#পর্ব_৬১
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
মাঠের দিকটায় এসে কল্পনা সুক্ষ্ম চোখে আশেপাশে লিসাকে খুজতে লাগলো।লিসার সাথে দেখা করে সে কি বলবে তার জানা নেই।তবে এমনি কথা বলে দেখবে সে।সাহিত্য ভাই কি আসলেই সেই মেয়ের ব্যবহারের প্রেমে পড়েছিল?অবশ্য দেখতেও তো কম সুন্দরী না।এমনিতেই যে কেউ পটে যাবে সেই মেয়ের কাছে।কিন্তু সেই মেয়ে কল্পনার সাহিত্য ভাইকেই পেল?
মাথার মধ্যে হাবিজাবি কথা ভাবতে নিয়েই কল্পনার নজর এক জায়গায় থমকে গেল।কোনোকিছু না ভেবে হাটা দিল সেদিকে।
লিসা এতক্ষণ থেকে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েগুলোর সাথে কথা চালালেও এখন সে ফোনে ব্যস্ত।ঘুরেফিরে অফিসের কাজ ছাড়া যেন কিছুই বুঝে না মেয়েটা।সাহিত্য আর ভিকির পর তো তার ঘাড়েই সব দায়িত্ব পড়ে।তার দুই বস এই কয়টা দিন যেন একটু ঠান্ডা মাথায় থাকতে পারে তাই তো মেয়েটা একাই সবকিছু সামলাচ্ছে।গত দুদিন থেকে রাজের সাথেও তার কথা চলছে।রাজেরও একই অবস্থা।
কিন্তু লিসার ফোনে চোখ বুলানোতে বিরতি পড়ল যখন সামনে থেকে কেউ 'এক্সকিউজ মি' বলে উঠল।মাথা তুলতে নিয়েই স্বাভাবিকভাবে বলে উঠল লিসা,
"ইয়েস?"
কিন্তু মাথা তুলে যেন বেশ ভড়কালো সে।আসার পর থেকে কল্পনাকে দূর থেকেই দেখে যাচ্ছে।কোনো না কোনো কারণে লিসা যেন কথাই বলতে পারছে না তার বসের বউয়ের সাথে।কিন্তু কল্পনার নিজ থেকে এসে কথা বলায় লিসা যেমন ভড়কেছে তেমন খুশিও হয়েছে।
হাতের ফোন হুডির পকেটে ঢুকিয়ে লিসা এগিয়ে এলো কল্পনার দিকে,
"ও মাই গড!কল্পনা,তুমি?"
অনেকটাই ভড়কালো কল্পনা,
"আপনি আমাকে চিনেন?"
"আরে চিনবো না কেন?তুমি অহির চাচাতো বোন না?"
লিসার হঠাৎ এমন মিশুক ব্যবহারে কল্পনা ম্যাও-ম্যাও হয়ে গেল,
"জ্বী"
"আমার নাম তুমি নিশ্চয়ই জানো না।আমি লিসা"
হঠাৎই থমকালো লিসা।ভ্রু কুচকে শুধালো,
"তুমি কি আমাকে কিছু বলতে এসেছিলে?"
এলোমেলো নজর ফেলতে লাগলো কল্পনা।লিসার ব্যবহার তো আসলেই অনেক ভালো।মেয়েটা কি সুন্দর হেসে-হেসে কল্পনার সাথে কথা বলছে।তার মানে সাহিত্য ভাই শুধু-শুধু প্রেম করেনি লিসার সাথে।সাহিত্যের কথা ভাবতেই যেন আবার ঠোঁট উলটে এলো কল্পনার।তবে লিসার আবারো একই কথায় হুশ ফিরল।মাথা তুলে নিজেকে স্বাভাবিক করে শুধালো কল্পনা,
"তেমন কিছু না।আপনাকে সাহিত্য ভাইয়ের অনেক ক্লোজ দেখলাম তো,তাই ভাবলাম একটু পরিচিত হই"
লিসা তার হুডির টুপি ফেলে এসে কল্পনার পাশে দাড়ালো,
"সেটা তো অবশ্যই হবো।অহির সাথে আমার কত ভালো ফ্রেন্ডশিপ,জানো তুমি?সেই হিসেবে তো আমাদের খুব ভালো করে পরিচিত হওয়া দরকার"
কল্পনা লিসার ব্রাউন রঙা চুলে একবার নজর বুলালো।পিঠের মাঝ অব্দি চুলগুলো স্ট্রেট করা।সেপাশ থেকে নজর ঘুরিয়ে লিসার দিকে দেখে মৃদু হাসলো সে।কি বলবে কিছুই যেন খুঁজে পাইছে না।আবার এলোমেলো নজর ফেলতে লাগলো কল্পনা।অতঃপর সময় নিয়ে শান্ত স্বরে বলে উঠল,
"আপনি.....আর.....সাহিত্য ভাই কত দিন থেকে একসাথে আছেন?"
লিসা বরাবরই বাচ্চামো স্বভাবের মেয়ে।খুশি মনে কারো সাথে কথা বলতে শুরু করলে কথার প্যাচ তেমন বুঝে না সে।তাই তো কল্পনার কথায় সোজাসাপটা উত্তর করল,
"কয় দিন?অহি তার কোম্পানি অফিসিয়ালি হ্যান্ডেল করার দিন থেকেই আমি তার সাথে"
রসগোল্লার মতো চোখ বের করে লিসার দিকে দেখতে লাগলো কল্পনা।সাহিত্য আবার আজ-কাল তার কোম্পানি খুলেছে নাকি?কয়েক বছর হতে চলল O.S.S. কোম্পানি চালু করার।তার মানে সাহিত্য ভাই জুটিয়ে প্রেম করেছে।তাহলে আবার কল্পনাকে মনে রাখতোই বা কেমন করে।তাকে ভুলে যাওয়া তো খুবই স্বাভাবিক।
কল্পনা মাথা নিচু করে লিসার চোখের আড়ালে আবারো ঠোঁট উল্টালো।কল্পনা যেন ভুলেই বসেছিল যে সাহিত্যের জীবনে সে ছাড়া আরো কোনো মেয়ে থাকতেও পারে।কল্পনার তো খুব ইচ্ছা করছে লিসার সাথে এক্কাদোক্কা খেলে ঝগড়া করতে।কিন্তু লিসা যেন সেটার সুযোগই দিচ্ছে না।
হঠাৎ ভ্রু কুচকালো কল্পনা।মনের প্রশ্নখানা লিসাকে জিজ্ঞেস করে বসলো,
"এতো বছর একসাথে ছিলেন তো এখন আলাদা কেন হয়েছেন?"
হালকা হাসলো লিসা।সামনের ছোট মেয়েটার কথা এতো ভারীভাবে না নিয়ে খুব হালকা করেই নিল,
"অহি সাথে নেই তো কি হয়েছে।ভিকি তো আছে।আমি এখন ভিকির সাথেই আছি"
এবার কল্পনার পায়ের নিচের মাটি সড়ে গেল।লিসার কথাটা যেন এখনো কানে বাজছে তার।কাপা গলায় শুধালো সে,
"ভি-ভি-ভিকি ভাইয়ার সাথে আছেন মানে?সাহিত্য ভাই আর ভিকি ভাইয়া না ফ্রেন্ড হয়।এক ফ্রেন্ডকে ছেড়ে অন্য ফ্রেন্ডের কাছে গিয়েছেন?"
ভ্রু কুচকালো লিসা,
"তারা বন্ধু দেখেই তো একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে এসেছি।আমার তো আরো সুবিধা হয়েছে যে অন্য কোথাও যেতে হয়নি"
কল্পনা যেন এক ধাপ পিছিয়ে গেল লিসার সে কথায়।এমন কিছু শুনার আগে তার কানে কেউ বম ফাটিয়ে দেয়নি কেন?কল্পনা নিজের কথা চালিয়ে গেল,
"ভি-ভিকি ভাইয়ার যে কালকে বিয়ে।এশা আপু জানে এগুলো?"
লিসা আবারো ভ্রু কুচকালো,
"এশা কেন জানবে না?আর এটার সাথে ভিকির বিয়ে হওয়ার কি সম্পর্ক?ভিকির বাচ্চা হওয়ার পরেও তো আমি তার সাথে থাকবো"
কল্পনার এবার রীতিমতো হাত কাপতে শুরু করেছে।কানাডার কালচার এতো বাজে তার জানা ছিল না।আর সেই কালচারে তার সাহিত্য ভাই গা ভাসিয়ে দিয়েছে?!নিজের এক্স গার্লফ্রেন্ডকে নিজের বেস্টফ্রেন্ডের সাথে কেমন করে মেনে নিয়েছে সাহিত্য ভাই?আর ভিকিই বা কেমন করে এশার সাথে বিয়ে করে অন্য এক মেয়ের সাথে টাংকি মারছে?সেটা নাকি আবার এশা জানেও!!এ তো মনে হয় শেষ জামানায় এসে গিয়েছে কল্পনা।সাহিত্যের এমন পরিবর্তন দেখে তো নিজের গলায় দড়ি দিতে মন চাইছে তার।
কথার মাঝে হঠাৎই লিসার ফোন বেজে উঠল।জরুরী কল দেখেই তো কল্পনাকে বিদায় দিয়ে নিজের কর্টেজের দিকে এগুলো সে।কিন্তু কল্পনার মুখখানা যেন এখনো হা হয়ে আছে।মেয়েটা ভালোই একটা ধাক্কা খেয়ে মক্কায় বসে আছে এই মুহুর্তে।
নিজেকে সামলাতে যখন কল্পনা বেশ হিমসিম খাচ্ছিলো তখনই কানে এলো সাহিত্যের ডাক।মাথা তুলে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্যকে দেখলো সে।সাহিত্য মুখে হাসি নিয়ে তার দিকে এগুতে নিয়েছিল।কিন্তু হঠাৎ কল্পনার বিকৃত মুখ দেখে ভ্রু কুচকালো।মেয়েটার মুখে ঘৃণা আর রাগের মিশ্রণ দেখা দিচ্ছে।
কল্পনা সাহিত্যের দিকে কয়েক মুহুর্ত দেখে থেকে হাটা দিল অন্যদিকে।সেটাতে বেশ ভড়কালো সাহিত্য।পায়ের গতি বাড়িয়ে কল্পনার কাছে আসতে লাগলো।অবিরাম কল্পনার নাম ডাকার পরেও যেন শুনছে না মেয়েটা।কোনো উপায় না পেয়ে সাহিত্য জোর পায়ে এসে পেছন থেকে টেনে ধরল কল্পনার এক হাত,
"এই কি হয়েছে?এমন মুখ ফুলিয়ে আছিস কেন?"
এক ঝটকায় সাহিত্যের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ঝাজিয়ে উঠল কল্পনা,
"ছিঃ!একদম আমাকে ধরবেন না।দূরে থাকুন আমার থেকে"
হঠাৎ কল্পনার এমন ব্যবহারে হকচকিয়ে গেল সাহিত্য।কল্পনার এমন আচরণের কিছুই বুঝলো না।তবে কল্পনা আবার সামনে পা বাড়াতে গেলে এক টানে তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দুই বাহু চেপে ধরল তার।ভারী কন্ঠে শুধালো,
"কি হয়েছে?এমন করছিস কেন?কি করেছি আমি?"
কল্পনা নজর নিচু রেখেই সাহিত্যের হাতের বাধনে মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলো।তার যেন কান্না বেড়িয়ে আসতে চাইছে।সাহিত্য আবার ঝাকি দেওয়াতে মুখ খুলে কাঁদো গলায় শুধালো সে,
"কানাডায় গিয়ে আপনি এতোটা বদলে যাবেন আমি চিন্তাও করিনি।ওরকম কিছু কেমন করে করতে পারলেন আপনি?একবারও বিবেকে বাধলো না?"
আজ যেন সবাই শুধু ভুলই বুঝছে।আর এই ভুল বুঝার শুরু হয়েছে অয়নের কারণে।কিন্তু সাহিত্য তো আর সেটা জানে না।যার দরুন এবার সে-ও ভুল বুঝে বসলো।কল্পনার কথায় সাহিত্যের মাথায় একটা বিষয়ই ঘুরপাক খাচ্ছে বর্তমানে।আর সেটা হলো গত রাতে সাহিত্যের নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে কল্পনার কাছে যাওয়া।
নিঃশ্বাস যেন কাপতে শুরু করল সাহিত্যের।ভারী এক ঢোক গিলে অধর জোড়াও কাপতে লাগলো।তার মানে কল্পনা ঘুমের মধ্যে ছিল না?সে জেগে ছিল?সাহিত্য কল্পনাকে ছেড়ে দিয়ে এক হাতের তালু অধর জোড়ায় ঘষতে লাগলো।নিজের হাত-পা কাপতে শুরু করেছে সেটা ভালো করেই বুঝলো সে।এমনিতেই তো কল্পনা নিজেকে আটকিয়ে রেখেছিল।আর তারউপর সাহিত্যের গত রাতের ব্যবহারে নিশ্চয়ই এখন বাজে ভাবছে তাকে।প্রেয়সীর চোখে ভালো না হয়ে যেন আরো খারাপ হয়ে বসল সে।
কল্পনা নিজের মুখের ঘৃণা মিশ্রিত রাগের ভাব বজায় রেখেই আবার হাটা দিচ্ছিল।কিন্তু সাহিত্য তার প্রেয়সীকে যেতে দিল না।আবার আগের ন্যায় কল্পনার দুই বাহু চেপে ধরল।কথা বলতে নিয়েই গলা কাপতে লাগলো সাহিত্যের,
"এই জানপাখি শুননা।আমি অমন কিছু করতে চাইনি।আ-আমার অমন কিছু করার একদম ইন্টেনশন ছিল না"
কল্পনা আবারো মাথা নিচু করে নিল।চোখের পানি যেন কোনো রকম ধরে রেখেছে সে।সাহিত্যের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়ার চেষ্টা চালাতে নিয়েই বলল,
"আমাকে এখন অযথা বুঝ দিয়ে লাভ নেই।সব জানা আছে আমার।আপনি একদম আমার আগের সাহিত্য ভাই নেই।পুরাই বদলে গিয়েছেন।আপনার ছোয়াও এখন সহ্য পাচ্ছে না আমার"
কেপে উঠল সাহিত্যের হাত জোড়া,
"কেন অমন বলছিস জান?বললাম তো ভুল হয়েছে।আ-আর কখনো অমন করবো না।প্লিজ একটু বুঝার চেষ্টা কর।আই ওয়াজ হেল্পলেস।আ-আ-আমি নিজের মধ্যে ছিলাম না তখন।তো-তোর সাহিত্য ভাই বদলায়নি জানপাখি।আমি এখনো অমনই আছি।নিজের ফিলিংস নিয়ে আমি হেল্পলেস ছিলাম তখন"
সাহিত্যের গলা কাপলেও কল্পনা আবার ঝাজিয়ে উঠল।কিন্তু ভাঙা গলায় কেপে উঠল তারও কন্ঠের স্বর,
"লিসাকে তো দেখেই বুঝা যাচ্ছিল যে সে ডাবলটাইমিং করা মেয়ে!তো আপনি অমন মেয়েকে পছন্দ করেন,যে নিজের ফিলিংসের জন্য হেল্পলেস হয়ে গিয়েছিলেন?"
কল্পনার এবারের কথা সম্পুর্ণ সাহিত্যের মাথার উপর দিয়ে গেল।থমকে থাকলো সে কিছু মুহুর্ত।এখানে হঠাৎ লিসার কথা কেন উঠল?সেটাও আবার লিসার মতো মেয়ের ডাবলটাইমিং করা নিয়ে।
সাহিত্য আনমনে থাকায় কল্পনা নিজেকে সাহিত্যের হাত থেকে ছাড়াতে সফল হচ্ছিল।কিন্তু সেই সুযোগ দিল না সাহিত্য।আবার কল্পনাকে শক্ত করে ধরে ভ্রু কুচকে বলে উঠল,
"লিসাকে নিয়ে কি হয়েছে?"
"লিসাকে নিয়ে কি হয়েছে মানে?লিসাকে নিয়েই তো কথা চলছে।আপনি অমন একটা মেয়ের সাথে রিলেশনে যেতে পারলেন?সেটা তো সেটা,আবার আপনার এক্সের সাথে ভিকি ভাইয়া রিলেশনে আছে!"
সাহিত্যের কপালে বড় আকারে ভাজ পড়ল,
"লিসা কেন আমার এক্স হতে যাবে!আর ভিকির কালকে বিয়ে কল্পনা!ও অন্য মেয়ের সাথে রিলেশনে কেন থাকবে!!"
কল্পনাও গলা উঁচিয়ে বলল,
"আমারো তো সেটাই কথা!কানাডার এতো বাজে একটা কালচার ফলো করছেন আপনারা??"
এই বিষয়ে সাহিত্যের মাথায় খিচুড়ি পাকলেও আগে নিজের দিকটা নিশ্চিত হয়ে নিল সে।শান্ত কিন্তু ভারী কন্ঠে শুধালো,
"তার মানে তুই গত রাতের কথা বলছিলি না?"
"আমি কেন গত কাল রাতের কথা বলব?আর হয়েছিলটা কি কাল রাতে?"
সাহিত্য কল্পনাকে ছেড়ে দুই হাত দিয়ে মাথার চুল টানতে লাগলো।ভারী দুটো শ্বাস ফেলে কল্পনার দিকে ঘুরে শান্ত স্বরেই জিজ্ঞেস করল সে,
"তোকে কে বলেছে যে লিসা আমার গার্লফ্রেন্ড ছিল?"
কল্পনা নাক টেনে শুধালো,
"অয়ন ভাইয়া"
কল্পনার সুক্ষ্ম এক কথায় রাগ চড়চড়িয়ে মাথায় উঠল সাহিত্যের।অয়নকে সাহিত্য এমনি-এমনিই কল্পনার থেকে দূরে থাকতে বলে না।সেটার যথেষ্ট যুক্তি আছে।কারণ অয়নের স্বভাব সম্পর্কে ভালো করেই জানা আছে সাহিত্যের।যেমন এই মুহুর্তে কি ঘটনাটা ঘটে যাচ্ছে!কল্পনা কাল রাতের কথা জানেই না অথচ এখনই জেনে যেত।সেটাও আবার সাহিত্যের কাছ থেকেই!এমনিতেই এই বিষয় নিয়ে সাহিত্যের কাল রাতেও ঘুম হারাম হয়েছে।আর এখন আরেক টেনশনে হার্ট স্ট্রোক করছিল সে।আর লিসার ব্যাপারে অমন এক কাহিনী বানিয়ে বলে কি করতে চেয়েছিল এই ছাতা পরা অয়ন!!সাহিত্যের চরিত্রে এমন দাগ লাগানোর মানেটা কি?যেই ছেলে তার প্রেয়সীকে ছাড়া আর কোনো মেয়েকে তেমন নজরে দেখেইনি সেই ছেলের উপর এতো বড় দাগ টেনেছে কেন?সেটা শুনে যে এখন সাহিত্যের প্রেয়সী নিজেকে সাহিত্যের থেকে দূরে রাখছে।
সাহিত্যের এখনো ভারী শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।অধর জোড়া গোল করে শ্বাস ছাড়তে লাগলো সে।অতঃপর মাথার চুল টানতে নিয়েই নজর ঘুরিয়ে অয়নকে খুঁজতে লাগলো।
মিউজিক ব্যান্ডের কাছে ভিকি,রবি আর অয়ন তিনজনই দাঁড়িয়ে আছে।সেদিকে নজর যেতেই মাঠের অপর প্রান্ত থেকে হুংকার ছাড়লো সাহিত্য,
"অয়ন!!!!!!"
সাহিত্যের হঠাৎ এমন হুংকারে মাঠে উপস্থিত সবার শরীরে যেন ভূমিকম্প বয়ে গেল।তবে কল্পনা একটু বেশিই নড়ে উঠতে বাধ্য হলো।মেয়েটা তো সাহিত্যের এমন হুংকার শুনে কাঁদো-কাঁদো মুখের ভাব সড়িয়ে হাবলার মতো সাহিত্যের দিকে দেখে আছে।
সাহিত্য কল্পনাকে আর কিছু বলল না।অয়নের দিকে নজর রেখেই জোর পায়ে সেদিকে হাটা দিল।সাহিত্যকে নিজের দিকে এগুতে দেখে বেশ ভড়কালো অয়ন।সাহিত্যের দিকে নজর রেখেই পাশে দাড়িয়ে থাকা রবি আর ভিকির উদ্দেশ্যে কাপা গলায় শুধালো,
"সাহিত্য অমন চিল্লানি কেন দিল?"
অয়নসহ উপস্থিত বাকি দুজনও বুঝেছে সাহিত্যের হুংকারের কারণ।তবে অয়ন যেন খুব করে চাইছে সেটা না হোক।তাই তো অমন প্রশ্ন করে বসে।অয়নের প্রশ্নে ভিকি ঠোঁট বাকিয়ে বলে উঠল,
"আই থিঙ্ক সাহিত্য জেনে গিয়েছে যে তুই ওর ক্যারেক্টারে ঘী লাগিয়েছিস"
"সিট"
অয়নের গলা থেকে শব্দখানা খুবই কাঁদো-কাঁদো আর অস্ফুটস্বরে বেড়ুলো।অতঃপর সাহিত্যের থেকে নিজের দূরত্ব কমিয়ে আসা দেখে উলটো দিকে দিল দৌড়।কারণ সে ভালো করেই জানে যে এখন সাহিত্যের হাতে পড়লে সোজা কবরে ঢুকবে সে।
অয়নের দৌড়ানো দেখে সাহিত্যও দৌড় লাগালো।সাথে কটমটিয়ে উঠল সে,
"অয়নের নাতি,থাম!!!"
কাঁদো গলায় উঁচিয়ে বলল অয়ন,
"আব্বে বাচ্চাই এখনো হয়নি,নাতি কই পাইলি?"
সাহিত্য আগের কন্ঠ ধরে রেখেই বলে উঠল,
"সমস্যা নেই।আজ তোর বাচ্চা তোর পেট থেকেই বের করে ছাড়বো!"
এদিকে রবি মাথায় হাত চাপড়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভিকি হাসতে নিয়েই এক কাজ করে বসলো।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মিউজিক আর্টিস্টকে এক গান লাগাতে বললে সেই মিউজিক আর্টিস্টও হাসতে নিয়ে ভিকির বলা কাঙ্ক্ষিত গান চালু করল।অমনি যেন আশেপাশের সাউন্ড বক্স গিম-গিম করে বেজে উঠল,
❝ড্যাডি মুঝছে বোলা,তু গালতি হ্যা মেরি।
তুঝপে জিনদেগানি,গিলটি হ্যা মেরি।
সাবুন কি শাকাল মে,বেটা তু তো নিকলা কেবাল
ঝাক,ঝাক,ঝাক,ভাগ!!
ভাগ-ভাগ!!...ভাগ-ভাগ!!
ভাগ-ভাগ!!...ভাগ-ভাগ!!❞
গান তার সুর তুলে পুরো দমে বেজেই যাচ্ছে।আর এদিকে ভিকি হাসতে নিয়েই অয়নের উদ্দেশ্যে গলা উঁচিয়ে বলল,
"ভাগ অয়ন ভাগ!!!"
সাহিত্যের হুংকারে মাঠের সবাই অনেকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল।কিন্তু ভিকির এমন গান লাগিয়ে দিয়ে পেট ফাটা হাসিতে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এলো সবাই।মাঠে উপস্থিত দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা মুখ টিপে হাসলেও সাহিত্যের ধাওয়া করতে থাকা অয়ন চোখ-মুখ খিচে নিল।অতঃপর ভিকির উদ্দেশ্যে চেচিয়ে উঠল সে,
"কুত্তা!!!!"
সাহিত্যের থামার যেন কোনো নামই নেই।গানের তালে সবাই হাসলেও সাহিত্য রাগের মাথায় ফুসছে।বেচারার কলিজা শুকিয়ে এসেছিল কিছুক্ষণ আগে।আর সেটার ফলস্বরূপ অয়নকে আজ কিলিয়েই ছাড়বে সে।
এদিকে কল্পনা একমাত্র ব্যক্তি যে কিনা হতবম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সাহিত্য আর অয়নের দিকে চোখ রেখে বিড়বিড় করে আওড়ালো সে,
"হচ্ছেটা কি?"
কিন্তু পর মুহুর্তেই আবার ফুসে উঠল,
"ওনার কু-কর্ম অয়ন ভাইয়া ফাস করে দিয়েছে সেটার জন্য?"
ইরা এটারই টেনশন করছিল।তাই তো মাঠে এসব শুরু হতেই কল্পনার কাছে আসতে ধরে সে।কল্পনার কাধে হাত রেখে সে-ও সাহিত্য আর অয়নের দিকে নজর দিল।সাথে কল্পনার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
"তুমি যেমন ভাবছো তেমন কিছুই না।অয়ন তোমার সাথে মজা করেছে।সাহিত্য কানাডায় থাকাকালীন লিসা তার পি.এ. ছিল।আর এখন ভিকির পি.এ."
ইরা হয়তো পরে লিসার সাথে যে কল্পনার কথা হয়েছে সেটা জানে না।কিন্তু অজান্তেই কল্পনার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিল।কল্পনা চোখ জোড়া বড়-বড় করে ইরার দিকে মাথা ঘুরাতে নিয়েই বলল,
"আপু আপনি কি বললেন!!"
হেসে উঠে ইরা,
"হ্যাঁ রে পাগল।সাহিত্যের কখনো কোনো গার্লফ্রেন্ড ছিলই না।তোমার কি মনে হয়,যে সাহিত্য এতো বড় কোম্পানি খুলতে গিয়ে প্রেম করার সময় পেয়েছে?.........তোমার সাহিত্য ভাইয়ের জীবনে তুমি ছাড়া আর কোনো মেয়েই আসেনি"
শেষের কথাটা কোমল কন্ঠেই বলল ইরা।তবে কল্পনা ভ্রু কুচকে শুধালো,
"আমি ছাড়া আর কোনো মেয়ে আসেনি মানে?"
ইরা হয়তো বুঝলো কল্পনার প্রশ্নখানা।তাই তো ভড়কে উঠে কল্পনাকে বুঝতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বলল,
"আরে আমি এমনি শুধু তোমাকে মিন করে বলছি।আমার জানা মতে সাহিত্য মেয়েদেরকে সহ্য করতে পারে না।সেখানে তোমার সাথে কত ফ্রি-ভাবে কথা বলে।সেটা দেখেই বলছিলাম"
কল্পনা বুঝেও যেন অবুঝের মতো 'ও আচ্ছা' বলে গেল।তবে এখন মনটা অনেক হালকা লাগছে তার।হয়তো এটা ভেবে যে,সাহিত্যের জীবনে তেমন কেউ নেই।নতুবা মন হালকা হওয়ার এটাও কারণ হতে পারে যে,কল্পনা ছাড়া সাহিত্যের জীবনে আর কেউ নেই।
#চলবে
🔴
আপনারা অনেক সময় পর্বের সাইজ নিয়ে কমপ্লেইন করে থাকেন,যে পর্ব আরো একটু বড় হলে ভালো হতো।তো এই ব্যাপারটা আজ একটু খুলে বলি আপনাদের।
#একখণ্ড_আসক্তি গল্পই আমার লিখা প্রথম গল্প যেটি এতোটা গঠনমূলক হচ্ছে।বলতে গেলে,আমার আসল লেখিকার যাত্রা শুরু হয়েছে এই গল্প দিয়েই।প্রথমবার কোনো গল্প এমন রানিং হিসেবে লিখতে নিয়েই পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে আমার বেশ হিমসিম খেতে হচ্ছে।তারউপর এতো লম্বা সময় নিয়ে একটা গল্প লিখায় আমি অভ্যস্ত নই।এটাই প্রথম।প্রায় কয়েক মাস ধরে গল্পটা লিখতে থাকায় একটু একঘেয়েমি চলে আসছে।হাত চলতে চায় না।
অন্য লেখিকাদের ৬হাজার-৭হাজার শব্দের পর্ব পড়ে আমার এখানে এসে ২হাজার শব্দের পর্ব পড়ে হতাশ হন সেটা আমি বুঝি।কিন্তু আমার দিকটাও একটু বুঝার চেষ্টা করিয়েন।আমি একটা অধৈর্য মানুষ এতো ধৈর্য ধরে শুধু আপনাদের জন্যই গল্পটা লিখে যাচ্ছি।মারাত্মক রাইটিং ব্লকে থাকার পরেও প্রতিদিন যতটুকু সম্ভব হচ্ছে লিখে রেখে ২দিন পরপর পোস্ট করতেছি।
একজন কাঁচা হাতের লেখিকা হিসেবে এর থেকে বেশি দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।কারণ প্রথমত,এটা আমার লিখা প্রথম গল্প।আর দ্বিতীয়ত,আমি প্রতিটা পর্বের প্রতিটা শব্দ খুবই ভেবেচিন্তে লিখি।আমার গল্পের প্রথম সমালোচক আমি নিজেই।সেই হিসেবে বুঝতেই তো পারছেন,কত খুটিয়ে-খুটিয়ে গল্পটা লিখি আমি।
কি-বোর্ডে শুধু হাত চালালেই গল্প লিখা হয়ে যায় না।মাথাও মনে হয় একটু খাটাতে হয়।আর ইদানীং কেন জানি মনে হচ্ছে মাথার উপর একটু বেশিই প্রেশার পড়তেছে আমার।লেখালেখি আমার একটা আনন্দের জায়গা।এটাকে নিজের মাথা ব্যথার কারণ বানাতে চাই না।
আশা করছি আমার অসুবিধাটা বুঝতে পেরেছেন😊
এইটুকুই শুধু ক্লিয়ার করার ছিল।কিন্তু আপনারা চিন্তা করিয়েন না।আপনাদের একদমই বোর ফিল হতে দিব না।#একখণ্ড_আসক্তি গল্পের এখনো অনেক কিছু দেখার বাকি আছে আপনাদের🥹
আগামী পর্ব যথাসময়ে দেওয়ার চেষ্টা করব,ইনশাআল্লাহ🤧
ওহ!আরো একটা কথা,শুভ নববর্ষ!🥰
***************************************************