ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৩৩তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৩৩

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

"মাফ করিস সাহিত্য।কিন্তু আমি এই অনুমতি তোকে দিতে পারছি না"

হঠাৎই সাহিত্যের শ্বাস নেওয়া যেন বন্ধ হয়ে গেল।চোখ বড় বড় করে সে দাদির পাশে দেখতে লাগলো।মহুয়া বেগমের মুখোশ্রি দেখে ভালো করেই বুঝা যাচ্ছে যে তিনি শতভাগ নিজের মনের কথা বলেছেন।সাহিত্য যেন হাসফাস করতে লাগলো।কাপা কন্ঠে বলে উঠল সে,

"কেন দাদি?"

ভড়কালেন মহুয়া বেগম,

"কি কেন? তুই বুঝতে পারছিস তুই কি বলছিস?শেখ পরিবারের বড় ছেলে হয়ে অন্তত এটা আমি তোর কাছে আশা করিনি।তোদের দুজনের বয়সটাই দেখ।আমি মানতে পারছি না সাহিত্য।তোদের দুজনের জীবনটাই আমি এমন করে নষ্ট হতে দিতে পারিনা"

উঠে দাড়ালো সাহিত্য।হাত-পা থরথর করে কাপছে তার।শ্বাসটা তো সেই ক্ষণিক আগে থেকেই এলোমেলো চলছে।দুই হাত দিয়ে মুখো মন্ডল ডলে দাদির পাশে দেখতে লাগলো।অতঃপর নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে কাপা গলায়ই বাক্য ছুড়লো সে,

"দাদি প্লিজ এমন বলিও না।তুমি আমার একমাত্র ভরসা।তুমি এ কথা বললে আমি বাকিদের কেমন করে মানাবো?"

"তুই কেনই বা বাকিদের মানাতে যাবি?বাড়ির কেউই তোর এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না"

ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল সাহিত্য।কি বলছে তার দাদি এসব!কেন মানছে না তার দাদি!তিনি কি কখনো সাহিত্য ও কল্পনাকে সে নজরে দেখেইনি?মহুয়া বেগমের একটু কাছে এসে তার দুই হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সাহিত্য,

"দাদি প্লিজ।আমি ভালোবাসি ওকে।আমি পারবো না ওকে ছাড়া বাঁচতে।সম্ভব না আমার পক্ষে ওকে ছাড়া বাঁচা!"

সাহিত্যের কাপা গলায় ভড়কালেন মহুয়া বেগম।সাহিত্যের অক্ষি জোড়া দেখে মনে হচ্ছে এখনই ডুকরে কেঁদে উঠবে সে।ভেবে পেলেন না মহুয়া বেগম।সেই মেয়ে কি কোনো জাদু করেছে নাকি?এতো কেন দুর্বল হচ্ছে সাহিত্য?নাতিকে আরো একবার বলতে লাগলেন তিনি,

"তোর কি হয়েছে সাহিত্য!তুই এমন করছিস কেন?যেটা সম্ভব না ওটার পেছনে কেন পড়ে আছিস?আরে ওই মেয়ের থেকে তো আমাদের কল্পনাই কত ভালো আছে!আমার অত সুন্দর ফুলের মতো মেয়েটা তোর সামনে সারাদিন ঘুরাঘুরি করার পরেও তুই ওই মেয়েকে কেমন করে পছন্দ করিস!"

থমকালো সাহিত্য।তার দাদি কল্পনাকে বাদ দিয়ে আবার কল্পনাকেই কেন দেখতে বলছে?এই অল্প সময়ে সাহিত্যের শরীরের সবকিছু এমনিতেই গোলমাল হয়ে গিয়েছে তার দাদির নীতি বাক্যে।আবার কিসব বলে মগজেরও এখন বেহাল দশা করছে।কিছু না বুঝে উঠতে পেরেই বলে উঠল সাহিত্য,

"হা??"

আগের ধাচে বলে উঠলেন মহুয়া বেগম,

"কি হা?ওই লিমা যে তোর উপর কি জাদু করেছে আল্লাহ মাবুদই জানে!"

ভড়কালো সাহিত্য,

"লিমা কে?"

কাদো গলায় বললেন মহুয়া বেগম,

"এ বাড়ির কাজের মেয়ে।যে আমার সব কাজ করে।আর এখন তো শুনছি তোর প্রেমিকও নাকি হয়!!!!"

সাহিত্যের গালে হাত বুলাতে লাগলেন মহুয়া বেগম,

"সোনা ভাই আমার,আমার কথাটা একটু শুন।আমি তোকে অনেক ভালো মেয়ে খুজে দেব।তবুও ওই লিমাকে বিয়ে করতে চাস না।ও তোর চাচির বয়সি।আর কিছু মাস আগেই ওর ডিভোর্স হলো।আমি জানি না ওই বেটি তোকে কি বুঝিয়েছে।কিন্তু তুই আমার কথাটা একটু শুন ভাই।তোর জীবন এমন করে নষ্ট হোক আমি চাই না"

মহুয়া বেগমের কথা শুনে সাহিত্য মূর্তির ন্যায় হয়ে গিয়েছে।যাকে এখন কল্পনা দেখলে তার সেই তথাকথিত গ্রিক গর্ড বলতো।নিজের নিরবতা ভাঙিয়ে বলে উঠল সাহিত্য,

"দাদি।আমি লিমা খালার কথা বলছি না।আমি তোমার কল্পনার কথাই বলছি"

আতকে উঠলেন মহুয়া বেগম।সাহিত্যের গালে থাকা হাতটা এখন নিজের বুকের উপর।সাহিত্য আর পারলো না। মাথাখানার ভাড় দাদির কোলে দিয়ে দিল।ছেলেটা এখনো ভয়ে আছে।যার ফলস্বরূপ ভারী ভারী শ্বাস ফেলছে এখনো।

বুকের উপরের হাতখানা সেখানে রেখেই আরেক হাত সাহিত্যের মাথায় রাখলেন মহুয়া বেগম।তিনি এখনো মাথায় সাহিত্যের কথা পুরোপুরি ঢুকাতে পারেননি।তাই নিশ্চিত হতে সাহিত্যের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

"কার নাম বললি তুই?"

কোলে মুখ গুজে রাখা অবস্থাতেই আবার বলে উঠল সাহিত্য,

"আমি কল্পনাকে বিয়ে করতে চাই দাদি।আমি কল্পনাকে ভালোবাসি।আমি তোমার কল্পনাকে ভালোবাসি......আমি আমার কল্পনাকে ভালোবাসি।আমার জানপাখিটাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না দাদি।ওকে আমার কলিজা থেকে আমি আলাদা করতে পারবো না"

সাহিত্যের পরবর্তী ধাপে চকিত হলেন মহুয়া বেগম।দাদির কোমড় আকড়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল সাহিত্য।সাহিত্যের কান্নার তোপে মহুয়া বেগমও মৃদু কেপে কেপে উঠতে লাগলেন।পর মুহূর্তেই ব্যতিব্যস্ত হয়ে সাহিত্যের আদলখানা কোনো মতে তুলে নিজের হাতে আবদ্ধ করলেন তিনি।মুখে হাসি রেখেই ভাঙা গলায় বলে উঠলেন,

"হ্যাঁ তো করিস তুই তোর কল্পনাকে বিয়ে।আমি কি না করেছি?এমন কাঁদছিস কেন?"

নিজেকে সংযত করে বলল সাহিত্য,

"তুমি যখন প্রথমেই না করেছো......আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করব।কিছুক্ষণ আগেই কি ভয়টা আমার মনে ঢুকেছিল জানো!!"

অবাক হলেন মহুয়া বেগম।সাথে খুশিও হলেন।এক ছেলের চোখে পানি দেখা এতোটাও সহজ না।আর তারউপর যদি সেটা হয় তার এই রগচটা নাতি সাহিত্য।কিন্তু আজ সাহিত্যকে কাঁদতে দেখলেন মহুয়া বেগম।ঠিক সেই বহু বছর আগের মতোই।আর কারণটাও যেন একই।সেই এক ব্যক্তির জন্যই।বহু বছর আগের সেই কান্নারা হালকা কারণে হলেও আজ যেন ভারী এক কারণেই সেই কান্নার দেখা মিলেছে।আদরের নাতির চোখের পানি মুছে দিলেন মহুয়া বেগম।

গলার স্বর তো সেই কতক্ষণ আগেই বসে গিয়েছে সাহিত্যের।সুক্ষ্ম খাকাড়ি দিয়ে সেই স্বর হালকা ঠিক করে শুধালো সে,

"তো এখন বলোতো,কি বলছো?রাজি আছো কি তুমি?কোনো সমস্যা আছে কি তোমার?তোমার কল্পনার সাথে আমাকে কি মানাবে ?"

হাসলেন মহুয়া বেগম।শাড়ির আঁচল দিয়ে কিছুক্ষণ আগের ভয়ে তৈরি হওয়া সাহিত্যের কপালের ঘাম মুছতে নিয়েই শুধালেন,

"তোর কল্পনাকে আবার তোর সাথে মানাবে না কেন?শেখ পরিবারের আদর্শ জুটি লাগবে তোদের।আর আমার কথা যদি বলিস,আমি তো এক পায়ে খাড়া!শুধু ওই লিমার কথা শুনে একটু ভয় পেয়েছিলাম আরকি"

দাদি-নাতি দুজনেই হেসে উঠল।হাসি থামিয়ে বললেন মহুয়া বেগম,

"কল্পনা কি জানে?"

ডানে-বামে মাথা ঝাকালো সাহিত্য।মাথা ঝাকাতে নিয়েই বলল,

"না।ওকে এখনো কিছু বলিনি।ও তো এটাও জানে না যে আমি ওকে পছন্দ করি।আর এখনে বলতেও চাচ্ছি না....এখন কাউকেই বলতে চাচ্ছি না।তোমার দুই ছেলে তো আগে থেকেই আমার পাখিটার মাথা খেয়ে রেখেছে।আপাতত আর কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছি না"

এবার নিজের মাথায় হাত দিলেন মহুয়া বেগম,

"আয়-হায়!তোদের বাপদের কথা তো আমি ভুলেই গিয়েছি!ওদের কেমন করে মানাবি?সে তো আরেক ঝামেলা!"

হাসতে নিয়েই দাদির মাথা থেকে হাতখানা সড়িয়ে দিল সাহিত্য,

"ওসব নিয়ে তোমাকে টেনশন করতে হবে না।তুমি শুধু তোমার দোয়া আমাদের সাথে রাখিও"

ভারী শ্বাস ফেললেন মহুয়া বেগম,

"আমার দোয়ার মূল কেন্দ্র তো তোরাই।কিন্তু প্রতিবারই সেই দোয়ায় তো বাধা ফেলে আমারই ছেলেরা"

"এবার আর সেটা হবে না দাদি।আমি ফেলতে দেব না"

কথাটা বলেই আবার মহুয়া বেগমের কোলে মুখ গুজে দিল সাহিত্য।হাসতে নিয়েই সাহিত্যের মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন মহুয়া বেগম।কল্পনার প্রতি সাহিত্যের পাগলামো দেখে যেন কলিজা ভিজে উঠল তার।কেমন হাসফাসটাই না করছিল সাহিত্য,যখন মহুয়া বেগম না করছিলেন।শখের নারীর ক্ষেত্রে যেন প্রতিটা পুরুষই দুর্বল হয়ে পড়ে।আর সেই দুর্বল হওয়ার ধরণও যেন আলাদা হয়।সহজে দেখা মেলে না এই দিকটার।

"দাদি তোমার নাকি গলা খুসখুস করছে?এই যে গরম পানি এনেছি..."

হাতের গ্লাসটা ভালো করে ধরে সামনে দেখলো কল্পনা।সাহিত্যকে দেখে সুক্ষ্ম সময়ের জন্য থমকে গিয়ে আবার এগোতে লাগলো,

"কি ব্যাপার?সাহিত্য ভাই এখানে কি করছে?"

মহুয়া বেগম ও সাহিত্য দুজনেই ভড়কালো কল্পনার হঠাৎ আগোমনে।কিন্তু সাহিত্য মাথা তুলল না।কারণ এতক্ষণ থেকে যে প্রেয়সীর জন্য কেঁদে-কেঁদে ফাটাচ্ছিল এটা প্রেয়সীকে দেখাতে চায় না সাহিত্য!মহুয়া বেগম ফট করে বলে উঠলেন,

"আরে!ওই..আমার সাথে কথা বলতে বলতে এখানেই ঘুমিয়ে গিয়েছে"

হাতের গ্লাসটা টেবিলে রাখতে নিয়েই শান্ত স্বরে বলল কল্পনা,

"কি?তো এমন করে কেন শুয়েছে?ভালো করে শুয়ে ঘুমাক।দাঁড়াও,আমি পাগুলো ঠিক করে দেই।নাহয় আবার কোমড় ব্যথা করবে"

ব্যতিব্যস্ত হয়ে শুধালেন মহুয়া বেগম,

"আরে না না!ওকে নাড়িস না!মানে....তুই আবার ওকে নাড়াতে পারিস?ওর ঘুম আবার কতক্ষণ?এই দেখা যাবে একটু পরেই উঠে যাবে"

ভারী শ্বাস ফেলল কল্পনা,

"ভালো করেই জানা আছে আমার।এটা কোনো পাওয়ার ন্যাপ নিচ্ছেন না স্যার।লম্বা ঘুমই দিচ্ছেন।সারাদিন এতো পরিশ্রম করলে তো শরীরের এই অবস্থা হবেই।না বড় মার কথা শুনে,না অন্য কারো।ঘুম থেকে উঠুক,দেখি কফি বানিয়ে দেব।নিজের উপর এতো প্যারা দিয়ে যে কাকে সুখে রাখতে চায় সে?"

কল্পনার এতো কথায় ঠোঁট টিপে হাসলেন মহুয়া বেগম।আবার শুধালো কল্পনা,

"সে যাই হোক।গরম পানিটা খেয়ে নিও।গলাটা একটু ঠিক হতে পারে"

মুখে হাসি নিয়েই শুধালেন মহুয়া বেগম,

"সাহিত্য ঠিকই বলেছে।তুই-ই আমার সব কাজ করে দিস"

কাধ ঝাকালো কল্পনা,

"তোমার পার্সোনাল এ্যাসিস্টেন্ট যে আমি"

আবার হেসে কল্পনাকে কাছে ডাকলেন মহুয়া বেগম,

"এদিকে আয় তো একটু"

কোনো দ্বিধা ছাড়াই মাথাটা দাদির দিকে বাড়িয়ে দিল কল্পনা।গায়ের ওড়নাটা যেন সইচ্ছায়ই সাহিত্যের মাথাটা ঢেকে ধরল।এই সুযোগে প্রেয়সীর ওড়নার মিষ্টি ঘ্রাণ নিজের মাঝে নিয়ে নিল সাহিত্য।তাতে যেন এবার চোখ জোড়া আপনাআপনিই বুঝে এলো তার।

এক হাত সাহিত্যের মাথায় রেখেই আরেক হাত কল্পনার মাথার পেছনে দিয়ে নিজের কাছে টানলেন মহুয়া বেগম।অতঃপর অধর জোড়া ছুইয়ে দিলেন কল্পনার কপালখানায়।দাদির এমন পদক্ষেপে কপোল জোড়া হালকা গরম হয়ে উঠল কল্পনার।হালকা দুরত্ব বাড়িয়ে বললেন মহুয়া বেগম,

"আল্লাহ মাবুদ যেন তোদেরকে দুনিয়ার সব খুশি দেন"

মৃদু হাসলো কল্পনা,

"তুমি খুশি থাকলেই আমি খুশি দাদি"

কল্পনার কথার তালেই বলে উঠলেন মহুয়া বেগম,

"আর তুই খুশি থাকলেই আমি খুশি"

আবার হালকা হেসে আড় চোখে সাহিত্যকে দেখলো কল্পনা।মনের মধ্যে হয়তো এক আওয়াজ বলে উঠল সেই ব্যক্তিকে দেখে,

"কেউ যদি আমার সাথে আজীবন থাকে তাহলেই আমি খুশি দাদি"

কিন্তু কল্পনার কাছে যেন অজানাই থেকে গেল,যে এই বিষয়ের চুক্তি পরিপক্ক করার জন্যই কিছুক্ষণ আগে কেউ অঝরে কাঁদছিল।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

যেই বছরের বর্ষণ ভারী হয় সেই বছরের শীতটাও নাকি বেশ ভারী যায়।আর সেটার আভাস তো এখন থেকেই দেখা দিচ্ছে।কিন্তু কয়েকদিন থেকে যেন ধরণী এই ভারী বৃষ্টি থেকে একটুখানি রেহাই পাচ্ছে।যার দরুন বাড়ির গিন্নিরা জামা-কাপড় শুকানোর জন্য এখন প্রায় সময় ছাদেই দেয়।কিন্তু চোখ-কান খোলা রাখেন যেন শুকনো কাপড়ে পানিকণার ছিটা না পড়ে।সেদিকে খেয়াল রেখেই শেষ বিকেলে কিছু কাপড় হাতে নিয়ে ছাদ থেকে নিজের রুমের দিকে পা বাড়াচ্ছিলেন হেনা শেখ।হাতের কাপড়ে আলতো হাতের ঝাড় দিতে নিয়েই চোখ গেল রান্নাঘরের দরজায়।দেখা মিলল এই বাড়ির একমাত্র নারীর,যার কেশগুলো হাটু ছুই ছুই।মেয়ের এমন ঘন কেশ দেখে মনের মধ্যেই মাশাল্লাহ বলে উঠলেন হেনা শেখ।কিন্তু পর মুহুর্তেই চোখ জোড়া সুক্ষ্ম হয়ে গেল তার।কল্পনার সেই লম্বা চুলের আগা দিয়ে টুপটাপ পানি পড়ছে।উঁচু গলায় হুংকার দিয়ে উঠলেন হেনা শেখ,

"এই কল্পনা! এই অসময় বিকেলে তোর চুল ভেজা কেন?"

মায়ের হুংকারে মৃদু কম্পন বয়ে গেল কল্পনার শরীরে।রান্নাঘরের ভেতরে লতিফা শেখ,যে এতক্ষণ কল্পনার সাথে গল্প করছিলেন,তিনি ফিক করে হেসে উঠে কল্পনাকে উদ্দেশ্য করে শুধালেন,

"দেখেছিস।আমি বললাম না তোকে,যে ভাবি দেখলেই বকা দিবে"

লতিফা শেখের কথায় কোনো প্রতিক্রিয়া না করে কল্পনা মায়ের দিকে ঘুরল।মিনমিনিয়ে বলে উঠল সে,

"ওই ভার্সিটি থেকে আসতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল।তাই গোসলটাও একটু দেরিতে হয়ে গিয়েছে"

আবার তেতে উঠলেন হেনা শেখ,

"তো তোকে আমি কতবার বলেছি সকালে গোসল করে যেতে।১০টার আগে তো বাসা থেকে বের হোস না।গোসলটা করে গেলে কি হয়?"

কল্পনা গলায় জোর দিয়ে বলল,

"আহা মা,অত সকালে গোসল করা যায়?আর সারাদিন বাইরে থেকে বাসায় এসে গোসল না করলে শরীর খিত খিত করে আমার"

ভারী শ্বাস ফেললেন হেনা শেখ,

"তো হেয়ার ড্রায়ারটা দিয়ে চুলটা তো অন্তত শুকিয়ে নিতে পারিস।ওটা কি বাচ্চা ফুটানোর জন্য ফেলে রেখেছিস?"

হাত-পা ঝাড়া ভাব নিয়ে বলে উঠল কল্পনা,

"এতো লম্বা চুল হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকাতে-শুকাতে আমার হাত ব্যাথা হয়ে যায়"

মেয়ের এমন কথায় আবার হালকা তেতে উঠলেন হেনা শেখ,

"অলস একটা!যাহ!চুলগুলো শুকিয়ে নে।কিছুদিন পর শীত নামবে তখন এই মেয়ের আবার আরেক যত্ন করতে হবে আমাকে"

শেষের কথাটা বলতে বলতেই নিজের রুমে ঢুকে গেলেন হেনা শেখ।

আর এদিকে মায়ের আদেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে ঢুলতে নিয়েই সিড়িতে উঠতে লাগলো কল্পনা,

"উফ্,এখন নাকি আবার এই চুল শুকাতে হবে"

"এত লম্বা চুল সামলাতে পারিস না তো রেখেছিস কেন?"

হঠাৎ সাহিত্যের কন্ঠে পা জোড়া থামিয়ে মাথা তুলল কল্পনা।সাহিত্য তার নিজের রুমের দরজার পাশে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে রেখেছে।এক পায়ের পদতল দেয়ালে ঠেকানো।তার সাথে হাত দুটোও কোমড়ের পেছনে বাধা।ক্ষণিক সময় অপলক সেদিকে তাকিয়ে থাকলো কল্পনা।মাথায় কিছু শয়তানি কথার উদয় হতেই ঠোঁট টিপে হেসে উঠে ঢং করে বলতে লাগলো,

"আপনাকে পটানোর জন্য"

সাহিত্য এবার মাথাটাও দেয়ালে ঠেকিয়ে দিল।কল্পনার দিকে নজর রেখেই বিড়বিড় করে আওড়ালো সে,

"সেটা আবার বাকি রেখেছিস কই"

সাহিত্যের সুক্ষ্ম কন্ঠ ধ্বনি কল্পনার কানে গেল না।যার দরুন এক কান সাহিত্যের দিকে এগিয়ে দিল সে,

"কি বললেন?আমার জালে পা দিয়েছেন নাকি?"

অমনি সাহিত্য সময় নষ্ট না করে এসে কল্পনার বাড়িয়ে দেওয়া কানটা টেনে ধরল।সেই কানের কাছে নিজের অধর জোড়া নিয়ে হিসহিসিয়ে বলে উঠল সে,

"সাহিত্যকে জালে ফেলা এতো সহজ না।কিন্তু তুই মনে হয় ছোট থেকেই কঠিন কাজ করায় পটু"

কথা বলেই সাহিত্য যেই গতিতে কল্পনার কাছে এসেছিল সেই গতিতেই নিজের রুমে ঢুকে গেল।এদিকে আবারো কল্পনা সাহিত্যের অস্বাভাবিক গতির সাথে তাল মিলাতে ব্যার্থ হলো।সাহিত্য কানটা ধরার সাথে সাথেই একটা চিৎকার তো দিয়ে উঠেছিলই।কিন্তু কানের ব্যাথায় এতো কাছ থেকে বলার পরেও সাহিত্যের হিসহিসানি কথাটা ভালো করে কানে ঢুকেনি কল্পনার।

তাই তো ভ্রু কুচকে কানটা ডলতে নিয়েই সাহিত্যের রুমের দরজার দিকে নজর দিল,

"কি বলল এখনে উনি?আমি কিসের কঠিন কাজ করতে পারি?"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

আকাশে সন্ধ্যার আভাস সেই কখন নেমেছে।সেই সাথে শীতল শিরশিরানি হাওয়ারাও বাইরের আবহাওয়ায় নিজেদের জায়গা করে নিতে ব্যস্ত।আর এদিকে ঘরের ভেতরে শো শো শব্দ করে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে গরম হাওয়া বের হচ্ছে।সেই গরম বাতাসের কাজ শেষ হতেই কল্পনা যান্ত্রিক চুল শুকানোর যন্ত্রটা বন্ধ করে দিল।সেটা ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখতে নিয়েই কল্পনার মনে পড়ল যে বেশ কয়েকদিন থেকেই সাহিত্যকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।আজ একটা দেওয়া উচিৎ। নাহয় আবার কখন জানি এসে কান ডলে বলবে,

'চিঠি কি তোর বাপ দেবে?'

ঠোঁট এদিক-ওদিক মোচড়ালো কল্পনা।কানাডায় থাকাকালীন তো পাত্তাও দিত না।আর এখন চিঠি দিতে একটু দেরি হলেই মুখ ভোতা করে থাকে।সেই চিন্তা করতে নিয়েই সিরিয়াল অনুযায়ী একটা চিঠি হাতে নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এলো সে।

বিরতিহীন সাহিত্যের রুমের দরজায় নক করতে লাগলো।এতো ঘন শব্দেও যেন সাহিত্যের কিছুই হলো না।তার ভালো করেই জানা আছে দরজার ওপাশে কে।তার চঞ্চল চড়ুই পাখিটা ছাড়া আর কেউই এমন করতে পারে না।তাই ধীরে সুস্থেই হামি তুলতে নিয়ে সাহিত্য দরজা খুলল।অতঃপর হামি তুলা শেষে বলে উঠল,

"দরজাটা কি তোর বাপের মাথা আর আমাকে কি তোর ওনার মেজাজ মনে হয়,যে একটু টোকা দিলেই বেড়িয়ে আসবো?"

চোখ-মুখ কুচকালো কল্পনা,

"আপনি সব সময় বাবাকে নিয়ে কেন লাগেন?আর মাঝে মাঝে ওনার সামনে গিয়ে ওমন খোটা কেন দেন?"

কল্পনার দিকে ঝুকে এলো সাহিত্য,

"ওনাকে সহ্য হয় না আমার"

মাথা নিচু করে ভারী শ্বাস ফেলল কল্পনা,

"আপনার এই অকাজগুলোতে যেন আবার আমার প্লান চপাট হয়ে না যায়"

হাসতে নিয়েই সোজা হয়ে দাড়ালো সাহিত্য।কল্পনা মাথা তুলে হাতের চিঠিটা সাহিত্যের দিকে এগিয়ে ধরল।ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলল,

"৭ নাম্বার চিঠি"

সাহিত্য চিঠিটা হাতে নিতেই কল্পনা লাফাতে নিয়েই সিড়ির দিকে এগিয়ে গেল।দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে প্রেয়সীকে দেখতে লাগলো সাহিত্য।সেই সাথে একটু চিন্তা উদয় হলো মাথায়।যেই ব্যক্তিকে সাহিত্য দেখতেই পারে না তাকে মানাবেই বা কেমন করে নিজের মেয়েকে সাহিত্যের হাতে দেওয়ার জন্য?আর বেশি গভীরে ভাবতে পারল না সাহিত্য।তার আগেই টেবিলের উপর থেকে ফোনটা বেজে উঠল।রুমের দরজা লাগিয়ে টেবিল থেকে ফোন হাতে নিল সে।রিসিভ করতেই ভিকি বলে উঠল,

"কাল সকালে জুমে একটা মিটিং আছে।শর্টকাটে টপিকগুলো বলছি, শুন একটু"

মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করল সাহিত্য। অতঃপর শুধালো,

"ছাড় তো তোর মিটিং।আমার জানেমান এখনে প্রেম পত্র দিয়ে গেল।সেটার ফিল নিতে দে তো আগে"

কিছু সময় স্তব্ধ রইল ভিকি।অতঃপর মধুর সুরে আকুতি করতে লাগল,

"অহি তোর নাইটমেয়ারটা প্রেম পত্রে কি লিখে একটু শুনা না প্লিজ।আগেরগুলো তো একটাও শুনাসনি। এটা একটু শুনা না ভাই,প্লিজ প্লিজ প্লিজ"

ভ্রু কুচকালো সাহিত্য,

"ছিঃ,তোর লজ্জা করা উচিৎ।এমন করে কেউ বেস্টফ্রেন্ডের প্রেম পত্র শুনতে চায়?"

"লজ্জায় মারো গুলি!আমিও তো শুনি কি এমন লিখে তোর নাইটমেয়ার যে তুই গা'ঞ্জাখোরের মতো সব চিঠি প্রতি সপ্তাহে একবার হলেও পড়িস"

চিঠিটা চোখের সামনে ধরে বিছানায় শুয়ে পড়ল সাহিত্য,

"নেশা ভাই নেশা।প্রতি সপ্তাহে লাইফ সাপোর্টের মতো কাজ করে এগুলো।যতদিন না জানপাখিটাকে নিজের করে পাচ্ছি ততদিন এগুলোই বারংবার পড়ে জীবন পার করতে হবে"

"এখন কি একটু পড়ে শুনাবি!!"

ভিকির গলায় আবার চোখ-মুখ কুচকালো সাহিত্য,

"ব্যাটা অধৈর্য শা'লা।দাড়া!খুলি আগে চিঠিটা"

সাহিত্য ফোন স্পিকারে দিয়ে মাথার কাছে রাখল।অতঃপর খুবই সযত্নে খামটা খুলে চিঠিখানা বের করল।চিঠির ভাজ না খুলেই আগে আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালো সেথায়।ঠোঁটে হাসি নিয়েই চিঠিখানা খুলে পড়তে শুরু করল,

"আব্বে তোফায়েল শেখ আহমেদের একমাত্র পোলা,উত্তর দেন না ক্যা"

কথা বলে সাহিত্য পর মুহুর্তেই থমকে গেল।ভিকিও ফোনের ওপাশে নিশ্চুপ।সেও হয়তো সাহিত্যের মতোই অবাক হয়ে আছে।ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল সাহিত্য।চিঠিটা আবার ভালো করে পড়ল।

📜.........................................................................

আব্বে তোফায়েল শেখ আহমেদের একমাত্র পোলা!! উত্তর দেন না ক্যা!!!

...........................................................................📜

নাহ্,সাহিত্য ভুল পড়েনি।চিঠিতে আসলেই সেটা লিখা আছে।মাত্র দুটো লাইন। অথচ কি ভয়ংকর!

ভিকিও এতক্ষণে আসল বিষয়টা বুঝতে পেরে হো হো করে হেসে উঠল।সাহিত্য চকিত হয়ে বিছানায় উঠে বসেছে আর ওদিকে ভিকি হাসতে নিয়েই বিছানায় শুয়ে পড়ল,

"ভাইইইই,ওটাকে লাভ লেটার না,ওয়ার্নিং লেটার বলে.....হায় আল্লাহ,আমি শ্বাস নিতে পারছি না"

হাসতে নিয়ে কথাটা বলে উঠলো ভিকি।হাসির তোপে যেন হালকা শ্বাসকষ্টও হচ্ছে।ভিকির কথা শুনে তেতে উঠল সাহিত্য,

"শা'লা হাসি থামা!নাহয় তোর শ্বাস নেওয়া আমি বন্ধ করে দেব"

সাহিত্যের কড়া কথায়ও হাসি থামছে না ভিকির।এক হাত দিয়ে ফোন কানে চেপে ধরে আরেক হাত বিছানায় চাপড় মেরেই যাচ্ছে সে।বাধ্য হয়ে সাহিত্যই কলটা কেটে দিল।রাগের মাথায় চিঠিটা হাতে নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে এলো সে।নিচে ডাইনিং টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনা সাহিত্যের নজরে আসতেই সেদিকে হাটা দিল।

কল্পনা উলটো দিক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।শক্ত চোয়াল নিয়েই কল্পনার কাধে এক আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিল সাহিত্য।রাগটা এখনো মাথা থেকে নামেনি।রাগটা অবশ্য এমনি সময় হলে উঠতো না।কিন্তু ভিকির হাসি শুনে যেন চড়াত করে রাগটা উদয় হয়েছে।

সাহিত্যের ডাকে কল্পনা পেছনে ঘুরতেই সাহিত্যের রাগটা যেন ক্ষণিকের জন্য হাসিমুখেই উড়ে গেল। মেয়েটা কি খাচ্ছে কে জানে? বেলুনের মতো গাল ফুলিয়ে কোনমতে দাঁত নড়াচ্ছে। বিড়াল ছানার মতো প্রেয়সীকে দেখেই সাহিত্যের ভ্রু জোড়া নেতিয়ে গেল। কি আদুরেটাইনা লাগছে তাকে!সাহিত্যের মন তো চাচ্ছে ফোলা-ফোলা গাল দুটিতে চুমু খেয়ে-খেয়ে লাল টমেটো বানিয়ে দিক।

কল্পনা ভ্রু নাচাতেই সাহিত্যের হুশ ফিরলো।কি যেন বলতে এসেছিল সেটাই ভুলে গিয়েছে সে।হাতের চিঠিটা দেখে মনে পড়ল।পর মুহুর্তেই আবার মুখ গম্ভীর করে সেটা কল্পনার দিকে এগিয়ে ধরল।কল্পনা ভ্রু কুচকে সেটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করল।অমনি মেয়েটার চোখ জোড়া রসগোল্লা হয়ে উঠল।মুখ ভর্তি খাবার নিয়েই কাশি শুরু হলো মেয়েটার।কোনো মতে মুখের খাবারটা গিলে ভাঙা গলায়ই বলে উঠল সে,

"এ-এর পরের চিঠিতে সরিও বলেছি"

সাহিত্য কোনো কথা মুখ দিয়ে বের করল না।শুধু ডান হাতটা সামনে বাড়িয়ে দিল।সেই হাতের দিকে দেখে আবার সাহিত্যের দিকে নজর ফেলল কল্পনা,

"ওটা এখনই দিব?"

ভারী কন্ঠে ছোট করে বলে উঠল সাহিত্য,

"হুম"

কি আর কাজ?সাহিত্যের ঠান্ডা গলায় ভয়ে দৌড় লাগালো কল্পনা।সেকেন্ড কয়েক পর দৌড়ে এসেই সাহিত্যের বাড়িয়ে রাখা হাতটায় ৮-নাম্বার চিঠিটা দিল।সাথে সাথেই সেখানে দাঁড়িয়ে সেটা খুলে পড়তে লাগলো সাহিত্য।

📜.........................................................................

সরি সরি সরি সরি সরি সরি!!!!

মাফ করে দেন সাহিত্য ভাই।অমন কিছু বলার ইচ্ছা ছিল না আমার।মাথাটা একটু গরম ছিল।আমার বেস্টফ্রেন্ড প্রীতি বলেছিল আপনি নাকি আমাকে পাত্তাই দেন না।তাই একটু রাগ হয়েছিলাম।আর কক্ষনো অমনভাবে কথা বলব না। সত্যি!!! প্লিজ প্লিজ প্লিজ রাগ করিয়েন না।

আপনার ইনোসেন্ট বোন,

অমৃতা শেখ কল্পনা।

সরিইইইই

..........................................................................📜

চিঠিটা পড়ে মাথা তুলল সাহিত্য।দেখা মিলল তার আদুরে জানপাখিটার।ম্যাও ম্যাও করে বলে উঠল সে,

"সরি"

আবার কিছু না বলে সুক্ষ্ম চোখে কল্পনাকে পরখ করল সাহিত্য।এর পর ছোট করে বলে উঠল,

"তোর বেস্টফ্রেন্ডকে আমার থেকে দূরে থাকতে বলবি"

জোরে জোরে মাথা দোলালো কল্পনা।আর সাহিত্য দুটো চিঠি হাতে নিয়ে নিজের রুমের দিকে হাটা দিল।সাথে ফিক করে হেসেও উঠল।সাহিত্য এমন গম্ভীর মুখোশ্রি নিয়ে থাকলে কল্পনাকে কি আদুরেটাই না লাগে, সেটা ভেবেই হয়তো হাসছে।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন