ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৪০তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৪০

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

দিনের সময়টা বর্তমানে দুপুরের প্রহর চলছে।কিন্তু সূর্যের যেন তেমন কোনো তেজই নেই।সূর্য দেখা দিলেও কেন জানি তার তাপ ছড়াতে বেশ আলসেমি দেখাচ্ছে।সেই মিষ্টি তাপেই যেন কল্পনা দুপুরের ভাত ঘুমটা দিতে ব্যস্ত।ক্ষণিক আগেই তো দুপুরের ভাত খেয়েই বিছানায় ঢলে পড়েছে সে।কেবলই ঘুমখানা গভীর হওয়ার দিকে ধীর পায়ে এগুচ্ছিল।কিন্তু এক ফোনের রিংটোনে যেন গভীর ঘুমখানা পা গুটিয়ে ফিরে চলল।

ফোনের রিংটোনে বেশ বিরক্ত বোধ করল কল্পনা।ফোন রিসিভ করার তো কোনো ইচ্ছাই ছিল না তার।কিন্তু অনবরত রিংটোনটা বাজার কারণে বাধ্য হয়ে উঠে বসলো সে।ফোন হাতে নিতেই হালকা ভড়কালো।এই অসময়ে মুহিত সাহেবের নাম্বার থেকে কল আসা দেখে ভড়কানোরই কথা।দেরি করল না কল্পনা।ফোন রিসিভ করে কানে চেপে ধরল।মুহিত সাহেব যেন সেটারই অপেক্ষায় ছিলেন।খুবই ব্যতিব্যস্ত শুনালো তার কন্ঠ,

"কল্পনা!!! মা সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে!!"

মুহিত সাহেবের এমন কথা শুনে আতঁকে উঠল কল্পনা,

"কেন আংকেল!কি হয়েছে!কোনো খারাপ সংবাদ আছে??"

"হ্যাঁ রে মা!তোমার বাবা সবকিছু জেনে গিয়েছে!"

বুকের মাঝটা যেন ধক করে উঠল কল্পনার।বিছানা থেকে উঠে দাড়ালো সে।মেয়েটার গলা সহ হাত-পাও থরথরিয়ে কাপছে,

"কি বলছেন আংকেল আপনি এগুলো!বাবা সব জেনে গিয়েছে মানে!!কেমন করে জানলো!"

মুহিত সাহেব তো সেদিকে মাথায় হাত ঠেকিয়ে বসে আছেন।কল্পনার কথায় কাঁদো গলায় বলতে লাগলেন,

"তোমার দাদির কিছু টেস্ট করতে বলেছিল ফাহাদ ভাই।আমি রাজি হয়ে গিয়েছিলাম এটা ভেবে যে শেখ ভিলায় গিয়ে উল্টা-পাল্ট কিছু বুঝিয়ে দেব।কিন্তু আমি তো ভুলে বসেছিলাম যে সেটা ফাহাদ শেখ! তোমার বাবা আজ নিজেই হসপিটালে এসেছিল।নিজ থেকে সব রিপোর্ট দেখেছে....আমার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না মা।উনি যেভাবে রাগারাগি করছিল তাতে আমি বাধ্য হই সবকিছু খুলে বলতে"

কল্পনা আর দাড়িয়ে থাকতে পারল না।ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল।অনেক জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে সে।কাপা হাত দিয়ে ফোনটা কোনো মতে কানে চেপে ধরে আছে।নিজেকে সংযত করতে পাশের টেবিলটায় হাত রাখল।অস্থির হাত টেবিলের উপর রাখা বোতলটাতে লাগায় বিনা বাধায় পড়ে গেল সেটা।সেই শব্দে ভয়ার্ত মেয়েটা আরো আঁতকে উঠল।বোতলটার দিকে নজর রেখেই যেন চোখ থেকে অঝোরে নোনাজল গোড়তে লাগলো কল্পনার।

ফাহাদ শেখ জেনেছে মানে কল্পনার আর নিস্তার নেই।শেষ।সব শেষ হয়ে গেল।এক নিমিষেই সব কিছু ভেঙে গেল।তোফায়েল শেখ জানলে তো আরো বাজে অবস্থা হবে।বাড়িতেই যেন কাল নেমে আসবে।ফাহাদ শেখ এখন কল্পনার মুখটা পর্যন্ত দেখতে চাইবে কিনা কে জানে?নাকি কল্পনাকে এবার শেখ পরিবার থেকেই আলাদা করে দেবে?তার বাবা যে কি সিদ্ধান্ত নেবে কিছুতেই মাথায় স্থির করতে পারছে না সে।ভয় করছে প্রচন্ডরকম।কল্পনা কি ফাহাদ শেখকে একটু বুঝানোর চেষ্টা করবে?কি বলে বুঝাবে?কল্পনার কাছে ফাহাদ শেখকে বলার জন্য যে কিছুই নেই।আর বলার কিছু থাকলেও বা কি?কল্পনা কি কখনো তার বাবার উপর কথা বলতে পেরেছে?কখনোই না!বাবার রাগ দেখলেই মেয়েটা ভয়ে থরথর করে কেপে উঠে।তাই তো যত কাজ কল্পনা ফাহাদ শেখের পেছনে থেকেই করে।কারণ সামনে থেকে তো কখনোই তার পক্ষে পা বাড়ানো সম্ভব নয়।

কল্পনা এবার বাধ্য হয়েই ফুপিয়ে কেঁদে উঠল।ফাহাদ শেখ তার জন্য কোনো ভারী সিদ্ধান্ত নিলে কি করবে সে?বাবাকে বাধা দিবেই কেমন করে?কল্পনা যে নিজের জীবনটা এক গন্ডিতে বাধতে চায়না।

কল্পনার কান্নার শব্দ শুনে যেন মুহিত সাহেব চমকে উঠলেন,

"কল্পনা? মা তুমি কাদঁছো কেন?"

আবার ফুপিয়ে উঠল কল্পনা,

"আংকেল,বাবা তো আমাকে মেরেই ফেলবে?এখন কি করব আমি?"

মেয়েটার এমন কথায় থতমত খেলেন মুহিত সাহেব।অতঃপর কল্পনার উদ্দেশ্যে এক খুশির বার্তা বললেন,

"আল্লাহ!পাগল মেয়ে!কান্না বন্ধ করে একটু শান্ত হও তুমি।আমি তোমার কথা কিছুই বলিনি ফাহাদ ভাইকে।মাথা খারাপ আমার?সে কথা স্মরণে আছে আমার।তোমার ব্যাপারে কোনো কথাই জানে না তোমার বাবা।উনি শুধু জানে যে আমি আর তোমার দাদি মিলে এগুলো করেছি"

কান্না হঠাৎই যেন থেমে গেল কল্পনার।ক্ষণিক আগে বুকের উপরে বসা পাথরটা যেন ধীরে ধীরে উঠতে লাগলো।এর মাঝে আবার শুধালেন মুহিত সাহেব,

"তোমার বাবার রাগ কেমন সেটা ভালো করেই জানা আছে আমার।তোমার কথা বললে পুরো রাগ তিনি তোমার উপরেই ঝাড়তেন।আর যে শেখ ভিলার এতো মঙ্গল কাজ করছে আমি কি চাইবো তার কিছু হোক?তুমি একটু শান্ত হও মা।আমি তোমার ব্যাপারে কিচ্ছু বলিনি"

কল্পনা এবার বিছানায় তার শরীরের পুরো ভাড় ছেড়ে দিল।শ্বাস নিতে যেন এখনো বেশ কষ্ট হচ্ছে তার।তারপরেও নিজেকে সংযত করতে নিয়ে চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করল সে।অতঃপর ভাঙা গলায় শুধালো,

"থ্যাংক ইউ আংকেল"

মুহিত সাহেবও ভারী শ্বাস ফেললেন,

"এখন কান্না বন্ধ করে চোখ-মুখে পানি দাও।তোমার বাবা বা অন্য কেউ যেন না জানে যে তুমি এই ব্যাপারে জানতা।আপাতত এটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।পরেরটা পরে দেখা যাবে"

কল্পনা হাত দিয়ে চোখের পানি মুছতে নিয়েই বলল,

"বাবা এখন কই আছে?"

"ফাহাদ ভাই তো রেগে-মেগে শেখ ভিলার উদ্দেশ্যে গেল।কিছুক্ষণের মধ্যেই শেখ বাড়ির পরিবেশ খারাপ হবে কিন্তু।তোমার দাদিকে তাড়াতাড়ি সব বলে দাও। নাহলে তিনি ভুলে তোমার কথা তুললে আবার আরেক সমস্যা হয়ে যাবে"

'ঠিকাছে' বলে কল কেটে কল্পনা দৌড়ে দাদির রুমে গেল।তার দাদিটা বসে শান্ত মনে কোরআন তেলাওয়াত করছে।খুব মায়া হলো কল্পনার।কিন্তু এখন যে হাতে সময় নেই।

দাদির সামনে যেতেই কল্পনা যেন আবার ভেঙে পড়ল। নিজেকে আর সামলাতে পাড়ল না।কল্পনাকে হঠাৎ এমন কাদঁতে দেখে বেশ ভড়কালেন মহুয়া বেগম।নাতনিকে কাছে টানলেন তিনি,

"কিরে সোনা?তুই কাঁদছিস কেন?"

কাঁদতে নিয়েই বলল কল্পনা,

"বাবা সব জেনে গিয়েছে দাদি"

মহুয়া বেগম বুকে হাত চেপে বসলেন।কল্পনা চোখের পানি মুছতে নিয়েই কান্না কিছুটা কমানোর চেষ্টা করল।এখন এমন না কেঁদে আগে মহুয়া বেগমকে সব বুঝিয়ে বলতে হবে।

দাদিকে সব বুঝিয়ে দিল কল্পনা।সাথে বারবার এক কথাই বলল মেয়েটা।তোফায়েল শেখ যদি এ কথা জানতে পারে তাহলে তো নিশ্চিত তিনি আবার বাড়ি ছাড়বেন।কিন্তু মহুয়া বেগম যেন সেটা না হতে দেয়।তোফায়েল শেখকে কোনোভাবেই আবার বাড়ি ছাড়া করা যাবে না।যে করেই হোক তাকে আটকাতেই হবে।

মহুয়া বেগম শক্ত মানুষ। তাই তো নাতনির সাথে ভেঙে না পড়ে নাতনির সব কথা শুনলেন তিনি।তার সাথে নিজেকে প্রস্তুত করে নিলেন আগাম খারাপ সময়ের জন্য।কল্পনা এই কয়মাসে অনেককিছু করেছে।মহুয়া বেগম শুধু বসে বসে দেখেছেন মাত্র।এবার কল্পনাকে সাহায্য করার এক সুযোগ এসেছে।কিছুতেই নাতনিকে নিরাশ করা যাবে না।নাতনির মুখো-মন্ডলে বেশ কয়খানা টুকরো চুমু দিয়ে তাকে নিজের রুমে যেতে বললেন তিনি।

মহুয়া বেগমকে ফাহাদ শেখের সামনে একা যেতে দেওয়ার জন্য মনটা সায় দিচ্ছে না কল্পনার।ফাহাদ শেখ যদি শক্ত কিছু বলেন?তার দাদিটা কি সহ্য করতে পারবে?কিন্তু সে কাজ করা ছাড়া যে আর উপায় নেই।এক প্রকার বাধ্য হয়েই নিজের রুমের দিকে জোর পায়ে হাঁটা দিল কল্পনা।

কল্পনা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে কেবলই বিছানার কাছে এসে দাড়িয়েছে।অমনি ফাহাদ শেখের হুংকার শুনা গেল নিচ থেকে,

"আম্মা!!!আম্মা!!!"

কল্পনা আবার আঁতকে উঠল।তার তো আবার হাত-পা কাপা শুরু করে দিয়েছে।তারপরেও সাহস করে রুম থেকে বেড়িয়ে কোরিডোরে দাড়ালো সে।ফাহাদ শেখ এখনো হুংকার দিয়েই যাচ্ছেন।সেটা শুনে এবার সাহিত্যও বেড়িয়ে এলো।কল্পনার দিকে দেখে ভ্রু কুচকালো সে।সাহিত্যকে উদ্দেশ্য করে পরপরই কল্পনা শুধালো,

"মুহিত আংকেল কল দিয়েছিল।দাদির ক্যা'ন্সারের ব্যাপারে বাবা সব জেনে গিয়েছে।।মুহিত আংকেলের সাথে কথা বলে এখনই বাবা বাসায় ফিরল "

"হোয়াট!!"

সাহিত্য কল্পনার হাত ধরে টান দিল,

"তুই আমার রুমে ঢুক।কি হবে আমি সামলে নেব।চাচুর সামনে একদম যাবি না।কি বলছে সব আমি শুনে নেব।তোর উপর একটা আচঁও পড়তে দেব না"

সাহিত্যের কথায় বেশ অবাক হলো কল্পনা।তার সাহিত্য ভাইটা এমন কেন?সবসময় শুধু সবার আগে কল্পনার কথাই চিন্তা করে।সাহিত্যকে বেশ চিন্তিত দেখে বলল কল্পনা,

"আমার ব্যাপারে কিছু জানে না।মুহিত আংকেল আমার ব্যাপারে কিছু বলেনি"

কল্পনার কথাটা শুনে যেন কলিজায় পানি পড়ল সাহিত্যের।স্বস্থির এক শ্বাস ফেলল সে।মনের মধ্যে শুকরিয়া আদায় করল।কারণ সাহিত্যের ভালো করেই জানা আছে ফাহাদ শেখ কল্পনার উপর কি টর্চারটা করতে পারে।রাগ উঠলে যে সব ভুলে বসে এই লোক।

ফাহাদ শেখের এমন হুংকার শুনে এতক্ষণে উপরে কোরিডোরে বাকি বাচ্চার উপস্থিত হওয়ার সাথে বড়রা সবাই লিভিং রুমটার আশেপাশে এসে দাড়িয়েছে।রঞ্জক শেখ এগিয়ে এলেন,

"কি হয়েছে ভাইজান?এমন করে আম্মাকে ডাকছেন কেন?"

রঞ্জক শেখের দিকে দেখে আবার হুংকার দিলেন ফাহাদ

শেখ,

"সবাই তো আমাকে গাধা পেয়েছে!যেটাই বুঝাবে সেটাই বুঝবো, তাই না?"

ভ্রু কুচকালেন রঞ্জক শেখ,

"কেন কি হয়েছে?"

তোফায়েল শেখের রুমের দিকে দেখে আবার গর্জে উঠলেন ফাহাদ শেখ,

"কই?রুম থেকে বের হচ্ছেন না কেন,আমার মায়ের গুণোধর বড় ছেলে?মা-ছেলে মিলে আমাকে কি পা'গলটাই না বানিয়ে রেখেছেন দুজনেই!!কি ভালো নাটকটাই না পারেন,বাহ্!!"

এবার আর তোফায়েল শেখ রুমে বসে থাকতে পারলেন না।বেড়িয়ে এলেন তিনি।তার পেছন-পেছন আমেনা শেখও বেড়িয়ে এলেন।আর এদিকে ধীর পায়ে মহুয়া বেগমও তার রুম থেকে বেড়িয়ে এলেন।ফাহাদ শেখ একবার মহুয়া বেগমের দিকে দেখে আবার তোফায়েল শেখের দিকে দেখলেন।অতঃপর মাথা নিচু করে জোরে জোরে হাত তালি দিতে লাগলেন তিনি।সবাই যেন হতবম্ব হলো সেই তালিতে।হেনা শেখ কাপা গলায় শুধালেন,

"কি ব্যাপার সুবার আব্বু?এমন হাত তালি দিচ্ছেন কেন?আর এতো রেগে আছেন কি কারণে?মাথাটা একটু ঠান্ডা করেন তো"

ঝাঝিয়ে উঠলেন ফাহাদ শেখ,

"বাড়িতে এতো বড় সার্কাস চলছে আর তুমি আমাকে মাথা ঠান্ডা করতে বলছো?"

তোফায়েল শেখের দিকে ঘুরলেন তিনি,

"মা-ছেলে কি ভালো অভিনয় করতে পারেন,বাহ্!আপনাদের তো অস্কার দেওয়া উচিৎ!সেটা কেন বাকি থাকবে?আমিই নাহয় দিয়ে দেই সেই অস্কারটা?"

তোফায়েল শেখ গম্ভীর কন্ঠে বললেন,

"এমন অযথা নাটক না করে আসল বিষয়টা খুলে বলবে?এসব নাটক আর সহ্য হচ্ছে না"

আবার হুংকার দিলেন ফাহাদ শেখ,

"আমি নাটক করছি?আরে আমিই তো নাটক সহ্য করছি!আপনাদের নাটকটা অনেক জমজমাট হয়ে উঠেছিল!বাড়িতে ফেরত আসবেন তো আসতেন!এতো জোড়াতালির কি দরকার ছিল?অযথা আম্মার ক্যা'ন্সারের নাটক করার কি দরকার ছিল?!"

ফাহাদ শেখের শেষের কথায় সবার মাথায় যেন বাজ পড়ল।রঞ্জক শেখ কাপা গলায় শুধালেন,

"ভাইজান আপনি কি বলছেন এগুলো?আম্মার ক্যা'ন্সার নাটক কেন হবে?"

হাতে থাকা রিপোর্টের কাগজগুলো তোফায়েল শেখের মুখে ছুড়ে মারলেন ফাহাদ শেখ।তাতে যেন সবাই অস্ফুটস্বরে ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্যে থামার বার্তা বললেন।গিন্নারা তো সেই অস্ফুটস্বর মুখে নিতেই আঁচলও চেপে ধরলেন।কিন্তু তোফায়েল শেখ অনড় রইলেন।ক্ষণিক সময়ের জন্য চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে খোলা ছাড়া আর কিছু করলেন না তিনি।

আবার চেচাতে লাগলেন ফাহাদ শেখ,

"রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে বলা আছে!আম্মার ক্যা'ন্সার-ভ্যান্সার কিছুই হয়নি!সব নরমাল!এতো কাহিনী তো আম্মা আর একাই করতে পারবেন না।অবশ্যই কেউ সাথে ছিল।আর সেই কাজ এই মহান ব্যক্তি ছাড়া আর কার দ্বারা সম্ভব?সব বুঝি আমি!মান-সম্মান তো বহু বছর আগেই খেয়েছে।সেটাকে আবার পিষতে চলে এসেছে।আরে ধিক্কার জানাই এমন ছেলেকে,যে নিজের মায়ের ক্যা'ন্সারের নাটক সাজাতে পারে!!"

এবার আর চুপ রইলেন না তোফায়েল শেখ।রাগটা এবার তারও চড়াও হলো।হুংকার দিয়ে উঠলেন তিনি,

"একদম চুপ!!কিছু বলছি না দেখে যা খুশি তাই বলে যাচ্ছো?বড় ভাইকে তো কোনো কালেই সম্মান দিতে শেখনি,আর সেটা তোমার কাছে আমি আশাও করি না!না জেনে যে অযথা এসে আমার উপর দোষ ঝাড়ছো,কোনো প্রমাণ আছে তোমার কাছে!আমিও তো বলতে পারি যে তুমি এই জঘন্য কাজটা করেছো।আমি আমার মায়ের ক্যা'ন্সারের কথা শুনে দৌড়ে চলে এসেছি।১১ বছর আগে কি হয়েছিল সব ভুলে এক ছুটে চলে এসেছি।আর আমাকেই তুমি সেই কারণের জন্য দায়ী করছো?"

ফাহাদ শেখের কন্ঠের স্বর যেন নিচু হতেই চাইছে না,

"হ্যাঁ করছি দায়ী আপনাকে!নাহলে আর কে করবে এই কাজ?রঞ্জক? আরে তার মাথায় তো কখনো এ চিন্তা আসতেও পারে না।আর কে বাকি থাকলো?আপনার সেই ব'খাটে বেয়া'রা ছেলেটা?আপনার পরে তো সেই বে'য়াদবটার দ্বারাই এটা সম্ভব!"

কোরিডোরের দিকে চোখ তুলে সাহিত্যের উদ্দেশ্যে চেচিয়ে উঠলেন ফাহাদ শেখ,

"এই ছেলে!নিচে এসো!বে'য়াদবির সীমানা পার করে ফেলেছো তুমি!আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলে শখ মিটেনি তোমার?যে এখন আমার মায়ের পেছনেও পড়েছো?"

ফাহাদ শেখ যখন উপরে নজর ফেলেন তখনই সব বাচ্চারা কোরিডোর থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে যায়।অন্ত সাহিত্যের দিকে নজর ফেলল।মহুয়া বেগমের ক্যা'ন্সারের বিষয়টা নাটক হতে পারে।কিন্তু সেটা কখনোই সাহিত্য করবে না।সেই বিশ্বাস আছে অন্তর।যার দরুন হয়তো সাহিত্যের প্রতিক্রিয়া দেখতেই ফাহাদ শেখের এমন কথা শুনে সাহিত্যকে হালকা ডেকে উঠল সে,

"ভাইয়া"

শান্ত স্বরে শুধালো সাহিত্য,

"চুপ থাক।এখন নিচে কিছুতেই যাওয়া যাবে না"

সাহিত্যের এমন শান্ত স্বর শুনে যেন স্বস্থির শ্বাস ফেলল অন্ত।দুই শেখ আহমেদ তো রেগেই আছেন।আবার সেখানে যদি সাহিত্য যুক্ত হয় তাহলে আজ আরেক দফা তুলকালাম বাধতে বাধ্য।সাহিত্যের আচরণে মনে শান্তি ঢুকলেও নিচের পরিস্থিতির চিন্তায় যেন পায়চারি করতে লাগল অন্ত।এই কয়মাসে যেন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল শেখ ভিলাটা।যেন আভাস দিচ্ছিল যে সবকিছু ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।কিন্তু সেই সুখ যেন শেখ ভিলার সহ্য পাইছিল না।

অন্তর কাছে নিচে চলা এমন পরিস্থিতি পরিচিত।কিন্তু কল্পনার ভালো করে বুঝ হওয়ার পর থেকে কখনোই এমন কিছুর দর্শন মেলেনি।যার দরুন ফাহাদ শেখের মুখে সাহিত্যের ব্যাপারে এমন কথা শুনে মুখে হাত চেপে দেয়ালে পিঠ ঠেকে দিয়েছে সে।তার কারণেই আজ এতো কিছু হচ্ছে।তার কারণেই তোফায়েল শেখ ও সাহিত্য এমন খারাপ কথা শুনছে তার বাবার মুখে।মুহিত সাহেব বারবার করে বলেছিলেন,যে এ কথা বাড়িতে জানাজানি হলে খুবই খারাপ অবস্থা হবে।কল্পনা কখনো চিন্তাও করেনি যে এতো খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে।

সাহিত্য পেছনে ঘুরে কল্পনার দিকে দেখলো।কল্পনার মনের অবস্থা খুব ভালো করেই বুঝলো সে।সাহিত্য তো ভালো করেই জানতো যে এমন কিছু না কিছু অবশ্যই হবে।আর হয়েও গেল।অনুর দিকে ঘুরে বলে উঠল সাহিত্য,

"তোর আপুকে নিয়ে রুমে যা"

সাহিত্য বলার পরপরই অনু কল্পনাকে নিয়ে কল্পনার রুমে ঢুকলো।তাদের পেছন-পেছন সামিয়াও চলে গেল।সেই বাচ্চা মেয়েটাও যেন ভয়ে আছে।

ফাহাদ শেখ আবার চেচিয়ে উঠলেন,

"শেখ বাড়ির মান-সম্মান তো সেকাল থেকেই এই বেয়াদব ছেলেটার জন্যই মাটিতে লুটিয়ে যায়।সেটার জন্য যে আমার হাতে এক চড় খেয়েছিল তাতেও শিক্ষা হয়নি?"

ফাহাদ শেখের সে কথায় উপরে সাহিত্য চোয়াল শক্ত করে চুপ থাকলেও নিচে তোফায়েল শেখ গর্জে উঠলেন,

"ফাহাদ!!!মুখ সামলে কথা বলো!আমার ছেলেকে নিয়ে তোমার মুখে আর একটা কথাও আমি শুনতে রাজি নই!"

"আপনি শুনতে রাজি না থাকলেও শুনতে হবে।নিজের ছেলের আসল দিকটা যেন মানতেই চান না!"

"আমার ছেলে বে'য়াদব না!সে যথেষ্ট আদব-কায়দা জানে।অন্তত তোমার থেকে তো ভালোই জানে"

"ও হো।এখন আমার সাথে তুলনা করা হচ্ছে?আমার সাথে তুলনা করার যোগ্যতাই নেই আপনার ছেলের।সে তো....."

"ফাহাদ চুপ কর!"

এতোক্ষণ পরে মহুয়া বেগমের ভারী গলা শুনা গেল।শাশুড়ীকে সামলাতে দৌড়ে গেলেন লতিফা শেখ।কিন্তু মহুয়া বেগম তাকে ধরতে দিলেন না।দরজার চৌকাঠে দাড়িয়েই উঁচু গলায় ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন তিনি,

"রাগ ছাড়া কখনো ঠান্ডা মাথায় কিছু ভেবে দেখেছিস তুই?বাড়িতে ঢুকে যাকে যেটা ইচ্ছা বলে যাচ্ছিস।আরে আমার কেন কারো সাহায্য লাগবে?আমার মাথায় কি মগজ নেই?তোদের মতো তো আর আমার মাথা ফাঁকা না।একটু হলেও বুদ্ধি আছে তাতে।হ্যাঁ, করেছি আমি নাটক!বলেছি সবাইকে মিথ্যা!তাতে কি এমন হয়ে গিয়েছে?ম'রেছে কি কেউ?ম'রেনি তো, না?শুধু আমার কলিজাটা একটু ঠান্ডা হয়েছে।সেটাতে আবার তোদের কিছু যায় আসে?তোরা তো আমার দিকে ঘুরেও দেখিস না।সেটার জন্য তো এমনিতেও মরবো আমি।তো সেটাই কাজে লাগিয়েছি।কিন্তু সেটার পেছনেও এখন তুই উঠে-পড়ে লেগেছিস?একটু শান্তি দে আমায়!এই বুড়ো বয়সে একটু নাতি-নাতনীদের মুখগুলো দেখতে দে আমায়!তোদের মুখ থেকে তো বি'ষ ছাড়া আর কিছুই ঝড়বে না।অন্তত আমার নাতি-নাতনীদের আমার থেকে আলাদা করিস না!আরে আমি আর বাচঁবোই কত দিন রে?!শেষ সময়ে এসেও এমন থাকবি তোরা?"

মহুয়া বেগমের কন্ঠ প্রথম দিকে দৃঢ় থাকলেও শেষের দিকে পুরো ভেঙে পড়লেন তিনি।কথা শেষ করেই হু-হু করে কেঁদে উঠলেন।আর এদিকে দাদির এমন কান্না ধীমি আওয়াজে কল্পনার কানে ঢুকায় মেয়েটা আবারো ডুকরে কাদঁতে লাগলো।দাদিটা তার কি কষ্টটাই না সহ্য করছে।যার একমাত্র কারণ কল্পনার পা'গলামি।কল্পনার অসচেতনতা।মেয়েটা যেন প্রতি মুহুর্তেই নিজেকে দোষারোপ করেই যাচ্ছে।অনু তো শত চেষ্টা করেও কল্পনাকে থামাতে পারছে না।সে তো বোনের কষ্ট একটু হলেও বুঝতে চায়।কিন্তু সেটা যেন সম্ভব নয়।কল্পনা যে অনুর থেকে অনেক কিছু সহ্য করেছে।অনেক কিছু দেখেছে।দাদি যে তার সব দুঃখের কথা কল্পনাকেই বলে থাকে।তাই দাদির সেই ভারী কষ্টগুলো যেন কল্পনা ছাড়া আর কেউ হয়তো বুঝতেই পারবে না।

মহুয়া বেগমের কান্না যেন ভাটা ফেলে দিল বাড়ির পরিবেশে।পুরো বাড়িতে যেন তার কান্নার আওয়াজই ভেসে বেড়াচ্ছে।আর এদিকে তো বাড়ির তিন গিন্নি শাশুড়ীর প্রথম দিকের কথা শুনতে নিয়েই লুকিয়ে কাদঁতে শুরু করেছেন।চোখে জল নেই শুধু দুই শেখ আহমেদের।রাগের মাথায় এখনো ফুসছে দুজনে।

ক্ষণিক সময় নিয়ে নিজেকে সংযত করলেন মহুয়া বেগম।অতঃপর শুভ্রা রঙা আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছে আবার কন্ঠ শক্ত করলেন।নজর দিলেন তার দুই বড় ছেলের উপর,

"এ বাড়ি থেকে যদি আর কেউ বের হয়ে যাওয়ার চিন্তাও করেছে, তাহলে সে যেন আমার মরা মুখ দেখার জন্যও তৈরি থাকে"

নিজের শেষ বার্তা দিয়ে ঘরে ঢুকে গেলেন মহুয়া বেগম।বাড়ির পরিবেশ একদম নিশ্চুপ থাকায় আসরের আজানটা আজ খুব ভালো করেই সবার কানে পৌঁছাচ্ছে।আর কোনো কথা হলো না শেখ ভিলার ভিতর।ফাহাদ শেখ হনহন করে নিজের রুমের দিকে চলে গেলেন।পরপরই তোফায়েল শেখও ফিরে গেলেন তার রুমে।বাকিরা ক্ষণিক সময় নিশ্চুপ থেকে তারাও নিজ নিজ ঘরে চেলে গেলেন।

এদিকে অন্ত আর সাহিত্য কোরিডোরেই দাঁড়িয়ে আছে।অন্তর যেন মনটা খুড়খুড়িয়ে উঠছে আসল ঘটনা জানতে।কিন্তু ভালো করে তো কিছু বুঝতে পারছে না।সাহিত্য তাকে আপাতত রুমে যেতে বলল।পরিবেশ ঠান্ডা হলে তখন সব ঠিকভাবে বুঝা যাবে।

অন্ত রুমে ঢুকতেই সাহিত্য কল্পনার রুমে ঢুকল।কল্পনা এখনো অঝোরে কেঁদেই যাচ্ছে।সাহিত্য ইশারায় অনু আর সামিয়েকে চলে যেতে বলল।তারা বেড়িয়ে গেলে রুমের দরজা কোনোরকম লাগিয়ে কল্পনার কাছে দৌড়ে এলো সাহিত্য।প্রেয়সীর মাথা জড়িয়ে ধরল সে।কিন্তু কল্পনা যেন সাহিত্যের উপস্থিতি ঠাহর করতে পেরেই ঠেলতে লাগলো সাহিত্যকে।অপ্রস্তুত থাকায় সাহিত্য যেন হালকা দূরেই সড়ে গেল।মাথা নিচু রেখেই ভাঙা গলায় বলতে লাগলো কল্পনা,

"দূরে থাকেন আমার থেকে!আমার কারণে কত কি শুনতে হচ্ছে আপনাকে।অকারণেই কত বাজে কথা শুনতে হচ্ছে আপনাকে বাবার কাছ থেকে।সব দোষ আমার!কিচ্ছুটা ঠিক মতো করতে পারি না আমি!দাদিকে আজকে নিচে একা ছেড়ে দিয়ে এখানে বসে ছিলাম!আমার ভুলের কারণেই কেমন করে কাদঁছিল দাদি।কিনা কি সহ্য করতে হচ্ছে তাকে।কোনো কাজ ঠিক মতো হয়না আমাকে দিয়ে!এ বাড়িতে যেন আমার জন্যই সবসময় ফাটল ধরে!আমারই এ বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিৎ!!"

কিচ্ছু বলল না সাহিত্য।চুপ করে থেকে শুধু অঝোরে কাদঁতে থাকা প্রেয়সীর বলা কথাগুলো শুনে গেল।তার প্রেয়সী যে আবার সব দোষ নিজের কাধে নিচ্ছে।মেয়েটা উপর থেকে যতই নিজেকে শক্ত দেখাক,ভেতরে তো এখনো নরমই আছে।সাহিত্যের তো মন চাইছে এখনই প্রেয়সীকে হালালভাবে নিজের নামে করে নিয়ে অদূরে চলে যাক।এই শেখ পরিবার থেকে অনেক দূরে।যেখানে তার প্রেয়সীকে কেউ জ্বালাতন করবে না।তার প্রেয়সী শুধু মন খুলে হেসেই যাবে।কিন্তু পারছে না সাহিত্য সে কাজ করতে।পারছে না প্রেয়সীকে নিজের করে নিতে।সেটার জন্য যেন বেশ রাগ উঠছে নিজের উপর।সাহিত্যের ভাবনার মাঝেই কল্পনা আবার ফুপিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখে বলে উঠল,

"কেন এতো আদর করেন আমাকে?কি দরকার ছিল এতো আদর করার?বাবা-বড় বাবার মতো আমাকে ঘৃণা করতে পারেন না?আপনার এই আদর যে নিতে পারি না আমি!!কষ্ট হয় আমার!!"

অজান্তেই নিজের মনের কষ্টের সুক্ষ্ম এক কথা বলে ফেলল কল্পনা।পরপরই আবার ভারী কান্নায় ভেঙে পড়ল।প্রেয়সীর এমন পা'গলামি কথায় হালকা ঠোঁট বাকালো সাহিত্য।অতঃপর প্রেয়সীর আদলখানা নিজের হাতের মাঝে বন্দি করল।কল্পনা ছাড়াতে চাইলো সেই হাত জোড়া।কিন্তু ব্যর্থ হলো প্রতিবারের মতোই।কল্পনার দিকে ঝুকে এলো সাহিত্য।ধীমি আওয়াজে বলতে লাগলো।কিন্তু স্পষ্ট বুঝা গেল সাহিত্যের গলার ভাঙনভাব,

"সবকিছুর উত্তর পাবি জানপাখি।শুধু আমাকে একটা সুযোগ পেতে দে।শুধু একটা সুযোগ।সবকিছু বুঝিয়ে বলব তোকে।তোর কোনো কিছুতেই দোষ নেই সেটাও প্রমাণ করে দেব।শুধু একটা সুযোগ পেতে দে আমাকে"

কথা শেষ করেই সাহিত্য উঠে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।হয়তো প্রেয়সীর থেকে নিজের চোখের জল লুকাতে চাইছে সে।প্রেয়সীর চোখে জল দেখে যে নিজের বুকে বড় কষ্ট হচ্ছে সাহিত্যের।হেচকি তুলতে নিয়েই দরজার দিকে দেখে থাকল কল্পনা।সাহিত্য ভাই কিসের সুযোগের কথা বলছিল?কেনই বা সে কোনো সুযোগ খুঁজছে?আর সেটা কল্পনাকেই কেন বলছে?তার মানে কি প্রীতির কথাই ঠিক?সাহিত্য কি কল্পনাকে.....

আর ভাবলো না কল্পনা।ভাবতে চাইলো না।নিজের ভাবনায় বাধা দিয়ে দিল।কারণ সেটা হলে যে ঝামেলা আরো এক ধাপ বেড়ে যাবে।কিন্তু এক প্রকার জোর করেই যেন নিজের মনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া সেই কথা ভাবনায় ফুটিয়ে তুলছে মেয়েটা।দুর্বল হয়ে পড়ল সে।নিজের মনের দিকে কি কল্পনা কখনোই দেখতে পারবে না?মনের কোনো এক অংশ বলছে তেমন কিছু হলে সব আবারো শেষ হয়ে যাবে।কিন্তু মনের সেই সুক্ষ্ম এক অংশ যে চিৎকার করে কল্পনাকে বলছে,

'কিন্তু সেটা কেন হবে না!সেটা হলে কি এমন পাপ হয়ে যেত?'

#চলবে

🌺🌺আজকে না মা দিবস আর না প্রবীণ নাগরিক দিবস। কিন্তু আজকের এই পর্বটা আমি মহুয়া বেগমকে উৎসর্গ করছি। সেই সকল মহুয়া বেগমদের,যাদের জীবনটাও হয়তো এমনই যাচ্ছে বা গিয়েছে।শেষ বয়সে এসে সন্তানদের যত্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।হয়তো তাদেরকে আমি চিনি না।কিন্তু তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে এক নাতনি হিসেবে আমি একটা ক্ষুদ্র কথা বলতে চাই।

"দাদিমা,আপনার জন্য অসংখ্য ভালোবাসা রইল আমার তরফ থেকে❤️‍🩹❤️‍🩹"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন