ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৮০তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৮০

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

আধুনিক সৌন্দর্যের মডেলে তৈরি ত্রিকোণা ৮তলা বিল্ডিংটার প্রতিটা তলাই যেন দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত অবস্থায় থাকে।কম্পিউটারের কাজে কি-বোর্ডে হাত চালানোর শব্দ থেকে শুরু করে টেলফোনের ক্রিংক্রিং শব্দসহ মানুষের ব্যস্ত নড়াচড়াই যেন শব্দমুখর করে রাখে পুরো পরিবেশকে।এতোটা ব্যস্ত থাকবেই বা না কেন?দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির সাথে ফাইন্যান্সিয়াল লেনদেন চলতে থাকে প্রতি মুহুর্তেই।সেগুলোর অংক এতো মোটা হয়ে থাকে যে সুক্ষ্ম চোখের ভুল হলেও তিল থেকে তাল হওয়া সম্ভব।তাই ব্যস্ত হয়ে নড়া ছাড়া যে অবকাশ নেই।আর এই কোম্পানির ইমপ্লয়িরা যদি এতো ব্যস্ত না থাকতো,তাহলে কি আর তারা 'দি O.S.S. গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'-এর ইমপ্লয়ি হওয়ার যোগ্যতা রাখতো?

তবে পুরো বিল্ডিংয়ের এতো ব্যস্ততার মাঝে শুধুমাত্র একটি স্থানই আছে,যেখানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে বর্তমানে।এমনকি প্রায় সময় সেই রুমখানায় এমন নিস্তব্ধতাই বিরাজ করে।আর বর্তমানে সেই কেবিনের অধিকারী নিজের কাঙ্ক্ষিত আরামদায়ক কালো লেদার চেয়ারে শরীরের ভার এলিয়ে ডার্বি সু-সুদ্দো ফর্মাল ব্লাক প্যান্টে আবৃত পা জোড়া সামনের টেবিলে চড়িয়ে রেখেছে।এমন ভঙ্গি অবশ্য ভদ্রতার কাতারে একদমই পড়ে না।কিন্তু নিজের তৈরি সাম্রাজ্যে ভদ্রতা দেখানো সেই ব্যক্তি প্রয়োজনও মনে করে না।

কেবিনের কাচের দরজায় রাজ নক করে ভেতরে ঢুকলে সাহিত্য নিজের আড়পার করে রাখা পা জোড়ার মাঝে সুক্ষ্ম দূরত্ব তৈরি করে তার দিকে নজর দিল।সাহিত্য রাজের দিকে নজর ফেলার পরপরই রাজ বলে উঠে,

"স্যার,ছেলেগুলো এসেছে"

পা জোড়া আবারো আগের ন্যায় করে নিল সাহিত্য।অতঃপর হাতে থাকা পেপার ওয়েটটা উল্টেপালটে দেখতে নিয়েই ভারী কন্ঠে বলল,

"বসতে বলেছো?"

"হ্যাঁ স্যার"

হাতের আড়মোড়া ভেঙে টেবিল থেকে পা নামায় সাহিত্য।রাজের পাশ কেটে রুম থেকে বের হতে নিয়েই হাতের পেপার ওয়েটটা ক্যাচ ধরতে দেয় তাকে।হঠাৎ করে নিজের দিকে আশা পেপার ওয়েটটার জন্য প্রস্তুত ছিল না রাজ।যার কারণেই হয়তো হালকা ভড়কালো সে।তবে ক্যাচটা মিস করল না।সেটা দেখে ঠোঁটে মুচকি হাসি নিয়েই রুম থেকে বেড়ুলো সাহিত্য।তবে রাজের মুখে কোনো হাসি দেখা দিল না।তার মুখোশ্রিতে হালকা চিন্তাসহ ভয়ের দেখা মিলছে।সেটা হয়তো সাহিত্যের পরবর্তী মুখোশ্রির ভঙ্গিমায়।কারণ ওয়েটিং রুমে প্রবেশ করা মাত্রই গম্ভীর হয়ে উঠল সেই লম্বাটে চেহারাটা।

রুমে আগে থেকেই চারজন ছেলে উপস্থিত।তারা আর কেউ নয়!সয়ং সাহিত্যের হাতে ধোলাই খাওয়া আমাদের ভার্সিটির সিনিয়ন নওশাদ ভাইয়া আর তার তিন সাঙ্গ।

হঠাৎ রুমের মধ্যে সাহিত্যকে ঢুকতে দেখে বসা থেকে হুড়মুড়িয়েই উঠে দাড়ালো তারা।যেটা নওশাদের স্বভাবে কিছুতেই পড়ে না।কিন্তু সাহিত্যকে এমন সম্মান দিয়ে উঠে দাড়ানোর যথেষ্ট কারণ আছে।সাহিত্যের হাতের মার খেয়ে ছেলেগুলো যে দুদিন ধরে হসপিটালের বেডে পড়ে ছিল।দু'সপ্তাহ পার হতে চলল এমন মার খাওয়ার,অথচ তারপরও শরীর এখনো টনটন করে উঠে।

নওশাদ নিজের সিদ্ধান্তে অনেক পস্তিয়েছে।কল্পনার ব্যাপারে তাকে আরো ভালো করে একটু খোঁজ নেওয়া উচিৎ ছিল।কল্পনার আরেক চাচাতো ভাই যে কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসেছে সেটা নওশাদের খোঁজে সম্পুর্ণভাবে এড়িয়ে যায়।তবে হাতের মুঠের বাইরে গড়িয়ে যাওয়া বালু সামলাতে নওশাদ যথেষ্ট শক্ত ছিল।কিন্তু কল্পনার সেই কানাডার চাচাতো ভাই যে কল্পনার জন্য এতোটা পাগল সে বিষয়টা নওশাদ ভাবনাতেও আনতে পারেনি।এমনকি নওশাদ তো সেদিন সাহিত্যকে ঠিক মতো দেখতেও পারেনি।সাহিত্য সেই সুযোগটা দিয়েছিলই কখন?

হসপিটালের বেড থেকে উঠার পর নওশাদ ফুলে-ফেঁপে উঠে সাহিত্যের দিকে আক্রমণের হাত বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।দীর্ঘ চার বছর ভার্সিটির রাজনীতির সাথে জড়িয়ে থেকে অতটুকু তো সে সামলে নিতেই পারবে।একটা ছেলেই তো।ভার্সিটিতে পাতি নেতার অভাব আছে নাকি?কিন্তু নওশাদের সেই পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দিয়ে নওশাদের বাড়িতে আগমন ঘটে রাজ এবং দেশের এক জানামানা ব্যারিস্টারের।

নওশাদ এমন এক জানামানা ব্যারিস্টারকে দেখে সেখানেই চুপসে যায়।কিন্তু তারপরও সম্মানিত ব্যারিস্টার সাহেব পেশাদার নিয়মে ভালোভাবেই নওশাদ ও তার পরিবারকে বুঝিয়ে আসে,যে এমন কিছুতে সাহিত্যের মতো এক নামি-দামি বিজনেসম্যানের কিছুই হবে না।বরং নওশাদকেই সারা জীবন আদালতের চারপাশে চক্কর লাগাতে হবে।আর সেদিন নওশাদ এটাও ভালো করে বুঝে গিয়েছিল,যে সাহিত্য তাকে নিজ হাতে পেটাতে পারলেও নওশাদ সাহিত্যের আশেপাশের বাতাসকেও ছুঁয়ে দিতে পারবে না।

সাহিত্য তার মুখোশ্রি গম্ভীর রাখলেও খুব স্বাভাবিকভাবেই এসে সোফায় বসে পায়ের উপর পা চড়িয়ে দিল।তার চালচলনই যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে তার উপস্থিতি পরিবেশকে কতটা ভারী করতে সক্ষম।সাহিত্য আরামে সোফায় বসে বাম হাটুর উপরে থাকা ডান পায়ের গোড়ালি মৃদু নাড়াতে নিয়েই সামনের চার যুবকের দিকে ভারী নজর রেখে আছে।তবে সাহিত্যের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজ তাদের উদ্দেশ্যে বলে উঠল,

"আরে তোমার দাঁড়িয়ে আছো কেন?বসো বসো"

রাজ বলার পরেও বেশ সময় নিয়ে সোফায় স্থান নিল ছেলে চারটা।তবে তাদের শরীরের শক্তভাব যেন কিছুতেই দূর হচ্ছে না।সাথে নজরও অনেকটা ঝুকিয়ে রেখেছে।কে বলবে যে এই চারটা ছেলে ভার্সিটি পাশ করে বেড়িয়েছে এই তো ক'দিন আগেই?তবে সাহিত্যের নজর একদম লক্ষ্য অনুযায়ী।দু'সপ্তাহ পার হতে চলল।অথচ এখনো চারটা ছেলের শরীরে কোথাও না কোথাও ব্যান্ডেজের চিহ্ন দেখা দিচ্ছে।নওশাদের কপালের দৃশ্যমান ব্যান্ডেজের দিকে দেখে কন্ঠে গাম্ভীর্য ঢেলে শুধালো সাহিত্য,

"নওশাদ,রাইট?"

নজর ঝুকিয়ে রাখা নওশাদের থেকে ছোট উত্তর এলো,

"জ-জ্বি"

"শরীরের এখন কি অবস্থা?"

পর মুহুর্তে কিছু বলল না নওশাদ।সময় নিয়ে বলল,

"এখন ভালো আছি"

"মিথ্যা কেন বলছো?আমার পাঞ্চের ব্যাথা এতো তাড়াতাড়ি তো ঠিক হওয়ার কথা নয়"

নওশাদ কিছু না বলে চুপ করে রইল।হালকা মেকি হাসলো সাহিত্য।হাসি থামালেও ঠোঁট বাকিয়ে রাখলো সে,

"তো,শরীরের অবস্থা কেমন?"

নওশাদ শুষ্ক ঢোক গিলল।মিনমিনিয়ে বলল সে,

"জ্বি,মেডিসিন চলছে"

নিজের কথা বলতে সময় নিল না সাহিত্য,

"বিয়ে করার শখ মিটেছে?"

উত্তর করল না নওশাদ।তবে সময় নিয়ে বলল,

"সরি স্যার...আসলে আমি জানতাম না যে কল্পনাকে অন্য কেউ পছন্দ করে.."

নওশাদ এতক্ষণ পর ঝুকে রাখা মাথা তুলে সাহিত্যের দিকে নজর দিয়েছে।অমনি যেন কথা বন্ধ হয়ে গিয়ে কেপে উঠল তার বুকটা।

রাজ এর মাঝেই সাহিত্যের হাতে একটা কফির মগ ধরিয়ে দেয়।সোফায় আরামে বসে সেই সুগার ফ্রি হট ব্লাক কফির মগে চুমুক লাগাতে নিয়েই সাহিত্য সরাসরি নওশাদের দিকে দেখে আছে।সাহিত্যের চাহনি শান্ত হওয়ার পরেও যেন নওশাদ সইতে পারলো না সেই চাহনি।সামনের মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়া যে কোন অনুভূতি প্রকাশ করছে সেটা নওশাদের মস্তিষ্ক কুলিয়ে উঠল না।অতি ভয়ের চটে যেন নজর নিচু করতেই ভুলে গেল নওশাদ।তবে অবশেষে নজরে তো এলো,যে কে সেই ব্যক্তি,যে কল্পনার আশপাশে অন্য কারো ছায়াও সহ্য করতে অনিচ্ছুক?কে সেই ব্যক্তি,যে কেউ যদি কল্পনাকে স্পর্শ করতে এগিয়েও আসে তাহলে তাকে হিংস্র হায়নার মতো ছিড়েখুঁড়ে খেতেও দ্বিতীয়বার ভাববে না।

নওশাদের ভয়ার্ত চাহনি দেখে এবার মেকি হাসলো সাহিত্য।শান্ত রুমখানা হালকা বেজে উঠল সেই গম্ভীর হাসিতে।হাতে থাকা কফির মগ হালকা দোলাতে নিয়েই বলল সে,

"আমার ব্যাপারে তোমাকে জানতে হবে না।সেটার কোনো প্রয়োজন নেই।তোমাকে আমি এখানে ডেকেছি অন্য কারণে...ভার্সিটি লাইফ তো আমিও পার করে এসেছি।এসময় শরীরে কত তেজ থাকে সেটা আমারো জানা আছে।তোমার রাগ যে এখনো কমেনি আমার সেটাও জানা আছে।তুমি যে ফিউচারে কল্পনার কোনো ক্ষতি করতে পারো আমার সেটাও জানা আছে।আর আমি যে আবার তোমার শরীরের হাড্ডি ভাঙতে পারবো...সেই বিষয়টা তুমি জেনে রাখো।এবার ট্রিটমেন্টের টাকা দিয়েছি,এরপরের বার ক'বর খুড়ার টাকা দেবো।কথা কি কানে ঢুকেছে?"

নওশাদ এতক্ষণ থেকে ভয়ে থাকলেও এবার একটু ফুসতে লাগলো সে।যেই রাগটা এই রুম থেকে বের হওয়ার পর উঠত সেটা হয়তো এখনই উঠতে শুরু করেছে।সাহিত্যের কথা হয়তো তার ইগোতে লাগতে শুরু করল।

নওশাদের এমন মুখোশ্রি দেখে ভ্রু কুচকালো সাহিত্য,

"কানে ঢুকেনি?"

কথাটা বলেই সাহিত্য পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজের দিকে ঘাড় ঘুরালো,

"রাজ,এই ভার্সিটির ওনারকে ভার্সিটির পেপার'স রেডি করতে বলো।আই ওয়ান্ট হিম ইন মাই অফিস উইথিন টোয়েন্টি ফোর আওয়ার'স"

সাহিত্যের এমন কথা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে উঠল।নওশাদ ভড়কে উঠে কিছু বলতে যাবে তার আগেই সাহিত্য তার দিকে শক্ত নজর ফেলে বলল,

"আমার ওয়াইফকে কেমন করে সেফ রাখতে হবে সেটা ভালো করেই জানা আছে আমার"

এই মুহুর্তে সামনে ছেলে চারটা না থাকলে হয়তো রাজ কপালে হাত চাপড়ে বসতো।তার স্যারটা কল্পনার কোনো ব্যাপার হলেই ডিরেক্টর এ্যাকশন নিতে এগিয়ে যাবে।কয়েক মাস আগেই ভিভাসফট কোম্পানির ব্যাপারটা মিটলো।এখন আরেকটা নিয়ে শুরু হবে?তবে এবার রাজের কাছে এক অজুহাত আছে সেই ঝামেলা থেকে বাঁচার।সেটা বলতেই সাহিত্যের দিকে হালকা ঝুকে এলো সে।মৃদুস্বরে বলল,

"স্যার,ওটা পাবলিক ভার্সিটি"

রাজের কন্ঠ নিচু থাকলেও সাহিত্যের কন্ঠ উঁচু।রাজের দিকে দেখে ফুসে উঠল সে,

"এই মেয়েটার জন্য কি এখন আমাকে রাজনীতিতেও ঢুকতে হবে?"

এবার আর মুখোশ্রি স্বাভাবিক রাখতে পারল না রাজ।বেশ বিরক্ত নিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখতে লাগলো সে।মানে সাহিত্য যেন কিছুতেই নিজের কথা থেকে নড়বে না!ভার্সিটি তার করা লাগবে মানে করা লাগবেই!

নিজের ক্ষণিকের ক্রোধ থেকে উষ্ঠা খেয়ে বেড়িয়ে এলো নওশাদ।একটা ছেলে তার বউয়ের প্রতি কতটা পজেসিভ হলে এমন কথা-বার্তা বলতে পারে সেটা ভালো করেই ঠাহর করতে পারলো সে।কিন্তু এই রগচটা যদি রাজনীতিতে ঢুকে তাহলে দেশের বাকি নেতাদের কি অবস্থা হবে সেটার ভয়েই হুড়মুড়িয়ে উঠে দাড়ালো নওশাদ,

"আরে আপনি কিজন্য রাজনীতিতে ঢুকবেন!আপনি রাজনীতি করলে বিজনেস করবে কে?আ-আর আমি কি বলেছি যে আমি কল্পনার দিকে দেখবো?আমি তো দেশ ছাড়ার প্লান বানাচ্ছিলাম এতক্ষণ,তাই উত্তর দিতে পারিনি।আপনি কল্পনাকে নিয়ে একদম টেনশন করবেন না।কল্পনা আর ওর বান্ধুবীকে ভার্সিটিতে কেউ টু শব্দ বলবে না,সেটার গ্যারান্টি আমি নিজে দিচ্ছি!"

সাহিত্য ভ্রু কুচকে আবারো নওশাদের দিকে দেখলো,

"তোমার কি মনে হয়,তোমার এই অবস্থা দেখার পর ভার্সিটির আর কেউ কল্পনার দিকে আগাতে আসবে?আমি শুধু তোমার কথা বলছিলাম।জাস্ট ওয়ান্ট টু গিভ ইউ আ টেস্ট অফ হেল"

সাহিত্যের দাঁত চিবিয়ে বলা শেষের বাক্যে কেপে উঠল নওশাদ।ভার্সিটি নিজের অধিনে নিয়ে এমন কি করবে সাহিত্য যে নওশাদ জা'হা'ন্নামের স্বাদ পাবে;সেটা নওশাদ চিন্তাও করতে পারলো না।আবার কেপে উঠল তার গলা,

"এতো রাগ হচ্ছেন কেন আপনি?আমি তো বললাম যে কল্পনাকে আমি আর ঘুরেও দেখবো না।এমনকি ক'দিন পর এমনিতেও ভার্সিটি থেকে বের হচ্ছি।তারপর ঢাকার দিকে আর ঘুরেও দেখবো না,আই সোয়ার!!"

হালকা কোমল হলো সাহিত্যের নজর,

"ভেরি গুড।তুমি-আমি যেন আর মুখোমুখি না হই।তহলে কিন্তু তোমার জন্য একদমই ভালো হবে না"

সাহিত্যের স্বাভাবিক কন্ঠ শুনে শ্বাস ফেলল নওশাদ।শ্বাস ফেলতে নিয়েই সোফায় বসে পড়ল।কিন্তু আবারো শুনা গেল সাহিত্যের ভারী কন্ঠ,

"কল্পনার মুখ চেপে ধরেছিল কে?"

এবার শুষ্ক ঢোক গিলল নওশাদের পাশে বসে থাকা সাগর।সাথে চোখ-মুখও খিচে নিল।সাহিত্য আবারো বলে উঠল,

"আমি কিছু জিজ্ঞেস করেছি"

নিজের জীবনের শেষ দিন আজই নির্ধারণ করে নিল সাগর।সেটা মাথায় রেখেই মিনমিনিয়ে উঠল সে,

"আমি"

"ওর হাত কে চেপে ধরেছিল?"

সাহিত্যের আগের স্বরের কন্ঠ শুনে মাথাটা আরো একটু নিচু করল সাগর,

"আমি"

এবার সময় নিয়ে শুধালো সাহিত্য,

"তার মানে ওর হাত-পাও তুমিই বেধেছিলে?"

এবার উত্তরের সাথে সাগর ঝুকে রাখা মাথাটাও মৃদু নড়ালো,

"হ্যাঁ"

কন্ঠে হালকা হাসির প্রভাব ফেলে সাহিত্য বলে উঠল,

"বেধেছো কেমন করে?সেটা তো চিংড়ি মাছের মতো লাফায়"

মাথা তুলল সাগর।সাহিত্যের মুখে হাসি দেখে ভাবলেসহীন হাসি মুখে নিয়ে বলল সে,

"আর বলিয়েন না ভাইয়া।প্রথমে খুব জ্বালিয়েছিল।কোনো রকম চেপে ধরে বেধেছিলাম"

উপর-নিচ মৃদু মাথা দোলাতে লাগলো সাহিত্য।ঠোঁটের হাসি তো এখনো আছে।সেটা দেখেই হয়তো সাগর তার হাসি বজায় রেখেছে।তবে পাশে বসে থাকা তিন যুবক চোখ-মুখ খিচে নিল সাগরের সেই হাসি দেখে।

হঠাৎই সাহিত্য মাথা দোলানো থামার সাথে মুখের হাসিটাও সড়িয়ে নিল।গম্ভীর মুখোশ্রি আবার ফেরত এনে বলে উঠল সে,

"খুব হাসি পাচ্ছে,তাই না?"

সাগরের হাসি চড়ুই পাখির মতো উড়ে গেল।ডানে-বামে মাথা ঝাকালো সে।কিন্তু সাহিত্য উপর-নিচ মৃদু মাথা নাড়িয়ে বলল,

"এদিকে এসো"

সাগর আবারো ডানে-বামে মাথা ঝাকালো।সে ভালো করেই জানে সাহিত্য তাকে ধোলাইয়ের স্বাদ খাওয়ানোর জন্য ডাকছে।তবে সাহিত্য ভ্রু কুচকানোর কারণে আর বসে থাকতে পারল না।উঠে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল সাহিত্যের দিকে।ডান হাতের তর্যনী আঙুল দিয়ে সাগরকে নিজের দিকে ঝুকে আসতে বলল সাহিত্য।নিজের মেডিসিন খাওয়া ভাগ্য মেনে নিয়ে ঝুকে গেল সাগর।

রাজ বাদে উপস্থিত তিনজনই ধারণা করে নিল সাহিত্য এই মুহুর্তে কি করবে।রাজ বাদে মানে এই নয় যে রাজ জানে সাহিত্য কি করবে।রাজের কোনো ধারণা নেই সাহিত্যের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে।গত দেড় বছরেও সাহিত্যের মগজ সম্পর্কে রাজ তেমন ধারণা নিতে পারেনি।তাই তো ছেলেটা বুদ্ধিমানের পরিচয় দিয়ে এইসব বিষয়ে একদমই মাথা ঘামায় না।তার স্যার মাঝেমধ্যে কিসব উদ্ভট কাজ করে থাকে,আর রাজের আসল কাজ শুরু হয় তার স্যারের সেই উদ্ভব কাজ শেষ করার পর।তো আগে থেকে টেনশন নিয়ে লাভ আছে?রাজ তো এই মুহুর্তে অন্যকিছুতেই মনোযোগ দিয়ে রেখেছে।রুমের এক কোণের ধুলো জমে থাকা এসিটার দিকে নজর তার।অফিসের স্টাফগুলো কি এই রুম পরিষ্কার করে না নাকি?আজই ঝাড়ি মারতে হবে সবগুলোকে।বেতন কি বসে থাকার জন্য দেওয়া হয়?কোনো গেস্ট এলে কি মনে করবে তারা?

নিজের এতো ভাবনার মাঝে রাজ হঠাৎই এক শব্দ শুনতে পেল।যেন কাউকে ঠাডিয়ে একটা চড় মারলো কেউ।সেই শব্দ কানে যেতেই হালকা ভড়কে উঠে সাহিত্যের দিকে নজর দিল সে।সাহিত্য এখনো পায়ের উপর পা চড়িয়ে আছে।সাহিত্যের বাম হাতটা সোফার হাতলে আরাম করলেও ডান হাতটা সাহিত্যের গালের ভার বহন করে রয়েছে।গালের ভার হাতে দিয়ে ঘাড় ঝুকিয়ে সাহিত্য নজর দিয়ে রেখেছে মেঝেতে পড়ে থাকা সাগরের দিকে।সেই দৃশ্য দেখে রাজ ভ্রু কুচকালো।সে বুঝে উঠতে পারছে না যে সাহিত্য সাগরকে চড়টা মেরেছে কোন হাত দিয়ে।

সাহিত্যের হাতে এমন ঠাডিয়ে এক চড় খেয়ে চোখে কিছু মুহুর্ত অন্ধকার দেখলো সাগর।সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন কাটতেই সাগর কাঁদো মুখোশ্রি নিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখলো।অতঃপর নওশাদের দিকে আঙুল তাক করে হালকা তেতে কাঁদো গলা নিয়েই বলতে লাগলো,

"কিডন্যাপের প্লান করেছে ও,বিয়ে করতে চেয়েছে ও,তো দুই ডোজে মার আমি কেন খেলাম!"

সাহিত্যের শান্ত উত্তর,

"তুই কল্পনার গায়ে হাত দিয়েছিস কেন?"

নওশাদের দিকে ঘুরে আগের কন্ঠেই বলল সাগর,

"শালা তোর বন্ধুত্ব নিভাতে গিয়ে আজ এই দিন দেখতে হচ্ছে!"

নওশাদ কিছু বলল না।এমনকি মাথাটাও তুলল না।সাহিত্য এখনো সাগরের দিকে দেখে আছে।শান্ত স্বরে বলল সে,

"এখন ভদ্র বাচ্চার মতো জায়গায় গিয়ে বসো"

টু শব্দ করল না সাগর।মাথা নিচু করে আগের জায়গায় বসে পড়ল সে।সামনে চারটা ছেলেকে আরো একবার কড়া নজরে দেখে নিল সাহিত্য।অতঃপর দাঁত চিবিয়ে বলল,

"তোদেরকে ক'বরে ঢুকাতে মনটা খুড়খুড় করছে আমার।একেকটাকে নিজ হাতে মাটির নিচে ঢুকাতে মন চাচ্ছে।কিন্তু তোদের ভাগ্য মনে হয় ভালো।আমার এতো বড় উপকার করেছিস তোরা,এতোটুকু ছাড় তো দিতেই পারি।তবে এবার ছাড় দিয়েছি মানে এই না যে আগামী বারও ছাড় দেব"

নওশাদ কল্পনাকে কিডন্যাপ করায় সাহিত্যের কি সুবিধা হয়েছে সেটা তেমন ভালো করে বুঝলো না সামনের চার ছেলে।কিন্তু জিজ্ঞেস করার সাহসও পেল না।

নিজের কথা শেষে আর এক মুহুর্ত দাড়ালো না সাহিত্য।উঠে গটগটিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল।ছেলে চারটাকে ছাড় দিতে কিছুতেই ইচ্ছা করছে না তার।তাই রাগটা কমাতেই হয়তো হাঁটা দিল নিজ কেবিনে।নিজ কেবিনের উদ্দেশ্যে হাঁটতে নিয়ে এবার হালকা হাসি ফুটলো সাহিত্যের মুখে।এটা ভেবেই যে,অবশেষে সাহিত্য তার প্রেয়সীকে পেয়ে গিয়েছে।আর কোনো কিছুই তাদের আলাদা করতে পারবে না।

কিন্তু সাহিত্য হয়তো এটা ভুলে বসেছে যে,সে ফাহাদ শেখ আহমেদের মেয়েকে নিজের প্রেয়সী বানিয়েছে।আর সেই ফাহাদ শেখের সঙ্গে এ পর্যন্ত সাহিত্যের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী অপেক্ষা করছে সাহিত্যের জন্য।সেই প্রতিদ্বন্দ্বী সাহিত্যের জন্য কতটা ভয়ানক হয়ে দাঁড়াবে সেটা নাহয় ভবিষ্যতেই জানতে পারবে সাহিত্যসহ বাকি সবাই।

#চলবে

রিচেক দেইনি!

সারাদিন এতো ব্যস্ত থাকার পরও(এখনো ব্যস্ত😑) গল্প লিখে পোস্ট করতেছি।অন্তত রিয়েক্টটা দিয়েন।এতজন গল্প পড়েন অথচ রিয়েক্ট এতো কম দেখতে ভালো লাগে না।রিয়েক্টটা দিয়েন অন্তত।নাহলে আমি মন খারাপ করব🙂

বুঝে নিব আমার পরিশ্রমের কোনো মূল্য দিচ্ছেন না আপনারা🙃

ঈদ মোবারক 💖

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন