#পর্ব_৪১
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
শহরের এমন ব্যস্ত জীবনে যেন ফুরসতের কোনো সময়ই মেলে না।তারপরেও যেন এই ব্যস্ততার মাঝে শরীরের কসরত বিলাসিতা মাত্র।দিন শেষে এতো পরিশ্রমের পর যেন শরীরের আর কুলিয়ে উঠে না নিজের অতিরিক্ত চর্চা করতে।কিন্তু কিছু সচেতন ব্যক্তি যেন ছুটির দিনটাকেই সেই কাজের জন্য বরাদ্দ করে রাখে।এতে ছুটির আলসামি ঘুমটা না হলেও শরীর যেন বেশ তরতাজা হয়ে উঠে।যেমনটা সাহিত্যের ক্ষেত্রে হয়েছে।
গতরাতে অফিসের এতো-এতো কাজ করে তিনটার দিকে বিছানায় শরীর ছেড়ে দিয়েছিল।আর এখন সকাল সাড়ে দশটায় জিমের মধ্যে প্রায় পনেরো মিনিট যাবত ট্রেড মিলে দৌড়ে যাচ্ছে।শরীরের ঘাম একটু বেশি ঝড়ায় ক্ষণিক আগেই তো পড়নের ট্যাংক গেঞ্জিখানা খুলে ফেলল।সেটাতে সাহিত্যের শরীর একটু ঠান্ডা অনুভব করলেও সাহিত্যের আশেপাশে উপস্থিত প্রায় মেয়েদের যেন হঠাৎই গরম লাগতে শুরু করেছে।তাদের নজর যেন ট্রেড মিলে দৌড়াতে থাকা সেই সুদর্শন পুরুষের দিকেই আটকে আছে।
ফর্সা ত্বকটায় ঘাড়ের চুলগুলোর গোড়া দিয়ে ঘামের কণা নির্দিধায় গড়িয়ে পড়তে ব্যস্ত।পুরুষালী শরীরটার পেশিগুলো যেন সৌন্দর্য বহন করে যায়গায়-যায়গায় ভাজ তৈরি করে রেখেছে।ঘামের কণারা যেন সেই ভাজ অতিক্রম করে যেতে ক্ষণে-ক্ষণে আঁকাবাকা চলতে বাধ্য।বাইসেপ্স সহ পিঠখানাও যে বেশ সুদর্শন এই পুরুষের।পেছনটাও তো সামনের মতোই শক্তপোক্ত টানটান পেশি দিয়ে গঠিত।পড়নের ধুসর রঙা ট্রাউজারটার কোমড়ের কাছে বেশ খানিকটা ভেজা।গড়িয়ে পড়া ঘামের কণারা হয়তো সেথায় এসেই ঠেকেছে।
এবার ট্রেড মিলের বাটন টিপে সেটার পাওয়ারটা বেশ খানিকটা কমিয়ে দিল সাহিত্য।এখন হয়তো একটু ধীর-স্থিরভাবেই চলবে সেটাতে।পায়ের গতি কমাতে নিয়েই মাথাটা সামনের দিকে নিচু করে দুই হাত দিয়ে ট্রেড মিলের দুই হাতল আকড়ে ধরল সে।ভারী শ্বাস তো বেশ কিছুক্ষণ থেকেই চলছে তার।চুলের গোড়ায় জমে থাকা ঘামের কণাগুলো হয়তো বেশ জ্বালা করছে সাহিত্যকে।তাই তো এক হাত চুলের গোড়ায় ঢুকিয়ে দিয়ে ব্যস্তভাবেই নাড়তে লাগলো সেগুলোকে।সাহিত্যের সেই উস্কোখুস্কো চুলের দৃশ্যে যেন সাহিত্যের পাশে ওয়েট লিফট করতে থাকা দুই মেয়ে অকারণেই ডাম্বেলটার বারি খেল।দুই বান্ধুবীর হাতের ডাম্বেল যেন আপনাআপনিই ঢিলা হয়ে এসেছে সাহিত্যের দর্শনে।
সাহিত্যের কানে গুজে রাখা ইয়ারপডসগুলোতে এবার গানের বদলে রিংটোন বেজে উঠতে শোনা গেল।ফোনের দিকে নজর না দিয়েই রিসিভ করল সে,
"হ্যালো?"
ওপাশ থেকে ভেসে এলো রাজের কন্ঠ,
"স্যার,আপনি কি ব্যস্ত?গত কালকের করা প্রজেক্টটা নিয়ে কিছু জরুরী কথা ছিল।অফিস তো আজ বন্ধ।আপনার বাসায় দেখা করা যাবে কি?"
রাজ এর আগেও বেশ কয়বার শেখ ভিলায় এসেছিল।অফিসের কাজের সুবাদেই আসা।কিন্তু বর্তমানে শেখ ভিলার অবস্থা তেমন ভালো না।মহুয়া বেগমের ক্যা'ন্সারের ব্যাপারটা জানার আজ দশদিন হতে চলল।তারপরেও বাড়িতে যেন প্রায়-প্রায়ই ফাহাদ শেখ ও তোফায়েল শেখের উঁচু গলা শুনা যায়।তোফায়েল শেখ তো চেয়েছিলেন আবার ফ্লাট বাসায় চলে যাবেন।কিন্তু মহুয়া বেগমের সেদিনের কথা যেন একটু হলেও মনে দাগ ফেলেছে তোফায়েল শেখের।তাই তো ফিরে যাননি।তার সাথে যেন এখন পর্যন্ত ফাহাদ শেখের রাগটাও দমেনি।সব সময়ই জ্বালামুখীর ন্যায় হয়ে থাকেন তিনি।তাই তো তোফায়েল শেখের সাথে প্রায় তর্ক হয়ে থাকে।এসময় রাজকে বাসায় যেতে বলা ঠিক হবে না।বাড়ির খবর বাইরে না বের হতে দেওয়াই ভালো।যার দরুন বলে উঠল সাহিত্য,
"রাজ,আমি এখন জিমে আছি।বেশ কিছুক্ষণ থাকবো।তুমি কি এখানে আসতে পারবা?"
সময় নিয়ে উত্তর দিল রাজ,
"হ্যাঁ স্যার, সমস্যা নেই।আপনি জিমের লোকেশনটা পাঠিয়ে দিন"
রাজ বেশ খানিক সময় পর জিমে ঢুকলো।দেখা মিলল সাহিত্যের।যে কিনা বসে এক হাতে ডাম্বেল ওঠা-নামা করছে।রাজ কাছে এসে সালাম দিতেই সাহিত্য তাকে পাশে বসতে বলল।পরপরই যেন সাহিত্যের শরীরের কসরতের সাথে মাথার কসরতও চলতে লাগলো।
এর মাঝেই নিজের হাতে ডাম্বেলের পেদানি খাওয়া দুই মেয়ের মধ্যে একজন এসে সাহিত্যের সামনে দাড়ালো।ব্যস্ত রাজ ও সাহিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই হালকা কেশে উঠল মেয়েটা।কিন্তু সেই সুক্ষ্ম শব্দের কাশি যেন দুই পুরুষের কারোরই কানে গেল না।নারীজাতিকে উপেক্ষা করে তারা নিজেদের কোটি টাকার হিসাব করতে ব্যস্ত।বেশ বোকা বনে গেল মেয়েটি।আবার চেষ্টা চালালো,
"হ্যালো হ্যান্ডসাম"
পাশ থেকে হঠাৎ এমন কথা শুনায় থমকালো দুই পুরুষই।ভ্রু কুচকে পাশে নজর ঘুরালো।মেয়েটা এখনো সাহিত্যের দিকে দেখে আছে।সাহিত্য তার পাশে দেখায় হালকা মোচড়া-মুচড়ি শুরু করেছে ইতোমধ্যে।রাজ সাহিত্যের পাশে দেখে আবার সেই মেয়ের দিকে দেখল,
"বাসায় কি বাপ ভাই নেই নাকি?"
রাজের এমন কথায় বেশ ভড়কালো মেয়েটা।কিন্তু নিজেকে সংযত করে মুখে হাসি নিয়ে আবার মোচড়া-মুচড়ি করতে লাগল,
"বাপ ভাই আছে।কিন্তু বাপের জন্য জামাই আর ভাইয়ের জন্য দুলাভাই নেই"
সে কথায় রাজের ভ্রু জোড়া আরো কুচকে গেলেও সাহিত্য মুখ লুকিয়ে হাসলো।অতঃপর হাসি থামিয়ে মাথা তুলে স্বাভাবিকভাবেই শুধালো,
"সরি।আম অলরেডি টেকেন"
চমকালো সেই মেয়ে।পরপরই রাজের দিকে ঘুরল।এই মেয়ে কি এখন রাজকেও তার বাপের জামাই আর ভাইয়ের দুলাভাই বানানোর চেষ্টা করবে নাকি?সেই সুযোগ দিল না রাজ।মেয়েটা কিছু বলার আগেই কুচকানো নাক-মুখ নিয়েই বলে উঠল,
"সরি।আম নট ইন্টারেস্টেড"
চোখের বাত্বি ফুস করেই নিভে গেল মেয়েটার।দুই সুদর্শন পুরুষের মধ্যে কারো কাছেই পাত্তা না পেয়ে মনমরা মুখ নিয়েই চলে গেল মেয়েটা।মেয়েটা চলে যেতেই সাহিত্য আবার ঠোঁট টিপে হেসে উঠল।অতঃপর রাজের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
"বাংলাদেশি মেয়েরা তো দেখছি কানাডার মেয়েদের থেকেও বেশি লু'চ্চা"
রাজ হাতের কাগজে নজর দিতে নিয়েই বলল,
"এটা তো কিছুই না।আরো কত কিছুর দেখা মেলে"
"তোমাকে কি এগুলো ডেইলি ফেস করতে হয়?"
হালকা ভড়কালো রাজ।ছেলেটা যে আসলেই বেশ কয়বার এগুলোর সম্মুখীন হয়েছে।সাহিত্যের মতো অতো সুদর্শন না হলেও শ্যাম বর্ণের রাজ চোখে পড়ার মতো।চোখের চিকন ফ্রেমের চশমা ঠিক করতে নিয়ে বলল সে,
"ডেইলি না।মাঝে মাঝে"
আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল সাহিত্য,
"কেমন-কেমন মেয়ে পেছনে পড়েছিল তোমার?"
এবার সাহিত্যের দিকে নজর ফেলল রাজ,
"স্যার আপনি কিন্তু টপিক চেঞ্জ করছেন।আমার মিটিং এর টপিকে কথা বলছিলাম"
হাল ছেড়ে দিল সাহিত্য।অফিসের বাইরে যেন ছেলেটা কথাই বলতে চায় না।তবে রাজ কাজে এতো মনোযোগ দেয় দেখেই তো সাহিত্যকে সবসময় অফিসে থাকতে হয়না।বাসায় বসে তার জানপাখিটাকে একটু শান্তি মতো দেখতে পারে।
রাজ যে সমস্যা নিয়ে এসেছিল সেটা ঠিক হতে বেশি সময় লাগলো না।প্রজেক্টের ব্যাপারে সব ঠিক-ঠাক হওয়ার পর সাহিত্য আরো কিছু কথা তুলল,
"কানাডায় যে এক ক্লায়েন্টের সাথে মিটিং ছিল,সেটা কি ভিকি করেছে?"
রাজ ঘাড় চুলকাতে নিয়ে আমতা-আমতা করতে লাগলো,
"আসলে স্যার...ভিকি স্যার ওটা পোস্ট পন্ড করে রেখেছে"
সাহিত্য হাতের কাগজগুলো দেখছিল।রাজের কথা শুনে হাত জোড়া থামার সাথে চোয়ালটাও শক্ত হয়ে এলো।রাজের দিকে ভারী নজর দিল সে,
"কেন?"
এতোক্ষণে হাসফাস লাগতে শুরু করেছে রাজকে।আসল কারণ জানা থাকলে রাজ শান্ত থেকেই সাহিত্যের উত্তর দিত।কিন্তু ভিকি যে তাকে উপযুক্ত কোনো কারণই বলেনি।তাই তো ছেলেটা মিনমিনিয়ে শুধালো,
"জানি না"
মেজাজটা এবার বেশ চড়াও হলো সাহিত্যের।ক্লায়েন্টকে এমন অপেক্ষা করিয়ে রাখা কোম্পানির জন্য তেমন ভালো না।এই ভিকি যে কি করছে কে জানে?সাহিত্য যদি এখন কল করে তাহলে নির্ঘাত কল ধরবে না।তাই সাহিত্য রাজকে কল লাগাতে বলল,
"ভিকিকে কল লাগাও"
দেরি করল না রাজ।তার স্যারের কথার পরপরই পকেট থেকে ফোন বের করে ভিকির নাম্বার ডায়াল করে সাহিত্যের দিকে এগিয়ে দিল।
ভিকির কন্ঠে মিষ্টান্ন মিশ্রিত ছিল,
"হ্যাঁ রাজ,বলো কি হয়েছে?"
"শা'লা তুই মিটিং পোস্ট পন্ড করে রেখেছিস কেন?"
ভিকির ভ্রু জোড়া ভালোভাবেই কুচকালো।পর মুহুর্তেই সাহিত্যের কন্ঠ চিনতে পেরে ধড়ফড়িয়ে উঠল সে,
"অহি তুই?রাজের ফোন তোর কাছে কি করে?ছেলেটাকে জ্যাতা রেখেছিস?নাকি উপরে পাঠিয়ে দিয়েছিস?"
দাঁত চিবিয়ে বলল সাহিত্য,
"রাজের কথা শুনিয়ে টপিক চেঞ্জ করবি না একদম।আগে বল মিটিং কেন পোস্ট পন্ড করে রেখেছিস?"
ভারী শ্বাস ফেলে মিনমিনিয়ে শুধালো ভিকি,
"তোর বোনের জন্য"
"নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমার বোনকে মাঝখানে টানবি না একদম!"
সাহিত্যের গর্জনে চুপসে গেল ভিকি।কিন্তু পর মুহুর্তেই গলায় জোর দিয়ে বলল,
"তোর অফিস সামলাতে-সামলাতে তোর বোনের সাথে গত এক মাস থেকে আমি দেখা করতে পারিনি।তোর মতো তোর বোনও রাগে ফায়ার হয়ে আছে।রিসেন্টলি সে আমাকে একটা ফিক্সড ডেট দিয়েছে।আর ওটা মিটিং এর দিনেই ফিক্সড করেছে আমার শশুরের মেয়েটা।আমি যদি না যাই তাহলে এশা আমাকে কোরবানি করবে"
এবার সাহিত্যকে একটু শিথিল হতে দেখা গেল,
"তো ওকে বলা যেত না,যে মিটিং আছে?"
কাদোঁ-কাদোঁ গলায় বলল ভিকি,
"গত সব ডেটগুলোতো সেটা বলেই মিস দেওয়া হয়েছে"
ভারী শোনালো সাহিত্যের কন্ঠ,
"মিটিংটা কত ইম্পরটেন্ট সেটা তোর জানা আছে ভালো করে"
মাথায় হাত চেপে বসলো ভিকি।একদিকে বোন টানে তো আরেকদিকে ভাই।এই দুই ভাই-বোনের জ্বালায় ভিকির পা'গল হতে মনে হয় আর বেশি দেরি নেই।দেখা যাবে বাসর ঘরে বসে বউয়ের সাথে প্রেম-পিরিতির আলাপ না করে সাহিত্যের সাথে অফিসের মিটিংয়ের আলাপ করছে।অতিষ্ঠ হয়ে বলে উঠল ভিকি,
"এ ভাই,তুই কল্পনাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করতো।নাহলে আমার বাসর ঘরেও তুই ঢুকে যাবি,আমার তাতে কোনো সন্দেহ নেই"
তেতে উঠল সাহিত্য,
"বেশি বকিস না!এমনিতে মেঝো চাচু যে গরম হয়ে আছে তাতে তিন জনম হলেও মনে হয় কল্পনার সাথে আমার বিয়ে হবে না"
সাহিত্যের হুংকারে আতঁকে উঠল ভিকি,
"বাদ দে ভাই ওই টপিক।আমার বিয়ে খেয়েই তুই বিয়ে করিস।তত দিন চোখের দেখায়ই কলিজা ঠান্ডা কর তুই"
গম্ভীর কন্ঠ সাহিত্যের,
"ক্লায়েন্ট এর কাছ থেকে যদি কোনো কমপ্লেইন আসে তাহলে এশা না,আমি তোকে কোরবানি করব"
"ঠিকাছে-ঠিকাছে।আসবে না কোনো কমপ্লেইন.....আর এমন রাজের ফোন থেকে কল দিস না তো!কল ধরে হুট করে কলিজা শুকিয়ে গিয়েছে আমার!!"
ভিকির শেষের কথায় মেকি হেসে উঠল সাহিত্য।অতঃপর শান্ত স্বরেই বলল,
"ক্লায়েন্টের সাথে আমার বোনের কাছ থেকেও যেন কোনো কমপ্লেইন না পাই"
অসহায়ের সুরে শুধালো ভিকি,
"তোর বোন তোকে কমপ্লেইন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না।সরাসরিই ঝাপিয়ে পড়ে আমার উপর"
ভিকির এমন ব্যথিত কন্ঠ শুনে হেসে উঠল সাহিত্য।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
জিম থেকে বাসায় ফিরেছে সাহিত্য।ভেজা ট্যাংক গেঞ্জিটা তার শরীরেই জড়িয়ে আছে।সেটা যেন বেশ খিত-খিতেই লাগছে।তাই তো জোর পায়েই সিড়িতে উঠছে যেন তাড়াতাড়ি গোসলটা সাড়তে পারে।কিন্তু রুমে ঢুকার আগেই এক ঘুম প্রিয় ব্যক্তির দর্শন পেল সে।কল্পনা রুমের দরজা খুলে গা চাড়া-চাড়ি করছে।চোখ-মুখ আর চুলেই অবস্থা দেখেই বুঝা যাচ্ছে কেবলই ঘুম থেকে উঠল।মেয়েটা যে বরাবরই সাহিত্যের বিপরীত।সাহিত্য এতো গোছালো রুটিনে চলে,অথচ এদিকে কল্পনা রুটিন গোছাতে গিয়েই উষ্ঠা খেয়ে পড়ে।কল্পনা চোখ খুলতেই সাহিত্য তার চোখে এলো।হামি তুলতে নিয়েই বলতে লাগলো সে,
"ছিইইইই,এমন ঘামে ভিজে বাসায় ঘুরছেন কেন?বাসায় দুর্গন্ধ উঠবে তো।যান!ফ্রেস হয়ে নিন"
কল্পনার সে কথায় বেশ চটে গেল সাহিত্য।কল্পনা নিজের কথা শেষ করে মাথা চুলকাতে লাগলো।আর এদিকে সাহিত্য একদম তার মুখ বরাবর এসে দাড়ালো।সেটাতে বেশ ভড়কালো কল্পনা।তবে কল্পনা আরেক ধাপ বেশি আতঁকে উঠল যখন সাহিত্য তার শরীরের গেঞ্জিখানা কল্পনার সামনে নির্দিধায় খুলে ফেলল।কল্পনা কাপতে থাকা জিহ্বা নিয়ে কিছু বলার আগেই সাহিত্য তার হাতের পানির বোতলটা নিজের মাথায় উপুর করে ধরল।ঘামার্ত সিক্স প্যাক যুক্ত পেটানো শরীরটা যেন আবারো ভিজে উঠল সেই গড়তে থাকা পানিতে।সেই দৃশ্যে যেন কল্পনার চোখ কোটর ফাটিয়ে বেড়িয়ে আসতে চাইছে।সাহিত্যের উন্মুক্ত বক্ষদেশ যে সম্পুর্ণ কল্পনার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে!
সাহিত্যের পর্যাপ্ত পানি মাথায় ঢালা হয়ে গেলে এবার ভেজা মাথাটা জোরে-জোরে ঝাকি দিল সে।যার দরুন পানির ভারী ছিটা কণা বিনা বাধায় কল্পনার চোখেমুখে এসে পড়ল।সেটাতে চোখ পিটপিট করতে লাগল কল্পনা।এর মাঝেই সাহিত্য ঝুকে এলো কল্পনার মুখ বরাবর।অতঃপর মাথা বাম দিকে কাত করে বলে উঠল,
"হয়ে গিয়েছি ফ্রেস"
সাহিত্যের এমন কান্ডে কল্পনা এখনো হতবম্ব।লাল কপোলের অধিকারীর যে দুরুদুরু বুক কাপছে।দুপুর-দুপুর ঘুম থেকে উঠে ঘুমের রেশটা এভাবে না কাটালেও চলতো।ঘুম কাটানোর এ যে এক মারাত্মক-ধ্বংসাত্মক উপায়!ঘুম ভাঙতেই যেন মৃ'ত্যু নিশ্চিত।কারণ সাহিত্যের কপালের সামনে নেতিয়ে পড়া চুলগুলো থেকে পানি কণা যে এখনো গড়াতে ব্যস্ত।কাধের কাছ থেকেও যে মোটা পানির ফোটা গড়িয়ে পড়ছে।আর একটু নিচে দেখতে গিয়েও থেমে গেল কল্পনা।সেদিকে নজর দিয়েছে তো নির্ঘাত হারামের কাজে পা দিয়েছে সে।
কিন্তু এদিকে সাহিত্য যেন তার ললনার লাল আভায় ভরাট আদলখানাতে নজর রেখেই আছে।উষ্ণ গাল দুটো যেন সাহিত্যের কাছে আকুতি করছে একটু ছুঁয়ে দেওয়ার জন্য।খুব করে মন চাইছে চাপ দাড়ি যুক্ত ভেজা গালটা তার ললনার নরম গালে ঘষে দিক।সেটাতে হয়তো সাহিত্য আরো একটু বেসামাল হয়ে উঠবে।ললনার গাল দুটোতে সাহিত্যের শুধু গালটাই নয়,বরং ওষ্ঠদয়ও তাদের রাজত্ব চালাতে চাইবে।আর সে কাজ যদি সাহিত্যের দ্বারাই হয়ে থাকে তাহলে তো ওষ্ঠরা কখনোই তার ললনার শুধু নরম গালে সীমাবদ্ধ থাকবে না।আর সাহিত্যের সেই ছোয়ায় বর্তমানে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা তার প্রেয়সী যে কেপে উঠতে বাধ্য হবে।হয়তো সাহিত্যের পাগলামিতে তার ললনাও নিজের মনের কথাটা বাধা ছাড়াই বলে দিত।কিন্তু সাহিত্য যে এখন তার প্রেয়সীকে ছুয়ে দিতে পারবে না।তার এই প্রেয়সী যে এখনো সম্পুর্ণ রূপে তার হয়নি।আরো কিছু সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে সাহিত্যের সেই সব বাধহীন অনুভূতিদের।শক্ত করে বেধে রাখতে হবে।কিন্তু একবার সুযোগ পেলেই যে পা'গলের ন্যায় সাহিত্যের অনুভূতিরা তার ললনার কাছে ছুটে আসবে।তখন হয়তো সেসব অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ সামলাতে ভালোই হিমসিম খেতে হবে সাহিত্যের এই আদুরে ললনাকে।আর সেটা এই মুহুর্তে ভেবেই যেন উষ্ণ ভারী শ্বাস ফেলতে লাগলো সাহিত্য।চোখ জোড়া আধো বন্ধ হয়ে এলো তার।ভারী নেশালো কন্ঠে শুধালো,
"জানপাখি........অঘটন কিছু ঘটলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদিস না,প্লিজ"
সাহিত্যের এহেন কথায় কল্পনার চোখ জোড়া এবার রসগোল্লার মতোই বড়-বড় হয়ে গেল।আতঙ্কের সুরে চেচিয়ে উঠলো মেয়েটা,
"আবার কি করলাম আমি?"
প্রেয়সীর সদ্য ঘুম থেকে ওঠার সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করে নিজের রুমের দিকে এগুলো সাহিত্য।সাথে ধীমি আওয়াজে শুধালো,
"অনেককিছু.....আর আমিও অনেককিছুই করব"
কল্পনার হা হয়ে থাকা মুখটা না দেখেই সাহিত্য রুমের দরজা লাগিয়ে দিল।সাহিত্য যে নিজের অনুভূতিদের কথা বলছে সেটা যেন কল্পনার মাথাতেই এলো না।সে তো তার সাহিত্য ভাইয়ের রগচটা দিকটার কথা ভেবে যাচ্ছে।সেই অনেককিছুর মাঝে যে চড় দেওয়া থেকে শুরু করে গলা কেটে মাটিতে পুতে রাখার মতো কাজ থাকতে পারে সেটাই ভেবে যাচ্ছে কল্পনা।কিন্তু সেই অনেককিছুর মাঝে যে অন্যকিছুই বিদ্যমান সেটা যে কল্পনার চিন্তারও বাইরে।
সাহিত্যের রুমের বন্ধ দরজার দিকে নজর রেখেই চোখেমুখে পরা পানি ডলতে নিয়েই বিড়বিড় করে উঠল কল্পনা,
"পাগল লোক একটা!"
#চলবে
🚫জরুরী কথা-
যেহেতু রমজান মাস আসছে তাই এখন থেকে গল্পের পরের পর্বগুলো ২দিন পরপর দেওয়া হবে।শরীরে এনার্জি না থাকলে লিখতে ইচ্ছা করে না🙃।যদি আমার অতিরিক্ত সমস্যা থাকে তাহলে ৩দিন পর।কিন্তু ২দিন পরপরই দেওয়ার চেষ্টা করে থাকবো। আর গল্প দেওয়ার টাইম হবে রাত ১০-১১ টার মধ্যে।এ বিষয়ে কারো কোনো কথা থাকলে কমেন্ট বক্সে বলতে পারেন।