ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৩৫তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৩৫

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

পড়ণের খয়েরি চুড়িদারের সাথে মিলিয়ে ঠোঁটে গাঢ় এক লালচে খয়েরি লিপস্টিক দিল কল্পনা।সাজতে তেমন পছন্দ করে না সে।কিন্তু কোনো অনুষ্ঠানের পালা এলেই শুধু এক গাঢ় লিপস্টিক হার্ট সেইপ ঠোঁট জোড়ায় মাখিয়ে নেয়।তাতেই যেন নব যুবতির সৌন্দর্য উপচে পড়তে বাধ্য।কি মায়াবি লাগে তাকে!সেটা যেন শুধু সাহিত্যের মুখ থেকেই শুনতে মধুর লাগবে।

বাধন ছাড়া সিল্কি চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করে ঘুরে ঘুরে চুড়িদারটা দেখছে কল্পনা।আজ অনেকদিন পর একটু সেজেছে সে।মনটা যেন একটু ফুরফুরে হয়ে গেল।তার বেস্টফ্রেন্ড আর বোনগুলো যেন সক্ষম হলো কল্পনার মুখে হাসি ফুটাতে।কিন্তু কল্পনার মন যে আরো কিছু চাইছে।এই জড়ো বস্তু আয়নার সামনে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিজেকে দেখানো ছাড়াও আরো এক ব্যক্তিকে যে দেখাতে ইচ্ছা করছে তার।সেই মানুষটা যে কল্পনার এই দিকটা তেমন দেখেইনি।খুব জানতে ইচ্ছা করছে কল্পনার,যে ওই ব্যক্তি তাকে এমন রূপে দেখলে কি বলত?আবার কি সেই আদরের জানপাখি ডাক দিত? নাকি মুখ থেকে কথাই বের হতো না?কিন্তু আপসোস!আজ যে সেই ব্যক্তির দর্শন পাবে না কল্পনা।সন্ধ্যার পর ছাড়া তো অফিস থেকে ফেরতই আসে না সেই ব্যক্তি।তারপরেও মুখে হাসি নিয়ে জর্জেট ওড়নাটা টানটান করে গলায় ঝুলালো।গলা থেকে কোমড় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ওড়নাটা।ওড়না ভেদ করে চুড়িদারের হালকা কাজ দৃশমান হলেও যেন ভদ্রতা বজায় আছে।

রুম থেকে বেড়িয়ে দরজাটা লাগাতে গিয়েই জামার ঘেরটা আটকে গেল।মুখে 'চ' বর্গীয় শব্দ করে জামাটা ঠিক করে হালকা উঁচু করে এদিক-সেদিক দেখতে লাগলো যে ছিড়েছে কিনা।তেমন কিছু না দেখেই মাথা তুলল কল্পনা।সাথে সাথেই থমকে গেল সে।সাহিত্যের চোখ জোড়া মেয়েটাতে স্থির হওয়াতে যেন আর এক ইঞ্চিও নড়তে পারছে না সে।

সাহিত্য সিড়ির শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে।আর দুটো সিড়ি উঠলেই মনে হয় কোরিডোরে পা পরত।কিন্তু তা যেন আর হয়ে উঠল না।কালো ব্লেজারটা ডান হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে পড়ণের ডিপ ওশান ব্লু কালারের শার্টের কাধে ঝুলিয়ে নিয়েছে।কল্পনার দর্শনে আসছে শুধু ব্লেজারের মাথার অংশটা।আরেক হাত ব্লাক ফরমাল প্যান্টের পকেটে ঢুকানো।

সাহিত্য হন্তদন্ত পায়ে সিড়ি উঠছিল।কিন্তু প্রেয়সীর এমন ঝলকে যেন পুরোপুরি থমকে যায়।তার প্রেয়সীকে আজ দেখবে বলেই তো অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরেছে সে।আর সেই সিদ্ধান্ত যেন সার্থক মনে হচ্ছে এখন।ক্ষণিক আগে যে চুড়িদারটা উঠিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরছিল তখন আরো একবার এই নারীর আসক্তে পড়তে বাধ্য হয় সাহিত্য।

কল্পনার মুখে এবার যেন হাসি ফুটল।দুই হাত সামনে বেধে শান্ত স্বরে বলে উঠল,

"কেমন লাগছে আমাকে?"

সাহিত্যের নজর যেন প্রেয়সীর থেকে সড়তেই চাইছে না।কল্পনার প্রশ্নখানা কানে ঢুকতেই ভেতর থেকে এক আওয়াজ চিৎকার করে বলতে লাগলো সাহিত্যকে,

'বলে দে সাহিত্য।তোর জানপাখিটাকে বলে দে।মনের কথা বলে দিয়ে জাপ্টে ধর তাকে।অধর জোড়া ছুইয়ে দে তোর প্রেয়সীর গালে।বলে দে যে,তার এই সৌন্দর্য শুধু তোর জন্যই।তার সেই হাসতে থাকা অধর জোড়া শুধু তোর জন্যই।তার উপর শুধু এই সাহিত্যেরই অধিকার আছে'

ধীর পায়ে কল্পনার দিকে এগিয়ে এলো সাহিত্য।এতোটাই এগিয়ে এলো যে কল্পনা পিছাতে নিয়ে একদম দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে।মেয়েটার মুখের হাসিটা যেন মিলিয়ে গেল।চোখ জোড়া নিচু করে ফেলল সে।

প্রেয়সীর একদম গা ঘেঁষে দাড়ানোয় তার মিষ্টি মেয়েলী ঘ্রাণটা ভালো করেই সাহিত্যের ভারী শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে চলাচল করছে।নিজেকে সামলাতেই যেন বাম হাতটা পকেট থেকে বের করে কল্পনার মাথার উপরে দরজায় ঠেকিয়ে দিল।প্রেয়সীর ছটফটানি ভালো করেই নজরে আসছে সাহিত্যের।তাকে শান্ত করতে যেন নিষিদ্ধ অনুভূতিরা বারংবার সাহিত্যের বুকে হাতুড়ি পেটা করছে।যেন সাহিত্য নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেই প্রেয়সীর ছটফটানি বন্ধ করুক।

বর্তমানে ভারী এক আবহাওয়া বিরাজ করছে দুই নর-নারীর মধ্যে।এর মাঝেই সাহিত্য ভারী কন্ঠে বলে উঠলো,

"কত হলো?"

কল্পনা প্রথমে ঠিক বুঝলো না সাহিত্যের কথার মানে।কিন্তু বুঝতে পেরেই ধীমি আওয়াজে বলে উঠল,

"উ-উনিশ বছর"

সাথে সাথেই কিছু বলল না সাহিত্য।সময় নিয়ে বলল,

"আমার বয়স জানিস?"

কল্পনা মাথাটা নিচু রেখের হ্যাঁ সূচকে দোলালো।সাহিত্য আবার প্রশ্ন ছুড়ল,

"কত?"

আবার মিনমিনিয়ে শুধালো কল্পনা,

"আ-আঠাশ"

"তোর থেকে কয় বছরের বড় আমি?"

"ন-নয়"

কল্পনার দিকে আরো একটু ঝুকে এলো সাহিত্য,

"বেশ বড়,তাই না?"

কোনো প্রতিক্রিয়া করল না কল্পনা।

নিঃশব্দে ঠোঁট বাকালো সাহিত্য,

"শেষ চিঠিতে যে আমার বার্থডে গিফট দিতে চেয়েছিলি।দিলি না যে?"

আবার মিনমিনিয়ে শুধালো কল্পনা।কিন্তু এবার একটু জোরে বলল,

"কিন্তু আজ তো আমার বার্থডে"

"তো কি হয়েছে?আমার গিফট বুঝি এখন দেওয়া যাবে না?তুই তো চিঠিতে বলেছিলি আমি দেশে ফেরার পর যেটা চাইবো তুই সেটাই দিবি।দিবি না?"

সাহিত্যের ভারী পুরুষালী কন্ঠে যেন অন্তর-আত্মা কেপে-কেপে উঠছে কল্পনার।নিজের মাঝে এতো চঞ্চলতা থাকার পরও যেন এমন সময়গুলোতে চুপসে যায় মেয়েটা।সাহিত্যের জোর গলায় হাল ছেড়ে দিল সে।আবার একই কন্ঠে বলে উঠল,

"ক-কি নিবেন?"

আরো একটু ঝুকে এলো সাহিত্য।নেশালো কন্ঠ কানে ভাজলো কল্পনার,

"যেটা চাইবো সেটাই দিবি?"

কল্পনা চোখ বন্ধ করে উপর-নিচ মাথা ঝাকালো।সাহিত্যের কন্ঠের সাথে যেন এবার ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউমটাও ঘায়েল করছে কল্পনাকে।চুড়িদারটা দরজায় লেগে না ছিড়লেও এখন কল্পনার হাতের চাপে তো নির্ঘাত ছিড়বে।এবার কল্পনার বাম কানের কাছে অধর জোড়া নিয়ে গেল সাহিত্য।সাহিত্যের ভারী শ্বাস সম্পুর্ণ অনুভব করতে পারছে কল্পনা নিজের কানের কাছে।সাহিত্য প্রতিটি শব্দের সাথে কল্পনার কানে নিজের শ্বাস ছুইয়ে দিতে নিয়েই হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো,

"আই.......ওয়ান্ট.......ই..."

"কল্পনা আপু!হলো তোমার?তাড়াতাড়ি এসো"

শেষের শব্দটা আর শেষ করতে পারল না সাহিত্য।তার আগেই সামিয়া নিচ থেকে চিৎকার দিয়ে উঠল।সেই চিৎকারে সাহিত্য-কল্পনা দুজনেই ভড়কালো।আর তার সাথে হুশ ফিরল সাহিত্যের।কি বলতে যাচ্ছিল সে এখনে?প্রেয়সীর নেশায় যেন ভুবন ভুলে বসেছে সে।সাহিত্যের অধর জোড়া তো কল্পনার কানটা ছুয়ে দেওয়ার জন্য যেন ব্যকুল হয়ে ছিল।সামিয়া এখনে ডাকটা না দিলে কি ভুলটাই না হয়ে যেত।কল্পনার দিকে নজর দিল সাহিত্য।বলতে গেলে মেয়েটাকে নিজের সাথে একদম মিশিয়েই নিয়েছে সে।ছটফট করছে মেয়েটা।নিজের কর্মকাণ্ডের উপর রাগ চড়াও হলো সাহিত্যের।এই বাধহীন অনুভূতি যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় সাহিত্যের পক্ষে।চটজলদি সোজা হয়ে দাড়িয়ে নিজের রুমের দিকে হাটা দিল সাহিত্য।কল্পনা তাতে আরেক দফা ভড়কালো।ভারী নিঃশ্বাস সংযত করে সাহিত্যের দিকে মাথা ঘুরালো সে।কাপা গলায়ই বলে উঠল,

"ব-বললেন না যে কি নিবেন"

পা জোড়া থামালো সাহিত্য।কিন্তু পেছনে ঘুরল না।তবে আগের সেই নেশালো কন্ঠেই শুধালো,

"আমি যেটা চাই সেটা তুই দিতে পারবি না......অন্তত এখন দিতে পারবি না"

কল্পনা ভ্রু কুচকালো।কি এমন জিনিস লাগবে সাহিত্য ভাইয়ের,যেটা কল্পনা দিতে পারবে না?এতোটাই দামি কি সেই জিনিসটা,যেটা সাহিত্য ভাইয়ের এতো টাকা থাকা সত্ত্বেও নিতে পারবে না?

এবার অনুর গলা শুনা গেল।আবার ভড়কে উঠল কল্পনা।সিড়ির দিক থেকে নজর ঘুরিয়ে আবার সাহিত্যকে দেখলো,

"আমি কেক কাটবো।আপনি থাকবেন না?"

"আমার চকলেট কেক পছন্দ না"

ধীমি আওয়াজে কথাটা বলেই রুমে ঢুকে গেল সাহিত্য।কল্পনা বুঝতে পারল না।সাহিত্য ভাই কি কোনো কারণে মন খারাপ করেছে?কিছুক্ষণ আগে থেকেই কেমন যেন আজব ব্যবহার করছিল।কেমন যেন ভারী কন্ঠে কথা বলছিল।সাহিত্যের কিছু ব্যবহার যেন কল্পনা মাঝে মাঝে বুঝতেই পারে না।নাকি.....কল্পনা বুঝেও বুঝতে চায় না?জানা নেই কল্পনার।কিন্তু প্রতিবারই নিজেকে বুঝ দেয় যে হয়তো সে একটু বেশিই বুঝে ফেলে।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কেক কাটার পরে যেন সবাই ছবি তুলায় মহা ব্যস্ত।আর এদিকে কল্পনা সবার মুখে কেক পুরতে ব্যস্ত।তার তো খুব ইচ্ছা ছিল তিন শেখ আহমেদও থাকতো।কিন্তু এ বাড়িতে আপাতত সেটা সম্ভব নয়।কিন্তু ফাহাদ শেখ ও রঞ্জক শেখকে বলায় তারা জানিয়েছেন তাদের ছাড়াই কেক কাটুক।বিকেলের দিকে এসে নাহয় কেক খাবেন।

কিন্তু এদিকে আরেক সমস্যা দেখা দিয়েছে।অন্ত নিচে নামার পর থেকেই লক্ষ্য করছে কল্পনার বান্ধুবীটা কেন জানি তাকে সরু চোখে পরখ করেই যাচ্ছে।প্রথম দিকে তো মনে করেছিল চোখের ভুল।কিন্তু এখন তো দেখছে,নাহ্,আসলেই মেয়েটা অন্তকে খুটিয়ে-খুটিয়ে দেখছে।তাই তো অন্ত একবার লতিফা শেখের পেছনে তো একবার হেনা শেখের পেছনে গিয়ে লুকোচ্ছে বারবার।এমনিতেই ছেলেটা মানুষের সামনে আসতে তেমন সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।আর মেয়ে মানুষ তো আরো বহু দূরের কথা।

রীতিমতো যেন এক জায়গায় টিকতে পাড়ছে না ছেলেটা।কিন্তু হঠাৎই নিজের স্থান পরিবর্তন করতে নিয়ে লক্ষ্য করল মেয়েটা নেই।বেশ অবাক হলো অন্ত।কই গেল মেয়েটা?আবার অন্তর পেছনে এসে দাড়িয়েছে নাকি?কথাটা ভাবতে নিয়েই নিজের এপাশ-ওপাশ ঘুরে দেখে নিল।শ্বাস ফেলল অন্ত।নেই তার আশেপাশে।নিজের মান-ইজ্জতকে আর বিপদে না ফেলার উদ্দেশ্যেই এতো হৈহুল্লোড়কে পিছনে ফেলে রেখে সিড়িতে পা রাখলো।সাথে বিড়বিড় করে বলেও উঠল,

"কিসব মেয়েকে বন্ধু বানিয়ে রেখেছে এই কল্পনাটা।এতোগুলো মানুষের সামনে কেমন করে গিলে খাচ্ছিল"

আনমনে কথাটা বলে মাথা তুলতেই বেশ ভড়কালো সে।প্রীতি দুই হাত বুকে ভাজ করে কোরিডোরে সিড়ির শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে আছে।নীল রঙা চুড়িদারটা বেশ মানিয়েছে এই শ্যামবতীকে।কিন্তু মুখের গাম্ভীর্যে যেন বর্তমানে বেশ ভয়ংকর লাগছে দেখতে।

প্রীতির আবার সেই সুক্ষ্ম চোখ জোড়া দেখে পা-গুলো হালকা এলোমেলো ফেলতে লাগলো অন্ত।কিন্তু পর মুহুর্তেই মাথা নিচু করে ফেলল। হাতের মুষ্টি মুখের সামনে নিয়ে হালকা কাশি দিয়ে প্রীতিকে পার করে যাওয়ার চেষ্টা চালালো।কিন্তু তার আগেই প্রীতি বলে উঠল,

"চড় খেয়ে মনে হয় স্মরণ শক্তি হারিয়ে গিয়েছে?"

#চলবে

গল্পে শুধু একটা কাপল কেমন যেন বোরিং-বোরিং লাগছে,তাই না?😪তাই তো আপনাদের শান্ত অন্তকে অশান্ত করতেই এক ঝগড়ুটেকে নিয়ে আসলাম😋আগামী পর্বে কিন্তু তুমুল ঝগড়া চলবে😌😂

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন