#পর্ব_৩৬
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
"চড় খেয়ে মনে হয় স্মরণ শক্তি হারিয়ে গিয়েছে?"
থমকালো অন্ত।ঘাড় কাত করে প্রীতির পিঠের দিকে নজর দিল।ক্ষণিক সময় পর বলে উঠল,
"এক্সকিউজ মি?......কি বললেন?"
অন্তর দিকে ঘুরল প্রীতি।আবার একই কন্ঠে শুধালো,
"এমন ফালতু একটা ছেলেও যে এতো ভদ্র সেজে থাকতে পারে দেখে অবাক হচ্ছি"
অন্ত যেন আকাশ থেকে ধপাস করে পড়ল।কি বলল এখনে এই মেয়ে!অন্তকে কি সে ফালতু বলছে?সাথে আবার বলছে অন্ত নাকি ভদ্র সাজার ভান করছে!
মুখখানা বেশ গম্ভীর করল অন্ত।নিজেকে যেন শান্ত রাখার চেষ্টা করছে,
"কি বলছেন ভেবে চিনতে বলেন।এমন ভদ্র ঘরের একটা অচেনা ছেলের সাথে কেমন করে কথা বলতে হয় জানা নেই?"
নাকের পাটা ফুসিয়ে মুখ বাকালো প্রীতি,
"পরিবারটা ভদ্র হলেও তাদের ছেলে যে ভদ্র না সেটা তো ভালো করেই বুঝছি"
আরো একবার অবাক হলো অন্ত।তারপরেও শান্ত স্বরে বলে উঠল,
"আমাদের আগে না কখনো দেখা হয়েছে,না কথা হয়েছে।তো আমার ব্যাপারে এতো কথা কোন নিশ্চয়তা নিয়ে বলছেন?"
তাচ্ছিল্য হাসল প্রীতি,
"বা বা বা!চড়টা এতো কাজে লেগেছে?এখন না চেনার ভান করছেন?"
এবার যেন প্রীতির একদম প্রথমে বলা কথাটা স্মরণে এলো অন্তর।মনে পড়ে গেল প্রায় কয়েক মাস আগের কথা।এবার অন্ত প্রীতিকে সুক্ষ্ম চোখে উপর-নিচ পরখ করতে লাগলো।পরখ করা শেষ করে পর মুহুর্তেই গলা উঁচিয়ে বলে উঠল,
"এই!তুমিই সেই মেয়ে না?"
অন্ত প্রীতির একটু কাছেই এসে দাড়ালো,
"তোমার সাহস তো কম না!কোনো কারণ ছাড়াই কেমন করে একটা অজানা ছেলেকে চড় মারতে পারো?"
প্রথম থেকে সম্মান দিয়ে 'আপনি ' করে ডাকলেও অন্ত এখন প্রীতিকে 'তুমি' করে সম্বোধন করতে শুরু করেছে।এবার যেন অন্তর সম্মানে লাগতে শুরু করেছে তাই মনে হয়।
বাইরে হঠাৎ উচু গলা শুনে কল্পনা রুম থেকে বেড়িয়ে এলো।কিছুক্ষণ আগেই কল্পনা আর প্রীতি কল্পনার রুমে আসে।চুলে লাগা কেকের ক্রিম সড়াতেই রুমে আসা।কিন্তু প্রীতি বের হতে নিয়ে অন্তকে দেখেই যেন ফুসে উঠে।
কল্পনা প্রীতি আর অন্তকে এমন অবস্থায় দেখে প্রথমে হতবম্ব হয়ে গেল।তার সামনে কি হচ্ছে সেটা যেন কিছুতেই মাথায় ঢুকলো না।তাই তো ভাঙা গলায় বলে উঠল,
"আ-আরে,ক-কি হয়েছে?"
কল্পনার দিকে দেখে অন্ত চেচিয়ে বলে উঠল,
"আমার চড় খাওয়ার কথা মনে আছে?এই সেই মেয়ে!! "
অন্তর এমন বড় গলায় কল্পনা অবাকের প্রথম ধাপ পার করল।অন্তর বলা কথায় খেয়াল না করে অন্তর কন্ঠের স্বরে ধ্যান দিল।তার ভাইটার গলা তো ভালোই বড়।আজ যেন প্রথম কল্পনা অন্তর এমন বড় গলা শুনছে।কল্পনা আর কিছু ভাবতে পারবে তার আগেই প্রীতিও কল্পনার দিকে ঘুরে চেচিয়ে উঠল,
"এই কল্পনা!!আমার চিঠিটার কথা মনে আছে?এই সেই ছেলে!!"
কল্পনা এবার প্রীতির দিকে ঘুরে ভ্রু কুচকালো।আর অন্ত আবার প্রীতির দিকে ঘুরে চেচিয়ে উঠল,
"কিসের আবার চিঠি এখানে ঢুকছে!"
প্রীতি দুই হাত কোমড়ে ঠেকিয়ে অন্তর দিকে ঘুরল,
"কেন? এক চড়ে সেটাও ভুলে গিয়েছেন?এই চিঠির জন্যই তো চড়টা খেয়েছেন!"
প্রীতির দিকে আঙ্গুল তাক করল অন্ত,
"এই!বার বার চড়ে ভুলে যাওয়ার কথা বলা বন্ধ করবা?তোমার সেই ফালতু চড়ে আমি কিছুই ভুলিনি!সব ই মনে আছে আমার!!আমি কোনো চিঠি দেইনি তোমাকে!"
অন্তর মুখ ভেংচালো প্রীতি,
"ইস!চাচাতো বোনকে দেখে এখন আবার ভদ্র সাজা হচ্ছে?কল্পনা সব জানে।চিঠি তো ছিল না,যেন অশ্রাব্য কথার ঝুড়ি!"
মুখ এক হাত খুলে গেল অন্তর।ছেলেটা আজ অন্য কারো মুখে নিজের সম্পর্কে পুরো বিপরীত বিবরণ শুনছে।তাই তো যেন বারবার মাথায় বাজ ভেঙে পড়ছে।
"এই মেয়ে!আমার চরিত্রে দাগ লাগানো বন্ধ করো বলছি!"
অন্তর থেকেও উঁচু গলায় প্রীতি চেচিয়ে উঠল,
"নিজেই আমার চরিত্রে দাগ লাগাতে চেয়ে আবার নিজেই কেমন ভদ্র সাজছে!"
কল্পনা তার সেই এক বাক্য মুখে উচ্চারণ করেই চুপ হয়ে গিয়েছে।প্রীতিকে তো সে প্রায়শই চিল্লাতে দেখে। কিন্তু আজ যেন প্রথমবার অন্তকে চিল্লাতে দেখছে।এ যেন রাতের বেলা সূর্যে গ্রহণ লাগার অবস্থা!কল্পনা তার জন্মদিনের জন্য এবার অন্তর কাছে কোনো গিফটই চাইবে না।কল্পনাকে তো লাইভ গিফট দিচ্ছে অন্ত।দেরি করল না সে।মুখে দুষ্ট হাসি ফুটিয়ে ফোনে ভিডিও করা শুরু করল।
বাইরের এই হালকা স্বরে চলতি ঝগড়ার আওয়াজ আরো একজনের কানে পৌছালো।যার দরুণ এবার সাহিত্যও রুম থেকে বেড়িয়ে এলো।কি চলছে সেও ঠিক বুঝতে পারল না।পাশে দাড়িয়ে থাকা কল্পনার দিকে নজর দিল।দেখা মিলল তার ফাজিল পাখিটার করা বাদড়ামি কান্ড।এক ভ্রু উঁচিয়ে কল্পনার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
"কি চলছে এখানে?"
মজায় মজায় সাহিত্যের দিকে নজর ঘুরালো কল্পনা,
"দেখছেন না?অন্ত ভাইয়া ঝগড়া করছে"
এবার সাহিত্যও বিষয়টাতে ভালো করে নজর দিল।আসলেই তো।অন্ত কারো সাথা ঝগড়া করছে।সাহিত্য চোখ জোড়া ডলে আবার দেখলো।নাহ্,আসলেই তার সরল ভাইটা ঝগড়া করছে।
কল্পনার হাসির শব্দ এবার প্রীতি আর অন্তর কানে গেল।অমনি দুজনেই কল্পনার দিকে ঘুরে কল্পনার নাম ডেকে চেচিয়ে উঠল।তাতে কল্পনা যেন হাতে-পায়ে চমকে উঠল।সাথে ফোনটাও নিচে নামিয়ে নিল সে।
সাহিত্য পকেটে হাত গুজে রাখা অবস্থায়ই একটু এগিয়ে এলো,
"কি ব্যাপার অন্ত?জীবনের প্রথম ঝগড়া করছিস,তাও আবার কোনো মেয়ের সাথে?কারণটা কি?"
অন্ত আগের গলার তেজ নিয়েই বলল,
"রাগ উঠবে না?কিসব বাজে বকে যাচ্ছে এই মেয়েটা!আমি যেন কিসের চিঠি-ফিঠি দিয়েছি তাকে!আর সেটার জন্যই নাকি এসে চড় মেরেছে আমাকে!"
ক্ষণিক সময় চিন্তা করতেই স্মরণে এলো সাহিত্যের,যে অন্ত কোন চড়ের কথা বলছে।কিন্তু ব্যাপারটা যেন বেশ গোলমিল ঠেকছে।ভালো করে শুনা উচিৎ আসল ঘটনা কি।
কোরিডোর থেকে নিচে নজর ফেলল সাহিত্য।বেশি হোইহুল্লোড়ে এদের এসব চেচামেচি মনে হয় নিচের কেউ শুনেনি।আর বাকি কথাও যেন কারো কানে না যায় সেজন্যই সাহিত্য আগুনের গোলা দুটো সহ কল্পনাকেও নিজের রুমে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে দিয়ে পেছনে ঘুরে শুধালো,
"কি সমস্যা এবার বলো দেখি"
অন্তর দিকে দেখে চেচিয়ে উঠল প্রীতি,
"ইনি আমাকে বাজে কথায় লিখা একটা চিঠি দিয়েছিল।কল্পনাও সেটা দেখেছে"
আবার অন্ত গলা উঁচিয়ে বলল,
"আরে ধুর!বললাম যে আমি তোমাকে কোনো চিঠি দেইনি!কানে কথা ঢুকে না?"
"সবার সামনে পোল খুলে যাবে দেখে এখন মিথ্যা বলছেন?"
"এই চুপ!"
সাহিত্যের ভারী গম্ভীর কন্ঠে ঘরে উপস্থিত বাকি তিনজন হাতে-পায়ে কেপে উঠল।সাহিত্যের দিকে নজর দিতেই দেখা মিলল রাগী এক মুখোশ্রির।বুকে দুই হাত ভাজ করে চোয়াল শক্ত করে দাড়িয়ে আছে সাহিত্য।সেটা দেখে তিনজনই এক শুকনো ঢোক গিলল।সেই সাথে চুপসে গেল অন্ত আর প্রীতি।
"দাড়িয়ে না থেকে আগে বসো।বেশি চিল্লাপাল্লা করলে গলা টিপে ধরব একদম"
সাহিত্যের শান্ত কিন্তু রাগী কন্ঠে বলা কথায় আবার কেপে উঠল তিনজনই।তাই তো যে যেটার নাগাল পেয়েছে সেখানেই বসে পড়ল।কল্পনা দৌড়ে গিয়ে স্টাডি টেবিলের চেয়ারে বসে পড়েছে।প্রীতি সিংগেল সোফাটা জড়িয়ে ধরল।আর অন্ত বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে পড়ল।
তিনজনকে আবার ভালো করে পরখ করল সাহিত্য।সেই কাজ শেষে কল্পনার পাশে স্টাডি টেবিলটায় হেলান দিয়ে দাড়ালো।হাত জোড়া এখনো বুকে বাধা।প্রীতির দিকে দেখে শান্ত স্বরেই বলে উঠল সে,
"কি সমস্যা হয়েছে বলো দেখি"
সাহিত্যের রাগী গলায় তো প্রীতির বেহাল দশা।চুপসানো কন্ঠেই শুধালো,
"প্রায় কয়েক মাস আগের কথা।আমাকে ইনি একটা চিঠি দিয়েছিল।খুবই বাজে কথা লিখা ছিল সেটাটে।আমি সেটা কল্পনাকেও দেখিয়েছিলাম"
আবার চেচিয়ে উঠলো অন্ত,
"বললাম তো আমি কোনো চি..."
"অন্ত!আমি কথা বলছি না?"
সাহিত্যের কথায় কথা বন্ধ করল অন্ত।কিন্তু সুক্ষ্ম নজর প্রীতির উপরেই রাখলো।সাহিত্য এবার কল্পনার দিকে দেখলো,
"ও ঠিক বলছে?"
কল্পনা পরপরই বলে উঠল,
"চিঠির কথা ঠিক আছে।কিন্তু সেটা যে অন্ত ভাইয়া দিয়েছিল সেটা জানতাম না"
অন্ত ওদিকে খুত খুত করে উঠে মাথা আঙ্গুল ঠেকালো।সাথে বিড়বিড় করে বলেও উঠল,
"দেইনি রে।আমি কোনো চিঠি দেইনি এই আদালতের গলা ফাটা উকিলকে"
অন্তর বিড়বিড় করে বলা শেষের কথাটুকুতে নাকের পাটা ফুলালো প্রীতি।সাহিত্য গলা খাকারি দিয়ে আবার প্রীতির দিকে নজর দিল,
"চিঠি দেওয়ার দিনে ঠিক কি হয়েছিল একটু ভালো করে বলো তো"
সময় নিয়ে শান্ত স্বরে বলতে লাগলো প্রীতি,
"আমি ভার্সিটি থেকে বাসা ফিরছিলাম।ফাকা ফুটপাতে ভালোই হাটছিলাম।হঠাৎ পেছন থেকে ইনি ডেকে উঠে 'এই যে আপু শুনছেন?'।আমি পেছনে ঘুরতেই আমার দিকে চিঠিটা এগিয়ে ধরে বলে উঠে 'এটা মনে হয় আপনার'। বলেই কানে ফোন চেপে জোর পায়ে চলে যায়"
সাহিত্য অন্তর দিকে ঘুরলো,
"অন্ত।এমন কিছু কি মনে পড়ে?"
অন্ত তো প্রীতির কথা শুনেই দুই হাত দিয়ে দুই চিপ ডলতে শুরু করেছে।হয়তো প্রীতির বলা ঘটনা স্মরণে আনার চেষ্টা করছে।বেচারার যেন বেহাল দশা।তার এমন পবিত্র চরিত্রে দাগ লাগার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।চিন্তায় পড়া ছাড়া যে আর কোনো উপায় নেই।
বেশ কিছুক্ষণ মাথা ডলে অবশেষে মনে পড়ল অন্তর, যে প্রীতি কোন ঘটনার কথা বলছে।
এখনকার কথা নয় সেটা।বেশ কয়েক মাসই হতে চলল।তখন তো এমন ভারী বৃষ্টির বদলে বৈশাখ মাসের কড়া রোদ ঝড়ছিল ধরণীতে।আর সেই গরমেই বন্ধুদের থেকে ডাক পড়ায় তাদের সাথেই দেখা করতে বেড়িয়েছিল অন্ত।ফোন চালাতে নিয়েই ফুটপাতে হাটছিল।হঠাৎ পায়ের কাছে এক ভাজ করা কাগজ নজরে আসে তার।মাথা তুলতেই তার থেকে দুই হাত সামনে এক মেয়েকে হাটতে দেখে।যার কোমড় ছুই ছুই হালকা ভাজের চুলগুলোর উপরের কিছু অংশ একটা পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকানো।গোলাপি চুড়িদার পড়া হাতে একটা ফাইল জর্জেট ওড়নাটার ভেতর থেকে উঁকি-ঝুকি দিচ্ছে।সেই ফাইল থেকেই হয়তো কাগজটা পিছলে পড়েছে।সেটাই অন্ত ধারনা করে নিল।
সেই মেয়ের থেকে চোখ সড়িয়ে কাগজটা হাতে তুলে নিল অন্ত।বড় ধাপে সামনে এগিয়ে ডেকে উঠল,
"এই যে আপু শুনছেন?"
কারো ডাকে পেছনে ঘুরলো প্রীতি।অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা মিলল এক সুদর্শন যুবকের।চিকন গড়নের ছেলেটার পড়নের সাদা কটন শার্টটা শরীরের ঘামে হালকা ভিজে উঠেছে।কিন্তু ফর্সা চেহারাটায় হাসি থাকার দরুন সেই ঘামে ভেজা শার্ট যেন সৌন্দর্যই বহন করছে।
প্রীতি পেছনে ঘুরতেই মুখের হাসি অক্ষুণ্ণ রেখেই কাগজটা প্রীতির দিকে এগিয়ে দিল অন্ত,
"এটা মনে হয় আপনার"
প্রীতি বেশ বিভ্রান্ত হয়েই অন্তর দিকে নজর রেখেই কাগজখানা হাতে নিল।সেই মুহুর্তেই অন্তর ফোনে কল আসে।প্রীতি কাগজটা হাতে নেওয়ায় আর দাড়লো না অন্ত।কল রিসিভ করে কথা বলতে নিয়েই সামনে এগিয়ে যায়।
সেই কথা স্মরণে আসতেই অন্ত আরো একবার মাথায় হাত রাখলো।সে যদি জানতো একটা কাগজ এগিয়ে দেওয়ায় এতো কিছু হতে পারে তাহলে সে সেই রাস্তার কাগজ তুলা তো দূরে থাক,সেই রাস্তা দিয়েও যেত না।
প্রীতির দিকে আবার ভারী নজর ফেলল অন্ত।শান্ত কিন্তু ভারী কন্ঠে বলতে লাগলো,
" 'এটা মনে হয় আপনার' আর 'এটা আপনার জন্য' এই কথা দুটোর মানে বুঝো?এই কথা দুটোর অর্থ যে আলাদা হয় সেটাও জানা আছে কি তোমার?না জানলে আমি বলছি,শুনো একটু।আমি মনে হয় বলেছিলাম 'এটা মনে হয় আপনার'। মানে আমি নিজেও জানতাম না যে সেই কাগজটা কার।রাস্তায় পড়ে ছিল সেই কাগজটা।তোমাকে সামনে দেখেছিলাম তাই ধরে নিয়েছিলাম সেটা তোমারই ছিল"
আবার চেচিয়ে উঠল প্রীতি,
"একদম কথা ঘুরাবেন না!সব বুঝি আমি!"
অন্ত উঠে দাড়ালো।গলার শান্ত স্বর যেন মুহূর্তেই বদলে গেল,
"কি বোঝো তুমি?বলো তো দেখি!"
প্রীতিও উঠে অন্তর কাছাকাছি এসে দাড়ালো।মাথা উপরের দিকে তুলে নজর রাখলো অন্তর চোখ বরারবর,
"বুঝি যে আপনার চরিত্রে বেশ ভালোই সমস্যা আছে!"
অন্তও মাথা ঝুঁকিয়ে প্রীতির মুখের কাছে নিয়ে গেল,
"আমার চরিত্রে সমস্যা থাকলে তোমার চরিত্রে আমার থেকেও বেশি সমস্যা আছে!"
"আমার চরিত্র নিয়ে একদম কথা বলবেন না বলে দিচ্ছি!"
"তো তুমি কেন আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলছো!!"
দুজনের মাঝের দূরত্বটা বেশ সুক্ষ্ম।একটু হলেই নাকে-নাকে ঘষা লাগতে পারে।কিন্তু সেদিকের তোয়াক্কা না করে যেন দুজনেই নাকের পাটা ফুলিয়ে ফুসে যাচ্ছে।
যাদের মাথায় আসল বিষয়টা ঢুকার কথা তারা যেন না বুঝে তেলে বেগুনে জ্বলেই যাচ্ছে।আর যাদের না বুঝলেও চলতো সেই দুই ব্যক্তি পুরো ঘটনা ভালো করে বুঝতে পেরেও যেন অন্ত আর প্রীতির ঝগড়া দেখে মিটিমিটি হাসছে।
অন্ত আর প্রীতির কান্ড দেখে যেন এবার সাহিত্যও মজা পাইছে।নাহয় করল তার ছোট ভাইটা একটু ঝগড়া।হাসি-কান্নার মতোই জীবনে ঝগড়ারও তো একটু দরকার।সেই ঝগড়ায় নাহয় হার্ট পরিষ্কার হয়ে যাবে অন্তর।
কল্পনা হাসি থামিয়ে ভারী শ্বাস ফেলল।অতঃপর সাহিত্যকে ঝাকিয়ে বলে উঠল,
"হাসা বন্ধ করে একটু থামাবেন ওদের?কখন যে আবার চুল টানাটানি শুধু করে"
সাহিত্য হাত নাড়িয়ে বলে উঠল,
"কিছুই করতে হবে না।অন্ত নিজেই চুপ হয়ে যাবে,দেখিস"
সাহিত্যের কথাই যেন ফললো।প্রীতি যখন অনর্গল বকেই যাচ্ছিল তখন হঠাৎই অন্ত চুপ মেরে গেল।মাথা নিচু করে ভারী শ্বাস ফেলে শান্ত স্বরেই বলে উঠল,
"ঠিক আছে"
অন্তর মুখে শান্ত স্বরে এমন কথা শুনে এবার যেন প্রীতির মুখে একটু ভাটা পড়ল।ক্ষণিক সময় অন্তর দিকে তাকিয়ে থেকে ধীমি আওয়াজে বলল,
"কি বললেন?"
মাথা তুলল অন্ত।গম্ভীর তার মুখোশ্রি।তারপরেও শান্তভাবে
শুধালো,
"বললাম ঠিক আছে।তুমি জিতেছো।তোমাকে ওইদিন ডাকাটাই আমার ভুল হয়ে গিয়েছিল।কখনো ভেবে দেখিনি যে কারো সাহায্য করতে গিয়ে তাকে হার্ট করে ফেলব।সেই চিঠিতে কি লিখা ছিল আমার জানা নেই।কিন্তু যেহেতু সেটা আমার হাত থেকে তোমার কাছে গিয়েছে সেহেতু আমিই তোমাকে সরি বলছি।আম ভেরি সরি এবাউট দ্যাট।এখন একটু চুপ করো।অযথা এসব ঝগড়া আর ভালো লাগছে না"
পুরো হতভম্ব হয়ে গেল প্রীতি।তার জীবনের মনে হয় এটা সবচেয়ে ছোট ঝগড়া ছিল।এ কেমন ছেলে?নিজেই বলল সে চিঠি দেয়নি আবার এখন নিজেই সেটার জন্য সরি বলছে?মানুষ যেখানে ভুল করেও স্বীকার করে না,সেখানে এই ছেলে এতো সহজেই অন্যের ভুলে নিজে সরি বলছে?আর এমনভাবে বলেছে যে প্রীতির আর কিছু বলার সুযোগই থাকলো না।
অন্তর কথায় প্রীতির ঠোঁট জোড়ার মাঝে মিলি মিটার পরিমাণ ফাক হয়েছিল।সেটা বন্ধ করে এক ঢোক গিলল সে।ভাঙা কন্ঠে শুধালো,
"এ-এ-এটা কেমন কথা?আপনি বললেন আর হলো?আর যেখানে আপনার কোনো দোষই নেই সেখানে আপনি কেন সরি বলবেন?"
প্রীতির এখন পুরো দমে উল্টো কথায় ভ্রু কুচকালো অন্ত।আগের ন্যায় শান্ত স্বরেই বলল,
"তো কি করতে বলছো আমাকে?আমার কাছ থেকে সরি শোনার জন্যই তো এতো ঝগড়া করছিলে,তাই না?"
আবার আমতা আমতা করতে লাগল প্রীতি,
"ক-কি?আমি কখন বললাম যে আমি আপনার মুখে সরি শুনতে চেয়েছি?আমি তো শুধু আপনার কু-কর্মগুলো সামনে আনতে চাচ্ছিলাম!"
প্রীতি এখনো ঝগড়া করার জোশে আছে।তাই তো শেষের কথাটা আবার জোর দিয়েই বলে উঠল।প্রীতি যেন এটাতেই বিরক্ত,যে অন্ত এতো তাড়াতাড়ি চুপ কেন হয়ে গেল!
আবার ভারী শ্বাস ফেলল অন্ত।অতঃপর প্রীতির রাগকে পুরো উপেক্ষা করে স্বাভাবিকভাবেই শুধালো,
"ওকে ফাইন।তুমি সফল হয়েছো আমার কু-কর্ম সামনে আনতে।এখন খুশি?"
প্রীতির রাগটা যেন আরো বেড়েই যাচ্ছে।এই ছেলে কেন এতো সহজে সব মেনে নিচ্ছে!নিজের কথায় টিকে নেই কেন?প্রীতিকে জিতানোর জন্য কেন উঠে পড়ে লেগেছে?
প্রীতি আবার ফুসে উঠল,
"না!খুশি নই আমি।আপনি এতো তাড়াতাড়ি নিজের কথা কেন ঘুরিয়ে নিচ্ছেন?আমি কিনা কি বকে যাচ্ছি,আর আপনি হঠাৎই মানিয়ে নিতে শুরু করলেন?এটা একদম চলবে না!পুরো ন্যায়ের সাথে ঝগড়া চলবে!নাহলে আপনার ভদ্রতার ছাতা-মাথা করে দেব একদম!!"
"আরে!কি আজব কথা-বার্তা!বললাম তো আমি ঝগড়া করব না।তো কি জন্য উঠে পড়ে লেগেছো ঝগড়া করার জন্য?"
প্রীতি কল্পনার দিকে ঘুরল,
"এই কল্পনা!! তোর ভাইকে বল ভালোই-ভালোই ঝগড়া করতে।নাহলে কিন্তু আমার মাথা গরম হয়ে যাবে, বলে দিচ্ছি!!"
শেষের কথা প্রীতি চেচিয়েই বলে উঠল।সেটা তোয়াক্কা করল না কল্পনা।বসা অবস্থায়ই পায়ের উপর পা চড়িয়ে দুই হাত বুকে ভাজ করল,
"তোর মাথা এমনিতেই অনেক গরম আছে।আর আমার ভাই এমনই।তুই ওর সাথে ঝগড়া করে মজা পাবি না"
প্রীতি আবার অন্তর দিকে দেখল,
"এমনই?এটা কেমন কথা?এই মিস্টার!গার্লফ্রেন্ডের সাথে কখনো ঝগড়া করেননি?"
অন্তর পেছন থেকে কল্পনা ফিক করে হেসে বলে উঠল,
"তুই প্রথম মেয়ে যার সাথে ভাইয়া এতো বেশি কথা বলেছে।সাথে ঝগড়াও করেছে।তোর জন্য আজ শেখ বাড়িতে অহি নাজিল হয়েছে বান্ধুপি"
মুখ পুরো হা হয়ে গেল প্রীতির।ছেলে দেখতে তো মাশাল্লাহ।যে কেউ নির্দিধায় বলে দেবে এই ছেলে প্লে বয়।আর সেখানে নাকি শুনছে এই ছেলে দুধে ধোয়া তুলছি পাতা।
এতক্ষণ পর সাহিত্য মুখ খুলল,
"হয়েছে।আর ঝগড়া করতে হবে না।সবকিছু যখন ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছে তো অযথা এ ব্যাপারে কথা বাড়ানোর কোনো দরকার নেই"
অন্ত কল্পনার দিকে দেখলো,
"তোর বান্ধুবীকে মেজাজ ঠান্ডা করতে বল।এতো রাগ ভালো না"
"আমার মেজাজ এমন গরমই থাকবে।আর আমাদের এই ঝগড়ায় বিরতি পড়েছে,শেষ হয়নি।যখন ঝগড়া করার মুডে থাকবেন তখন আসিয়েন।দেখিয়ে দেব কেমন করে ঝগড়া করতে হয়"
প্রীতির ঝাঝালো কথায় অন্ত আবার প্রীতির দিকে ঘুরল।পরপরই মুচকি হেসে উঠল ছেলেটা।যেটাতে আরেক দফা থমকালো প্রীতি।এই ছেলে এখন আবার হাসছেও?!
অন্ত ঠোঁটে হাসির রেখা বিদ্যমান রেখেই বলে উঠল,
"সেই আশায় থাকিও না।ওই মুডে যাওয়ায় আমি অভ্যস্ত নই"
অন্তর প্রতিটি কথাই যেন প্রীতিকে প্রতি মুহুর্তেই চুপ হয়ে যেতে বাধ্য করছে।কিন্তু প্রীতি তো নাছোরবান্দা।সে তো এতো সহজে চুপ হবে না।তাই তো আবার নাকের পাটা ফুলিয়ে বলে উঠল,
"অভ্যাস করে নিন।এই তাবাসসুম প্রীতি সেই ভাষা ছাড়া কথা বলে না"
প্রীতির রাগান্বিত আদলখানা ক্ষণিক সময় এক দৃষ্টিতে দেখে থাকল অন্ত।ওভাল সেইপ চেহারাটা রাগে ফুলে-ফেপে আছে।শ্যামবতীর গাল দুটোও এতক্ষণে অনেকটা লাল হয়ে উঠেছে।অন্তর পুরো বিপরীত এই মেয়েটা।যেখানে অন্ত বেশি ঝামেলা না হওয়ার উদ্দেশ্যে সহজেই চুপ হয়ে যায় সেখানে এই মেয়ে যেন সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লেগেই থাকে।মেয়েটার মধ্যে সাহস আর জোশ ভরপুর আছে,আর এদিকে অন্ত যেন নিজের সেই জোশটা দেখাতে একটু আলসেমিই করে।অতো কথা বাড়িয়ে লাভ আছে কোনো?শুধু-শুধু সময় নষ্ট।কিন্তু প্রীতির কাছে যেন সেই সময়টাই মূল্যবান।
কল্পনা চেয়ার থেকে উঠে এসে প্রীতিকে ঠেলতে লাগল,
"আচ্ছা অভ্যাস করে নিবেনি।আজকের জন্য রেসলিং এখানেই শেষ হচ্ছে।এখন চল নিচে!অনু আর সামিয়া মনে হয় পুরো কেকটাই খেয়ে ফেলল!"
কল্পনা প্রীতিকে টানতে নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে এলো।অন্ত প্রীতির চোখের আড়াল হওয়ার পরেও প্রীতির চোখের সামনে এখনো অন্তর সেই মুচকি হাসিখানা বারবার ভেসে উঠছে।আজব!সমস্যা কি এই ছেলের!প্রীতিকে এতো জ্বালিয়ে মারছে কেন?প্রীতির রাগের সামনে এতো হাসার কি ছিল?সেই কথা ভাবতে নিয়েই ফুসে উঠে কল্পনাকে বলতে লাগলো সে,
"আমি কিন্তু তোর ভাইকে কোনো সরি-টরি বলছি না।যেখানে আমার কোনো দোষই ছিল না সেখানে আমি কেন সরি বলল?"
হাসতে হাসতেই মাথা দুলালো কল্পনা,
"ঠিক আছে মা,বলিস না তুই সরি"
"তো তোর ভাই কেন সরি বলল?ওনারও তো কোনো দোষ ছিল না।সরি বলে কি বুঝাচ্ছিল উনি,হ্যাঁ?দোষ না করে উনি কোন সাহসে সরি বলল!!"
এবার একটু বিরক্ত হলো কল্পনা,
"উফ্ প্রীতি,তুই কিসের উপর রাগ হয়েছিস সেটা কি একটু বুঝিয়ে বলবি?"
"কিসের উপর আবার?তোর ভাইয়ের উপর।মানুষ এতো আজব কেমন করে হয়?এতো সাদাসিধা কেমন করে হয়?নাই একটু ঝগড়া করতেই কোনো কারণ ছাড়াই সরি বলে দিল?"
হাসলো কল্পনা,
"অন্ত ভাইয়া অমনই"
কল্পনার হাসি দেখে মাথাটা মনে হয় এবার একটু নিয়ন্ত্রণে এলো প্রীতির,
"তোর চাচাতো ভাইগুলো এতো আজব কেন?একটা হান্টিং এ্যাডালাইন বই পড়ে রাতুলের হাত কাটতে দৌড়াচ্ছে,আরেকটা ফেরেশতার মতো সব দোষ নিজের করে নিচ্ছে"
কল্পনা কিছু না বলে ঠোঁট টিপে হাসলো।এদিকে প্রীতি মনমরা হয়ে বলে উঠল,
"তোর বাসায় প্রথম দিন এসেই মান-ইজ্জতটা খেলাম।না জানি সাহিত্য ভাইয়াও কিনা কি মনে করল?"
কল্পনা এবার মুখ খুলে হাসলো,
"বিলিভ মি! আমার মতো সাহিত্য ভাইও অনেক মজা পেয়েছে।অন্ত ভাইয়ার এই রূপ দেখার জন্য শেখ বাড়ির সবাই টাকা দিয়ে টিকিট কাটতেও রাজি আছে"
প্রীতি কিছু না বলেই কল্পনার দিকে দেখে থাকলো।সেটা দেখে কল্পনা আবার শুধালো,
"আরে বাদ দে তো।সব যে মিটমাট হয়েছে সেটাই বিরাট।নাহলে আমিও ভাবছিলাম,যে অন্ত ভাইয়া কোনো মেয়েকে চিঠি দিতে পারে?তাও আবার এতো খোলামেলা কথার চিঠি?আমার নাদান ভাইটা তো সেসব চিন্তাও করতে পারবে না"
আর কোনো কথা বাড়াতে পারলো না প্রীতি।কারণ কথা বলতে নিয়ে সিড়ি পাড় করে কখন যে ড্রইং রুমে চলে এসেছে সেদিকে খেয়ালই করেনি।
লতিফা শেখ তাদের দুজনকে দেখা মাত্রই ডাক দিলেন,
"আরে কই ছিলে তোমরা?কেক কাটা হয়েছে এখন লাঞ্চটা করব না?খাবার তো সব ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে"
কল্পনা প্রীতিকে নিয়ে লাফিয়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগুলো,
"হ্যাঁ হ্যাঁ, এসো তাড়াতাড়ি।আর সাহিত্য ভাই আর অন্ত ভাইয়া কি যেন কাজ করছে।এখন খাবে না তারা"
কল্পনা যেন চালাকি করে বলে উঠল কথাটা।অবশ্য সেটা সাহিত্যই করতে বলল ক্ষণিক আগে কল্পনার ফোনে ম্যাসেজ দিয়ে।কারণ আপাতত অন্ত আর প্রীতি কেউই ভালো মুডে নেই।সামনাসামনি হলে যেন আরেক ফাটাফাটি না হয়ে যায়।
সাহিত্য কল্পনাকে ম্যাসেজটা পাঠিয়ে অন্তর দিকে দেখল।অন্তর নজর দরজার দিকে।ফাঁকা দরজায় কি যে দেখছে ছেলেটা কে জানে?সাহিত্য হালকা হেসে উঠে এসে অন্তর কাধ চেপে ধরল,
"না ভালোই মানিয়েছে"
সাহিত্যের কথায় ভড়কালো অন্ত,
"ক-কি ভালোই মানিয়েছে?"
হেলাফেলায় বলল সাহিত্য,
"মেয়েটা।তোর জন্য একদম পারফেক্ট"
অন্ত সাহিত্যের কাছ থেকে কাধ ছাড়িয়ে নিল,
"কি যে বাজে বকছো না তুমি।ওই মেয়ে এখনে আমার সাথে তুলকালাম ঝগড়া করে গেল,আর তুমি বলছো আমার সাথে ওই মেয়ে যায়?"
"হ্যাঁ ঠিকই তো বলেছি।আগুনকে তো পানিই ঠান্ডা করতে পারে।তুই তো ঝপ করে ওর গায়ে পানি ঢেলে দিলি"
"বাজে বকা বন্ধ করো তো।ওই মেয়ের সাথে আমার কিছুতেই যায় না"
সাহিত্য হেসে উঠল,
"মেয়ে তোর দ্বারায় ঝগড়া করাতে সক্ষম হয়েছে।বউয়ের সাথে ঝগড়া করবি না তো কার সাথে ঝগড়া করবি?বউয়ের সাথে ঝগড়া করেই তো বেশি মজা"
"মনে হচ্ছে নিজে তিন-চারটা বউ পালছে।থাকো তুমি"
কথাটা বলতে নিয়েই হাসতে থাকা সাহিত্যকে পেছনে ফেলে বেড়িয়ে গেল অন্ত।নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল।কি একটা আজব মেয়ের সাথে সাহিত্য তাকে মিলাচ্ছিল।কোনো মিলই নেই দুজনের মাঝে।চিন্তা করতে নিয়েই সেই ব্যক্তির রাগান্বিত মুখটা স্মরণে এলো অন্তর।এতক্ষণ অব্দি মুখ গোমড়া করে থাকলেও সেই মুখে একটু হাসি ফুটলো এই মুহুর্তে।আসলেই মেয়েটা অনেক আজব।শেষের দিকে কিনা কি উল্টাপাল্টা কথা বলছিল।ঠোঁটের হাসিটা যেন আরো একটু বেড়ে গেল অন্তর।আনমনেই বিড়বিড় করে উঠল,
"কি যেন বলল নামটা?.....তাবাসসুম প্রীতি.....
...প্রীতি.......প্রিটি(সুন্দর)"
নিজের বলা শেষের শব্দটা শুনে অন্ত নিজেই ভড়কে গেল।মাথা ঝাকিয়ে পড়ণের খাকি রঙা শার্টটা খুলতে লাগলো সে,
"এবার আমিই বাজে বকা শুরু করেছি।ভাবা বন্ধ কর অন্ত"
#চলবে