ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৭৮তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৭৮(🚫রোমান্টিক এলার্ট)

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

প্রতিবছরের মতো এবারও ধরণীতে বৈশাখ মাসের কাক ভেজা বর্ষণ দেখা দিয়েছে। গত বছরের এই বৈশাখ মাস যেমন কোনো আসক্তে আবদ্ধ পুরুষের মনের দরজা খুলতে সাহায্য করেছিল,তেমনই কাকতালিওভাবে এই বছরও সেই পুরুষেরই ভাগ্যের উন্নতি হয়েছে।বলা যায় সেই পুরুষ এবার নিজেই তার ভাগ্য বদলেছে।

বৈশাখ মাসের ভারি বর্ষণ প্রাণীকুলে ধ্বংসের সৃষ্টি করলেও প্রাণীকুল যেমন বর্ষণ শেষে সজীব হয়ে উঠে, ঠিক তেমনই অনেক বাধা-বিপ্ততি থাকা সত্ত্বেও অহিয়াম শেখ সাহিত্য তার প্রেয়সী অমৃতা শেখ কল্পনাকে একান্তই নিজের করে নিয়েছে।

[আলহামদুলিল্লাহ পড়েন পাঠকগণ🥹]

যদিও বা ঝড়ের রেশ এখনো কাটেনি।আর সেটা মোকাবিলা করাই সাহিত্যের জন্য বৈশাখ মাসের আসল বর্ষণ।সেই বর্ষণ সাহিত্য শান্ত করতে পারবে কি না কে জানে?কিন্তু তার প্রেয়সী বর্তমানে প্রকৃতির বর্ষণে নিজের সর্বাঙ্গসহ মনকেও বিমোহিত করছে।

সাহিত্য ও কল্পনার বিয়ের পর আজ ২দিন ধরেই বাড়ির পরিবেশ থমথমে ছিল।যদিও বা এখনো আছে।কিন্তু তা মেনে নেওয়া যায়।এতোকিছুর পর নিজের মন হালকা করতেই যেন ভারি বর্ষণে নিজেকে উজাড় করছে কল্পনা।বেশ কিছুক্ষণই হচ্ছে।যার দরুণ হাতের আঙুলের ডগাগুলো শিটিয়ে গিয়েছে একদম।বৃষ্টিতে ভেজার ভুত মাথা থেকে যখন বের হয়েছে তখন ম্যাডামের মনে পড়ল,এবার যদি জ্বর আসে তাহলে সাহিত্য ভাই নিশ্চয়ই আবারো কড়া কথা শুনাবেন।তাই বৃষ্টি চলমান থাকা সত্ত্বেও কল্পনা ছাদ থেকে নেমে এলো।

বৃষ্টি দেখে এতোটাই পাগলের মতো ছুটেছিল কল্পনা যে পড়নের মিষ্টি রঙা প্লাজু-কামিজের সাথে ওড়নাটাও নেয়নি।তাই তো বড়-বড় পা ফেলছে যেন কারো দেখার আগেই তার রুমে ঢুকতে পারে।কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠল কই?করিডোরে নূপুরের আওয়াজ শুনে মাথা তুলে কল্পনাকে দেখতে পেয়েই সিড়িতে ধীর গতিতে উঠতে থাকা সাহিত্যের পায়ের গতি বাড়ল।সাথে প্রসারিত হলো ঠোঁট জোড়াও।

আর কয়েক কদম।সাহিত্যের রুমের দরজাটা পার করলেই কল্পনার রুম।কিন্তু যেই না কল্পনা সাহিত্যের রুমের দরজার সামনে পাজোড়া রাখলো অমনি সাহিত্য চিল পাখির ন্যায় ছো মেরে কল্পনাকে নিয়ে তার রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল।ক্ষণিকের জন্য শুধু সুক্ষ্ম আওয়াজ হলো কল্পনার পায়ের নূপুর জোড়ার ঘুঙরুর।

রুমের জানালা ও বেলকুনির দরজা খোলা থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টি হওয়ার দরুণ কেমন গোমুঠ রুপ ধারন করে আছে রুমের পরিবেশ।হালকা আলো থাকলেও ভারি বৃষ্টির প্রভাবে হালকা আধারও নেমেছে রুমে।

প্রতিবারের মতো এবারও কল্পনার মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো সাহিত্যের বেগের সাথে হার মানলো।মাথায় সব কিছু ঠিক জায়গায় গোছানোর পর কল্পনা অক্ষি পল্লব খুলে সামনে তাকালো।সেই চিরপরিচিত ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউমের অধিকারী।দরজার পাশের দেয়ালে কল্পনার পিঠ ঠেকিয়ে সাহিত্য তার হাত দুটো কল্পনার মাথার দুইপাশে দেয়ালে ঠেকিয়ে রেখেছে।মাথাটা তার নিচু করে দৃষ্টি মেঝের দিকে। আর দুই হাতের মাঝে কল্পনা আবদ্ধ।

সাহিত্যের আকস্মিক কান্ডে কল্পনা হালকা ভড়কালো বটে।কিন্তু সাহিত্যের এলোমেলো শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দে ব্যতিব্যাস্ত হয়ে শুধালো,

"কি হয়েছে সাহিত্য ভাই?আপনি এমন করছেন কেন?আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে?"

সাহিত্য কোনো প্রতিক্রিয়া করল না। ঠায় আগের মতোই রইল।চিন্তিত কল্পনা মাথা নিচু করে রাখা সাহিত্যের গতিবিধি ঠাহড় করতেই মনে হয় ভেজা কাপতে থাকা এক হাত সাহিত্যের গালে ছোয়ালো মাথাটা তোলার জন্য।এতেই যেন কল্পনা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারল।প্রচুর পস্তাবে সে পরে।

কল্পনার কাপা হাতের টানে পুরুষালী শক্ত গালটা হালকা ভিজলেও সেটি এক সুতাও নড়ল না।কিন্তু শখের নারীর স্পর্শে শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে ঢেউ খেলে যাচ্ছে সাহিত্যের।যতটুকু নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিল,প্রেয়সীর কোমল ছোঁয়ায় সমস্ত বাধকে চুরমাচার করে ভেঙে দিল অনুভুতিরা।

মাথা তুলল না সাহিত্য। সেভাবেই ধীর গতিতে প্রেয়সীর আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে কপাল ঠেকাল তার ভেজা বাম কাধে।আর বাম হাত ঠেকাল নব যুবতীর লতানো কমোড়ের ডান ভাজে।সাহিত্যের হুট করে এমন উষ্ণ ছোঁয়ায় নব যুবতীর কোমল হৃদয়ের স্পন্দন জোড়ালো হয়ে দ্বিগুণ বেগ লাভ করল।বৃষ্টির পানিতে ভেজা গোলাপি অধর জোড়া তির-তির করে কাপতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।

"কোথায় ছিলি?"

ভারি বর্ষণের শব্দের মাঝে সাহিত্যের কথাটা যেন আশেপাশের বাতাসকেও কয়েকগুণ ভারি করে দিল।যে বাতাস কল্পনার বক্ষগহীনে ধারন করতে অসম্ভব কষ্ট হচ্ছে এই মুহুর্তে।তারপরেও কাপা গলায় উত্তর দিল কল্পনা,

"ছ-ছাদে"

"কেন?"

উত্তর শেষ হওয়ার সাথে-সাথেই প্রশ্ন ছুড়ল সাহিত্য।মেয়েটার যে শ্বাস-প্রশ্বাস চলাচলে কষ্ট হচ্ছে তা যেন বুঝতেই চাইল না সে।সময় নিয়ে উত্তর করল কল্পনা,

"ভিজতে"

"কেন?"

আবার উত্তর শেষ হওয়ার সাথে-সাথেই প্রশ্ন ছুড়ল সাহিত্য।এবার কল্পনা চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।নাহ্,তাতেও হচ্ছে না।অক্সিজেনের বদলে ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউমের ঘ্রাণ শ্বাসনালিতে ঢুকছে।আবারো সময় নিয়ে উত্তর দিল কল্পনা।তবে এবার তার গলাটা যেন বেশি কেপে উঠল,

"এ-একটু...ভিজতে..ই-ইচ্ছে করছিল...ত-তাই"

এবার সাহিত্যের ঘাড়টা নড়তে দেখা গেল।কিন্তু পরবর্তীতে যা ঘটল কল্পনার মতে সাহিত্যের ঘাড়টা না নড়াই ভালো ছিল।সাহিত্য ঘাড় ঘুড়িয়ে অধর জোড়া কল্পনার গলা থেকে সুতার পরিমাণ দূরত্বে রাখল।যেটাকে দূরত্ব বিবেচনাই করা হয় না।সাহিত্যের প্রেয়সী রীতিমতো চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করে দিয়েছে।কখন যে পায়ের ভাজ মুড়ে পড়ে গেল।কিন্তু তা হলো না।সটান সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল।

কল্পনার ভেজা কাধে সাহিত্যের গাল ঠেকার দরুন সাহিত্যের সুপ্ত ঠান্ডা অনুভব হচ্ছে।আর স্বাভাবিকভাবেই কল্পনার সেই জায়গায় অনুভব হচ্ছে উষ্ণ ছোঁয়া।দুজনের শরীরের অনুভুতি ভিন্ন হলেও মনের অনুভুতি যেন একই ধারায় বইছে।সেটা নিঃসন্দেহে ঠাহর করা সম্ভব।

প্রেয়সীর গলার ঘ্রাণ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই যেন স্বাভাবিকের তুলনায় লম্বা এক শ্বাস টানল সাহিত্য,সেকেন্ড কয়েক পর সেভাবেই প্রশ্বাস ছাড়ল।অতঃপর গভীর আকুতি জড়িত নেশালো কন্ঠে বলে উঠল সে,

"তোর বৃষ্টিতে ভেজা ঘ্রাণ আমাকে বরাবরই মাতাল করে"

এবার কল্পনার পক্ষে আসলেই আর দাড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। দুপাশে হাত দুটো পেছনের দেয়ালে শক্ত করে চেপে ধরেছে সে।

"কল্পনা আপু!"

নিশ্চয়ই কোনো প্রয়োজনেই কল্পনাকে তার রুমে না পেয়ে অনু গলা উচিয়ে ডাকছে তাকে।

"সাহিত্য ভাই।অনু মনে হয় ডাকছে.....আহহ!"

কল্পনার ভেজা গলায় তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলার পাশাপাশি যে ক্ষোভের রেখা এঁকেছে সাহিত্য,তারই প্রতিক্রিয়া কল্পনার হালকা আর্তনাদ।গলায় মুখ গুজে রাখা অবস্থাতেই সাহিত্য হাস্কি কন্ঠে দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

"এরপর থেকে ভাই ডাকলে চামড়া ছিড়ে খেয়ে নেবো"

সাহিত্যের ভারি কন্ঠে অন্তর-আত্মা কেপে উঠল কল্পনার।গলার নির্দিষ্ট এক জায়গা প্রচন্ড জ্বলছে।যার দরুণ সুক্ষ্ম কাপা গঙ্গানি শোনা গেল তার থেকে।

প্রেয়সীর সুক্ষ্ম গঙ্গানি শুনে হালকা রক্ত ক্ষরণই হলো সাহিত্যের হৃদপিণ্ডে।সাহিত্য তার প্রেয়সীকে কষ্ট দিতে চায় না।কিন্তু ওই ডাকটা যে আর সাহিত্যের ভালো লাগে না।আর সাহিত্যের ভালো করেই জানা আছে কি করলে সেই ডাক বন্ধ হবে,এবং সে করেছেও সেটা।আগামীতেই তার ফল দেখা যাবে।

তবে কিছু মুহুর্ত আগে নিজের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটার অনুশোচনা দেখাতেই যেন সাহিত্য এক কাজ করে বসল।এবারো সাহিত্য যেটা করল কল্পনা পরবর্তীতে আবারো পস্তাবে যে সে ব্যাথার বহিঃপ্রকাশটা করতে গেলই বা কেন।

আলতোভাবে প্রেয়সীর ক্ষত স্থানে অধর ছোঁয়ালো সাহিত্য।সেটা ক্ষণিকের জন্য হলেও মানা যেত।কিন্তু সাহিত্যের তো কাজই হলো অন্যদের ভড়কানো।তাই তো সে একবার নয়,দুইবার নয়,তিনবার নয়,বরং এখন অব্দিও প্রেয়সীর ক্ষত স্থানে বারে-বারে আলতো করে অধর জোড়া ছুঁয়েই যাচ্ছে।আর সেই অধর ছোঁয়ায় যেন মিশ্রিত আছে সাহিত্যের যতসব নেশালো আকুতিরা।কি-ই বা করবে সাহিত্য?তার তো ইচ্ছাই ছিল একবারই অধর ছোঁয়াবে।কিন্তু হৃদয়ের ভারী নেশার বিরুদ্ধে কি আর ইচ্ছা খাটে?যার দরুন এখন অব্দিও থামছে না সে।আর এদিকে যে কল্পনার শরীরে ৬নং. সংকেতের ভুমিকম্প উঠেছে। 'ছেড়ে দে মা,কেঁদে বাঁচি' অবস্থা মেয়েটার।শরীরে সুক্ষ্ম ভুমিকম্প উঠলেও সাহিত্যের হাতের গন্ডি পার করে পালিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি কোনোটিই যেন নেই তার।নিজের নরম ত্বকে পুরুষালী অধরের ছোঁয়ায় তার শরীর তো আরো অসার হয়ে পড়েছে।

অবশেষে কল্পনার মনের মধ্যে আয়তুল কুরসী পড়া বিফলে গেল না।অধর জোড়া সুক্ষ্ম দূরে সড়িয়ে মাথা ওভাবেই রাখল সাহিত্য।কল্পনা শুকিয়ে কাট হয়ে যাওয়া গলা দিয়ে বড় এক ঢোক নামানোর চেষ্টা করল।আর সেই কন্ঠনালির দিকে নজর রেখেই হাস্কি কন্ঠে শুধালো সাহিত্য,

"জানপাখি...আমাদের কি বিয়ে হয়েছে?"

কল্পনার মাথা ভো-ভো করছে। শরীরে ঠান্ডা পানির কণা,পড়নের ভেজা লেপ্টানো কাপড় থাকা সত্ত্বেও শরীরে মাত্রাতিরিক্ত গরম অনুভব করছে সে।

কল্পনার কাছ থেকে উওর না পেয়ে সাহিত্য চোখ জোড়া বন্ধ করে আবারো কপাল ঠেকিয়ে দিল কল্পনার কাধে।কল্পনার কমোড়ে রাখা সাহিত্যের হাতটা প্রসারিত করে পেছন দিয়ে নিয়ে কমোড়ের বামপাশের ভাজখানা আকড়ে ধরল সে।প্রেয়সীর লতানো পুরো কমোড়টাই এখন সাহিত্যের বলিষ্ঠ বাম হাতে আবদ্ধ। অমনি নব যুবতীর ছোট্টো দেহখানা তরাত করে নড়ে উঠল।তার শ্বাস-প্রশ্বাস বর্তমানে এতো দ্রুত চলছে যে সেটা সম্পুর্ণ দৃশ্যমান।যার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের পুর্ণ স্পন্দনে বক্ষখানা গিয়ে ঠেকছে সাহিত্যের কাধে।সাহিত্য যেন তা দেখেও উপেক্ষা করে গেল।অতঃপর আবার একই হাস্কি স্বরে শুধালো,

"উত্তর দিলি না যে?"

সাথে-সাথেই উত্তর করল না কল্পনা।চোখ খিচে বন্ধ করে কাপা কন্ঠে বলল,

"হ-হ-হ্যাঁ"

কল্পনার ক্ষীণ আওয়াজ সাহিত্য শুনতে পেল কি পেল না,জানা নেই কল্পনার।

তবে কল্পনার মাত্রাতিরিক্ত কাপা কন্ঠ ভালো করেই কর্ণকুহর হয়েছে সাহিত্যের।হয়তো বা প্রেয়সীর ভয়ার্ত কাপা গলা শুনেই নিজেকে থামিয়ে দিল সে।"আচ্ছা ঠিকাছে" বলেই সটান দাঁড়িয়ে পড়ে বড়-বড় পা ফেলে বেলকুনির দিকে যেতে নিয়ে পেছন না ফিরেই বলল,

"ঠান্ডা লেগে যাবে গিয়ে কাপড় বদলে নে"

কোনো দাড়ি কমা ছাড়াই গড়্গড় করে কথাটা বলে বেলকুনিতে চলে গেল সে,যেই ছাদ বিহীন বেলকুনিতে চলতি বৃষ্টির পানি ভালোভাবেই পড়ছে।যে কেউ দাড়ালে কাক ভেজা হয়ে যাবে একদম।যা হলোও ঠিকই।সাহিত্য বেলকুনিতে দাড়ানোর সেকেন্ড কয়েকের মধ্যেই তার সারা শরীরের কাপড় পানিতে চুপছে গেল।যার দরুন পড়নের ইন না করা সাদা কটনের শার্টখানা ভেদ করে সুঠাম ভি শেপের চওড়া পিঠখানা ভালো করেই দেখা মিললো কল্পনার কাপতে থাকা চোখে।

চওড়া পিঠখানা দূর থেকে দেখেও ভালো করে বুঝা সম্ভব ছেলেটা কি পরিমাণে হাসফাস করছে।হয়তো বা প্রেয়সীকে কাছে পাওয়ার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষায়।কিন্তু প্রেয়সীর অনিচ্ছায় তাকে ছুঁতে চায় না সাহিত্য।কিন্তু মনের অনুভুতিগুলো যে খাঁচা ভেঙে বেড়িয়ে আসতে চাইছে।

হয়তো নিজেকে একটু সংবরণ করার জন্যেই ভ্রু অব্দি চুলগুলো দুই হাত দিয়ে ব্যাক ব্রাশ করে হাত দুইখানা শক্ত করে ঘাড়ের উপরেই ধরে রাখলো সাহিত্য।যার দরুন এবার হাতের ফোলা-ফোলা বাইসেপ্সগুলোরও ভালো করে দেখা মিললো কল্পনার।

মেয়েটার বক্ষখানা আগের মতোই উঠা-নামা করছে। কিছুতেই নড়তে পারছে না সে।একটু সামনে পা বাড়ালেই মনে হয় মেঝেতে পড়ে যাবে।কোনো উপায় না পেয়ে পলকহীন সাহিত্যের দিকে নজর রেখেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইল সেখানে।

সাহিত্য হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে ঘরের ভিতর নজর দিল।কল্পনা চলে গিয়েছে কি যায়নি হয়তো সেটাই দেখছিল।কিন্তু কল্পনাকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চকিত হলো সে।ভেজা কাপড়ে লেপ্টানো বৃষ্টিতে ভেজা রমণী তার দিকেই দেখে আছে।তির-তির করে কাপছে লাল আভা ধারণকারী ভেজা অধর জোড়া।মিষ্টি রঙা আবরণটা যেন দুধে আলতা প্রেয়সীকে আরো আবেদনময়ী করে তুলেছে সাহিত্যের চোখে।তার এই প্রেয়সীকে উপেক্ষা করা সাহিত্যের পক্ষে সম্ভব নয়।নিজের পুরুষালী সত্তাটা যে অনুমতি দিচ্ছে না সেটার।যার দরুণ এতো বড়-বড় বৃষ্টির পানির ফোটার ছাটেও যেন অন্তর-আত্মায় আগুন দাউ-দাউ করে জ্বলে উঠল এই সুপুরুষের।

ক্ষণিক মুহূর্ত পর চোখ জোড়া বন্ধ করে আবার রেলিং এর দিকে ঘুরল সাহিত্য।অতঃপর রেলিংয়ে সজোরে ডান হাতের ঘুষি বসাল সে,

"ড্যামিট!বালের ভদ্রতা!"

হুংকার দিয়ে মস্তিষ্কের সব বাধা উপেক্ষা করে হৃদয়ের অনুভূতিদের উস্কানিতেই যেন দ্রুত পায়ে রুমে ঢুকলো সাহিত্য।ভারি শ্বাস-প্রশ্বাস চলতি রাখা কল্পনার দিকেই এগোতে লাগলো সে।তার পড়ণের বাদামি ডেনিম প্যান্টটা থেকে চুইয়ে-চুইয়ে পানি পড়ায় রুমের শুকনা মেঝে ভিজে উঠল কয়েক মুহুর্তেই।

কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই এসে প্রেয়সীর আদলখানা দুই হাতের মাঝে আবদ্ধ করে কাপতে থাকা তুলতুলে অধর জোড়া নিজের অধর জোড়ার মাধ্যমে আকড়ে ধরল সাহিত্য।এহেন কান্ডে সাহিত্যের গতি জড়তায় দেয়ালের দিকে সুক্ষ্ম পিছিয়ে যাওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না কল্পনা।কারণ তার মস্তিষ্কে ও শরীরে তো অনেক আগে থেকেই কিসব রাসায়নিক বিক্রিয়া চলছে।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বাইরের বৃষ্টির কণারা কোনো বাধা ছাড়াই ঝমঝম করে গড়িয়ে পড়ছে।তারা যেন ধরনীতে চলতে থাকা সময়কে তোয়াক্কাই করে না।তাই তো বদ্ধ রুমটায় বেশ কিছুক্ষণ থেকেই শুধু সেই ঝমঝমে বৃষ্টির আওয়াজ বিদ্যমান।আর তার সাথে বিদ্যমান দুই দেহের সুক্ষ্ম শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ।হয়তো তাদের অধর জোড়া মিলনেরও।

এক লম্বা গাঢ় চুম্বনের পর দুই জোড়া অধরের মাঝে সুক্ষ্ম দূরত্ব তৈরি করল সাহিত্য।যার দরুন দুই নর-নারীই এই মুহুর্তে এলোমেলো শ্বাস ফেলতে ব্যস্ত।দুই দেহের উষ্ণ প্রশ্বাস আছড়ে পড়ছে একে-অপরের উপর।সাহিত্য তার প্রেয়সীর কপালে কপাল ঠেকিয়ে নজর প্রেয়সীর দিকে রাখলেও,সাহিত্যের প্রেয়সী চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে রয়েছে।পেছনের দেয়ালে ঠেকিয়ে রাখা হাত দুটো যেন অসম্ভব রকম কাপছে কল্পনার।কিন্তু সেই কম্পন সাহিত্যের নজরে না এলেও;সাহিত্যের নজরে এলো তির-তির করে কাপতে থাকা কল্পনার ঠোঁট জোড়া।

সমাপ্তিই টানতে চাইছিল সাহিত্য।কিন্তু অক্ষি জোড়া খিচে বন্ধ করে রাখা প্রেয়সীর ধবধবে আদলের মাঝে হার্ট শেপের রক্ত জবার ন্যায় অধর জোড়া দেখে সমস্ত নিয়ন্ত্রণ যেন মুহুর্তেই হারিয়ে ফেললো।ফলস্বরূপ কল্পনার আরেক দফা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাত ঘটে।নিজেকে আর দেয়ালের সাথে ঠেকিয়ে দাড় করে রাখতে পারল না কল্পনা।যার দরুন এবার দুই হাত তুলে সাহিত্যের বুকের ভেজা শার্টখানা খামচে ধরল সে।

"সাহিত্য"

বাহির থেকে আমেনা শেখের মৃদু আওয়াজ শোনা গেল।কিন্তু তাতেও যেন দমল না সাহিত্য।এক হাত দেয়ালে ঠেকিয়ে আরেক হাত প্রেয়সীর মাথার পেছনে চুলের ভাজে ঢুকিয়ে দিয়ে অধর জোড়া নিজ দখলেই রাখল সে।

ভেতর থেকে ছেলের কোনো সাড়া না পেয়েই দরজার লক ঘুরিয়ে ভেতরে ঢুকছিলেম আমেনা শেখ,

"সাহিত্য তোর আব্বু নিচে ডাকছে.."

হঠাৎ এমনটা হওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে প্রেয়সীকে ছেড়ে দিয়ে দরজা ধরে দাড়ালো সাহিত্য।আমেনা শেখ দরজা সামান্য খুলতেই আটকে দিল সে।কারণ দরজার পেছনেই তার কাপতে থাকা প্রেয়সী দাঁড়িয়ে।

এদিকে হঠাৎ সাহিত্যকে দেখে হালকা ভড়কালেন আমেনা শেখ।বেশ কিছুক্ষণ থেকে ডাকার পরেও যখন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না তখনই তো রুমে ঢুকতে এগিয়ে আসেন তিনি।কারণ সাহিত্য সাধারণ এতো সময় নেয় না উত্তর করতে।ফাঁকা রুম ভেবেই ঢুকতে এগিয়েছিলেন।তবে সাহিত্যকে দেখে ভড়কানো নজর স্থির রেখেই শুধালেন তিনি,

"কতক্ষণ থেকে ডাকছি।রুমে ছিলি তো সাড়া দিচ্ছিলি না কেন?"

এলোমেলো শ্বাস কোনো মতে দমিয়ে রেখে গম্ভীর মুখশ্রী নিয়ে আওড়ালো সাহিত্য,

"ঠোঁট বন্ধ ছিল"

ভ্রু কুচকালেন আমেনা শেখ,

"কিহ্!"

"পানি খাচ্ছিলাম"

সময় নষ্ট না করেই সাহিত্য উত্তর দিল।

"আমি তো অনেকক্ষণ ধরেই ডাকছিলাম।এতক্ষণ ধরে পানি খায় মানুষ?"

আমেনা শেখের সন্দেহ মাখা কথায় সাহিত্যের সুক্ষ্ম উত্তর,

"অনেক পিপাসা পেয়েছিল"

ভাঙা গম্ভীর গলায় বলে এক শুষ্ক ঢোক গিলল সে।তার পিপাসা তো পেয়েছিল বটে।তবে কিসের পিপাসা সাহিত্য এতক্ষণ নিবারণ করছিল সেটা যেন সামনের ব্যক্তির আর জানা হয়ে উঠল না।জানার প্রয়োজনও নেই অবশ্য।

"এরকম ভিজে কেন গিয়েছিস?"

মায়ের আবারো প্রশ্ন করায় ক্ষণিকের জন্য চোখ বন্ধ করে নিম্নাষ্ঠ কামড়ে ধরে ভিজিয়ে মায়ের দিকে দেখল সে।কথা ঘুরিয়ে নিল,

"কিছু কি বলতে এসেছিলে?"

সাহিত্যকে ডাকার আসল উদ্দেশ্য মনে পড়তেই আমেনা শেখ বলে উঠলেন,

"ওহ,হ্যাঁ।তোর আব্বু নিচে ডাকছে।কি যেন জরুরী কথা বলবে"

আড় চোখে কল্পনাকে দেখে 'আচ্ছা' বলেই রুমের দরজা লাগিয়ে দিয়ে গডগড করে মায়ের আগেই নিচে চলে যেতে লাগলো সাহিত্য।পেছন থেকে আমেনা শেখের সুক্ষ্ম আওয়াজ শোনা গেল,

"আরে কাপড়টা চেঞ্জ তো করে যা"

সে কথা কানে না নিয়ে এক প্রকার ব্যস্ত পায়েই সাহিত্য নিচে চলে গেল।

কিন্তু এদিকে বন্ধ দরজার পেছনে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না কল্পনা।দেয়াল ঘেঁষে মেঝেতে বসে পড়ল সে।কয়েক মুহুর্ত আগ পর্যন্ত কি হয়ে গেল ভেবেই নব যুবতীর দুনিয়া দুলে উঠল।আজ যেন সাহিত্য ভাইকে প্রথম দেখছে সে।আজ সম্পুর্ণ এক ভিন্ন সাহিত্য কল্পনার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।

সাহিত্য কেন ভিন্ন আচরণ করছিল সেটা নাহয় কল্পনা বুঝতে অক্ষম হলো।কিন্তু কল্পনা নিজেও কেন ভিন্ন আচরণ করছিল?সে তো চাইলেই সাহিত্যকে বাধা দিতে পারত।কিন্তু তার হাত জোড়া যেন সাহিত্যকে আরো আকড়ে ধরেছিল ওই মুহুর্তে।দুজনেরই কি ভিন্ন আচরণ করার কারণ একই?দুজনেই কি চাইছিল যা হচ্ছে হোক?

ভারি বজ্রপাতের শব্দে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে এলো কল্পনা।নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে আশেপাশে নজর ঘুরালো।এই মুহুর্ত মাথায় এসব চিন্তা চালানোর সময় নয়।তাকে আগে নিজের রুমে যেতে হবে।কারণ এই মুহুর্তে সাহিত্যের সাথে চোখ মিলানো অসম্ভব কল্পনার পক্ষে।

ক্ষণিক আগের হওয়া ঘটনা যেন ভাবনা থেকে বের হওয়া এতোটাও সহজ হয়ে উঠল না।সাহিত্যের অধিকার খাটানো ছোঁয়ায় কল্পনার অধর জোড়া এখনো তপ্ত গরম অনুভব হচ্ছে।নব যুবতীর জীবনের প্রেমের প্রথম ছোঁয়া যেন কম্পনের সাথে শিহরণ বয়ে দিচ্ছে সারা শরীরে।তবে এই মুহুর্তে এই বদ্ধ রুমে থেকে নিজের সুপ্ত অনুভূতিদের আর বের হতে দিল না সে।কাপা হাত-পা নিয়েই তড়িঘড়ি করে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে দৌড় লাগালো।

সাহিত্য নিচে ড্রয়িং রুমে গিয়ে তোফায়েল শেখের সামনে দাড়ায়।সোফায় বসে থাকা তোফায়েল শেখের উদ্দেশ্যে গম্ভীর ও ধীমি আওয়াজে শুধালো,

"আব্বু ডাকলে?"

হাতে থাকা খবরের কাগজে চোখ বুলাতে নিয়েই তোফায়েল শেখ বললেন,

"হ্যাঁ।এশার আব্বুর নাম্বারটা দাও তো। আমার ফোন থেকে কেমন করে জানি ডিলেট হয়ে গিয়েছে"

তোফায়েল শেখের গম্ভীর কন্ঠে স্বাভাবিক এক কথা শুনে সাহিত্য চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে ধীর গতিতে লম্বা শ্বাস ফেলল।ছেলে চুপ করে আছে দেখে এবার মাথা তুলে শুধালেন তোফায়েল শেখ,

"আরে তোমার খালুর নাম্বার"

চোখ খুলে ন্যানো সেকেন্ডর জন্য তোফায়েল শেখকে শান্ত চোখে পরখ করল সাহিত্য।ঠান্ডা পানিতে মাথাটা ভেজা থাকলেও রাগটা চড়চড়িয়ে উঠছে সাহিত্যের।বিয়ের দিনই সাহিত্য ধারণা করে রেখেছিল যে ভবিষ্যতে এই দুই শেখ আহমেদ ভালোই সমস্যা করবে।কিন্তু তাই বলে এমন গুরুতর সময়ের মাঝে?সাহিত্য সেটা ভাবনাতেও আনেনি!

ভেজা প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে তোফায়েল শেখের ফোনে নাম্বার টুকতে লাগলো সাহিত্য।এতক্ষণে ছেলের ভেজা শার্ট প্যান্ট দেখে ভ্রু কুচকালেন তোফায়েল শেখ,

"তুমি এরকম ভিজেছো কেন?"

'ভা'র্জিন থাকার সুখে'

মনের মধ্যে সে কথা বললেও ঠোঁট জোড়া বন্ধই রাখল সাহিত্য।

ছেলে আর মুখ থেকে কথা বের করবে না সেটা ভালো করেই বুঝলেন তোফায়েল শেখ।তাই নাক-মুখ শিটিয়ে আবার খবরের কাগজে মনোযোগ দিলেন তিনি।

তোফায়েল শেখকে নাম্বার দিয়ে এক প্রকার দৌড়েই নিজের রুমে এলো সাহিত্য।রুমে ঢুকেই আগে দরজার পেছনে চোখ বুলালো।কাঙ্খিত ব্যক্তি চলে গিয়েছে।দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে পুরো রুমে একবার চোখ ঘুরালো সে।আসলেই তার প্রেয়সী নেই রুমে।রাগের মাথায় ধাম করে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে ভেজা শরীরেই বিছানায় হাত-পা ছেড়ে দিল।সিলিংয়ের দিকে নজর রেখে দুই হাত দিয়ে মাথার পানি নিংড়ানো ভেজা চুলগুলো ব্যাক ব্রাশ করে খামচে ধরল।

আজ প্রথমবার প্রেয়সীর কাছে মন খুলে অনুভুতি প্রকাশ করছিল সাহিত্য।কিন্তু বাসাতেই কাল সা'প থাকলে সেটা আবার সম্ভব হবে?

ক্ষণিক আগের প্রেয়সীর আচরণ স্মরণে এলো সাহিত্যের।কল্পনাকে একটু অস্বস্তিকরই দেখাচ্ছিল।সাহিত্যের হঠাৎ এতো গভীর ছোঁয়ায় যেন ঘাবড়ে গিয়েছে মেয়েটা।কিন্তু সাহিত্য কি করবে?প্রেয়সী কাছে থাকলে যে পুরো জ্ঞান শূন্য উন্মাদ হয়ে যায় সে।সেটা গত কয়টা মাস থেকে এক বাধার কারণে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও,এখন যেন আর সেই বাধাও নেই।সাহিত্যের সম্পুর্ণ অধিকার আছে তার কল্পনার উপর।প্রেয়সীর অনিচ্ছায় সেদিকে এতো তাড়াতাড়ি এগুতে চায়নি সে।কিন্তু সাহিত্যের পক্ষে নিজের অনুভূতিদের যে আর বেধে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।সে সিদ্ধান্ত নিল যে,প্রেয়সীকে মন ভরে আদর দিয়েই নাহয় মানিয়ে নেবে।কারণ সাহিত্য নিজের প্রেয়সীর থেকে আর দূরে থাকতে চায় না।তার পক্ষে সম্ভব হবে না সেটা।হৃদয়ের অবাধ্য অনুভূতিদের বুঝ দেওয়ার জন্য যে আর কিছুই বাকি নেই।ফলস্বরূপ অবশেষে সাহিত্য তার এই অবাধ্য অনুভূতিদের বার্তা শুনতে শুরু করবে।যার সূচনা হয়তো আজই ছিল।

এতো কিছু ভাবতে নিয়েই ঠোঁট বাকিয়ে কিঞ্চিৎ হাসল সাহিত্য।ভারী নেশালো কন্ঠে বিড়বিড় করে বলে উঠল সে,

"আমার হৃদপিণ্ডের পুরো একখণ্ডের আসক্তিতে পরিণত হওয়ার শাস্তি এটা তোর জন্য।আমার এই বেসামাল উন্মাদনা তোকে সামলাতেই হবে"

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন