#পর্ব_৪৬
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
ধরনীতে শীতের আগমন তো সেই কবেই ঘটেছে।আর সেই শীতের দর্শনে শরীরে ভালোই কাপড়-চোপড় জড়িয়ে রেখেছে মানুষজন।বেশির ভাগ মানুষই যেন বাড়ির ভেতরে,এমনকি লেপের ভেতরে ঢুকেও শরীরের কাপনি থামাতে পারছে না।আর এদিকে কিনা কল্পনা শরীরে একখানা পাতলা শাল জড়িয়ে সেই কতক্ষণ থেকে দোতলার খোলা বারান্দাটায় দাঁড়িয়ে।ঠান্ডা যে লাগছে না এমনটা নয়।হঠাৎ-হঠাৎ যখন দমকা হাওয়া বইছে তখন-তখন করে গটগট করে কেপে উঠছে মেয়েটা।কিন্তু তারপরও যেন ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে রেখে শীতের সকালটা বেশ উপভোগ করতে ব্যস্ত সে।
নব যুবতীর এমন উদ্ভট কর্ম চোখে ধরা পড়ল সাহিত্যের।কোরিডোর থেকে খুব ভালো করেই সাহিত্যের চোখে পরছে হঠাৎ কেপে-কেপে ওঠা কল্পনা।কয়েকটা ঝাড়ি দিতেই জোর পায়ে খোলা বারান্দায় পা রাখলো সাহিত্য।কিন্তু প্রেয়সীর থেকে খাণিক দূরত্ব বজায় রেখেই থমকে গেল।নজর গেল কল্পনার চুলগুলোর উপর।যেগুলো একটা সাধারণ কাঠের কাটা দিয়ে কোনো রকম খোপা করে আটকানো।সেদিকে চোখ জোড়া ক্ষণিক সময় স্থির থাকতেই কেন জানি সেগুলো ভারী হয়ে এলো সাহিত্যের।ইদানীং প্রেয়সীর কেশগুলো কেন জানি বড়ই কাছে টানে তাকে।খুব করে ছুয়ে দিতে মন চায়।শুধু ছুয়ে দিতে নয়,বরং সারাক্ষণ সেগুলোতেই মুখ ডুবে রাখতে মন চায়।কোনো ভারী নেশার মতোই সেগুলোর ঘ্রাণ নিতে মনটা খুড়খুড়িয়ে উঠে।
এতো কিছু ভাবতে নিয়ে সাহিত্য যে কখন কল্পনার দিকে এগিয়ে এসেছে সেটা যেন খেয়ালেই নেই তার।আনমনে প্রেয়সীর মাথা থেকে কাটাখানা আলতো হাতেই টান দিল।অমনি যেন সিল্কি কালো চুলগুলো ঝড়ঝড়িয়ে বাধন হারা হয়ে গেল।
হয়তো নিষিদ্ধ অনুভূতিদের আশকারায় সাহিত্য তার প্রেয়সীর কাধে মুখটাই গুজে দেওয়ার জন্য এগোচ্ছিল।কিন্তু সেই সময়ই কল্পনা ভড়কে উঠে পেছনে ঘুরে দাড়ালো।সাহিত্যকে এতো কাছে আবিষ্কার করে বেশ চমকালো মেয়েটা।সেই সাথে কোমড়ের ভাজ গিয়ে ঠেকলো পেছনের রেলিং-এ।
প্রেয়সীর লম্বা কেশগুলো সাহিত্যের যতটাই প্রিয় ততটাই প্রেয়সীর সামনের ছোট কেশগুলোর প্রতি হিংসে হয় সাহিত্যের।যেমন এই মুহুর্তের কথা বললেও ভুল হবে না।এলোমেলো কার্টেইন ব্যাঙ কাটের চুলগুলো কেমন করে লেপ্টে আছে আদলখানায়।কিছু চুলতো অধর জোড়াকেও ছুয়ে দিয়েছে।যেই অধর জোড়াকে সাহিত্য আজ পর্যন্ত স্পর্শ করা তো দূরে থাক,কখনো চোখ তুলে অব্দি দেখেনি।প্রেয়সীর থেকে যে এখন দূরত্ব বজায় রাখতে হবে সাহিত্যকে।কিন্তু সেই দূরত্ব বজায় রাখা যেন ইদানীং বড় কষ্টকর ঠেকছে সাহিত্যের কাছে।যার প্রমাণ,বর্তমানে সাহিত্য প্রেয়সীর চুলে লেপ্টে থাকা অধর জোড়ার দিকেই দৃষ্টি রেখে গলা ভিজিয়ে নিল।কিন্তু পর মুহুর্তেই সেই হার্ট সেইপ অধর জোড়া নড়তেই হুশ ফিরল সাহিত্যের।
"মাথার কাটা কেন খুললেন?"
কল্পনার কথায় এবার কল্পনার অক্ষি জোড়ার দিকে দেখল সাহিত্য।কিন্তু তারপরেও যেন নিস্তার নেই!প্রেয়সীর ঘন পল্লব যুক্ত অক্ষি জোড়াও যেন সাহিত্যকে ঘায়েল করতে উঠে পড়ে লেগেছে।যার দরুন এবার বাধ্য হয়ে চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করল সাহিত্য।মাথাটা নিচু করে হাতের কাটাটা উঁচিয়ে কল্পনাকে দেখিয়ে বলে উঠল,
"এটা একটু লাগতো আমার।তাই নিলাম"
সাহিত্য নিজের চোখ জোড়া এখনো খিচে বন্ধ করে রয়েছে।নিজেকে যেন নিয়ন্ত্রণ করার এক আকাশ সমান চেষ্টা করছে সে।দেশে ফিরে সাহিত্য কিছু করুক আর না করুক,তার পাগল ঘোড়ার ন্যায় এই অবাধ্য অনুভূতিদের নিয়ন্ত্রণে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তবে সেটাতে যেন প্রতিবার ব্যর্থই হয় সাহিত্য।কিন্তু তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যায়।কিন্তু এই চেষ্টা আর কত দিন?সাহিত্যের অন্তরের সেই অনুভূতিরা যে প্রখর স্রোতের ঝড়ে পরিণত হয়েছে।যেকোনো সময় হৃদয় ফেটে বেড়িয়ে আসবে যেন।সাহিত্য যখন নিজেকে সংযত করায় পূর্ণ মনযোগী তখনই কল্পনা বলে উঠল,
"আমার মাথার কাটা দিয়ে কি করবেন আপনি?"
মাথা আগের ন্যায় নিচু রেখেই শুধালো সাহিত্য,
"বললাম তো কাজ আছে।পরে নিয়ে নিস"
কথাটা বলে সাহিত্য আর এক মুহুর্তও দাঁড়িয়ে থাকলো না।প্রেয়সীর চুলের কাটা হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে জোর পায়ে ভেতরে ঢুকে গেল।সেদিকে নজর রেখে ঘাড় কাত করল কল্পনা।হয়তো বুঝার চেষ্টা করছে সাহিত্যের এমন অকস্মাৎ ব্যবহারের কারণ।
শীতের সকালের সেই মৃদু হাওয়া আবার বইল।কিন্তু এবার আর কল্পনা কেপে উঠল না।মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার বাঁধন হারা সিল্কি চুলগুলোই হালকা দুলে উঠল শুধু।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
"এই কল্পনা!তোকে নওশাদ ভাইয়া ডাকছে!"
ক্লাস রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্লাসমেটের মুখে সেই কথা শুনে যেন কল্পনা আর প্রীতি দুজনেই চমকালো।
সেই মেয়ের দিকে দেখে তেতে উঠল প্রীতি,
"তোর নওশাদ ভাইয়ার সাহস নেই?নিজে এসে ডাকতে পারে না?চামচা পাঠায় কেন?যতসব!..."
প্রীতি আরো কিছু বলতে নিয়েছিল।কিন্তু কল্পনা তাকে থামিয়ে দেয়।বার্তা দেওয়া সেই মেয়ে ঠোঁট উল্টিয়ে চলে গেলে এবার প্রীতি কটমটিয়ে কল্পনার দিকে ঘুরলো।প্রীতির রাগটা নওশাদের উপর উঠার থেকে কল্পনার উপর বেশি উঠছে।এই দুই মাসে এতো কিছু হয়ে গিয়েছে,আর কল্পনা প্রীতিকে টু শব্দটাও বলেনি।প্রীতি তার নানা বাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার পর হুট করেই তার মামাতো ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়।যার দরুন সেই বিয়ে খেয়ে ঢাকায় ফিরতেই এতো দেরি হয়েছে তার।
কল্পনা প্রীতির রাগ দেখে চুপসে গেলেও তাকে শান্ত করতে লাগলো,
"এই প্রীতি,শুন না।এমন চিল্লাচিল্লি করিস না প্লিজ।নওশাদ ভাইয়া আমাদের সিনিয়র হয়।আর তার উপর উনি ভার্সিটির পলিটিক্সে আছে।আর কয়টা দিনই তো।ওনার ইয়ার ফাইনাল হয়ে গেলেই বের হয়ে যাবে উনি।তখন এমনিতেই আমার পিছু ছেড়ে দেবে"
কল্পনার কথায় ঠান্ডা না হয়ে আরো চেঁতে উঠল প্রীতি।টেবিলে হাতের ভারী থাবা মেরে বলল সে,
"ছুটির পর ভার্সিটি এসে সবার মুখে আমি যেটা শুনেছি সেটা তো তুইও বলিসনি আমাকে!ওই নওশাদ তোর মাথার উপর উঠে নাচছে,আর তুই চুপ করে আছিস!এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে,আর তুই এখনো কেন সাহিত্য ভাইয়াকে কিছু জানাসনি?সাহিত্য ভাইয়া যখন ওর হাত-পা টেনে ছিড়বে তখন বুঝবে কি ভুল কাজটা করছে সেই ছেলে!"
কল্পনা প্রীতির কথা শুনে আতকে উঠল।প্রীতির এক হাত ধরে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল সে,
"এই না প্রীতি।সাহিত্য ভাই যেন এই ব্যাপারে কিছু না জানে"
কল্পনার কথায় প্রীতি অনেকটাই ভড়কালো,
"কেন!সাহিত্য ভাইয়াকে বলব না কেন?আমি তো এখনই কল করার চিন্তা করছি"
কল্পনা প্রীতির হাতটা আরো শক্ত করে ধরে চোখ জোড়া বন্ধ করল।কাঁদো গলায় বলতে লাগলো মেয়েটা,
"প্লিজ প্লিজ প্লিজ, প্রীতি।সাহিত্য ভাইকে কিছু বলিস না।আমি ওনাকে আর আমার কোনো বিষয়ে জড়াতে চাচ্ছি না"
কল্পনার কথাটা ঠিক বুঝলো না প্রীতি,
"তোর কোনো বিষয়ে জড়াতে চাচ্ছিস না মানে?তোর কোনো সমস্যা হলে তো সাহিত্য ভাইয়া-ই হেল্প করবে,তাই না?তো তাকে দূরে রাখতে চাচ্ছিস কেন?"
মাথা নিচু করে রাখা কল্পনার থেকে মৃদু আওয়াজ শোনা গেল,
"যে আমার জীবনে আমৃত্যু থাকবে না,তাকে কেন বারবার আমার দুর্বলতা বানাবো?"
প্রীতি এতক্ষণ থেকে রাগে ফোসফোস করলেও কল্পনার এবারের কথায় যেন পুরো দমে শান্ত হয়ে গেল।ঘনিষ্ঠ বান্ধুবীর মনের কথা বুঝতে পেরেই কল্পনার আদলখানা নিজের হাতের মাঝে আবদ্ধ করল প্রীতি।নরম সুরে বলে উঠল,
"সাহিত্য ভাইয়া তোর দুর্বলতা নয় কল্পনা।উনি তোর প্রটেক্টর।আর সেই দায়িত্বটা ভাইয়া নিজ ইচ্ছায় মন থেকে পালন করে থাকে"
জোরপূর্বক মুখে হাসি ফুটালো কল্পনা,
"জানি আমি।কিন্তু....আমি আর চাই না সেটা"
শেষের কথাটা যে কল্পনা সম্পুর্ণ মিথ্যা বলল সেটা প্রীতির কাছে স্পষ্ট।কিন্তু প্রীতি ভালো করেই জানে যে কল্পনা সেই কথা না প্রীতির কাছে স্বীকার করবে,না নিজের কাছে।প্রীতি কিছু বলবে তার আগেই কল্পনা বলে উঠল,
"নওশাদ ভাইয়ার সাথে তুই একদম লাগতে যাবি না,বলে দিচ্ছি।আমরা কিছু না বললে সে এমনিতেই চুপ হয়ে যাবে।কিছু বললে যদি হিতে বিপরীত হয়ে যায়?"
প্রীতি আর তার কথা বাড়ালো না।আসলেই সেই ছেলের সাথে তর্কে জড়ানো উচিৎ নয়।নয়তো কোন কথার কি বানিয়ে বলে বেড়াবে,তখন আরেক সমস্যা।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
ভার্সিটির লাঞ্চ ব্রেকের জন্য ক্যান্টিনে এসেছিল প্রীতি আর কল্পনা।সেখানেই তো দেখা হয়ে যায় নওশাদের সাথে।কল্পনার চোখে পড়তেই মেয়েটা উল্টো দিকে ঘুরে।কিন্তু সেটা করার আগেই নওশাদ যেন আটকে দেয় তার পথ।
নওশাদ সামনে দাড়াতেই মাথা নিচু করে নেয় কল্পনা।সেই ছেলেকে নিজের চেহারাটাও দেখানোর ইচ্ছা নেই কল্পনার।কিন্তু প্রীতি তো আর সে কাজ করে না।নওশাদের দিকে দেখে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠল সে,
"ভাইয়া আপনি মনে হয় আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।একটু সাইড দিলে আমরা যেতাম, প্লিজ"
নওশাদের লোভী নজর কল্পনার দিকে।নজর না সড়িয়েই প্রীতির উদ্দেশ্যে বলল সে,
"তোমাকে কে আটকিয়েছে?এই সাগর!আপুকে সাইড দে তো"
সাগর প্রীতির দিকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে মেকি হাসলো।অতঃপর এক হাত সামনে যাওয়ার উদ্দেশ্য করে সড়ে দাড়ালো।সাগরের দিকে কটমটিয়ে দেখলো প্রীতি।এই ছেলেগুলোর যেন মুখোশের শেষ নেই।প্রথম দিন কেমন ম্যাও ম্যাও করে প্রীতি আর কল্পনার সাথে কথা বলল।আর এখন কল্পনাকে দেখলেই কেমন নওশাদকে উদ্দেশ্য করে টোন করে।
প্রীতি নিজের রাগ একপ্রকার দমিয়ে রেখেই কল্পনার হাত ধরে টান দিল।অমনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে শুধালো নওশাদ,
"আরে-আরে!তোমার বান্ধুবীকে কেন টানছো?ওকে আমার কাছে রেখে যাও।উবু বউটার সাথে একটু কথা তো বলে নেই"
এবার প্রীতির সাথে কল্পনাও নওশাদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো।কল্পনার চোখ জোড়া নওশাদের উপর পড়তেই নওশাদ যেন নিজের নজরের ভঙ্গিমা পুরোটাই বদলে নিল।এতক্ষণ থেকে কল্পনার শরীরে কেমন লালসার দৃষ্টি বিচরণ করছিল সে।আর কল্পনার চোখের সামনে যেন হঠাৎই কোমলতা নিয়ে দেখতে লাগলো।আর সেই দিকটা প্রীতি ভালো করেই লক্ষ্য করল।একটা ছেলে কি পরিমাণের বাজে হলে এমন কাজ করে!কল্পনাকে যেন নিজের জালে ফাসাতে চাইছে এই ছেলে।
নওশাদের বলা শেষের কথাটায় এবার কল্পনা মুখ খুলল,
"ভাইয়া আপনি কিন্তু আমাকে অতিরিক্ত বিরক্ত করছেন।আপনার উপর আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই সেটা এতোবার বলার পরেও কেন বুঝছেন না?"
নিজের সেই পারদর্শী নকল কোমল কন্ঠে শুধালো নওশাদ,
"কজ আই ওয়ান্ট ইউ কল্পনা।তোমাকে আমি ভালোবাসি"
কল্পনা কিছু না বলেই মুখ বিকৃত করে নজর নিচু করে নিল।তার কথা বলা যেন কোনো কাজেই আসছে না।কল্পনা কিছু বললেই সেটা যেন নওশাদ এ কান দিয়ে ঢুকিয়ে ও কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে।
নওশাদ এবার কল্পনার দিকে অনেকটা ঝুকে এলো।সেটাতে বেশ পিছিয়ে গেল কল্পনা।তারপরেও কল্পনার থেকে নওশাদ তার দূরত্বটা আবার কমিয়ে নিল।ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে বলতে লাগলো সে,
"বেবি গার্ল।আমাকে কতদিন আর ইগনোর করবা?আমার প্রেমে তো তোমাকে পড়তেই হবে।সেটা আজ হোক আর কাল।তুমি এই নওশাদের হবেই।মাথায় থাকে যেন সেটা"
এবার আর প্রীতি থেমে থাকলো না।
"কল্পনা চল তো এখান থেকে!"
কল্পনার হাতটা ধরে এক প্রকার টানতে নিয়েই সামনে এগিয়ে চলল প্রীতি।নওশাদ যেভাবে কল্পনাকে দেখছিল,সেই নজর যেন কিছুতেই ভালো ঠেকছিল না প্রীতির কাছে।ভার্সিটির এসব জিনিসই তো অনেক বিরক্তিকর লাগে প্রীতির কাছে।সহ্যও করা যায় না আবার কিছু বলাও যায় না।মোস্ট সিনিয়রদের সাথে লাগলে আরেক সমস্যা।সেই মোস্ট সিনিয়ররা তাদের ইমিডিয়েট জুনিয়রদের পেছনে লাগিয়ে দিয়ে ভার্সিটির পরের বছরগুলো অতিষ্ঠ করে রাখবে একদম।
#চলবে
গল্পটা কেন জানি আর লিখতে ইচ্ছা করতেছে না🥲প্রথমবার এতো সময় নিয়ে কোনো গঠনমূলক গল্প লিখছি সেজন্য হয়তো।কিন্তু বিশ্বাস করেন,এখনো অনেক অনেক অনেক কিছু বাকি আছে আপনাদেরকে দেখানোর মতো 🥹আপনাদের মুখ হা হয়ে থাকবে সেই অংশগুলো পড়ে।কিন্তু কয়েকদিন থেকে যেন আর লিখতেই ইচ্ছা করতেছে না😣কাল থেকে বেশ কয়েকজন আনফলো করেছে।আবার রিয়েক্ট-কমেন্টের জায়গায়ও মরুভূমি।মনে হচ্ছে আমি গল্প লিখে শুধু আমিই পড়তেছি🥲একপ্রকার রুচি উঠে যাচ্ছে গল্পটা থেকে।যতই বলেন না কেন,একজন লেখকের পক্ষে এভাবে একটা গল্প লিখা সম্ভব না।কমেন্ট বক্সে অন্তত 'নেক্সট পার্ট' কমেন্টাও তো করতে পারেন🙂এখন বুঝতেছি,অনেক লেখিকারা কেন পর্বের শেষে রিয়েক্ট-কমেন্টের কথা বলে।কোনো দিক থেকেই উৎসাহ পাচ্ছিনা।হয়তো গল্পটা তেমন ভালো হচ্ছে না তাই মনে হয়🫠অফ করে দিয়ে অন্য গল্প লিখা শুরু করব কি?🥲