#পর্ব_৫২
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
"ব্যস্ততার কারণে সেদিকে খেয়ালই করিনি।তো কি বলো মেঝো চাচু?করা যায় পার্টনারশিপ?"
মুখে সে কথা বললেও মনে আরেক কথা শুধালো সাহিত্য,
'আমার কোম্পানির আশেপাশে ভিড়লেও জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দেব!আপনার সাথে শুধু একটা জিনিস আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেই পার্টনারশিপ হবে আমার।আর সেটা হলো আপনার মাথা পাগল ছোট কন্যা!যে নিজের বাপের চিন্তায় আমাকে পাত্তা দিচ্ছে না!!'
সাহিত্যের মনের কথা অন্য কেউ না বুঝলেও ফাহাদ শেখ সেই কথার প্রথমের অংশখানা খুব ভালো করেই বুঝলেন।কারণ ফাহাদ শেখও যে সাহিত্যের উপর রাগে ফুসছেন।ভিভাসফট কোম্পানির সাথে যেখানে F.S. কোম্পানির অনেক ভালো প্রফিটে পার্টনারশিপ চলছিল সেখানে হঠাৎই সেই পার্টনারশিপ ছিন্ন হয়ে যায়।ফাহাদ শেখ সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার পর যেন অফিস মাথায় তুলেছিলেন।সাহিত্যের অমন হঠাৎ ভিভাসফট কোম্পানি কিনে নেওয়ার মানেটা তিনি যেন কিছুতেই বুঝছিলেন না।সেই ছেলে নিশ্চয়ই ফাহাদ শেখকে নিচু করার জন্যই সে কাজ করেছে।নাহলে আর তো কোনো কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।
সাহিত্যের দিকে নজর রেখেই পায়ের উপর পা চড়িয়ে দিলেন ফাহাদ শেখ।অতঃপর সাহিত্যের ভারী পুরুষালী কন্ঠে বলা কথার উত্তরে ফাহাদ শেখও ভারী পুরুষালী কন্ঠে শুধালেন,
"তোমার কোম্পানির নামটা যেন কি?"
ফাহাদ শেখের সেই কথাই যেন যথেষ্ট ছিল উপস্থিত সবাইকে ভড়কে দিতে।ভিকি ভারী এক ঢোক গিয়ে আড় চোখে সাহিত্যের দিকে নজর দিল।সাহিত্যের লাল আভা বিরাজ করা চোখ জোড়া ফাহাদ শেখের দিকেই আটকে আছে।পড়নের টার্টল নেক সোয়েটারটা সাহিত্যের শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখায় বেশ গরম অনুভব করতে শুরু করেছে সে ইতোমধ্যে।ফাহাদ শেখ কি সেই কথা ইচ্ছা করেই বললেন?নাকি সাহিত্য যেমন ফাহাদ শেখের কোম্পানিকে পাত্তা দেয় না ফাহাদ শেখও তেমন সাহিত্যের কোম্পানিকে পাত্তা দেন না?সাহিত্য নিজের ভাবনায় কটমট করছে।ওদিক দিয়ে ফাহাদ শেখও কম কিছু না।সাহিত্যের এমন কটমট করা দেখে ভারী মজাই পাইছেন তিনি।
সাহিত্য রাগের মাথায় 'আউট অফ রেঞ্জ' কিছু বলে ফেলুক, তার আগেই ভিকি ফাহাদ শেখের উত্তর দিল,
"O.S.S. গ্রুপ এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিস"
সাহিত্যের দিকে নজর রেখেই ঠোঁট বাকিয়ে শুধালেন ফাহাদ শেখ,
"ও আচ্ছা।আমার স্মরণ শক্তি তেমন ভালো না তো।দেখি আমার অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলব"
সাহিত্য কোনো কথা ছাড়াই এক ঝটকায় উঠে দাড়ালো।সাহিত্যের সেই নড়চড়ে ফাহাদ শেখ খানিকটা ভড়কে উঠেই পায়ের উপর থেকে পা নামিয়ে নিলেন।ভিকি তো সাহিত্যের দিকে দেখে ভয়ে থরথরিয়ে কাপছে।
নিজের ভারী গাম্ভীর্য কন্ঠ দিয়ে আবারো বলে উঠল সাহিত্য,
"ভালো করে খোঁজ নিও চাচু।আর খোঁজ নেওয়ার সময় চেয়ারে বসে থাকার চেষ্টা করিও।কারণ স্মরণ শক্তিটা যেমন কমেছে,খোঁজ নিতে গিয়ে শরীরের শক্তিটাও কমে যেতে পারে"
নিজের ভারী কথা বলে পর মুহুর্তেই স্থান ত্যাগ করল সাহিত্য।আর ফাহাদ শেখ সাহিত্যের সে কথায় দাঁতে দাঁত পিষে যাচ্ছেন।এ কারণের হয়তো ফুসছেন,যে সাহিত্য যে কথাটা বলেছে সেটা যে একদমই ঠিক।ফাহাদ শেখ যখন প্রথম জেনেছেন যে O.S.S. গ্রুপ এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সি.ই.ও. তারই অপছন্দের ভাতিজা,তখন যে আসলেই ফাহাদ শেখের হাত-পা কাপতে শুরু করেছিল।
সাহিত্যের শেষ কথাটায় ফাহাদ শেখ কটমটিয়ে উঠে কড়া কিছুই বলতেন।কিন্তু ভিকি সামনে বসে থাকায় যে সেটা আর সম্ভব হয়ে উঠল না।নতুন জামাইয়ের সামনে নিজের মান-সম্মানটা
অক্ষুণ্ণ রাখতেই চুপ থাকলেন ফাহাদ শেখ।যতই তোফায়েল শেখের আত্মীয় হোক না কেন,ভিকি নিজ থেকে তার বিয়ের দাওয়াত দিতে এসেছে।সেই ক্ষেত্রে একটু ভদ্রতা তো ফাহাদ শেখেরও বজায় রাখা উচিৎ।
থমথমে পরিবেশ ঠিক করতেই যেন ভিকি বলে উঠল,
"বাসার বাচ্চা-কাচ্চাদের দেখছি না কেন জানি?আমার জানা মতে সাহিত্যের অনেকগুলো কাজিন থাকার কথা"
আমেনা শেখ বলে উঠলেন,
"অনু আর সামিয়া প্রাইভেটে গিয়েছে।আর অন্তর পরীক্ষা চলছে তো,তাই কিছু নোটস কিনতেই দুপুরের আগে বেড়িয়েছে"
কল্পনা যে বাসায় উপস্থিত আছে সে কথা যেন সম্পুর্ণ বাদ পড়ে গেল।অথচ সেই মেয়েটাই লাফালাফি করছিল ভিকির সাথে দেখা করার জন্য।কিন্তু আমেনা শেখ ও হেনা শেখ তাকে নিচে নামতেই নিষেধ করেছেন।কারণ কল্পনার সেই কাজে ফাহাদ শেখ পরে কল্পনার উপরই রাগ ঝাড়বেন।সাহিত্যের কোনো কিছুতেই যে ফাহাদ শেখ কল্পনাকে দেখতে পছন্দ করেন না।
গা ঝাড়া দিল ভিকি,
"সে যাই হোক।এখন দেখা হচ্ছে না তাতে কোনো সমস্যা নেই।কিন্তু আমার বিয়েতে যেন সব কাজিনরা আসে।সাথে তো আপনারা ফ্রি"
ভিকি শেষের কথাটা হেসেই শুধালো।ফাহাদ শেখের দিকে আবার নজর দিল সে।ফাহাদ শেখের দৃষ্টি উপরে কোরিডোরটায়।যেখান থেকে সুক্ষ্ম সময় আগেই সাহিত্য জোর পায়ে নিজের রুমে ঢুকে গেল।সেই দৃশ্য দেখে আড়ালেই শ্বাস ছাড়লো ভিকি।এই যমকে পার করে সাহিত্য কল্পনাকে বিয়ে করবে কেমন করে?
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে কেবলই ফোনটা হাতে নিয়েছিল সাহিত্য।তবে দরজায় নক করার শব্দে ফোন টেবিলে রেখে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল।কিন্তু দরজা খোলার পর মুহুর্তেই ভিকি এক প্রকার ঝাপিয়ে পড়ল সাহিত্যের উপর,
"মিস ইউ ব্রো!!!!"
ভিকির এমন হঠাৎ আক্রমণে বেশ হিমসিম খেল সাহিত্য।গলা জড়িয়ে ধরে রাখা ভিকিকে নিয়েই দুই ধাপ পিছাতে বাধ্য হলো সে।ভিকি তো পারলে উঠে সাহিত্যের কোলে চড়ে।জোরে-জোরে দুলতে নিয়েই আবার বলল ভিকি,
"তোরে অনেক মিস করেছি ভাই।লিসাও তোকে মিস করে।অফিসের সবাই তো তোর রাগের মাথায় বলা কথা শুনতে আকুপাকু করে....ইস,কলিজাটা আমার এখন একটু ঠান্ডা হলো।বাইরে অমন শুধু হাত মিলিয়ে মন ভরে আমার?"
ভিকির এমন কান্ড দেখে সাহিত্য আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারলো না।হালকা হেসে উঠল সে।ভিকির ন্যায় সে-ও ভিকিকে জড়িয়ে ধরল,
"আমিও মিস করছিলাম তোকে।তোর মতো রবি আর অয়ন আমাকে সামলাতেই পারে না।কত কাজ যে একাই সামলাতে হয়েছে!....আই মিস ইউ ঠু ব্রো"
সাহিত্যের শেষের কথায় ভিকি ধড়ফড়িয়ে সাহিত্যকে ছেড়ে দিয়ে দাড়ালো।সরু চোখ সাহিত্যের দিকে রেখে ডান হাতের তর্যনী আঙ্গুল নাড়াতে নিয়েই বলল সে,
"না ব্যাটা না।প্রথম আর শেষের কথা তুই ফেরত নে।ওটা যে তুই করিসনি সেটা আমার ভালো করেই জানা আছে।কল্পনারে পেয়ে দিন দুনিয়া ভুলে বসেছিস।আগের মতো আর আমার সাথে রাত জেগে কথাও বলিস না"
চোখে-মুখে মিথ্যার কান্নার ছাপ ফুটিয়ে আবার বলতে লাগলো ভিকি,
"কেন মনে নেই তোর!কানাডায় থাকাকালীন যখন কল্পনাকে পাত্তা দিতি না তখন সারা রাত আমার সাথেই কথা বলতি তুই।মাঝে-মাঝে তো কথা বলতে গিয়ে সকালও হয়ে যেত।এখন প্রেমিকা পেয়ে সব ভুলে গিয়েছিস??!!"
ভিকির কথায় বেশ বিরক্ত বোধ করল সাহিত্য,
"এমন করে বলছিস মনে হচ্ছে পিরিতের কথা বলতাম তোর সাথে।তখন রাত জেগে কোম্পানির ব্যাপারে ডিস্কাস না করলে এখন ভাড়ে যেতে হতো হারামি!"
ভিকি কন্ঠ বদলালো না,
"যেটাই বলি,কথা তো বলতাম।কিন্তু এখন তো সেটার জন্যও কথা বলিস না।বেশি রাত করে নাকি জাগা যাবে না।আব্বে কোন সাধু বাবা তোকে সেই টিপস দিয়েছে রে!!"
নজর নিচে নামিয়ে ঘাড় চুলকাতে লাগলো সাহিত্য,
"কল্পনা।বলেছে বেশি রাত করে জাগলে অসুস্থ হয়ে পড়ব,তাই যেন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি"
ভিকি তেরে গিয়ে এক হাত দিয়ে সাহিত্যের ঘাড় চেপে ধরল,
"সে কথা তো আমিও তোকে আগে কতবার বলতাম।আমার শত কথার কোনো মূল্য নেই।আর কল্পনার এক বাক্যেই 'জ্বী জাহাপনা', তাই না?কল্পনা কিন্তু আমার জায়গা দখল করছে।আমি কিন্তু সেটা মানবো না"
সাহিত্য কোনোরকম ভিকির থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল,
"তো বাসর ঘরে কি কল্পনার বদলে তুই আমার সাথে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস করবি?"
ভিকি চোখমুখ কুচকে নিল,
"অত গভীরে কেন যাচ্ছিস?"
ভিকির চাপাচাপিতে এখন বেশ হাসফাস লাগছে সাহিত্যের।যার দরুন বিছানায় বসতে নিয়েই বলল,
"তুই যা শুরু করেছিস,তাতে অত গভীরে না গিয়ে আর উপায় তো বাকি রাখিসনি"
ভিকি সাহিত্যের পাশে বসেই বিছানায় শরীরের পুরো ভাড় ছেড়ে দিল,
"ভালো কথা মনে হয়েছে।কল্পনা কি বাসায় নেই?সবার কথাই শুনলাম।শুধু তোর নাইটমেয়ারটার কোনো খোঁজ পেলাম না কেন জানি?"
"এখন তো বাসায়ই থাকার কথা।দাড়া দেখি"
সাহিত্য টেবিল থেকে ফোন হাতে নিয়ে হয়তো কল্পনাকেই ম্যাসেজ করল।কারণ ক্ষণিক বাদেই সাহিত্যের রুমের দরজায় কারো নক করার শব্দ শোনা গেল।সাহিত্য উঠতে যাবে তার আগেই ধড়ফড়িয়ে উঠে দরজার দিকে এগিয়ে গেল ভিকি।ভিকির কান্ড দেখে বরাবরের মতোই শ্বাস ফেলল সাহিত্য।
ভিকি দরজার ওপর পাশে যাকে আশা করেছিল সেই ব্যক্তিই দাঁড়িয়ে আছে।কল্পনা সাহিত্যের রুমে হঠাৎ অন্য এক ছেলেকে দেখে যেন বেশ থতমত খেল।পিটপিট করে ভিকির দিকে দেখতে লাগলো সে।আর এদিকে কল্পনাকে দেখা মাত্রই ভিকির চোয়াল ঝুলে পড়েছে।সামনের নব যুবতীর মেদহীন গোলগাল আদলখানা দেখে ভারী আদুরে লাগছে ভিকির কাছে।হালকা সবুজ রঙা থ্রিপিসটায় ফর্সা ত্বক আরো উজ্জ্বল লাগতে ব্যস্ত।আর পেছনের বাঁধন ছাড়া ভারী লম্বা কেশগুলো তো আছেই।ভিকি মাথা ঘুরিয়ে নজর দিল সাহিত্যের দিকে।শব্দ না করেই মুখে উচ্চারণ করল সে,
'এতো কিউট কেন!!'
ভিকির এমন কোটর ফাটিয়ে বের হয়ে আসা চোখ দেখে নিজের চোখ উল্টালো সাহিত্য।অতঃপর দাঁত চিবিয়ে অস্ফুটস্বরে বলে উঠল,
"ওকে ভেতরে আসতে দিবি?"
টনক নড়ল ভিকির।এবার কল্পনার দিকে ঘুরতেই কল্পনা তাকে সালাম দিল।এতক্ষণে হয়তো ভিকিকে চিনতে পেরেছে কল্পনা।কল্পনার কন্ঠ কানে বাজতেই যেন ভিকি আবার কল্পনার প্রশংসার চূড়ায় চলে যেতে ইচ্ছা করছে।তবে সালাম নিয়ে দরজা থেকে সড়ে দাড়ালো সে,
"এসো এসো।ভেতরে এসো। বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
কল্পনা গুটিগুটি পায়ে রুমে ঢুকতেই সাহিত্যের দিকে নজর গেল।অমনি সাহিত্যের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে মাথা নিচু করে নিল মেয়েটা।সেদিন ফোনে ভিকির সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও আজ যেন মাথা তুলতে পারছে না।মেয়েটা যে এমনই।সরাসরি ছেলেদের সাথে কথা বলতে বড়ই কাঁচা সে।মুখ আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে আসে।খুবই অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে নতুন কোনো ছেলে মানুষের সামনে যেতে।তাই তো সাহিত্যের নাগাল পেতেই সাহিত্যের দিকে ছুটে গেল।
সাহিত্য আড় চোখে দেখল তার প্রেয়সীকে।কল্পনা মাথাটা এই যে হেট করেছে, আর উঠার যেন নাম নেই।
নিঃশব্দে হালকা হেসে বলল সাহিত্য,
"কল্পনা।এটা ভিকি"
সাহিত্যের কথা শেষ হতেই কল্পনা মাথা হেট রেখেই ভিকিকে আরেক দফা সালাম দিয়ে বসলো।ভিকি প্রথম দিকে কল্পনাকে দেখে অবাক হয়েছিল বটে।কিন্তু এই মুহুর্তে ভ্রু জোড়াও
কুচকালো।কল্পনার পাশে থাকা স্টাডি টেবিলের কাছের চেয়ারটায় উল্টো দিক হয়ে বসল সে।হাত দুটো চেয়ারের হেলান দেওয়ার জায়গায় ঠেকিয়ে বলল,
"এই তুমি কল্পনাই তো?"
কল্পনা উপর নিচ মাথা ঝাকালো।ভিকি তার ইটালিয়ান কাট দাড়িতে আঙ্গুল ঘষতে লাগল,
"আমার তো মনে হচ্ছে না।আমি যেই কল্পনার সাথে ফোনে কথা বলেছি তার ব্যবহারে আর তোমার ব্যবহারে কোনো মিল পাচ্ছি না আমি"
কল্পনার পাশ থেকে সাহিত্য বলে উঠল,
"ওকে স্বাভাবিক হতে একটু সময় তো দিবি?মেয়েটা রুমে ঢুকার পর থেকেই কেমন বাদরের মতো করছিস"
সাহিত্যের দিকে দেখে নাক-মুখ কুচকালো ভিকি।কল্পনা যেন বুঝলো,যে তার একটু মুখটা খোলা উচিৎ।সাহিত্যের দিকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই শুধালো সে,
"অমন করে কেন বলছেন?ভিকি ভাইয়া কই বাদরের মতো করছে?"
কল্পনা এবার ভিকির দিকে ঘুরল,
"আপনি সাহিত্য ভাইয়ের কথার কিছু মনে করিয়েন না।আমি কিছু মনে করিনি।আসলে আমি ছেলেদের সামনে কথা বলতে একটু আনকম্ফোর্টেবল ফিল করি তো,তাই...আরকি...একটু.."
আবারো এলোমেলো নজর ফেলতে লাগলো কল্পনা।কল্পনার চোখের আড়ালেই হাসতে লাগলো ভিকি।সাহিত্যের দিকে ঘুরে মুখের ভঙ্গিমার ইশারাতেই তাকে বাহবা দিল।তার বন্ধুটা মেয়ে পেয়েছে একটা!রূপবতীর যেখানে ৩-৪টা বয়ফ্রেন্ড থাকার কথা সেখানে নাকি ছেলেদের কাছে ভিড়তেই পছন্দ করে না।অথচ দেখো,সাহিত্যের গা ঘেঁষে কেমন নির্দিধায় দাঁড়িয়ে আছে।সাহিত্য ছোট থেকে ভালোই পেলেপুষে বড় করেছে নিজের প্রেয়সীকে।
ভিকি মুখের হাসি বড় করে বলে উঠল,
"আরে আমি আবার কোনো ছেলে?"
ভিকির কথায় কল্পনা ও সাহিত্য দুজনেই ভড়কে উঠে নজর দিল ভিকির দিকে।কল্পনা ভ্রু কুচকে শুধালো,
"আপনি.....ছেলে না?"
সাহিত্য তো এতক্ষণে ভিকিকে মানুষের কাতার থেকে ত্যাজ্য করে দিয়ে নাক-মুখ কুচকে আছে।এবার নিজেও বেশ ভড়কালো ভিকি।ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল ছেলেটা,
"আরে না না!!আমি সেটা বুঝাইনি!আমি তো বলছিলাম যে আমি আবার বাইরের কোনো ছেলে?তোমার বড় ভাইয়া লাগি না আমি?বড় ভাই আবার পর ছেলে হয় নাকি?একদম ফ্রি-ভাবে আমার সাথে কথা বলতে পারো"
ভিকি দাঁত কেলিয়ে চোখ জোড়া বুজে হেসেই যাচ্ছে।তবে সেই দৃশ্য দেখে সামনের দুই ব্যক্তির এখনো ভ্রু কুচকানো।সাহিত্য এবার কল্পনার একটা হাত ধরে তাকে সামনের দিকে টানলো,
"হয়েছে।তুই এখন রুমে যা"
সাথে-সাথে ভিকি ভড়কে উঠল,
"কেন?একটু গপ্পোশপ্পো হয়ে যাক"
"এখন না।তোর বিয়েতে গিয়ে গল্প করার অনেক সময় আছে......এই তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন?যা-যা"
শেষের কথাটা কল্পনাকে পেছন থেকে ঠেলতে নিয়েই বলে উঠল সাহিত্য।কল্পনা ভদ্র বাচ্চার মতোই আর কোনো কথা বাড়ালো না।হাসি মুখে ভিকিকে সালাম দিয়েই বেড়িয়ে পড়ল সে।
কল্পনার যাওয়ার পানে দেখে হতাশার শ্বাস ফেললেও ভিকি পর মুহুর্তে চেয়ার থেকে উঠে এসে সাহিত্যের পাশে বসলো।ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে সাহিত্যের বাহুর সাথে নিজের বাহু লাগিয়ে মৃদু ধাক্কা দিতে লাগলো সে,
"তাই তো বলি,তোর দ্বারায় কন্ট্রোল হয়না কেন।এমন একটা বউ থাকলে মানুষের মাথাটাই বা কেমনে ঠিক থাকবে?তোর ধৈর্য্য দেখে আমি অবাক হচ্ছি।এতো ধৈর্য্য ধরা কবে থেকে শিখলি?আমার জানা মতে তো তুই এতদিনে বিয়ে করে ফেলার মানুষ।আর তুই কিনা এখনো কল্পনাকে দূর থেকে দর্শনে রেখেছিস"
সাহিত্য ভিকির এমন আচরণে বরাবরই অভ্যস্ত।যার দরুন তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দিল না সাহিত্যের মাঝে।শুধু দরজার দিকে নজর রাখা ছাড়াও এবার একটু মেকি হেসে উঠে শুধালো,
"কাউকে শুধু ভালোবাসলে নিজের করে রাখতে ইচ্ছা করে।কিন্তু আমি এক উন্মাদ আসক্তের সেই পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছি, যেই পর্যায়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ সামলাতে হয়তো তাকেই হিমসিম খেতে হবে।সেই চিন্তাতেই এখনো তার দিকে আগাতে ভয় পাই আমি"
ভিকি আর কিছু না বলে শুধু দেখে থাকলো তার বন্ধুর দিকে।তার বন্ধুটা আসলেই পাগল হয়ে আছে নিজের প্রেয়সীকে পাওয়ার জন্য।কিন্তু সেই পাগলামি দাবিয়ে রেখেছে কিছু বাধার জন্য।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
বিকেলের দিকে আসায় হুমায়ূন সাহেব আর ভিকি দুপুরের খাবার খেতে পারেনি।কিন্তু রাতের খাবার উপেক্ষা করার কোনো উপায়ই দিলেন না শেখ পরিবারের সদস্যরা।এই সুযোগে বাড়ির বাকি বাচ্চাদের সাথেও দেখা হয়ে গেল ভিকির।অন্তকে দেখে প্রথমে রবি আর অয়ন যেমন টাস্কি খেয়েছিল ভিকির ক্ষেত্রেও ভিন্ন কিছু হলো না।
যাওয়ার আগে ভিকি মহুয়া বেগমের রুমে আরেক দফা ঢুকলো।সাহিত্য সহ বসে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলল তার সাথে।ভিকি খুব করে বলল মহুয়া বেগমকে তার বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার জন্য।কিন্তু এই ভারী শীতের ঠান্ডায় শরীরটা তেমন ভালো ঠেকছে না মহুয়া বেগমের।মুহিত সাহেবও তেমন চলাফেরা করতে বারন করেছেন।তাই তো ভিকিকে কথা দিতে পারলেন না তিনি।
অবশেষে মহুয়া বেগমের কাছে দোয়া নিয়ে,সালাম দিয়ে বেড়িয়ে পড়ল ভিকি।কিন্তু সাহিত্য এখনো ঠাই দাদির কাছে দাঁড়িয়ে আছে।সাথে মুচকি হাসছেও ছেলেটা।মহুয়া বেগম জিজ্ঞেস করতেই বলে উঠল সে,
"আজ দুপুরে তিনজনই বসে গল্প করছিল,দেখেছো?"
সাহিত্যের কথায় ঠোঁট বিকৃত করে চোখ উল্টালেন মহুয়া বেগম,
"এসব ঢং সেই শুরু থেকেই দেখে আসছি।নতুন কিছু থাকলে বল"
নিচের ঠোঁট উলটিয়ে কাধ উঁচু করল সাহিত্য,
"আপাতত নতুন কোনো আপডেট নেই"
কাধ উঁচু রেখেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেল সাহিত্য।মহুয়া বেগমের চোখে সাহিত্যকে আজ ভালোই ফুরফুরে মেজাজের লাগছে।তবে সেটা হয়তো ক্ষণিকের।কারণ ফাহাদ শেখ সামনে পড়লে যে আবার গম্ভীর হয়ে উঠে সেই মুখোশ্রি।
#চলবে
আপনাদের লেখিকার তরফ থেকে সবাইকে
ঈদ মোবারক! 🥳🥳❣️