ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৬০তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৬০

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কল্পনা আর প্রীতি মাঠের একপাশে বসে মাঠের ঘাস ছিড়তে ব্যস্ত।সাথে ফেব্রুয়ারিতে যে তাদের ভার্সিটির পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে সেই টেনশনেও ভুগছে।

এমন সময় কল্পনার নাম ধরে ডাকতে নিয়ে রঞ্জক শেখ তাদের দিকে এগিয়ে এলেন।মাঠে বসে থাকা অবস্থাতেই দুজনে মাথা তুলে দেখল তার দিকে।রঞ্জক শেখ কাছে আসতেই শুধালো কল্পনা,

"কি হয়েছে চাচু?এমন হাপাচ্ছো কেন?"

রঞ্জক শেখ বুকের ধুকপুক সামলাতে নিয়েই কল্পনার পাশে পা ভাজ করে বসলেন।সময় নিয়ে বললেন তিনি,

"তোমার বাবা কল দিয়েছিল"

ভাবলেসহীন কথা কল্পনার,

"তো তোমার ভাই তোমাকে কল দিয়েছিল তো এটা আমাকে কেন বলছো?"

"আমার ভাই আমাকে কল দিয়ে তার মেয়ের ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করছিল,সেজন্যই বলছি"

হুড়মুড়িয়ে নড়ে উঠল কল্পনা আর প্রীতি।কল্পনা তো রঞ্জক শেখের অনেকটা কাছে এসে ব্যতিব্যস্ত হয়ে শুধালো,

"কি বলছো চাচু?বাবা কেমন করে জানলো আমি এখানে?"

হাত নাড়িয়ে ভাতিজিকে শান্ত করলেন রঞ্জক শেখ,

"আরে নাহ্,ভাইজান জানে না।উনি চালাকি করে চেক করছিলেন শুধু"

আবার ব্যতিব্যস্ত শুনালো কল্পনার কন্ঠ,

"তো তুমি কি বলেছো?বাবার জালে নিশ্চয়ই পা দিয়েছো তুমি"

রঞ্জক শেখ চোখ সরু করে কল্পনাকে দেখতে লাগলেন,

"তোমার চাচু অতোটাও বোকা না।খুব ক্লিয়ার করে কথা বলেছি।ভাইজান কিচ্ছু বুঝতে পারেননি"

কল্পনা বসা অবস্থাতেই রঞ্জক শেখকে জড়িয়ে ধরল,

"আহা,আমি তো সে কথা এমনি বলছিলাম।আই লাভ ইউ চাচু।ইউ আর দ্য বেস্ট"

কল্পনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন রঞ্জক শেখ,

"হয়েছে-হয়েছে,অত তেল মারতে হবে না"

প্রীতি তাদের দুজনের পাশে দেখে হালকা ঠোঁট বাকালো।রঞ্জক শেখ অনেকটা তার বাবার মতো।মিসুক ধরনের মানুষ।তবে অন্তর থেকে একটু কম শান্তশিষ্ট।প্রীতি হয়তো তার বাবাকেই স্মরণ করছিল।এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল তার।হাসি মুখে ফোনটা চোখের সামনে আনলেও ফোনের দিকে দেখে আত্মা যেন ভক করে উঠল পর মুহুর্তেই।ফোন ধরে রাখা হাতটা রীতিমতো কাপতে শুরু করেছে।রসগোল্লার মতো চোখ জোড়া ঘুরিয়ে কল্পনার দিকে দেখলো সে।অতঃপর কাপা গলায় শুধালো,

"ক-ক-কল্পনা!তোর বাবা আমাকে কল দিয়েছে!!"

রঞ্জক শেখ ও কল্পনা দুজনই প্রীতির দিকে ঘুরলো।কপালে ভাজ ফেলে বললেন রঞ্জক শেখ,

"এই যে,এফবিআই এজেন্ট কল করেছে"

প্রীতি রঞ্জক শেখের উদ্দেশ্যে চেচিয়ে উঠলো,

"এখন কি করব আঙ্কেল?"

রঞ্জক শেখ শান্ত থেকেই বলে উঠলেন,

"মাঠের ওদিকের মিউজিক এদিকে তেমন আসছে না।তাই তেমন বুঝতে পারবেন না ভাইজান।তুমি কল ধরে খুব স্বাভাবিকভাবেই কথা বলো।ওনাকে মনে করাও যে তোমরা বান্দরবানেই আছো"

প্রীতি রঞ্জক শেখের দিকে নজর রেখেই লম্বা এক শ্বাস ভেতরে নিল।অতঃপর ফোনের দিকে নজর দিয়ে সেটা কেটে যাওয়ার আগেই রিসিভ করে স্পিকারে দিয়ে সালাম শুধালো।ফাহাদ শেখের অনেক হাসি-খুশি কন্ঠ।সালাম নিয়ে শান্ত স্বরে বললেন তিনি,

"কি ব্যাপার মামণি?কি খবর তোমাদের?"

প্রীতির চেহারায় ভয় থাকলেও মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল,

"এই তো আঙ্কেল,ভালোই"

"তোমাদের ডাটা কালেক্টিং-এর কাজ কেমন চলছে?"

"হ্যাঁ আঙ্কেল,ভালোই চলছে।আমরা অবশ্য এখন সেই জন্যই বাইরে এসেছি"

প্রীতি এই মুহুর্তে ডাটা কালেক্টিং-এর কথা বলল এ উদ্দেশ্যেই যে,হয়তো ফাহাদ শেখ প্রীতিদের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা শুনে কল কেটে দিবে।কিন্তু এদিকে যেন হিতে বিপরীত হয়ে বসলো।ফাহাদ শেখ খুব আগ্রহ নিয়েই বললেন,

"ওমা তাই নাকি?তোমরা বোটানি ডিপার্টমেন্টে না?তো আজকে কোন টপিকে কাজ চলছে তোমাদের?"

কল্পনা প্রীতি ও ফাহাদ শেখ দুজনেরই কথা শুনে মাথায় হাত চাপড়ালো।ফাহাদ শেখ চাকরি জীবন বিজনেস বেছে নিলেও সাইন্সের এক তুখার ছাত্র ছিলেন।তার কাছে এখন কোনো অযৌক্তিক বিষয় বলাই যাবে না।

কল্পনা হাতের ইশারায় প্রীতিকে বুঝিয়ে দিল যে ফাহাদ শেখকে কোনো যৌক্তিক কারণ বলতে।সেটা বুঝতে পেরেই গলা খাকাড়ি দিল প্রীতি।মন দিল ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্যে,

"হ্যাঁ আঙ্কেল।আজকে আমাদের খুবই সিম্পল একটা টপিকে ডিস্কাস চলছে"

"কি টপিকে?"

চোখ-মুখ কুচকালো প্রীতি।এই কল্পনার জালায় ভালোভাবেই ফেসেছে সে।আড় চোখে কল্পনাকে দেখলো।মেয়েটার চোখের রাগ খুব ভালো করেই বুঝছে কল্পনা।তাই তো শব্দ না করেই 'সরি' উচ্চারণ করল।

প্রীতি তার পাগল বান্ধুবীর কান্ডে এতোদিনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।আর নিজের ভাগ্যে এই মেয়েটাকে মেনেও নিয়েছে সে।ভারী শ্বাস ফেলে নজর এবার আশেপাশে ঘুরালো প্রীতি।ফাহাদ শেখকে বলার টপিক খুঁজতে লাগলো।নজর গেল সাহিত্যদের দিকে।সেপাশে দেখেই মুখ বিকৃত হয়ে এলো তার।ছেলেগুলো কেমন বাদরের মতো নাচছে।মনে হচ্ছে জীবনের শেষ নাচ নাচতে ব্যস্ত তারা।

প্রীতি সেদিকে নজর রেখেই ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্যে বলল,

"গাছে কিছু বানর বসে আছে তো আঙ্কেল,তাদের মুভমেন্টের ফলে গাছে কেমন প্রভাব পড়ে সেটাই আজকে পর্যবেক্ষণ করছি"

"কি আজব টপিক তোমাদের।বানরের এতো স্লো মুভমেন্ট কেমন করে পর্যবেক্ষণ করছো?"

প্রীতি বেশ বিরক্ত হয়েই ফোনের দিকে নজর দিল।এই লোক এতো ঘষামাজা কথা শুনতে চাচ্ছেন কেন?প্রীতির জীবন বরবাদ করে দিল এই বাপ-বেটি।

ফোনের দিক থেকে আবার সাহিত্যদের দিকে নজর দিল প্রীতি।এবার মুখ বিকৃত করার সাথে বেশ ভড়কালোও সে।তার নজর পড়ল সাহিত্যসহ তার তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দিকে।আর তাদের সাথে আজ অন্তও যুক্ত হয়েছে।এতোদিন থেকে অন্ত যে-ও একটু শান্ত ছিল সেটাও এই চার বিজনেসম্যানের পাল্লায় পড়ে আজ উড়ে গিয়েছে।কে যে কার ঘাড়ে উঠে নাচছে বুঝার কোনো উপায় নেই।তারা যে বছর খানেক পর ত্রিশের ঘরে পা দিবে সে কথা কারো বলার সাধ্য নেই বর্তমানে।তাদের মাথা কি আদৌ ঠিক আছে কিনা প্রীতির সন্দেহ হচ্ছে।তবে এই মুহুর্তে তাদের এমন কান্ডে প্রীতির বেশ সুবিধাই হলো।সাহিত্যদের দিকে নজর রেখেই ফাহাদ শেখের উদ্দেশ্যে বলে উঠল সে,

"ন-না আঙ্কেল।বানরগুলো একটু বেশিই লাফালাফি করছে তো,তাই গাছের উপর ভালোই প্রভাব পড়ছে।আমরা অনেক ভালো রেজাল্ট পেতে পারি"

ফাহাদ শেখ মৃদু হাসলেন,

"সেটা হলেই ভালো।তো কল্পনা কি তোমার আশেপাশে আছে?"

"হ্যাঁ আঙ্কেল।এই নিন কথা বলেন"

প্রীতি আর এক মুহুর্তও সহ্য করতে পারছে না।তাই তো হুড়মুড়িয়ে কল্পনার হাতে ফোন ধরিয়ে দিল।কল্পনা হালকা ভড়কে উঠলেও পর মুহুর্তে নিজেকে সামলে বেশ কিছু সময় কথা বলল ফাহাদ শেখের সাথে।ফাহাদ শেখকে পূর্ণ বিশ্বাস করালো যে কল্পনা প্রীতির সাথে বান্দরবানেই আছে।শেষ কথা হিসেবে মেয়েকে কিছু সতর্ক বার্তা শুনিয়ে কল কেটে দিলেন ফাহাদ শেখ।সেটাতে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো উপস্থিত তিনজনই।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

দুপুর ঘনিয়ে সময়টা এখন বিকেলের দিকে এগুচ্ছে।ছেলেপেলেরা নাচ তো সেই থামিয়ে দিয়েছিল দুপুরের খাবারের অছিলায়।তবে মাঠখানা যেন কখনো ফাকাই থাকছে না।টুকটাক কাজে ব্যস্ত সবাই।বর-কনের পিতারা তো প্রায় দৌড়াদৌড়ির উপর।ব্যস্ততার মাঝেও যেন অতিথি আপ্যায়ন করে যাচ্ছেন তারা।কিছুক্ষণ আগেই তো হুমায়ূন সাহেব সাহিত্যকে মাঠের একপাশের ডেকোরেশন পরখ করতে লাগিয়ে দিয়ে কিছু আত্মিয়দের কাছে ছুটলেন।

এদিকে সাহিত্যের মধ্যে হুমায়ূন সাহেবের মতো তাড়াহুড়ার কোনো লক্ষ্মণই যেন নেই।হাতে থাকা স্প্রাইটের ক্যানে চুমুক বসাতে নিয়েই সে ইভেন্ট ম্যানেজারের সঙ্গে গল্প করে যাচ্ছে।হুমায়ূন সাহেবের কথা অনুযায়ী ইভেন্ট ম্যানেজারের কাছ থেকে সবকিছুর টুকটাক খবরও নিচ্ছে বটে।

ইভেন্ট ম্যানেজার তার গল্প শেষে আবার কাজে মন দিলে সাহিত্যের পাশে লিসা এসে দাঁড়ায়।সাহিত্যের নজর এখনো তার উপর পরেনি।তাই তো মেয়েটা ডেকে উঠল,

"অহি"

মুখে হাসি নিয়ে ভ্রু উঁচিয়ে সেদিকে নজর দিল সাহিত্য,

"ওমা কে ডাকছে রে?"

চোখ-মুখ কুচকালো লিসা।সকালের ঝাড়ুনির পর থেকেই ভিকি আর সাহিত্যকে নাম ধরে ডাকছে সে।প্রথম কয়েকবার তোতলালেও এখন একটু স্বাভাবিক হতে পেরেছে।কিন্তু সাহিত্য যেন তাকে খোচা দিয়েই যাচ্ছে।যার দরুন এবার তেতে উঠল লিসা,

"আপনি যদি আর একবার এমন করেছেন,তাহলে কিন্তু দুলাভাই ডাকবো এখন থেকে!"

ভ্রু নাচিয়ে শুধালো সাহিত্য,

"তোর কোন বোনের স্বামী লাগি আমি?"

সাহিত্যের কথায় লিসা মুখে দুষ্টু হাসি ফুটালো ,

"আমি কল্পনার কথা বলছি"

সাহিত্যের মুখের লাজুকভাব দেখে লিসা আবার শুধালো,

"আপনার আর কল্পনার কথা কতদূর আগালো?সেই কবে থেকে ভিকির কাছে একই কথা শুনছি।কোনো আপডেট কি নেই?"

আকাশ পানে দেখে ভারী শ্বাস ফেলল সাহিত্য,

"কি আর বলি রে।ঠেলা গাড়ির চাকা কাঠের হওয়ার পরেও চাকা পাঞ্চার হয়ে আছে।গাড়ি চলেই না"

নিজের পোস্ট বসের এমন দুঃখের প্রেম কাহিনীর ডেমো শুনে মাথা নিচু করে মিনমিনিয়ে বলল লিসা,

"ও আচ্ছা"

হালকা বিরতি নিয়ে ভ্রু কুচকে সাহিত্যের দিকে দেখলো সে,

"আচ্ছা,এই ঠেলা গাড়ি জিনিসটা কি?"

সাহিত্য বেশ বিরক্ত নিয়ে আকাশ থেকে নজর সড়িয়ে লিসার দিকে দেখলো।নিজের মনের দুঃখ এই মেয়েকে বলেও শান্তি নেই।মুখের বিরক্তভাব বজায় রেখেই বলে উঠল সে,

"যেটাতে করে তোকে তোর শশুরবাড়ি পাঠাবো,সেটাই ঠেলা গাড়ি"

লিসা তার প্রশ্ন সূচক চেহারা সাহিত্যের দিকেই রাখলো।সে ভালো করেই জানে সাহিত্য টিটকারি মেরে সেই কথা বলেছে।ঠেলাগাড়ি কি সেটা ভালো করে বললে কি হতো?লিসার আবার বাংলাদেশের তেমন কিছুর ব্যাপারে ধারণা আছে নাকি?সে তো কানাডাতেই বড় হয়েছে।এক-দুইবার একটু বাংলাদেশে এসেছিল দাদা-দাদির সাথে দেখা করতে।আর তেমন আসা হয়ে উঠেনি।

সাহিত্য এতক্ষণে নজর ঘুরিয়ে স্প্রাইটের ক্যানে চুমুক দিতে নিয়েই ডেকোরেশনের তদারকি করতে লাগলো।তবে লিসা এখনো গম্ভীর মুখ নিয়ে দেখে আছে সাহিত্যের দিকে।

হাতের কফি খেতে নিয়েই কল্পনার নজর দূরে আটকে গেল।সাহিত্য আর লিসার দাঁড়িয়ে থাকার সেদিকটায় দেখে আছে সে।সাহিত্য তেমন কথা না বললেও লিসা যেন বেশ ব্যস্ত নিজের কথা নিয়ে।লিসা যে সাহিত্যের কাছে ঠেলাগাড়ির বিবরণ শুনার জন্য ঝুলছে সেটা তো আর কল্পনার জানা নেই।এমনকি কল্পনার সাথে লিসার এখন পর্যন্ত দেখাও হয়নি।তাই তো তাদের কথা তেমন আন্দাজ করতে পারছে না কল্পনা।

কল্পনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভিকি হালকা ঝুকে এসে শুধালো,

"কি হয়েছে কল্পনা?কোনো সমস্যা?"

পাশে নজর দিল কল্পনা।ভিকি,অয়ন আর রবি তার পাশেই দাঁড়িয়ে।আর কল্পনার আরেকপাশে ইরা।ভিকিই অবশ্য কল্পনাকে টানতে-টানতে নিয়ে এসেছে কফি খাওয়ানোর জন্য।গল্পগুজবের মাঝে হঠাৎ সাহিত্যের দিকে নজর পড়তেই থমকে গিয়েছে মেয়েটা।

ভিকির কথায় আবার সাহিত্যের দিকে দেখে শান্ত স্বরেই বলল কল্পনা,

"সাহিত্য ভাইয়ের সাথে ওই মেয়েটা কে?"

ভিকি কেবলই পরখ করতে নিয়েছিল সেদিকটায়।কিছু বলতে যাবে তার আগেই অয়ন বলে উঠল,

"ওটা লিসা।সাহিত্যের এক্স গার্লফ্রেন্ড"

অয়নের কথায় কল্পনা যতটা না ভড়কালো তার থেকে বেশি চোখ কোটর ফাটিয়ে বের করে উপস্থিত বাকি সবাই অয়নের দিকে দেখতে লাগলো।

তবে কল্পনা আবার সাহিত্য আর লিসার দিকে নজর দিয়ে মনমরা মুখে বলে উঠল,

"কিন্তু ওদেরকে তো দেখে অমন কিছুই মনে হচ্ছে না"

কল্পনার চোখের আড়ালে অয়ন বাকি সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশনা দিল।অতঃপর আবার কল্পনার উদ্দেশ্যে বলে উঠল সে,

"আরে কানাডার কালচার বুঝো না?এমন কথা চালিয়ে যাওয়া খুবই নরমাল"

ভিকি এদিকে নিঃশব্দে অয়নের পাঞ্জাবির কলার ধরে টানতে শুরু করেছে।তবে সেদিকে কল্পনার খেয়াল নেই।সে তো সাহিত্যের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লিসাকে দেখতে ব্যস্ত।হয়তো বুঝার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে,যে লিসার মধ্যে এমন কি আছে যে সে সাহিত্য ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড হতে পেরেছিল।

হাসি-খুশি ফর্সা কানাডিয়ান লিসাকে দূর থেকেই ভালো করে পরখ করতে লাগলো কল্পনা।একটা স্কিনি জিন্সের উপর ওভার সাইজের হুডি পরেছে।কখনো হুডির পকেটে দুই হাত গুজে,নয়তো কখনো হুডির টুপিতে থাকা বিড়ালের মতো দুই কানকে টানটে নিয়েই সাহিত্যের সাথে কথা বলে যাচ্ছে মেয়েটা।

লিসাকে পরখ করতে নিয়েই চোখ সরু করল কল্পনা।হয়তো মনের মধ্যে একটু হিংসা উদয় হলো তার।ব্রেকাপ হওয়ার পরেও এমন গায়ে পড়ে কথা বলার কি আছে?আর সাহিত্যের যে গার্লফ্রেন্ড ছিল এটা সাহিত্য কল্পনাকে কোনোদিন বলেনি কেন?তার মানে কি সাহিত্য ভাই কল্পনাকে তেমন পার্সোনাল কিছু শেয়ার করতে ইচ্ছুক না?অবশ্য কেন-ই বা করবে?কল্পনা সাহিত্যের থেকে বয়সে অনেক ছোট।এসব বিষয়ে এমনিতেও কথা বলবে না সাহিত্য।

নিজের অজান্তেই কল্পনার নিচের ঠোঁটখানা হালকা উলটে এলো।সাথে হালকা নাক-ও টেনে উঠল সে।কফির পেপার কাপটা হাতে নিয়েই নিজের কর্টেজের দিকে এগুলো কল্পনা।সাথে পেছনে ফেলে আসা সবার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,

"আমি রুমে গেলাম।ভালো লাগছে না আমার"

এতক্ষণে ভিকির হাত থেকে ছাড়া পেয়েছিল অয়ন।কিন্তু কল্পনা দূরে যেতেই রবি দুম করে তার পিঠে বারি বসিয়ে দিল,

"কি জন্য অমন মিথ্যা বলে মেয়েটার মুডটা অযথা নষ্ট করলি?"

অয়ন রবির হাতের আঘাতে তেমন প্রতিক্রিয়া করল না।সে তো হাসতে নিয়েই বলল,

"আরে চেক করছিলাম।সাহিত্য নাহয় জান ছিটায় কল্পনার উপর।কিন্তু কল্পনা কি আসলেই সাহিত্যকে পছন্দ করে কিনা সেটা বুঝতেই তো সে কথা বললাম"

ইরা কফির কাপে চুমুক বসিয়ে বলল,

"মেয়েটা কেমন করে ঠোঁট উলটিয়েছিল সেটা দেখেও বুঝোনি?লিসা সাহিত্যের এক্স হয় সেটা শোনা মাত্রই মুখটা কেমন অন্ধকার করে ফেলেছিল"

আবার হাসলো অয়ন,

"তাহলে বুঝা তো গেল,যে আমাদের সাহিত্য ঠকেনি"

অয়নের এমন পাগলামো দেখে ভারী শ্বাস ফেলল ভিকি,

"অহি এসব জানার পর তোকে পেটাতে ধরলে কিন্তু আমরা বাঁচাতে যাব না"

প্রতিবারের মতো এবারো অয়ন মাছি তাড়ানোর মতো হাত নাড়ালো ভিকির সে কথায়।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কল্পনাকে জোর পায়ে হাটতে দেখে নিজের পায়ের গতি কমালো প্রীতি।কল্পনার ফুলানো মুখখানা দেখে ভ্রু জোড়া কুচকে ঘাড় কাত হয়ে গেল তার।সামনে আসতে থাকা কল্পনাকে ডেকে উঠার পরেও যেন কোনো লাভ হলো না।কল্পনা প্রীতিকে উপেক্ষা করে হনহনিয়ে পাশ কেটে যেতে লাগলো।অমনি প্রীতি কল্পনার এক হাত ধরে ফেলল,

"কি রে?চেহারার এমন বারোটা বাজিয়ে রেখেছিস কেন?"

প্রীতির হেচকা টানে থমকে গেল কল্পনা।পেছনে ঘুরে চেচিয়ে উঠলো,

"কিছু না!"

দমলো না প্রীতি।আবার আগের ন্যায় বলে উঠল,

"কিছু না হলে তুই এমন চেচাতি না।এখন বলতো কি হয়েছে"

প্রীতির দিকে এগিয়ে এলো কল্পনা।নিচের ঠোঁট উলটে নাক টেনে শুধালো মেয়েটা,

"সাহিত্য ভাইয়ের এক্সকে দেখলাম"

প্রীতি ভ্রু উঁচিয়ে মুখে হালকা হাসি ফুটাতে নিয়েই থেমে গেল।নজর দিল আবার কল্পনার মুখের উপর।নিজে স্বীকার করবে না,আবার দেখো সাহিত্যের এক্স এর কথা শুনে কেমন মুখ ফুলিয়ে আছে।প্রীতি এবার আর সান্তনা দিল না কল্পনাকে।বরং আগুনে ঘী ঢালতে লাগলো সে,

"তো কি হয়েছে?সাহিত্য ভাইয়া ১১বছর কানাডায় ছিল।তো প্রেম করা তো খুব স্বাভাবিক বিষয়।এটাতে রাগ হওয়ার কি আছে?"

চোখ-মুখ খিচে ফুসে উঠল কল্পনা,

"আমি কেন রাগ করতে যাব?ওনার লাইফ ওনার ডিসিশন।কার সাথে প্রেম করে ব্রেকাপ করেছে সেটা তার সমস্যা"

প্রীতির বেশ মজা লাগছে এই কথপোকথন চালিয়ে যেতে।মুখের হাসি কোনোরকম লুকিয়ে বলল সে,

"তো এমন চিল্লাচ্ছিস কেন?ওই মেয়ে কি তোকে কিছু বলেছে?"

একই কন্ঠ কল্পনার,

"না!কিন্তু ওনার ড্রেসাপ দেখে আমার ভালো লাগেনি।সাহিত্য ভাইয়ের টেস্ট এতো বাজে কবে থেকে হয়ে গেল!!"

শেষের কথাখানা চোখ-মুখ খিচে আবার চেচিয়ে বলল সে।

তবে প্রীতি আজ ভালো করে মজা নিচ্ছে।লিসাকে না দেখা সত্বেও তার পাশে টানলো,

"একটা মানুষকে ভালো করে না চিনে শুধু তার ড্রেসাপ নিয়ে কথা বলছিস কেন?সেই মেয়ে নিশ্চয়ই কানাডিয়ান।তো ড্রেসাপ তো একটু আলাদা থাকবেই।সাহিত্য ভাইয়া নিশ্চয়ই তার ব্যবহারে তার প্রেমে পড়েছিল"

এবার আর কল্পনা চেচিয়ে উঠল না।এমনকি কিছু বললও না।এক দিকে নজর স্থির রেখে গভীর মনে কিছু চিন্তা করল।অতঃপর আবার মাঠের দিকে হাটা দিল সে।

সেটাতে বেশ ভড়কালো প্রীতি,

"আরে কই যাচ্ছিস?"

"ওই মেয়ের সাথে কথা বলতে"

কল্পনা বিড়বিড় করেই সে কথা আওড়ালো।যার দরুন প্রীতির কান অব্দি পৌছালো না সে কথা।

#চলবে

রিচেক দেইনি😑

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন