ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৭৪তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৭৪

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কল্পনা হাবার মতো হা করে সাহিত্যের দিকে দেখে আছে।এতোদিনে মনে হয় প্রথমবার সাহিত্য নিজের বিজনেসম্যান হওয়ার সো অফ করছে।কিন্তু তাই দেখে দেন মোহর কিছু কম ১বিলিয়ন টাকা দিবে??

সাহিত্য আবার সামনে ঘুরতেই কল্পনা তার মুখ ভেঙচালো।কল্পনার রাগটা তো একদমই কমেনি।উল্টো আর বাড়লো যেন।রাস্তার দিকে চোখ পড়তেই কল্পনা মনের এক ভয়েই যেন আতকে উঠে।হুড়মুড়িয়ে সাহিত্যের দিকে ঘুরে বলে উঠে সে,

"বাসায় কি বলবেন?"

"বলব যে বিয়ে করেছি"

কৃত্তিম হেসে উঠল কল্পনা।মুখের হাসি ধরে রেখেই বলল,

"বাহ!কি সুন্দর।লাফাতে-লাফাতে গিয়ে আমি বাবাকে বলব,'বাবা-বাবা,জানো!আমি না বিয়ে করেছি।কাকে করেছি জানো?তুমি যাকে দুই চোখে সহ্য করতে পারো না তাকে!'।তারপর বাবা তো আমাকে জড়িয়ে ধরে বলবে,'ওয়াও মামনি!কি সুন্দর কথা-বার্তা' "

কল্পনার কথায় সাহিত্য শব্দ করেই হাসতে লাগলো।আর এদিকে মুখের কৃত্তিম হাসি সড়িয়ে তেতে উঠল কল্পনা,

"খুব মজা পাচ্ছেন,তাই না?আমি এদিকে টেনশনে মরছি,আর আপনি হাসছেন?"

সাহিত্য হাসি থামাতে নিয়েই শান্ত স্বরে বলল,

"তুই এতো টেনশন করছিস কেন?আমি আছি না?সব সামলে নেব।তুই শুধু ভদ্র বাচ্চার মতো চুপ করে থাকবি।কারো কোনো কথায় একটা টু শব্দ করবি না"

সাহিত্যের হালকা মুখ ভেংচিয়ে কৃত্তিম কান্নায় খুত-খুত করে উঠল কল্পনা,

"আমি এমনিতেও কিছু বলব না।আপনি ঝামেলা পাকিয়েছেন আপনিই সব ঠিক করবেন।আমি কিচ্ছু জানি না"

মাথা নিচু করে রাখা কল্পনার দিকে আরো একবার আড় চোখে দেখলো সাহিত্য।বড় বর মালাটা গলায় ঝুলিয়ে খুত-খুত করেই যাচ্ছে মেয়েটা।সাহিত্য বিরক্তির এক শ্বাস ফেলে নিজের গলার মালাটা খুলে কল্পনার মুখ বরাবর ছুড়ে দিল,

"বিয়ের পর তোকে তোর বাপের বাড়িতেই নিয়ে যাচ্ছি,তারপরও কাঁদছিস?"

সাহিত্যের ছুঁড়ে দেওয়া মালাটা হাতের মুঠে চেপে ধরে আবারো হালকা গলা উঁচিয়ে বলল কল্পনা,

"বাপের বাড়িতে আজরাইলের মতো একটা বাপ আছে দেখেই তো কাঁদছি"

আবারো সাহিত্য ঠোঁট চেপে হেসে উঠল।ছেলেটার হাসি যেন কিছুতেই থামছে না।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

সাহিত্য গাড়ি থামালো একদম শেখ ভিলার গ্যারেজে।গাড়ি থামার পর মুহুর্তেই কল্পনা রাগে ফুসতে নিয়েই গাড়ি থেকে নেমে পড়ে।গাড়ির দড়জা শব্দ করে লাগিয়ে আশেপাশে নজর ফেলল সে।সাহিত্যের উপর এখনো রাগ উঠছে তার।সেটা কিসে ঝাড়া যায় সেটাই হয়তো খুঁজছে।

এপাশ-ওপাশ চোখ ঘুরিয়ে যখন কিছুই দেখলো না তখন রাগটা যেন আরো বাড়লো।আরো বেশি ফুসতে নিয়েই নজর ঘুরেফিরে চলে এলো সামনের গাড়িতে।চোখ সরু করে সেকেন্ডের মধ্যে কিছু ভেবে নিল কল্পনা।অতঃপর গাড়ির সামনের টায়ার বরাবর দিল এক পায়ের লাথি।আর সেটা নজরে পড়ল গাড়ি থেকে নামতে থাকা সাহিত্যের চোখে।গাড়ির দরজা লাগিয়ে ভারী মুখোশ্রি নিয়ে হালকা ঝাজিয়ে উঠল সাহিত্য,

"ওই!গাড়ি কি তোর বাপের?"

কল্পনা মুখে এক বড় কৃত্রিম হাসি ফুটালো,

"নাহ্!আমার পাতি পরমেশ্বরের!"

কথাখানা শেষ করে হাসি মুখ গম্ভীর করল সে।ঠোঁটখানা ভালো করে মুচড়িয়ে বাসার ফটকের দিকে এগিয়ে গেল।কিন্তু গ্যারেজ থেকে বেড়িয়ে এক ধাপের বেশি এক পা-ও বাড়াতে পারলো না।নিজের গলায় আর হাতে থাকা মালা দুটো দেখে থেমে গেল সে।এগুলো দেখে তো যে কেউ এমনিতেও বুঝে যাবে।আর গাড়িতে থাকা অবস্থায় সাহিত্য তাকে গলার মালা খুলতে নিষেধ করায় খুলতেও পারছে না।আবার ফুসে উঠল কল্পনা।তবে এবার যেন হালকা খুত-খুত করে উঠল।কান্নাটাও যে চরমভাবে বেড়িয়ে আসতে চাইছে।মালাগুলো গলায় না ঝুলিয়ে রাখলে এমন কি হতো?উল্টো সবাইকে ঢোল পিটিয়ে জানানোর বুদ্ধি।

কিন্তু কল্পনা তো আর বুঝে উঠল না যে সাহিত্য ঢোল পিটিয়ে জানানোর জন্যই সেই মালা দুটো নিয়েছে।বাসায় ঢুকার পর মুহুর্তেই যেন সবাই হুড়মুড়িয়ে আসে তাদের কাছে।তা নাহলে ফাহাদ শেখের সাথে খেলাটা জমবে কিভাবে?

কল্পনার ক্ষণিক আগের কথায় সাহিত্য ঠোঁট বাকিয়ে গ্যারেজ থেকে কেবলই বেড়িয়ে এলো।প্রেয়সী নিজ মুখে স্বীকার তো করেছে যে সাহিত্য তার 'ওইটা' লাগে।সেই খুশিতেই যেন হালকা হেলেদুলে হাঁটছে সে।তবে এদিকে কল্পনা উল্টো দিকে ব্যস্ত পায়ে হাঁটা দিয়ে এসে দাড়ালো সাহিত্যের পেছনে।মাথা নিচু করেই বিড়বিড় করে উঠল সে,

"আমি আগে যাব না,আপনি আগে যান"

ঘাড় ঘুরিয়ে কল্পনার দিকে নজর দিল সাহিত্য।কিছু বলতে চেয়েও যেন বলল না।ঠোঁট বাকিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত গুজে স্বাভাবিকভাবেই হাঁটা দিল বাসার অন্দরমহলের উদ্দেশ্যে।

বিকেলের এই সময়টা শেখ ভিলার অন্দরমহল বেশ জমজমাট থাকে।প্রায় সময়ই ফাহাদ শেখ ও রঞ্জক শেখ ড্রইং রুমে বসে টিভিতে খবর দেখতে ব্যস্ত থাকেন।আর বাড়ির গিন্নিরা ব্যস্ত থাকেন বিকেলের নাস্তা বানাতে।এমনই শান্ত পরিবেশটায় সাহিত্যের আগমন ঘটে।আর তার গা ঘেঁষে একদম লুকিয়েই কল্পনা হাঁটছে।ভয়ে শিটিয়ে আছে সে।আজ এই শেখ ভিলায় কি হবে সয়ং আল্লাহ মাবুদ ছাড়া কেউ জানে না।

লতিফা শেখ বড় দুই জা-য়ের সাথে গল্প চলতি রেখেই ডাইনিংয়ের দিকে এগিয়ে আসেন।হালকা পানির পিপাসা মিটিয়ে সামনে নজর পরতেই সাহিত্যের দেখা মিলল।মুখে হালকা হাসি নিয়ে শুধালেন তিনি,

"আরে সাহিত্য,এসেছিস তুই?"

কথাটা বলার পরপরই লতিফা শেখের নজর গেল সাহিত্যের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনার দিকে।তার গলার এবং হাতের মালা দেখে কপালে ভাজ ফেলে আবারো শুধালেন তিনি,

"কল্পনা?তুইও এসেছিস?আর....মালা কিসের ওগুলো?"

লতিফা শেখের প্রশ্নে সাহিত্য শান্ত ও গম্ভীর কন্ঠেই উত্তর করল,

"কল্পনা আর আমি বিয়ে করেছি"

সাহিত্যের সেই কথার পর পরিবেশ নিরব থাকলো কিছু মুহুর্ত।কল্পনা তো চোখ-মুখ খিচে একদম শিটিয়ে রয়েছে।লতিফা শেখ যেন বুঝলেন না সাহিত্যের কথা।চোখ জোড়া বড় করে রাখা অবস্থাতেই কাপা কন্ঠে শুধালেন,

"কে..কাকে বিয়ে করেছে?"

সাহিত্যের কথাটা শুধু লতিফা শেখের কানেই যায়নি।বরং রান্নাঘরে উপস্থিত বাকি দুই গিন্নি এবং ড্রইং রুমে উপস্থিত দুই শেখ আহমেদের কানেও গিয়েছে।দুই গিন্নি হুড়মুড়িয়ে বেড়িয়ে এলেও দুই শেখ আহমেদ এখনো স্তব্ধ।রঞ্জক শেখ সাহিত্যের দিকে ঘুরে দেখলেও ফাহাদ শেখের নজর এখনো টিভির দিকে।তবে অক্ষি কোটর যেন লাল হতে শুরু করেছে তার।

আমেনা শেখ হন্তদন্ত হয়ে হালকা এগিয়ে এলেন,

"সাহিত্য কি বলছিস তুই?তুই আর কল্পনা...বিয়ে করেছিস মানে?!"

সাহিত্য আগের শীতল কণ্ঠ বজায় রেখেই বলল,

"আব্বুকে ডাকো,সবাইকে একসাথে সবকিছু বলছি"

সাহিত্যের কথা শেষ হওয়ার একদম পর মুহুর্তেই তোফায়েল শেখের রুমের দিকে দেখে গর্জে উঠলেন ফাহাদ শেখ,

"কই,মিস্টার ইঞ্জিনিয়ার সাহেব!বের হন।সেদিন খুব করে বলছিলেন না,যে আপনার ছেলে অভদ্র নয়?আজ ভদ্রতা দেখাচ্ছে আপনার একমাত্র ছেলে!"

নিজের কথা শেষ করেই সোফা ছেড়ে উঠে এলেন ফাহাদ শেখ।রাগের তোপে চোয়ালটা গটগট করে কাপছে তার।ঠিক সাহিত্যের মুখোমুখি হয়ে দাড়ালেন তিনি।পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনার দিকে নজর দিয়ে আবার হুংকার ছাড়লেন,

"কল্পনা!!কিসব বাজে বকছে এই ছেলে?তুমি কি মুখ খুলবা?"

ফাহাদ শেখের হুংকারে কেপে উঠল কল্পনা।আরো শিটিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল সাহিত্যের পেছনে।

সাহিত্য কল্পনাকে ফাহাদ শেখের চোখের আড় করে দাঁড়িয়ে শীতল কন্ঠেই বলল,

"কি বলবে আমাকে বলো"

সাহিত্যের দিকে দেখে পূর্বের ন্যায় গর্জে উঠলেন ফাহাদ শেখ,

"আমি আমার মেয়ের সাথে কথা বলছি"

সাহিত্য কিছু বলবে তার আগেই তোফায়েল শেখ রুম থেকে বেড়িয়ে এলেন।বাইরের কথা তো তারও কান অব্দি গিয়েছে।ড্রইং রুম আর ডাইনিংয়ের মাঝে ফাঁকা জায়গাটায় দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্যের দিকে এগুতে নিয়েই ভারী কন্ঠ ভেসে এলো তার থেকে,

"সাহিত্য কি হচ্ছে এখানে?"

তোফায়েল শেখের কন্ঠ শুনে দাঁত কটমটিয়ে বিপরীতে মাথা ঘুরালেন ফাহাদ শেখ।আর সাহিত্য এদিকে তোফায়েল শেখের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,

"আমি কল্পনাকে বিয়ে করেছি"

ছেলের দিকে শক্ত নজর রেখেই কিছু মুহুর্ত দেখে থাকলেন তোফায়েল শেখ।অতঃপর দাঁত চিবিয়ে বললেন,

"তোমার কি বিবেক লোপ পেয়েছে?"

"বিবেক আছে দেখেই এ কাজ করেছি আব্বু"

সাহিত্যের কথায় ফাহাদ শেখের উঁচু গলা আবারো শোনা গেল,

"তোমার বিবেক আছে?সেটা আবার কবে থেকে থাকা শুরু করল?"

কল্পনার দিকে দেখে দাঁত চিবিয়ে আবারো আদেশ ছুড়লেন তিনি,

"কল্পনা!বিয়েটা মনে হয় তুমি করেছো।কারণটা কি আমাকে বলা যাবে?"

কল্পনা আবারো চুপ থাকায় এবার হেনা শেখও উঁচু গলায় মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"কল্পনা কথা বলছিস না কেন?বাবা কিছু জিজ্ঞেস করছে,শুনছিস না?"

মায়ের গলা শুনে মাথা হেট করে রাখা কল্পনার চোখে এবার ভারী পানি জমতে শুরু করেছে।সে বলবেই বা টা কি?সে তো নিজেও কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।কাপা হাতেই সাহিত্যের শার্টের পেছনটা খামচে ধরল সে।ভয়ে মেয়েটার জান বের হয়ে যাচ্ছে যেন।

হেনা শেখের দিকে ঘুরে সুক্ষ্ম হুংকার দিল সাহিত্য,

"আমি বললাম না,ওকে কিছু বলিও না?ও কিছুই জানে না এসবের।কি জিজ্ঞেস করবে আমাকে করো"

মেকি হেসে উঠলেন ফাহাদ শেখ,

"ও কিছু জানে না?তো বিয়েটা করেছে কেমন করে?ও কি কোনো অবুঝ বাচ্চা?"

ফাহাদ শেখের হুংকারে সাহিত্য মুখ খুলল না।কল্পনার দিকে হালকা ঘুরে শান্ত স্বরে বলে উঠল সে,

"রুমে যা তুই"

এতক্ষণ পর তোফায়েল শেখ হুংকার দিলেন,

"ও রুমে যাবে কেন?দুজনেই প্রশ্নের উত্তর দিবে।এমন বেহুদা একটা কাজ করার সাহস কেমন করে হয় তোমাদের?"

তোফায়েল শেখের উপর উঠা রাগের হুংকার সাহিত্য কল্পনাকে শুনালো।গর্জে উঠল সে,

"কল্পনা রুমে যেতে বললাম না?গো টু ইওর রুম,রাইট নাও!"

কল্পনার চোখের সুক্ষ্ম পানিরা তো পড়তে শুরু করেছিল সেই ক্ষণিক আগে থেকেই।সাহিত্যের গর্জনে শরীর হালকা কেপে উঠল তার।তবে পর মুহুর্তে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে গালের পানি মুছে ছুটে গেল নিজ রুমের উদ্দেশ্যে।

সবার নজর সাহিত্যের দিকে আটকে থাকলেও হেনা শেখ মেয়ের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য পা বাড়ান।তখনই সাহিত্য আবার হুংকার ছাড়ে,

"মেঝো চাচি এখন ওর কাছে যাওয়ার থেকে আমার কথা শোনা বেশি জরুরী"

কথা শেষে হেনা শেখের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমেনা শেখকে এক নজর দেখলো সাহিত্য।তিনি এখন অব্দি টু শব্দ করেননি।হয়তো ছেলের বিশ্লেষণের অপেক্ষায়।ছেলে তার কি যুক্তি দাড় করাবে সেই অপেক্ষাতেই আছেন তিনি।

সাহিত্য সামনে নজর না ঘুরাতেই ফাহাদ শেখ তার দিকে আরো একটু এগিয়ে এলেন,

"আমার মেয়ের সাথে উঁচু গলায় কথা বলার সাহস কি করে হয় তোমার?আর আমার মেয়েকে তুমি বিয়ে করেছোই কোন সাহসে?এতো বছর পার হওয়ার পরেও আমার মেয়ের থেকে চোখ সড়াতে পারোনি?আজকেই তোমাদের ডিভোর্স করাবো আমি।তোমার মতো বেয়াদব-রাস্কেল একটা ছেলের সাথে কিছুতেই আমার মেয়ে সংসার করবে না!"

সাহিত্য চোয়াল শক্ত করে ফুসতে নিয়েই ফাহাদ শেখের আরো একটু কাছে দাঁড়ালো।অতঃপর ভারী কন্ঠে বলল সে,

"আপনার সামনে ১১বছর আগের সাহিত্য দাঁড়িয়ে নেই মিস্টার ফাহাদ শেখ,যে যা ইচ্ছা তাই বলে যাবেন আর আমি কিচ্ছু বলতে পারবো না।আজ আমি কথা বলব আর আপনি শুনবেন"

সাহিত্যের এতোটা সাহস দেখে তোফায়েল শেখ ও ফাহাদ শেখ দুজনেই বেশ অবাক হলেন।কিন্তু বাকি সবাই যেন বেশ চিন্তায় পড়ে গেল।

ক্ষণিক সময় পর নিজের ভড়কানো মুখোশ্রিতে মেকি হেসে ফাহাদ শেখও ভারী কন্ঠে বললেন,

"আমার মেয়েকে বিয়ে করে খুব সাহস বেড়ে গিয়েছে,তাই না?আমার মেয়েকে কেমন করে সেফ রাখতে হবে সেটা ভালো করেই জানা আছে আমার!"

শেষের বাক্যখানা ফাহাদ শেখ হুংকার দিয়েই বললেন।আর তার পর মুহুর্তে সাহিত্যও হুংকার দিয়ে উঠল,

"তো আজ বিকেলে যখন আপনার মেয়ে কিডন্যাপ হয়েছিল তখন কই ছিলেন?তখন মেয়েকে সেফ রাখার কথা মাথায় ছিল না?আমি যদি আজ সময় মতো না পৌঁছাতাম তাহলে আপনার মেয়েকে আপনি আজ চোখের সামনেও দেখতে পারতেন না!"

সাহিত্যের হুট করে এমন এক কথায় যেন দম বন্ধ হয়ে গেল উপস্থিত সবারই।বিষয় বুঝতে না পেরে রঞ্জক শেখ শুধালেন,

"কল্পনা কিডন্যাপ হয়েছিল মানে?কে কিডন্যাপ করেছিল ওকে?"

ফাহাদ শেখের বিস্ময়ে ভরা চোখ থেকে নজর নিচে নামিয়ে লম্বা এক শ্বাস ফেলল সাহিত্য।হালকা পিছিয়ে ভারী কন্ঠেই বলল,

"কল্পনার ভার্সিটির এক ছেলে?"

সবাই আবারো চমকালে সাহিত্য ফাহাদ শেখের দিকে নজর দিল।মেকি হেসে বলল সে,

"কল্পনাকে আমার থেকে দূরে রেখে যে খুব সেফ রাখছিলেন,তো ভার্সিটির এক ছেলের থেকে সেফ রাখতে পারেননি কেন?আপনার নজরে আপনার মেয়ে শুধু আমার কাছেই সেফ নয়।তাছাড়া দুনিয়ার সব ছেলের কাছে সেফ,তাই না?"

সাহিত্য জোর পায়ে ফাহাদ শেখের দিকে আবারো এগিয়ে আসে।কিড়মিড়িয়ে বলল সে,

"মিস্টার ফাহাদ শেখ শুনুন,আজ আমি না থাকলে আপনার মেয়ে কোনো বখাটে রাস্তার ছেলের ঘরের বউ হতো।সেটা মেনে নিতে পারতেন?"

মেকি হেসে পা পিছাতে নিয়েই বলে উঠল সাহিত্য,

"এটার উত্তর তো দিতে পারবেন না।কারণ আপনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে কল্পনাকে আমার থেকে দূরে রাখা!"

বাড়ির এতো ভারী পরিবেশের মধ্যে এতক্ষণে অন্তর আগমন ঘটল।পরিস্থিতি বুঝতে তার বেশি সময় লাগলো না।তাই তো দৌড়ে বাসার ভিতরে ঢুকলেও পায়ের গতি কমিয়ে সবার থেকে একটু দূরত্ব বজায় রেখেই দাঁড়িয়ে থাকলো সে।

সাহিত্যের মুখ থেকে বের হওয়া শেষের কিছু কথা যেন কেউই ধারণ করতে পারছে না।কল্পনার সাথে যে এমন কিছু ঘটতে পারে সেটা কখনো মাথাতেই আসেনি তাদের।সাহিত্যের কথায় হেনা শেখ তো কাপা হাত-পা নিয়েই ডাইনিংয়ের এক চেয়ারে বসে পড়েন।আদরের মেয়েটার কিডন্যাপের কথা শুনে যেন কলিজাটা ধক করে উঠে তার।ছেলের কথায় তোফায়েল শেখও যেন হঠাৎই মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।এমন কিছু যে তার চিন্তা-ভাবনাতেও ছিল না।

নিজেকে সংযত করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে ফাহাদ শেখ স্বাভাবিক কিন্তু ভারী কন্ঠে বললেন,

"বিয়ে না করে কিডন্যাপ করা ছেলেগুলোকে মারপিট করা যেত না?সেটাতে তো কম নও তুমি"

সাহিত্য মাথা নিচু করে শ্বাস ফেলল।অতঃপর সময় নিয়ে মাথা তুলে বলে উঠল সে,

"আমি যথেষ্ট ভদ্র এক পরিবারের ছেলে।রাস্তায় বেকুবের মতো মারপিট করার কোনো মানেই হয় না"

সাহিত্যের এতো ভদ্র এক বাক্যে অন্ত তড়াত করে তার ঝুকে রাখা মাথাটা উঠালো।বিস্ময় ভরা নজর ফেলল সাহিত্যের দিকে।ক্ষণিক আগে প্রীতি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে সব ঘটনা খুলে বলেছে অন্তকে।আর প্রীতির বিবরণ অনুযায়ী সে আজ কাজি অফিসের সামনে সাউথ ইন্ডিয়ান মুভির লাইভ ফাইটিং সিন দেখেছে।কিন্তু বর্তমানে তো সাহিত্য তার ঠিক উল্টো কথা বলে বসলো।

সুক্ষ্ম সময়ের ব্যবধানে সবকিছু বুঝতে পেরে যেমন করে মাথা তুলেছিল ঠিক তেমন করেই মাথা নিচু করে ফেলল অন্ত।মারপিটের কথাটা লুকানোর একটাই উদ্দেশ্য।আর সেটা হলো ফাহাদ শেখ।সেকথা শুনলে যে ১১বছর আগের সেই অছিলা পেয়ে যাবেন তিনি।যেটা কোনো যুক্তি ধারণ করবে না।কিন্তু ফাহাদ শেখের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবে।

ভাইয়ের চালাকি বুঝতে পেরে ঠোঁট বাকিয়ে বিড়বিড় করে আওড়ালো অন্ত,

"সাব্বাস ব্যাটা,এভাবেই চালিয়ে যাও"

কিন্তু এদিকে সাহিত্যের কথায় ফাহাদ শেখের ঠোঁটে আবারো এক মেকি হাসি ফুটে উঠল,

"এমনিতে রাস্তায় মারপিট করা তোমার পক্ষে সম্ভব,অথচ আমার মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে আর হাত চলছিল না তোমার?"

সাহিত্য তার শীতল চাহনি তো ফাহাদ শেখের দিকেই করে রেখেছিল।সেটা বজায় রেখেই বলে উঠল সে,

"আচ্ছা ঠিক আছে,মানলাম যে আমি ছেলেগুলোকে মারধর করে কল্পনাকে নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম।তারপর?...তারপর কি হতো সেটা আমার থেকে আপনি বেশি ভালো জানেন মিস্টার ফাহাদ শেখ।এই সমাজ ব্যবস্থা না আপনার সময় ঠিক ছিল,আর না আপনার মেয়ের সময় ঠিক থাকতো।একটা মেয়ে কিডন্যাপ হয়ে গিয়েছিল এবং তাকে ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে।আমি জানি আপনার মেয়েকে কেউ হাত লাগায়নি,আপনি জানেন আপনার মেয়েকে কেউ হাত লাগায়নি।কিন্তু আশপাশের মানুষজন?তারা বিশ্বাস করত?তারা তো এক বাক্যেই কল্পনার চরিত্রে দাগ লাগিয়ে দিত।যেখানে কল্পনার কোনো দোষই থাকতো না সেখানে প্রতি ক্ষণে-ক্ষণে তাকে আশপাশের মানুষের থেকে বাজে কথা শুনতে হতো।কোনো কিছু না জেনেই বাইরের লোকজন কাঁদা ছুড়তো তার উপর।তখন আপনার মেয়ের ঘরে বন্দি হয়ে পড়ে থাকা আপনি সহ্য করতে পারলেও,আমি আমার কল্পনার সেই অবস্থা কিছুতেই সহ্য করতে পারতাম না।সেটা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই।আর সেই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতেই ইনস্ট্যান্ট আমার মাথায় যেটা এসেছে আমি সেটাই করেছি।এই বিয়েতে আপনি খুশি থাকুন আর না থাকুন,আপনাকে এই বিয়ে মানতেই হবে!!"

শেষের বাক্যখানা সাহিত্যের মুখ থেকে হুংকার আকারেই বেড়িয়ে এলো।সাহিত্য হুংকার দিয়ে উঠলেও ফাহাদ শেখ ও তোফায়েল শেখ কেউই মুখ খুলতে পারলেন না।সাহিত্য অযৌক্তিক কিছু বলেনি।যা বলেছে সব একদম কাটায়-কাটায় সত্য।আর সেটাই যেন সাহিত্যের হাতিয়ার হয়ে দাড়ালো এই মুহুর্তে।

দুই শেখ আহমেদ কথা না বলতে পেরে যেন হাসফাস করছেন।রঞ্জক শেখ ওদিকে হাতের পেছনে অধর ঢেকে গভীর চিন্তায় মগ্ন।তবে তোফায়েল শেখ এলোমেলো নজর ফেলতে নিয়ে তার চোখ আটকে গেল সোফার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তর দিকে।ভ্রু কুচকে গেল তার।কারণ তার জানা মতে অন্ত বাসায় ছিল।তাহলে সে এই মুহুর্তে কোথা থেকে ফেরত এলো?

সাহিত্যকে আর কিছু বলতে না পেরে অন্তর দিকে দেখে তোফায়েল শেখ গর্জে উঠলেন,

"অন্ত!তুমি এতক্ষণ কই ছিলে?"

তোফায়েল শেখের কন্ঠে কেপে উঠল অন্ত।অতঃপর মাথা নিচু রেখেই বলে উঠল সে,

"আমি সাহিত্য ভাইয়ার সাথেই ছিলাম,বড় বাবা"

তিন শেখ আহমেদ ভড়কে উঠলেন অন্তর সে কথায়।আর এদিকে তোফায়েল শেখ আবারো গর্জে উঠলেন,

"এই ছেলের না হয় মাথা গরম দেখে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেয়।তুমি তার সাথে ছিলে তো তাকে আটকাওনি কেন?অন্তত বাড়ির কোনো গুরুজনের অনুমুতিটা নিয়ে বিয়ে করত!রঞ্জককে কল দিলেও তো চলত!আর বলতেই বা হতো কেন?তুমি থাকতে এমন খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হলো কেমন করে?"

মাথা তুলে অন্ত ম্যাওম্যাও করেই বলে উঠল,

"যেখানে দাদি এ ব্যাপারে অনুমতি দিয়ে রেখেছে সেখানে আমি আর কি বলতাম?"

#চলবে

৬৭ পর্ব পোস্ট করার পরের দিনই মনে হয় আপনাদের বলেছিলাম যে আমি অসুস্থ।মজার কথা হলো আমি এখনো অসুস্থ🫠তারপরও টানা গল্প লিখে পোস্ট করে যাচ্ছি।রিসেন্ট কয়েক পর্ব তো ১ দিন পরপরই দিলাম।এর কারণ কি জানেন?আমার গল্প লেখার নেশা আর আপনাদের পুকি(🎀) কমেন্টগুলো।কিন্তু আম্মু আমাকে আজকে বকতে শুরু করছে😑এমনকি আজকে সারাদিন হাতে ফোনও নিতে দেয়নি।খুবই বাজেভাবে অসুস্থ আমি।কিন্তু আমার দ্বারা গল্প লিখা ছাড়া আবার সম্ভব?সেটা হলে আমি রশনি করিম হলাম কেমনে?🫡গল্প আমি লিখবোই!কিন্তু সমস্যা হলো তাড়াতাড়ি পোস্ট করতে পারবো না।২দিন পরপর গল্প পোস্ট করব।এটাতে আমি গল্পটা লিখার সময় পাবো অন্তত।

২দিন করে অপেক্ষা করার পর নিরাশ করব না,ইনশাআল্লাহ!❣️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন