#পর্ব_২৮
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
শেখ ভিলায় দৈনন্দিন এখন দুই রকম আবহাওয়া বিরাজ করে।আর এই ভিন্নতা নির্ভর করে তোফায়েল শেখ ও ফাহাদ শেখ,এই দুই ব্যক্তির উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর।
দুই শেখ আহমেদ অনুপস্থিত থাকলে শেখ ভিলার কেমন আবহাওয়া থাকে,সেটাই নাহয় আগে বলা যাক।
দুই শেখ আহমেদের অনুপস্থিতিতে :
ইহা একটি সুখময় মালঞ্চের ন্যায় বাসভবন।যাহার নাম শেখ ভিলা।এহনাফ শেখ যে তাহার তিন পুত্রের পুত্র বধু খুটিয়া খুটিয়া খুঁজিতে কোনো কমতি রাখেন নাই,সেটা নিঃসন্দেহে যে কেহই বলিতে পারিবেন।(বি:দ্র:তাহার দ্বিতীয় পুত্র পালিয়া বিবাহ করিয়াছিল।আহা!কী প্রেম)এহনাফ শেখ তো খাটিয়ায় চড়িয়া পরপারে চলিয়া গিয়াছেন।কিন্তু তাহার সহধর্মিণী মহুয়া বেগম এখনো পুত্রদের পুত্র বধুর সেবায় ফুলিয়া-ফেপিয়া তেলপিঠা স্বরূপ হইয়া আছেন।তিন পুত্র বধু যেন তিন পর বাড়ি হইতে আসেই নাই।বরং তাহাদের দেখিলেই মনে হইবে শিশুকাল থেকেই তাহারা এক বিছানাতেই বড় হইয়াছে।এতো মিল রে বাবা!শেখ ভিলার সন্তান-সন্ততিদের কথা আর কিহ্ বা বলিব!তাহারা ভাই-বোনগুলো তো একে-অপরকে ছাড়া কিছু বুঝিতেই পারে না।এতোই বুঝিতে পারে না যে তাহাদের মধ্যে বাড়ির জ্যেষ্ঠ পুত্র, বাড়ির দ্বিতীয় কন্যাকে দেখিলেই "পাগলুউউউ...থোরাছা কারলে রোম্যাঞ্চ" বলিতে লাগিয়া পড়ে।এদিক থেকে যেন বাড়ির দ্বিতীয় কন্যাও কোনো কমতি রাখে নাই।সেও আড়ালে সবুজ ওড়না উড়িয়া "লাল দুপাট্টা..উড় গেয়া রে মেরা হাওয়াকে ঝোকেছে" বলিয়া লজ্জায় লাল-বেগুনী হইয়া যায়।ঢাকার ধানমন্ডির এই বাসভবন এলাকায় শেখ ভিলা যেন এক সোনার তরী স্বরূপ।
-----
এহেম,এহেম।এবার বলা যাক, দুই শেখ আহমেদ উপস্থিত থাকলে শেখ ভিলার কেমন আবহাওয়া থাকে।
দুই শেখ আহমেদের উপস্থিতিতে :
বাড়ি তো নয় যেন সংসদ ভবন!কোন বাড়ি সেটা?শেখ ভিলা!কেন্দ্রীয় কারাগারের আসামিদেরও মনে হয় ভালো বন্ধুত্ব আছে এ বাড়ির সদস্যদের থেকে।দুই দ্বন্দ মুহুর্তের জন্য শান্তির 'শ' টাও বিরাজ করে না।এহনাফ শেখ যে ঠেকায় পরে তিন ছেলের যৌবন পেড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের বিয়ে দিয়েছেন সেটা তিন গিন্নির হাড়ি-পাতিল ঢিলা-ঢিলি দেখলেই বুঝা যায়।(বি:দ্র:তাঁর দুই নাম্বার ছেলে পালিয়ে বিয়ে করেছিল।হায় রে!এতোই পেরেম এদের?)এহনাফ শেখ তো পটল তুলতে [ লেখিকা:আল্লাহ মাফ করিও,মজা করে বলছি এটা🙂 ]সেই কবেই চলে গিয়েছেন।কিন্তু এদিকে তার বউ মহুয়া বেগম নিজেই শুকনো পটলে পরিণত হয়ে আছেন।গিন্নিদের কাছে কিছু চাইলেই খ্যাক্ করে উঠে বাড়ির তিন অহংকারী গিন্নি।আর তাদের এই ব্যবহারই যেন বাড়ির জেন-যি জেনারেশনের বাচ্চা-কাচ্চাগুলোও পেয়েছে।ব্যবহারের এতোই মিল যে,বাড়ির দামড়া রগচটা বড় ছেলে,বাড়ির নেকু দুই নাম্বার মার্কা মেয়েকে,থুক্কু,বাড়ির দ্বিতীয় মেয়েকে সামনে দেখলেই বিনা রকেটের টিকিটে নেপচুন গ্রহের ভ্রমণ করাতে পাঠিয়ে দেয়।এদিক দিয়ে এই ল্যাদা নেকু মার্কা বেডিও,থুক্কু!বাড়ির দ্বিতীয় মেয়েও কোনো কমতি রাখে না।অথর্বটাকে ঘুরেফিরে ওই বিনা রকেটের টিকিটে নেপচুন গ্রহে পাঠানো দামড়া রগচটা পাইলটের সামনেই পড়তে হবে।ঢাকার ধানমন্ডির এই বাসভবন এলাকার কেউই এই শেখ ভিলার আশেপাশে ভিড়তে চায় না।কখন যে চোখের পলকেই নেপচুনের ভ্রমণ হয়ে যায় কে জানে?
-----
এমনই কোনো এক,দুই শেখ আহমেদের অনুপস্থিতির দিনে তিন গিন্নি ও দুই নাতনিদের নিয়ে ড্রয়িং রুমে বসে মহুয়া বেগম গল্প করছেন।কাকতালীয়ভাবে দুই শেখ আহমেদেরই অফিস ট্রিপ এর ডেট একই সপ্তাহে পরে গিয়েছে।যার দরুণ আজ 'সুখময় মালঞ্চের ন্যায়' শেখ ভিলা বিদ্যমান।
দুপুরের খাবারের পর্ব চুকিয়ে আরাম করছেন বাড়ির মহিলারা।এমন সময় কল্পনা সিড়ি ভেঙে নিচে এলো।হেনা শেখকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"মা,আপু নাকি তোমাকে কল দিচ্ছে।ধরো না কেন?"
হেনা শেখ শুধালেন,
"খেয়ে উঠেই এখানে এসে একটু বসেছি।ফোন তো রুমে।দাড়া কল ব্যাক করছি"
"লাগবে না।আপু এখন অফিসে আছে।রাতে কল দিতে বলেছে"
"দাদী,দেখো তো।এরকম না?"
অনুর কথায় কল্পনা তার দিকে ঘুরল।অনু ফোনের মধ্যে মহুয়া বেগমকে কি যেন দেখাচ্ছে।
মহুয়া বেগম ফোনে নজর দিয়ে শুধালেন,
"কিছুটা।কিন্তু সাহিত্যের গুলোতে মাটিয়াভাবটা একটু বেশি আছে"
ঘাড় কাত করে ভ্রু কুচকালো কল্পনা,
"কি দেখছো তোমরা?"
অনু ফোনে হাত চালাতে নিয়েই বলল,
"আমরা সাহিত্য ভাইয়ার চোখের কালারের নাম খুজঁছি"
কুচকানো ভ্রু জোড়া আরো কুচকে গেল কল্পনার,
"সাহিত্য ভাইয়ের চোখের কালার?"
সামিয়া বলল,
"তুমি জানো নাকি,কি কালার বলে ওটাকে?"
"সাহিত্য ভাইয়ের চোখের কালার আলাদা কেন হতে যাবে?"
কল্পনার কথায় সবাই তার দিকে তাকালো।সেটা দেখে ভড়কে গেল কল্পনা,
"কি হয়েছে? ওমন করে কেন দেখছো?"
আমেনা শেখ বললেন,
"তুই সাহিত্যের চোখ দেখিসনি?"
মিনমিনিয়ে শুধালো কল্পনা,
"কেন?কি হয়েছে সাহিত্য ভাইয়ের চোখে?"
লতিফা শেখ ফিক করে হেসে উঠলেন,
"কল্পনা।সবার থেকে তুই সাহিত্যের সাথে বেশি থাকতি,আর তুই ই যদি এ কথা বলিস তাহলে সেটা বড্ড বেমানান দেখায়"
হেনা শেখ মেয়ের নিষ্পাপ কথাবার্তা শুনে বললেন,
"তুই কি সাহিত্যের দিকে চোখটা তুলেও তাকাস না?এমন অযৌক্তিক কথাবার্তা বলছিস কেন?একটা মানুষ দিব্বি তোর সামনে প্রতিদিন হেঁটে বেড়ায়,আর তুই গর্ধবের মতো কথাবার্তা বলছিস"
এলোমেলো নজর ফেলতে লাগল কল্পনা।এখন কে এদের বুঝাবে যে কল্পনার এখন পর্যন্ত সেই মহান কাজ করার সাহসই হয়নি।মাইক্রো ন্যানো সেকেন্ডের জন্যও সেপাশে দেখে থাকলে কল্পনার হাতে-পায়ে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়।মিনমিনিয়ে শুধালো কল্পনা,
"কখনো ওভাবে খেয়াল করিনি"
আবার শুধালেন হেনা শেখ,
"ছোট থেকে ছেলেটার ঘাড়ে চড়ে চড়ে ঘাড়টাই বাকিয়ে দিতি,আর এখন সাহিত্য তোর এই কথা শুনলে হার্ট অ্যাটাক করবে"
আবার মিনমিনিয়ে শুধালো কল্পনা,
"আরে তখন তো ছোট ছিলাম।ততটা বুঝতামই না।আর এখন তো.....তেমন করে কি আর ঘাড়ে চড়ে থাকা হয়?"
শেষের কথাটা জোরেই বলল কল্পনা।পর মুহুর্তেই ভ্রু উঁচিয়ে মহুয়া বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলল সে,
"আর তোমার নাতি কোন হুরপরা,যে আমাদের কারোই চোখের রঙ আলাদা নয়,শুধু তারই চোখের রঙ আলাদা হবে?"
হেসে উঠলেন মহুয়া বেগম,
"আমার নাতি তো হুরপরা বটেই।কিন্তু চোখের রঙ আলাদা হওয়ার যুক্তি আছে"
মহুয়া বেগমের পাশে বসে পড়ল কল্পনা।বিস্ময়ে ভরা চোখ জোড়া দাদীর দিকে রেখেই শুধালো,
"সেটাতে আবার কি যুক্তি আছে?"
আবার মৃদু হাসলেন মহুয়া বেগম।অতঃপর বলতে শুরু করলেন,
"তোর দাদুর দাদু এক ব্রিটিশ মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন।তোর দাদুর বাবার চোখ মাটিয়া-সবুজাভাব রঙের না হলেও তোর দাদুর চোখ সেই রঙের ছিল।আর সেটা তোর বাবা-চাচারা কেউ না পেয়ে সাহিত্য পেয়েছে"
বুদ্ধিমানের মতো থুতনিতে আঙ্গুল টোকালো অনু,
"হুমমম।জেনারেশন গ্যাপ ওয়ান সিকুয়েন্স অনুযায়ী এটা চলছে"
কল্পনা ভ্রু কুচকে মহুয়া বেগমের দিকেই দেখে
আছে,
"দাদুর চোখও এমন ছিল?"
মাথায় হাত চাপড়ালেন হেনা শেখ,
"এটা তো অন্তত সামিয়া আর অনুও জানে।তুই কি এতো দিন মঙ্গল গ্রহে ছিলি?"
মায়ের কথায় নাক শিটকালো কল্পনা,
"আমি হওয়ার আগেই তো দাদু চলে গিয়েছে।আর আমি আবার এই দুটোর মতো দাদীর রুম ঘেটে দাদুর ছবি বের করে দেখেছিলাম?ছোটতে দাদী যে কয়টা দেখিয়েছিল ওগুলোতেও তেমন খেয়াল করিনি"
অনু বলল,
"ওটা না হয় বাদ দাও।কিন্তু,অন্তত সাহিত্য ভাইয়ার চোখ তো দেখে বুঝার কথা"
মাথা চুলকাতে লাগল কল্পনা,
"সেটা আমারো সন্দেহ হচ্ছে।এতো বড় একটা জিনিস আমার চোখের আড়াল হলোই বা কেমন করে?"
"কারণ তুই একটা গা'ধি,তাই"
অন্তর গলা শুনে পাশ ফিরল কল্পনা।মহুয়া বেগমের পাশে সোফায় দুই হাতের কনুই ঠেকিয়ে হেলে দাঁড়িয়েছে অন্ত।কল্পনা তার দিকে ঘুরতেই আবার বলে উঠল অন্ত,
"আর সেই সাথে একটা উজবুকও"
কিড়মিড়য়ে উঠতে গিয়েও থেমে গেল কল্পনা।ভুল তো বলেনি অন্ত ভাইয়া।সে একটা উজবুক না হলে সাহিত্য ভাইয়ের চোখের রঙ দেখতো না?
আবার শুধালো অন্ত,
"সাহিত্য ভাইয়া জানতে পারলে তোর খবর আছে দেখিস।এমন একটা উজবুককে এতো দিন ভরে ভরে আদর দিয়েছে সেটা শুনেই তোর চোখ তুলে ফেলবে"
অন্তর শেষের কথায় বড় আকারের এক ঢোক গিলল কল্পনা।উপরে সাহস দেখিয়ে শুধালো,
"আমি কি ইচ্ছা করে দেখিনি নাকি?মানুষ মাত্রই ভুল।তো আমার দ্বারায়ও ছোট একটা ভুল হয়েই গিয়েছে।তাতে এমন ভয় কেন দেখাচ্ছো তুমি?"
কিছু না বলে ঠোঁট বাকিয়ে হালকা শব্দ করে হাসলো অন্ত।যেটা কল্পনার একদম ভালো লাগল না।এটা তো কল্পনারও মাথায় ঘুরছে যে সাহিত্য ভাই যদি জানতে পারে তার আদরের এই জানপাখিটাই একমাত্র তার চোখের রঙ কেমন সেটা জানে না,তাহলে হয় কল্পনার চোখ তুলে নেবে নাহয় নিজের চোখ তুলে কল্পনার চোখ বরাবর ঢুকিয়ে দেবে।
সারাদিন পর ছেলেকে দেখে শুধালেন লতিফা শেখ,
"দুপুরে ভার্সিটিতে কিছু খেয়েছিস?"
ডানে-বামে মৃদু মাথা দোলালো অন্ত।সেটা দেখে সব মায়া সড়িয়ে কিড়মিড়িয়ে উঠলেন লতিফা শেখ,
"থাক না খেয়ে।অজ্ঞান হয়ে হসপিটালে পরে থেকে আমাকে যেতে বললে আমিও ঠিক এমনভাবেই মাথা দোলাবো"
ঘামার্থ ফর্সা আদলখানায় হালকা হাসি ফুটিয়ে বলল অন্ত,
"উফ্ আম্মু,ওমন কিছুই হবে না।ভার্সিটির লাস্ট ইয়ার হওয়ায় অনেক প্যারায় আছি তো,তাই একটু ভুলে গিয়েছিলাম"
আবার কিড়মিড়িয়ে উঠলেন লতিফা শেখ,
"ওই তো,বললাম।হসপিটালে পরে থাকলে আমিও ভুলে যাব যে আমি তোর আম্মু হই"
মাথা নিচু করে আবার হেসে উঠল অন্ত।নাতির ঝুকানো মাথায় হাত বুলাতে নিয়ে লতিফা শেখের উদ্দেশ্যে বললেন মহুয়া বেগম,
"আহা,ও বলল তো ব্যস্ত ছিল।এখন নাহয় খেয়ে নেবে"
গম্ভীর মুখশ্রী বজায় রেখেই মহুয়া বেগমের উদ্দেশ্যে বললেন লতিফা শেখ,
"আম্মা,আপনি শুধু আমার একটা শেষ কাজ করে দিয়ে যাইয়েন।ছোট বউ হিসেবে এটাই আপনার কাছে শেষ আবদার ধরে নিতে পারেন।এই ছেলেটার জন্য একটা খাড়ুস বউ শুধু খুঁজে দিয়েন।আপনার এই ভদ্র ছোট বউমাকে দিয়ে আরো অতি ভদ্র এই ছেলেকে সামলানো আর সম্ভব না"
মাথা তুলে কপালে ভাজ ফেলল অন্ত,
"আরে,না খেয়ে থাকা আবার কোথাকার ভদ্রতা হলো?"
একই সুরে বললেন লতিফা শেখ,
"একমাত্র এটাই অভদ্রতা তোর মাঝে।কিন্তু তোর এই মা দূর দর্শন করছে।তোর মতো এমন শান্ত ছেলের জন্য একটা খাড়ুস বউই ঠিক আছে।একটা ব্যালেন্স এর তো ব্যাপার আছে,তাই না?"
নাক-মুখ কুচকালো অন্ত,
"এটা মাপামাপির কোনো জিনিস হলো?"
হাসলেন মহুয়া বেগম।অন্তর দিকে ঘুরে বললেন,
"হয় হয়,এখানে আরো বেশি হয়"
অতঃপর লতিফা শেখের দিকে ঘুরে শুধালেন,
"তুই টেনশন নিস না।আল্লাহ ভাগ্যে যেটা রাখবে সেটাই হবে।আর আমি তো মনে করি আমার নাতি যার ভাগ্যে জুটবে তার ভাগ্য সোনার ঘড়ার মতো হবে"
ভারী শ্বাস ফেললেন লতিফা শেখ,
"তারপরেও আম্মা,এখনকার যুগে এতো ভদ্র ছেলে আমার নিজেরই বেমানান লাগে।বেশি শান্ত-ভদ্র দেখে যদি কোনো মেয়ে পছন্দই না করে?"
লতিফা শেখের চকিত হয়ে বলা শেষের কথা শুনে অন্তর মুখ হা হলেও উপস্থিত বাকি সবাই মুখ টিপে হাসছে।আমেনা শেখ মৃদু হাসতে নিয়েই ছোট জা এর কাধে আলতো হাতে বারি দিলেন,
"ধুর,কি যে বলিস তুই?আমাদের অন্ত লাখে একটা।কেন ওকে কোনো মেয়ে পছন্দ করবে না?"
মুখ অন্ধকার করল অন্ত,
"আমি কি তোমাকে বলেছিলাম আমাকে এতো ভদ্রতা শেখাতে?নিজের দেওয়া শিক্ষার উপর এখন নিজেই কেমন করে আঙ্গুল তুলছে"
আবার ভারী শ্বাস ফেললেন লতিফা শেখ,
"এরকম হবে সেটা আগে জানলে তো সেই কবেই স্টেশনে বিড়ি টানতে পাঠাতাম"
লতিফা শেখের এবারের কথায় শাশুড়ী ও বাকি দুই জা ভালোই ভড়কালেন।এদিকে অনু আর সামিয়া তো সোফা থেকে পড়ে গিয়ে মেঝেতে বসে হেসেই যাচ্ছে।অতিরিক্ত উত্তেজনার তোপে তাদের হাসির শব্দই বের হওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
মায়ের কথায় আরেক দফা চকিত হলো অন্ত।মাথায় হাত চাপড়ে বলতে লাগল,
"যুগ-যামানা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে,হায় আল্লাহ্!"
শুভ্রা রঙা শার্টের হাতা মোড়াতে নিয়েই হতাশায় বসে থাকা মায়ের উদ্দেশ্যে বলল অন্ত,
"টেবিলে খাবার দাও।আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি"
কথা শেষেই স্থান ত্যাগ করল অন্ত।অন্ত যাওয়ার পরপরই ছোট বউমার উদ্দেশ্যে হালকা গম্ভীর হুং'কার দিলেন মহুয়া বেগম,
"হোই লতিফা,এগুলো কি বলিস তুই?এতোদিন ভালো রেখে এখন হাট্টা-কাট্টা জোয়ান ছেলেটাকে বিগড়ানোর ধান্দায় আছিস?"
শাশুড়ীর দিকে দেখে ঠোঁট বিকৃত করলেন লতিফা শেখ,
"আপনার কি মনে হয় যে এই ছেলের পক্ষে সেটা সম্ভব? ওটাতেও যদি একটু বিগড়ায় সেটা আমার ভাগ্য"
আবার হালকা গম্ভীর হুং'কার দিলেন মহুয়া বেগম।অনু আর সামিয়ার হাসিটা কেবলই একটু থেমেছিল।কিন্তু পুরো থামার সুযোগটাই কই পেল?তার আগেই আরেক দফা শুরু হয়ে গেল।
এতো কিছুর পরেও কল্পনা ঘাপটি মেরে বসে আঙ্গুল কামড়াতে ব্যস্ত।সে তো এক অন্য অংক কষতে বসেছে।যে করেই হোক আজ রাতের মধ্যেই সাহিত্য ভাইয়ের চোখের রঙ দেখতে হবে।তাও আবার সাহিত্য ভাইয়ের চোখের আড়ালে।হায় আল্লাহ!সেটা আবার সম্ভবই বা কেমন করে?কিন্তু আর কোনো উপায়ও তো নেই।বাড়ির এই ইকড়ি-বিকড়ি গুলোর বিশ্বাস নেই।কখন যে সাহিত্য ভাইয়ের কানে সে খবর পৌঁছে দেয়!চেহারা কাঁদো কাঁদো করল কল্পনা।মন তো চাচ্ছে সাহিত্য ভাইয়ের পেইন্টগুলো খেয়ে ম'রেই যাক সে।
#চলবে