ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৭৬তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৭৬

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

ছেলের শক্ত গালে সজোরে চড় বসিয়ে আমেনা শেখ রাগে ফোসফাস করতে নিয়েই বললেন,

"দাদিকে বলতে পেরেছিস তো আমাকে বলিসনি কেন?আর...তুই এতো জঘন্য কবে থেকে হলি?!কল্পনা না তোর বোন হয়?আগে যদি জানতাম তুই কল্পনার উপর এমন খারাপ নজর দিবি তাহলে প্রথম থেকেই ওকে তোর কাছ থেকে দূরে রাখতাম আমি!তোকে মেরে ফেলতে মন চাচ্ছে।আমার লালন-পালনে আঙুল তুলেছিস তুই!..কথা বলছিস না কেন?কথা বল!বাচ্চাটা তোর কাছে সেফ ফিল করে আর তুই ওকে এমন নজরে দেখতি?"

আর চুপ থাকতে পারলো না সাহিত্য।সামনে তাকিয়ে গলা উঁচিয়ে বলল,

"এমন নজরে দেখতি!এমন নজরে দেখতি!বলতে কি বুঝাচ্ছো তুমি?!কল্পনাকে আমি ভালোবাসি আম্মু!মেঝো চাচু চাচিকে যেই ভালোবেসে তুলে নিয়ে এসে বিয়ে করেছিল সেই ভালোবাসা আমি কল্পনাকে বাসি!তোমার ছেলে চরিত্রহীন না!যদি চরিত্রহীনই হতাম তাহলে দেশে ফেরার পর এই কয়টা মাস ওর থেকে দূরে-দূরে থাকতাম না!ধৈর্য ধরে থাকতাম না!আব্বু আর চাচুর এই বছর পুরোনো নাটকের জন্য আমার জীবনের বারোটা বেজে আছে।আর তোমাকে বলার পর কি হতো,হ্যাঁ?কিছু করতে পারতে তুমি?আমি নিজেই কিছু করতে পারছিলাম না আর তুমি কেমন করে কিছু করতে পারতে?আব্বু-চাচুর কারণে তো আমি কল্পনাকেও কিছু বলার সাহস পাইনি।সে তো মনে হয় আজকেই প্রথম ভালো করে জানলো যে আমি ওকে পছন্দ করি!ওর মাথাটা তো ওই দুই শেখ আহমেদই খারাপ করে রেখেছে!বেচারি সবসময় ওদের ভয়ে থাকে।আজকে কল্পনা কিডন্যাপ হয়েছিল অনেক ভালো হয়েছে!বেশ হয়েছে!আমার জন্য সুবিধা করে দিয়েছে ওই ছেলে।সেজন্যই একদম মেরে না ফেলে জান ভিক্ষা দিয়েছি!"

কথায় বিরতি দিয়ে শ্বাস নিতে লাগলো সাহিত্য।হাপিয়ে উঠেছে মনে হয়।তবে কারো কিছু বলার আগে আবারো কটমটিয়ে উঠল সে,

"আম্মু শুনো...এই যে আজ আমি কল্পনাকে বিয়ে করেছি,আর ছাড়ছি না ওকে।ও আমার কলিজায় ছিল আমার কলিজাতেই থাকবে!এবার আর আমি তোমার কোনো কথা শুনবো না"

ছেলের লাল চোখের দিকে কিছু মুহুর্ত দেখে থেকে পেছনে মাথা ঘোরালেন আমেনা শেখ।সাহিত্যের দিকে বিস্ময় ভরা চোখে তাকিয়ে থাকা হেনা শেখের উদ্দেশ্যে শান্ত স্বরেই বলে উঠলেন তিনি,

"শুনলি হেনা?তুই না খুব বলছিলি যে সাহিত্য বিপাকে পড়ে বাধ্য হয়ে কল্পনাকে বিয়ে করেছে?আমার কথা এখন বিশ্বাস হলো?"

হেনা শেখের সাথে অন্ত আর রঞ্জক শেখও সাহিত্যের দিকে হা হয়ে দেখে আছে।তবে লতিফা শেখ আঁচলে মুখ লুকিয়ে নিঃশব্দে হেসে চলেছেন।কারণ ক্ষণিক আগে আমেনা শেখের সাথে তিনিও হেনা শেখকে সে কথা বলেছিলেন।গত কয়টা মাস ধরে নিজের ছেলের হাবভাব আমেনা শেখ বুঝবেন না তেমন মা তিনি নন।আর আজকের এসব কান্ডে তো তিনি শতভাগ নিশ্চিত হয়েছেন।তবে লতিফা শেখ ও তিনি যখন হেনা শেখকে এ কথা বলেন তখন হেনা শেখ কিছুতেই বিশ্বাস করছিলেন না।তার একটাই কথা,যে কল্পনাকে বাঁচাতে সাহিত্য বাধ্য হয়েই এ বিয়ে করেছে।আর কল্পনার দিকে দেখেই দুই শেখ আহমেদের সামনে সব দোষ নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে নিচ্ছিল।

আমেনা শেখের এমন কথা শুনে রাগ ছাড়িয়ে বেশ ভড়কালো সাহিত্য,

"ক-কি?আমি কেন বাধ্য হয়ে ওকে বিয়ে করতে যাবো?পুরো নিজ ইচ্ছায় আমি বিয়ে করেছি ওকে।আর কল্পনার কথা যদি বলো তাহলে একটা কথা শুনে রাখো...ওই পাগলটা মুখের উপর যত বারন করছে।ওর মাথায়-মনে কে আছে আমি ভালো করেই জানি।ওর মুখের কথা তোমরা কেউ শুনতে যাবা না"

সাহিত্যের কথা শেষ হতেই হেনা শেখ শান্ত কিন্তু গম্ভীর নজরে দেখতে লাগলেন তার দিকে।সেটাতে সাহিত্য আরো এক ধাপ ভড়কালো।ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে এসে নিজের হাতের মুঠে আবদ্ধ করল হেনা শেখের হাত জোড়া,

"অমন করে কেন দেখছো?আমাকে মেয়ের জামাই বানাবে না নাকি?আমি কিন্তু বলে দিচ্ছি,রাজি না থাকলেও রাজি হয়ে যাও।তোমার ওই খচ্চর মেয়েটাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না কিন্তু"

সাহিত্যের দিকে দেখে হালকা ঠোঁট বাকালেন হেনা শেখ।কিন্তু পর মুহুর্তেই ভারী কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।বাচ্চাদের মতো ডুকরে কেঁদে উঠলেন।আদরের মেঝো চাচির এমন কান্না যেন আশা করেনি সাহিত্য।হালকা ভড়কালেও পর মুহুর্তে মাথাটা নিজের বুকে আগলে ধরল।তাতে আরো যেন ফুপিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন হেনা শেখ।কাঁদতে নিয়েই ভাঙা গলায় বলতে লাগলেন,

"তুই আজ না থাকলে আমার মেয়েটার কি হতো রে?আমার মাসুম বাচ্চাটার সাথেই এমন হতে হবে?কার নজর লেগেছিল যে এতো বড় দুর্দিন দেখতে হচ্ছে?কল্পনার আজ কিছু হয়ে গেলে আমি সহ্য করতাম কিভাবে?আমার বাচ্চাটা বেঁচে থাকতো কিভাবে?আমার জীবনে করা পাপগুলোরই মনে হয় ফল পাচ্ছে আমার মেয়েটা.."

হেনা শেখ কথা থামিয়ে আবার ফোপাতে শুরু করলেন।তার মাথায় হালকা হাত বুলিয়ে ঠোঁট বাকালো সাহিত্য,

"না তুমি কোনো পাপ করেছো আর না কল্পনা সেটা ভোগ করছে।আমি আছি না?আমি থাকতে কল্পনার কিচ্ছু হবে না।তোমার মেয়ের সব দায়িত্ব এখন আমার ঘাড়ে।এখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও তুমি"

হেনা শেখ হন্তদন্ত হয়ে সাহিত্যের থেকে দূরে সড়ে দাড়ালেন।কান্না থামিয়ে চোখের পানি মুছতে নিয়েই বললেন তিনি,

"তুই জিজ্ঞেস করলি না,যে জামাই হিসেবে মানিয়ে নেব কিনা?কেন নেব না?ছেলে হিসেবে তুই কি খারাপ?তোর মতো ছেলে এখন পাওয়াই বা যায় কই রে?তোর চাচু ভাড়ে যাক।আম্মা তো রাজি আছেন।তোদের বিয়েতে আমার কোনো আপত্তি নেই"

হেনা শেখের কথা শুনে সাহিত্য যেন এতক্ষণ পর একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারলো।ঠোঁট বাকিয়ে নজর দিল রঞ্জক শেখের দিকে।ভাতিজার এমন নজরে চমকালেন রঞ্জক শেখ,

"অমন করে কি দেখছিস?"

সাহিত্য এগিয়ে এসে অন্ত কাধে হাত রাখলো।রঞ্জক শেখের দিকে নজর রেখেই বলল সে,

"তোমার পারমিশন না নিয়েই তোমার ছেলেকে আমার বিয়ের সাক্ষী বানিয়েছি।রাগ করেছো কি?"

রঞ্জক শেখ ভারী শ্বাস ফেলতে নিয়েই মাথা নিচু করে ডানে-বামে মৃদু দোলাতে লাগলেন,

"তুই আজ যে ঝটকাটা দিয়েছিস না।বড় ভাইজান আর মেঝো ভাইজানকে দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম"

এতক্ষণ পর লতিফা শেখ মুখ খুললেন।শাড়ির আঁচলে ঢেকে রাখা হাসি বের করলেন তিনি,

"যে যাই বলুক।তুই আজকে দুই শেখ আহমেদের মাথায় শুকনো বাজ ফেলেছিস সাহিত্য!"

কথা শেষে তিনি আবারো হাসতে লাগলেন।তবে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে গলা খাকাড়ি দিয়ে হাসি থামালেন তিনি।

সাহিত্যের শার্টের পেছনে ধুলো দেখে ভ্রু কুচকালেন আমেনা শেখ,

"শার্টে ময়লা কিসের ভরেছে?"

জিহ্বায় কামোড় বসালো সাহিত্য,

"কিছু না।এমনি"

ছেলের কথা তো এমনিতেও বিশ্বাস করলেন না আমেনা শেখ।তবে অন্ত সাহিত্যের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সাহিত্যের বাম কাধে দিল এক হাতের বারি।অমনি 'আউ' করে উঠল সাহিত্য।অন্ত নিজের হাতের কাজ সাড়তে নিয়েই বলে উঠল,

"এমনি?বড় মা একদম ভাইয়ার কথা শুনবে না।তখন বললাম না,যে ছেলেগুলোকে মেরেছে?তখনই একটা ছেলে নাকি ভাইয়ার কাধে ব্যাট দিয়ে মারে।প্রীতি তো বলল সেই ব্যাট নাকি ভেঙেভুঙে একাকার!আর,কিছু হয়নি?"

সবার চোখের আড়ালে সাহিত্য বেশ চোখ রাঙালো অন্তকে।আর এদিকে তিন গিন্নি যেন হঠাৎই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন অন্তর সে কথা শুনে।আমেনা শেখ তো চমকে উঠলেন,

"কিহ!ব্যাট দিয়ে মেরেছে?কই লেগেছে দেখি?"

মায়ের দিকে ঘুরে দাড়ালো সাহিত্য,

"ওহো,এখন খুব দরদ উথলাচ্ছে,তাই না?আর কিছুক্ষণ আগে যে অযথাই ঠাডিয়ে একটা চড় মারলে তখন কিছু মনে হয়নি?"

আমেনা শেখ ক্ষণিকের জন্য ফুসে উঠে বললেন,

"ওটা তোর প্রাপ্য ছিল।এখন চল তাড়াতাড়ি রুমে,ঔষধ দিয়ে দেই"

কথা শেষে আমেনা শেখও সাহিত্যের আঘাতের জায়গায় এক চাপড় মাড়লেন।অমনি সাহিত্য ব্যথার চোটে 'উহ্' বলে উঠে।

হেনা শেখ ব্যস্ত পায়ে এগুতে নিয়েই বললেন,

"আমি গরম পানি করে আনছি"

তাকে থামিয়ে দিল সাহিত্য,

"তোমাকে কিছু করতে হবে না।তুমি এখন কল্পনার কাছে যাও"

মেয়ের কথা মনে হতেই ভড়কালেন হেনা শেখ।আর কিছু না বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন তিনি।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

শরীরটা খুবই ম্যাজ-ম্যাজ করছিল দেখে শুধু হাত-মুখ না ধুয়ে একবারে গোসল সেড়েই ওয়াশরুম থেকে বের হয় কল্পনা।মাথার চুল মুছতে নিয়ে বিছানার দিকে নজর যেতেই হাত থমকে যায় তার।হেনা শেখ হাত দিয়ে ইশারা করে কাছে ডাকলে হালকা ফোপাতে নিয়েই দৌড়ে গিয়ে মাকে জাপ্টে ধরে সে।কয়েক মুহুর্ত আগের কান্নাটা যেন আবারো হালকা বেড়িয়ে আসে তার।হেনা শেখ সুক্ষ্ম চোখের পানি ফেলতে নিয়েই মেয়েকে শান্ত করতে লাগলেন।

কল্পনা একটু শান্ত হওয়ার পরই তার পুরো মুখো-মন্ডলে টুকরো চুমু বসিয়ে দিলেন হেনা শেখ।অতঃপর মুখে হাসি নিয়ে আসার চেষ্টা করেই বললেন,

"পাগল মেয়ে একটা।কাঁদছিস কেন?কিচ্ছু হয়নি তো..."

কথা থামিয়ে দিলেন তিনি।কপালে ভাজ ফেলে সুক্ষ্ম আওয়াজে শুধালেন,

"ওরা কিছু করেছিল,সোনা?"

ডানে-বামে মাথা ঝাকালো কল্পনা।ভাঙা গলায় বলল,

"না"

আবার শুধালেন হেনা শেখ,

"ভয় করিস না মা।কিছু হয়ে থাকলে আমাকে বল।ভয় কেন করছিস?"

কল্পনা আবারো মাথা ঝাকালো,

"না কিছু করেনি"

হেনা শেখ মেয়েকে আবারো জাপ্টে ধরলেন।পারলে যেন কলিজায় ঢুকিয়ে নেন আদরের মেয়েটাকে।এর মাঝেই কল্পনার সুক্ষ্ম আওয়াজ শোনা গেল,

"মা...আমি সাহিত্য ভাইকে নিষেধ করেছিলাম"

কল্পনার ভাঙা কথা বুঝতে না পেরে তার বাহু ধরে সোজা করে ধরলেন হেনা শেখ।শান্ত স্বরে শুধালেন,

"কি বললি?"

সময় নিয়ে কল্পনা আবারো বলল,

"আমি এই বিয়েটা করতে চাইনি...আমি সাহিত্য ভাইকে নিষেধ করেছিলাম"

কল্পনার ঝুকে রাখা মাথার দিকে দেখে হালকা ঠোঁট বাকালেন হেনা শেখ।অতঃপর তাকে আবার জড়িয়ে ধরলেন,

"ওসব নিয়ে তোকে টেনশন করতে হবে না।আল্লাহ যা করেন,মঙ্গলের জন্যই করেন"

কল্পনা মায়ের হাতের বাধন থেকে সোজা হয়ে বসলো,

"কিন্তু বাবা?...বাবা মেনেছে?বড় বাবা মেনেছে?"

হেনা শেখ চুপ থাকলেন কিছুক্ষণ।হালকা ঠোঁট বাকিয়ে বললেন,

"তোর বাবাকে তো চিনিসই।তার রাগ আবার এতো সহজে কমে?তুই টেনশন করিস না।দু-তিন দিন পর মেনে নেবে"

কল্পনার চিন্তিত চেহারা দেখে তার গালে হাত বুলিয়ে শুধালেন তিনি,

"তুই তো খুশি এই বিয়েতে,তাই না?"

সময় নিয়ে কল্পনা বলে উঠল,

"বাবা কি মানবে মা?বাবা যদি না মানে?বাবা যে সাহিত্য ভাইকে একটুও দেখতে পারে না।কয়েকদিন থেকে বাবা আর বড় বাবা যে-ও একটু কথা বলছিল সেটাও তো মনে হয় বন্ধ হয়ে যাবে এখন।আমি কি ভুল করে ফেলেছি?"

হেনা শেখ তার প্রশ্নের উত্তর ইতোমধ্যেই পেয়ে গিয়েছেন।তবে কল্পনার এতো কথায় তিনি এটাও ভালো করে বুঝলেন যে সাহিত্য কিছুক্ষণ আগে যেগুলো বলছিল সব একদম কাটায়-কাটায় ঠিক।ছেলেটা যেন কল্পনার মনের খবর আসলেই সব জানে।

মৃদু হেসে কল্পনার মাথায় হাত রাখলেন হেনা শেখ,

"বললাম তো টেনশন নিস না।কয়েকদিন পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে"

কল্পনাকে সান্ত্বনা দেওয়াটা এই মুহুর্তে অতীব জরুরী।তাই তো এতো জোর দিয়ে কথাটা বললেন হেনা শেখ।কিন্তু নিজের মনেই যে সুক্ষ্ম খচখচ করছে তার।ফাহাদ শেখ কি আসলেই মেনে নিবেন?কয়েকদিন আগে যে শিকদার বাড়িতে কথা দিয়ে এলেন সেটারই বা কি করবেন হেনা শেখ?ফাহাদ শেখ তো নির্দিধায় সেদিকে টানবেন।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

সময় কয়েক ঘন্টা পেড়িয়ে রাত ৮টার ঘরে এসে থেমেছে।কল্পনা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।নিজেকে অন্যমনস্ক করার উদ্দেশ্যেই ফোনে চোখ বুলাচ্ছিল সে।এমন সময় ফোনে প্রীতির কল ঢুকে।সেই নাম্বার দেখে যেন ফুসে উঠল কল্পনা।সময় নষ্ট না করেই কল রিসিভ করল সে।ওপাশ থেকে ভেসে এলো প্রীতির কাপা কন্ঠ,

"হ্যালো...কল্পনা?"

একদম নিশ্চুপ রইল কল্পনা।সেটা বুঝতে পেরেই প্রীতি ভারী শ্বাস ফেলল।অন্তর কাছে কিছুক্ষণ আগেই খবর নিল যে শেখ ভিলার পরিবেশ এখন একটু হলেও স্বাভাবিক আছে।প্রীতি কল্পনার সাথে কথা বলতে পারবে।কিন্তু এদিকে তো কল্পনাই প্রীতির সাথে কথা বলছে না।কাঁদো গলায় শুধালো প্রীতি,

"আমার উপরে কেন রাগ করে আছিস?"

কল্পনা তেতে উঠল,

"তোর উপরে কেন রাগ করে থাকবো না?তুই-ই তো নষ্টের মূল।তুই ডাকার জন্য আর কাউকেই পেলি না?সাহিত্য ভাইকেই ডাকতে হতো তোকে?"

প্রীতির কাঁদো ভাব ধরা উঁচু স্বর শোনা গেল,

"তো কি করতাম আমি?ওই সময় মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিল আমার।অন্ত ভাইয়া আবার ওসব সিচুয়েশন সামলাতে পারতো?ডাকার জন্য শুধু সাহিত্য ভাইয়াকেই উপযুক্ত মনে হয়েছে আমার"

কল্পনা খুত-খুত করতে নিয়েই এক হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ধরল,

"আর ওই উপযুক্ত ব্যক্তি কি কাজটা করে বসলো,দেখলি?"

প্রীতি নিঃশব্দে হাসলো হালকা।অতঃপর হাসি লুকানোর চেষ্টা করে বলে উঠল,

"কল্পনা একদম ঢং করবি না।এমন করে বলছিস মনে হচ্ছে এই বিয়েতে তোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না"

কল্পনা ঝাজিয়ে উঠল,

"কিন্তু আমাকে তো জোর করে বিয়ে করেছে,তাই না?"

"তোর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তো আর করেনি!"

কল্পনার কথার একদম পর মুহুর্তেই বলে উঠল প্রীতি।

কল্পনা গম্ভীর কন্ঠে প্রীতির নাম ধরে লম্বা এক টান দিল,

"প্রীতিইইইইইইইই"

"কি প্রীতি?একদম ঠিক বলেছি আমি।আর সাহিত্য ভাইয়া আজ একদম ঠিক কাজ করেছে।তোর বাপ-চাচার নাকের নিচ দিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে তোকে।এখন অতো ঢং না করে সাহিত্য ভাইয়ার সাথে জুটিয়ে প্রেম কর।আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আন্টি ডাক শুনা আমাকে"

প্রীতির শেষের দুষ্টু হাসিমাখা কথায় ভড়কালো কল্পনা।অনেকটা লজ্জাও পেয়েছে।বিছানায় উঠে বসে আমতা করেই বলল সে,

"এ-একদম না।তুই বাজে বকা বন্ধ কর তো!"

"আরে আমি আবার বাজে কই বকলাম?বিয়ে হয়েছে তোদের।সংসার করবি এখন।তো ইস্টুপিস্টু করে বাচ্চা বানাবি না?"

এবার কল্পনার গাল দুটোও লাল হয়ে উঠল।মাথা নিচু করে নিজেকে সংযত করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো সে,

"ক-কিসের ইস্টুপিস্টু!তোর ওভার ডোজের মুখটা বন্ধ করতো!আর এখন কোনো সংসার করব না আমি।বাবা আর বড় বাবা যতদিন না এই বিয়ে মেনে নিবে ততদিন সাহিত্য ভাইকে আমার ধারের কাছেও আসতে দিব না।বাবার পারমিশন ছাড়া বিয়ে করেছি।আবার এখন সংসারও করব?সেটা ভাবতেই কেমন গিল্টি ফিল হচ্ছে আমার"

প্রীতি ওদিকে ভাবলেশহীন হয়ে শুধালো,

"তার মানে তুই সাহিত্য ভাইয়াকে নিজের আশেপাশের হাওয়াও ছুঁতে দিবি না?"

গলায় জোর নিয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলল কল্পনা,

"না!"

মাথায় হাত চাপড়ালো প্রীতি,

"বেচারা সাহিত্য ভাইয়া।বিয়ের পরে সন্ন্যাসী হয়ে বসে থাকবে?ভাইয়ার জন্য তো আমার এখনই মায়া-দুঃখ-কষ্ট সবই হচ্ছে।কল্পনা,আরো একবার ভেবে দেখ।ওই দুই খাড়ুছের জন্য নিজের যৌবনটা কেন নষ্ট করবি?তুই যে রুমে ঢুকে প্রেম করবি সেটা তো তাদের চোখেও পড়বে না!"

প্রীতির এতো গভীর কথা-বার্তায় কল্পনার গাল দুটোর সাথে এবার কান দুটোও লাল হয়ে উঠেছে।রুমে এসি চলার পরেও বেশ গরম লাগতে শুরু করল তার।সময় নিয়ে আবার ঝাজিয়ে উঠল সে,

"প্রীতি চুপ কর!একদম চুপ!আমি আমার ডিসিশনে একদম ফাইনাল।এক পা-ও নড়ব না!সাহিত্য ভাই ভাড়ে যাক!"

"সাহিত্য ভাইয়া না,তুই ভাড়ে যা!....ভার্সিটি কবে আসছিস জানিয়ে দিস আমাকে।বাই!"

প্রীতি আর কল্পনার কোনো কথা শুনল না।কলটা বিপ-বিপ করে কেটে গেল।ফোনটা মুখের সামনে নিয়ে বন্ধ স্ক্রিনের দিকে দেখে থাকলো কল্পনা।সে মজা করছে না।সে আসলেই তার কথা মতো কাজ করবে।যেখানে তোফায়েল শেখ কল্পনাকে সাহিত্যের বউ হিসেবে মেনে নেননি সেখানে কল্পনা কোন মুখ নিয়ে সাহিত্যের সাথে সংসার করবে?আর ফাহাদ শেখকে চোখের সামনে যখনই দেখবে তখনই তো অনুতপ্ত বোধ করবে কল্পনা।মনের মধ্যে এতো আপত্তি নিয়ে সে কখনোই ওদিকে পা বাড়াবে না।

এতো কিছু ভাবতে নিয়ে যেন কল্পনা এটা ভুলে বসলো,যে তার নিজের ইচ্ছা বলেও কিছু একটা জ্বলজ্বল করছে মনের এক কোণে।আর সেটাকে দাবিয়ে রাখাই যেন এখন একটু কষ্টকর ঠেকবে তার কাছে।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন