#পর্ব_৬৬
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
"আমাকে সামলানোর মতো বড় হয়েছিস?"
সাহিত্যের কথায় আসল অর্থটা হয়তো কল্পনাও আবছা ধারণা করে বসল।যার দরুন মেয়েটা তড়িৎ গতিতে সাহিত্যের দিকে মাথা ঘুরিয়ে বলে উঠল,
"মানে?"
"মানে..."
আনমনে অস্ফুটস্বরে সুক্ষ্ম শব্দখানা বলার পর মুহুর্তেই যেন ধীরে-ধীরে হুশ ফিরতে শুরু করল সাহিত্যের।কল্পনার বড় আকারের চোখগুলো দেখে নিজের কর্ম-কান্ডের জ্ঞান হলো তার।কথা ঘুরাতেই আমতা-আমতা করে এক কথা বলে বসলো সে,
"আ,মানে,তুই আমাকে কাধে নে!"
সাহিত্যের কথা শুনে কল্পনা যতটা না অবাক হলো তার থেকে বেশি হতবম্ব হলো সাহিত্য নিজেই।
সাহিত্যের এমন কথায় চোখ-মুখ বেশ বিকৃত করল কল্পনা।সেই বিকৃত চেহারা নিয়েই সাহিত্যকে উপর-নিচ পরখ করল একবার।অতঃপর খুব বিরক্ত নিয়েই শুধালো,
"আপনি যে কানাডার একটা টাইকুন বিজনেসম্যান;আমার না মাঝে-মাঝে বিশ্বাস হয়না।এমন বুদ্ধি নিয়ে অত উঁচুতে গিয়েছেন কেমন করে?আপনার মতো হাট্টা-কাট্টা একটা ছেলেকে আমি কাধে তুলবো কেমন করে?শরীরে কিছু বাকি থাকবে আমার?এই দুই দিনে পাগলের মতো নেচেকুদে মাথা থেকে সব বেড়িয়ে গিয়েছে আপনার।কি থেকে কি বলছেন নিজেই মনে হয় বুঝছেন না..."
কল্পনা তার ঝাড়ুনি জারি রাখলেও সাহিত্য নজর লুকিয়ে ঘাড় চুলকাতে লাগলো।আর কি-ই করবে সে?প্রেয়সীর ঝাড়িই খেয়ে নিক একটু।সেটাতে যদি পাগল অনুভূতিদের খানিক সময় দাবিয়ে রাখতে পারে তাতেও লাভ।
ক্ষণিক বাদে সাহিত্য মাসুম নজরে দেখতে লাগলো ঝাড়তে থাকা প্রেয়সীকে।নাহয় ভুল করে বলেছে একটু নিজের মনের কথা।আর সেটা লুকাতে গিয়েই এতো বকা খেতে হচ্ছে?তবে হালকা একটু যেন ভালোও লাগছে বটে।প্রথমবার তার প্রেয়সীটা এমন করে ঝাড়ছে তাকে।একদম ঘরের বউের মতো লাগছে।
সাহিত্যের এমন চুপসানো মুখ দেখে থেমে গেল কল্পনা।ক্ষণিক সময় সাহিত্যের দিকে সরু চোখ রেখে ভারী এক শ্বাস ফেলল।অতঃপর বলে উঠল,
"নিচু হন!আপনার কাধে উঠা ছাড়া তো আর কোনো উপায় দেখছি না"
কল্পনার সে কথায় ঠোঁট বাকালো সাহিত্য।সাথে মিনমিনিয়ে বলেও উঠল,
"আমি তো সেটা প্রথমেই বলেছিলাম"
কল্পনা এখনো মুখ ফুলিয়ে আছে।সাহিত্যের কাধে উঠতে এখনো সংকোচ বোধ করছে সে।এমন হুট করে কারো কাধে উঠা যায়?সেটাও আবার সাহিত্য ভাইয়ের!কিন্তু আর উপায় যে নেই।
সাহিত্য ঠোঁটে সুক্ষ্ম হাসি ঝুলিয়ে এক হাটু গেড়ে বসল।সামনে এগুতে গিয়ে থেমে গেল কল্পনা।পা উঁচিয়ে পড়নের হিলে হাত দিল সে।সেটা দেখে ভ্রু কুচকালো সাহিত্য,
"পায়ে কি হয়েছে?"
স্বাভাবিক উত্তর কল্পনার,
"জুতা পড়ে আপনার কাধে উঠলে পাঞ্জাবিতে ময়লা ভড়বে"
নিজের পাঞ্জাবির প্রতি প্রেয়সীর যত্ন দেখে আবারো খুশিতে ঠোঁট বাকালো সাহিত্য,
"থাক লাগবে না"
"কেন লাগবে না?সাদা পাঞ্জাবি পড়েছেন।দাগ হয়ে গেলে চোখে পড়বে সহজে"
আর কিছু বলল না সাহিত্য।তবে বসে থাকা অবস্থাতেই নিজ হাতে মেহেদী দিয়ে রাঙানো কল্পনার পায়ের দিকে নজর দিল।অতঃপর বসা অবস্থাতেই একটু এগিয়ে গেল কল্পনার দিকে।যেন কল্পনা তার এক হাত সাহিত্যের কাধে রেখে জুতা খুলতে পারে।ইচ্ছা তো ছিল নিজেই সেই জুতা জোড়া খুলে দিক।কিন্তু সাহিত্য সেই জুতা জোড়া খুলতে শুরু করলে শুধু সেই জুতা জোড়া খুলবে না।তাই তো বেশি এগুলো না সে।
সাহিত্য এগিয়ে যেতেই কল্পনা তার কাধে হাত রেখে জুতার ফিতা খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।আড় চোখে কল্পনার দিকে দেখে নজর ঘুরাতেই কল্পনার শাড়ির কুচির কাছে চোখ আটকে গেল সাহিত্যের।সেপাশে দেখতেই যেন শ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল ছেলেটার।গোলাপি শাড়িতে আবৃত ফর্সা উদরখানা জ্বলজ্বল করছে সাহিত্যের সামনে।সাথে-সাথেই ঘাড় বিপরীতে ঘুরিয়ে নিল।অতঃপর এমন পরিস্থিতিতে তাকে ফেলার জন্য বেশ কিছুক্ষণ ঝগড়া চালালো নিজের সৃষ্টিকর্তার সাথে।
এসব একদমই কল্পনার অবগতের মধ্যে নেই।সে জুতা খুলে পাশে রেখে এগিয়ে এলো সাহিত্যের দিকে।অতঃপর খুব দ্বিধা-দন্ধের মধ্যে থেকেই সাহিত্যের কাধে নিজের শরীরের ভাড় এলিয়ে দিল।কিন্তু এখনো বেশ সংকোচ বোধ করছে সে।সেটা বুঝতে পেরে সাহিত্য চোখ উল্টিয়ে ভারী এক শ্বাস ফেলল,এবং পর মুহুর্তেই এক কান্ড করে বসল।
কল্পনাকে কাধে চড়ানো সাহিত্যের জন্য তুলা উঠানোর সমান।এমনকি সাহিত্য যে নিচে বসেছে সেটারও দরকার ছিল না।কল্পনার কমোড় ধরে খুব সহজেই নিজের কাধে বসিয়ে নিতে পারতো।কিন্তু কল্পনা ইতস্ত বোধ করবে দেখে সেটা আর করেনি।কিন্তু এখন কল্পনার বারবার উঠা-নামা দেখে যেন নিজের ইচ্ছাই চালালো সে।
কল্পনা আঙুলের ইঞ্চি ফিতা দিয়ে সাহিত্যের কাধে বসার জায়গা মাপছিল।বসতে ধরে যেন আবার উঠে মাপামাপি করছে।তবে আর সেই সুযোগ পেল না।এবার সাহিত্যের কাধে নিজের শরীরের ভাড় হালকা দিতেই সাহিত্য খপ করে কল্পনার কমোড় ধরে উঠে দাড়ালো।সেটাতে বেশ চেচিয়ে উঠলো কল্পনা,
"আরে!আরে!!কি করছেন!পড়ে যাব তো!!"
কল্পনা চিল্লাতে নিয়েই চোখ খিচে বন্ধ করে সাহিত্যের মাথা আকড়ে ধরল।
কল্পনা এমন মাথা চেপে ধরার পরেও সাহিত্য একটুও নড়তো না।বট গাছের মতোই অনড়ভাবে থাকতো।কিন্তু কল্পনার শাড়ির আঁচলে ঢাকা পড়া নাকে যে আঁচলের মিষ্টি সুবাসটা ফুরফুর করে নাসাগহ্বরে ঢুকছে সাহিত্যের।এমনিতেই তো ক্ষণিক আগে প্রেয়সীর উন্মুক্ত উদর দেখে বেহাল দশা হয়েছিল তার।আর সেই বেহাল দশা সামলে উঠতে না উঠতেই আরেক ফাঁদে পা পড়ল।পাগুলো যেন অসার হয়ে আসছে তার।যার দরুন এবার নিজেকে এবং সাথে কল্পনাকে নিজের হাত থেকে বাঁচাতেই সাহিত্যও চেচিয়ে উঠল,
"কল্পনা হাত সড়া!!আমি দেখতে পারছি না!"
চোখ বন্ধ রেখেই মাথা ঝাকালো কল্পনা,
"না! না!!আমি পড়ে যাবো!!"
"আরে গাধি!পড়বি নাহ!হাত সড়া নাহলে মার খাবি আমার!"
কল্পনা একদমই হাত সড়ালো না।উল্টো কাঁদো গলায় বলতে লাগলো,
"আপনি না কালকেই বললেন আমাকে বকবেন না?"
এই পরিস্থিতিতে এমন কথা শুনে সাহিত্য প্রেয়সীর শরীরের ঘ্রাণ থেকে উষ্টা খেয়ে বেড়িয়ে এলো।এই মেয়েটা কোন কথা কোথায় প্রয়োগ করছে!!
সাহিত্যের স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়া দেখে চোখ খুলল কল্পনা,
"কি হলো?এখন দেখতে পারছেন?"
সাহিত্য কল্পনার আঁচলের আড়ালে এখনো চোখ-মুখ ভোতা করে দাঁড়িয়ে আছে।সময় নিয়ে কল্পনার উত্তর দিল,
"না।হাত সড়া।নাহলে তোর শাড়ির আঁচলের তুলোধুনো করব কিন্তু!"
সাহিত্যের স্থির হয়ে দাড়ানোর ফলে কল্পনা এখন অনেকটাই নিজেকে সামলাতে পারছে।তাই তো সাহিত্যের কঠিন গলা শুনে বাম হাতটা সড়িয়ে নিল।তবে ডান হাতটা এখনো সাহিত্যের ঘাড়েই ঠেকিয়ে রাখলো।
সাহিত্য আর সময় অপচয় করল না।জোর পায়ে হেটে এগিয়ে গেল সেই কাঙ্খিত থাই গ্লাসের দিকে।কল্পনা সেটা নিজের হাতের নাগাল পেতেই সাহিত্যকে স্থির হয়ে দাড়াতে বলল।অতঃপর হাত উঁচিয়ে থাই গ্লাসের লক খুজতে লাগলো সে।মনের মধ্যে দোয়া পড়তে লাগলো জানালার মতো যেন এখানেও লক করা না থাকে।
হয়তো সাহিত্যের ধৈর্যের পরীক্ষা শেষ হলো অবশেষে।কল্পনা থাই গ্লাসের লক ঘুরিয়ে চেচিয়ে উঠল,
"খুলেছে!খুলেছে!!"
নিচ থেকে সাহিত্যের কন্ঠ ভেসে এলো,
"অমন না ভেবিয়ে দেখ আশেপাশে কেউ আছে নাকি।না থাকলে জোরে ডাক দে কাউকে"
সাহিত্যের কথা কল্পনা শুনলো বটে।কিন্তু সেটা করতে একটু অসুবিধাই যেন হচ্ছে।হাত দিয়ে লক খুললেও মাথাটা সম্পুর্ণ উপরে উঠাতে পারছে না কল্পনা।তারপরও বাইরে যতটুকু নজর যাচ্ছে সেই দৃষ্টি ফেলতে নিয়েই গলা উঁচিয়ে সাহায্যের জন্য ডাকতে লাগলো।
ভিকি আর এশার অনুষ্ঠানের সুবাদে প্রায় সবাই এখন হলরুমের দিকেই।তাই এদিকে তেমন মানুষজন নেই।কিন্তু রিসোর্টের স্টাফরা যেন টুকটাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ চালাতেই এদিকটায় এসেছে।হঠাৎ অদৃশ্য এক মেয়েলী কন্ঠ শুনে যেন কম বয়সী ছেলে স্টাফটা থমকে গেল।আশেপাশে নজর বুলিয়ে যখন কাউকে দেখতে পেল না তখন কিছুটা ভয় করতে লাগলো তার।তবে কল্পনার আবারো 'হেল্প!' বলে উঠায় ভয়ার্থ নজর আশেপাশে ঘুরাতে নিয়েই কাপা কন্ঠে গলা উঁচিয়ে বলল সেই ছেলে,
"কে তুমি?কি চাই?"
ছেলেটার এমন কান্ড দেখে যেন আরো চটে গেল কল্পনা।চেচিয়ে উঠল সে,
"আরে ভোদারাম!!উপরে দেখেন!আমরা রুমে আটকা পড়েছি।ম্যানেজারকে ডাকেন তাড়াতাড়ি!"
কল্পনার দিকে নজর পড়তেই চমকে উঠল ছেলেটা।তবে পর মুহুর্তেই সন্দেহ মিশ্রিত কন্ঠে বলল,
"আপু আপনি ওখানে কি করেন?এই রুমের তো লক নষ্ট।আপনি ঢুকেছেন কেমন করে?"
মুখে কৃত্রিম হাসি নিয়ে কটমটিয়ে উঠলো কল্পনা,
"থ্যাংক ইউ ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন।আপনি না বললে তো আমরা জানতামই না।আরে!!রুমের লক নষ্ট তো রুমের সামনে সাইনবোর্ড দিতে হতো না!!এমন লটকিয়ে আপনার সাথে কথা বলার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন কি!!"
নিচ থেকে আবার সাহিত্যের কন্ঠ শুনা গেল,
"কল্পনা তুই লটকে নেই।আমার কাধে চড়ে আছিস"
"চুপ থাকেন আপনি!আমি কথা বলছি না!"
সাহিত্য বেশ অবাক হলো কল্পনার ঝাড়িতে।আজ ভালোই রাগ উঠেছে কল্পনার।আর সেটা হয়তো সাহিত্যের কাধে চড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই।আর সেই রাগ আরো বেড়ে চলেছে বাইরের ছেলেটির বর্তমান কান্ডে।তাই তো সাহিত্য আর কিছু না বলে চুপ রইল।
কল্পনা মাথা ঘুরিয়ে আবার বাইরের ছেলেটির দিকে নজর দিল,
"আরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?তাড়াতাড়ি গিয়ে ম্যানেজারকে ডাকেন!"
এবার আর থেমে থাকলো না ছেলেটি।লিফটের দিকে দৌড় লাগালো।
সেটা দেখে স্বস্থির শ্বাস ফেলল কল্পনা।সাহিত্যের মাথায় হালকা চাপড় মেরে তাকে নিচে নামাতে বললে আগের মতো এবার আর নিচে বসলো না সাহিত্য।দুষ্টু হাসি খেলে গেল তার ঠোঁটে।অতঃপর জিম করা পেটানো কাধ আর হাত নড়িয়ে সেকেন্ডের মধ্যে কল্পনাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে কল্পনার উরুর কাছে হাত চেপে ধরল।
সাহিত্যের এমন আগাম বার্তা ছাড়া আক্রমণ যেন নিতে পাড়ল না কল্পনা।চোখ বন্ধ করে চেচিয়ে উঠলো মেয়েটা।সাথে দুই হাত দিয়ে খামচে ধরল সাহিত্যের দুই কাধ।
স্টাফ ছেলেটা যেই দৌড়টা মেরেছিল তাতে এই অল্প মুহুর্তেই ম্যানেজারকে নিয়ে হাজির সে।ম্যানেজার কাছে ছিল দেখেই তো এতো দ্রুত আগমন ঘটে।দরজার লক ব্যস্ত হাতে খুলতে নিয়ে ভেতর থেকে কল্পনার এমন চিৎকার শুনে আতকে উঠল ম্যানেজার।মনের মধ্যে ঠিক করেই নিল যে আজ তার চাকরি গিয়েছে।কিন্তু রুমের ভেতরে যে অন্য কাহিনী চলছে।
কল্পনার চিৎকারে একদমই নড়ল না সাহিত্য।ঠোঁট বাকিয়ে দেখে থাকলো কল্পনার দিকে।অতঃপর কল্পনা গলার স্বর নিচু করার পরপরই শুধালো,
"আমার উপর তুই একটুও বিশ্বাস করিস না?"
সাহিত্যের দিকে দেখে বিস্ফোরিত কন্ঠে ঝাজিয়ে উঠল কল্পনা,
"আমাকে এখানে ঝুলিয়ে ধরে রেখেছেন,আর বিশ্বাস করব কেমন করে!হাত-পা ভাঙলে আপনারই টাকা দিয়ে হসপিটালে ভর্তি হবো কিন্তু,বলে দিলাম"
নিজের মুখ বরাবর কল্পনার উদরখানায় আড় নজর দিয়ে আবার কল্পনার দিকে দেখলো সাহিত্য।এখন হয়তো কল্পনার হাত-পা ভাঙবে না।কিন্তু অন্য কারণে হয়তো হসপিটালে যেতে পারে।সেসব কথা চিন্তা করতে নিয়ে যেন থমকে গেল সাহিত্য।সে না কিছুক্ষণ আগেই তওবা পড়ল যে আর উল্টা-পাল্টা কিছু মাথায় আনবে না?এতো তাড়াতাড়ি ভুলে বসেছে?অবশ্য প্রেয়সী সামনে থাকলে সাহিত্য ঠিকই বা থাকে কখন?
না চাইতেও যেন নজর আবার সামনের ফর্সা উদরখানায় আটকে গেল সাহিত্যের।ভারী এক ঢোক গিলল প্রেয়সীর উন্মুক্ত উদর দেখে।এই মেয়েটাকে শাড়ি কে পড়তে বলেছে?হলুদের দিন থেকে পাগল করে ছাড়ছে সাহিত্যকে।আর এই মুহুর্তে নিজেকে শত সংযত করার পরও যেন সেই উদরখানা হালকা করে ছুঁয়ে দিতে মন চাইছে সাহিত্যের।হয়তো সেটা নিজের খরখরে হাত দিয়ে,নয়তো নিজের খরখরে পুরুষালী অধর জোড়া দিয়ে।
"ম্যাম!!একটু অপেক্ষা করেন!!লক খুলছি আমরা!"
বাহির থেকে ম্যানেজারের কাঁদো গলা শুনেই যেন হুশ ফিরল সাহিত্যের।এবং পর মুহুর্তেই কিছু না ভেবে কল্পনাকে জড়িয়ে ধরে রাখা দুই হাত হঠাৎই ঢিলা করে দিল।ফলস্বরূপ হালকা উপর থেকে ধপ করেই মেঝেতে পড়ল কল্পনা।অমনি ভারী আর্তনাদ করে উঠল সে,
"হায় আল্লাহ!আমার কমোড়!!"
প্রেয়সীর উদরে নিজের দাঁতের কামোড় যেন না বসে তাই তো সাহিত্য হঠাৎই এমন কাজ করে বসে।আর সেটার ফল কল্পনা ভালো করেই পেল।মেঝেতে বসে কমোড়ে হাত দিয়েই সাহিত্যের দিকে দেখে ফুসতে লাগলো সে।অতঃপর ফুসতে নিয়েই বলল,
"নিজের টাকার গরম দেখাচ্ছেন?আমাকে হসপিটালে ভর্তি করার ধান্দায় আছেন,তাই না??"
সাহিত্য যেন ব্যতিব্যস্ত নড়তে লাগলো।এমন কিছু হয়ে যাবে ছেলেটা যেন নিজেও বুঝতে পারেনি,
"জানপাখি ব্যথা পেয়েছিস নাকি?সরি,আমি ইচ্ছা করে করিনি ওটা"
কথা শেষেই সাহিত্য কল্পনার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।সেই হাতে এক বারি মেরে আবার তেতে উঠল কল্পনা,
"লাগবে না আপনার হাত!আমি নিজেই উঠতে পারবো"
এবং সে কাজ কল্পনা করেও দেখালো।কল্পনা উঠে দাড়াতেই সাহিত্য ভ্রু জোড়া নেতিয়ে কোমল কন্ঠে বলল,
"সরি পাখি।আমি বুঝতে পারিনি।হাত ফসকে গিয়েছিল আমার"
কল্পনা কন্ঠ বদলালো না,
"আপনার পাখি তো উড়তে পারে,তাই না?যে ছেড়ে দিয়েছিলেন?"
কল্পনার কথা শেষ হওয়ার পর মুহুর্তেই রুমের লক খুলে ম্যানেজারসহ এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢুকলো।কোনো দিকে না দেখে ম্যানেজার মাথা নিচু করে ক্ষমা চাইলো,
"আম ভেরি ভেরি সরি!আসলে দোষটা আমাদেরই ছিল।উই আর ভেরি সরি আবাইট দ্যাট!!"
ম্যানেজারের দিকে না কল্পনা তোয়াক্কা করল আর না সাহিত্য।ম্যানেজারের ভারী ক্ষমার পর সাহিত্য দুই হাত দিয়ে নিজের কান চিমটে ধরে কল্পনার দিকে দেখে শব্দ না করেই মুখে 'সরি' উচ্চারণ করল।কিন্তু কল্পনা তাতেও গললো না।খালি পায়েই হনহনিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল সে।সেটা দেখে সাহিত্যের সাথে ম্যানেজারও ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠল।
সাহিত্য কল্পনার পেছনে যেতে নিয়ে আবারো রুমের ভেতর এলো।অতঃপর প্রেয়সীর হিল জুতা জোড়ার পেছনের ফিতা এক হাতের দুই আঙুলে ঝুলিয়ে আবার হাটা দিল রুমের দরজার উদ্দেশ্যে।কিন্তু তাকে থামিয়ে দিল ম্যানেজার।পিটপিট করে দেখতে লাগলো সাহিত্যের দিকে।সামনের তিন ব্যক্তি যেন রুমের ভেতরের পরিস্থিতি কিছুতেই আঁচ করতে পারছে না।সাহিত্য তাদের মনের সন্দেহ দূর করতেই হালকা হেসে বলল,
"ও আমার ফিয়ান্সে।আমার উপর রাগ করেছে ও"
ম্যানেজারের যেন এসব ব্যাপারে চিন্তা নেই।নিজের মনের ভয় মুখে আনল লোকটা,
"স্যার...কোনো কমপ্লেইন করবেন কি?"
রুমের লক নষ্ট হওয়ায় হালকা রেগে ছিল সাহিত্য।তবে এতক্ষণ প্রেয়সীর কাছে থাকতে পেরে রাগটা দমিয়ে নিল,
"আরে না না।আমি কমপ্লেইন করব না।কিন্তু পরবর্তীতে খেয়াল রাখিয়েন।এমন সাউন্ডপ্রুফ রুমে আটকা পড়ে খুব খারাপ অবস্থা হয়েছিল আমাদের"
আর কিছু বলল না সাহিত্য।হাতের হিল জুতা নিয়েই কল্পনার পিছনে দৌড় লাগালো।রুমে আটকা পড়ে দুজনেরই খারাপ অবস্থা হয়েছিল তো বটেই।তবে সাহিত্যের যেন একটু বেশিই ভোগান্তি হয়েছে।আর সেটা যেন কারো জানাই হয়ে উঠল না।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
ভিকি সেই কতক্ষণ থেকে নিজেরই বাসর ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে।দরজা থেকে দুই ধাপের বেশি যেন এক ইঞ্চিও নড়তে পারেনি।মেজাজটা হালকা চটে যাওয়ায় ক্ষণিক আগে থেকেই চোখ সরু করে দুই হাত বুকে ভাজ করে রয়েছে।ভিকির দিকে এশার এক বান্ধুবীর নজর পড়তেই পাশের মেয়েগুলোকে ভিকির দিকে দেখতে বলল।অতঃপর ফিক করে হেসে উঠল সবকটা মেয়ে।
বিছানার মাঝে বসে থাকা এশা নিজের ওড়না ঠিক করছিল।হাসির শব্দে সামনে নজর দিতেই ভিকির অন্ধকার মুখোশ্রি দেখতে পেল।কিন্তু এশা না হেসে ভিকির উদ্দেশ্যে শাসানোর সুরে বলল,
"অমন করে কি দেখছো?একটু ফটোশুটও করব না আমি?একটা মাত্র বিয়ে করেছি।ভালো ছবি তুলে রাখতে হবে না?কানাডায় গিয়ে তো আবার নিউজও ছাড়বে রিপোর্টাররা,যে O.S.S. কোম্পানির সি.ও.ও.-র বউ দেখতে কেমন?তাদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার একটু ভালো-ভালো ছবি পোস্ট করতে হবে না?"
এশার এমন অধিকার খাটানো কন্ঠের সাথে ভিকি আগে থেকেই পরিচিত।আর ছবি তোলা নিয়ে তার কোনো সমস্যাও নেই।কিন্তু ছেলেটা যে অন্য কারণে হাসফাস করছে।মুখোশ্রি অন্ধকার রেখেই ভারী কন্ঠে বলল ভিকি,
"আমিও একটাই বিয়ে করেছি এশা।তারপরও অনেকক্ষণ থেকে ধৈর্য ধরে আছি।তবে এবার একটু বেশি-বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু"
ভিকির কন্ঠের অসহায়ত্ব এশা সহ রুমে উপস্থিত সবাই বুঝলো।এবার তো ক্যামেরাম্যানরাও লুকিয়ে হাসতে শুরু করেছে।তবে এশার একটুও মায়া হলো না তার নব্য স্বামীটার উপর।মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করে বলল সে,
"আহা,ডিস্টার্ব করিও না তো।বাইরে গিয়ে মাথা ঠান্ডা করো"
ভিকির উত্তরের অপেক্ষা না করেই এশা ক্যামেরাম্যানদের দিকে ঘুরলো,
"ভাইয়া আপনারা ওর কথায় কান দিয়েন না।আপনারা কন্টিনিউ করেন"
ক্যামেরাম্যানগুলো গলা খাকাড়ি দিয়ে আবারো তাদের কাজে মন দিল।ভিকির দিকে আর কেউ ঘুরেও দেখলো না।বেচারা ভিকি হাল ছেড়ে দিয়ে ভারী শ্বাস ফেলে বেড়িয়ে এলো রুম থেকে।
ভিকিকে রুম থেকে বের হতে দেখে অয়ন সিগারেটের ধোয়া মুখ থেকে বের করতে নিয়েই মাথা নিচু করে হেসে উঠল।পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রবিও হালকা হাসলো ভিকির দিকে নজর রেখে।অতঃপর অয়ন কোনো রকম হাসি থামিয়ে বলল,
"ভাই,ভেবেছিলাম আমরা কিছু প্লান বানাবো তোকে বাইরে আটকে রাখার জন্য।কিন্তু এশা তো নিজেই সে কাজ করে দিয়েছে"
চটে গেল ভিকি।এসে অয়নের হাত থেকে সিগারেটটা নিয়ে লম্বা এক টান দিল।ভিকি সিগারেট তেমন একটা খায় না।তবে আজ যেন শোকে পড়েই হাতে নিল।সিগারেটের ধোয়া ফুসফুস থেকে বেড়িয়ে আসতেই রাগ উদয় হওয়া চেহারা বদলালো ভিকির।কাঁদো-কাঁদো চেহারা নিয়ে বলল,
"এয়ায়ারর,এখন বারোটা বাজছে।এই ম্যাডামের যে ছবি তুলা কখন শেষ হবে?ভোরবেলা কেউ বাসর সারে ভাই?!!"
অয়ন আর রবি আবারো এক জোগে হেসে উঠল।এদিকে অয়ন আর রবি হাসলেও খানিক দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্যের মুখে অন্য কথাই শুনা গেল,
"তোর তো তাও হবে।আর আমারটা যে এতো সুযোগ থাকার পরেও হলো না,সেটার কি?"
সাহিত্যের কাঁদো গলায় তার দিকে ঘুরলো ভিকি।আবছা আলোতে সাহিত্যের চেহারার দুঃখিভাব ভালো করেই চোখে পড়ার মতো।দুই হাতের কণোই রেলিংয়ে ঠেকিয়ে ঘাড়খানা পেছনে বাইরের দিকে হেলিয়ে রেখেছে সাহিত্য।নজর তার কুয়াশা ভরা আকাশের দিকে।কুয়াশায় মাথাটা ভালোভাবেই ভেজার সম্ভাবনা রয়েছে তার।কিন্তু তার চুলগুলো যে আগে থেকেই কুয়াশায় ভেজা।
তখন রুম থেকে বের হয়ে কল্পনার পিছে ছুটেছিল সাহিত্য।পেছন থেকে বেশ ডেকেছিলও সে।কিন্তু কল্পনা যেন কোনো দিকে না দেখে সেই খালি পায়েই নিজের কর্টেজের উদ্দেশ্যে হাটা দেয়।তার বেশ রাগ উঠছে সাহিত্যের উপর।কাধে নিয়ে কমোড়েই লাগাতো তো নিয়েছিল কেন কাধে?কল্পনার মনে হয় লাগেনি?চিকন কমোড়টা টনটন করছে তার।
অবশ্য কমোড়ের ব্যথার সাথে আরো এক কারণে রাগ উঠছে কল্পনার।আর সেটা নিজের বুকের সুক্ষ্ম ব্যথায়।তার অনুভূতিগুলো যেন আবারো খুব তীব্রভাবে হানা দিচ্ছে বুকের মাঝটায়।বদ্ধ রুমের ভেতর তখন সাহিত্য তাকে অমন জড়িয়ে ধরার পর থেকেই তো এমনটা হচ্ছে।আর সেই রাগ বর্তমানে সাহিত্যের উপরেই ঝাড়ছে সে।
সাহিত্য কল্পনার কাছাকাছি আসার আগেই কল্পনা নিজের রুমে ঢুকে ধাম করে লাগিয়ে দিল দরজাটা।সেটা দেখে ব্যস্ত হয়ে সাহিত্য দরজায় কড়া ঘাত করতে লাগলো।করুণ শুনালো ছেলেটার কন্ঠ,
"এই জানপাখি খুল না!প্লিজ!বললাম তো হাত ফসকে গিয়েছিল।বেশি লেগেছে কি?দাড়া ঔষধ নিয়ে আসছি আমি"
"লাগবে না আপনার ঔষধ!!"
পর মুহুর্তেই কল্পনার কথা বলে উঠায় ভারী শ্বাস ফেলল সাহিত্য।এবার আর দরজায় টোকা দিল না।নরম সুরে বলল ছেলেটা,
"আচ্ছা নিস না আমার ঔষধ।শুধু আমাকে একটু রুমে ঢুকতে তো দে।তোর অমন মুখ ফুলিয়ে থাকা ভাললাগে না আমার।অন্তত সরিটা তো বলতে দে আমাকে!প্লিজ পাখি!!"
সাহিত্যের এমন মধু মাখা কন্ঠে যেন কল্পনা আবারো ভারী শ্বাস ফেলতে লাগলো।বুকের ব্যথায় যেন আবারো কমোড়ের ব্যথা ভুলে বসলো মেয়েটা।নিজেকে যেন আজ নিজেই বুঝতে অক্ষম হচ্ছে সে।এসময় যদি আরো সাহিত্যের মুখোমুখি হয় তাহলে তো সে হার্ট স্ট্রোক করে মরবে,নির্ঘাত!তাই রুমের দরজা কোনো মতেই খুলা যাবে না।চোখ বন্ধ করে মাথা ঝাকালো কল্পনা।অতঃপর সাহিত্যের উদ্দেশ্যে অভিমানী কন্ঠে বলল,
"আপনি আমার সাথে কথা বলবেন না।যান তো এখান থেকে"
"জানপাখি আমার,এতো রাগ করেছিস?সরি!সরি!সরি!সরি!সরি!আর কক্ষনো অমন করবো না"
সাহিত্যের এতো সরিতে যেন বেহাল দশা কল্পনার।যত দিন যাচ্ছে মেয়েটা যেন ততই আকৃষ্ট হচ্ছে তার সাহিত্য ভাইয়ের প্রতি।কিন্তু সেই পথকে কল্পনা শুরু থেকেই ভুল পথের কাতারে রেখেছে।কিন্তু মনের ভিতরের আঠালো অনুভূতি যেন কিছুতেই কল্পনার থেকে দূরে সড়ছে না।আরো জড়িয়ে ধরছে তাকে।
মনের এমন উদ্ভট টানাপোড়া অনুভূতিদের ব্যাপারে তো কল্পনা সেকাল থেকে শুধু সাহিত্যকেই বলে এসেছে।সেটা ১১বছর আগে সরাসরিই হোক বা সাহিত্যকে পাঠানো সেই ১৫টা চিঠির মাধ্যমেই হোক।কিন্তু এখন এই অনুভূতির ব্যাপারে কেমন করে সাহিত্যকে বলবে?কল্পনা যে চাইছে না সাহিত্য যেন জানুক তার অনুভূতির এই দিকটা সম্পর্কে।কিন্তু হৃদয়ের কোনো এক কোণা যেন খুব করে বলতে চাইছে সাহিত্যকে।মন তো চাইছে দরজা খুলে সাহিত্যকে জাপ্টে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠুক।সেই কান্না যেন শরীরের ব্যথার কারণে নয়,বরং মনের ব্যথার কারণে।
নিম্নাষ্ঠ কামড়ে ধরে এবার হালকা ফুপিয়ে উঠল কল্পনা।ডান চোখের কোণ ঘেঁষে এক ফোটা অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়ল।এক হাত দিয়ে সেটা মুছতে নিয়েই গলার স্বর যতটা স্বাভাবিক করা সম্ভব ততটা স্বাভাবিক করে সাহিত্যের উদ্দেশ্যে বলে উঠল সে,
"আপনি যান তো এখান থেকে।আমি একটু রেস্ট নিব।খারাপ লাগছে আমার"
কল্পনার ভাঙা গলা ভালো করেই বুঝতে পারলো সাহিত্য।সে বুঝতে আর অক্ষম হলো না যে তার প্রেয়সী মনের দুঃখেই এমন ভেঙে পড়েছে।
কয়েক মুহুর্ত চুপচাপ দরজায় মাথা ঠেকিয়ে রাখলো সাহিত্য।হঠাৎই মনটা যেন প্রাণহীন হয়ে গেল তার।ক্ষণিক সময় বাদে ভারী শ্বাস ফেলে হালকা স্বরে বলে উঠল সে,
"আচ্ছা যাচ্ছি আমি।প্রীতিকে ডেকে দিচ্ছি,ওকে অন্তত রুমে ঢুকতে দিস"
আর কথা বাড়ালো না সাহিত্য।হাতের হিল জোড়া দরজার কাছে রেখেই হাটা দিল মেইন বিল্ডিংয়ের দিকে।এসেই অয়নের থেকে ফোন নিয়ে অন্তকে কল লাগিয়ে প্রীতিকে কল্পনার কাছে রেখে যেতে বলে সে।ফোনের ওপাশে থাকা অন্ত বড় ভাইয়ের মনের অবস্থা না বুঝলেও সাহিত্যের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রবি আর অয়ন ঠিকই বুঝেছে।আর সে কথা এই মুহুর্তে ভিকিও কিছুটা বুঝলো।
ভিকি ভ্রু কুচকে আবার অয়ন-রবির দিকে ঘুরলো,
"এটার আবার কি হয়েছে?ব্যস্ত থাকার কারণে আবার কল্পনার সাথে দেখা করতে পারেনি কি?"
অয়ন নিজের হাসি গিলিয়ে বলল,
"ও এতক্ষণ কল্পনার সাথেই ছিল"
অয়নের কথায় ভিকি ভ্রু কুচকালে রবি আর অয়ন ভিকিকে প্রথম থেকে সব খুলে বলে।সাহিত্য যে এতো কঠিন এক সময় পাড় করেছে সেটা ভেবেই ভেতর থেকে ভারী এক শ্বাস বেড়িয়ে এলো ভিকির।সিগারেট অয়নের হাতে দিয়ে এগিয়ে গেল সাহিত্যের দিকে।এক হাত রেলিংয়ে ঠেকিয়ে সাহিত্যের দিকে নজর রেখেই মেকি হেসে শুধালো,
"আমার সামনে এখন কে,জানিস?দ্য ন্যাস্টি গ্রীন ফ্ল্যাগম্যান,উরফে উল্টা তরমুজ।যে ১১ বছর ধরে জানতোই না যে তার একটা অবসেশন আছে।আর এখন যখন সে জানতে পেরেছে,হি ইজ ব্যাডলি ক্রেভিং ফর হিজ অফসেশন।কিন্তু তাকে সে ছুঁয়েও দেখতে পারছে না"
ভিকির এমন কথায় সাহিত্য হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে নজর দিল তার দিকে।ঠোঁটের সুক্ষ্ম হাসি সড়িয়ে ভিকি আবার বলে উঠল,
"তোর কাছে এখন দুটো অপশন আছে।হয় এই কয়দিনের মধ্যে কল্পনাকে নিজের মনের কথা বলে দে,নাহয় বিয়ের জন্য ফাহাদ আঙ্কেলের কাছে কল্পনার হাত চা।দুই নাম্বার অপশনটা অসম্ভব সেটা আমিও জানি।আর সেটা করলে তুই এ জনমে আর কল্পনাকে পাবি না।তাই প্রথম অপশনটাই শুধু হাতে আছে তোর।আমি তোকে ভালো করে চিনি।আমার বিয়ের এসব শেষে ঢাকায় ব্যাক করার পর তোর দ্বারায় উল্টা-পাল্টা কিছু হবেই হবে।আর আমি চাইনা অমন কিছু হোক বা কল্পনা তোর ব্যাপারে একটা খারাপ ধারণা নিক।তাই যত দ্রুত সম্ভব কল্পনাকে বলে দে"
সাহিত্যের চেহারায় এখনো প্রাণহীনের ছাপ স্পষ্ট।অমন নির্জীব নজর ভিকির দিকে রেখেই ধীমি কন্ঠে বলল,
"যদি কল্পনা না করে দেয় তাহলে এখন যতটা কাছে আছে সেটাও আর থাকবে না"
ভিকির ঠোঁটে আবার সুক্ষ্ম হাসি ফুটল।সাহিত্যের কাধে হাত রেখে বলল সে,
"তুই যেমন কল্পনাকে ভালোবাসিস,কল্পনাও তোকে তেমনই ভালোবাসে।ওর চোখে সেটা স্পষ্ট বুঝা যায়।শুধু মুখের উপর অস্বীকার করে মেয়েটা।অতটুকু ওর মুখে স্বীকার করাতে পারবি না?"
এবার সাহিত্যের ঠোঁটেও হাসি ফুটল।তবে সেটাতে জোর যেন একদমই নেই।ঘাড় ঘুরিয়ে আবার আকাশের দিকে নজর দিল সে,
"আমার জানপাখিটা কত শক্ত দেখেছিস?এতো গভীরভাবে ভালোবাসে আমাকে,অথচ মুখ ফুটে কিচ্ছু বলে না"
#চলবে