#পর্ব_৪৫
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
কল্পনা প্রায় অনেক্ষণ থেকেই সাহিত্যের রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।কিন্তু কোনো মতেই যেন মেয়েটা সাহস করে দরজায় টোকা মারতে পারছে না।সেটা করবেই বা কেমন করে?বর্তমানে ঘড়ির কাটা যে ৬:৩০ এর দিকে।এতো সকালে তো শেখ ভিলার কেউই উঠে না।শুধুমাত্র ফাহাদ শেখ ও তোফায়েল শেখ তাদের অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বের হয়।আর তার সাথে সাহিত্যের শিডিউলের কিছু দিনে এ সময় বের হওয়ার অভ্যাস আছে।আর আজই তো সেই দিন।এতো দিনে যেন কল্পনার সেই শিডিউল মুখোস্ত হয়ে গিয়েছে।কিন্তু আজ কল্পনা যেন সাহিত্যের শিডিউলটাকে আচ্ছা করে বকুনি দিতে লাগলো।আজই এতো সকালে সাহিত্যকে অফিসে যেতে হবে?কল্পনা যে এতো সকালে উঠতেই পারে না।আর আজ না উঠে যে উপায় ছিল না।
গত রাত বারোটার দিকে সাহিত্যের ঘরে ঢুকতে গিয়েও থেমে গিয়েছে সে।এতো রাতে সাহিত্যের রুমে ঢুকা ঠিক হবে কিনা সেটা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিল।সাহিত্য ভাই তো কখনো তার নিজের জন্মদিন পালনই করেননি।সাহিত্যের নাকি সেটা পছন্দ না।আর ছোট থেকে কল্পনা সাহিত্যের সেই অভ্যাস দেখে যেন নিজেও সেটা করা শুরু করেছিল।সেই ছোট থেকেই সাহিত্যের সবকিছু যেন নিজের মাঝে নিতে চায় মেয়েটা।
কল্পনার ভাবনার মাঝেই সাহিত্য রুমের দরজার লক ঘুরিয়ে বেড়িয়ে এলো।হঠাৎ সাহিত্যকে দেখে কল্পনা তো থমকালো,সাথে সাহিত্য যেন ভড়কালো বেশ।ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল,
"কল্পনা!কি হয়েছে জানপাখি?তুই এতো সকালে উঠেছিস কেন?"
সাহিত্যের এমন ভড়কানো ব্যতিব্যস্ত ব্যবহারের যথেষ্ট কারণ আছে।শেখ ভিলায় কল্পনাকে সকালে উঠতে দেখা আর এই যুগে ডায়নোসর দেখা একই কথা।সেটা যে সেকাল থেকেই নির্ধারিত।আর সেটার প্রমাণ বর্তমানে কল্পনার চোখ জোড়া।ঘুমে বন্ধ হয়ে আসতে চাইছে তারা।কিন্তু কল্পনা যেন জোর করেই খুলে রেখেছে তাদের।সাহিত্যের এমন ভড়কানো কন্ঠে ভাবলেসহীন হেসে শুধালো কল্পনা,
"আরে কিছু হয়নি।আপনি সকাল-সকাল বেড়িয়ে যাবেন তো,তাই উঠেছি"
"কেন,বিয়ের আগেই আমাকে নাস্তা বানিয়ে দেওয়ার ট্রাই করছিস নাকি?"
ঘুমের ঘোরে সাহিত্যের বিড়বিড়ানির কিছুই বুঝলো না কল্পনা।ভ্রু কুচকে সাহিত্যের দিকে নজর দিল,
"আমি না আপনাকে বলেছিলাম!যে এমন বিড়বিড় করে কিছু বলবেন না।বুঝি না আমি কিছু"
এদিকে সাহিত্য তো তার মুখ ফসকে বের হওয়া কথায় জিহ্বার মাথায় কামোড় বসিয়ে রেখেছিল।কল্পনার কথায় মৃদু হেসে উঠল।কল্পনা মাথা ঝাকিয়ে বলল,
"সেটা এখন বাদ দেন।যেটার জন্য এসেছি আগে সেটা করি নাহলে ঘুমিয়েই পড়ব এখানে"
কল্পনা কথাটা বলে মাথা নিচু করে সাহিত্যের দিকে হাতে থাকা গিফট বক্সটা এগিয়ে দিল।মিনমিনিয়ে শুধালো,
"আমি কালকে রাতেই দিতে চেয়েছিলাম।কিন্তু আপনার তো আবার তেমন করে সেলিব্রেট করা পছন্দ না।তাই আর কিছু বলিনি.....আর!এটা আগের বার্থডের।আজকেরটার গিফট এখনো চিন্তা করিনি"
কাল রাত থেকে কত জনই না সাহিত্যকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে।অনেকে তো অফিসে গিফটও পাঠিয়ে যাচ্ছে গত দুদিন ধরে।আজও হয়তো পাঠাবে।কিন্তু সেগুলোতে তেমন কিছুই যায় আসে না সাহিত্যের।সে তো এমনিতেও এসব পছন্দ করে না।বিভিন্ন বড়-বড় কোম্পানির সাথে উঠা-বসা করতে হয় দেখেই কানাডায় থাকাকালীন ছোট একটা পার্টি থ্রো করত এই কাঙ্খিত দিনটায়।কিন্তু আজ যেন প্রথমবার মন চাইছে কারো মুখে নিজের জন্মদিনের শুভেচ্ছা শুনতে।আজ যেন প্রথম কোনো উপহার নিতে মন চাইছে সাহিত্যের।আর সেই দুটো জিনিসই যে সাহিত্য তার প্রেয়সীর থেকেই চায়।
প্রেয়সীর এমন আদুরে ভাব মুখে নিয়ে কথা বলা দেখে বেশ মজা পেল সাহিত্য।মাথা ঝুকিয়ে কল্পনার আদলখানার কাছে নিয়ে এলো।ভারী কন্ঠে শুধালো,
"আমি সেদিন এমনি মজা করছিলাম,জানপাখি"
সদ্য ঘুম থেকে উঠা সাহিত্যের এমন ভারী কন্ঠে যেন একটু হাসফাস করতে লাগলো কল্পনা।ঘুম থেকে উঠার অনেক সময়ই হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু সাহিত্যের কন্ঠের ভারী ভাবখানা যেন এখনো যায়নি।আর সেটা শুনেই কল্পনার বেহাল দশা বর্তমানে।অক্ষি জোড়া তুলে সাহিত্যের দিকে দেখলো সে।দেখা মিলল সেই কোমল মাটিয়া-সবুজাভাব চোখের।সেগুলো এতো কোমল হওয়ার পরেও যেন তীক্ষ্ণ অনুভব হয় কল্পনার কাছে।যেন তাদের দিকে কল্পনা দেখে থাকলেই কল্পনার বিনাশ অনিবার্য।হাটু ভেঙে পড়ে যাওয়ার আগেই কল্পনা হাতে থাকা গিফট বক্সটা নিজের আর সাহিত্যের মাঝে ধরল,
"না,সমস্যা নেই।আমি এমনিতেও দিতাম।আপাতত এটা নিন"
আবার সাহিত্যের মৃদু হাসি শুনল কল্পনা।সেই হাসি শুনে যেন কল্পনার ঠোঁট জোড়া আপনা-আপনিই বেঁকে গেল।তার সাহিত্য ভাইয়ের হাসিটাই যে এমন।একদম মন ছুয়ে যাওয়ার মতো।যে কেউই সেই হাসিতে কাবু হতে বাধ্য।কল্পনাও যে সেই কাতারেই পড়ে।
সেই সু-মধুর হাসি থামিয়ে সাহিত্য কল্পনার হাতে থাকা গিফটটাতে আঙ্গুলের টোকা দিল।সেটাতে কল্পনা শুধু নিজের অক্ষি জোড়া উন্মুক্ত করল সাহিত্যের কাছে।প্রেয়সীর অক্ষি জোড়া দেখে যেন ঠান্ডা সকালটাতেও বেশ গরম লাগতে শুরু করল সাহিত্যের।নিষিদ্ধ অনুভূতিরা যে আবার বেপরোয়া হয়ে উঠতে চাইছে।কিন্তু তাদের একপ্রকার দাবিয়ে রেখেই হাস্কি স্বরে সাহিত্য বলে উঠল,
"তুই আমাকে যেটা দিয়েছিস তাতেই খুশি আমি।এর থেকে বেশি আমার এই ইহজীবনে আর কিছু লাগবে না"
ক্ষণিক সময় যেন চোখাচোখি হলো অবাধ্য অনুভূতিদের দাবিয়ে রাখা এক পুরুষ ও তার প্রেয়সীর মাঝে।হয়তো সেই দুই চোখ জোড়া চিৎকার করে একে-অপরকে কিছু বলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।নিজেদের মনের অনুভূতিদের প্রকাশ করতে যেন ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তারা।কিন্তু কোনো এক দিক দিয়ে যেন এক সুক্ষ্ম বাধার সৃষ্টি হয়েছে।এই দুই নর-নারী যেন সেই বাধারই ভুক্তভোগী।
ক্ষণিকের এই চোখাচোখিই যেন আর সইতে পাড়লো না মেয়েটা।তাই তো নজর নিচু করে নিয়ে হালকা পিছিয়ে গেল।হাতের গিফটটা আরেকবার সাহিত্যের দিকে এগিয়ে ধরল কল্পনা,
"আচ্ছা ঠিক আছে।কিন্তু এটা অন্তত নেন,প্লিজ"
সাহিত্য সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বুকে দুই হাত ভাজ করল,
"নিব না আমি"
মাথা তড়িৎ বেগে তুলল কল্পনা,
"কেন?"
"তুই আমাকে উইস করেছিস?"
সাহিত্যের সেই কথায় কল্পনা ভড়কালো।আমতা-আমতা করতে লাগলো সে,
"আপনি তো সেসব পছন্দ করেন না"
'তোর থেকে কিছু পাওয়ার জন্য এই সাহিত্য দুনিয়া ছাড়তে রাজি আছে।আর এই ক্ষুদ্র অভ্যাস তো তুচ্ছ এক জিনিস মাত্র'
মনের মধ্যে সাহিত্য তার অনুভূতির সেই কথা না আওড়িয়ে যদি মুখেই প্রকাশ করত তাহলে হয়তো আজ সাহিত্যের কল্পনা একটু হলেও বুঝতে সক্ষম হতো যে, বাংলার সাহিত্য বইয়ের পাতায় থাকলেও কল্পনার জীবনের সাহিত্য তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু সাহিত্য যেন বরাবরের মতোই চুপ রইল।কিচ্ছুটি বলল না নিজের অনুভূতিদের নিয়ে।শুধু মাথা নিচু করে বিড়বিড় করে উঠল,
"তোর ইচ্ছে না থাকলে বলিস না"
সাহিত্যের কন্ঠের দুঃখীভাব ভালো করেই বুঝল কল্পনা।মেয়েটা যেন ক্ষণিক সময়ের জন্য বুঝে উঠল না কি করবে।অতঃপর নিজেকে সংযত করে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল,
"আরে না না!আমার ইচ্ছা থাকবে না কেন?আমি তো কাল রাতে সেজন্যই এসে আবার ঘুরে গিয়েছি"
মাথা নিচু রেখেই মিটিমিটি হাসল সাহিত্য।পর মুহুর্তেই মাথা তুলে নজর দিল সামনের ভড়কে থাকা ব্যক্তির দিকে,
"তো বল তাড়াতাড়ি!আমার অফিসের জন্য লেট হচ্ছে"
কল্পনা এবার ভড়কানোর সাথে এলোমেলো নজরও ফেলতে লাগলো।আমতা-আমতা করল ক্ষণিক সময়ের জন্য।তারপরেই লম্বা এক শ্বাস ভেতরে নিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখলো,
"শুভ জন্মদিন সাহিত্য ভাই।জীবনের নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা"
কল্পনা কথাটা বলতে নিয়েই হাসি মুখে চোখ জোড়া বুজে নিল।সেদিকে দেখে প্যান্টের পকেটে হাত গুজে ঘাড় কাত করল সাহিত্য।এই মেদহীন গোলগাল আদলখানা যে বরাবরই সাহিত্যের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস।মেয়েটা একটু বেশি হাসলেই চোখ জোড়া বুজে আসে।সেটাতে বড়ই আদুরে লাগে তাকে।বর্তমানে সাহিত্যের মন তো খুব করে চাইছে প্রেয়সীর নরম গাল দুটো একটু টেনে দিক।সে কাজে আজ আর পিচপা হলো না সাহিত্য।
নিজের জন্মদিনে নিজেকে উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হাত জোড়া পকেট থেকে বের করে কল্পনার নরম ফুলকো গাল দুটো এপাশ-ওপাশ দুলিয়ে টানতে লাগলো।হঠাৎ সাহিত্যের এমন কান্ডে কল্পনা আরো এক ধাপ ভড়কে উঠল।অক্ষি জোড়া খুলে রসগোল্লা বানিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখতে লাগলো সে।সাহিত্য এখনো তার প্রেয়সীর গাল টানতে ব্যস্ত।নব্য শিশুদের সাথে কথা বলার মতোই আদুরে ভাব নিয়ে বলল সাহিত্য,
"থ্যাংক ইউ জানপাখি"
এবার আর কল্পনার পক্ষে ধৈর্য কুলানো সম্ভব হলো না।হালকা আর্তনাদ করে উঠে শুধালো সে,
"আআআ,সাহিত্য ভাই।ছাড়েন,লাগছে তো"
সাহিত্য মৃদু হেসে সোজা হয়ে দাড়াতেই কল্পনা চোখ-মুখ অন্ধকার করে নিজের কপোল জোড়া দুই হাতে চেপে ধরল।বাম হাত গালে রেখেই গিফটসুদ্দ ডান হাতটা সামনে বাড়ালো সে।কিছু না বলে দেখে থাকলো সাহিত্যের দিকে।সাহিত্য বুঝলো,যে কল্পনার গাল টানায় সে বেশ চটেই আছে।কিন্তু তাতে সাহিত্যের কি?কল্পনার তো ভাগ্য ভালো যে সে এখনো সাহিত্যের হালাল প্রেয়সী হয়নি।নয়তো গাল দুটো আজ আর আসতো থাকতো না।
প্রেয়সীকে জ্বালাতন করার মতো সাহিত্য আর কিছু বলল না।গিফটটা হাতে নিয়ে সিড়ির দিকে এগোতে নিয়েই বলে উঠল,
"গিয়ে ঘুমিয়ে পর,নাহলে দুপুরে পাগলের মতো করবি"
কল্পনা হাত দুটো আবার নিজের গালে চেপে ধরল।সাহিত্যের যাওয়ার পানে অন্ধকার মুখোশ্রি রেখেই ধীমি আওয়াজে বলল সে,
"যে জোরে গালটা টানলো,তাতে তো ঘুমের চৌদ্দো গুষ্টি ব্যাগ-বাটাল নিয়েই দৌড়ে পালিয়েছে"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সময়টা অক্টবরের মাঝামাঝি।তারপরেও যেন রাতের শেষ প্রহর থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করা শুরু করেছে।তবে বিকেলের রোদখানা এখনো অনেক ভারী।
শুক্রবারটা যেন সপ্তাহের একমাত্র দিন,যেই দিনে শেখ আহমেদরা একটু বাড়িতে স্থির হয়ে বসতে পারেন।হাত-পাগুলো যেন একটু ধীরে-সুস্থে নাড়াতে পারেন।
সেই সুবাদেই তো ভারী গাম্ভীর্য মুখোশ্রি বজায় রেখেই শেখ ভিলার সদর কাঠের দরজা দিয়ে বেড়িয়ে এলেন ফাহাদ শেখ।পড়ণে তার একখানা শুভ্রা রঙা পাঞ্জাবি আর সাদা পায়জামা।সদর গেটে দাঁড়িয়ে থেকেই দুই হাত পেছনে বেধে বাগানের দিকে নজর তার।নজর বাগানের দিকে থাকলেও মাথায় যেন আরো অনেক চিন্তাই চলছে।তিন শেখ আহমেদের মধ্যে এই শেখ আহমেদ যেন কখনো খালি মাথায় বসেই থাকতে পারেন না।কিছু না কিছু মাথায় চিন্তা নিয়েই থাকবেন তিনি।কিন্তু আপাতত বাগানের দিকে মনযোগটা একটু বেশিই প্রখরভাবে গেল।গাছগুলো যেন একটু নেতিয়ে পড়ার মতো ঠেকছে তার চোখে।সেগুলো দেখে ভ্রু কুচকালেন তিনি।এতো টাকা দিয়ে গাছ এনে লাগিয়েছেন কি এমন অযত্নে ফেলে রাখার জন্য?দেবু মশাই নির্ঘাত গাছগুলো দেখাশুনায় হেলাফেলা করছে।এ মাসে বেতন কাটতে হবে তার।
দেবু মশাইয়ের নাম ডাকতে নিয়েই বাগানের দিকে এগুলেন ফাহাদ শেখ।কিন্তু বাড়ির দারোয়ান দেবু মশাইয়ের যেন কোনো আতাপাতাই নেই।থাকবেই বা কেমন করে?ক্ষণিক আগেই তো পান-বিড়ির বিরতি নিতে বাইরে বেড়িয়েছেন তিনি।আশেপাশে মাথা ঘুরিয়ে দেবু মশাইকে না দেখে তার অবর্তমানেই তার উদ্দেশ্যে কিছু কড়া কথা শুনালেন ফাহাদ শেখ।অতঃপর পাশে পড়ে থাকা পানির পাইপটা হাতে তুললেন।উদ্দেশ্য,গাছে নিজ হাতে পানি দেবেন।
পাইপের মাথায় লাগানো যান্ত্রিক নলটা ঘুরালেন ফাহাদ শেখ।সে কাজ করতে নিয়েই সামনে এগিয়ে ধরলেন পাইপখানা।কিন্তু অল্প পরিমাণে টুপটাপ পানির ফোটা বেড়োনো ছাড়া আর কিছুই হলো না।ভ্রু কুচকালেন ফাহাদ শেখ।হাতের কিছু বারি দিলেন পাইপের মাথায়।কিছুতেই যখন পানির দর্শন পেলেন না তখন আবার অস্ফুটস্বরে দেবু মশাইয়ের উদ্দেশ্যে কড়া কথা বলতে লাগলেন।হয়তো এ মাসের বেতনের পরিমাণটাও আরো কিছুটা কমিয়ে দিলেন।
ফাহাদ শেখ আজ হুট করে বিকেলের হাওয়া ফুসফুসে নেওয়ার জন্য বেড়োলেও তোফায়েল শেখ সে কাজ প্রায় প্রতিদিনই করে থাকেন।তাই তো এবার তোফায়েল শেখকেও কাঠের দরজা ঠেলে বের হয়ে আসতে দেখা গেল।নজর ঘুরাতে নিয়ে তার নজরও গিয়ে ঠেকলো বাগানের দিকে।তার সাথে বাগানে উপস্থিত থাকা তার ভাইয়ের দিকেও।যে কিনা বিড়বিড় করে কি যেন সব বলছেন আর পাইপটাকে অনবরত চড় মেরেই যাচ্ছেন।সে দৃশ্য দেখে মুখ বিকৃত করলেন তোফায়েল শেখ।বেচারা নির্জীব প্লাস্টিকের পাইপটাও তার এই রগচটা ছোট ভাইটার হাত থেকে ছাড়া পেল না।
ভারী শ্বাস ফেলে সেপাশে থেকে চোখ ঘুরাতেই এক জায়গায় নজর আটকে গেল তার।দেয়ালের সাথে এক নল আটকানো।তাতে এক পাইপ সেট করা।তোফায়েল শেখ ভালো করে খেয়াল করতেই দেখলেন সেই পাইপটারই আরেক মাথা ফাহাদ শেখের হাতে।বুঝলেন তিনি,যে এদিকে নল বন্ধ থাকার কারণে ওদিকে আর পানি বেড়ুচ্ছে না।তারপরও কিছু না বলে সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন।কিন্তু ফাহাদ শেখের ওদিকে রাগের মাত্রা যেন বেড়েই যাচ্ছে।আর সেই রাগের কিছু গুনজন তোফায়েল শেখের কানে এসে লাগছে।এবার মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করলেন তোফায়েল শেখ।বিকেলটায় মাথা ঠান্ডা করতে কি একটু বাইরে বেড়িয়েছেন,তাতেও যেন শান্তি পাইছেন না।
একবার ফাহাদ শেখকে ডাকতে নিলেন তিনি।কিন্তু পর মুহুর্তেই থেমে গেলেন।তোফায়েল শেখের ডাক তো এই ইহকালে ফাহাদ শেখ কখনোই কানে নিবেন না।আশেপাশে কাউকে না দেখে এবার নিজেই পানির নলের দিকে এগিয়ে গেলেন তোফায়েল শেখ।শক্ত হাতেই পানির নলটা খুলতেই ফাহাদ শেখের ক্ষণিক মুহুর্তের জন্য চিৎকার কানে এলো তার।তাড়াতাড়ি সেদিকে নজর দিলেন।ফাহাদ শেখের হাতের পাইপটা থেকে ঝড়নার মতো পানি বেড়ুচ্ছে।আর সেই পানির শেষ প্রান্ত গিয়ে ঠেকছে ফাহাদ শেখের মাথায়।সেই সাথে ফাহাদ শেখের উত্তপ্ত নজর তোফায়েল শেখের মধ্যে আবদ্ধ।
ফাহাদ শেখের সেই কঠিন নজরে ভড়কালেন তোফায়েল শেখ।কিন্তু ছোট ভাইকে এমন পানিতে চুপসানো অবস্থায় দেখে নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেন না।যার দরুন প্রথমদিকে লুকিয়ে হাসলেও পরবর্তীতে যেন জোরেই হাসতে শুরু করলেন তিনি।ফাহাদ শেখের রাগটা যেন আরো বেড়ে গেল।কিন্তু পানি মাথায় পড়ায় যেন সুক্ষ্ম শান্ত অবস্থায় আছেন তিনি।তবে তোফায়েল শেখের হাসি যেন কিছুতেই সহ্য হচ্ছে না।তাই তো বিজনেসম্যানের মাথাটা খাটিয়ে পাইপের মাথাটা তোফায়েল শেখের দিকে ঘুরিয়ে ধরলেন।যার দরুন তোফায়েল শেখের হাসিটা তো বন্ধ হলোই সাথে সারা শরীর পানিতে ভিজে জব জব করছে।হয়তো প্রতিশোধ নিতেই এবার ফাহাদ শেখ ঠোঁট বাকিয়ে বেশ ভাব নিলেন।কিন্তু তার ভাবখানা চুপসে গেল যখন তোফায়েল শেখ তার হাতের কাছে থাকা নলটা বন্ধ করে দিলেন।পুনরায় ফাহাদ শেখের মুখোশ্রি গম্ভীর হয়ে যাওয়ার সাথে তোফায়েল শেখের মুখে হাসির রোল শুনা গেল।
বাইরে হালকা শব্দ শুনেই হয়তো রঞ্জক শেখ বেড়িয়ে এলেন।হাসি মুখেই শুধালেন তিনি,
"আরে কিসের এতো হাসাহাসি চলছে..."
কথা বলেই পর মুহুর্তে থমকে দাড়ালেন তিনি।পাঞ্জাবি পরিহিত দুই ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে তার ভ্রু জোড়া কুচকে গেল।ফাহাদ শেখ গম্ভীর মুখোশ্রি নিয়েই হাতের পাইপটা রঞ্জক শেখের দিকে তাক করলেন।তোফায়েল শেখ যেন বুঝলেন ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্য।সময় নষ্ট না করেই আবার নলটা খুলে দিলেন তিনি।হঠাৎ এমন আক্রমণে রঞ্জক শেখ যেন বেশ ভড়কালেন।সাথে কানে এলো তার দুই বড় ভাইয়ের হাসার শব্দ।সেটাও আবার একই সাথে।থমকে গেলেন রঞ্জক শেখ।মাথা তুলে নজর দিলেন বড় দুই ভাইয়ের উপর।পরপরই ঠোঁটে হাসি ফুটল তার।পাইপের পানি শরীর থেকে গড়িয়ে পড়লেও গাল দুটো যেন চোখের নোনাজলে ভিজে উঠল।সাথে শুনলেন তার বড় দুই ভাইয়ের কথপোকথন।
হাসতে নিয়েই শুধালেন ফাহাদ শেখ,
"কিরে রঞ্জক,এবার বুঝেছিস?কেন হাসছিলাম?"
তোফায়েল শেখ হাসি কোনোরকম আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে বললেন,
"আরে ফাহাদ,পানিটা বন্ধ কর!বেচারা আমাদের থেকেও বেশি ভিজে গিয়েছে"
"আরে ভাইজান,ভিজুক না একটু।সারাদিন বউয়ের জ্বালায় থাকে বেচারা।মাথাটা একটু ঠান্ডা হোক"
"সেটাতে তো তুইও থাকিস"
তোফায়েল শেখ কথাটা বলেই আবার হাসিতে ফেটে পড়লেন।
ফাহাদ শেখ এবার হাসি থামিয়ে বেশ ভড়কালেন।চোখ জোড়া ঘুরিয়ে তোফায়েল শেখের দিকে দেখলেন,
"হেনা আমার মুখের উপর টু শব্দ করে না।আমি তো ভাবিকে বেশ কয়েকবার চেঁচাতে দেখেছি।তার সামনে আপনি কেমন চুপসে থাকেন সেটাও দেখেছি"
আবারো বিপরীত দৃশ্য ঘটলো দুই ভাইয়ের মুখে।তোফায়েল শেখ চুপসে গিয়ে ফাহাদ শেখ হাসতে লাগলেন।
এতোদিনে মনে হয় হাতের ফোনটাকে চুমু দিতে ইচ্ছে করছে কল্পনার।তার বাবা আর বড় বাবার কি সুন্দর মুহুর্তটাই না ধারণ করছে তার সেই ফোন!দোতলার বড় বারান্দা থেকে খুব সুন্দরভাবেই ভিডিও করে যাচ্ছে কল্পনা।আর সেটা ক্ষণিক আগে থেকেই।আলসেমিতে বারান্দায় এসে দাড়াতেই যেন অলৌকিক জিনিস চোখে পরে তার।আর সেটা নিজে উপভোগ করার সাথে সাথে বাকি সবাই যেন উপভোগ করতে পারে সেই ব্যবস্থাই করছে সে।আর এদিকে কল্পনার পেছনে দাঁড়িয়ে কেউ একজন যে অন্যকিছু উপভোগ করছে সেদিকে যেন কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই মেয়েটার।
কল্পনা ফোনে ভিডিও অন করার মুহুর্তেই সাহিত্য তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।বাবা-চাচার এমন কান্ড দেখে যেন সে-ও বেশ অবাক হয়।মনের এক কোণ যেন ফুরফুরে হয়ে উঠে তার।তার বাবা-চাচা ভালো হয়ে এলে তো ছেলেটার জন্যই সুবিধা হবে।প্রেয়সীর থেকে আর দূরত্ব বজায় রাখা যে সম্ভব হচ্ছে না তার পক্ষে।সবকিছু ঠিক হয়ে এলেই প্রেয়সীকে নিজের করে নেবে সে।সে কথা চিন্তা করতে নিয়েই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে কল্পনার খোলা সিল্কি চুলগুলোতে বেনুনি গাথতে শুরু করেছে সাহিত্য।
তার প্রেয়সীর এই কেশগুলোতে যেন হাতই পড়ে না সাহিত্যের।কিন্তু খুব করে যে ছুঁয়ে দিতে মন চায়।আজ মনটা ক্ষণিক আগে ভালো হয়ে উঠায় যেন সেই শখ পুরণ করতে আর পিচপা হয় না সাহিত্য।সামনে তার প্রেয়সী হালকা কোমল দুলিয়ে মৃদু হাসতে নিয়েই ভিডিও করছে।আর এদিকে সাহিত্য প্রেয়সীর চুলগুলো বেশ আলতোভাবেই হাত দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে ঠিক করছে আবার বেনুনিও গাথছে।ছেলে মানুষের হাতের বেনি যেন অতটাও গোছালো হয়নি।তবে চুলের আগার দিকে করা হালকা বেনিতে পাশে থাকা টবের গাছ থেকে একখানা শুভ্রা রঙা ফুল নিয়ে সেথায় গুজে দিল।তবে বেনুনি গাথায় একদমই বিরতি দিল না।
দুই ভাইয়ের কথপোকথনে এবার রঞ্জক শেখও যোগ দিলেন,
"আমার দুই ভাবিই ভালো আছে।সমস্যা তো আপনাদের মাঝে।অযথা রাগ দেখিয়ে থাকেন"
হাসি কমাতে নিয়েই বললেন তোফায়েল শেখ,
"আরে আমি আবার তেমন কই রাগ করে থাকি?এই ফাহাদই তো রাগ উঠিয়ে থাকে আমার।আব্বার পুরো রাগটা পেয়েছে সে"
ফাহাদ শেখের হাসি যেন হুট করেই বন্ধ হয়ে গেল,
"আমি আপনার রাগ উঠাই না,আপনি তেমন কাজই করেন"
এবার তোফায়েল শেখের হাসিটাও নিভে গেল,
"কি এমন কাজ করি আমি,যে তুমি এতো রাগ হও আমার উপর?নিজের ভুল বুঝাকে বেশি প্রশ্রয় দিয়ে আমার প্রতি এতো রাগ তোমার?"
ফাহাদ শেখ তার আগের কথাটা গম্ভীর মুখে বললেও এবার বড় গলা শুনা গেল তার।হাতের পাইপটা এক ঝটকায় ফেলে দিয়ে বলে উঠলেন তিনি,
"আমি ভুল বুঝি?নাকি আপনি বেশি বুঝ দেন আমাকে?সেকাল থেকেই আমার সবকিছুতে বাধা দিয়ে আসছেন আপনি!আমার কোনো কিছু যেন আপনার পছন্দই নয়!"
এবার তোফায়েল শেখেরও গলা শুনা গেল,
"আমি তোমাকে কোনো কাজেই বাধা দেই না!বড় ভাই হিসেবে তোমাকে সঠিক পথ দেখাই আমি!কিন্তু তুমি যেন সব সময়ই আমার কথার বিপরীতে চলো"
রঞ্জক শেখের হাসিটা যেন ক্ষণিকের মাঝেই মিলিয়ে গেল।কিছু সময় আগেই যেন এক মধুর মুহুর্ত চলছিল।তোফায়েল শেখ তো তার ছোট ভাইটাকে আবার আদর করে 'তুই' সম্বোধন করছিলেন।কিন্তু আবার ভাটা পড়ে গেল সেই আদরে।
তোফায়েল শেখের শেষের কথায় ফাহাদ শেখ আরো ফুসে উঠলেন।হুংকার ছাড়তে নিয়েই যেন শেখ ভিলার দিকে এগিয়ে গেলেন,
"আমারো কি দিনকাল শেষ হয়ে এসেছে নাকি,যে এই লোকের সাথে মুখ লাগাতে গিয়েছি?যতসব ফালতু লোকজন!"
"এই বেয়াদব!মুখ সামলে কথা বলো!"
তোফায়েল শেখের কথা কানে না নিয়েই বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেলেন ফাহাদ শেখ।ভেজা শরীর নিয়েই মাথা নিচু করলেন রঞ্জক শেখ।তার সাথে ভারী এক শ্বাস ফেললেন।তার বড় ভাই দুটো যে কেন বুঝে না,যে নিজেদের ছাড়া তাদের সুখের আর কোনো স্থান নেই।সে কথা না বুঝেই যেন একে-অপরের শত্রু হয়ে আছে তারা।
তোফায়েল শেখ বাড়ির দরজার দিকে নজর রেখেই ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্যে আরো কিছু কড়া কথা বলে গেলেন।সেদিকে নজর রেখে ফোনের ভিডিওটা বন্ধ করল কল্পনা।ভিডিও আর দীর্ঘ করে কোনো লাভ নেই।বেশি দীর্ঘ করলে ভিডিওর আগের সৌন্দর্য আর থাকবে না।
মাথা নিচু করেই পেছনে ঘুরলো কল্পনা।প্রেয়সীর চুল হাত থেকে পিছলে যেতেই সাহিত্য বেশ ভড়কালো।নজর দিল তার প্রেয়সীর আদলখানায়।যেটা বেশ অন্ধকার হয়েই আছে।সামনে কারো পা জোড়া দেখতেই চমকে উঠে মাথা তুলল কল্পনা।সাহিত্যকে দেখে তেমন ভড়কালো না সে।বরং মনমরা হয়ে শান্ত স্বরে শুধালো,
"দেখলেন সাহিত্য ভাই,কি সুন্দর করে হেসে-হেসে দুজনে কথা বলছিল।এমন কি সব সময় থাকতে পারে না তারা?সব সময় অতীতের কথা কেন টানা লাগবে?সেগুলো এখন বললে কি সব ঠিক হয়ে যাবে?দুজনে সব কিছুই করে,শুধু অভিমানটাই কমাতে পারে না।এদের মিলাতে যে প্লান করলাম সেটাও খেয়ে ফেলল বাবা।কি করব এখন আমি?"
সাহিত্য মৃদু হাসতে নিয়েই এগিয়ে এলো কল্পনার দিকে।আড় চোখে নজর দিল তার পেছনের বেনিখানায়।এতক্ষণে অনেকটাই ঢিলা হতে শুরু করেছে।সাহিত্য আবার নজর রাখলো প্রেয়সীর চোখে,
"কিছুই করতে হবে না তোকে।এতোদিন যে কথাটাও বলতো না,আজ কথা বলে হাসাহাসি তো করছে.....চিন্তা করিস না।সব ঠিক হয়ে যাবে"
সাহিত্যের সেই কথায় কল্পনার মুখে কোনো হাসি দেখা গেল না।মেয়েটা যে একটু বেশিই চিন্তা করে তার বাবা আর বড় বাবাকে নিয়ে।
কল্পনার সেই মুখোশ্রি বদলাতেই যেন সাহিত্য বলে উঠল,
"এতো কষ্ট করে যে ভিডিও করলি,সেটা দাদিকে দেখাবি না?"
সাহিত্যের চেষ্টা বিফলে গেল না।কল্পনার চোখ জোড়া চকচক করে উঠল,
"হ্যাঁ!আমি তো ভুলেই গিয়েছি।শুধু দাদিকে কেন?সবাইকে দেখাবো"
কথাটা শেষ করেই কল্পনা জোর পায়ে বারান্দা পেরিয়ে ভেতরে যেতে লাগলো।প্রেয়সীর বেনিখানায় আরো একবার নজর গেল সাহিত্যের।কল্পনার হালকা দৌড়ে সিল্কি চুলের বেনিখানা কোনো বাধা ছাড়াই খুলে গেল।আর সাহিত্যের গুজে দেওয়া সেই শুভ্রা রঙা ফুলখানা পানির মৃদু স্রোতের মতোই লম্বা কেশগুলো থেকে বেড়িয়ে নিজের স্থান করে নিল কোরিডোরটায়।সেই ফুলের দিকেই নজর থমকিয়ে রাখলো সাহিত্য।চেহারায় যেন হাসির কোনো চিহ্ন নেই।আর সেই মুখোশ্রি তৈরি হয়েছে সাহিত্যের মাথায় চলতে থাকা চিন্তাদের কারণেই।কি যে চিন্তা করে এমন মুখোশ্রি বানিয়ে রেখেছে ছেলেটা,কে জানে?
#চলবে
আজকে অনেক বড় পর্ব দিয়েছি।২দিনের ইফতার কিন্তু😒