#পর্ব_৩৪
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
রাতের ভারী বর্ষণের পর আকাশে এখন মেঘদের আনাগোনা না বললেই চলে।তাই তো সূর্যি মামা সকালে মিষ্টি আভাসে তার কিরণের তেজ প্রকৃতিতে ছড়াতে পারছে।সেই কিরণের আলো প্রকৃতিতে পড়ায় যেন জ্বলজ্বল করছে প্রকৃতি।আর সেই প্রকৃতির সাথেই আরো কেউ একজন জ্বলজ্বল করছে সেই মিষ্টি রোদটায়।
খুলে রাখা জানালাটা দিয়ে যে আলো ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে তাতেই যেন কল্পনার আদলখানাসহ উন্মুক্ত দেহাংশও জ্বলজ্বল করছে।মেয়েটাকে প্রতিবারই যেন রোদ নামক এই আলো হাসি মুখেই ছুয়ে দেয়।
রুমের লক ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকলেন হেনা শেখ।মেয়ের এমন হাত-পা ছাড়িয়ে ঘুমানো দেখে হালকা হেসে উঠলেন।কল্পনার চোখে-মুখে পড়া রোদটার আড়াল হয়ে দাড়ালেন তিনি।মুখে হাসি নিয়েই মেয়েকে পরম আদরে দেখতে লাগলেন।দেখতে দেখতেই মেয়েটা তার আজ উনিশের ঘরে পা রাখল।বাচ্চাগুলো যেন না চাইতেও বড় হয়ে যায়।
ঝুকে এসে মাথায় হাত বুলাতে নিয়েই কোমল কন্ঠে কল্পনাকে ডাকতে লাগলেন হেনা শেখ,
"কল্পনা। এই কল্পনা।৯টা বাজছে তো।উঠবি না?"
মায়ের ডাকে চোখ পিটপিট করে দেখতে লাগলো কল্পনা।মেয়ে সজাগ হয়েছে দেখেই মুখের হাসিটা বড় করে অধর জোড়া কল্পনার কপালে ছোয়ালেন হেনা শেখ।অতঃপর সেই আগের কোমল কন্ঠেই বলে উঠলেন,
"হ্যাপি বার্থডে, সোনা"
হেনা শেখের শেষের কথায় আরো একটু সজাগ হলো কল্পনা।অস্ফুটস্বরে শুধালো,
"কি?কত তারিখ আজকে?"
এবার শব্দ করে হাসলেন হেনা শেখ,
"জুলাই মাসের ১২ তারিখ আজকে"
ঘুম চোখেই ধীরে উঠে বসতে নিয়েই শুধালো কল্পনা,
"কবে হলো?"
কল্পনার কপালে আরো একটা চুমু দিয়ে সোজা হয়ে দাড়ালেন হেনা শেখ,
"আজকে হয়েছে....ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় তাড়াতাড়ি।নাস্তা করবি না?আজ দুপুরে সব তোর পছন্দের খাবার রান্না করব।আবার ঘুমিয়ে যাস না কিন্তু"
কথা বলতে নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন হেনা শেখ।কল্পনা যেন এখনো কিছু বুঝছে না।এতো তাড়াতাড়ি জুলাই মাস কেমন করে এসে গেল?সে তো এখনো কিছুই করতে পারেনি।বাড়ির পরিবেশ ঠিক করতে এখনো কত কি করার বাকি আছে।কল্পনা যত সময় নিবে ততই ধরা পরার সম্ভাবনা বেশি।উল্টাপাল্টা সব চিন্তা করতে নিয়ে যেন জন্মদিনের সকালটা আর হাসি মুখে গেল না কল্পনার।হয়তো সেই মুখোশ্রি নিয়েই নিচে যেত।কিন্তু তোয়ালে দিয়ে মুখ মুসতে নিয়েই স্টাডি টেবিলটায় নজর গেল তার।
একখানা ছোট কাগজ।সেটার সাথে একটা বড় ডেইরিমিল্ক।টেবিলের কাছে গিয়ে কাগজটাই আগে হাতে তুলল কল্পনা।খুবই সুন্দর হাতের লেখা।সেই সুন্দর হাতের লেখা দিয়ে সুন্দর করে একটা কবিতা লিখা কাগজটায়।সেই কবিতার শুরু ও শেষে একটি করে পাপড়ি ঝরতে থাকা গোলাপ ফুল অংকন করা।
🥀কারো দিনের সূর্যাস্তের পর সূর্যোদয় তুমি।
কারো রাত পোহানোর পুর্বে তুমি আকাশের এক কোণের রজনীকান্ত।
কারো কবিতার মূল কেন্দ্র তুমি,যেই কবিতার নেই কোনো অন্ত।🥀
ক্ষণিক সময়ের জন্য কল্পনা যেন থমকে গেল।এতো ভারী কবিতা তার জন্য কে লিখতে পারে?গোলাপ দুটোতে আবার নজর যেতেই অস্ফুটস্বরে বলে উঠল কল্পনা,
"সাহিত্য... ভাই?"
পর মুহুর্তেই মাথা ঝাকালো,
"ধুর!কি সব ভাবছি আমি।সাহিত্য ভাই কেন আমাকে এটা লিখতে যাবে?"
কিন্তু বিষয়টা বেশ চিন্তারও।আর কে-ই বা এমন করে কবিতা লিখতে পারে তার জন্য?কবিতাটা আবার পড়ল কল্পনা।কি সুন্দর কবিতাটা!ভাবতে নিয়েই ঠোঁটে হাসি ফুটল।কিন্তু পর মুহুর্তেই হাসিটা মিলিয়ে গেল।সে যেই ব্যক্তিকে কল্পনা করছে সেই ব্যক্তি যেন না হয়।কিন্তু মনের এক কোণে কেন জানি বলে উঠছে সেই ব্যক্তি হলে সমস্যা কোথায়? কল্পনা যেন মাথা ঝাকিয়ে ঘোর আপত্তি জানালো।না।সেই ব্যক্তি কিছুতেই হওয়া যাবে না।সেটা যে সঠিক নয়।
বেশি চিন্তা করতে গিয়ে হাত যেন কাপতে শুরু করেছে কল্পনার।নিজেকে সংযত করে কাগজটা ড্রয়ারে থাকা এক ডাইরির ভেতরে ঢুকিয়ে রাখলো।চিন্তিত চেহারা নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে এলো সে।অমনি অনু তার উপর ঝাপিয়ে পড়ল,
"হ্যাপি বার্থডে আপু!"
তার পরপরই সামিয়াও ঝাপিয়ে পড়ল।
অনেক চিপাচিপি করে তবেই ক্ষান্ত হলো দুজন।অনু পর মুহুর্তেই বলে উঠল,
"কাল রাতে গিয়েছিলাম তোমার রুমে।কিন্তু তুমি তো ঘুম।এতো ডাকলাম উঠলেই না।পরে এতো বড় চকলেটটা তোমার টেবিলেই রেখে এলাম"
এবার যেন কল্পনার মুখে হাসি দেখা দিল,
"তুই টেবিলের উপর ওসব রেখেছিস?"
"হ্যাঁ।আর আবার কে রাখবে?....শুনো।চকলেটটা একাই খেও না।আমাদেরকেও একটু দিও কিন্তু "
এবার যেন স্বস্তির শ্বাস ফেলল কল্পনা,
"হ্যাঁ হ্যাঁ, তোদেরকে দিয়েই খাবো"
কল্পনা অনুকে নির্দিষ্ট করে সেই কাগজ আর কবিতার কথা বলতে গেল না।সে ধরেই নিল সেটা অনুই রেখেছে।হয়তো বা ভেতর থেকে এক বাধা আসছে সেই কাগজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে।যদি অনু বলে 'না তো।আমি তো কোনো কবিতা কাগজে লিখে দেইনি' তখন তো কল্পনার শ্বাসকষ্ট উঠা ছাড়া আর কিছু করার বাকি থাকবে না।আর অনুকেই বা কি বলবে তখন?তাই মনের ৯৯শতাংশ মেনে নিল যে সেটা অনুই রেখেছে।কিন্তু সেই ১শতাংশ মানতে যে নারাজ।তারপরেও কল্পনা সেই সুক্ষ্ম অনুভুতিকে বারংবারের মতোই উপেক্ষা করে গেল।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
হেনা শেখ রান্নাঘর থেকে হাক পেরে যাচ্ছেন।কল্পনার কোনো বন্ধু-বান্ধব থাকলে যেন তাদের আসতে বলে কল্পনা।কিন্তু হেনা শেখকে যদি এখন বলা হয় যে কল্পনা ইচ্ছুক নয় তাহলে নিশ্চিত মায়ের হাতে দুম করে একটা চাপড় খাবে।হেনা শেখ আবার একই কথা বলায় এবার কল্পনা বলে উঠল,
"আমার তেমন কোনো বন্ধু নেই মা।আর তুমি তো ভালো করেই জানো যে আমি এসব জন্মদিন পালন করা পছন্দ করি না"
এবার রান্নাঘর থেকে লতিফা শেখ গলা উঁচিয়ে বললেন,
"নেই মানে?ওই যে একটা মেয়ের কথা যে সবসময় বলিস আমাকে।কি যেন নাম ওর...? "
ছোট করে বলে উঠল কল্পনা,
"প্রীতি"
"হ্যাঁ হ্যাঁ, প্রীতি।ওকে ডাক।কখনো তো বাসায় নিয়েই আসিস না।মেয়েটা আবার কি না কি মনে করে।এই সুবাদে মেয়েটাকে একটু বাসায় ডাক"
লতিফা শেখের শেষের কথায় তেমন প্রতিক্রিয়া করল না কল্পনা।মনটা আজ কেন জানি তার বেজায় খারাপ হয়ে আছে সকাল থেকেই।
অন্ত জুসের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলে উঠল,
"তোর বন্ধুটাকে আসতে বল।তোরও ভালো সময় কাটবে,সাথে বাড়ির সবার সাথে নাহয় পরিচয়ও হয়ে গেল,যে তোর মতো পাগলকেই বন্ধু বানিয়েছিস নাকি তার মাথায় কিছু ঘিলু আছে"
হালকা হাসলো কল্পনা,
"সে আমার থেকে অনেক ব্রিলিয়ান্ট"
কল্পনা কথাটা বলতে নিয়েই প্রীতিকে কল লাগালো।আজ কাকতালীয়ভাবে অন্ত আর কল্পনার একইসাথে ছুটির দিন পড়েছে।
আর এদিকে অনু আর সামিয়া ইচ্ছা করেই ছুটি নিয়েছে।তাদের ইচ্ছা আছে এবার কল্পনাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।তার জন্মদিন পালন করেই ছাড়বে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
প্রীতি এর আগে কখনো কল্পনাদের বাসায় আসেনি।আজই প্রথম।তাই তো শেখ ভিলার লোহার গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পায়চারি করে যাচ্ছে।কল্পনা তাকে এড্রেস ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছিল।বাসা চেনায় কোনো সমস্যা নেই।সমস্যা হলো কল্পনার পরিবারের সাথে দেখা করা।কল্পনার মুখে সবার ব্যাপারে শুনেছে প্রীতি।কিন্তু তারপরেও একটু ইতস্ত বোধ করছে।
"তোকে কি আমি গেট পাহারা দেওয়ার জন্য ডেকেছি?"
কল্পনার কথায় পায়চারি করা বন্ধ করে তার দিকে ঘুরল প্রীতি।ক্ষণিক আগেই তো কল্পনাকে ম্যাসেজ করে বাইরে আসতে বলল সে।কল্পনাকে দেখা মাত্রই তাকে জড়িয়ে ধরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো।হাতে এতোগুলো ব্যাগ থাকায় জড়িয়ে ধরতে একটু অসুবিধাই হলো।
কল্পনা আবার শুধালো,
"এখানে দাঁড়িয়ে কেন আছিস?সোজা ভেতরে যেতে বলেছিলাম যে"
ঠোঁট উলটিয়ে প্রীতি বলে উঠল,
"খুব অকওয়ার্ড ফিল হচ্ছে আমার"
ভারী এক শ্বাস ফেলল কল্পনা।প্রীতি যে তার পুরো উল্টো সেটা যেন ভুলতে বসেছিল সে।কল্পনা নেহাতই এক মিসুক মেয়ে।কোনো কিছু না ভেবেই সবার সাথে কথা বলতে এগিয়ে যায়।কিন্তু প্রীতি যেন একদম তেমন না।মেয়েটা যেন মানুষ চিনে তারপরই কথা বলে।ভেবে চিনতে সামনে পা বাড়ায় মেয়েটা।কিন্তু একবার রাগ উঠলে যেন নিজের আদর্শে গুলি মেরে সামনে পা বাড়ায় সে।তবে প্রীতির এই রাগ প্রায়শই দেখা মেলে।মেয়েটা যেন নিজের মতের এক পা এদিক-ওদিক পছন্দ করে না।তাই তো ভার্সিটিতে অনেকেই প্রীতির থেকে পালিয়ে-পালিয়ে বেড়ায়।
কল্পনা মুখে হাসি নিয়ে প্রীতির এক হাত জড়িয়ে ধরে সামনে এগুতে লাগল,
"তুই কি যুদ্ধে যাচ্ছিস?আমার বাসায়ই তো যাচ্ছিস।কেউ তোকে কোনো কিছু নিয়ে জাজ করবে না।সবাই অনেক মিসুক........আর কি এসব নিয়ে এসেছিস?আমার বিয়ে লেগেছে নাকি?"
কল্পনার কথায় এবার প্রীতিও হেসে উঠল,
"একমাত্র বেস্টফ্রেন্ড আমার।কেন কম কিছু নিয়ে আসবো?"
বাড়িতে ঢুকে সবার সাথে পরিচয় হলো প্রীতির।শুধু দেখা হলো না তিন শেখ আহমেদ,সাহিত্য আর অন্তর সাথে।তিন শেখ আহমেদ ও সাহিত্য তো চাকরি জীবনে ব্যস্ত। আর অন্ত গিয়েছে গিন্নিদের আদেশে আরো কিছু বাজার করতে।
কল্পনা তো কিছুতেই কেক আনতে দেয়নি।আর প্রীতিও ভালো করে জানতো যে কল্পনা কেক আনবেও না।তাই তো সে নিজ থেকেই বড়সড় একটা ব্লাকফরেস্ট কেক নিয়ে আসে।সেটার জন্য কল্পনার কাছে খেলও বেশ খানিক রামধমক।কিন্তু অনু আর সামিয়া লুকিয়ে লুকিয়ে প্রীতিকে বাহবা দিতে লাগলো।
সিদ্ধান্ত হলো কেক কাটার পরেই দুপুরের খাবার খাওয়া হবে।তাই তো প্রীতি আর অনু কল্পনাকে ঠেলে রুমে পাঠালো ভালো কিছু পড়ে আসার জন্য।কল্পনা না করলে অনু গা ঝাড়া ভাব নিয়ে বলে উঠল,
"তোমার জন্য আবার তোমাকে কে রেডি হতে বলছে?আমরা তো আমাদের জন্য বলছি।আমরা একটু সুন্দর করে ছবি তুলে পোস্ট করব না?যার জন্মদিন তারই যদি এমন বেহাল দশা থাকে তাহলে মানুষজন ছবি দেখে কি বলবে?......ঠিক বলেছি না প্রীতি আপু?"
অনু শেষের কথাটা প্রীতির দিকে ঘুরেই বলল।অনু প্রথম থেকেই প্রীতির সাথে জেচে গিয়ে কথা বলছে।প্রীতিকে বেশ পছন্দ হয়েছে তার।তার ম্যাচিউরিটি যেন অনুর চোখে ধরেছে।তাই তো প্রীতির সাথে ফ্রি হতে চাইছে যেন প্রীতির ব্যাপারে আরো কিছু জানতে পাড়ুক সে।
অনুর কথায় প্রীতি মুখে হাসি নিয়ে উপর-নিচ মাথা দোলালো।কল্পনা ফোত করে শ্বাস ছেড়ে প্রীতির উদ্দেশ্যে শুধালো,
"তুই তো দেখছি আমার দল থেকে বেড়িয়ে গিয়েছিস"
হাসলো প্রীতি,
"সেটা বলতে পারিস।এখন তাড়াতাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে নে"
অনু এসে প্রীতিকে জড়িয়ে ধরল,
"তোমার বেস্টফ্রেন্ড ছুরি করেছি আমি।এখন যাও তাড়াতাড়ি"
প্রীতি সহ সবাই একযোগে হেসে উঠল।সেটা দেখে যেন কল্পনার ভালোই লাগলো।
কল্পনা যেতেই বাড়িয়ে ঢুকল অন্ত।এতো বাজার-খরচ হাতে নিয়ে ছেলেটা দৌড়েই রান্নাঘরে ঢুকল।সব হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো সে।ফোন স্ক্রোল করতে নিয়েই মেয়েদের মাঝে এক নতুন কন্ঠ কানে এলো তার।কিন্তু মাথা তুলল না।কল্পনার বন্ধুবি হবে হয়তো।মাথা নিচু করেই রুমে চলে গেল।
প্রীতির নজর একবার গিয়েছিল সেদিকে।অবয়বটা বেশ পরিচিত ঠেকলো।কিন্তু অনুর ডাকে নজর ঘুরিয়ে আবার গল্প করতে লাগলো।
বেশ খানিক সময় হবে না।কোরিডোর থেকে অন্ত গলা উঁচিয়ে বলল,
"এই অনু!তোরা কেক কেটে নিস,আমি নামবো না"
ভারী পুরুষালী সেই কন্ঠে সবারই চোখ সেদিকে গেল।সাথে প্রীতিরও।ক্ষণিকের জন্য চোখাচোখি হলো দুজনের।কিন্তু পর মুহুর্তেই অন্ত চোখ ঘুরিয়ে নিল।সময় নষ্ট না করে রুমে ঢুকতে যাচ্ছিল সেই সময় অনুও গলা উঁচিয়ে বলে উঠল,
"একদম ন্যাকামো করবে না!কিছুক্ষণ পরে চুপচাপ নিচে আসবা।নাহলে কল্পনা আপু তোমাকে টেনে বের করবে"
মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করল অন্ত।অনু এদিকে মুখ টিপে হাসছে।অন্ত যে কেন নিচে নামতে চাচ্ছে না ভালো করেই জানা আছে তার।এতো মানুষের ভিড়ে যেন থাকতে তেমন পছন্দ করে না অন্ত।তারউপর বাড়িতে এক মেহমান এসেছে।তাও আবার মেয়ে মানুষ।সেদিক থেকে দেখতে গেলে তো অন্ত আজ রুম থেকেই বের হতো না।কিন্তু উপায় যে নেই।অন্ত না নামলে আসলেই কল্পনা তাকে টেনে বের করবে।তাই ভদ্র মানুষের মতোই আচ্ছা বলে রুমে ঢুকে গেল।
কিন্তু এদিকে প্রীতি এখনো সেই দিকেই দেখে আছে।চোখগুলো তার কোটর ছাড়িয়ে বের হয়ে আসবে যেন।যেন ভুত দেখে ফেলেছে মেয়েটা।অনুর দিকে ঘুরল সে,
"অনু,ওই ছেলেটা কে হয়?"
সাবলীলভাবে উত্তর করল অনু,
"আমার বড় ভাইয়া।মাহাদি শেখ অন্ত"
প্রীতি যেন এবার ভুতের সাথে জিনও দেখে ফেলেছে।ছোট করে 'ও আচ্ছা' বলে সোফায় বসে পড়ল সে।মাথাটা তার নিচু করা। বেশ চিন্তিত লাগছে তাকে।এই ছেলে কল্পনার চাচাতো ভাই?কেমন করে?কল্পনার পরিবারের সাথে তো কোনো মিলই নেই এই ছেলের।কল্পনা তো সব সময়ই বলে এসেছে তার চাচুর ছেলে নাকি অনেক শান্ত-ভদ্র স্বভাবের।মুখ ফুটে একটা টু শব্দ করে না।তার মানে কি কল্পনা তার চাচাতো ভাইয়ের আসল রূপ সম্পর্কে জানেই না?অনুও কি তার আপন ভাই সম্পর্কে কিছুই জানে না?সেটা নিশ্চিত হতেই পাশে বসে থাকা অনুর দিকে ঘুরল সে,
"অনু।তোমার কাজিনদের মধ্যে তোমার ভাই মনে হয় একটু চালাক-চতুর বেশি,তাই না?"
হাসলো অনু,
"কি যে বলো তুমি।সবার মধ্যে ভাইয়াই সবথেকে সহজ-সরল।দেখলে না একটু আগে?কোনো কথা ছাড়াই আমার কথা শুনে নিল।সাহিত্য ভাইয়ার যেমন রাগ-জেদ বেশি,কল্পনা আপুর যেমন পাগলামো বেশি,তেমনই আমার ভাইয়ের সরলতা বেশি"
অনুর কথা শুনে প্রীতির মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ল।এই ছেলে তার পরিবারকে কি বুঝটাই না দিয়ে রেখেছে।উপরে ফিটফাট, নিচে সদরঘাট?
#চলবে