#পর্ব_৯০
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত শিকদার বাড়ি।বাড়িটা দোতলা হলেও আধুনিকতায় পরিপুর্ণ যেন।এই শহরের মাঝে এমন দুতলা বাড়ি বেশ কিছু আছে।তবে শিকদার বাড়ির আশপাশটা যেন অনেকটাই নিড়িবিলি।এমন শান্ত নিড়ইবিলি পরিবেশ হওয়ার কারণেই যেন কল্পনা জানালা গলিয়ে আসা বাতাস উপভোগ করতে পারছে।
কল্পনারা শিকদার বাড়ি এসেছে আজ দুদিন হচ্ছে।যেদিন রাতে শিকদার বাড়ি পৌছায় তাদের পরপরই অন্ত শিকদার বাড়িতে আসে।ফাহাদ শেখকে এতো করে বুঝিয়ে বলে কিন্তু ফাহাদ শেখ কোনো কথাই শুনলেন না।অন্তর মুখ থেকে বলা কল্পনার কানে এও কথা আসে যে,কল্পনারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছু মুহুর্ত পর সাহিত্য চিল্লাপাল্লা শুরু করে দেয়।নিজের রুমে গিয়ে নাকি জিনিসপত্রও ভাঙচুর করে।সাহিত্য নিজের অনেক পেইন্টিং ক্যানভাসও নাকি ভেঙে ফেলে।সেটা শুনেও কল্পনা এক কোনে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিল।কিন্তু ফাহাদ শেখ অন্তকে ফেরত পাঠিয়ে দেন।হেনা শেখ আর সুবাকে বলেন যেন সাহিত্যের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখা না হয়।আর কল্পনার কাছ থেকে তো ফোনটাই নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কল্পনা আনমনে এসবই চিন্তা করছে আর জানালার বাইরে দেখছে।কল্পনা তো মনে করেছিল এতো দিনে ফাহাদ শেখ শান্ত হয়ে গিয়েছেন।সাহিত্যকে হয়তো মেনে নিবেন তিনি।কিন্তু ফাহাদ শেখ যেন একদমই বদলাননি।আর ফাহাদ শেখের কথা কল্পনা কখনোই অমান্য করতে পারবে না।নিজের মনের কথা কল্পনা কখনোই শুনবে না।কিন্তু হৃদয়টা যে প্রচন্ড রকম ব্যাথা করছে কল্পনার।সাহিত্যের চোখের পানিগুলো কল্পনার মনে যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।সেকথা চিন্তা করতে নিয়েই কল্পনার চোখ থেকে পানি কণা গড়াতে লাগলো।জানালার দিকে মুখ করে থাকায় হয়তো মাহির সেটা দেখতে পায়নি।
মাহির কল্পনার রুমের বাইরেই দাঁড়িয়ে আছে।দরজা খোলা থাকলেও ভিতরে ঢুকার সাহস পাচ্ছে না ছেলেটা।নজরে আসছে কল্পনার বাধন হারা এলোমেলো কেশে আবৃত পিঠখানা।কল্পনা অনেকক্ষণ থেকেই জানালার দিকে দেখে আছে।আর মাহিরও সেই কতক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছে রুমের বাইরে।কল্পনার দিকে নজর রেখে এবার একটু ঠোঁট বাকালো মাহির।দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে স্মরণে নিয়ে এলো অতীতের কিছু স্মৃতি।
কল্পনা তখন হবে হয়তো সপ্তম কি অষ্টম শ্রেণিতে।মেয়েটা গরমের ছুটিতে নানাবাড়ি ঘুরতে এসেছিল।কাঁচা আম খাওয়ার লোভে গাছে তো উঠেছিল ঠিকই।কিন্তু নামা আর তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।একপ্রকার চেচামেচি শুরু করেছিল সে।সে সময় কল্পনার বড় মামি তার ছেলে মাহিরকে ডাক দেন।কিন্তু মাহির তো নিজেই গাছে উঠতে জানে না।তাই উপায় না পেয়ে কল্পনাকেই ঝাপ দিতে বলে।মাহির তাকে পড়ে যাওয়ার আগেই ধরে ফেলবে সেটা এতোবার বলার পরেও কল্পনা যেন কিছুতেই নামবে না।তাই মাহির বুদ্ধি করে কল্পনার এক পা ধরে দেয় টান।সেটাতে কল্পনা হুড়মুড়িয়ে এসে মাহিরের উপর পড়ে।মাহিরও আর টাল সামলাতে পারেনি।কল্পনাকে কোলে করে নিয়েই মাটিয়ে শুয়ে পড়ে সে।কল্পনাকে জড়িয়ে ধরায় মাথায় আর কমোড়ে লাগেনি।কিন্তু কল্পনার ডান পাটা মচকে যায়।কল্পনার সেই মচকা পা পরের দিনই ঠিক হয়েছিল।কিন্তু মাহিরের মনে যেন দাগ বসে গিয়েছিল এক।আর মাহির সেটা বুঝতে পারে কল্পনার গরমের ছুটি শেষে শিকদার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর।শান্ত-ভদ্র ছেলেটা যেন হঠাৎই হাসফাস করতে শুরু করে।বুকের মাঝটা যেন খালি-খালি লাগতে শুরু করে তার।মনের সেই আনচান ঠিক হয়েছে একদম ধানমন্ডি গিয়েই।রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে স্কুল ফিরতে থাকা কল্পনার হাসিমাখা মুখটা দেখেই যেন বুকের ধরফরানি শান্ত হয় মাহিরের।সেই অনুভূতি বুঝতে একটুও দেরি হয়নি তার।আর তখন থেকেই তো উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় আছে মাহির।পরিবার থেকেই বিয়েটা হবে সেটাই ইচ্ছা ছিল।কল্পনাকে সরাসরি বলার সাহস কখনোই কুলিয়ে উঠেনি তার।আর অবশেষে যখন পরিবার থেকে সবকিছু ঠিক হয়ে আসে ঠিক সেই সময়ই সাহিত্য কল্পনাকে বিয়ে করে নেয়।কিন্তু ফাহাদ শেখ যখন জানান যে সাহিত্য কল্পনাকে জোর করে বিয়ে করেছে,আর কল্পনার কোনো মত নেই সেই বিয়েতে তখনই যেন স্বস্থির শ্বাস ফেলতে পারে মাহির।কলিজাটা একটু ঠান্ডা হয়ে আসে তার।
হঠাৎই নিচে মেইন গেটে কলিংবেলের শব্দ শুনে ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসে মাহির।কোনো দ্বিধা ছাড়া নিজেই এগিয়ে যায় মেইন গেট খুলার উদ্দেশ্যে।গেট খুলেই এক লোককে দেখে সে।মাহির দরজা খুলতেই বলে উঠল লোকটা,
"এখানে কল্পনা নামের কেউ আছে?তার জন্য চিঠি এসেছে"
রান্নাঘর থেকে মাহিরের মা ভাবনা শিকদার বলে উঠলেন,
"কে এসেছে মাহির?"
মাহির চিঠি হাতে নিয়ে লোকটাকে বিদায় করল,
"কল্পনাকে চিঠি পাঠিয়েছে ...অহি নামের কেউ"
'অহি' নামটা শুনা মাত্রই রান্নাঘরে উপস্থিত সুবা যেন চমকে উঠল।কারণ তার ভালো করেই জানা আছে কে সেই ব্যক্তি।আর কেনই বা জানা থাকবে না?কারো একজনের পেইন্টিংয়ের সিংনেচারের নাম যে 'অহি',সেটা এতো বছর পার হওয়ার পরেও যেন সুবার ভালোভাবেই স্মরণে আছে।
মাহির দোতলায় কল্পনার রুমের দিকে এগুলো।এই চিঠি দেওয়ার সুযোগে নাহয় কল্পনার সাথে একটু কথা বলে নিবে।মাহির দরজায় নক করতেই কল্পনা চমকে উঠে।চোখের পানি মুছে পেছনে ঘুরলো সে।তখনই মাহির বলে উঠল,
"তোকে কেউ চিঠি পাঠিয়েছে"
কল্পনা ভ্রু কুচকালো,
"আমাকে?"
মাহির হাতের চিঠিতে নজর দিল,
"হ্যাঁ।অহি নামের কেউ একজন।...অহিটা কে?"
নামটা শুনা মাত্রই কল্পনা পিছনে পিছালো এক ধাপ।বিস্ময় ভরা চোখে মাহিরের হাতে থাকা কাগজটার দিকে দেখতে লাগলো সে।মাহির উলোটপালোট করে চিঠিটা দেখছে।এমন সময় একদম দৌড়ে এসেই কল্পনা তার হাত থেকে চিঠিটা নিয়ে নিল।সেটাতে ভড়কালো মাহির।কল্পনা পর মুহুর্তেই বলে উঠল,
"আমার ভার্সিটির ফ্রেন্ড"
মাহির সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
"ফোন বাদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে কেন?"
কল্পনা ইতোমধ্যেই পিছনে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছে,
"আমার কাছে আবার ফোন আছে?"
"ওহ্,সেটাও অবশ্য ঠিক"
"আর কিছু বলতেন?"
ভড়কালো মাহির।আমতা-আমতা করে বলতে লাগলো,
"না..মানে"
"কোনো কথা না থাকলে আমাকে একটু একা ছেড়ে দিন প্লিজ।খারাপ লাগছে আমার"
মাহির আর কিছু বলার সুযোগই পেল না।কল্পনা তার আগেই দরজা লাগিয়ে দিল।মাহির যেন হতবম্ব হলো একটু।তবে চিন্তা করে বসলো,যে মেয়েটাকে একটু একা থাকতে দেওয়া উচিৎ।শিকদার বাড়িতে যেদিন এসেছে সেদিন অনেক কেঁদেছে।কারণটা কাউকে বলেনি।তাহলে কল্পনা কি সাহিত্যকে....?মাহির আর ভাবলো বা।না,সেটা কেমন করে হবে?সাহিত্য কল্পনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কল্পনাকে বিয়ে করে।মাহির ভারী এক শ্বাস ফেলল।অতঃপর কল্পনার রুমের দরজার দিকে আরো একবার দেখে চলে গেল সে।
কল্পনা রুমের দরজা লাগিয়ে সেখানেই মেঝেতে বসে পড়ে।ঘোলা চোখে হাতের চিঠির দিকে দেখে আছে।সাহিত্য কল্পনাকে চিঠি পাঠিয়েছে?সাহিত্য তার জানপাখিকে অবশেষে চিঠি পাঠিয়েছে।চিঠিতে মুখ গুজে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলতে লাগলো কল্পনা।এই দিনটার জন্য কল্পনা কত না অপেক্ষা করেছে।কিন্তু এমন খারাপ সময়ই এই ভালো দিনটা তার ভাগ্যে জুটছে?
আর দেরি করল না কল্পনা।চোখের পানি হাতে মুছে সযত্নে খামটা খুলে চিঠিটা বের করল।
📜....................................................
প্রিয় জানপাখি,
দেখেছিস?তোর সাহিত্য ভাই আজ তোকে চিঠি লিখছে।কখনো ভেবেও দেখিনি এভাবে তোকে চিঠি লিখবো।তুই চলে না গেলে হয়তো এমন করে চিঠিটা লিখা হতো না।তুই সেদিন কেন আমাকে একা রেখে চলে গেলি?আমার কষ্ট হয়নি বুঝি?আমাকে ছেড়ে এমন করে চলে যেতে পারলি তুই?কি দোষ ছিল আমার।শুধু তোকে ভালোই তো বেসেছি।আর চাচুর সেটাই সহ্য হচ্ছে না?প্লিজ পাখি,চাচুকে বলে চলে আয় না আমার কাছে।দু'দিন থেকে তোকে না দেখে কলিজাটা শুকিয়ে গিয়েছে আমার।যেখানে পেইন্টিং আমার একমাত্র শান্তির স্থান ছিল সেখানেও তুই জায়গা দখল করেছিস।আমার রংতুলিগুলোর মনে হয় বড্ড হিংসে হচ্ছে তোর উপর।এই সাহিত্য যে তার কল্পনাতেই থাকতে চায় তুই সেটা কেন বুঝছিস না?প্লিজ,চলে আয় না পাখি।তুই কাছে থাকলে একটু আরাম পেতাম।চলে আয় না জানপাখি।
লেখনীতে,
কল্পনার সাহিত্য
............................................................📜
ছোট্ট চিঠিটা পড়ে কল্পনা হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।কাঁদতে নিয়েই মেঝেতে মাথা ঠেকিয়ে দিল একদম।বিড়বিড় করে আওড়াতে লাগলো সে,
"এখানে আপনার কোনো দোষ নেই।আমিই আপনাকে ভালোবেসে ভুল করেছি।সরি সাহিত্য ভাই।সম্ভব হলে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
হাতে থাকা গেঞ্জি-ট্রাউজার হালকা ঝাড়তে নিয়েই সুবা কল্পনার রুমে ঢুকলো।৫দিন পার হতে চলল শিকদার বাড়িতে আসার।কিন্তু কল্পনা রুম থেকে তেমন বেরই হয় না।মাঝেমধ্যে তো সুবাকেই খাবার রুমে নিয়ে আসতে হয়।
সুবা রুমে এসে আগের মতো এবারও দেখলো কল্পনা জানালার কাছে বসে রয়েছে।সেদিক থেকে নজর ঘুরিয়ে কাববোর্ডের দিকে এগুলো সুবা।হাতের গেঞ্জি-ট্রাউজার সেখানে রাখতে নিয়েই বলল,
"এক সেট গেঞ্জি-ট্রাউজার এখানে রেখে দিচ্ছি কিন্তু"
কল্পনার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
সুবা সময় নিয়ে আবারো বলে উঠল,
"কিজন্য রাখছি জিজ্ঞেস করবি না?"
কল্পনার আবারো কথা না বলায় সুবা আড় চোখে দেখলো তাকে।এগিয়ে গেল বিছানার দিকে।শান্ত স্বরেই বলে উঠল,
"সেদিন চিঠিটা সাহিত্য দিয়েছিল,তাই না?"
এবার কল্পনা ফট করেই সুবার দিকে মাথা ঘুরালো।সাথে বলেও উঠল সে,
"তুমি কেমন করে জানলে?"
মৃদু ঠোঁট বাকিয়ে সুবা কল্পনার পাশে বসলো,
"তুই জানিস,সাহিত্য কেন তার পেইন্টিংয়ের সিংনাচারে অহি নাম ব্যবহার করে?"
না সুচকে মৃদু মাথা নাড়ালো কল্পনা।সুবা কল্পনার চুল ঠিক করতে নিয়েই বলল,
"কারণ তুই ছোটতে সাহিত্যকে সেই নামে ডাকতি,তাই।ছোটতে তুই সাহিত্য নামটা ডাকতে পারতি না।তাই 'অহি বাইয়া' বলে সাহিত্যকে ডাকতি।আমার চোখ যখন সাহিত্যের পেইন্টিংয়ের ক্যানভাসে যায় তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেই নাম সিংনাচার হিসেবে রাখার কারণ কি।তখন সাহিত্য বলেছিল যে,এই নামটা কল্পনা অনেক সুন্দর করে বলে।আমি চাই তার কোনো একটা স্মৃতি যেন সবসময় আমার সাথে থাকুক।তাই এই নামটা নিজের জীবনে পার্মানেন্ট করছি"
কল্পনা ছলছল নয়নে সুবার দিকে দেখে আছে।সুবা কল্পনার গালে হাত বুলিয়ে কোমল কন্ঠে বলল,
"তুই কি সাহিত্যকে ভালোবাসিস কল্পনা?"
কল্পনা নজর নিচু করায় টুপটাপ পানি কণা গড়িয়ে পড়ল চোখ থেকে।হালকা ঠোঁট বাকিয়ে বলতে লাগলো সে,
"তার স্মৃতিগুলো আপন করে নিতে-নিতে কখন যে তাকেই আপন করে নিয়েছি বলতেই পারিনা।কত বছর থেকে তাকে দেখিনি, ছুইনি, তার কন্ঠ শুনিনি।অথচ প্রত্যেকটা চিঠি লিখার সময় মনে হতো তার প্রতিটা নিঃশাস আমি অনুভব করি।ভালোবাসাটা কি অদ্ভুত,তাই না?কখন হয়ে যায়,কেমন করে হয়ে যায় বুঝাই যায় না। অথচ নিজের অজান্তেই তাকে পাওয়ার এক অদম্য আশা থাকে"
কল্পনার এতো গভীর কথায় অবাক হলো সুবা।মেয়েটা বুঝে গেল তার ছোট বোনটার মনে কি আছে।কিন্তু একটা কথা না বুঝতে পেরেই যেন ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল সে,
"তুই...সাহিত্যকে চিঠি পাঠাতি?"
কল্পনা হ্যাঁ সুচকে মাথা দোলায়।অতঃপর সাহিত্যকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সে কি-কি করেছিল সব বলতে লাগলো সুবাকে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সাহিত্য বেশ ক'দিন থেকে অফিসে যাচ্ছে ঠিকই।কিন্তু কাজে যেন তার একটুও মন বসছে না।শুধু যাওয়া-আসাই হচ্ছে তার।কল্পনাকে ছাড়া শেখ ভিলাটা এখন ফাঁকা লাগে বড্ড।থাকতে ইচ্ছে করেনা।দম বন্ধ হয়ে আসে।তাই তো প্রায় সময় অফিসে পড়ে থাকে।প্রথম কয়দিন খিটখিটে মেজাজ থাকলেও ইদানীং বেশ চুপচাপ থাকে সাহিত্য।প্রেয়সীর অভাবে ৭দিনেই যেন বেহাল দশা হয়েছে ছেলেটার।
রুমে ঢুকে ধপ করেই বিছানায় বসে পড়ে সাহিত্য।এমন সময় দরজায় নক করার শব্দ হয়।সামিয়া দরজা ঠেলে ঢুকে আমতা-আমতা করছে যেন।সাহিত্য ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলে সামিয়া একটা বড় খাম তার দিকে বাড়িয়ে দেয়,
"কল্পনা আপুর নানাবাড়ির এড্রেস থেকে এসেছে"
অবশেষে ৭দিন পর যেন সাহিত্যের মুখে হাসি ফুটলো।তাড়াতাড়ি সামিয়ার হাত থেকে খামটা নিয়ে খুলল সে।কিন্তু প্রেমপত্রের জায়গায় অন্য কিছুই পেল ছেলেটা।
ডিভোর্স পেপার।যেটাতে কল্পনার সই করা।সাহিত্য যেন হঠাৎই হাসফাস করতে লাগলো।এটা কল্পনার সই হতে পারে না।কল্পনা কখনোই সাহিত্যকে ডিভোর্স দিবে না!
সাহিত্য আর এক মুহুর্তও দাড়ালো না।ঘামার্থ শরীর নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে এলো সে।অন্ত করিডোরেই ছিল।সাহিত্যকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ না পেয়ে সামিয়াকে জিজ্ঞেস করল সে।যখন শুনলো যে কল্পনা ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছে তখনই অন্ত বুঝে গেল কই যাচ্ছে সাহিত্য।সেও সাহিত্যের পেছনে ছুটলো।সাহিত্যকে এখন কিছুতেই একা গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সময় এখন রাত ১১টা।শিকদার বাড়ির সবাই কেবলই রাতের খাবার খেয়ে উঠলেন।সবাই ডাইনিং আর ড্রইং রুমেই উপস্থিত।কল্পনা ডাইনিংয়ের এক কোনার চেয়ারে পা তুলে বসে রয়েছে।হাটুর উপর থুতনি ঠেকিয়ে কোনো এক কোণায় নজর দিয়ে রেখেছে মেয়েটা।চেহারাটা প্রতিবারের মতোই যেন নিষ্প্রাণ।আজ সকালে ফাহাদ শেখের সাথে কিছু আলাপ হয় কল্পনার।বলতে গেলে ফাহাদ শেখ কল্পনার মগজ পরিষ্কার করেছেন আরকি।
কল্পনাকে অনেক বুঝিয়ে বলেন তিনি,
"তোমার দাদির শেষ ইচ্ছাটা আমি পুরন করব।কিন্তু সাহিত্য আর তোমার বিয়েটা বাধা ফেলছে এখানে।তুমি যদি সাহিত্যকে ডিভোর্স দাও তাহলে আমি তোমার বড় বাবার সাথে কথা বলতে পারি"
কল্পনা যেন কিছুক্ষণ হতবম্ব হয়ে থাকে।তার কানে যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না ফাহাদ শেখের কথা।মেয়েটা মনে মনে বেশ খুশি হয়েছিল।এটা ভেবেই যে,তার বড় বাবা আর বাবা অবশেষে হয়তো কথা বলবে একে-অপরের সাথে।তার দাদির শেষ ইচ্ছাটা হয়তো পুরোন হবে অবশেষে।কিন্তু সেটার জন্য কল্পনাকে কিছু একটা কোরবানি দিতে হবে।আর সেটা নিজের খুশিটাই যেন।সেটা তো কল্পনা প্রথম থেকেই করে আসছে।সেটা করতে-করতে যেন অনুভূতিহীন হয়ে গিয়েছে সে একদম।তাই তো ফাহাদ শেখের কথায় রাজি হয়ে যায় সে।কাপা হাতেই ডিভোর্স পেপারটায় সই করে দেয়।সেটা করার পর থেকেই তো সুবার কড়া করা শুনছে কল্পনা।হেনা শেখ মেয়ের এমন অবস্থা দেখে শুধু চোখের জলই ফেলে চলেছেন।কিন্তু সুবা চুপ থাকেনি।বিকেল অব্দি বকেছে তাকে।কিন্তু কল্পনার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে সুবা হাপিয়ে উঠে চুপ হয়ে যায় একদম।
রাত ১১টার দিকে শিকদার বাড়ির দরজায় জোরে জোরে কড়াঘাত করছে কেউ।উপস্থিত সবাই যেন চমকে উঠল একদম।কল্পনার ছোট মামি নাদিয়া শিকদার এগুলেন দরজা খুলার উদ্দেশ্যে।দরজা খুলেই যেন অবাক হলেন তিনি।সাহিত্য সামনে দাড়িয়ে আছে।তিনি কিছু বলতে যাবেন তার আগেই সাহিত্য বাড়ির অন্দরমহলে ঢুকলো।অন্ত তার সাথেই আছে।
সাহিত্য ভিতরে ঢুকেই ভারী গমগমে কন্ঠে বলে উঠল,
"কল্পনা কোথায়?"
মাহির হালকা এগিয়ে এলো যেন,
"এটা কেমন অভদ্রতা?রাত বিরাতে কারো বাড়িতে এসে এমন করছো কেন?"
সাহিত্য মাহিরের দিকে এক নজর দেখে হুংকার দিয়ে উঠল,
"আমি জিজ্ঞেস করেছি কল্পনা কোথায়!"
এবার কল্পনার কানে সাহিত্যের কথা ঢুকেছে।চেয়ারে বসে থেকেই মাথা ঘুরালো সে।দীর্ঘ ৭দিন পর দেখা মিলল এই চেহারাটা।কাপা হাত-পা নিয়েই চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো।
সবাই এখন ড্রইং রুমে জড়ো হয়েছে।হঠাৎ সাহিত্যের এমন আগমনের যেন কিছুই বুঝছে না তারা।ফাহাদ শেখ কটমটিয়ে সাহিত্যের দিকে দেখে থাকলেও কিছু বলছেন না।কারণ তিনি ভালো করেই জানেন সাহিত্য এখানে কেন এসেছে।
কল্পনা সামনে এগিয়ে এলো।সাহিত্যের কড়া নজরে ক্লান্ত চাহনি ফেলল সে।সাহিত্যের নজর যেন ক্ষণিকের জন্য হালকা কোমল হয়ে এলো তার জানপাখিকে দেখে।কিন্তু পর মুহুর্তেই শক্ত হলো সেই নজর।গম্ভীর কন্ঠে কল্পনার উদ্দেশ্যে বলে উঠল সে,
"তোর সাথে কথা আছে।রুমে চল"
পাশ থেকে মাহির কড়া কন্ঠে বলে উঠল,
"কি সমস্যা তোমার!কল্পনা কি তোমার চাকর,যে তোমার কথা শুনবে?..."
"আমি আমার বউয়ের সাথে কথা বলছি!হাসবেন্ড-ওয়াফির মাঝে ঢুকিও না!!"
মাহিরের কথাটার একদম পর মুহুর্তেই সাহিত্য গর্জে উঠল তার দিকে দেখে।অতঃপর আবার কল্পনার দিকে ঘুরলো।চাপা কন্ঠে বলল সে,
"কোনো সিনক্রিয়েট না চাইলে রুমে চলল বলছি"
কল্পনার চোখের চাহনি নিচু হয়ে সাহিত্যের হাতের মুঠে গেল।ডিভোর্স পেপারটা সাহিত্য পিষছে যেন সেই মুঠটাতে।কল্পনা এবার বুঝলো সাহিত্য কেন এখানে এসেছে।নিশ্চয়ই এখন রুমে ঢুকে কল্পনাকে কিছু কড়া কথা শুনাবে সাহিত্য।কিন্তু তখন কল্পনাও সাহিত্যকে বুঝাতে চাইবে,যে কেন সে ডিভোর্স পেপারটায় সই করেছে।দেখা যাক,সাহিত্যকে বুঝাতে পারে কিনা সে।
কল্পনা পিছন ফিরে নিজের রুমের দিকে এগুলো।অমনি মাহির পেছন থেকে বলল,
"কল্পনা তুই ওর সাথে কথা বলবি?এতোকিছু হওয়ার পরেও?"
কল্পনা হালকা ঘাড় ঘুরিয়ে মৃদু কন্ঠে বলে উঠল,
"শেষবারের মতো বুঝিয়ে দেই তাকে"
সাহিত্যের হৃদয় কেপে উঠল যেন সেকথা শুনে।ফাহাদ শেখ কল্পনাকে কি এমন বুঝিয়েছে যে কল্পনা এতো নির্দয় আচরণ করছে সাহিত্যের সাথে?
কল্পনা সামনে এগুতেই সাহিত্য তার পিছু নিল।ফাহাদ শেখ থামাতে গেলেন তাকে।কিন্তু অন্ত ফাহাদ শেখকে থামিয়ে দেয়,
"মেঝো বাবা!দাঁড়াও"
ফাহাদ শেখ অন্তর দিকে নজর দেন।সেটাতে অন্ত আবার বলে উঠে,
"হঠাৎ এমন ডিভোর্স পেপারটা পাঠিয়ে ঠিক করোনি।সাহিত্য ভাইয়ার অবস্থা খুবই খারাপ।কল্পনার সাথে সে কি কথা বলতে যাচ্ছে বলতে দাও।কাল সকালে উঠে সবকিছু ঠান্ডা মাথায় কথা হবে।এখন তোমরা কথা তুললেই ভাইয়া মাথা গরম করা কথা বলবে।তাই ভালো হয় কাল সকালে কথা হোক"
অন্তর বলা বিষয়টা যেন সবাই বুঝলো।ফাহাদ শেখের এমন হুট করে ডিভোর্স পেপার এনে জোর করে কল্পনার সই নেওয়াতে কায়েস শিকদারও একটু নারাজ হন।যেটাই হোক,আদরের নাতনি।মেয়েটা ভালো কিছুই সহ্য করছে কয়েকদিন থেকে।কায়েস শিকদার বলে উঠলেন এবার,
"ও ঠিক বলেছে ফাহাদ।কাল ঠান্ডা মাথায় সব কথা বলা যাবে।এখন তাদের দুজনের মাঝে কথা না বলাই ঠিক হবে।কয়দিনেরই হোক,কিন্তু একটা বিয়ের বন্ধন ভাঙছে।তাদের নিজেদের মাঝেও একটু কথা বলা উচিৎ।কল্পনা তো এই বিয়েতে রাজি নেই।এমনিতেই না করে দিবে সে।তাহলে এতো চিন্তা কেন করছো?"
শশুরের গমগমে কথায় চুপসে গেলেন ফাহাদ শেখ।আর কিছু না বলেই নিজের রুমের দিকে গেলেন তিনি।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সাহিত্য রুমে ঢুকার সাথে-সাথেই দরজাটা ধাম করে লাগিয়ে দিল।কল্পনা ধীর পায়ে এসে বিছানার পাশে দাঁড়িয়েছে।সাহিত্য এসে তার সামনে দাড়ালো।চোখ বন্ধ করে ভারী এক শ্বাস ফেলল সে।মাথা তুলে নজর দিল কল্পনার দিকে।মেয়েটা কতটা শুকিয়ে গিয়েছে।চেহারায় কোনো উজ্জ্বলতা নেই।ক্লান্ত চাহনি নিচে করে রেখেছে সে।সাহিত্য শান্তভাবে ভাঙা কন্ঠেই বলে উঠল,
"আমার চিঠির উত্তর দিসনি কেন?পাঁচদিন ধরে অপেক্ষা করছি তোর উত্তরের জন্য।আর শেষমেষ পাঠাচ্ছিস ডিভোর্স পেপার?"
কল্পনা পর মুহুর্তে কিছু বলল না।সময় নিয়ে নিচু করে রাখা চোখ থেকে পানি ফেলতে নিয়েই ভাঙা কন্ঠে বলল,
"আমি টানা তিন মাস ধরে.....১৫টা চিঠি পাঠিয়েছিলাম।...উত্তর দিয়েছিলেন আপনি?"
কল্পনা হয়তো সাহিত্যকে বুঝাতে চাইছে,যে সেই সময়টা কতটা কষ্টের কেটেছিল কল্পনার।আর আজ সাহিত্য যেন সেটা বুঝেও গেল।চোখ জোড়া খিচে নিল সে।অতঃপর বলে উঠল,
"ওই রাগ এখন ঝাড়ছিস?"
কল্পনা কোনো উত্তর করল না।মাথাটাও ঝাকালো না সে।সাহিত্য আবার বলে উঠল,
"ডিভোর্স পেপারে সাইন কেন করেছিস?"
সাহিত্যের কথার পর মুহুর্তেই কল্পনা মাথা তুলে সাহিত্যের দিকে দেখলো।হালকা হেসে ভাঙা কন্ঠ নিয়েই কাঁদো গলায় বলল সে,
"বাবা নাকি বড় বাবার সাথে কথা বলবে"
সাহিত্য চমকালো কল্পনার কথায়।বাধ্য হলো এক ধাপ পিছাতে।মেয়েটার কি পরিমাণে ব্রেনওয়াশ করেছেন ফাহাদ শেখ।সাহিত্য ভালো করেই জানে ফাহাদ শেখ কখনোই তোফায়েল শেখের সাথে কথা বলবেন না।শুধু এই বিয়ে ভাঙার জন্য ফন্দি বানিয়েছেন তিনি।আর সেটার শিকার হচ্ছে কল্পনা।
গর্জে উঠল সাহিত্য,
"তুই কি পাগল হয়েছিস?আমাদের ডিভোর্স হওয়ার পর তোর বাপ আমার বাপের সাথে কখনোই কথা বলবে না!"
কথা শেষেই হাতের ডিভোর্স পেপারটা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলল সাহিত্য,
"আমি তোকে ডিভোর্স দিচ্ছি না!মাথায় সেট করে নে সেটা"
কল্পনা যেন অবাক হলো সাহিত্যের কান্ড দেখে।ঝড়ঝড় করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো তার চোখ থেকে,
"কেন এমন করছেন আপনি?বাড়ির পরিবেশ ঠিক দেখতে চান না?আমার আর এমন ভালো লাগছে না"
"বাড়ির পরিবেশ কখনোই ঠিক হবে না!তুই কেন নিজেকে কোরবানি দিচ্ছিস এদের চাপে?"
সাহিত্য এসে কল্পনার আদলখানা দুই হাত দিয়ে আগলে ধরে।ছলছল নজর ফেলল কল্পনার কান্না করতে থাকা নজরে,
"আর কত নিজেকে কষ্ট দিবি জানপাখি।এবার তো একটু নিজের দিকে দেখ।এই ৭দিনে কি একবারও আমার কথা মনে পড়েনি তোর?আমাকে একটুও মিস করিসনি তুই?"
উপর-নিচ মাথা ঝাকালো কল্পনা।চোখের পানি ফেলতে নিয়েই বলল,
"করেছি তো।প্রত্যেকদিন,প্রত্যেক মুহুর্ত আপনার কথা মনে করেছি।কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছিল আমার"
এবার সাহিত্যও চোখের পানি ফেলতে শুরু করল যেন।কাঁদতে নিয়েই কল্পনার কপালে কপাল ঠেকালো।চোখ বন্ধ করে বলল সে,
"আমাকে ছাড়া থাকতে কষ্ট হয়নি?"
কল্পনা চোখের পানি ফেলতে নিয়েই চোখ খিচে বন্ধ করে,
"হয়েছে তো"
"আমাকে ছাড়া থাকতে পারবি?"
ডানে-বামে মাথা ঝাকালো কল্পনা,
"না,পারবো না"
সাহিত্য আর দ্বিতীয় কিছু ভাবলো না।কল্পনার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট চেপে ধরে সে।কল্পনা যেন একদমই বাধা দিল না আজ।এই ৭দিন সাহিত্যের থেকে দূরে থেকে যেন একদম কাবু হয়ে গিয়েছে মেয়েটা।হৃদয়টা তড়পাচ্ছিল সাহিত্যকে কাছে পাওয়ার জন্য।মনটা হাহাকার করছিল তার।
অধরের মিলন শেষে বলে উঠল সাহিত্য,
"তোকে আমি ভালোবাসি কল্পনা।অনেক ভালোবাসি।তোকে ছাড়া আমি মরে যাব জানপাখি।আজকে একটু তোর কাছে জায়গা দিবি আমাকে?তোর প্রতি আমার এই পাগলামি কি একটু সামলে নিবি আজ?শুধু আজকের জন্য জানপাখি।তোকে যে আমার বড্ড প্রয়োজন এখন।শ্বাস নিতে পারছি না আমি।একটু কাছে থাকতে দিবি তোর?তোকে শুধু নিজের সাথে একটু মিশিয়ে রাখতে চাই।আমার জানপাখিটাকে একটু মন খুলে বলতে চাই যে আমি কতটা ভালোবাসি তাকে।"
কল্পনা ভাঙা গলায় বলে,
"আপনি এতোটা ভালোবাসেন আমায়?"
চোখের জল নিয়েই হালকা হেসে উঠল সাহিত্য,
"সেটা এতোদিনে জানলি?"
"জানতাম....কিন্তু এতোটা ভালোবাসেন সেটা জানতাম না"
এবার ফুপিয়ে উঠল কল্পনা,
"আমিও আপনাকে ভালোবাসি।জানি না এতোদিন কিভাবে বেঁচে ছিলাম আপনাকে ছাড়া"
কল্পনা যে শুধুই গত সাত দিনের কথা বলছে না,সেটা সাহিত্য ভালো করেই বুঝলো।গত ১১বছরের কথা বলছে সে।
কাঁদতে থাকা প্রেয়সীর পুরো মুখোমন্ডে ব্যতিব্যস্ত হয়ে টুকরো চুমু খেয়ে নিল সাহিত্য।অতঃপর আবার কল্পনার অধর জোড়ায় মত্ত হয়ে গেল।না জানি কোন সুধা আছে সেগুলেতে!সাহিত্যকে বার বার আকর্ষণ করে সেগুলো।
সাহিত্য দূরত্ব তৈরি করায় ভারী শ্বাস ফেলতে লাগলো দু'জনই।আবারো কপালে কপাল ঠেকালো সাহিত্য।ভারী শ্বাস ফেলতে নিয়েই সে বলে উঠল,
"আজ তোকে নিজের করে নিলে মন খারাপ করবি?"
কল্পনা হেচকি তুলতে নিয়েই বলে উঠে,
"আমি তো সেই কবে থেকেই আপনার ছিলাম।শুধু বুঝতে একটু বেশি সময় নিয়ে নিয়েছি"
হাসল সাহিত্য,
"হ্যাঁ।একটু বেশিই সময় নিয়ে নিয়েছিস"
কথাটা বলার পর মুহুর্তেই সাহিত্য কল্পনাকে পাজা কোলে তুলে নিল।কল্পনার কপালে অধর ছুঁয়ে দিয়ে তাকে বসিয়ে দিল বিছানায়।কল্পনাকে বিছানায় বসিয়ে সাহিত্য নিজে হাটু গেড়ে বসে মেঝেতে।আলতো করে কল্পনার এক পা হাতে তুলে নিয়ে নূপুর খুলতে লাগলো সে।
কল্পনা ভড়কালো যেন,
"নূপুর খুলছেন কেন?"
"তোর নূপুরের শব্দে আমি আরো বেসামাল হয়ে যাবো।আর প্রথমবারেই আমার এতো গভীর আদর তুই সহ্য করতে পারবি না"
কথাটা বলেই সাহিত্য নজর দিল কল্পনার চোখ বরাবর।ক্ষণিকের জন্য চোখাচোখি হলো দুজনার।যার মাঝে কোনো বাধা নেই।কিন্তু কল্পনা পর মুহুর্তেই অন্যদিকে সটান মাথা ঘুরিয়ে নেয়।তার আজ সাহস হচ্ছে না সামনের নেশালো চোখ জোড়ার দিকে দেখার।হৃদয়ে যে এক অদম্য বৈশাখ মাস বিহীন কাল বৈশাখি ঝড় চলছে।আর সেই ঝড়ের ভারী হাওয়া বের হচ্ছে কল্পনার ফুসফুস থেকে।সাহিত্যের হাতে থাকা কল্পনার পাটা যেন মৃদু কাপতে শুরু করেছে ইতোমধ্যে।পায়ের উপর ত্বপ্ত শ্বাস অনুভব করতেই কল্পনা সাহিত্যের দিকে ঘুরলো।সাহিত্যের চোখ জোড়া তো এখনো কল্পনার মুখোমন্ডলে আবদ্ধ।কিন্তু তার অধর জোড়া কল্পনার পায়ে।
ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিত হাসি নিয়ে হাস্কি কন্ঠে বলে উঠল সাহিত্য,
"ডোন্ট ওয়ারি,কিছু হবে না"
তৎক্ষণাত কল্পনা চোখ খিচে নিয়ে চিবুক নামালো গলায়।বিছানার চাদরটা তো সেই কতক্ষণ আগেই খামচে ধরেছে সে।তার ভেতরের ঝড়টা যেন প্রবলভাবে বেড়েই যাচ্ছে।কল্পনা যেন আজ সাহিত্যের অনুভূতিদের বুঝতে সক্ষম।যেমন এই মুহুর্তে সাহিত্যের অন্তর-আত্মায় যে কল্পনাকে পাওয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা,সেটা যেন কল্পনা ভালো করেই বুঝছে।
আজ যেন এক নতুন প্রেমের সুচনা হতে যাচ্ছে।দুই হৃদয় অবশেষে যেন এক হতে পারলো।
#চলবে