেক্ষা করে সাহিত্য যে কতক্ষণ থেকে কল্পনার দিকে দেখে আছে তা হয়তো সে নিজেও ঠাহর করতে পারেনি।নাহ্,আর এভাবে থাকা যাবে না।নাহলে মৃ'ত্যু নিশ্চিত!

উঠে দাড়ালো সাহিত্য।কল্পনার দিকে নজর রেখেই উল্টো পায়ে একটু পিছিয়ে গেল।অতঃপর ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হুং'কার দিয়ে উঠল,

"কল্পনা!!! "

গভীর ঘুমের গুষ্টি উড়িয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো কল্পনা।নিজের পায়ের দিক অনুসরণ করে চোখের দৃষ্টি সোজা দেয়ালে রেখে ব্যতিব্যস্ত কন্ঠে বলতে লাগল,

"কি হয়েছে? বাবা কি আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে?"

বাম পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হুং'কার ছাড়া ব্যক্তি বন্ধ ঠোঁটের হাসি অক্ষুণ্ণ রেখেই ভ্রু কুচকালো,

"মেঝো চাচু তোকে বাসা থেকে কেন বের করবে?"

নজর একটু নিচু করে ঘুমের মধ্যেই মাথা চুলকাতে লাগল কল্পনা,

"বেশ কয়েকদিন থেকে বাবার বিরুদ্ধে অনেক ষ'ড়যন্ত্র করছি তো,তাই ভাবলাম বাবা মনে হয় জানতে পেরেই আমাকে বাসা থেকে বের করে দিচ্ছে"

মুখের হালকা হাসির শব্দ সাহিত্যের কন্ঠে প্রভাব ফেলল,

"তো এতো ষ'ড়যন্ত্র করিস কেন?"

ঘুমের মধ্যেই বাচ্চাদের মতো পা জোড়া একটু ভাজ করে দুই হাত মাঝে রেখে অভিমানী সুরে শুধালো কল্পনা,

"না করে কি করব?আমার সাহিত্য ভাইয়ের সাথে যে কথাই বলতে চান না উনি"

আবার মধু মাখা হাসি ফুটল সাহিত্যের মুখে,

"তোর সাহিত্য ভাই?"

"হ্যাঁ,আমার সাহিত্য...."

কথা শেষ না করেই হামি তুলতে লাগল কল্পনা।কিন্তু এই অপুর্ণ বাক্যেই যেন তৃপ্তি পেল সাহিত্য।

বাচ্চা সুলভ ঘুম-ঘুম ভাবখানা এবার পুরোপুরি ভেঙে গেল কল্পনার।চোখ জোড়া কোটর থেকে বের করে তড়িৎ গতিতে সাহিত্যের দিকে ঘুরল সে,

"সাহিত্য ভাই? আপনি এখানে কি করছেন?"

ঘন ঘন অক্ষি পল্লব ফেলা কল্পনার দিকে এগিয়ে এলো সাহিত্য।ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকানো অবস্থায়ই কল্পনার মুখ বরাবর ঝুকে এলো।কোমল কন্ঠে শুধালো,

"তোর নাকি অভিমান মেটেনি?"

সাথে সাথে নজর নামিয়ে ভ্রু কুচকে ঘাড় কাত করল কল্পনা,

"কীসের অভিমান?"

হাসিটা একটু মিলিয়ে গেল সাহিত্যের,

"আমার প্রথমদিকের ব্যবহারে এখনো মন খারাপ করে আছিস?"

মাথা দু দিকে ঝাকালো কল্পনা,

"একদম না"

"সত্যি তো?"

"কেন বিশ্বাস হচ্ছে না?"

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঠোঁট বিকৃত করল সাহিত্য,

"হতো।কিন্তু আম্মুর ঝাটা পেটা খেয়ে বিশ্বাস হচ্ছে না"

কল্পনা সামনে তাকিয়ে চোখ জোড়া মারবেল আকার ধারণ করালো,

"কী!কে কার ঝাটা পেটা খেয়েছে?"

অভিমানী সুরে শুধালো সাহিত্য,

"আমি!তোর বড় মার কাছে"

অমনি ফিক করে হেসে উঠল কল্পনা,

"আল্লাহ, কি বলেন?এতো বড় একটা ছেলে মায়ের কাছে ঝাটা পেটা খেয়েছেন?তো কারণটা কি শুনি?"

সাহিত্যের চোখ-মুখ গম্ভীর হয়ে এলো,

"তুই"

সাহিত্যের গম্ভীর মুখশ্রী উপেক্ষা করে হাসিতে ফেটে পড়ল কল্পনা,

"হায় আল্লাহ!এই শুভ কাজের কারণও আমি?"

ক্ষণিক বাদে হাসি থামিয়ে সটান বসে পড়ল কল্পনা,

"আমার কারণে কেন?"

কথাটা বলতে নিয়ে সাহিত্যের দিকে ঘুরতেই দেখা মিললো সাহিত্যের সুক্ষ্ম চোখ জোড়ার।এতক্ষণ থেকে পা'গলের মতো কি করছিল সেটা ভেবেই ভড়কে গেল মেয়েটা।সাহিত্য গম্ভীর কন্ঠ বজায় রেখেই শুধালো,

"কারণ তুই যে একটা ই'তর,বা'দর সেটা তো আর আম্মু জানে না"

হা হয়ে গেল কল্পনা,

"আমি ই'তর,বা'দর হলে আপনি আমার গুরু"

আবার ঝুকে এলো সাহিত্য।কিন্তু এবার কল্পনার দু দিকে দুই হাত বিছানায় ভর দিয়ে একটু বেশিই কাছাকাছি চলে এসেছে।পুনরায় গম্ভীর কন্ঠে বলল,

"হ্যাঁ,শিষ্যকে গুরু ছাড়া আর কে ভালো চিনবে?"

চোখ জোড়া গোল-গোল করে হালকা পিছিয়ে গেল কল্পনা।পরমুহূর্তেই আবার চোখ জোড়া নিচে নামিয়ে নিল।এখন পর্যন্ত সামনের এই চোখ জোড়ায় সরাসরি দেখার সাহস হয়ে ওঠেনি নব যুবতীর।শ্বাসটাও যেন খিচে বন্ধ করে নিয়ে আছে মেয়েটা।তীব্র ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউমটা যে বারেবারে ধাক্কা লাগছে কল্পনার শ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুগুলোর সাথে।

ক্ষণিকের মধ্যে প্রেয়সীর ফর্সা কপোল দুটো লাল আভা ধারণ করা দেখে ভ্রু জোড়া নেতিয়ে গেল সাহিত্যের।জোরে ডাকটা দিয়েছিলই এই নেশা থেকে বের হয়ে আসার জন্য।কিন্তু ঘুরেফিরে যেন এক জায়গাতেই এসে থামতে হচ্ছে সাহিত্যকে।

চোখ জোড়া একটু বেশি নিচু করায় এবার নিজের দিকে নজর গেল কল্পনার।আয়-হায়!কামিজ-প্লাজু ছাড়া শরীরে যে কোনো ওড়না পেচানো নেই।এই আবরণে নারী দেহের সৌন্দর্য যে উপচে পরছে কল্পনার।

কল্পনার চোখের লক্ষ্য অনুসরণ করল সাহিত্য।অমনি চোখ কোটর ফাটিয়ে বের হয়ে আসতে লাগল।ধড়ফড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়ে অন্য দিকে ঘুরল সে।চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করে নিল।সাহিত্য তো সেদিকে খেয়ালই করেনি।নাহলে কখনোই অমন ঝুকে যেত না কল্পনার দিকে।আর রুমে ঢুকার পর থেকে তো শুধু আদলখানা দেখেই চোখ আটকে গিয়েছিল তার।প্রেয়সীর আবরণের দিকে তো নজরই যায়নি।আর অমন তুলতুলে দুটো গাল থাকতে সেদিকে নজরই বা কেন যাবে?ওই গাল দুটোই যথেষ্ট সাহিত্যকে কাবুতে আনতে।

বিছানার একপাশে থাকা ওড়নাটা বিদ্যুৎ বেগে শরীরে জড়িয়ে নিল কল্পনা।তার সাথেই এমন কেন হবে?এই ঘুম যে প্রতিবারই কাল হয়ে দাঁড়ায় কল্পনার জন্য।তারপরও নিজের কান্ডজ্ঞান খুলে না।এবার থেকে বোরকা পরে ঘুমাতে হবে।জিহ্বার মাথায় কামড় বসালো কল্পনা।তারপরও কি এই ঘুমটা ছাড়তে পারবে না সে?

ওড়না পেচিয়ে সাহিত্যকে ডাকার আগেই সাহিত্য উল্টো ঘুরে থাকা অবস্থায়ই কাপা গলায় শুধাতে লাগল,

"ক-কতক্ষন থেকে নক করছিলাম।আমি তো ভেবেছি ত-তুই ওয়াশরুমে পড়ে গিয়েছিস মনে হয়।সে-সেজন্যই হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকেছিলাম।কিন্তু তুই তো দেখছি ঘোড়ার হাট বেঁচে দিয়ে ঘুমাচ্ছিস"

সাহিত্যের কাপা গলায় ঠোঁট টিপে শব্দহীন হাসলো কল্পনা।ইদানিং কত নতুন নতুন রুপ দেখছে সে তার সাহিত্য ভাইয়ের।ঠোঁটের হাসি লুকিয়ে গলা উঁচিয়ে বলল কল্পনা,

"ঘুরেন দেখি এদিকে।আমাকে ঘোড়ার হাটটা কিনেই বা কে দিয়েছিল,যে সেটা বেঁচে দিয়ে ঘুমাবো আমি?"

চোখের দৃষ্টি অন্যদিকে রেখেই কল্পনার দিকে ঘুরল সাহিত্য,

"আমি যেহেতু কিনে দেইনি তাহলে অবশ্যই মেঝো চাচুই কিনে দিয়েছে তার লাডলিকে......ওসব বাদ দে।আমার চিঠি কই?"

সাহিত্য যে কথা ঘুরিয়ে নিল সেটা কল্পনা বুঝতে অক্ষম হলো না।মুখে হাসি নিয়ে বিছানা থেকে উঠতে নিয়েই শুধালো,

"দাড়ান দিচ্ছি"

এবার কল্পনার দিকে চোখ ঘুরালো সাহিত্য।না জানি আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে তার প্রেয়সীকে এমন অযুহাত না দেওয়ার জন্য।স্বাভাবিকভাবেই শুধালো সাহিত্য,

"ডাকপিওন চেঞ্জ করবি।চিঠি দিতে অনেক লেট করে"

ড্রয়ার থেকে চিঠি বের করতে নিয়েই ফিক করে হেসে উঠল কল্পনা,

"এটা পার্মানেন্ট ডাকপিওন।আর চিঠি এমন লেট করেই পাবেন"

ব্যতিব্যস্ত হয়ে শুধালো সাহিত্য,

"কেন?"

"কারণ চিঠি প্রেরক তার প্রতিশোধ নিচ্ছে।সে এতো ধৈর্য ধরে ছিল,তো এখন চিঠি প্রাপকের একটু ধৈর্য ধরা উচিত না?"

কল্পনার চোখের আড়ালে সাহিত্য নাক-মুখ কুচকালো,

"চিঠি প্রাপকের অত ধৈর্য নেই"

কল্পনা পেছনে ঘুরতেই মুখশ্রী স্বাভাবিক করল সাহিত্য।কল্পনা মুখে মৃদু হাসি নিয়ে ৬-নাম্বার চিঠিটা সাহিত্যের দিকে এগিয়ে দিল,

"একজন বিজনেসম্যান এর মুখে এটা মানায় না,মিস্টার অহিয়াম শেখ সাহিত্য"

কল্পনার মুখে নিজের পুরো নাম শুনে থমকে গেল সাহিত্য।আজ মনে হয় জীবনে প্রথমবার কল্পনা সাহিত্যের পুরো নাম মুখে নিয়েছে।আর তাতেই যেন সাহিত্য নামের সৌন্দর্য স্পষ্ট হয়ে উঠল এই 'অহিয়াম শেখ সাহিত্য' এর কাছে।

ভ্রু জোড়া নেতিয়ে মুখে মৃদু হাসি নিয়ে শুধালো সাহিত্য,

"আমি শুধু নির্দিষ্ট একটা জিনিসের ক্ষেত্রেই

অধৈর্য......তুই"

সাহিত্যের শেষের বলা 'তুই' টা কোমল হলেও যেন সেটা তীরের মতো আড়পার করে গেল কল্পনার হৃদয়কে।ভড়কালো কল্পনা,

"ক-কেন?"

নিজের মনের কথা বের হয়ে আসার আগেই হুশ ফিরল সাহিত্যের।চোখ সরু করে বলল সে,

"কারণ তোর মতো চঞ্চল মেয়ে আমি আমার গত হওয়া জীবনে দুটো কখনো দেখিনি।তো তোর মতো তিড়িং-বিড়িং এর কাছে আমি কেন ধৈর্য ধরে থাকবো?"

চোখ উল্টিয়ে ভাব নিয়ে কাধ ঝাকালো কল্পনা,

"লাগতে আসিয়েন না।আমার লেভেলে যেতে পারবেন না"

প্রেয়সীর আবেদনময়ী সৌন্দর্যকে কোনো রকম উপেক্ষা করে দরজার দিকে এগিয়ে গেল সাহিত্য,

"হোয়াট এভার"

পেছনে নিঃশব্দে সে কথার মুখ ভেংচি কাটল কল্পনা।

কল্পনার রুমের দরজা টেনে দিয়ে চিঠি খুলতে খুলতেই নিজের রুমের দিকে এগোতে লাগল সাহিত্য।

📜.......................................................................

আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি?আপনি কি বিয়ে করেছেন?না মানে হুট করে মাথায় আসলো তাই বললাম।তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তো তেমন কোনো ছবি দেখলাম না।

এই প্রশ্নটা করা একটু লজ্জাজনক। করব কি? করি, হ্যাঁ?আপনার কি গার্লফ্রেন্ড আছে? না মানে এমনি জিজ্ঞেস করলাম।না বলতে চাইলে থাক।নাও তো থাকতে পারে,তাই না?

আচ্ছা বাদ দেন ওসব কথা। বলার দরকার নেই।

উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।এই চিঠির না!! উপরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না!হায় আল্লাহ,এই চিঠি লিখাই ভুল হয়ে গিয়েছে।ছোট বোন মনে করে ক্ষমা করে দিয়েন।

আপনার আদরের বোন,

অমৃতা শেখ কল্পনা।

.......................................................................📜

রুমের দরজা লাগিয়ে তাতে হেলান দিয়ে হেসে উঠল সাহিত্য।এই মেয়েটা আর বড় হলো না।প্রতিবারের মতোই চিঠির শেষের নামটায় অধর ছুইয়ে দিয়ে আবার সামনে ধরে সেদিকে দেখে থেকে শুধালো সাহিত্য,

"ক্ষমা তো তোকে করবই না।কোন সাহসে নিজেকে আমার ছোট বোন বলিস?শুধু বিয়েটা একবার হতে দে জানপাখি।আই সোয়ার,হারে-হারে প্রত্যেকটা ভাই ডাক এর প্রতিশোধ নিয়ে ছাড়বো"

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন