ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৫০তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৫০

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দেশে শীতটা তেমন দেখা যায় না।কিন্তু এবার যেন একটু ভালো করেই বিরাজ করতে শুরু করেছে শীতের আবহাওয়াটা।বর্ষাকালের থেকে যেন এই সময়টাতেই দরজা-জানালা দিনের বেশির ভাগ সময় লাগিয়ে রাখতে হয়।তবে বর্তমানে সাহিত্যের রুমের প্রতিটা দরজা-জানালা লাগা থাকলেও ওয়াশরুমের দরজাটা যেন হালকা খোলাই আছে।সেই খোলা দরজা দিয়ে ভেতরের আলোটা আসার সাথে সুক্ষ্মভাবে 'বায-বায' শব্দ তুলে ট্রিমারের আওয়াজও খানিকটা আসছে।

আয়নায় নিজের দাড়িদের আবার পরখ করে নিল সাহিত্য।এখনো বেশ বড়ই আছে।এবার হালকা উপরে নজর গেল তার।শুধু দাড়ি কেন?মাথার চুলগুলোও বেশ বড় হয়েছে।সেই কালো রঙা হালকা ওয়েভি চুলগুলো আঙ্গুল দিয়ে ব্রাশ করতে লাগলো সাহিত্য।গত এক মাসে যে একবারও চুল-দাড়িতে হাত দেয়নি সে।ভিভাসফট কোম্পানির দিকটা সামলাতেই যেন নিজের দিকে একটু কমই দেখা হয়ে উঠেছে।কিন্তু সেই কোম্পানির ব্যাপারে চিন্তা করলে প্রতিবারই যেন এক কুটিল হাসি ফুটে ওঠে সাহিত্যের ঠোঁটখানায়।

ট্রিমারটা পূণরায় চালু করে গালের কাছে সেটা চালাতে লাগলো।তবে ক্ষণিক বাদেই হাত থামিয়ে পাশে ভাইব্রেট করতে থাকা ফোনের দিকে নজর দিল সাহিত্য।রিসিভ করে স্পিকারে দিয়ে আবার ট্রিমারে মনযোগ দিল সে,

"হুম ভিকি,বল"

শান্ত স্বর ভিকির,

"ব্যস্ত নাকি?"

"না।শেভ করছিলাম একটু।বল কি হয়েছে"

পর মুহুর্তেই কিছু বলল না ভিকি।সময় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বলল,

"বাংলাদেশে কি এবার বেশি শীত পড়েছে?"

গাল থেকে ট্রিমার কন্ঠনালিতে নামালো সাহিত্য,

"কেন?আমার জন্য শীতের কাপড় পাঠাবি নাকি?"

ভিকি ভ্রু কুচকালো,

"না রে ভাই।আমি কাপড় কিনবো"

"হঠাৎ দেশের শীতের প্রতি এতো পিরিত কেন জন্মালো তোর?কানাডার অমন ঠান্ডায় তুই এতো পাতলা সোয়েটার পরবি?"

"এখানে কে পরবে?আমি তো দেশে পরার কথা বলছি"

"ও আচ্ছা"

গলায় ট্রিমার চালাতে নিয়েই কথাটা বলল সাহিত্য।কিন্তু ক্ষণিক মুহুর্ত পরই যেন তার টনক নড়ল।এক ঝটকায় ফোনের দিকে ঘুরলো সে,

"তুই বিডি-তে আসছিস?!"

সাহিত্যের বিস্ময় ভরা ভারী কন্ঠে হঠাৎই পর মুহুর্তে 'আউ' শুনা গেল।ব্যতিব্যস্ত হয়ে মাথা ঘুরাতে নিয়ে যে ট্রিমারটা গলার চামড়ায় লেগে হালকা র'ক্ত ঝড়ছে সাহিত্যের।হঠাৎ সাহিত্যের সুক্ষ্ম আর্তনাদ শুনে ভিকিও ব্যতিব্যস্ত হয়ে শুধালো,

"কিরে?কি হলো?"

গলার কাছের র'ক্ত মুছতে নিয়েই বলল সাহিত্য,

"কেটে ফেলেছি"

ভিকি ভালো করেই বুঝলো যে সাহিত্যের দাড়িরই কোনো জায়গা কেটে গিয়েছে।কিন্তু তারপরেও মজা নিতেই যেন বলে উঠল,

"কি বলিস!বিয়ে হওয়ার আগেই গেল?কল্পনার কি হবে এখন?আমার পিদ্দি ভাবিটা তোকে এভাবে গ্রহণ করবে তো?"

ভিকির কথায় বেশ চটেই গেল সাহিত্য।কটমটিয়ে উঠল সে,

"আব্বে কানাডার মোটা সোয়েটার!!গলার কাছে কেটেছে!অয়ন আর তোর মাথায় এগুলো ছাড়া কি আর কিছুই আসে না?একটা গে বানিয়ে দিচ্ছিস,তো একটা সম্পদই কেটে ফেলছিস।ভাগ্য ভালো রবি তোদের দুটো থেকে একটু তো ম্যাচিউর আছে।নাহলে ওটাও কিছু না কিছু বানিয়ে দিত"

শব্দ করেই হাসল ভিকি,

"বউ ঘরে আছে তো ব্যাটার,তাই এতো ম্যাচিউর"

হাতের ট্রিমার সাইডে রেখে দিল সাহিত্য।আপাতত আর শক্তি কুলাচ্ছে না তার।কোনো বারবার শপে গিয়ে চুল দাড়ি ছাটাই করে আনবে না হয়।পানির নল ছেড়ে মুখে পানি দিতে নিয়েই শুধালো সাহিত্য,

"যেটা বলছিলাম।তুই কি বিডি-তে আসছিস?"

হাসি থামিয়ে গলা খাকাড়ি দিল ভিকি,

"হ্যাঁ মনে হয়"

ভিকির কন্ঠের কোমলতাভাব বুঝতে পেরে সাহিত্য হেসে উঠেই বলল,

"হঠাৎ যে"

"ওই...আরকি....রবির মতো একটু ম্যাচিউর হতে চাচ্ছিলাম"

সাহিত্য তোয়ালে দিয়ে মুখ মুসছিল।সেই তোয়ালের নিচেই ভ্রু কুচকে বিড়বিড় করল,

"রবির মতো ম্যাচিউর?"

আবারো ভিকির কথার মানে ক্ষণিক বাদে বুঝতে পেরেই পূর্বের ন্যায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল সাহিত্য,

"তুই এশাকে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেছিস?!"

কাঁদো গলা ভিকির,

"হ্যাঁ ভাই"

"ও হ্যাঁ বলেছে?"

"হ্যাঁ রে ভাই।এবার কোনো পিপারেশন ছাড়াই হুট করে বলেছিলাম।আর তোর বোন এবারই মেনে গেল"

ভিকির কাঁদো গলা শুনেই হয়তো সাহিত্য শুধালো,

"তুই খুশি না?"

বেশ ভড়কালো ভিকি,

"খুশি কেন হবো না?আমার বিয়ে আর আমিই খুশি হবো না আবার?শুধু একটু খারাপ লাগছে এটা ভেবে যে,আমার খুব ইচ্ছা ছিল একটু ছোটখাটো সারপ্রাইজ দিয়ে সে কথা বলতাম তাকে।কিন্তু সব বেহেশতে গেল"

দুষ্টু হাসি ফুটল সাহিত্যের মুখে,

"সমস্যা নেই।বিয়ের রাতে সে ব্যবস্থা করে নিস"

সাহিত্যের সে কথায় ভিকি দুটো গালি দিলেও হাসি থামলো না সাহিত্যের।বিছানার উপর হাতের তোয়ালেটা রেখে বলল সাহিত্য,

"তো কবে আসছিস?"

"এ মাসের শেষের দিকে ডেট ফাইনাল হতে পারে।তাই হয়তো কয়েকদিনের মধ্যেই যাওয়া হবে"

সুক্ষ্ম বিরতির পর আবার বলল ভিকি,

"দেশে গিয়েই কিন্তু শশুড় আব্বার সাথে তোর বাসায় যাব,বিয়ের কার্ড নিয়ে।তোর বাড়ির দুই লিজেন্ডের সাথে দেখা করব না?তোফায়েল আঙ্কেল আর ফাহাদ আঙ্কেলকে তোর কু-কর্মের ব্যপারে জানাতে হবে না?"

ভিকির দুষ্টু হাসিমাখা কথায় সাহিত্যও হালকা ঠোঁট বাকালো,

"আসিস-আসিস।তোর কথা শুনেও যদি অন্তত আমার আর কল্পনার বিয়েটা দিয়ে দেয়"

হেসে উঠল দুই বন্ধুই।অতঃপর আরো কিছু টুকটাক কথা বলে বিদায় জানালো একে-অপরকে।ফোনটা রেখেই মেকি হাসলো সাহিত্য।তার বেস্টফ্রেন্ডটা অবশেষে তার ভালোবাসার পূর্ণতা পাচ্ছে।সাহিত্য যে কবে পূর্ণতা পাবে?নাকি.....সেই পূর্ণতা অর্জন করে নিতে হবে?উত্তরের জায়গাটা যেন শূন্যই থেকে গেল।গলার কাটা জায়গাটা টনটন করে উঠতেই মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করল সাহিত্য।

রুমের মধ্যে ফাস্ট-এইড কিট না পেয়েই তো কল্পনার রুমের দিকে এগোলো।কিন্তু নিচ থেকে কল্পনার কথা কানে আসতেই সোজা নিচেই নামলো সে।

সময়টা একদমই মন্দ ছিল না।সবাই দুপুরের খাবার খেতেই ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত হয়েছে।সামনে লতিফা শেখকে দেখেই শুধালো সাহিত্য,

"ছোট চাচি,এন্টিসেপটিক ক্রিম আছে?থাকলে দাও তো"

জিজ্ঞেস করার আগেই সাহিত্যের ফর্সা গলদেশে নজর গেল লতিফা শেখের।অবাকের চূড়ায় উঠা অধর জোড়া আঙ্গুলের পেছনে লুকিয়ে বললেন তিনি,

"ওমা সে কি কথা!কাটলি কেমন করে?"

কল্পনা অনুর সাথে টেবিলে প্লেট সেট করছিল।একটা প্লেট মুছতে নিয়েই সিড়ির দিকে নজর গেল তার।সাহিত্য লতিফা শেখকে কিছু বলে যাচ্ছে।তবে সাহিত্য তার মাথাটা হালকা দোলালেও চুলগুলো যেন একটু বেশিই ঝাকি খাচ্ছে তার।অনেকদিন থেকেই সাহিত্যের চুল-দাড়ি সাধারণের থেকে একটু বড়ই মনে হচ্ছে।সাহিত্যের দিকে চোখ রেখেই হাতের প্লেটটা দুই হাত দিয়ে বুকে চেপে ধরল কল্পনা।নজর তার ঠিক সাহিত্যের উপর নয়,সাহিত্যের সেই ফর্সা ঘাড়খানা ছুয়ে যাওয়া চুলগুলোর উপর।ছেলেটাকে এমন ঘাড় সমান চুলেও যেন ভারী আকর্ষণীয় লাগে।সাহিত্য যখনই তার ঘাড়খানা নড়াচ্ছে তখনই ঘাড় ছুয়ে দেওয়া চুলেরাও যেন হালকা উঁচু-নিচু নড়ে উঠতে বাধ্য।

লতিফা শেখ সাহিত্যের সামনে থেকে সড়ে গেলে সাহিত্য এবার তার প্রেয়সীকে খুঁজতে লাগলো।সাহিত্য তার লক্ষ্য খুঁজে পাওয়ার পর যেন অতি সুক্ষ্ম সময়ের জন্য চোখাচোখি হলো সাহিত্য আর কল্পনার।কিন্তু সাহিত্যের চোখের দৃষ্টির সাথে নিজের দৃষ্টি মিলে যাওয়ায় কল্পনা ভড়কে উঠে উড়ন্ত মাছি দেখার মতোই নজর আর ঘাড় ঘুরাতে লাগলো।হয়তো সে সাহিত্যকে বুঝাতে চাইছে যে সে এতক্ষণ সাহিত্যকে অপলক দেখে যাচ্ছিল না।প্রেয়সীর এমন কান্ড দেখে হালকা হাসলো সাহিত্য।অতঃপর এসে ডাইনিং টেবিলে বসে

পড়ল,

"কি রান্না হয়েছে আজকে?"

অনু তার হাতের শেষ প্লেটটা টেবিলে রেখে বলে উঠল,

"দেশি মুরগী, গরু আর সবজি"

কল্পনা গরুর মাংসের বাটিটা টেবিলে রাখতেই সেখান থেকে ঘ্রাণ নিল সাহিত্য।নজর গেল পাশে।অন্ত তার এক হাতে থাকা খোলা বইটা পড়তে নিয়েই সাহিত্যের পাশের চেয়ারে বসল।আরেক হাত দিয়ে তো মাথা সমানে চুলকে যাচ্ছে।অন্তর বিকৃত মুখোশ্রি দেখেই বলে উঠল অনু,

"উফ্ ভাইয়া!খাওয়ার সময়টাতে অন্তত ব্রেক দাও।এমন করে পড়লে পরীক্ষার হলে না গিয়ে সোজা পাগলখানায় যেতে হবে"

অনুর সে কথা শুনে হালকা হাসলো সকলে।কিন্তু অন্তর যেন অনুর দিকে কোনো খেয়ালই নেই।বেচারার তো পরীক্ষা চলতি এই সময়টাতে পড়তে নিয়েই বেহাল দশা হয়েছে।

মহুয়া বেগম ধীর পায়ে এসে টেবিলে বসতে নিয়েই অন্তর উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

"অন্ত।বইটা রাখ এখন।খাবার খেয়ে উঠে পড়তে বসিস"

এবার দাদির ভারী কথা যেন ভালো করেই কানে ঢুকলো অন্তর।তাই তো বইটা বন্ধ করল।সাহিত্য সেদিকেই নজর দিয়ে হালকা হাসছিল।হঠাৎই আমেনা শেখ এসে ছেলের ঘাড়খানা এক প্রকার মটকিয়েই নিজের দিকে ঘুরিয়ে সাহিত্যের গলদেশ নিজের কাছে উন্মুক্ত করলেন,

"দেখি!গলা কেটেছিস নাকি?কই কেটেছে?কেমন করে কেটেছে?"

মায়ের এমন হেচকা টানে ভড়কালো সাহিত্য।কি উত্তর দেবে পর মুহুর্তেই যেন বুঝতে পারলো না।অতঃপর আমেনা শেখ যখন ইতোমধ্যে গলার কাটা জায়গায় ঔষধ লাগাতে ব্যস্ত তখন হালকা স্বরে বলে উঠল সে,

"শেভ করতে গিয়ে কেটেছে"

আমেনা শেখের ঝাড়ুনিটা যেন কল্পনার থেকেই পেল সাহিত্য,

"ভালো করে শেভ করবেন না?মন কই থাকে আপনার?আমি এখান থেকেই কাটাটা স্পষ্ট দেখতে পারছি।ওমন সেন্সিটিভ জায়গায় কেউ কাটে?যদি একটু এদিক-ওদিক হয়ে যেত,তাহলে কি হতো!পারেন না তো বারবার শপে না গিয়ে বাসায় কেন কাটতে বসেছেন?এতো বড় একটা ছেলে হয়ে নাকি ভালো করে শেভও করতে পারে না"

কল্পনার এমন ব্যতিব্যস্ত কথা শুনে তার দিকে সাহিত্য আড় চোখে দেখতে লাগলো।সাথে ঠোঁটের কোণাও বড়ভাবে বাকালো সে।

এদিকে কল্পনা তো সাহিত্যের কথা শোনা মাত্রই তড়িৎ গতিতে সাহিত্যের দিকে ঘুরে।গলা কেটেছে শুনে যেন বেশ রাগই উঠছিল তার।কিন্তু হঠাৎ সাহিত্যের এমন বাকা হাসির সাথে তীক্ষ্ণ নজর যেন কাবু করে দিল মেয়েটাকে।হঠাৎই থম মেরে গিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল।সাথে অযুহাত হিসেবে নিজের প্লেটে ভাত তুলতে লাগলো সে।কিন্তু ক্ষণিক বাদে আড় চোখে আবার সেদিকে দেখলো।আমেনা শেখ ছেলের ঘাড় পেছনের দিকে হেলিয়ে গলায় মলম লাগাতে ব্যস্ত। আর এদিকে তার ছেলে নিজের প্রেয়সীকে দেখতে ব্যস্ত।কল্পনা যেন আবার ভড়কে উঠল।এবার প্লেটে তরকারি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে।

বাড়ির তিন গিন্নিরা যেন এখনো শাশুড়ীর সাথে বেশ অভিমান করে রয়েছে।এতো মাস আগের কথা যখনই একটু ভুলতে বসে তখনই যেন তোফায়েল শেখ ও ফাহাদ শেখের কথা কাটাকাটিতে আবার মন খারাপ করে বসেন তারা।ক্যা'ন্সারের আসল বিষয়টা শুনে তারাও যে বেশ অবাক হয়েছিলেন।এতো বড় একটা প্লান করবে করুক,কিন্তু তাদেরও তো একটু জানাতো,না কি?কিন্তু মহুয়া বেগম যখন ধরিয়ে দেন যে তখন গিন্নিদের অবস্থাটাই কেমন ছিল যে বলতেন তিনি?রঞ্জক শেখও খুব সহজেই না করে দিতেন।তাই তো মহুয়া বেগম কাউকে কিচ্ছুটি বলেননি।তবে মহুয়া বেগম কল্পনার কথা সম্পুর্ণ লুকিয়ে গিয়েছেন সবার কাছে।হয়তো এক সুক্ষ্ম ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে,যে কল্পনাকে তেমন কড়া কথা না বললেও বাড়ির গিন্নিরা একটু হলেও কিছু শুনাতে পারেন তাকে।তার উপর বাড়িতে যেদিন তুলকালাম হয় সেদিন রাতে সাহিত্য মহুয়া বেগমের রুমে এসে কল্পনার ভেঙে পড়ার কথা সব বলেছে।আর সাথে এ-ও বলেছে যে কল্পনার ব্যাপারে বা সাহিত্যের কল্পনাকে পছন্দ করার ব্যাপারে যেন কাউকে কিচ্ছু না বলে।সে ব্যাপার নাকি সাহিত্য নিজেই সামলে নেবে।আর এতো ঝামেলার মাঝে এইসব ব্যাপারে বাড়িতে জানিয়ে আরেক মাথা ব্যথা দেওয়ার কোনো মানেই হয় না।

মহুয়া বেগম কল্পনার সাহিত্যকে শাসানো শুনে কল্পনার দিকে নজর দিয়ে মুচকি হাসলেন।অতঃপর তিন গিন্নির চালচলন গম্ভীর চোখে পরখ করতে লাগলেন তিনি।চোখের কাজ সাড়িয়ে আবার ভাতের প্লেটে হাত চালাতে নিয়ে বললেন,

"প্রথম দিকে তো নিজেদের মাঝে খুবই কম কথা চলতো।এখন সেদিকটায় ঠিক রেখে আমার সাথে লেগে পড়েছিস কেন তোরা?"

লতিফা শেখ ও হেনা শেখ বাকি বাচ্চাদের খাবার পরিবেশন করছিলেন।আর এতক্ষণে আমেনা শেখও সাহিত্যের প্লেটে ভাত দিতে ব্যস্ত ছিলেন।কিন্তু হঠাৎ শাশুড়ীর এমন কথায় থমকালেন তিনজনই।

প্রতিবারের ন্যায় তিন জা-এর মধ্যে লতিফা শেখই আগে বলে উঠলেন,

"কেন মুখ ফুলিয়ে থাকবো না?আপনাকে নিয়ে কত টেনশনে ছিলাম আমরা,জানেন আপনি?আপনার ছোট ছেলে তো প্রায়-প্রায় চোখই ভিজিয়ে ফেলত।এতো বড় কথাটা একবার বললে,অন্তত একবার আমাকে বললে কি হতো?সে যাক ভালো,যে তেমন কিছু হয়নি।সেটার জন্য আমি সেদিন রাতেই নফল নামাজ পড়েছিলাম।কিন্তু কষ্ট তো আমরাও পেয়েছি"

মহুয়া বেগম কিছু বলার আগেই আমেনা শেখ শাশুড়ীর প্লেটে দেশি মুরগীর মাংস তুলে দিতে নিয়ে লতিফা শেখের উদ্দেশ্যে শুধালেন,

"তুই ভুল বলিসনি লতিফা।কষ্ট তো পেয়েছি।কিন্তু একটু চিন্তা করেই দেখ।আম্মার অমন কিছু নাটক হিসেবে কি তুই মেনে নিতে পারতি?হেনা আর আমার তো প্রশ্নই আসে না।আর তেমন কিছু না হলে আজ আমরা এমন কথা বলতে পারতাম?"

হেনা শেখ দাঁড়িয়ে ছিলেন কল্পনা ও সামিয়ার মাঝে।সেখান থেকেই লতিফা শেখের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন তিনি,

"তোর কথা ঠিক আছে লতিফা।কিন্তু তেমন সিরিয়াস কিছু না হলে যে ভাইজান সাহিত্যকেও দেশে ফিরে আসতে দিতেন না।আম্মার ধরনটা ভুল ছিল।কিন্তু খারাপ ছিল না"

দুই জা এর এমন কথা শুনে লতিফা শেখ থতমত খেয়ে গেলেন।তাদের মাথার বুদ্ধি খুলল অথচ তার কেন খুলল না?তিনি তো বেশ অভিমান করে বসেছিলেন শাশুড়ীর উপর।বর্তমানে বড় দুই জা-এর কথা ভালো করেই বুঝলেন তিনি।কিন্তু নিজের দিকটা শক্ত রাখতেই বলে উঠলেন,

"যে যাই বলেন,আমি এখনো আম্মার উপর রেগে আছি কিন্তু।আমি তো ভয়ে ছিলাম যে আমার ছেলের বিয়ে দেখতে না পেরেই আম্মা চলে যাবেন?"

কথা বলতে নিয়েই চেয়ার টেনে বসলেন লতিফা শেখ।আর ওদিকে মায়ের শেষের কথা শুনে অন্ত ভ্রু কুচকে তার দিকে দেখে মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করল।সেই দৃশ্যে হালকা হাসলো সবাই।মহুয়া বেগম আড়ালে এক শ্বাস ছাড়লেন।যাই হোক,তার বউমারা যে এতোদিনে সেটা বুঝেছে এটাই অনেক।এর মাঝেই হেনা শেখ হাসি মুখে বলে উঠলেন,

"অবশ্য সেই বুদ্ধি আপনাকে দিয়েছিল কে আম্মা?"

হেনা শেখের কথায় তার পাশে বসে থাকা কল্পনা মুখ ভর্তি ভাত নিয়ে থম মেরে গেল।মহুয়া বেগমের সাথে সাহিত্যও বেশ ভড়কালো হেনা শেখের কথায়।কিন্তু মহুয়া বেগম চালাক মানুষ।কল্পনার দিকে একবারও না তাকিয়ে হেনা শেখের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,

"তিন শেখ আহমেদের মা এমনি-এমনি হইনি বউমা।তাদের কিভাবে সামলাতে হয় একটু হলেও জানা আছে আমার"

বাড়ির গিন্নিরা হাসি মুখে শাশুড়ীর সাথে কথা চালালেন।সাথে বাকি দুই গিন্নিও খেতে বসে পড়েছেন ইতোমধ্যে।বাড়ির শেখ আহমেদগুলো না থাকলে যেন প্রতি দুপুর এমনই যায়।গল্পগুজবের সাথেই মেতে থাকে ডাইনিং টেবিলটা।

আমেনা শেখের কিছু স্মরণে আসতেই সাহিত্যের দিকে ঘুরলেন তিনি,

"তোর খালা কল দিয়েছিল।এশার বিয়ের জন্য দেশে ফিরবে নাকি"

মুরগীর হাড্ডি চাবাতে নিয়েই বলল সাহিত্য,

"হুম।ভিকির সাথে কথা হয়েছে।ডিসেম্বরের শেষের দিকে ডেট ফাইনাল করার চিন্তা করছে।দেশে ফিরে নাকি খালু আর ভিকি এখানে আসবে,দাওয়াত দেওয়ার জন্য"

সাহিত্যের শেষের কথাটায় কল্পনার চোখ জোড়া জ্বলজ্বল করে উঠল।মনের মধ্যে আপনাআপনিই বলে উঠল সে,

'বিয়েএএ?'

কল্পনার তো তেমন কোথাও ঘুরাই হয়না।গত বছরে লতিফা শেখের এক ভাগিনার বিয়েতে দাওয়াত পেয়েছিল।কিন্তু এইচএসসি এর কারণে হেনা শেখ একদম যেতে দেননি।কিন্তু এবার তো আর তেমন কিছু নেই।তারউপর ভিকি আর এশার সাথে সরাসরি দেখা করারও খুব ইচ্ছা আছে কল্পনার।মনের মধ্যে লাড্ডু ফুটাতে নিয়েই যেন খাবার চিবোতে লাগলো সে।

সাহিত্য অন্তর দিকে মন দিল,

"আশেপাশে ভালো বারবার শপ কই আছে রে?চুলগুলো অনেক বড় হয়ে গিয়েছে।কাটতে হবে"

সময় না নিয়েই বলল অন্ত,

"সামনে গিয়ে মেইন রোডের সাথেই আছে।আমিও যাবো তোমার সাথে।আমারো একটু ছাটাই করতে হবে।ভাবছি এবার একটু ক্লিন শেভ দিব"

দাড়ি চুলকালো সাহিত্য,

"আমারো দেওয়া উচিৎ মনে হয়"

"না!!"

হঠাৎ শান্ত পরিবেশে কল্পনার চিৎকারে যেন কেপে উঠল সবাই।সাহিত্য মাথা তুলে দেখলো কল্পনা তার দিকে চোখ বড়-বড় করে দেখে আছে।ভ্রু কুচকে শুধালো সে,

"কেন না?"

কল্পনা যেন নিজের কথায় এবার নিজেই ভড়কে উঠল।এখন কি বলবে সে সাহিত্যকে?যে সাহিত্যের অমন ম্যানলি দাড়িগুলো বেশ পছন্দ তার?সেগুলো কাটলে কল্পনা সাহিত্যের মুখ দেখে মুখে কাপড় গুজে ফিলমি স্টাইলে পারবতির মতো উল্টো দিকে ঘুরে দৌড় লাগাবে?সে কথা নিশ্চয়ই বলা যাবে না।যার দরুন চোখ-মুখ কুচকিয়ে সরু করে বলে উঠল সে,

"ছিলা মুরগি লাগবে।তাই বলছিলাম আরকি।আর ছেলেদের তো দাড়ি রাখা সুন্নত!অন্ত ভাইয়ার কথা শুনে আপনি বেকার দাড়ি কাটিয়েন না"

কল্পনার কথায় ধীরে-সুস্থে ঠোঁট বাকালো সাহিত্য।প্রেয়সী যে তার দাড়ি পছন্দ করে সেটা বুঝতে পেরেই যেন মন গলে যাচ্ছে তার।এদিকে লতিফা শেখ কল্পনার কাধে হালকা চাপড় মেরে শুধালেন,

"তো এটাতে এতো চিল্লানোর কি আছে?মাঝে-মাঝে তোর কাজ কর্ম দেখে মনেই হয়না যে তুই ভার্সিটিতে পড়িস।শুধু হাতে-পায়েই লম্বা হয়েছিস তুই"

কল্পনা কোনো প্রতিক্রিয়া করল না।এখন কথা না বলাই শ্রেয় হবে।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

রাতে খাবারে টেবিলের পরিবেশ যেন বরাবরের মতোই শান্ত ছিল।দুপুরের থেকে একদম ভিন্ন।কিন্তু কল্পনার লাফিয়ে-লাফিয়ে সাহিত্যের রুমের দরজায় টোকা দেওয়ার কার্যে যেন কোনো পরিবর্তন আসে না।

রুমে ঢুকেই সাহিত্যের টেবিলের পাশে গিয়ে দাড়ালো সে।মনটা আজ বেশ ফুরফুরে তার।যেটা প্রমাণ করে দিচ্ছে কল্পনার হালকা শরীর দোলানো।রুমে আসার কারণ সাহিত্য জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠল কল্পনা,

"চিঠি দিতে এসেছি"

বেশ কয়েকদিন হলো সাহিত্য চিঠি পায়নি।সে চায়ও নি।কারণ সাহিত্য চায় না যে এতো তাড়াতাড়ি কল্পনার চিঠি দেওয়া বন্ধ হোক।প্রেয়সী যে তার এখন শুধু সে কারণেই সাহিত্যের কাছে ঘেষতে চায়।কল্পনা চিঠি দেওয়ার সময় সাহিত্যের গলাতেও নজর দিতে নিয়েই বলে উঠল,

"গলা এখনো জ্বলছে?"

ঘাড় ঘুরালো সাহিত্য।হালকা ঝুকে থাকা প্রেয়সীর মুখের দিকে দেখে মৃদু হাসলো,

"না"

সাহিত্যের হাসির প্রভাবটা যেন স্পষ্ট ফুটে উঠল তার কন্ঠে।ইদানীং কেন জানি সাহিত্যের হাসিটা বেশ সুন্দর লাগে কল্পনার।আগে কখনো খেয়াল করেনি আর এখন খেয়াল করছে সেজন্যই হয়তো।নিজের অতিরিক্ত ভাবনায় বেশ লজ্জা পেল কল্পনা।আর সেই লজ্জার মাত্রা আরো একটু বাড়ল এতক্ষণ ধরে সাহিত্যের খানিক কাছে ঝুকে থাকার দরুন।তাই তো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নজর ঝুকালো সে।সাথে স্বাভাবিকভাবে শুধালো,

"জ্বললে আমাকে বলিয়েন।আমি ঔষধ দিয়ে যাবো"

প্রেয়সীর আগাম যত্ন যেন এখনই নিতে ইচ্ছা করছে সাহিত্যের।বড় আপসোস করছে সে এই মুহুর্তে।ইস!কেন বলল যে জ্বলছে না!সাহিত্য যদি জানতো যে তার ললনা যত্ন করার জন্য সে কথা জিজ্ঞেস করেছে তাহলে তো সাহিত্য আরো এক দফা গলা কাটতেও রাজি আছে।সাহিত্য যেন এবার একটু বাচ্চামো করে বসলো।চোখের মণি জোড়া ডানদিকে উপরে নিয়ে ভ্রু কুচকালো সে,

"অবশ্য একটু টেনে ধরে আছে।গলার ভাজের কাছে কেটেছে তো"

"কই,দেখি"

কল্পনা বিনা বাধায় এগিয়ে এলো সাহিত্যের দিকে।সুক্ষ্মভাবে নজর দিল সাহিত্যের গলদেশে।সাহিত্য তো কল্পনার সামনে আগানো দেখেই ঘাড় পেছনে হেলিয়ে গলা উন্মুক্ত করেছে।ক্ষত স্থানের অবস্থা ভালো করে বুঝতেই যেন কল্পনা আলত করে হাত ছুয়ে দিল সেথায়।বিকেলের দিকে চুল-দাড়ি কেটে নিয়ে আসার পরেও অবশিষ্ট দাড়ির আঁচড়েই যেন হালকা লাল হয়ে উঠেছে জায়গাটা।আর ফর্সা ত্বকে সেটা যেন আরো ফুটে উঠেছে।কল্পনা জোর পায়েই দরজার দিকে এগুলো,

"আমি ক্রিম নিয়ে আসি"

কল্পনা রুম থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে।কিন্তু সাহিত্য তার ঘাড়খানা এখনো অমনই হেলিয়ে রেখেছে।বিড়বিড় করে আওড়ালো সে,

"ক্রিম না জানপাখি।একটা চুমু দিলেই চলতো আমার"

কল্পনা সেকেন্ড কয়েকের মধ্যে ফিরে এলো।সাহিত্যকে সেভাবেই থাকতে দেখে ফিক করে হেসে উঠল মেয়েটা,

"আরে,ঘাড়টা অমনই রেখে আছেন কেন?ব্যথা করবে তো"

কিছু বলল না সাহিত্য।তবে এতক্ষণ থেকে যে দুই হাত বুকে গুজে রেখেছিল সে অবস্থায় থেকেই শুধু মাথাটা ঠিক করে কল্পনার দিকে দেখে মৃদু হাসলো।কিন্তু কল্পনা আবার হেসে উঠে শুধালো,

"এখন আবার উপরে উঠান।ঔষধ দিয়ে দিব না?"

প্রেয়সীর হুকুম অমান্য করা সাহিত্যের পক্ষে কোনো কালেই সম্ভব ছিল না।যার দরুন ভদ্র ছেলের মতো মাথাটা আবার আগের ন্যায় হেলিয়ে দিল।

ঔষধ দেওয়ার পর্ব চুকিয়ে সোজা হয়ে দাড়ালো কল্পনা।ক্রিমের টিউবের ঢাকনা লাগার দিকে নজর রেখেই বলল,

"ভিকি ভাইয়ার বিয়ে কবে ঠিক হয়েছে?"

স্বাভাবিকভাবেই উত্তর করল সাহিত্য,

"এই মাসের শেষের দিকে"

"ও আচ্ছা"

হাসি মুখে কথাটা বলে গুণগুণ করতে নিয়েই বেড়িয়ে গেল কল্পনা।

সেদিকে দেখে ভ্রু কুচকালো সাহিত্য।হঠাৎ ভিকির বিয়ের কথা শুনে এতো খুশি কেন হলো মেয়েটা?একদিনের কথা বলে কি এমন মিল হয়েছে যে সাহিত্যই সেই খবর জানে না?

নিজের হিংসের দিকটা পাশে রেখে হালকা ভাবল সাহিত্য।ভিকির বিয়ে না,খুশি তো শুধু বিয়ের কথা শুনেও হতে পারে,তাই না?দেশে ফেরার পর থেকে কল্পনাকে তেমন কোথাও ঘুরতে যেতে দেখেনি সাহিত্য।আর বাসায় এসব পরিস্থিতিতে আসলেই অর্ধ পাগল হয়ে গিয়েছে তার প্রেয়সী।ভিকির বিয়েতে নিয়েই যেতে হবে মনে হয়।কয়েকদিন বাইরে থাকলে কল্পনার মনটা একটু ভালো হতে পারে।কিন্তু ফাহাদ শেখ যে যেতে দিবেন না।সেটা আরেক ঝামেলা।কিন্তু কল্পনা গেলে যে আবার সাহিত্যেরও একটু সুবিধা হতো।অমন বেশ কয়েকদিন প্রেয়সীকে না দেখে সাহিত্যের পক্ষে আবার থাকা সম্ভব?আর কল্পনা গেলে সাহিত্য একটু প্রাণ ভরে তাকে দেখতে পারতো।বিয়ে বাড়িতে এতো-এতো মানুষ থাকায় সাহিত্য কোন দিকে দেখছে সেটা হয়তো তেমন কারো নজরে পড়তো না।

কল্পনাকে ভিকির বিয়েতে নিয়ে যাওয়ার এক রাশ আশা মনের মধ্যে নিয়ে হাতের চিঠিটা খুলল সাহিত্য।

📜..............................................................

উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম

.................................................................📜

এতো বড় কাগজটায় এতো সুক্ষ্ম এক কথা দেখে বেশ মনমরা হয়ে গেল সাহিত্য।কল্পনা হয়তো আশা ছেড়ে দিয়েই সাহিত্যকে এই চিঠিটা লিখেছিল।চিঠিতে থাকা সেই এক বাক্যের পেছনে যে কল্পনার কত-শত অভিমান লুকিয়ে আছে সেটা যেন শুধু সাহিত্যেরই বোঝার সক্ষমতা রয়েছে।কিন্তু সেই ভারী অভিমানগুলোর জন্য তো একমাত্র সাহিত্যই দায়ি।কল্পনা যখন চিঠিগুলো পাঠিয়েছিল তখন দিব্বি উপেক্ষা করে গিয়েছিল সেগুলোকে।

বর্তমানে হয়তো সাহিত্য প্রতিটা চিঠির উত্তর কল্পনাকে কাগজে লিখে দিতে পারছে না।তবে প্রতিবারের ন্যায় এবারো চিঠিখানা মুখের সামনে ধরে মৌখিত চিঠি শুধালো সাহিত্য,

"উত্তর তো দিচ্ছি জানপাখি।প্রতিটা চিঠি পড়ছি আর তোকে নিজের মনের কথা বলছি।কিন্তু সেটা যে এই চিঠি আর আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে।তোর কাছে যে পৌঁছাতে পারছে না আমার মনের কথাগুলো।তোর দেওয়া এই চিঠিরা জানে,যে তোকে আমি কতটা ভালোবাসি।তারা যে আমার মনের অনুভূতির সাক্ষী হয়ে থাকছে"

#চলবে

অবশেষে ভিকি বাংলাদেশে আসতেছে🥹তার বিয়ের জন্য আমি অনেক এক্সাইটেড।অনেক কিছু হতে যাচ্ছে ভিকির বিয়েতে😜

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন