#পর্ব_৫৬
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
প্রীতি বেশ অনেকক্ষণ থেকেই অনুর সাথে দাঁড়িয়ে ছিল।কিন্তু কিছুক্ষণ আগেই সামিয়া যেন কই নিয়ে গেল অনুকে।তাই তো এখন একা দাঁড়িয়ে আছে প্রীতি।পড়নের পার্পেল লং গাউনটা বেশ মানিয়েছে মেয়েটাকে।কমোড় ছুই-ছুই চুলগুলো রোল কার্ল করা।সবকিছু মিলিয়ে কম আকর্ষণীয় লাগছে না তাকে!
হালকা গ্লিটার আইস্যাডো দেওয়া চোখগুলো দিয়ে অবশেষে এবার কল্পনাকে খুজতে লাগলো সে।কিন্তু এতো মানুষের মাঝে সেটা যেন বড়ই ব্যর্থতার কাজ।তারপরেও প্রীতির চোখ এক জায়গায় আটকে গেল।সেপাশে দেখে যেন মেয়েটা অবাকের চূড়ায়।সাহিত্য আর কল্পনা কি সুন্দর করে কাপল ডান্স করছে!প্রীতির বেস্টফ্রেন্ডটার মুখে হাসি থৈ থৈ করছে,সাথে সাহিত্যেরও।
প্রীতি যদি এখন কল্পনাকে নিজের দৃষ্টি কোণ থেকে এই দৃশ্য দেখাতে পাড়তো তাহলে হয়তো কিছুটা সুবিধার হতো।প্রীতি অন্তত কল্পনাকে এটা বুঝাতে পাড়তো যে তাদের দুজনকে একসাথে কি সুন্দরটাই না লাগে!কিন্তু কল্পনার প্রতিক্রিয়া প্রীতির জানা আছে।কল্পনা বরাবরের মতোই উপেক্ষা করতো সেই বিষয়টা।
"এক্সকিউজ মি।কেন উই হ্যাভ আ ডান্স?"
এক যুবকের কন্ঠে ভ্রম কাটলো প্রীতির।পাশ ফিরতেই দেখলো এক কানাডিয়ান যুবক তার দিকে এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে রেখেছে।মুখে মৃদু হাসি নিয়ে শুধালো প্রীতি,
"সরি,আম নট ইন্টারেস্টেড"
"ওহ প্লিজ।ইউ আর লুকিং সো লোনলি,প্রিটি লেডি।লেট মি হেল্প উইথ দ্যাট"
প্রীতি যেন বেশ বিপাকে পড়ে গেল।এমন অচেনা এক ছেলের সাথে নাচতে সে একদমই ইচ্ছুক না।কিন্তু জোর দিয়ে তেমন কিছু বলতেও পারছে না।কি করবে না করবে বুঝে উঠতে নিয়েই আরো এক কন্ঠ কানে এলো তার।
"শি ইজ উইথ মি,মিস্টার"
অন্তর কথায় প্রীতি এবং সেই যুবক দুজনেই তার দিকে ঘুরল।তবে সামনের কানাডিয়ান যুবক মেকি হেসে বলে উঠল,
"নট 'ইউর' গার্ল, আই থিংক"
যুবকের দিকে এগিয়ে এলো অন্ত।শক্ত কন্ঠে বলল,
"আনফর্চুনেটলি,শি ইজ।শি ইজ 'মাই' গার্ল"
অন্তর এমন দৃঢ় কথায় সেই যুবক যেন বাধ্য হলো পিছাতে।ছেলেটা চলে যেতেই প্রীতি মৃদু হেসে অন্তর মুখ ভেংচালো,
"আনফর্চুনেটলি,শি ইজ?"
পাশ ফিরে প্রীতির দিকে নজর দিল অন্ত।তার মুখের কঠিনত্ব যেন পর মুহুর্তেই সড়ে গেল,
"এমন করছো কেন?বেয়াদব ছেলেটা অনেকক্ষণ থেকেই তোমার দিকে দেখে ছিল"
এক ভ্রু উঁচিয়ে শুধালো প্রীতি,
"সেই ছেলে আমার দিকে অনেকক্ষণ থেকে দেখে ছিল সেটা আপনি কেমন করে জানলেন?"
প্রীতি যেন ইচ্ছা করেই অন্তকে বিপাকে ফেলার বুদ্ধি রটিয়ে যাচ্ছে।আর অন্ত সেটাতে কাবুও হয়ে গেল।কোনো উত্তর দিতে পারছে না ছেলেটা।শুধু এলোমেলো নজর ফেলছে।এবার হালকা শব্দ করে হেসে বলে উঠল প্রীতি,
"আচ্ছা বাদ দিন ওসব।আসেন আমরা ডান্স করি"
অন্ত বেশ ভড়কে উঠেই প্রীতির দিকে দেখল,
"ন-না।থাক।আমি ঠিক আছি"
এবার যেন প্রীতি সেই কানাডিয়ান যুবকের মতো জোর করে বসল,
"এই প্রিটি লেডি আপনার সাথে ডান্স করতে চাইছে,আর আপনি মানা করছেন?এটা কিন্তু একদম ঠিক হচ্ছে না"
আবার এলোমেলো নজর ফেলে শুধালো অন্ত,
"আসলে...আমি....তেমন কমফোর্টেবল না।মেয়েদের সাথে আমি কেমন সেটা তো তুমি আগে থেকেই জানো"
"তো বাকি মেয়ে আর আমি এক?"
প্রীতির ধীমি কন্ঠে বলা কথায় তার দিকে অন্ত নজর দিল।প্রীতি নিজের মনভাব যেন পর মুহুর্তেই বদলে ফেলল,
"আচ্ছা থাক সমস্যা নেই"
কথা শেষ করেই উল্টো দিকে ঘুরে পা বাড়ালো প্রীতি।অমনি পেছন থেকে অন্ত তার হাত টেনে ধরল।অন্তর এমন হাত টেনে ধরায় প্রীতি যতটা না অবাক হয়েছে তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে অন্ত নিজেই।তার হাতখানা যেন আপনা-আপনিই এগিয়ে গিয়েছে।হয়তো মনের কোনো এক কোণায় খারাপ অনুভব হচ্ছিল প্রীতির এমন করে চলে যাওয়ায়।অন্ত যেন এই কয় মাসে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে শুরু করেছে।যার কারণটা হয়তো সামনের এই মেয়েটা।কারণ,যেখানে অন্ত মেয়েদের থেকে শত হাত দূরে থাকে সেখানে এই মেয়ের ব্যাপারে জানার ইচ্ছাটা যেন প্রতি ক্ষণে বেড়েই যাচ্ছে ছেলেটার।
প্রীতি মাথা ঘুরিয়ে আগে নজর দিল অন্তর হাতের দিকে।তারপর অন্তর মুখের দিকে।সেই স্বাভাবিক নজরেও যেন কেপে উঠল অন্ত।ব্যতিব্যস্ত হয়ে প্রীতির হাতটা ছেড়ে দিল।
নিজের হাসি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে বলল প্রীতি,
"কিছু কি বলতেন?"
অন্ত সময় নিয়ে বলে উঠল,
"পাঁচ মিনিটে তেমন আনকম্ফোর্টেবল ফিল না-ও হতে পারে মনে হয়.....তবে আমি কিন্তু তেমন ভালো ডান্স পারি না"
শেষের কথাটা প্রীতির একদম চোখ বরাবর দেখেই শুধালো অন্ত।
এবার প্রীতি শব্দ করেই হাসলো।অতঃপর অন্তর হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিতে নিয়ে শুধালো,
"সমস্যা নেই।আমি শিখিয়ে দিচ্ছি"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
নাচের প্রায় অনেক সময়ই হয়ে যাচ্ছে।অন্ত তো ইতোমধ্যে লাল হয়ে উঠেছে।প্রীতির হাতের সুক্ষ্ম ছোয়া যেন বড্ড মারাত্মক ঠেকছে তার কাছে।তবে এর মাঝেই প্রীতি বলে উঠল,
"কল্পনা সাহিত্য ভাইয়ার সাথে কত ফ্রি,তাই না?"
প্রীতির কথা শুনে প্রীতির চোখের লক্ষ্য অনুসরণ করে পেছনে দেখলো অন্ত।সাউন্ড বক্সে এখন রেস টু মুভির 'লাত লাগ গেয়ি' গানটা বাজছে।আর সেই গানখানার প্রতিটা স্টেপ যেন সাহিত্য আর কল্পনা কমোড় দুলিয়ে উপভোগ করতে ব্যস্ত।এবার তাদের সাথে নাচে অয়ন,ভিকি,রবি সহ এশা আর রবির বউ ইরাও যোগ দিয়েছে।
সাহিত্য আর কল্পনার এমন ফাজলামো নাচ দেখে হেসে উঠল অন্ত।তাদের দিকে নজর রেখেই প্রীতির উদ্দেশ্যে বলল,
"কল্পনা হওয়ার পর থেকেই সাহিত্য ভাইয়ার কাছে আছে।একমাত্র সেই ছেলেটাই আছে যার সাথে কল্পনা এতো ফ্রি।মেঝো মা আর মেঝো বাবার পর শুধুমাত্র ভাইয়াকেই মনে হয় কল্পনা নিজের গার্জিয়ান হিসেবে দেখে।অবাক করার বিষয় হলো মাঝখানের ১১বছর যে তারা একসাথে ছিল না সেটা যেন বুঝাই যায় না ইদানীং"
প্রীতি একবার চিন্তা করল অন্তকে জিজ্ঞেস করবে সাহিত্যের মনের কিছু কথা নিয়ে।ছোট ভাইয়ের সাথে একটু হলেও তো মনের কথা ভাগাভাগি করতে পারে সাহিত্য।কিন্তু বলতে গিয়েই থেমে গেল।যদি অন্ত তেমন কিছু না জানে?তাহলে সব দোষ কল্পনার ঘাড়ে গিয়েই পড়বে।সে কথা চিন্তা করেই চুপসে গেল মেয়েটা।
তবে এতক্ষণ পর আবারো মনটা খুড়খুড়িয়ে উঠল অন্তকে একটু জ্বালাতন করতে।যার দরুন দুষ্টু কন্ঠে বলে উঠল প্রীতি,
"আপনি নাকি মেয়েদের সাথে তেমন কমফোর্টেবল না?এতক্ষণ থেকে তো আমার সাথে দিব্বি ডান্স করছেন।সত্যিই কি আপনি মেয়েদের সাথে আনকম্ফোর্টেবল?"
অন্ত প্রীতির দিকে ঘুরে ব্যতিব্যস্ত হয়ে তার থেকে দূরে সড়ে গেল,
"কি বলতে চাচ্ছো তুমি?আমি মিথ্যা বলছিলাম?ওই....তুমি একটু জোরাজোরি করছিলে দেখেই তো নাচার জন্য তোমার হাত ধরেছি"
নিজের কথা চালিয়ে গেল প্রীতি,
"আমি তো চলেই যাচ্ছিলাম।আপনিই তো আমার হাত ধরলেন"
বেশ হকচকিয়ে গেল অন্ত,
"ও-ওটাকে...ভ-ভদ্রতা বলে।এখন দেখছি তোমার কাছে ভদ্রতা দেখিয়েও লাভ নেই।থাকো তুমি।আমি আর ডান্স করব না"
কথা শেষ করেই অন্ত হনহনিয়ে চলে গেল।সেটা দেখে হয়তো বেশ মজা পেল প্রীতি।তাই তো ফিক করে হেসে উঠল মেয়েটা।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
শীতের মাঝের আবহাওয়ায় রোদের হলুদভাবখানা না থাকলেও রিসোর্টের মাঠের দিকের অংশটাতে যেন হলদেটে ভাব একদম মুখরিত হয়ে উঠেছে।আশেপাশে গাঁদা ফুলের গন্ধে যেন ভরাট পুরো এলাকাটা।মানুষের ভীড় থাকলেও বড় রিসোর্টটায় ছড়াছড়ি হয়ে আছে সবাই।তবে এক জায়গায় বেশ ভীড় জমেছে।আর অনুষ্ঠানের স্মৃতি ধারণ করা প্রায় ক্যামেরাম্যানরা সেখানেই উপস্থিত।
বেশ কয়েক গুরুজন যেন কাঁচা হলুদ বাটতে ব্যস্ত।সবার সাথে হাসি-ঠাট্টা করার মাঝেই যেন ব্যস্ত হাতে শিলপাটায় হাত চালাচ্ছেন তারা।জোহরের নামাজের পরপরই ভিকি আর এশার হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে।সেই অনুষ্ঠানকে আরো বেশি স্মরণীয় করে রাখতেই তো হলুদ বাটার ধুম পড়েছে।
মেয়েরা যেমন হলুদ নিয়ে ব্যস্ত তেমন ছেলেরাও অনেকখানি ব্যস্তই বলা চলে।তাদের তো আরো বেশি ব্যস্ততা।ছোট-বড় সব জিনিসই যেন সামলাতে হচ্ছে তাদের।তবে ভিকিকে এক জায়গায় ঠায় বসে রাখা হয়েছে।সে যে একাই বসে আছে সেটা একদমই না।তার হবু বউ এশা তার পাশেই বসা।এশার পড়নে ভারী সাজসজ্জা।এইমাত্রই তো বিউটিশিয়ান তাকে সাজিয়ে এখানে রেখে গেল।ভিকি প্রথম দিকে একাই বসে হাসফাস করলেও এখন যেন অনেকটা শান্ত।কেমন হা হয়ে সে এশার দিকে দেখে আছে।ভিকির এমন কান্ডে এশা তার হাটুতে কয়েকবার বারিও দিয়েছে।কিন্তু ছেলেটা যেন তারপরও তার প্রেয়সীর থেকে চোখ সড়াতে অনিচ্ছুক।তবে এবার যেন এক কান্ডে ভিকি বেশ থতমত খেল।
সামিয়া এসে ভিকির হা হয়ে থাকা মুখের মধ্যে এক লাড্ডু পুরে দিতেই বেশ হকচকিয়ে গেল ভিকি।এশা তো ওদিকে মুখ ঢেকে হাসতে শুরু করেছে।আর ভিকি মুখের লাড্ডু চাবাতে নিয়েই সামিয়ার দিকে দেখলো।
ভিকির বিরক্তিতে ভরা নজর উপেক্ষা করে বলল সামিয়া,
"মান-সম্মান সব খেলেন আপনি।আমার বোনটাকে এমন দিনের আলোতেই চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছেন?আশেপাশের মানুষ কি ভাববে?"
মুখের মিষ্টান্ন গিলে বলে উঠল ভিকি,
"কেউ কিছুই মনে করবে না।আরো যদি না দেখি তাহলেই সন্দেহ করবে"
"হয়েছে-হয়েছে,আমাকে বুঝ দিতে হবে না।আর দুদিন একটু অপেক্ষা করেন"
সামিয়ার কথা শেষ হওয়ার পরপরই পেছন থেকে কেউ চেচিয়ে উঠল,
"এই জুতা চোর!"
উপস্থিত তিন ব্যক্তি সেদিকে নজর দিতেই ভিদ সামিয়ার দিকে এগিয়ে এলো।ছোট ভাইয়ের কথায় ভ্রু কুচকালো ভিকি,
"কে জুতা চোর?"
ভিদ সামিয়ার দিকে আবার নজর দিল,
"এই মহারাণী।আমাকে কালকেই চ্যালেঞ্জ করেছে যে বিয়েতে সে জুতা চুরি করেই ছাড়বে"
সামিয়া মুখ খুলল এবার,
"তো ভুল কি বলেছি?তোমার নাকের নিচ দিয়ে জুতা নিয়ে যাবো তুমি টেরও পাবে না"
সামিয়ার সেই কথার পর ভিদ আর সামিয়ার মাঝে নজরের বেশ টক্কর চলল।
ভিদ হলো ভিকির ছোট ভাই।রাশেদ চৌধুরীর দুটি ছেলেই মাত্র।ভিকি আর ভিদ।ভিকি কানাডায় গিয়ে বিজনেস শুরু করলেও ভিদ এবার ক্লাস টেনে।সামিয়া আর ভিদ দুজনেই আগামী বছর এসএসসি দেবে।ভাই-বোনের বিয়েতে যেন সামিয়া আর ভিদের ভালোই জমেছে।জমেছে বললেও সঠিক হবে না।বলতে গেলে একে-অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী তারা।সামিয়া বিয়েতে ভিকির জুতা চুরি করেই ছাড়বে,আর ভিদ সেটা কিছুতেই হতে দেবে না।
ভিদ এবার নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে মুখ মুচড়িয়ে শুধালো,
"আম্মু তোমাকে আর অনু আপুকে ডেকেছে।হলুদের কি বাটি-টাটি যেন নিয়ে আসতে হবে নাকি"
"তো সেটা ভালো করে বললেই তো হয়।এতো ঢং করার কি আছে?"
সামিয়ার সেই কথায় ভিদ কিছু বলতে যাবে তার আগেই সামিয়া তার লেহেঙ্গা উঁচু করে সামনে পা বাড়ালো।সেদিকে মুখ হা করে দেখে আছে ভিদ।এই মেয়েটা কাল থেকে বেশিই মাথায় উঠছে।নাকে যেন দম করে রেখেছে একদম।
"এ ভিদ"
সামিয়াকে মনের মধ্যেই ঝাড়ি মারছিল ভিদ।এমন সময় পেছন থেকে বড় ভাইয়ের গলা শুনলো।'হুম' বলে ভিদ পেছনে ঘুরলো।তারপরেই শুধালো ভিকি,
"শালি হয় আমার,ঝগড়া করতে যাস না"
হালকা ঝাজালো কন্ঠ শুনা গেল ভিদের,
"তোমার শালি আসলেই একটা শালি।আমি কি ওর সাথে ঝগড়া করব,সে-ই তো ঝগড়া করার জন্য দৌড়াচ্ছে।কাল থেকে মাথা ঝালাপালা করে রেখেছে একদম"
ভিদের কথায় ভিকি হকচকিয়ে গেলেও এশা হো হো করে হেসে উঠল।হাসতে নিয়েই বলে উঠল সে,
"না ঠিকই আছে,ভিদ।তুমি ঝগড়া চালিয়ে যাও।একটা মাত্র ভাইয়ের বিয়ে তোমার।ভাবির বোনদের সাথে তো এই সময়ই ঝগড়া করে বেশি মজা"
ভিকি যেন এশার কথায় কান দিল না।সে ভিদকে তর্যনী আঙুল দেখিয়ে বলল,
"ম্যানার্স ভিদ ম্যানার্স"
ভিদের মুখের ভাব বদলালো না,
"তুমি ভাবির দিকে মনযোগ দাও তো।আমার দিকে এতো দেখছো কেন?"
এবার ঠোঁট বাকালো ভিকি,
"না,এটা কথা ঠিক বলেছিস"
ভিদ কথা শেষে চলেই যাচ্ছিল।কিন্তু ভিকির ডাকে পেছনে ঘুরলো,
"আর শুন!জুতা যেন চুরি না হয়"
ভিকির কথায় ঠোঁট বাকিয়ে এক চোখ টিপলো ভিদ,
"ওকে বস!"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
এতো সব ব্যস্ত পুরুষদের মাঝে যেন সাহিত্যও বিদ্যমান।তার তো আরো প্রায় দৌড়া-দৌড়ি অবস্থা।বিয়ে বাড়ি বিষয়টাই যেন এমন।আপন কারো বিয়ে হলে প্রায় সবারই জীবন নাস্তানাবুদ হয়ে উঠে,সে যত বড় কোম্পানির সি.ই.ও.-ই হোক না কেন।
বাসন্তী রঙা এক পাঞ্জাবি পড়নে তার।তার সাথে সাদা পায়জামা থাকলেও সেই পায়জামার নিচে কালচে খয়েরী লোফার সু জুতা।পাঞ্জাবিখানার বুকের কাছের তিনটা বোতাম তো সেই গায়ে চড়ানোর সাথে-সাথেই খুলে দিয়েছিল।তবে হাতাগুলো গুটিয়ে রেখেছে ব্যস্ত সময় শুরু হওয়ার পরপরই।
মাঠের দিকে দৌড়া-দৌড়ি করে এবার বিল্ডিংয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সাহিত্য।রিসোর্টের লোকদের সাথে কিছু টুকটাক কথা বলে লিফট বেয়ে চলে যায় সোজা তিন তলায়।হাতের ঘড়িতে সময় দেখতে নিয়েই দৌড়ে এসে এক রুমের দরজায় নক করল।এ রুমটায় সাধারণত মেয়েরা রেডি হতে ব্যস্ত।কিছু সময় পরই ভিকি আর এশার হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে।কিন্তু মেয়েলোকদের যেন কোনো আনাগোনাই নেই।তাই তো আমেনা শেখ সাহিত্যের ঘাড়ে দায়িত্ব ফেলেছেন তাদেরকে রুম থেকে বের করার।সাহিত্য একবার ঝাড়তে শুরু করলে সবগুলো হুড়হুড় করে বের হবে সেজন্যই হয়তো।
দরজায় সাহিত্যের কড়া ঘাতে রুমের দরজা খুলল এক কানাডিয়ান মেয়ে।সাহিত্যকে হয়তো তার চেনা আছে।তাই তো মুখে হাসি ঝুলিয়ে বলল,
"হেই অহি!"
সাহিত্য কোনো কথা না বলে ডান হাতের আঙুল দিয়ে বাম হাতের ঘড়ি দেখিয়ে দিল।সেটাতে হয়তো বুঝলো মেয়েটা।হাতের পাঁচ আঙুল দেখিয়ে আবার বলল সে,
"ফাইভ মিনিটস"
সেই মেয়ের পাশ কাটিয়ে অনুকে বের হতে দেখা গেল।তাকে থামিয়ে নিজের প্রেয়সীর খোঁজ করল সাহিত্য।অনুর সোজাসাপটা কথা,
"কল্পনা আপু কানের দুল আনতে ভুলে গিয়েছিল।তাই আবার তার কর্টেজে গিয়েছে"
সেই কথা শুনে বিরক্তিতে চোখ উল্টালো সাহিত্য।অনুকে দায়িত্ব দিয়ে গেল সব মেয়েদের যেন কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচে নামায়।আর নিজে পা বাড়ালো প্রেয়সীর খোঁজে।
রিসোর্টের এই মেইন বিল্ডিং-টার প্রায় সব রুম কানাডিয়ান অতিথি দিয়ে ভরা।দূরের কিছু কর্টেজে শেখ পরিবারসহ বাকি সব ঘনিষ্ঠ আত্নীয় রাত অতিবাহিত করছে।আর সেই কর্টেজেরই কোনো এক রুম কল্পনার দখলে।
সাহিত্য আর কোনো দিকে না তাকিয়ে জোর পায়ে এগিয়ে গেল সেই নির্দিষ্ট কর্টেজের উদ্দেশ্যে।গত পরশু রাতে পার্টির পর আবার আলাদা হয়ে গিয়েছিল সাহিত্য তার প্রেয়সীর কাছ থেকে।কল্পনা যেন সাহিত্যকে একদমই পাত্তা দিচ্ছে না।নতুন সখীদের সাথে মিশতে সে যেন ভারী ব্যস্ত।বিয়ে বাড়ির মজা যেন মেয়েটা ভালো করেই লুফে নিচ্ছে।তবে কল্পনার কর্টেজটা সাহিত্যের কর্টেজের একটু নিকটে হওয়ার দরুন দেখা সাক্ষাতের তেমন অসুবিধা হয়নি বটে।কিন্তু আজ সকাল থেকে ব্যস্ততার কারণে যেন আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য দেখা মেলেনি।
ইদানিং সাহিত্য কেন জানি তার জানপাখিটার থেকে বেশিক্ষণের দূরত্ব সহ্যই করতে পারছে না।ছেলেটার বড়ই হাসফাস লাগে কেন জানি।তবে সেই বিষয়টা সাহিত্যের নজরে ভালো ঠেকছে না।এমন হতে থাকলে তো তার হাতে অঘটন ঘটতে বেশি সময় লাগবে না।কিন্তু আর কোনো উপায়ও যে নেই।ওই মুখখানা এক মুহুর্তের জন্য না দেখলে যে সাহিত্যের শ্বাসকষ্ট হওয়া শুরু হয়।আর বর্তমানে সেই মনের শ্বাসকষ্ট থামানোর জন্যই তো কল্পনার কর্টেজের দিকে এগুচ্ছে সে।
রুমের দরজায় কড়া ঘাত পড়তেই ওপাশ থেকে কল্পনার গলা শুনা গেল,
"হ্যাঁ আসছি।একটু দাঁড়াও!"
কড়া ঘাত করা বন্ধ করে থমকে গেল সাহিত্য।হঠাৎ কল্পনার মুখে তুমি সম্মোধন করা শুনেই যেন থমকে গেল সে।কল্পনা হয়তো সে কথা শুধুমাত্র দরজার কড়া ঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে করেছিল।কিন্তু কল্পনার প্রতিটা কথাই তো সাহিত্যের কাছে মুল্যবান।হয়তো আবারো সেই কন্ঠ শুনার উদ্দেশ্যেই ঠোঁট বাকিয়ে হালকা হাতে দরজায় টোকা দিল।আবার ভেসে এলো সাহিত্যের প্রেয়সীর গলা,
"হ্যাঁ বাবা,একটু দাঁড়াও না।আসছি তো বললাম"
কথাটা বলতে নিয়েই হয়তো কল্পনা সামনে এগুতে নিয়েছিল।কারণ কথা শেষ হতেই দরজাটা খুলল সে,
"কি হয়েছে,বলো দেখি..."
থমকে গেল কল্পনা।হঠাৎ সাহিত্যকে দেখে যেন বেশ ভড়কালো সে।তবে সেটা পর মুহুর্তেই সড়িয়ে ফেলে হাতে থাকা দুল কানে পড়তে লাগল।সাথে বলেও উঠল,
"আপনি এসেছেন?আমি ভাবলাম কে না কে।কি হয়েছে শুনি।এতো ব্যস্ততার মাঝে আমার কথা কেমন করে মনে পড়ল?"
সাহিত্যের কানে যেন কোনো শব্দই প্রবেশ করছে না বর্তমানে।কাঁচা হলুদ রঙা শাড়িতে আবৃত প্রেয়সীকে দেখতে ভারী ব্যস্ত সে।সোনালি পাড় যুক্ত কাঁচা হলুদ রঙা শাড়িতে যেন দুধে আলতা মেয়েটা জ্বলজ্বল করছে।আর সাহিত্যের পছন্দের সেই লম্বা কেশগুলো কুচি করে পড়া শাড়ির আঁচলের বিপরীতে নেওয়া।একগুচ্ছ চুল যেন ডান কাধের কাছ দিয়ে সামনে নেতিয়ে পড়ে রয়েছে।আর যে বাম কানটায় এতো ঝুলুম খাটিয়ে ঝুমকো দুলটা পড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই কানের পেছনে নিচের দিকেই এক হাইব্রিড টকটকে লাল গোলাপ।সেটার সাথে মিলিয়েই হয়তো ঠোঁট রাঙিয়েছে কল্পনা।সেই অধরের উপর নজর থাকাতেই তো তাদের নড়ে উঠা লক্ষ্য করল সাহিত্য।কল্পনা তো এখনো দুল পড়তে নিয়েই সাহিত্যকে কিছু বলে যাচ্ছে।এতক্ষণ সেদিকে খেয়াল না থাকলেও এবার কল্পনার হাতের ঘিয়ে রঙ্গা কাচের চুড়ির শব্দেই যেন হুশ ফিরল সাহিত্যের।
ছেলেটা যে একদম কাবু হয়ে গিয়েছে সেটা সামনের রমণীকে বুঝতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই নিজেকে সংযত করে শুধালো সাহিত্য,
"রেডি হতে এতক্ষণ লাগে?সবাই মাঠে চলে গিয়েছে আর তুই এখনো এখানেই পড়ে আছিস"
হাতের কাজ শেষ করে ঠোঁট উল্টালো কল্পনা,
"আমি কি করব?দুল নিয়ে যেতে ভুলে গিয়ে ছিলাম"
"আপনার দুল নেওয়া হয়েছে ম্যাডাম?"
সাহিত্যের মৃদু হাসি দেখে কল্পনা মুখে বড় হাসি ঝুলিয়ে উপর-নিচ মাথা ঝাকালো।সাথে প্রতিবারের ন্যায় বলেও উঠল সে,
"কেমন লাগছে আমাকে?"
সাহিত্য তো মনের মধ্যেই সেই প্রশ্নের উত্তর এতক্ষণ যপে যাচ্ছিল।কিন্তু সেটা না বলে কল্পনার পায়ের দিকে দেখে সুক্ষ্ম আওয়াজে শুধালো সে,
"পাগুলো খালি-খালি লাগছে"
হয়তো সাহিত্য তার প্রেয়সীর পায়ের নুপুরের অভাবে সে কথা বলেছে।কিন্তু কল্পনা সেটা না বুঝতে পেরেই শাড়ি উঁচিয়ে নিজের পা পরখ করতে লাগলো,
"অনু অবশ্য বলল পায়ে একটু আলতা দিতে।কিন্তু আমার ভালো লাগছিল না দেখে দেইনি"
প্রেয়সীর নজর নিচু করে রাখা আদলখানায় আবার নজর ফেলল সাহিত্য।সেই আদলে এতো হালকা সাজ দেওয়ার পরেও কি মায়াবতী লাগছে মেয়েটাকে!সেই মায়াবতীর আদলখানা ছুঁয়ে দেওয়ার ইচ্ছাকে প্রশ্রয় না দিয়ে কল্পনাকে তাড়া দিতে লাগলো সাহিত্য।
সাহিত্য তাড়া দিতেই চুল ঠিক করতে নিয়ে সামনে পা বাড়ালো কল্পনা।হাত উঁচু করার ফলে শাড়ির আঁচল ভেদ করে ফর্সা উদরখানা ভালো করে নজরে আসছে।সেটা দেখে থমকে দাড়ালো সাহিত্য।সাথে কল্পনার পেছন থেকে গম্ভীর গলায় বলে উঠল,
"কল্পনা কমোড়ের বিছাটা খুল"
হাত জোড়া উপরে রেখেই সাহিত্যের দিকে ঘুরল কল্পনা।ভ্রু কুচকে শুধালো,
"কেন?"
সাহিত্য আরো একবার প্রেয়সীর উদরে নজর দিয়ে ঘুরিয়ে নিল সেই নজর।আর নিবেই বা না কেন?আঁচলের নিচে কমোড়ে চাপানো পাতলা সোনালি বিছাটা যে চোখ ধাধানোর মতো দেখতে লাগছে।আর সেই বিছায় আটকানো ছোট এক পাতার মতো লকেটটা যে ঠিক নাভির উপরেই আরামে বসে রয়েছে রমণীর।
কল্পনার প্রশ্নে সাহিত্য মাথা না ঘুরিয়েই ভারী কন্ঠে বলল,
"খুলতে বলেছি খুল।খুলে রুমে রেখে আয় ওটা"
"কেন খুলবো আমি?সবাই পড়েছে।আমি না পড়লে কেমন বেমানান লাগবে।পড়েছি থাক"
সাহিত্য এবার কল্পনার দিকে নজর দিল।মেয়েটার এমন জেদ ধরা যে কবে বন্ধ হবে?সে কি বুঝছে না যে কতটা আবেদনময়ী লাগছে সেই উদরখানা সাহিত্যের কাছে।সাহিত্য হয়তো নিজেকে কোনোরকম দাবিয়ে রাখবে।কিন্তু আজ আশেপাশে যে আরো অনেক পুরুষ আছে।যাদের নজর হয়তো ভালো ঠেকবে না সাহিত্যের প্রেয়সীর উপর।
এবার অনেকখানি এগিয়ে এলো সাহিত্য।কল্পনার চোখে চোখ রেখে গম্ভীর কন্ঠে বলল,
"ভালো লাগছে না দেখতে।খুলে ফেল"
কল্পনা যেন সাহিত্যের ইঙ্গিত মোটেও বুঝলো না।মেয়েটার উপর যে কু-নজর পড়তে পারে সেটা যেন আপাতত ভুলে বসেছে সে।তাই তো আবার বলে উঠল,
"কে বলেছে খারাপ দেখাচ্ছে?সবাই তো বলছে সুন্দর লাগছে।আপনার ভালো না লাগলে আপনি দেখিয়েন না"
এবার আর সাহিত্য থেমে থাকলো না।হাত ধরে হেচকা টানে কল্পনার পিঠ কর্টেজের দেয়ালে ঠেকিয়ে দিল।হঠাৎই যেন রাগ উদয় হলো ছেলেটার মাঝে।কল্পনা সেই হেচকা টানের কিছু বুঝে উঠার আগেই সাহিত্য মাথা ঝুকিয়ে তার মুখ বরাবর নিয়ে এলো।দাঁত চিবিয়ে বলতে লাগলো সে,
"তোকে বলেছিলাম না,আমি কিছু বললে ফু মেরে উড়িয়ে না দিতে।নাহলে অনেক রিস্কে পড়ে যাবি"
সাহিত্যের হঠাৎ এমন রাগের ঝলকে হতবম্ব হয়ে গেল কল্পনা।ভাবতে লাগলো যে একটা বিছা দেখে এতো রাগ উঠার কি আছে।কিন্তু সাহিত্যের রাগটা যে অন্য এক কারণেই উঠছে।প্রেয়সীর থেকে নিজের দূরত্ব তৈরি করে রাখার প্রভাব যেন রাগের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসছে ছেলেটার।
কিন্তু কল্পনা যেন নিজের জীবন বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যেই গো ধরে থাকলো,
"খুলবো না আমি।আমার পড়তে ইচ্ছে করেছে,আমি পড়বো"
সাহিত্য এবার আর মুখ খুলল না।নিজের হাত চালালো সে।কল্পনার চোখ বরাবর নিজের কঠিন মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়া রেখেই নিজের কাজ চালিয়ে গেল।কল্পনাকে একদম হতবাক করে দিয়ে সাহিত্য নিজের দুই আঙুল কল্পনার কমোড়ে দাবিয়ে বিছাটাকে আবদ্ধ করল হাতের সেই আঙুলদের মাঝে।অতঃপর এক টানে ছিড়ে ফেলল সেই তুচ্ছ বিছাটা।তবে বিছাটা ছিড়ে ফেলা মাত্রই দেখা মিলল সাহিত্যের ঠোঁটের কোণের এক চিলতি হাসি।সেই ঠোঁট বাকানো কুটিল হাসির মাঝেই ভারী কন্ঠে বলে উঠল সে,
"কল্পনা....অঘটন কিছু ঘটলে ভ্যা-ভ্যা করে কাঁদিস না,প্লিজ"
প্রেয়সীর নরম কমোড়ের ছোয়ায় নিজের অবাধ্য অনুভূতিদের দাবিয়ে রাখা বেশ কষ্ট হচ্ছে সাহিত্যের।তাই তো সে কথাটা বলে বসে সে।কিন্তু হঠাৎ সাহিত্যের এমন বিছা টেনে ছিড়ে ফেলার কারণে কল্পনা যেন সে কথার অর্থ প্রতিবারের মতোই অন্য কিছুই মনে করে বসলো।হয়তো সাহিত্য সেই ছেড়া বিছা কল্পনার গলায় পেচিয়ে ধরার উদ্দেশ্যেই সে কথা বলেছে।এই মাথা মোটা মেয়েটা তো আপাতত সেটাই ভেবে বসে আছে।সেটা ভেবেই ভারী এক শুষ্ক ঢোল গিলল কল্পনা।
সাহিত্য সোজা হয়ে দাড়াতে নিয়েই মুখোশ্রি আবার গম্ভীর করল,
"আবার যদি বিছা পড়েছিস তাহলে আর ওয়ার্নিং দেব না,সোজা অঘটন ঘটিয়ে দেব"
আঁতকে উঠল কল্পনা।তবে জিজ্ঞেস করার সাহস করল না যে সেই অঘটনের আসল রহস্য কি।কি আছে সেই অঘটনের আড়ালে?সাহিত্যকে জিজ্ঞেস না করে নিজেই চিন্তা করে নিল যে সেই বিছা দিয়ে ফা'স ঝুলাবে সাহিত্য কল্পনার।
সাহিত্য আর কিছু না বলে হনহনিয়ে সামনে পা বাড়ালো।বিছাটা আর কল্পনার হাতে দিল না।নিজের মুঠে বদ্ধ করে পাঞ্জাবির পকেটে ঢুকালো সেটি।
#চলবে
আজকে কিন্তু অনেক বড় পর্ব দিসি।প্রতিবার এতো বড় পর্ব পাবেন না কিন্তু 🫠