#পর্ব_৪২
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
বেশ কিছু মাস থেকেই সাহিত্যের রাগের দেখা মেলেনি।তাই তো অফিসের সবাই যেন হেলাফেলায় চলছিল।অয়নের সাথে এবার রবিও যেন শরীর ছেড়ে দিয়েছিল।যার ফল স্বরূপ এখন যে কান দুটোর বারোটা বাজছে তাদের।
সাহিত্যের হুংকারে রবি তো চেয়ারে নেতিয়ে পড়েছে।আর ওদিকে সাহিত্যের ডানদিকে বসে থাকা অয়ন হাতের ফাইলটা দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিলটায় মাথা এলিয়ে রেখেছে।আর মিটিং রুমের বাকি যে সদস্যরা,তারা তো বাধ্য হয়েই সটান বসে আছে।মিটিং রুমের দেয়ালটা কাচের হওয়ায় ভেতরের গরম পরিবেশের শব্দ বাইরে না এলেও গরম দৃশ্য যেন ভালো করেই চোখে পড়ছে বাইরের স্টাফদের।তাই তো নিজেদের কাজের ফাঁকে সেদিকেও নজর দিয়ে রেখেছে তারা।আর এই সবকিছুর দোষ অয়ন বর্তমানে রাজের উপর দিতে লাগলো।যে এই মুহুর্তে সাহিত্যের চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ফাইলে খুবই সুক্ষ্মভাবে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে।রাজই তো কিছুক্ষণ আগে সাহিত্যের কানে প্রজেক্টের হেলাফেলার কথা পৌঁছিয়ে এই মিটিংয়ের ব্যাবস্থা করল।
সাহিত্য এবার প্রজেক্টের লিডার তামিম সাহেবের দিকে দেখে হুংকার দিয়ে উঠল,
"মিস্টার তামিম!!"
হাতে-পায়ে চমকে উঠলেন তামিম সাহেব,
"জ্বী স্যার! "
আবার একই কন্ঠে শুধালো সাহিত্য,
"প্রজেক্টের দায়িত্ব না আপনার হাতে ছিল?তো এখনো এই অবস্থা কেন প্রজেক্টের?"
আমতা-আমতা করতে লাগলেন তামিম সাহেব,
"আসলে....স্যার...বিষয়টা হলো....F.S. কোম্পানি আমাদের সেই ক্লায়েন্টকে আমাদের থেকেও ভালো অফার দিয়েছে।তাই ওই ক্লায়েন্ট আমাদের সাথে আর ডিল করেনি।আর আমাদের কাছে আরো অনেক ক্লায়েন্ট থাকার কারণে আমরা আর সেই ক্লায়েন্টকে জোরও করিনি"
তামিম সাহেবের কথা শুনে যেন এবার রাজের টনক নড়ল।F.S. কোম্পানির নামটা এখনো তার কানে বাজছে।চোখ বড়-বড় করে রবি আর অয়নের দিকে দেখল সে।দুজনই আড় চোখে রাজের দিকে দেখে নিরবে কটমট করে যাচ্ছে।এবার রাজ বুঝছে যে অয়ন আর রবি কেন এই প্রজেক্ট নিয়ে কোনো কথা বলছিল না।কারণ F.S. কোম্পানি যে ফাহাদ শেখের!আর এই বিষয় সাহিত্যের কানে গেলে যে কি অবস্থা হবে সেটা চিন্তা-ভাবনারও অনেক বাইরে!হাতের ফাইলটা বন্ধ করে তাতে জোরে মাথা ঠেকিয়ে দিল রাজ।রাজ যে একটু বেশিই সময় নিয়ে নিয়েছে বিষয়টা বুঝতে।এখন যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে!
তামিম সাহেবের কথা শুনে সাহিত্যের গরম র'ক্ত আরো টগবগ করে উঠল।টেবিলে হাতের থাবা মেরে হুংকার দিয়ে উঠল সে,
"এক ছোট কোম্পানি আমাদের চোখের সামনে দিয়ে আমাদের ক্লায়েন্ট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, আর আপনারা স্বইচ্ছায় যেতেও দিচ্ছেন?বাহ্!খুব ভালো!যাকে টক্কর দেওয়ার জন্য এতো কিছু করছি,আমার লোকরা তো তার জন্যই কাজ করছে!!"
তামিম সাহেব আবার আমতা-আমতা করতে লাগলেন,
"না না স্যার..... বিষয়টা একদমই তেমন না...."
"তো কেমন বিষয়!!"
মাথা নিচু করে ফেললেন তামিম সাহেব।আবার চেচিয়ে উঠলো সাহিত্য,
"আই ওয়ান্ট দ্যাট ক্লায়েন্ট ব্যাক!!"
হঠাৎই সাহিত্যের ফোন বেজে উঠল।ফোনের পাশে না দেখেই রিসিভ করে সেটা কানে চেপে ধরে হুংকার দিল সাহিত্য,
"হোয়াট!!!!!"
পর মুহুর্তেই ফোনের ওপাশ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এলো না।কিন্তু ক্ষণিক বাদেই কল্পনা মিনমিনিয়ে শুধালো,
"সাহিত্য ভাই?"
হতবম্ব হয়ে গেল সাহিত্য।ফোনটা মুখের সামনে আনতেই দেখা মিলল স্ক্রিনের উপরের দিকের নামটা। সেখানটায় ইংরেজিতে 'নাইটমেয়ার' লিখা।আর তার পাশেই পাপড়ি ঝড়তে থাকা দুটো গোলাপ ফুলের ইমোজি।
( Nightmare 🥀🥀 )
ফোনটা কান থেকে দূরে থাকা অবস্থায়ই সাহিত্য আবার কল্পনার ধীমি আওয়াজ শুনতে পেল।
"আপনি মনে হয় ব্যস্ত আছেন। আমি পরে কল দিচ্ছি"
সাথে-সাথেই আবার ফোনটা কানে চেপে ধরল সাহিত্য,
"আরে না না!আমি ফ্রি আছি।ওই....একটু.....গলা পরিষ্কার করছিলাম"
হঠাৎই সাহিত্যের মুখে সুক্ষ্ম হাসি দেখে সবাই যেন টাস্কি খেয়ে গেল।কে বলবে এই ছেলেটা এতক্ষণ ধরে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দিচ্ছিল?কিন্তু এদিকে যেন সাহিত্যই শুধু বুঝছে যে রাগটা দমিয়ে রাখা তার জন্য বর্তমানে কতটা কষ্টকর মনে হচ্ছে।শরীরের ভাড় চেয়ারে ছেড়ে দিয়ে পেছনে মাথা এলিয়ে দিল সাহিত্য।বাম হাতখানা দিয়ে চুলগুলো খিচে ব্যাক ব্রাশ করে পেছনে নিয়ে গেল।মুখে হাসি নিয়েই কল্পনার উদ্দেশ্যে আবার বলে উঠল,
"কোনো দরকার ছিল জানপাখি?হঠাৎ কল করলি যে?"
সাহিত্যের এবারের স্বাভাবিক কন্ঠে একটু সাহস পেল কল্পনা।কিন্তু তারপরেও যেন শান্ত স্বরে শুধালো,
"আসলে....আমি রুম ডেকোরেশনের জন্য কিছু হ্যান্ডমেড ফ্লাওয়ার অর্ডার করেছিলাম।কিন্তু ভুলে তারা ভুল এড্রেসে পাঠিয়ে দিয়েছে।আপনার অফিসের পাশেই জায়গাটা.....আপনি কি......একটু.....নিয়ে আসতে পারবেন?"
"এড্রেসটা পাঠিয়ে রাখিস।আমি বাসায় ফেরার সময় নিয়ে যাবো.....নাকি এখনই লাগবে?"
সাহিত্যের কথায় মুখে হাসি ফুটল কল্পনার।সাহিত্যের শেষের কথার উত্তরে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল সে,
"না না!এখন লাগবে না।আপনি বাসায় আসার সময় নিয়ে এলেই হবে"
"আচ্ছা....আর কিছু লাগবে?কোনো সমস্যা?"
"না,কিছু না।সব ঠিক আছে"
সাহিত্যের পরপর দুটো প্রশ্নে কল্পনাও পরপর উত্তর দিল।এবার সাহিত্য তার কথায় একটু জোর দিল।কিন্তু কোমলভাবটা যেন বজায় থাকলো তার কন্ঠে,
"পাখি,আমি একটা মিটিং-এ আছি তো,পরে কথা বলি?"
পরপরই উত্তর দিল কল্পনা,
"আচ্ছা,রাখি,আল্লাহ হাফেজ"
সাহিত্য কল কেটে ফোনটা টেবিলে রাখলো। নাইটমেয়ার নামটা এখনো চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে।সেটার পাশে চোখ রেখেই আবার হালকা ঠোঁট বাকালো সাহিত্য।
সাহিত্যের হঠাৎ এমন পরিবর্তন শুধু মিটিং রুমে বসে থাকা স্টাফদের নয়,বরং মিটিং রুমের বাইরের স্টাফদেরও অবাক করে দিয়েছে।সাহিত্য মনে হয় স্টাফদের সামনে এই প্রথম রাগ উঠার পর এতো তাড়াতাড়ি মুখ থেকে হাসি বের করেছে।সাধারণত তো ঘন্টা চারেকের মতো আগুন হয়ে থাকে সে।সাহিত্যের মেজাজ ঠান্ডা হয়েছে ভেবে রবি সাহস করে এগিয়ে এলো,
"বস,ওই ক্লায়েন্টকে ছেড়ে দেই?একটা ক্লায়েন্ট গেলে কোনো সমস্যা তো হওয়ার কথা না"
ফোনের পাশ থেকে মাথা ঘুরাতে নিয়েই চোয়াল শক্ত হয়ে এলো সাহিত্যের।রবির পাশে না দেখে তামিম সাহেবের দিকে দেখে দাঁত চিবিয়ে বলে উঠল সে,
"আই ওয়ান্ট দ্যাট ক্লাইয়েন্ট ইন এনি কস্ট"
সাহিত্যের সেই ধীর আওয়াজে বলা কথায় রুমে উপস্থিত সবার গলাই যেন শুকিয়ে গেল।সবাই বুঝলো যে,সেই কোমল কন্ঠ শুধু ফোনের ওপাশের ব্যক্তির জন্যই বরাদ্দ।আর কেউই সেটার অধিকারী নয়।
কথাটা বলার ক্ষণিক পরেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেল সাহিত্য।সবাই যেন হাফ ছেড়ে বাচঁলো।তামিম সাহেব তো তার পাশে বসে থাকা সহকর্মীর কানে ফিসফিসিয়ে শুধালেন,
"স্যারকে কে কল দিয়েছিল?স্যারের বউ নাকি?"
পাশের ছেলেটিও তামিম সাহেবের মতো ফিসফিসিয়ে বলল,
"ধুর!স্যারের এখনো বিয়েই হয়নি"
তামিম সাহেব মাথা চুলকাতে লাগলেন,
"তো ক্ষণিকের এই কলে স্যারের এই আগুনের রাগ ধপ করে নিভে গেল কেমন করে?বউ ছাড়া তো গার্লফ্রেন্ডের দ্বারা সেটা সম্ভব না"
রবি তামিম সাহেবের ফিসফিসানি কথা ভালো করেই শুনতে পেল।আবার অয়নের দিকে নজর ঘুরালো সে।অয়ন তো সাহিত্য রুম থেকে বের হওয়ার পরপরই হাত তুলে মুনাজাত করা শুরু করেছে।হয়তো কল্পনার সঠিক সময়ে কল দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছে।নাহলে যে আজ এক গজব পড়ত তাদের উপর।রবি আবার মাথা পেছনে এলিয়ে দিল।বিড়বিড় করে আওড়ালো সে,
"বাপ একদিক দিয়ে রাগ উঠাচ্ছে আর বেটি একদিক দিয়ে সেই রাগ কমাচ্ছে।ওয়াও,হোয়াট আ কম্বিনেশন"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
কল্পনা কোরিডোরের রেলিং-এ ঝুলতে নিয়েই হাতের চিঠির খামটার দিকে দেখে যাচ্ছে।সে রুম থেকে বের হয়েছিল সাহিত্যকে চিঠি দেওয়ার জন্য,সাথে সেই হ্যান্ডমেড ফুলগুলোও নেওয়ার কথা।কিন্তু সাহিত্য যে এখনো বাসায়ই ফেরেনি।সন্ধ্যা পাড় হয়ে এখন ক্ষণিক বাদে এশার আজান দেবে।কিন্তু সাহিত্যের যে কোনো আনাগোনাই নেই।
চিঠিটার দিকে আবার দেখল কল্পনা।এই চিঠিতে কি লিখা আছে বর্তমানে কল্পনার নিজেরও স্মরণে নেই।কি-কি যে সব লিখেছিল সে।এই অধৈর্য মেয়েটা ধৈর্যের সাথে টানা পনেরোটা চিঠি লিখেছে।আনমনে ঠোঁট বাকালো কল্পনা।না....১৫টা না।মোট ধরতে গেলে ১৬টা চিঠি লিখেছে সে সাহিত্যের জন্য।কিন্তু সেই ১৬ -নাম্বার চিঠিখানা যে সাহিত্যকে পাঠানোই হয়নি।পাঠালে হয়তো ১০ কি ১১ নাম্বার চিঠি হতো সেটা।কিন্তু সেই চিঠি যে সাহিত্যকে পাঠানো উচিৎ হতো না।এমন কি এখনো সাহিত্যকে সেই চিঠিটা দেবে না কল্পনা।সাহিত্যের কাছে হয়তো অজানাই থেকে যাবে কল্পনার লেখা সেই ছোট্ট চিঠিখানা।কিন্তু কল্পনা সেই চিঠিটা এখনো নিজের কাছেই রেখেছে।সেই চিঠিখানা ভালো লাগে তার।একমাত্র সেই চিঠিতে লিখে রাখা প্রতিটা বাক্যই কল্পনার এখনো মনে আছে।
হাতের চিঠিটা থেকে মনোযোগ সড়িয়ে বাড়ির মেইন গেটের দিকে নজর গেল কল্পনার।সাথে ঠোঁটের হাসিটাও বেড়ে গেল।সাহিত্য যে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ম্যানলি ধাচে হেটে আসছে সেটা যেন চোখে ধরল কল্পনার।কিন্তু সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগছে হাতের এক গুচ্ছো ফুল।সেগুলো ট্রান্সপারেন্ট পলি দিয়ে মোড়ানো থাকলেও বর্তমানে সাহিত্যের হাতে সেগুলো এক গুচ্ছো ফুলের তোড়ার মতোই লাগছে।রেলিং-এ কণুই ঠেকিয়ে দুই হাতের তালুতে গাল চেপে ধরল কল্পনা।এই মুহুর্তে সাহিত্যকে দেখে যেন মনে হচ্ছে কোনো এক রাজপুত্র কল্পনার জন্য এক ফুলের তোড়া নিয়ে আসছে।কল্পনাকে তার মনের কথা উজার করে বলতেই এতোগুলো ফুল নিয়ে হাজির সেই রাজপুত্র।সেই কাল্পনিক কথা ভাবতে নিয়েই এক স্বস্তির ভারী শ্বাস ফেলল কল্পনা।তার সাহিত্য ভাইটাকে দেখলেই যে মনটা একদম ঠান্ডা হয়ে যায়।শুধু সেই ব্যক্তির দিকেই দেখে থাকতে ইচ্ছা করে।
কল্পনার চিন্তার মাঝেই সাহিত্য সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গিয়েছে।কিন্তু সেদিকে কল্পনার খেয়াল কই?সে তো এখনো সেই নিচেই দেখে আছে।নজর নিচে থাকলেও মনের চোখ জোড়া যে অন্যকিছু ভাবছে তার।প্রেয়সীকে এমন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থেমে গেল সাহিত্য।ভ্রু জোড়া কুচকানোর সাথে কোমলভাবে ডেকে উঠল কল্পনাকে,
"কল্পনা?"
সেই ডাকে হাতে-পায়ে চমকালো কল্পনা।সাহিত্যকে দেখেই এলোমেলো নজর ফেলতে লাগলো।সাথে ধীমি আওয়াজে বলল,
"আরে সাহিত্য ভাই?আপনি কখন এলেন?"
বেশি ভাবলো না সাহিত্য,
"এখনই......তুই এখানে কি করছিস?"
কল্পনার চিঠির কথা স্মরণে আসতেই সেটা সামনে বাড়িয়ে ধরল সে,
"আমি তো আপনাকে চিঠি দিতে এসেছিলাম।দেখলাম আপনি রুমে নেই,তাই এমনিই এখানে দাঁড়িয়ে আছি"
ঠোঁটে হাসি রেখেই চিঠিটা নিল সাহিত্য।ধীমি কন্ঠে শুধালো,
"এটা ১০-নাম্বার চিঠি।আর শুধু চারটা বাকি আছে"
সাহিত্যের ধীমি কন্ঠ কল্পনার কানে পৌঁছালো,
"হুম।শেষেরটা বাদ দিলে আর শুধু চারটা বাকি আছে।তারপর আর পড়তে হবে না"
কল্পনার হাসি মুখের দিকে নজর দিল সাহিত্য।কল্পনা মনে করছে সাহিত্য তার জন্য চিঠিগুলো পড়ছে।কিন্তু আসলে যে সাহিত্য নিজের শ্বাসটা চালানোর জন্য সেগুলো পড়ছে।প্রতি সপ্তাহে সব চিঠি একবার করে পড়ে থাকে,শুধুই তার প্রাণপাখিটাকে নিজের কাছে অনুভব করার আশায়।সাহিত্যের মন তো বলছে,
'কেন আর শুধু চারটা চিঠি বাকি আছে?আরো কয়েকটা বেশি থাকতো।আমি আরো বেশিবার আমার জানপাখির থেকে চিঠি পেতাম'
কিন্তু সাহিত্যের সেই কষ্ট যেন কল্পনার কাছে অজানাই থেকে গেল।অবুঝ বনেই থেকে গেল মেয়েটা।
"আমার ফুল?"
কল্পনার ধীমি কন্ঠে হুশ ফিরল সাহিত্যের।ব্যতিব্যস্ত হয়ে ফুলের তোড়াটা কল্পনার দিকে এগিয়ে দিল সে।সাথে প্রশ্নও করে বসলো,
"এতো ফুল কি করবি তুই?"
কল্পনা ফুলগুলোকে পরখ করতে নিয়েই শুধালো,
"রুমে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখবো।আমি শুনেছি রুমে সুন্দর কিছু থাকলে নাকি মন ভালো থাকে"
সাহিত্যের কোমল দৃষ্টি এখনো তার প্রেয়সীর উপর,
"তো আমার রুমটাও একটু গুছিয়ে দিস"
চকচক করে উঠল কল্পনার চোখ জোড়া,
"সত্যি?আচ্ছা বলেন আপনার কেমন জিনিস পছন্দ।আমি অনলাইনে আরো অনেক জিনিস দেখেছি।সেখান থেকে সুন্দর-সুন্দর জিনিস অর্ডার দিয়ে নেব।আমার তো ফুলই ভালো লাগে।আপনি ফুল নেবেন?এই ফুলগুলো কেমন?এই যে এটাকে টিউলিপ বলে...আর এটা লিলি..."
ফুলগুলোকে এবার ভালো করে পরখ করতে নিয়ে তাদের নাম সাহিত্যকে জানাতে লাগলো কল্পনা।কিন্তু তার সামনের যুবকের চোখে এই ইহজগতে যে শুধুমাত্র একটা জিনিসই সবকিছু উপেক্ষা করে সুন্দর।আর সেটি হলো বর্তমানে তার সামনে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকা তার প্রেয়সী।
".......এখানের সব ফুল তেমন চিনি না আমি।আপনি বলেন তো,কি দিয়ে আপনার রুম সাজালে আপনার পছন্দ হবে?"
"তোকে দিয়ে"
সাহিত্যের ভারী নেশালো কন্ঠ যেন একটু অস্পষ্টই শুনালো কল্পনার কানে।তাই তো সাহিত্যের দিকে নজর ফেলে বলে উঠল,
"কি?"
হুশ ফিরায় এলোমেলো নজর ফেলতে লাগলো সাহিত্য,
"মানে...তোর যেটা ভালো লাগে সেটা দিয়েই সাজাস।আমার ওটাই পছন্দ হবে"
কথাটা বলে আর এক মুহুর্ত দাঁড়িয়ে থাকলো না সাহিত্য।রুমে ঢুকে গেল।ক্ষণিক সময় সেই দরজার দিকে ভ্রু কুচকে দেখে থেকে নিজের রুমে ঢুকলো কল্পনা।
এদিকে সাহিত্য এখনো বন্ধ দরজাতেই হেলান দিয়ে আছে।নিজের কর্মকাণ্ডে হেসে উঠে হাতের চিঠিটা খুলে পড়া শুরু করল।
📜.................................................................
মানুষ এতো কেমন ব্যাস্ত থাকে?হায় আল্লাহ!!
আমাকে কি একটুও সময় দেওয়া যায় না?
.........................................................................📜
চিঠিটা বুকে চেপে ধরল সাহিত্য।হাসিখানা সড়িয়ে মনমরা হয়েই শুধালো,
"আমি তো তোকে সময় দিতে চাই জান।কিন্তু আমাদের সময়টা যে ভালো যাচ্ছে না"
#চলবে
পর্ব বড় করে দিতে পারতেছি না তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।আজ ভোরে সেহরির সময় হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ছি।হাত-পা এমন কাপা শুরু করছে যে যেটাই হাতে নিচ্ছি পিছলে পড়ে যাচ্ছে।তারপর আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ইফতারের আগ পর্যন্ত কাজের ব্যস্ততার কারণে এক মুহুর্তের জন্যও বসতে পারিনি।কিছুক্ষণ আগেই বসার সৌভাগ্য হইল।বসেই ফোন হাতে নিয়ে রিচেক দিতে ধরছি।ভাগ্য ভালো যে কাল রাতে একটু লিখে রাখছিলাম।নাহলে আজ আমার পক্ষে ফোনে টাইপিং করে লিখে পোস্ট করা কল্পনারও বাইরে ছিল।গল্প লিখতে বসলে লিখার পর গল্পে কোনো মাধুর্য খুজে পাচ্ছি না।কেমন যেন অনুভূতিহীন মনে হচ্ছে।আপনাদের লেখিকার জন্য খালি এতটুকু দোয়া করিয়েন যেন আগের মতো সুন্দর করে গল্পটা ফুটিয়ে লিখতে পারি।নিজের লেখা দেখে নিজেরই রাগ উঠতেছে।কার যে নজর লাগছে আল্লাহ জানে🥲
(বি:দ্র: পর্ব ছোট হোক বড় হোক,২দিন পরপর দেওয়ার অবশ্যই চেষ্টা করব❤️🩹)