ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৩১তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৩১

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বর্ষার আবহাওয়াটা এবার ভালো করেই বিরাজ করছে ধরণীতে।কিন্তু তারপরেও প্রায় দিনে রোদের দেখা মেলে।সেটাতে আরেক ভ্যাপসা গরম উঠে। ক্ষণিক বাদে যেন আবারো শীতল আরামে বর্ষার দেখা মিলে।এই গোলমিল আবহাওয়ায় প্রীতিও গোলমিল হয়ে সেই কতক্ষণ থেকে ভার্সিটির গেটের কাছে তম্বা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কারণটা হলো,তার সামনেই কল্পনার মুখে ফেনা তুলে বলা সাহিত্য ভাইয়ের রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিন।আর তার থেকেও ভয়ানক বিষয়, সেই রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনে সাহিত্য ভাই নিজেই হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

ক্লান্ত শরীরে প্রীতি ঢুলতে নিয়ে বের হলেও সেই শরীরে এখন আর ক্লান্তির রেশটুকু নেই।কল্পনা তো আজ ভার্সিটি আসেইনি।তাহলে এই জমরাজ এখানে কি করে?হঠাৎ ভড়কে উঠল প্রীতি।সে তো কল্পনার কাছে সাহিত্যকে নিয়ে অনেক টক-মিষ্টি-ঝাল কথা বলে।কেউ আবার সেই কথাগুলো এই টাইকুন বিজনেসম্যানের কাছে ফাস করে দিয়েছে নাকি?আর হঠাৎ চাচাতো বোনের প্রতি আদর উদয় হওয়াতে আবার প্রীতিকে ওয়ার্নিং দিতে এসেছে নাকি?তাহলে তো প্রীতি শেষ আজকে!

আর খাম্বার মতো ভার্সিটির গেটে দাঁড়িয়ে থাকলো না প্রীতি।কাধের ব্যাগ দিয়ে মুখ ঢেকে জোর পায়ে হাটতে লাগল।

"এই মেয়ে!"

হাতে-পায়ে লাফিয়ে উঠল প্রীতি।এই লোকের চোখগুলো মানুষের চোখ নাকি চিল পাখির চোখ?প্রীতিকে অবশেষে দেখেই ফেলল?হাল ছেড়ে দিল প্রীতি।পেছনে ঘুরার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগল।কিন্তু গলা যে শুকিয়ে কাট হয়ে আসছে।কল্পনার মুখে সাহিত্য ভাইয়ের রাগের ব্যাপারে অনেক কথা শুনেছে সে।আর আপাতত এমন তাগড়া একটা যুবক দেখে নিজের মনের বীর যোদ্ধা তো সেই কবেই পালিয়ে গিয়েছে।

প্রীতি কাপতে নিয়েই পেছনে ঘুরল ।আরেক দফা চমকে উঠল।সাহিত্য সরাসরি তার দিকেই দেখে আছে।প্রীতির শরীরের ভেতরের জানটা তো এতক্ষণে নাক-মুখ দিয়ে বের হতে শুরু করেই দিয়েছে।তারপরেও বাকি জানটুকুতে থাকা অবশিষ্ট সাহস নিয়েই নিজের দিকে এক আঙ্গুল তাক করে কাপা গলায় শুধালো,

"আ-আমি?"

কাটকাট গলা সাহিত্যের,

"হ্যাঁ তুমি।এদিকে এসো"

সাহিত্য আগাতে বলল,অথচ প্রীতি সাহিত্যের ভারী গলা শুনে এক ধাপ পিছিয়ে গেল।হাতের ব্যাগটা শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরেছে মেয়েটা।সাহিত্য ভাই তাকে কাছে ডেকে আবার ক'বরস্থানে নিয়ে যাবে নাকি!

এবার সাহিত্য গাড়িতে হেলান দেওয়া থেকে উঠে দাড়ালো,

"কি ব্যাপার?আসতে বললাম যে,শুনোনি?"

ভুমিকম্প বয়ে গেল প্রীতির শরীরে।কিন্তু আর কোনো উপায় না দেখে যান্ত্রিকভাবে সাহিত্যের দিকে আগাতে লাগল।প্রীতির এমন চলন দেখে চোখ-মুখ কুচকালো সাহিত্য।কল্পনার সাথে থেকে-থেকে এই মেয়েটাও মনে হয় পাগল হয়ে গিয়েছে।কেমন ভাঙা টেম্পুগুলোর মতো হাটছে।প্রীতি কোনো রকম এসে সাহিত্যের সামনে দাড়ালো।কাপা গলায় বলল,

"জ-জ্বী।আপনি কি আ-আমাকে ডাকছিলেন?"

আবার গাড়িতে হেলান দিয়ে বুকের কাছে দুই হাত ভাজ করল সাহিত্য,

"হুম।তুমি কল্পনার ফ্রেন্ড না?"

এখন তো প্রীতির খুব করে বলতে ইচ্ছা করছে,

'না না!একদম না।ওই ফাজিলটাকে তো আমি চিনিও না'

কিন্তু আফসোস!প্রীতি সেটা বলতে পাড়ল না।কারণ সাহিত্য ভাই তো আর খোঁজ-খবর না নিয়েই এখানে আসেনি।অবশ্যই প্রীতির চৌদ্দো গুষ্টির বায়োডাটা জেনেই এসেছে।তাই আবার বাধ্য মেয়ের মতোই উপর-নিচ মাথা ঝাকালো প্রীতি।

"কি নাম তোমার?"

সাহিত্যের প্রতিবারের কাটকাট গলায় প্রীতির হার্টবিট বেড়েই চলেছে।আবার কাপা গলায় শুধালো,

"পি-প্রীতি।তাবাসসুম প্রীতি"

"প্রীতি,তাই না?"

উপর-নিচ মাথা ঝাকালো প্রীতি,

"জ্বী"

"আমি সাহিত্য,কল্পনার চাচাতো ভাই"

প্রীতি আবার মাথা দুলালো ,

"জ্বী আমি জানি"

প্রীতিকে পুরো দমে চকিত করে দিয়ে সাহিত্য তার গম্ভীর মুখশ্রী বদলে ঠোঁটে হাসি ফুটালো,

"ওমা,তাই নাকি!তাহলে তো ভালোই হলো।আমি তো মনে করেছি ওই বাদরটা আমার ব্যাপারে কিছু বলেইনি"

সাহিত্যের এমন হঠাৎ পরিবর্তন দেখে প্রীতি মূর্তির ন্যায় হয়ে গেল।সাহিত্য ভাই কি তার সাথে মজা করছে?প্রীতির কোনো নড়াচড়া না দেখে সাহিত্য আবার বলল,

"হেই প্রীতি,আর ইউ অল রাইট?কি,গরমে মাথা ঘুরছে নাকি?"

হুশ ফিরল প্রীতির।জোরে জোরে মাথা ঝাকালো সে,

"না না ভাইয়া,আমি ঠিক আছি"

মুখে হাসি রেখেই শুধালো সাহিত্য,

"অবশ্য ওই বাদরটা আশেপাশে থাকলে মানুষের একটু মাথা খারাপ হয়ই।ইটস নরমাল,টেনশন নিও না"

প্রীতি হ্যাঁ ইঙ্গিতে ডানে-বামে মাথা দুলালো।সাহিত্য হাতের ঘড়ির দিকে দেখে শুধালো,

"এনি ওয়ে,আমি আমার অফিস রেখে এখানে এসেছি।সো তেমন টাইম ওয়েস্ট করতে চাচ্ছি না।তোমার যদি কোনো প্রবলেম না থাকে কিছু প্রশ্ন করা যাবে?"

প্রীতি ঠায় তেমনই দাঁড়িয়ে আছে।কিসের আবার প্রশ্ন করবে?প্রীতি তার জানপাখির ঠিক মতো দেখাশোনা করছে কিনা?ভার্সিটির নোট তুলে দেয় কিনা?কল্পনার এক্সামের খাতায় প্রীতি লিখে দেয় কিনা?

প্রীতির অযৌক্তিক ভাবনার মাঝে গম্ভীর মুখশ্রী নিয়ে শুধালো সাহিত্য,

"কল্পনার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে"

এবার ভ্রু কুচকে ডান দিকে মাথা ঝুকালো প্রীতি,

"কল্পনার বয়ফ্রেন্ড?"

সাহিত্যের কথা বুঝতে পেরেই ভ্রু জোড়া শিথিল হয়ে এলো প্রীতির,

"আপনি ওই কাল সাপ রাতুলটার কথা বলছেন?"

রাতুলকে দেওয়া প্রীতির নিক নেমটা শুনে ঠোঁট বাকিয়ে হালকা হাসলো সাহিত্য,

"মনে হয়।তোমাদের ফার্স্ট ইয়ারে থাকাকালীন একদিন কল্পনাকে ওই ছেলের সাথে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখেছিলাম"

প্রীতি ভারী এক শ্বাস ফেলে এবার কঠিনত্ব ছাড়িয়ে শরীরের ভার ছেড়ে দাড়ালো,

"সেদিন ওটা কথা বলা না ভাইয়া,কল্পনার সাথে তর্ক করছিল ওই ছেলেটা।আর ওটা কল্পনার বয়ফ্রেন্ড না,ওর এক্স"

'এক্স' শব্দটা শুনে যেন সাহিত্য একটু স্বস্থি পেল।মানে ঝামেলা অল্পতেই মিটে যাবে।সাহিত্যের বেশি কিছু করতে হবে না।এ কথা ভাবতেই প্রীতির প্রথমের কথায় টনক নড়ল সাহিত্যের।নাহ্,ঝামেলা অল্পতে মেটানো যাবে না।চোয়াল যেন ভারী শক্ত হয়ে এলো,

"কল্পনার সাথে তর্ক?কোন সাহসে সে কল্পনার সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলেছে?"

বিভিন্ন মুভিতে যেমনটা দেখায় না যে কাউকে ফেরেশতার নজরে দেখলে তার পেছন থেকে আলো জ্বলে?প্রীতি তার মাথা তুলে সাহিত্যকে বর্তমানে সেই নজরেই দেখছে।প্রীতি এতদিন থেকে ৩২ টা নিয়মে যাকে মনে মনে মা'ডার করেছে সেই নিয়মগুলো যে এখন বাস্তবেও সফল হতে যাচ্ছে সেটা বুঝতে প্রীতির বিন্দু মাত্র দেরি হলো না।জোরে জোরে মাথা ঝাকিয়ে গলায় জোর দিয়ে বলল প্রীতি,

"হ্যাঁ হ্যাঁ ভাইয়া! আমারো সেটাই কথা।ওই লমপ্টটার সাহস কেমন করে হয় আমার মাসুম ফুলের মতো বান্ধুবিটার সাথে গলা উঁচিয়ে কথা বলার!যখন কথা বলছিল তখন ইচ্ছে তো করছিল জিবটা টেনে ছিড়ে দেই!"

প্রীতির এমন কথা বলার ধরন দেখে অবাক হলো সাহিত্য।কল্পনাকে হালকা-পাতলা সাব্বাসিও দিল একটু।ভালোই একটা বন্ধু বানিয়েছে।শুধু ছেলেই চিনতে পারলো না মেয়েটা।

শান্ত স্বরেই বলল সাহিত্য,

"সমস্যা নেই।সেই কাজ আমিই করে দেব।আগে আমাকে বিষয়টা একটু খুলে বলো।কল্পনা ওই ছেলের পাল্লায় পড়েছিল কেমন করে?"

প্রীতির গলার জোরটা একটু খেই হয়ে গেল,

"আমাদের এডমিশনের কোচিং শুরু হওয়ার পরপরই রাতুল কল্পনার পেছনে পড়ে।কল্পনা স্বাভাবিকভাবেই তাকে ইগনোর করে গিয়েছে।কিন্তু হঠাৎ একদিন হ্যাঁ করে দেয়।কিছুদিন পরেই কোচিং এ কথা শুনি যে কল্পনা নাকি কোনো এক ছেলেকে কোচিং এর সামনে দাঁড়িয়ে চড় মে'রেছে।ততদিনে আমাদের বন্ধুত্বটাও ভালো হয়ে এসেছিল।কল্পনাকে জিজ্ঞেস করায় বেচারি কাদঁতে কাদঁতে সব খুলে বলে যে রাতুল নাকি তাকে ব্যাড টাচ করতে চেয়েছিল দেখে সে চড় মে'রেছিল।কল্পনার ওই অবস্থা দেখে আমি রাতুলের ব্যাপারে তেমন কিছু আর জানতে চাইনি।যার কারণে আমি রাতুলকে চিনতামও না।ভেবেছিলাম সব মনে হয় ঠিক হয়ে গিয়েছে।কিন্তু ওই রাতুল এখনো কল্পনার পিছনে পড়ে আছে।আপনি যেদিন আমাদেরকে এখানে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন,তারপরেও অনেকবার কল্পনাকে জ্বালিয়েছে।আমার তো খুব টেনশন হচ্ছে যে কিছু আবার খারাপ করে নাকি ওই ছেলে"

মাথা তুলে প্রীতি সাহিত্যের দিকে দেখলো।সাহিত্যের মাথাটা হালকা নিচু করা।প্রীতির কথা যে সে মনোযোগ দিয়ে শুনছে তা বুঝলো প্রীতি।কিন্তু তার সাথে যে সাহিত্য নিজের রাগটা লুকিয়ে রেখেছে সেটা আর ঠাহোর করতে পারল না।এবার প্রীতি সাহিত্যের দিকে দেখেই বলে উঠল,

"আর ওই রাতুলটার জন্য কল্পনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন পরীক্ষার সময় অনেক সমস্যা হয়েছিল।একপাশে এই ছেলের চিন্তায় পড়ায় কনসান্ট্রেট করতে পারছিল না, তারউপর ফাহাদ আংকেল বলেছিল সে ঢাবি তে টিকলে সে যেটা চাইবে সেটাই দেবে।কিন্তু সেই সুযোগও নিস্ফল হয়ে গেল।আংকেল আর আপনি তো কথাই বলেন না নাকি"

প্রীতি বুঝতে পারলো সে একটু বেশিই গভীর কথা বলে ফেলেছে।তাই চটজলদি কথা ঘুরিয়ে নিল,

"আসলে ভাইয়া,আমিও পুরো ঘটনা জানি না।কল্পনা আমাকে কেন জানি রাতুলের বিষয়ে কিছু বলতেই চায় না।কল্পনা যেহেতু এতো বছর এসব থেকে দূরে ছিল তাহলে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে কল্পনা এতোটাও অবুঝ না যে অকারণেই এতো বড় একটা ভুল করবে।নিশ্চয়ই কোনো কারণ ছিল যার কারণে সে এই ভুলটা করে বসেছে"

মাথা তুলল না সাহিত্য,

"কল্পনা কোনো ভুল করেনি।ওই ছেলের ভাগ্য আমার হাতেই লিখা ছিল।যার কারণেই সে কল্পনার জীবনে ঢুকেছে"

প্রীতির শরীর আবার শক্ত হয়ে এলো।এবার সাহিত্যের রাগটা ভালো করেই আঁচ করতে পারছে সে।প্রীতি নিজের গলা ভেজানোর পরপরই সাহিত্য শুধালো,

"কার জিনিসে হাত দিয়েছে জানা নেই তো,তাই উড়ছে বেশি।এক আছাড়ে মাটির নিচে ঢুকাবো"

গম্ভীর মুখোশ্রি নিয়েই তাচ্ছিল্য হাসল সাহিত্য,

"না না,শরীরের ক্ষত তো অল্প দিন থাকবে।ওর জীবন ধ্বংস করব আমি।বাস্তব জীবনের আসল রূপ দেখবে সে এখন।পৃথিবীতে যে টিকে থাকা এতোটাও সহজ না সেটা এখন বুঝবে সে"

মাথা তুলে সাহিত্য প্রীতির দিকে দেখলো।সাহিত্যের চোখ জোড়া দেখে ভালোই ভড়কালো মেয়েটা।মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়া কেমন রক্ত বর্ণ ধারন করেছে।যার দর্শন পেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে গেল প্রীতি।কারো জীবনে যে পরকালের গজব নামা শুরু হবে প্রীতি বুঝতে অক্ষম হলো না।সেটা ভেবেই মনের এক কোণে হাসির রেখা ফুটে উঠল প্রীতির।

সাহিত্য আর তার মুখোশ্রি স্বাভাবিক করতে পারল না।সেই মুখোশ্রি নিয়েই শুধালো,

"ইনফরমেশনগুলো দেওয়ার জন্য থাংকিউ"

গাড়ির দরজা খুলতে গিয়ে থেমে গেল সাহিত্য। প্রীতির দিকে আবার নজর ঘুরালো,

"আজ যে তোমার সাথে আমার কথা হয়েছে এটা যেন কল্পনা কোনোভাবেই না জানে।আমি যদি জেনেছি কল্পনা এসব ব্যাপারে জানে.... তাহলে বুঝতেই তো পারছো কি হবে"

সাহিত্যের শেষের ভারী কন্ঠে প্রীতির দেহখানা আরেক দফা কেপে উঠল।ভয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে উঠল,

"না না ভাইয়া!আমি কল্পনাকে কিচ্ছু বলব না!আপনি টেনশন নিয়েন না.......নিজের জীবনের মায়া আছে আমার"

শেষের কথাটা প্রীতি নজর লুকিয়ে মিনমিনিয়েই বলল।যেটা হয়তো সাহিত্যের কান অব্দি যায়নি।যাওয়ার দরকারও বোধ করে না প্রীতি।

সাহিত্য আর কথা বাড়ালো না।গাড়িতে বসে দক্ষ হাতে স্টেয়ারিং ঘুড়িয়ে জায়গা ত্যাগ করল।সাহিত্য যাওয়ার পরপরই প্রীতির মুখে হাসি ফুটল।কল্পনা অযথা শুধু নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে।অথচ সে জানেই না সে কত ভালো ভাগ্যের অধিকারী!খুশি মনেই আকাশ পানে দেখে বলে উঠল প্রীতি,

"হে আল্লাহ মাবুদ। আমার ভাগ্যেও এমন একটা পজেসিভ ছেলে দিও।প্রিটি প্লিজ"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কল্পনা তার জীবনে অনেক ভুল করেছে।সেটা সে ভালো করেই জানে।কিন্তু মাঝে মাঝে সেই ভুলে এমন ভাবে ফেসে যায় যে বের হওয়ার কোনো উপায়ই থাকে না।যার ফল স্বরূপ নিজেকে যে সে কি পরিমাণের দোষারোপ করে তার হিসেব নেই।কিন্তু একবার ভুল করলে সেখান থেকে তো আর বের হওয়া সম্ভবই নয়।সেই পস্তানিতে গত প্রায় ৫ মিনিট যাবত হাতের বইখানা দিয়ে নিজের মাথায় বারি মেরেই যাচ্ছে।সাথে মুখে বিড়বিড় করে কিছু আওড়াচ্ছেও সে।হয়তো হাতের সেই বইয়েরই পড়া মুখোস্ত করছে।মাথাটাকে এবার একটু রেহাই দিয়ে দুই হাত টান টান করে বইখানা মুখের সামনে ধরলো কল্পনা,

"ওহে পড়ালেখা,কেন এভাবে আমার যৌবনটাকে নষ্ট করছো?বিয়ে করার বয়সে তোমার সাথে পরকীয়া করছি।একটু তো ছাড় দাও।নাহলে আমার জামাইটা যে পাকা চুল আলা বউ পাবে"

কথাটা বলেই অশ্রুহীন কান্না করতে লাগল কল্পনা।কিন্তু পড়ালেখা যে শুধু তার সাথে নয়,অনেকের সাথেই পরকীয়া করছে সেটাও তো কল্পনার বুঝতে হবে।শুধু কল্পনাকে ছাড় দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না!

আর সম্ভব হলো না কল্পনার পক্ষে।বইখানা বিছানায় ছুড়ে

মারল,

"অনেক হয়েছে পড়াশোনা!বিয়ের পরে তো জামাইয়েরই টাকা উড়াবো।তো আমি এতো পরিশ্রম করছি কেন?পড়াশুনা নামক শয়তান,ছেড়ে দে আমাকে!"

গলা উঁচিয়ে বলতে লাগলো কল্পনা,

"আল্লাআআআহহ!তোমার কাছে বিচার দিলাম!"

হালকা খুলে রাখা রুমের দরজাটা ধাম করে খোলার শব্দ হলো।সাথে এক পুরুষালী কন্ঠও শোনা গেল,

"কি বিচার দিবি আমাকে দে।তোর ঝামেলা সামলানোর জন্য আল্লাহ আমাকে অলরেডি পাঠিয়েছে"

দরজার শব্দ শুনে আতকে উঠে পেছনে ঘুরে কল্পনা।দেখা মিলল তার সাহিত্য ভাইয়ের।যে কিনা সটান হয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।আবার আতকে উঠল মেয়েটা।মনে পড়ে গেল সাহিত্যের সেই গম্ভীর কন্ঠের বাক্য,

'কল্পনা......অঘটন কিছু ঘটলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদিস না,প্লিজ'

কল্পনার চিন্তায় সেই বাক্যের অর্থের ভয়;মনের ভিতরে থাকা সত্বেও সাতদিন ধরে সাহিত্যের গলায় ঝুলেছে সে।কতবার সরি বলেছে হিসেব এখনো মেলাতে পারেনি।আর এদিকে সাহিত্যও যেন তার প্রেয়সীর কান্ড-কারখানায় বেশ মজা নিচ্ছিল।তারও তো অভিমান বলে কিছু আছে,তাই না?শুধু কি মেয়েরাই অভিমান করতে পারে?ছেলেদেরও তো অনুভুতিতে সেই ফাংশন আছে।তার এতো সুন্দর একটা চোখের রঙ কেনই বা প্রেয়সী ভুলে যাবে?তাই ঝুলিয়ে-ঝুলিয়ে সরি বলে নিয়ে তারপরই মাফ করেছে।

সাহিত্যকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দৌড়ে তার কাছে গেল কল্পনা।কাদোঁ গলায় বলতে লাগলো,

"সাহিত্য ভাআআইইই।আমি আর পড়ালেখা করব না।হবে না আমার দ্বারা!কিছু তো করেন!!"

মুচকি হাসলো সাহিত্য।মনে পড়ে গেল বহু বছর আগের কথা।তখনো ঠিক এমন করেই তার জানপাখিটা তার কাছে ছুটে এসে একই কথা বলত।কিন্তু আজ সাহিত্যের উত্তর আগের থেকে একদম ভিন্ন হবে।গলা খাকাড়ি দিয়ে বলে উঠল সে,

"এটা থেকে বাঁচার শুধুমাত্র একটা উপায়ই আছে"

উৎসুখ হয়ে জানতে চাইল কল্পনা,

"কি? কি?"

হেলাফেলায় বলে উঠল সাহিত্য,

"সিম্পেল।বিয়ে করে নে"

থমকালো কল্পনা।ক্ষণিক সময় বাদে মাথা নিচু করে এপাশ-ওপাশ দুলিয়ে মিনমিনিয়ে শুধালো,

"আচ্ছা ঠিক আছে।ছেলে খুঁজেন"

এবার সাহিত্য আতকে উঠল।ভালোই আতকে উঠেছে ছেলেটা।সে তো শুধু মজা করছিল।কিন্তু এই মেয়ে তো একদম সিরিয়াস হয়ে আছে।তাকেই নাকি তার প্রেয়সী ছেলে খুঁজতে বলছে।কি গজব পড়া কথাবার্তা এসব!এবার কল্পনার ব্যস্ততা সাহিত্যের মাঝে দেখা গেল,

"এই এই!কি বলছিস?এতো তাড়াতাড়ি কেউ হাল ছাড়ে?"

মাসুম নজরে সাহিত্যকে দেখলো কল্পনা,

"হাল ছাড়ার কি আছে? আমাকে তো এমনিতেও কেউ বিয়ে করবে না।সবখানে শুধু ঝামেলা বাধিয়ে বেড়াই"

ইস্!কি সুন্দর লাগছে সাহিত্যের কল্পনাকে বর্তমানে সাহিত্যের চোখে।এই মেয়েটা ইহজগতে সাহিত্যকে আর মনে হয় বাঁচতে দেবে না।সাহিত্যের মন তো চাচ্ছে তার ললনার গাল দুটো একদম খেয়েই ফেলুক।কপোল দুটোতে নিজের অধরের কাজ চালাতে নিয়েই বলুক,

'তোর নাম শুধু এই সাহিত্যের ভাগ্যের খাতায়ই লিখা আছে।অন্য কারো ভাগ্যের খাতায় তোর নাম লিখা থাকলেও সেই খাতা পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে দেব আমি'

কিন্তু পারলো না সাহিত্য সে কথা বলতে।তার জানপাখিটা যে বড্ড অবুঝ আছে এখনো।কিনা কি মনে করে বসে কে জানে?

নেশালো চোখ জোড়া নিয়ে কল্পনার দিকে হালকা ঝুকে এলো সাহিত্য।আনমনেই শান্ত স্বরে শুধালো,

"তুই শুধু আমার জীবনেই তোলপাড় উঠিয়েছিস।আর সেটা সামলাতেই আমি হিমসিম খাচ্ছি"

সাহিত্য ঝুকে আসায় কিছুটা পিছিয়ে গেল কল্পনা।আবেগে ভরা সেই মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়ার দিকে সুক্ষ্ম সময়ের জন্য তাকিয়ে থেকে হঠাৎই এক ঝটকায় পেছনে ঘুরে দাড়ালো।উদ্দেশ্য,চলতি ভারী শ্বাস-প্রশ্বাস সাহিত্যের থেকে লুকানো।সাহিত্য ভাই এভাবে কথাটা না বললেও পারতেন।সেটা যে কল্পনার কাছে অন্যকিছুরই অর্থ প্রকাশ করছে।কিন্তু কল্পনার কাছে যেন অজানাই থেকে গেল,যে সাহিত্য সেই অর্থেই কথাটা বলেছে।

ভারী শ্বাস ফেলতে নিয়েই বিছানার দিকে হাঁটা দিল কল্পনা।উদ্দেশ্য,যেই বইখানা কিছুক্ষণ আগে ছুঁড়ে মেরেছিল সেটিই হাতে নেওয়া।সাহিত্যের কথা উপেক্ষা করতেই কাপা কন্ঠে কিছু বলেও উঠল তার সাথে,

"ওটাই তো।সবার জন্য আমি শুধু ঝামেলাই।বিয়ে দিয়ে দেন আমাকে।তখন আর সহ্য করতে হবে না"

অভিমান করেই কথাটা মনে হয় বলল কল্পনা।সেটা বুঝতে পারল সাহিত্য।মুচকি হেসে বড় বড় পা ফেলে কল্পনার পেছনে সেও হাঁটতে লাগল,

"তোর দায়িত্ব নিয়েছি।না চাইলেও তো একটু সহ্য করতেই হবে"

এবার আসলেই অভিমান করল কল্পনা।পিছনে ঘুরতেই সাহিত্যকে নিজের থেকে খানিকটা দূরে আবিষ্কার করল।দুই হাত পেছনে বেধে নিম্নাষ্ঠ কামড়ে ধরে আছে সাহিত্য।মনমরা হয়ে শুধালো কল্পনা,

"আমি এতোটাই অসহ্যকর,যে আমাকে সহ্য করতে চাইছেন না?"

ভ্রু উচিয়ে বলল সাহিত্য,

"কেন সহ্য করব?যেখানে তুই আমাকে ভালো মতো বিশ্বাস করে কোনো কথাটা অব্দি বলিস না"

হৃদয়টা যেন মোচড় দিয়ে উঠল কল্পনার।তার জীবনে সাহিত্যই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস শব্দটার অধিকারী।আর সেখানে সাহিত্যই তাকে এ কথা বলছে?মনমরা হয়েই ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে কল্পনা বলে উঠল,

"কে বলেছে আপনাকে সে কথা?এই পুরো ধরণীর মানুষও যদি বলে আপনি বিশ্বাস করার যোগ্য নন,তারপরেও আমি আপনাকেই বিশ্বাস করব।কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের জীবনের সব কথা আপনাকে বলতে রাজি আমি"

হৃদয় গলে মম হয়ে গেল সাহিত্যের।তার প্রেয়সীর চোখে নিজের প্রতি সম্মানটা যেন উপছে পড়তে দেখছে সে।কল্পনা যেন এভাবে তাকে ভালোবাসাটাও দেয়।সে দোয়াই করল বর্তমানে সাহিত্য।

সবকিছু ভুলে এবার আসল কথায় এলো সাহিত্য,

"তো রাতুলের কথা আমাকে জানাসনি কেন?"

চোখ কোটর থেকে বেড়িয়ে আসতে লাগল কল্পনার,

"কি?"

"রাতুলের কথা আমাকে জানাসনি কেন?"

প্রথমবার শান্ত স্বরেই কথাটা বলেছিল সাহিত্য।কিন্তু এবার দাঁত চিবিয়ে বলল।

কল্পনার গলা ইতিমধ্যেই কাপতে শুরু করেছে,

"কো-কোন রাতুল?কি-কিসের র-রাতুল?আমি কোনো রাতুলকে চিনি না"

কথাটা বলতে নিয়েই বিছানায় বসে অবহেলায় পড়ে থাকা বইটা হাতে নিল কল্পনা।ভেবে পেল না ওই বাল ছেড়া রাতুলটার কথা সাহিত্য ভাই কেমন করে জানলো?এজন্যই কি এতোক্ষণ থেকে বিশ্বাস করার বাণী ঝাড়ছিল?

কল্পনা কিছু বলতে যাবে তার আগেই সাহিত্য কল্পনার মুখোমুখি হয়ে বিছানায় বসে পড়ল,

"মুখ খুলবি নাকি ঝাটা পেটা খাবি?"

কিছু বানোয়াট কথা বলার জন্যই মুখ খুলেছিল কল্পনা।কিন্তু থেমে গেল।এখন আর মিথ্যা বলে কি লাভ?সাহিত্য ভাই যেখান থেকেই জেনেছে,সবটাই হয়তো জেনেছে।শুধু কল্পনার কাছে নিশ্চিত হতে এসেছে হয়তো।

আবার গম্ভীর কন্ঠে শুধালো সাহিত্য,

"মুখ খুলে হা হয়ে থাকতে বলিনি।কথা বল"

মাথা নিচু করে ফেলল কল্পনা,

"রাতুল আমার বয়ফ্রেন্ড ছিল।তিন সপ্তাহ রিলেশনে ছিলাম।এডমিশনের সময়ের কথা"

সাহিত্য সময় নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"তুই রাতুলকে পছন্দ করিস?"

হৃদয়ে যেন পাথর নিয়ে কথাটা বলল সাহিত্য।কিন্তু কল্পনা যেন অজান্তেই সাহিত্যের হৃদয়ের পাথর ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই সাহিত্যের দিকে দেখে জোরে জোরে মাথা ঝাকিয়ে বলে উঠল,

" না না! একদম না!ওই থার্ডক্লাস ছেলেকে কে পছন্দ করবে?"

সাহিত্য ঠোঁট বাকিয়ে বলে উঠল,

"তুই করেছিলি।তিন সপ্তাহ টাংকিও মেরেছিস"

চুপসে গেল কল্পনা।সাহিত্য যে তাকে খোচা দিচ্ছে সেটা সে ভালো করেই বুঝলো।তলানিতে পড়ে থাকা নিজের মান-সম্মানটা অক্ষুণ্ণ রাখতেই মিনমিনিয়ে বলে উঠল,

"আমি ইচ্ছে করে করিনি তো"

ভারী কন্ঠ সাহিত্যের,

"তোকে কি কেউ জোর করেছিল?"

সাহিত্যের দিকে পিটপিট করে দেখতে লাগলো কল্পনা।সাহিত্যের শক্ত চোয়ালটা দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে কল্পনা এখন যার নামটাই মুখ থেকে বের করবে তাকে কাঁচায় চিবিয়ে যাবে সাহিত্য।কল্পনা সেটা চিন্তা করেই লম্বা এক ঢোক গিলল।কল্পনা যদি এখন আসলেই সেই নামটা বলে তাহলে কি সাহিত্য ভাই নিজেকে চড় মারবে নাকি কল্পনাকে?সেটা ভেবে পেল না কল্পনা।তাই আবার মাথা নিচু করে নিল।তার সাথে ডানে-বামে মৃদু মাথাও ঝাকালো।

ভারী শ্বাস ফেলল সাহিত্য।সে ধরেই নিল যে তার জানপাখিটা বয়সের দোষেই সেই ভুল দিকে পা বাড়িয়েছিল।আসল কারণটা অজানাই থেকে গেল সাহিত্যের কাছে।জানলে হয়তো খুশি হতো সে।

ক্ষণিক সময় যেন নিরবতা বয়ে গেল আশেপাশে।কল্পনা ওদিকে মাথা নিচু করে বিছানার চাঁদরে তর্জনী আঙুল

ঘুরিয়েই যাচ্ছে।নিরবতা ভেঙে সাহিত্যই বলে উঠল,

"ছেলেটা কি তোকে......ছুয়েছিল?"

সাহিত্যের কোনো ইচ্ছা ছিল না এই কথাটা বলার।কিন্তু তার প্রেয়সীর শরীরে কোনো আঁচড় যে সাহিত্য মেনে নিতে পারবে না।প্রেয়সী যে তার কি সহ্য করেছে তা জানা নেই সাহিত্যের।প্রেয়সীর এমন খারাপ সময়ে তার পাশে ছিল না সেটা ভেবেই নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করছে বর্তমানে।

নিজেকে দোষারোপ করছিল সাহিত্য,এর মাঝেই কল্পনা সুক্ষ্ম আওয়াজে বলে উঠল,

"না।আমি ছুঁতে দেইনি।সেজন্যই তো আমার হাতে চড় খেয়েছিল"

এবার হালকা শব্দ করে হাসলো সাহিত্য।কিন্তু তাতে হালকা ক্ষোভ আর দুঃখ দুটোই যেন মিশ্রিত।ক্ষোভটা যেন নিজের উপরেই তৈরি।আর দুঃখ এটাই যে,প্রতি পদে কল্পনার শক্ত হয়ে ওঠাতে সাহিত্যই কোনো না কোনো দিক দিয়ে দায়ী।যেটা সাহিত্য একদম চায়নি।তার জানপাখিকে সে মাথায় বসিয়ে রাখতে চেয়েছিল।কিন্তু সে ব্যর্থ হয়েছে।ব্যর্থ হয়েছে নিজের প্রেয়সীকে এই কঠিন দুনিয়া থেকে দূরে রাখতে।হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল অনেক দূরে।সেই সময়টাতেই,যেই সময়টাতে প্রেয়সীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল তার।

ইচ্ছে তো করছে প্রেয়সীকে জড়িয়ে ধরতে।কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় বিছানার চাঁদরে ঘুরানো কল্পনার তর্জনী আঙুলটা আলত করে নিজের বলিষ্ঠ এক হাতের আঙুলগুলোর মাঝে তুলে নিল সাহিত্য।কিন্তু কিছু না বলেই মাথাখানা নিচু করে রাখলো।

সাহিত্যের এমন হঠাৎ ছোয়ায় কেপে উঠল কল্পনা।সাথে মাথাটাও তুলল।দেখা মিলল সাহিত্যের ঝুকে রাখা মাথাখানার।ভ্রু অব্দি চুলগুলো এখন আর কপালে ঠেকানো নেই সাহিত্যের।হঠাৎই কেন জানি সেগুলো খুব করে ছুয়ে দিতে মন চাইছে কল্পনার।কিন্তু সেই ঝুলে থাকা চুলের পেছনে সাহিত্যের অন্ধকার আদলখানাও ভালো করে নজরে এলো তার।তাই তো সেই কেশগুলো থেকে মন-মস্তিষ্ক সড়িয়ে সাহিত্যের ভাবনায় বিভোর চেহারার দিকে নজর দিল কল্পনা।তার সাহিত্য ভাই এতো নরম কবে থেকে হয়ে গেল?কিন্তু পরক্ষণেই কিছু মনে পড়ায় ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল মেয়েটার।তার সাহিত্য ভাই যে তার দিকটায় একটু বেশিই নরম সেটা যেন ভুলতে বসেছিল সে।কিন্তু এই নরম অনুভূতির আসল নামটাই বা কি?কল্পনা যে এখনো কোনো নাম দিতে পারেনি সাহিত্যের এই আদরের।

তবে এই প্রথমবার মনে হয় সাহিত্যের মনের কথা বুঝতে পারলো কল্পনা।তাই তো সাহিত্যের আরো একটু কাছে এগিয়ে গেল।মুখে হাসি নিয়ে বলল,

"আপনি কেন মন খারাপ করছেন?আপনার তো কোনো দোষ ছিল না।ভুলটা আমারই ছিল।আর আমি মোটামুটি ঠিকও করে নিয়েছি।আপনি ওতো টেনশন নিয়েন না তো"

কল্পনার বোঝাপড়া কথায় কোনো উত্তর দিল না সাহিত্য।তার জানপাখিটা নিজের কষ্ট নিজের মাঝে দাবিয়ে রাখতেও শিখে গিয়েছে।সাহিত্য মুখ গম্ভীর রেখেই বিছানা ছেড়ে উঠে দরজার দিকে এগুতে লাগল।সাহিত্যের এমন শান্ত চেহারায় যেন মন উসখুস করতে লাগল কল্পনার।তাই তো সাহিত্যের মনমরা ভাব দূর করতেই যেন মজার ছলে বলে উঠল সে,

"বললেন না যে,রাতুল আমাকে ছুলে কি করতেন?"

থেমে গেল সাহিত্য।পেছনে না ঘুরে অফ হোয়াইট রঙা টি-শার্ট পড়া কাধের কাছে চিবুকখানা নিয়ে আড় চোখে কল্পনার দিকে দেখে বলে উঠল,

"হান্টিং এ্যাডালাইন পড়িস নি? হাত কেটে মেয়ের বাসায় মেইল করেছিল। আমরা তো একই বাসায় থাকি, আমি তোর রুমে মেইল করতাম"

মজার ছলে মুখে হাসি নিয়েই কল্পনা তার প্রশ্নটা করেছিল। কিন্তু সাহিত্যের ভারী কন্ঠে হাসিটা উড়ে গিয়ে কল্পনার চোখ জোড়া কোটর থেকে বের হয়ে আসার উপক্রম হলো।সে তো মনে করেছিল সাহিত্য মনমরা হয়ে আছে।কিন্তু ইনি তো পুরো আগুনের গোলা হয়ে আছেন!তারপরেও কল্পনা মনে করল যে হয়তো মজা করেই বলছে।কিন্তু কল্পনার সেই চিন্তায় ট্রাক চালিয়ে দিয়ে মাথাখানা সামনে ঘুরিয়ে আবার বলে উঠল সাহিত্য,

"আম ভেরি সিরিয়াস আবাউট ইউ কল্পনা"

শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার মতো গম্ভীর কণ্ঠ শুনে এবার কল্পনা শতভাগ নিশ্চিত হলো যে সাহিত্য আসলেই কথাটা মজা করে বলেনি।কল্পনাকে ভাবনায় বিভোর করে দিয়ে সাহিত্য স্বাভাবিকভাবেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।

#চলবে

গল্প আরো এক-দেড় মাস পর শুরু করার কথা ছিল।কিন্তু আপনারা যে চিল্লাপাল্লা শুরু করছেন,তাতে বাধ্য হয়ে এখনই শুরু করলাম😑।কিন্তু গল্প ডেইলি আসবে না।১-২ দিন পর পর আসবে।কারণ? কারণটা হলো পর্ব লিখে তারপর পোস্ট করতে হবে🙂।আর তারউপর অনেকদিন থেকে না লিখে রাইটিং ব্লকে পড়ে গেসি🫠।

আর তারো উপরের কথা হচ্ছে গল্পে রিয়েক্ট-কমেন্ট আগের মতো না পাইলে কিন্তু পর্ব আরো দেরি করে দিব।তো দেখেন কি বুঝেন🤷‍♀️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন