ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

২৯তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_২৯

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

O.S.S. কোম্পানি শুধু বাংলাদেশ বা কানাডা নয়,বরং বিশ্বের নামি-দামি বেশ কয়েকটি দেশেও সুপরিচিত।বিজনেস যতটা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে ঠিক ততটাই চতুর মস্তিষ্কের উপরও নির্ভর করে।যেকোনো একটির কমতি থাকলেই এই পথের যাত্রায় সামনে আগানো কঠিন হয়ে উঠে।কিন্তু সাহিত্যের যেন এই দুটো থাকার সাথেও আরো একটি সহায়ক ছিল।যা পথ দেখানোর সাথে সাথে পথের ধারিতে আলোর ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল।আর সেটি হলো নিজের রাগের মাধ্যমে বাইরে বেড়িয়ে আসা জেদ।এই জেদ যদি না থাকতো তাহলে হয়তো ভিকি,অয়ন ও রবির কথা শুনেই এতো বড় রিস্কটা না নিয়েই পিছিয়ে আসতো সাহিত্য।

কিন্তু সাহিত্য একবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা থেকে পিছিয়ে এসেছে এমনটা খুব কমই চোখে পড়ে।আর সেটাই হয়েছে।বছর দেড়েক তিন বন্ধুকে টেনে সাথে নিয়ে চললেও দুই বছর পুর্ণ হওয়ার আগেই O.S.S. কোম্পানির মেইন ওনার ও তার তিন বন্ধু যেন ভালোই গুরুত্বের সাথে কোম্পানির ইনভেস্টমেন্টের উপর নজর দিতে শুরু করে।

একাডেমিক ও জেনারেল নলেজের পার্সেন্টেজ যথেষ্ট ভালো থাকায় অন্যান্য কোম্পানিরা O.S.S. কোম্পানির হঠাৎ আগমন সামলাতে পারেনি।হুট করেই যেন এক নতুন কোম্পানি পুরো বিশ্বের নজরে পরে।যার ব্যাকগ্রাউন্ড রেপুটেশনে না কোনো খুত,না কোনো সুদ-ঘু'ষ।কিন্তু আসল ঘটনা যেন শুধুই O.S.S. কোম্পানির মেইন ফোর স্টারসদের কাছেই গোপন ছিল।তবে 'বিসমিল্লাহ' বলে কিছু শুরু করলে সেই কাজ যেন অর্ধেকের বেশি শুরুতেই হয়ে যায়।তেমনটাই O.S.S. গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেও হয়েছে।

আর এখন,বর্তমান সময়ে যেন এই কোম্পানির নাম আলাদা করে বলার প্রয়োজনই পড়ে না।এটাতেই যেন এক স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে ফোর স্টারস অফ O.S.S. কোম্পানি।কিন্তু তবুও যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়।কারণ বিজনেসে যেমন হঠাৎ উন্নতি হয় তেমন হঠাৎ অবনতি হওয়ারও সম্ভাবনা আছে।তাই তো O.S.S. কোম্পানির ইনক্রিজ-ডিক্রিজ এর উপর প্রায় প্রায় শুধুই এই ফোর স্টারসদের মধ্যে মিটিং রাখা হয়।যেমনটা আজ রাখা হয়েছে।

মিটিং রুমে সাধারণত মিটিং হয়।বর্তমানে যেটা চলছে সেটাও এক প্রকার মিটিং,কিন্তু ইনফর্মাল বটে।এ কথাটা যে রবি সাহিত্যকে কতক্ষণ থেকে বুঝাচ্ছে কে জানে?কিন্তু সাহিত্যের তো সেদিকে কোনো মনোযোগই নেই।সে তো তার ঠিক সামনে লম্বা টেবিলটার অন্য মাথায় বসে থাকা অয়নকে চোখ দিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে।এতক্ষণে তো সাহিত্যের বাম চোখটা ফরকাতেও শুরু করে দিয়েছে।সেদিকেরই চিপে দুই আঙ্গুল ও চোয়ালে বৃদ্ধা আঙ্গুল ঠেকিয়ে তাতে র'ক্ত বর্ণ মুখোমন্ডলটার পুরো ভার দিয়ে রেখেছে সাহিত্য।দেশে ফেরার কিছুদিন পর থেকেই রাগটা যেন একটু নিয়ন্ত্রণে থাকে সাহিত্যের।নাহলে এতক্ষণে তো অয়নকে আছাঁড় মে'রে মে'রে আচার বানিয়ে দিত সে।

রবি বর্তমানে সাহিত্যের এই ক্ষণিকের ধৈর্যের জন্য কল্পনাকে হাজার কয়েক ধন্যবাদ দিতে লাগল।সেই মেয়েটার কারণেই যেন নিজেকে এতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সাহিত্য।কারণটা তেমন বিভ্রান্তিকর নয়।প্রেয়সী দিনের চব্বিশ ঘণ্টা সামনে থাকার পরেও তার চুল পর্যন্ত না ধরতে পেরেই যেন এতো ধৈর্য অর্জন করেছে এই ধৈর্যহীন ব্যক্তি।কিন্তু অফিসে এসে সেই দুঃখের আজাহারি করা শুনলেই যেন রবি আর অয়নের চোখ জোড়া ছলছল করে উঠে।বন্ধুর ১১বছর পুরনো ভালোবাসা পেয়েও যেন পাচ্ছে না। ভিকিসহ এই দুই বন্ধুর জন্য এর থেকে কষ্টকর আর কীই বা হতে পারে।

কিন্তু বর্তমানের পরিস্থিতি যেন পুরো বদলে গিয়েছে।তবে অয়ন সাহিত্যের জায়গায় গেলেও সাহিত্য তো সাহিত্যই।সে অয়নের দুঃখে চোখে পানি না এনে গলিত জ্বালামুখী এনেছে।রাগের উপর নিয়ন্ত্রণটা আছে দেখেই তার আঁচ একটু কম পাচ্ছে অয়ন।কিন্তু এই ধৈর্য যে ক্ষণিকের সেটা যেন অয়নের মাথায়ই ঢুকছে না।আর সেটা দেখেই যেন রবির কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে।নিজের জন্য নয়।অয়নের জন্য।

সাহিত্যের থেকে নজর ঘুরিয়ে অয়নকে দেখলো রবি।টেবিলের অনেকটা অংশ জুড়েই চোখের পানি আর সর্দি মুছা টিস্যু ছড়িয়ে আছে।আর অয়ন ঘন ঘন টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু বের করে ফ্যাছ্ ফ্যাছ্ করে নাক ডলেই যাচ্ছে আর টেবিলে টিস্যুর সংখ্যা বাড়িয়েই যাচ্ছে।আবার সাহিত্যের দিকে ঘুরে এক গভীর ঢোক গিলল রবি।অতঃপর লম্বা এক শ্বাস নিয়ে মাথা ঝুকিয়ে আবার সাহিত্যকে বুঝানোর চেষ্টা করল,

"সাহিত্য।এই সাহিত্য,শুনছিস?"

"হুম"

অয়নের দিকে কঠিন নজর রেখেই গম্ভীর কন্ঠে ছোট করে শুধালো সাহিত্য।

আরেকটা লম্বা শ্বাস নিয়ে আবার বলতে লাগল রবি,

"দে না ওরে একটু মন হালকা করতে।শুনি একটু কি বলছে।যেটাই হোক,ছ্যাঁকা তো খেয়েছে,তাই না?আমরা একটু মিটমাট করেই দেই"

নজর না ঘুরিয়েই ক্ষণিক সময় নিরব থেকে গম্ভীর কন্ঠেই অয়নকে উদ্দেশ্য করে রবিকে বলল সাহিত্য,

"ওরে চুপ করতে বল"

সাহিত্যের দাঁত চাবানো কন্ঠ শুনে চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করল রবি।অতঃপর মিনমিনিয়ে শুধালো,

"বললাম তো।হচ্ছে না"

এবার টেবিলে ঘু'ষি মে'রে অয়নের উদ্দেশ্যে হুং'কার দিয়ে উঠল সাহিত্য,

"এই শা'লা চুপ যা!মিটিং বাদ দিয়ে তোর এই ফ্যাছফ্যাছি শুনতে আর ভালো লাগে না"

হাত ও টেবিলের ঘর্ষণের শব্দ আর সাহিত্যের হুং'কারে সাহিত্যের ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্যের পি.এ. রাজ হাতে-পায়ে চমকে উঠল।হাতের ফাইলটা পড়ে যেতে নিলে কোনো মতে সামলে নিয়েছে।হাতের ফাইল সামলে চোখের চিকন ফ্রেমের চশমা ঠিক করল রাজ।এতোদিনে তো সাহিত্যের এই রুপের সাথে রাজ অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।ওই শুধু মাঝে মাঝে একটু শরীরে স্নায়ুর তাড়না দেখা দেয়।

অতি সুক্ষ্ম মুহুর্তের জন্য কান্না থামিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখলো অয়ন।আনমনে কি যেন ভেবে হাতের টিস্যু দিয়ে নাক মুছে পূণরায় কান্না শুরু করে এবার টেবিলে মাথা ঠেকিয়ে দিল সে।এতে যেন সাহিত্যের রাগটাতে আরো তেল ছিটা পড়ল।রাগে চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করে রবির দিকে ঘুরে হাত দিয়ে অয়নকে তাক করে দাঁত চিবিয়ে বলতে লাগল,

"ওইটার বা'লের ন্যাকামি চুপ করা।ম্যানলি কোনো ম্যানার্স নেই শা'লা কচুর লতির মধ্যে।আমি একবার চেয়ার থেকে উঠলে কিন্তু কচুর লতি পিস পিস করে কা'টবো বলে দিলাম"

এবার রবি কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে লাগল,

"আব্বে,তোরা দুইজনের কেউ একজন তো ঠিক থাক।একটা কেঁদে-কুটে ভাসাচ্ছিস আর একটা জ্বালামুখী ফাটাচ্ছিস"

রবি রাজের দিকে ঘুরে কাঁদো কাঁদো ভাব কন্ঠে রেখেই শুধালো,

"রাজ তুই তো অন্তত একটু হেল্প কর ভাই"

চশমার এক কোণা ঠেলিয়ে চশমা ঠিক করে শান্তভাবেই বলল রাজ,

"সরি স্যার।আমি এখন সামনে এগিয়ে গেলে সাহিত্য স্যার আমাকে অফিস ও দুনিয়া দুটো থেকেই বিদায় করে দেবেন"

হাল ছেড়ে দিল রবি,

"ধুর!তোরা থাক,আমি আমার বউয়ের কাছে গেলাম"

"ওই থাম!আমাদের প্রেমের অবস্থা টান টান আর তুই বউয়ের কাছে যাচ্ছিস?"

কাকতালীয়ভাবে সাহিত্য আর অয়ন একই কথা বলে চেচিয়ে উঠল।দুই বন্ধুর কান্ড দেখে মাথায় হাত চাপড়ে আবার টেবিলে এসে বসলো রবি।এদের জ্বালায় তিন বছরের বিয়েতেও শান্তি নেই।

আগের আবহাওয়া বজায় থাকা অবস্থাতেই রুমে অয়নের পেছনে থাকা ভিডিও কনফারেন্সিং মনিটরে এক কল ঢুকলো।সেপাশে এক নজর দিয়ে রবির দিকে ঘুরল রাজ।রবি মাথা দোলাতেই রাজ ভিকির কল রিসিভ করল।

"সরি সরি,জ্যামে আটকা পড়েছিলা...."

মিটিং এ নিজের দেরি করে আসার কারণ শুনাতে বন্ধ করে দিল ভিকি।অয়নের গুণগুণ করে কান্না করা আর সাহিত্যের সেই চিরপরিচিত চেহারার ধরণ দেখে থমকে গেল সে।নিজের ইটালিয়ান কাট দাড়িতে আঙ্গুল বুলাতে নিয়ে ধীর আওয়াজে শুধালো,

"এই সেরেছে।আবহাওয়া তো দেখছি ভালোই গরম"

গলা উঁচিয়ে রাজকে উদ্দেশ্য করে বলল ভিকি,

"এই রাজ,রুমের এসি টা অন করে দাও।আবহাওয়া ঠান্ডা হলে পরে মিটিং করা যাবে"

ভিকি রবির দিকে ঘুরে ঠোঁট বাকিয়ে নিঃশব্দে হেসে শুধালো,

"বাআইইই"

"আব্বে ওয়...!"

রবি কথা শেষ করতে পারল না,তার আগেই ভিকি কল কে'টে দিল।পর মুহুর্তেই রবির ফোনে ম্যাসেজ ঢুকল।ভিকি দিয়েছে,

"আগে তোরা যেমন কল কে'টে দিয়ে পালাতি,তেমন আমিও এখন পালাবো।শোধবোধ।সামলা এখন।হে হে"

সাহিত্য দেশে ফেরার পর থেকে ভিকি যেন ভালোই মজায় আছে।আর এদিকে ফাটছে রবি আর অয়নের।ভিকির ম্যাসেজ দেখে বিড়বিড় করে আওড়াল রবি,

"শা'লা.."

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

অবশেষে অয়ন তার কান্নাকাটি থামিয়ে মুখে পানি ছিটাতে ওয়াশরুমে গিয়েছে।সেপাশ থেকে চোখ সড়িয়ে এবার আর পায়ের ভর সইতে না পেরে চেয়ারে বসে পড়ল রাজ।অয়ন যে এতো ইমোশনাল রাজ সেটা এই প্রথম জানলো।মিটিং রুমে যখন মনমরা মুখ নিয়ে অয়ন ঢুকেছিল তখন অব্দিও রাজের ধারণা ছিল না যে সাহিত্যের বকা দেওয়াতে অয়ন এমন বাচ্চাদের মতো কাঁদতে শুরু করবে।কী আর করবে বেচারা?বিয়ের বয়সে ব্রেকাপ হলে যা হয় আরকি।তবে মেয়ে যে শুধু ফিলিংস নিয়ে ছিনিভিনি খেলেছে সেটা নয়,টাকা নিয়েও ভালোই ছিনিভিনি ডান্স দিয়েছে।আর সেটার জন্যই সাহিত্যের কাছে রামধমক খেয়েছে অয়ন।

মাথায়-মুখে পানি ছিটিয়ে শরীরের উপরের অংশের সম্পুর্ণ ভার কোমড়ে ছেড়ে দিয়ে ঢুলতে নিয়েই চেয়ারে এসে বসল অয়ন।নাক টেনে কেবলই আবার কান্না শুরু করতে যাবে,এমন সময় আবার সাহিত্য হুং'কার দিয়ে উঠল,

"আবার যদি এই ন্যাকামো শুরু করেছিস তাহলে কোনো কথা ছাড়াই এই পাঁচ তালা থেকে ছুড়ে মারব তোকে"

শিটিয়ে গেল অয়ন।সাহিত্যের কোনো গ্যারান্টি নেই।আসলেই ছুঁড়ে মার'তে পারে এই রগচটা টা।

দুই হাত দিয়ে নিজের মুখোমন্ডল ডলে সময় নিয়ে শান্ত কিন্তু গম্ভীর কন্ঠেই শুধালো সাহিত্য,

"ওই মেয়ের পাল্লায় পড়েছিস কেমনে তুই?"

কাঁদো কাঁদো গলায় বলল অয়ন,

"ভাই,আমি ওরে ভালোবাসি"

আবার চেচিয়ে উঠল সাহিত্য,

"আব্বে রামগাধা!ওই মেয়ে তোর বিজনেসম্যান হওয়ার সুযোগ নিয়েছে।এমন নিব্বা মার্কা কথা বলা বন্ধ কর"

রবি সাহিত্যকে উদ্দেশ্য করে ব্যতিব্যস্ত হয়ে শুধালো,

"দোস্ত,দোস্ত।শান্ত হ,প্লিজ।একটু মাথাটা ঠান্ডা করে কথা বল"

সাহিত্য রবির দিকে ঘুরল,

"ওর এই ইম্যাচিউর বিহেভিয়ার দেখে তুই ই বা শান্ত আছিস কেমন করে?"

কথার মাঝে রাজ বাম হাত ঢুকিয়ে শান্ত স্বরে শুধালো,

"স্যার,আপনি মনে হয় ভুলে যাচ্ছেন,রবি স্যার একটা বউ সামলায়"

সাহিত্য, রবি দুজনেই রাজের দিকে ঘুরল।রবি তো সাহিত্যের চোখের আড়ালে রাজের দিকে দেখে নাক-মুখ কুচকাচ্ছে।এ সময় এই কথাটা বলার দরকার ছিল?

সাহিত্য আর কিছু না বলে অয়নের দিকে ঘুরল।আবার আগের ন্যায় শান্ত কিন্তু গম্ভীর কন্ঠে বলল সাহিত্য,

"এখন কি লাগবে তোর? "

অয়ন কিছু বলতে গেলেই সাহিত্য চিবিয়ে বলে উঠল,

"ওই মেয়েকে চাইলে তোর গলা আমি মুরগির গলার মতো কা'টবো"

আবার চুপসে গেল অয়ন।সময় নিয়ে এবার গা ঝাড়া দিয়ে সোজা হয়ে বসল সে,

"নাহ্,তুই ঠিকই বলেছিস।ওই মেয়ে আমাকে ইউজ করেছিল।শা'লির সাহস কত বড়,অয়ন তালুকদারকে ইউজ করে ছেড়ে দিয়েছে!"

রবি তো মহা খুশি!এই বুঝি গর্ধবটার মাথায় কথা ঢুকলো।খুশি মনেই গলা উঁচিয়ে অয়নের উদ্দেশ্যে বলল রবি,

"দ্যাটস দা স্পিরিট মাই বয়!দেখিয়ে দে ওই শা'লিকে,যে অয়ন তালুকদার কি করতে পারে"

আবার দৃঢ় মনোভাব নিয়ে শুধালো অয়ন,

"হ্যাঁ!দেখিয়ে দেব।শা'লি রে বিয়ে করে আমিও ওরে ইউজ করে দেখিয়ে দেব"

রবির উত্তেজনা ফাটা বেলুনের বাতাসের ন্যায় রবির ভেতর থেকে বেড়িয়ে গেল।সাহিত্য রবির দিকে দেখে ঠোঁটের কোণে হাসি নিয়ে শুধালো,

"কি মনে করেছিলি?ওর মগজ পরিষ্কার হয়েছে?শা'লাটার মগজ ওই শা'লিটা ওয়াশ করেছে!"

এবার আর সাহিত্য বসে থাকলো না।পড়নের ওল্ড রোজ রঙা শার্টের হাতা গুটাতে নিয়েই অয়নের দিকে আগাতে লাগল।এবার রবিও নাক কুচকে বসে থাকল।কচুর লতিটাকে এবার কা'টা ছাড়া আর কোনো উপায় বাকি নেই।

অয়নের কাছে গিয়ে ব্লাক ফরমাল প্যান্টের পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে একবার ভ্রু নাচিয়ে গম্ভীর কন্ঠে শুধালো সাহিত্য,

"কী?"

ঢোক গিলল অয়ন।সেও একবার ভ্রু নাচিয়ে কাপা গলায় শুধালো,

"ক-কী?"

সময় নষ্ট না করে দুই হাত দিয়ে বসে থাকা অয়নের শার্টের কলার চেপে ধরল সাহিত্য,

"কি বললি আবার বল দেখি!"

কাইকুই করতে লাগল অয়ন।

সাহিত্য আবার বলল,

"আব্বে সুগার ড্যাডির ছাও!ওই বেডি বিয়ে করার যোগ্য না।ওরে ছেড়ে দে।আমি কল্পনাকে বলে ওর কোনো ফ্রেন্ডের ব্যবস্থা করে দিতে বলব,তবুও ওই টাকা খোর রে ছাড়!..."

সাহিত্য তার নীতি বাক্য বলতে নিয়েই অয়নের শার্টের কলার ধরে দুলিয়েই যাচ্ছে।আর অয়ন চোখ খিচে বন্ধ করে "এ্যায়ায়া,এ্যায়ায়া,এ্যায়ায়া" করেই যাচ্ছে।

তাদের সেই ঝগড়ার দিকে ক্ষণিক সময় চোখ রেখে রবি হতাশার শ্বাস ফেলল।রাজের দিকে ঘুরতেই দেখল রাজ হা হয়ে নিষ্পলক তার স্যার ও অয়নের আজগুবি কান্ড দেখছে।রবি তুড়ি বাজিয়ে রাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করল,

"রাজ,এক মগ কফি নিয়ে আয় তো।এদের কারণে অল্প বয়সেই সুগার হাই হচ্ছে আমার"

রাজ চেহারায় দ্বিধা নিয়েই রবির দিকে ঘুরল,

"কিন্তু স্যার,অয়ন স্যারের কি হবে এখন?"

মুখের সামনে মাছি তাড়াবার মতো হাত নাড়িয়ে বলল রবি,

"তুই টেনশন নিস না।সাহিত্য ওরে ঠিক করেই ছাড়বে।কলেজে থাকতে এমন অনেক হয়েছে।এখন তুই গিয়ে আমার-অয়নের জন্য নরমাল কফি আর সাহিত্যের জন্য ওর ব্লাক কফিটা নিয়ে আয়.....পারলে তোর জন্যও আনিস।মাথা তো মনে হয় তোরও ঠিক নেই"

আরো একবার সাহিত্য ও অয়নের দিকে চোখ বুলিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল রাজ।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন