ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৮৪তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৮৪

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বর্ষাকালের আকাশে বজ্রের কন্ঠ শুনার সাথে-সাথে শেখ ভিলাতেও দুটি বজ্র কন্ঠ প্রায়শই শোনা যায়।পরিচিত বজ্র কন্ঠ দুটি তো সেই দুই শেখ আহমেদদেরই।

প্রায়শই এখন কথা কাটাকাটি চলে দুই ভাইয়ের মাঝে।মাঝে একটু আধটু কথা বলতে শুরু করেছিলেন।মুখে হাসি না নিয়ে মাথা অন্যদিকে ঘুরিয়ে হলেও কথা বলতেন।সেটা অবশ্য সুক্ষ্ম ছিল বটে।কিন্তু সাহিত্য আর কল্পনার বিয়ের দিন থেকেই যেন অন্য রূপ ধারণ করে সেই কথা বলার ভঙ্গিমা।মুখ ঘুরিয়ে কথা বলা এখন চোখে চোখ রেখে কথা বলায় পরিণত হয়েছে।মৃদু স্বরে কথা বলা এখন কটমটিয়ে কথা বলায় পরিণত হয়েছে।আর আগে যেখানে নিজেদের ছোটবেলার কথা উঠতো সেখানে নিজেদের বিবাহিত ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে কথা উঠে।

সাহিত্য তো প্রথম থেকেই সেসব কথা পুরোপুরি উপেক্ষা করে আসছে।তবে কল্পনা যেন তেমনটা করতে পারেনি।দুই শেখ আহমেদ গলা উঁচিয়ে নিলেই মেয়েটা নিজের রুমে শিটিয়ে বসে থাকে।হুটহাট করে কেঁদেও উঠে বোধহয়।এতো শক্ত মেয়েটা যেন ইদানীং অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।কিন্তু সেটা যেন কাউকেই বুঝতে দেয় না।সে বুঝতে না দিলে বাড়ির কারো ক্ষমতা নেই তাকে বুঝবার।শুধুমাত্র এক ব্যক্তি ছাড়া।যাকে কিছু মাস আগেই স্বামী রূপে পেয়েছে সে।

সাহিত্য যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যায় তার জানপাখিটার মুখে হাসি ফুটাতে।সেটা না পারলেও জ্বালাতন করেই কাজ সেড়ে নেয়।তবুও যেন ওই দুই শেখ আহমেদের ঝগড়ার বিষয়টা কল্পনার মাথা থেকে ঝাড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে।সেই বুদ্ধি অবশ্য বিফলে যায়নি।কল্পনা এখন বেশিরভাগ সময়ই ভয়ে থাকে সাহিত্যের আক্রমণের।চোখ-কান যেন সব কিছু খোলা রাখে মেয়েটা।কখন যে কোন দিক দিয়ে এসে কল্পনার উপর ঝাপিয়ে পড়ে!হামলা চালাবে সোজা কল্পনার নরম গাল দুটোতে।দু'দিন ধরে তো কল্পনার চোয়াল ব্যথা করতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।

বিয়ের আগে কল্পনার একটু-আধটু ধারণা হয়েছিল যে তার সাহিত্য ভাই তাকে পছন্দ করে।ভিকির বিয়েতেই তো সেটা নিশ্চিত হয়েছে।কিন্তু বিয়ের পর এমন পাগলের মতো আচরণ করবে সেটা কল্পনা স্বপ্নেও ভাবেনি।পুরো যেন বাচ্চা একটা!!এতো বড় একটা ছেলে বাচ্চাদের মতো আচরণ কেমন করে করতে পারে?কিছুদিন পর 'ছেলে' থেকে 'লোক' এর উপাধি পাবে সেই মহাশয়।কিন্তু সেদিকে মিস্টারের খেয়াল কোথায়?তিনি তো তার এই বাচ্চা বউটার কাছে বাচ্চামি করেই কুল পায় না।

আর সেই বাচ্চামো আরো বেড়েছে যখন থেকে সাহিত্য কাছে এলে কল্পনার চিৎকার দেওয়া বন্ধ হয়েছে।অসহায় বাচ্চার মতো মেয়েটা গাল এগিয়ে ধরবে সাহিত্যের দিকে।ওই চাপ দাড়ি যুক্ত আদলখানা কল্পনার নরম গালে ঘষে যে সাহিত্য কি মজা পায় সেটাই কল্পনা বুঝে না।হয়তো বুঝেও ভান ধরে থাকে না বুঝার।তাই তো সাহিত্যের সেই হালকা দাড়ির ছোঁয়ায় শরীরে শিহরণ বয়ে গেলেও ঘাপটি মেরে থাকে মেয়েটা।

তবে সাহিত্য চার-পাঁচ দিন থেকে কল্পনাকে একটু অতিরিক্ত জ্বালাতন করছে।দিনে পারলে ২০টার মতো চুমু দিবেই দিবে!এটা তো কল্পনা দিনের হিসেব করেছে শুধু।মাগরিবের পর থেকে তো আরেক দফা শুরু হয়।বজ্জাত লোকটা এখন অফিসেও কম যাবে।অফিসের সবকিছু নিয়ে রাজকে আসতে বলে শেখ ভিলায়।কল্পনা গতকালই সাহিত্যকে বলেছে,

"আপনি রাজ ভাইয়াকে যে এমন প্রতিদিন বাসায় ডাকেন,তার অসুবিধে হয় না বুঝি?"

ওদিকে সাহিত্য বিছানায় বসে কল্পনার পড়নের ওড়নার আগায় হাত চালাতে নিয়েই বলল,

"ওর তো আরো সুবিধা করে দেই আমি।অনুকে কেমন করে দেখে তুই দেখিস না?"

কল্পনা অবশ্য অনুর মুখে রাজের ব্যাপারে বেশ সুনাম শুনছে বেশ ক'দিন থেকেই।সেই হিসেবে কল্পনাও তেমন কিছু ধারণা করে রেখেছিল।রাজকে দুলাভাই হিসেবে পেলে কল্পনার মতে একদম মন্দ হবে না।ছেলেটা নেহাতই ভালো।অনুর সাথে তো ভালোই মানাবে।

কল্পনা চেয়ারে বসে স্টাডি টেবিলে হাত ঠেকিয়ে অনু আর রাজের ভাবনাতেই বিভোর ছিল।এমন সময় সাহিত্যের কন্ঠে সেই চির পরিচিত বাক্য,

"জান একটা চুমু দে না"

এই যে!এই একটা বাক্য সাহিত্য দিনে হাজার বার বলে থাকে কল্পনার কাছে।সাহিত্যের সে কথা শুনে কল্পনা সেদিনও তেতে উঠেছিল আর আজ হয়তো আবারো তাকে তেতে উঠতে হবে।

হঠাৎই যেন যেই ভাবনা সেই কাজ হয়ে বসলো।কল্পনা নিজের রুমের বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে বিকেলে বৃষ্টির পরের আবহাওয়া উপভোগ করছে।সাথে হাতে ছিল এক কাপ চা।যা ক্ষণিক আগেই শেষ হয়েছে অবশ্য।এমন এক শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার জন্য একমাত্র সাহিত্যেরই প্রয়োজন ছিল।

প্রতিবারের মতো এবারও বিনা বাধায় রুমের দরজা খুলে ঢোকে সে।সাথে বলেও উঠে,

"দুপুর থেকে একটা চুমুও পাইনি,চুমু দে"

সাহিত্য নজর ঘুরাতে নিয়েই বেলকুনির দিকে দেখলো।এদিকে কল্পনাও নজর দিয়েছে সাহিত্যের দিকে।কল্পনা পিছনে ঘুরতেই চোখাচোখি হয়েছে দুজনের।সাহিত্যের পড়নে কালো ট্রাউজার সাথে ধুসর টি-শার্ট।মাথার চুল দেখেই বুঝা যাচ্ছে এইমাত্রই গোসল সেড়ে উঠল।স্যার আজ অফিসে গিয়েছিলেন।হুট করে নাকি এক জরুরী মিটিং ছিল।দুপুর পেড়িয়ে এই মাত্র বিকেলে বাসায় ফিরেছে।সাহিত্যের দিকে দেখে থেকেই আনমনে যেন এক সুক্ষ্ম উষ্ণ শ্বাস বের হয়ে এলো কল্পনার ভিতর থেকে।

আজ যদি সাহিত্য আর কল্পনার বিয়েটা স্বাভাবিকভাবে হতো তাহলে বর্তমানের অবস্থা নিশ্চয়ই ভিন্ন হতো।যেমন,এই মুহুর্তে সাহিত্যকে দেখা মাত্রই ঠোঁটে বড় এক হাসি ঝুলতো কল্পনার।সাহিত্য সামনে পা বাড়ানোর আগেই কল্পনা এগিয়ে যেত তার দিকে।হাতের মগটা টেবিলে রেখে সেই হাত দুটো স্থান পেত সাহিত্যের টি-শার্টের কলারটায়।সেই কলারের দিকে নজর রেখে সেটা ঠিক করতে নিয়েই বলে উঠত কল্পনা,

"এতো দেরি করলেন কেন?সেই সকাল ১১টার দিকে গিয়েছেন।সারাদিন একটা কলও দেননি।আর আসছেন এখন বিকেলের দিকে?"

তখন হয়তো সাহিত্য তার প্রেয়সীর হাত দুটো আলত করে নিজ হাতে ধরে ঠেকিয়ে দিত সাহিত্যের চাপ দাড়ি যুক্ত দুই গালে।হয়তো কল্পনার ডান হাতের তালুতে আলত করে একটা চুমুও বসিয়ে দিত।আবারো প্রেয়সীর দুই হাতে নিজের দুই গাল আবদ্ধ করে কোমল কন্ঠে বলে উঠত,

"জরুরী মিটিং ছিল যে।ফোন হাতে নেওয়ার সময়ই পাইনি"

কল্পনা সেই কথা শুনার পর আর কোনো অভিযোগ করত না।নিজের কোমল চাহনি সামনের মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়ার দিকে রেখেই এক হাতের বৃদ্ধা আঙুল আলত করে ঘষতে লাগতো সাহিত্যের খড়খড়ে দাড়ি যুক্ত গালে।আর এদিকে নিশ্চুপ প্রেয়সীর কোমল চাহনির দিকে দেখে থেকেই হয়তো এক সুযোগ নিয়ে বসত সাহিত্য।হাত দুটো কল্পনার কমোড়ে ঠেকিয়ে নিজের অতি নিকটে টেনে নিত।হয়তো কপালেও অধর জোড়া ছুঁয়ে দিত।নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকা এই পবিত্র উষ্ণ বন্ধনকে ছুঁয়ে দিত বেলকুনির দরজা পার করে আসা মৃদু শীতল বাতাস।যা বর্তমানে ভাবনায় বিভোর থাকা কল্পনার পেছন পাশটা ছুঁয়ে দিতে ব্যস্ত।কারণ তারা তো আর কল্পনার ভাবনায় তৈরি কল্পনাকে ছুঁয়ে দিতে সক্ষম নয়।সেটা করতে হলে কল্পনাকে নিজের ভাবনা মস্তিষ্ক থেকে বের করে বাস্তবে পরিণত করতে হবে আগে।কিন্তু শুধুমাত্র সেই দিকটাতেই যেন বাধা দিয়ে দেয় কল্পনা।কারণ একটাই।যেটা সবার জানা আছে।কিন্তু দুই শেখ আহমেদ তো আর এই বদ্ধ ঘরে আসছে না,তাই না?তো কল্পনা এতো সংকোচ বোধ করছে কেন নিজের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে?সাহিত্যের কারণে?হয়তো বা।এই মুহুর্তে কল্পনা যদি সাহিত্যের সামনে একটুখানিও কিছু ইঙ্গিতমুলক আচরণ করে তাহলে সাহিত্য আর পিচপা হবে না।আর সেটা কল্পনাকেও হয়তো কাবু করে দিতে পারে।শেখ ভিলার পরিবেশ আর কত খারাপ করবে কল্পনা?নিজের কাধে যে আর দোষ নিতে পারছে না সে।তাই তো নিজের অনুভূতিদের দাবিয়ে রাখে মেয়েটা।

সাহিত্যের প্রেয়সী আজ কতদিন পর সাহিত্যের দিকে এমন এক ধ্যানে দেখে আছে জানা নেই সাহিত্যের।তার প্রেয়সীটা তো ইদানীং শুধু দূরে-দূরে ঠেলে দেয় তাকে।চোখে চোখ মিলাতে পর্যন্ত চায় না।কিন্তু আজ যেন ভিন্ন আচরণ করছে সাহিত্যের কল্পনা।শুভ্রা রঙা থ্রিপিসে বরাবরই অপরূপা লাগে মেয়েটাকে।সাথে বাধন হারা চুলগুলো যেন সাহিত্যের দুর্বল কেন্দ্র।এই মুহুর্তে যেগুলো এলোমেলো উড়তে ভারী ব্যস্ত যেন।

প্রেয়সীর মেদহীন গোলগাল আদুরে আদলের দিকে দেখে মৃদু ঠোঁট বাকালো সাহিত্য।অতঃপর জোর পায়ে এগিয়ে গিয়ে দাড়ালো কল্পনার সামনে।মাথার পিছনে এক হাত রেখে অধর ছোঁয়ালো কল্পনার কপালে।সেটাতেই যেন ভ্রোম কাটিয়ে বেড়িয়ে এলো কল্পনা।এলোমেলো নজর ফেলে মাথা হালকা নিচু করে নিল সে।সেটাতে বাধা দিল না সাহিত্য।তবে পর মুহুর্তেই কল্পনাকে জাপ্টে ধরল নিজের বুকে।অতঃপর বেশ অধিকার নিয়েই হাসি মুখে বলে উঠল,

"মাঝেমধ্যে ইচ্ছা তো করে তোকে কলিজায় ঢুকিয়ে রাখি"

মিনমিনি আওয়াজ শুনা গেল কল্পনার থেকে,

"সেটা আবার সম্ভব নাকি?অতটুকু জায়গায় আমি ঢুকবো কেমন করে?"

অধর প্রেয়সীর মাথায় ঠেকিয়ে দিয়ে নেশালো ভারী কন্ঠে বলে উঠল সাহিত্য,

"চিড়ে দেখ,ওখানে শুধু তোর নামটাই লিখা আছে"

হুড়মুড়িয়ে উঠল কল্পনা,

"ঠিকাছে তাহলে,আমি চাকুটা নিয়ে আসি"

কল্পনার হুড়মুড়িতে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল সাহিত্য।তবে কল্পনার কথাটা শুনে ভড়কালো বেশ।অতঃপর নিজেকে সংযত করে বলে উঠল সে,

"আমার বুকে চাকু চালানো ছাড়া আর তো কোনো কাজ পারবি না তুই!"

সেই কথায় সাহিত্যকে সরু চোখে দেখতে লাগলো কল্পনা।সাহিত্য নজর ঘুরিয়ে গলা খাকাড়ি দিল,

"হয়েছে এখন অমন করে দেখতে হবে না।তাড়াতাড়ি একটা চুমু দে।একটু রেস্ট নিয়ে আবার ভিকির সাথে মিটিংয়ে বসতে হবে"

"দিব না"

সুক্ষ্ম বাক্য মুখ দিয়ে বের করে সাহিত্যকে পাশ কেটে গেল কল্পনা।আবারো ভড়কালো সাহিত্য,

"কিহ্!দিবি না মানে?আমাদের ডিল হয়েছিল না?"

"সকালে অফিসে যাওয়ার আগে কতগুলো দিয়েছেন।এখন আর না।আজকের ডোজ শেষ।ভাগেন এখান থেকে।নাহলে মানুষজন দেখে কি বলবে,যে সংসার করছি না আবার স্বামীর ভাগের চুমু দিয়ে বেড়াচ্ছি?"

বেলকুনির দরজার কাছে দাঁড়িয়েই মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করল সাহিত্য।নজরে আসা কল্পনার পিঠের দিকে দেখে থেকেই বলল,

"কেউ কিছুই মনে করবে না"

"না।আজ আর না।একদম না"

দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠে হাতের মগ টেবিলে রাখলো কল্পনা।তবে শুধু মগটা টেবিলে রাখারই সময় পেয়েছে।অমনি সুক্ষ্ম সময়ের বিরতির পর সাহিত্যের কন্ঠে মৃদু এক গান কর্ণকুহর হলো তার,

❝ kiss me,

close your eyes,

and miss me,

close your eyes,

and kiss me....

হঠাৎ সাহিত্যের ভারী পুরুষালী কন্ঠে এতো সুন্দর করে ডেইরিমিল্কের সেই বিখ্যাত গানখানা শুনে পর মুহুর্তেই ভ্রু কুচকেছিল কল্পনার।তবে হালকা অবাক হলো তার পর মুহুর্তেই।সাহিত্যের সুন্দর করে তাল মিলিয়ে গানটা বলায় পেছন থেকে অসম্ভব সুন্দর শুনাচ্ছে সেই গাম্ভীর্যপূর্ণ গানের গলা।সাথে কন্ঠের অতি আকুতি মিশ্রিতভাবখানাও বুঝা সক্ষম।

কল্পনা সাহিত্যের গানের গলা শুনে অবাক হয়ে পিছনেই ঘুরেছিল।ঠিক তখনই সাহিত্য কল্পনার এক হাত আর কমোড় ধরে নিজ থেকেই কাপল ডান্সে মত্ব হয়ে গেল প্রেয়সীর সাথে।সাহিত্য কখন যে এসে পেছনে দাঁড়িয়েছে কল্পনা যেন বলতেই পারে না।তবে কল্পনা ভড়কালেও সাহিত্য নিজের গান গাওয়া চলতি রাখলো।প্রেয়সীকে নিয়ে হালকা হেলেদুলে গানের তাল অব্যাহত রাখলো সে,

.....I can read your lips,

on your fingertips,

I can feel your smile,

come on my lips,

and happiness in your eyes.❞

সাহিত্যের গান শেষ হতেই হেসে দিল কল্পনা।কি প্রাণউজ্জ্বল সেই হাসি!মেয়েটা ভারী মজা পেয়েছে হঠাৎ সাহিত্যের মুখে এই গান শুনে।সাহিত্য দেখে আছে তার হাসতে থাকা প্রেয়সীর দিকে।মৃদু নাচ তো এখনো বন্ধ করেনি।সময় নিয়ে আরো একবার আবদার করে বসলো সাহিত্য,

"জান একটা চুমু দে না"

কল্পনার হাসি একদম বন্ধ হয়ে গেল।সাহিত্যের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দূরে দাড়ালো সে,

"বললাম তো দিব না।কোনোকিছুর সীমা থাকে একটা।আপনি সেই সীমা সকালেই পার করেছেন"

"এতো সুন্দর করে একটা গান শুনালাম তারপরেও দিবি না?"

তেতে উঠল কল্পনা,

"সব সময় চুমু চুমু করে!দিব না চুমু!কে বলবে যে আমি আপনাকে আমার কাছে আসতে নিষেধ করেছিলাম?"

"চুমু খাওয়া মানে সব কিছু করা নাকি?আরো কত কি আছে।একটা চুমু চাইতেই এমন করছিস তুই?"

শেষের কথাটা বলতে নিয়ে সাহিত্য ঠোঁট উল্টালো।সেটা দেখেই আবার ঝাজিয়ে উঠল কল্পনা,

"আপনি ২৯ বছরের একটা লোক হয়ে এমন বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টাচ্ছেন কেন?আপনি চুমু না,আমাকেই পুরাটা খেয়ে ফেলুন!!"

হঠাৎ সাহিত্যের চেহারায় দুষ্টু হাসি দেখা দিল।সেই হাসিখানা বজায় রেখেই ট্রাউজারের পকেটে দুই হাত গুজে দিল সে।হেলেদুলে কল্পনার দিকে এগুতে নিয়েই বলল,

"আমার ওটা হলেও চলবে"

অমনি কেপে উঠল কল্পনা।দুই হাত নিজের বুকের উপর আড়পার করে সাহিত্যের দিকে বিস্ময় ভরা নজর রেখে চেচিয়ে উঠল সে,

"আস্তাগফিরুল্লাহ!!একদম কাছে আসবেন না!দূরে সড়ুন বলছি"

সাহিত্যের কোনো নিশ্চয়তা নেই।সেটা তার সামনে আগানোর ভঙ্গি দেখে কল্পনা ভালোভাবেই বুঝলো।সেটা বুঝতে পেরেই দরজার দিকে এগুলো সে।সাহিত্য কিছু বুঝার আগেই কল্পনা দরজা খুলে হুড়মুড়িয়ে বেড়িয়ে পড়ল।

কল্পনার হঠাৎ এমন কান্ড দেখে থতমত খেল সাহিত্য।কি হলো কিছুই বুঝলো না যেন।মাথায় সব ঠিক জায়গায় বসতেই ভারী শ্বাস ফেলল সে।অতঃপর পকেটে হাত গুজে রাখা অবস্থাতেই ঘাড় পেছনে হেলিয়ে চাপা গোঙানি দিল।তার বউটা যেন কিছুতেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।সমকালীক উপন্যাসগুলো পড়ে না নাকি মেয়েটা?পড়লে হয়তো বুঝতো,যে স্বামীর সামনে কেমন ন্যাকা করতে হয়।

#চলবে

রেসপন্স না করলে কিন্তু গল্প আসবে না🙂

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন