ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৯১তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৯১

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

অন্ত বিছানায় শুয়ে আছে।এমন সময় প্রীতি কল দেয় তাকে।

কল রিসিভ করে কানে ধরে অন্ত।তখনই প্রীতি বলে উঠে,

"কই আপনি?এতো কল দিচ্ছি ধরছেন না কেন?"

"কল্পনার নানাবাড়িতে এখন।সাহিত্য ভাইয়াকে কল্পনা ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছিল।সেটা দেখেই ভাইয়া রাগের মাথায় এখানে চলে আসে।ভাইয়াকে একা না ছাড়ার জন্য আমিও চলে আসি"

ভড়কালো প্রীতি,

"কিহ্!কল্পনা ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছে?"

প্রীতির সাথে কল্পনার কথা বলা বন্ধ হয়েছে যখন কল্পনা শিকদার বাড়িতে আসে।কিন্তু এমন কিছু হয়ে যাবে সেটা প্রীতি চিন্তাও করেনি।

অন্ত আবার বলল,

"এখন কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।অনেক টেনশনে আছি।পরে কথা বলব"

প্রীতি ভারী শ্বাস ফেলল,

"ঠিকাছে।কিন্তু আমাকে খবর দিয়েন কি হচ্ছে ওদিকে"

"হুম"

অন্ত প্রীতির কল কেটে দিয়ে আবারো চিন্তায় মগ্ন হয়।কাল যেন একটা পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত হয়।এভাবে আর কতদিন চলবে?

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

সুবা অনেকক্ষণ থেকে খেয়াল করছে কল্পনাকে।কল্পনা হঠাৎই যেন বদলে গিয়েছে।বেশ হাসি-খুশি লাগছে মেয়েটাকে।আর সকাল থেকে কেন জানি মাথায় কাপড় দিয়ে ঘুরছে।ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো চুলের আগা দিয়ে টুপ্টাপ পানি পড়ছে তার।কল্পনার পায়ের নূপুর জোড়াও নেই কেন জানি।বেশ সন্দিহান ঠেকছে বিষয়টা সুবার কাছে।সবার চোখের আড়ালে বারান্দায় সুবা কল্পনাকে আটকে ধরল।সরু চোখে তার দিকে দেখে বলে উঠল সে,

"তোর পায়ের নূপুর কোথায়?"

সুবার কথা শুনে ভড়কালো কল্পনা।এক পায়ের চালের উপর আরেক পা দিয়ে মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলো।কল্পনা মাথা নিচু করে রাখার পরও সুবা লক্ষ করল কল্পনার গাল দুটো লাল হয়ে এসেছে একদম।লজ্জা একদম ভালোভাবেই ভাড় করেছে মেয়েটাকে।

সুবা আসল রহস্য বুঝতে পেরে বিস্ময় ভরা চোখে দেখতে লাগলো কল্পনাকে।সাথে ঠোঁটে তার হাসিও ফুটেছে,

"ওকে যখন স্বামীর মর্যাদা দিয়েই দিয়েছিস তো অযথা ডিভোর্স পেপারে সাইন করলি কেন?"

দুই হাতে ওড়না কচলিয়ে মাথা নিচু করে মিনমিনিয়ে বলল কল্পনা,

"না.....গতকালকেই প্রথম ছিল"

বোনের কথা শুনে আরেক ধাপ চকিত হলো সুবা,

"মানে ডিভোর্স পেপারে সাইন করার পর কি ভালোবাসা উতলায় পড়ছিল তোর?"

কল্পনা কিছু না বলে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো।বোনের এক গালে পরম আদরে হাত দিয়ে সুবা শুধাল,

"কল্পনা,জীবনটা তোর।যাকে তুই ভালোবাসিস অন্যের কথা শুনে তাকে দূরে ঠেল দিস না।পরে পস্তাবি।সাহিত্যকে তো আমি ছোট থেকেই দেখছি।জানতাম যে ও তোকে অনেক আদর করে।কিন্তু কখনো এভাবে চিন্তা করিনি।না হলে তোদের এই বড় বোনটা এভাবে তোদের কষ্ট পেতে দিত না"

বোনের কথায় কল্পনা মাথা নিচু রেখেই ঠোঁট বাকিয়ে মৃদু হাসলো।সুবা মুখের হাসি প্রশস্ত করে বলল,

"এখন তাড়াতাড়ি খালা ডাকটা শোনা"

সুবার কথা শুনে কল্পনা ভড়কালো বেশ।সাথে লজ্জায় শিটিয়ে এলো মেয়েটা,

"কি যে বলোনা আপু তুমি।বড় বাবা আর বাবা মেনেই নিচ্ছে না আর তুমি মজা করছো?"

কোমল কন্ঠে শুধাল সুবা,

"মেনে নিবে রে।তুই অযথা টেনশন করিস না তো।নিজের বাচ্চাদেরকে কি কেউ বহিষ্কার করতে পারে?কিন্তু আমি যেন আর না শুনি তুই বাবার কথা শুনে সাহিত্যকে ছাড়ার কথা ভাবছিস"

শেষের কথাটা সুবা কঠোর গলায়ই বলল।

কল্পনা কোমল কন্ঠেই বলে উঠল,

"আগে তো বুঝিনি, এখন বুঝছি।লোকটাকে আমি শ্রদ্ধা করার সাথে-সাথে প্রচন্ড ভালোও বাসি"

বোনের কথা শুনে সুবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।এতটুকু তো বুঝা গেল যে এখন কল্পনা আর বাবার কথায় তেমন গোলবে না।আল্লাহ না করুক এই দুই ভাইয়ের জেদের চোটে তার ভাই-বোন দুটোর কোনো ক্ষতি না হয়ে যাক।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

কল্পনা হাতে কফির মগ নিয়ে রুমে ঢুকলো।কিছুক্ষণ আগেই সবাই সকালের নাস্তা করেছে।কায়েস শিকদার বলেছেন দুপুরের খাওয়ার পরে সব কথাবার্তা হবে।তার আগে কোনো কথা নয়।তাই সকালের নাস্তার পরিবেশ অনেক থমথমে ছিল।কিছুক্ষণ আগেই সাহিত্য নাস্তা করে রুমে এসেছে।সাহিত্য সচরাচর সকালের দিকেও এক কাপ ব্লাক কফি খায়।তাই তো কল্পনা হাতে মগ নিয়ে রুমে ঢুকে।

রুমে ঢুকেই দেখলো সাহিত্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছে।পড়নে তার কালো ট্রাউজার আর ধুসোর টি-শার্ট।কল্পনা এখন বুঝছে সুবা কেন রুমের মধ্যে এক সেট কাপড় রেখে গিয়েছে।সেটা যে অতি প্রয়োজনীয় হয়ে গিয়েছিল ভোরবেলার সময়টায়।

কল্পনা টেবিলে কফির মগ রাখতে নিয়ে আড় চোখে আরো একবার পরখ করল সাহিত্যকে।এখন কতটা শান্তশিষ্ট লাগছে তাকে।অথচ কাল রাতে যেন পুরাই ভিন্ন ছিল।এতো বছরের ভালোবাসা যেন এক রাতেই ঢেলে দিয়েছে একদম।

সাহিত্যের দিকে দেখতে নিয়ে ভ্রু কুচকালো কল্পনার।সাহিত্যের ঘাড়ে লম্বায় এক লাল দাগ।বুঝতে না পেরেই জিজ্ঞেস করে বসলো,

"আপনার ঘাড়ে কি হয়েছে?"

সাহিত্য ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটালো।কল্পনার দিকে ঘুরল সে।অতঃপর ঘাড়ে হাত রেখে বলে উঠল,

"তোর নেলগুলো কাটা উচিৎ জানপাখি"

সাহিত্যের মুখে এমন কথা শুনে কল্পনা চমকালো বেশ।উলটো দিকে ঘুরে রুম থেকে বের হতে নিচ্ছিল সে।অমনি সাহিত্য দুই হাত দিয়ে কল্পনার কমোর ধরে তাকে নিজের সাথে লেপ্টে নিল।কল্পনার পিঠে সিনা ঠেকিয়ে চিবুক রাখলো কল্পনার কাধে।ঘাড়ে নাক ঘষতে নিয়েই হাস্কি কন্ঠে বলল সে,

"ভালোবাসি জানপাখি"

কল্পনা যেন শিটিয়ে গেল একদম।কাচুমাচু হয়ে গেল সে।কিছু না বলে সাহিত্যের হাতের বাধনের আটকে থাকলো।সাহিত্য আবারো বলে উঠল,

"ব্যথা কমেছে?"

মৃদু উপর-নিচ মাথা ঝাকালো কল্পনা।সাহিত্য আবারো বলল,

"সরি"

মিনমিনিয়ে উঠল কল্পনা,

"রাতে ব্যথা দিয়ে এখন সরি বলছে"

হালকা হাসলো সাহিত্য।সাথে কল্পনার ঘাড়ে একটা টুকরো চুমুও বসিয়ে দিল।কেপে উঠল কল্পনা।এই স্যার আবার এই দিনের বেলাতেই শুরু করবে নাকি?

কল্পনা কাপা গলায় বলে উঠে,

"আ-আমাকে মনে হয় মা ডাকছে"

সাহিত্য এখনো প্রেয়সীর গলার ঘ্রাণ নেওয়ায় ব্যস্ত।হাস্কি কন্ঠে বলল সে,

"আমার কান খারাপ না।মেঝো চাচি তোকে ডাকছে না"

কল্পনা যেন আরো শিটিয়ে গেল।মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলো সে।সাহিত্য এর মাঝেই বলে উঠল,

"বিছানায় বস,নূপুরগুলো পরিয়ে দেই"

"আ-আমি নিজে পরে নিব"

"আমি পরিয়ে দিচ্ছি"

সাহিত্য আর কিছু বলল না।কল্পনাকে বিছানায় বসিয়ে আবার কাল রাতের মতো হাটু গেড়ে মেঝেতে বসে পড়ল।ট্রাউজারের পকেট থেকে নূপুর জোরা বের করে পরিয়ে দিতে লাগলো কল্পনার পায়ে।

কল্পনা ভারী এলোমেলো নজর ফেলতে ব্যস্ত।সেদিকে নজর রেখেই সাহিত্য কল্পনার মিষ্টি রঙা প্লাজুটা হালকা উচু করে ঠোঁট ছোয়ালো পায়ে।কল্পনা ভড়কে উঠল যেন।সাথে বলেও উঠল সে,

"এমন পায়ে চুমু খাবেন না তো।কেমন জানি লাগে"

মেকি হাসলো সাহিত্য।নজর কল্পনার দিকে রেখে আবারো পায়ে অধর ছোয়ালো।সাথে বলেও উঠল,

"আমার বউকে আমি যেখানে ইচ্ছা সেখানে চুমু খাবো"

"কল্পনা!!"

সাহিত্য কেবলই তার প্রেমাক্তি বলতে শুরু করেছিল।এরই মাঝে নিচ থেকে সুবা কল্পনার নাম ধরে ডাকা শুরু করে।কল্পনা সটান দরজার দিকে মাথা ঘুরায়,

"হ্যাঁ আপু,আসছি!"

উঠে দাড়ালো কল্পনা।হুটিপুটি পায়ে বেড়িয়ে গেল রুম থেকে।আর সাহিত্য এখনো ঠাই নিচে বসে আছে।বিড়বিড় করে কটমটিয়ে উঠল সে,

"সুবাআআ।তোর খবর আছে"

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

দুপুরের খাবারের পর শিকদার বাড়ির সবাই বসেছে সাহিত্যের সাথে।নিশ্চুপ পরিবেশে সাহিত্যই বলে উঠল,

"আমি কল্পনাকে ডিভোর্স দিব না"

কায়েস শিকদার বলে উঠলেন,

"তুমি দেওয়ার না দেওয়ার কে?আমার নাতনি যদি একবার বলে যে সে এই সংসার করবে না তাহলে এই বিয়ে আর থাকবে না"

"এখন কল্পনাকে যদি আপনারা জোর করে সেই কথা মুখ থেকে বের করান তাহলে তো ও বলতে বাধ্য হবে"

উপস্থিত সবাই ভড়কালো।দূরে ডাইনিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনার দিকে নজর ফেললেন কায়েস শিকদার,

"কল্পনা।কি বলে এই ছেলে?"

ফাহাদ শেখ বলে উঠলেন,

"আব্বা কল্পনা কি বলবে?এই ছেলে কল্পনাকে জোর করে বিয়ে করেছে।আর কি বুঝার বাকি আছে?"

মাহির কল্পনার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,

"কল্পনা তুই ভয় করছিস কেন?এখানে তোকে কেউ জোর করছে না।কথা বল"

কায়েস শিকদার গমগমে কন্ঠে বললেন,

"মাহির চুপ করো।

মাহির ভারী শ্বাস ফেলতে লাগলো।মাথা নিচু করে নিয়ে চোয়াল শক্ত করে আছে সে।কিন্তু ফাহাদ শেখ গর্জে উঠলেন,

"এটা কেমন কথা আব্বা!আমি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শিকদার বাড়িতে আসিনি।আমি আমার মেয়ের জীবন বাঁচাতে চাচ্ছি আর আপনি এগুলো কি বলছেন?"

কায়েস শিকদার বলে উঠলেন,

"সংসার তুমি করবে নাকি তোমার মেয়ে করবে ফাহাদ?"

ফাহাদ শেখ শশুরকে আর কিছু বললেন না।কল্পনার দিকে ঘুরলেন তিনি,

"কল্পনা!কি সিদ্ধান্ত নিবা ভেবে চিনতে নাও!"

কল্পনা কোনো কথা বলছে না।মাথা নিচু করে চোখের জল ফেলে যাচ্ছে মেয়েটা।কায়েস শিকদার বুঝলেন কল্পনার অবস্থা।এককালে তো তিনিও একজন আইনজীবী ছিলেন।কাঠঘরায় যে দাঁড়িয়েছে তার মনের দোটানা ভাব বুঝছেন তিনি।থমথমে গলা দিয়ে আবার কথা বের করলেন কায়েস শিকদার,

"কল্পনাকে একটু সময় দেয়া হোক।এতো বড় সিদ্ধান্ত তো সে আর এক মুহুর্তেই নিতে পারবে না।জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত এটা।এখানে কিছুদিন থাকুক সে।মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুক।তারপর নাহয় বলবে।এসব বিষয় তাড়াহুড়ো করে চিন্তা করার মতো না।আমি আমার নাতির পাশে দেখতে গিয়ে আমার নাতনির জীবন নষ্ট করতে পারি না"

কায়েস শিকদারের শেষের কথাটায় মাহির মাথা তুলে তার দিকে দেখলো।তবে কিছু বলল না সে।আর বলবেই বা কি?কায়েস শিকদার তো আর ভুল বলেননি।কল্পনার জীবনের সিদ্ধান্ত কল্পনাই নিবে।কিন্তু বিয়েটা তো জোর করে হয়েছে।কল্পনার অমতে।তাহলে কল্পনা চুপ করে আছে কেন?কল্পনা যথেষ্ট শক্ত মেয়ে।সাহিত্যের ভয়ে সে চুপ করে থাকবে এমন মেয়ে সে নয়।তাহলে আসল বিষয়টা কি?কি এমন কথা আছে যেটা মাহির জানে না?

কথাবার্তা শেষে সবাই উঠে গেল।সোফায় শুধু বসে আছে তিন ব্যক্তি।মাহির,অন্ত আর সাহিত্য।মাহির হয়তো বা অপেক্ষায় ছিল সবার ড্রইং রুম ত্যাগ করার।কারণ পরিবেশ ফাঁকা হতেই সাহিত্যের দিকে সে শক্ত নজর ফেলল।অতঃপর সময় নিয়ে বলল সে,

"তুমি যেটাই করো না কেন,কল্পনা আর তোমার ডিভোর্স আমি করিয়েই ছাড়বো"

মেকি হাসলো সাহিত্য।হালকা শক্ত কন্ঠে বলল সে,

"অ্যাডভোকেট হয়েছো দেখেই কি ডিভোর্স এতো সহজে করাতে পারবা?"

"ফোর্সড ম্যারেজের কেসে জেলে ঢুকাতে বেশি সময় লাগবে না আমার"

"ফোর্সড ম্যারেজের কথা কাকে দিয়ে বলাবে তুমি?আমার বউকে দিয়ে?যে আমাকে তার স্বামীর সম্পূর্ণ অধিকার দিয়ে রেখেছে?"

সাহিত্যের শেষের কথায় মাহির ভড়কেছে বেশ।তারপরও নিজেকে সংযত করে বলে উঠল,

"কল্পনাকে যে তুমি তার অনিচ্ছায় জোর করে বিয়ে করেছো সেটা সবাই জানে"

"কল্পনার উপর কিছু ফোর্স করা হয়েছে আর সে চুপ করে থাকবে তেমন মেয়ে সে একদম নয়।আর এই বিয়ে তার অনিচ্ছায় হয়ে থাকলে সে কখনোই আমাকে তার স্বামীর পুণ্য অধিকার দিত না"

সাহিত্য বারবার স্বামীর পূর্ণ অধিকারের কথা দিয়ে কি বুঝাতে চাইছে মাহির সেটা বুঝতে অক্ষম হলো না।আর সে কারণেই হয়তো মাহিরের রাগের মাত্রাটা বাড়ায় শরীর মৃদু কাঁপছে।আর কিছু না বলেই সোফা থেকে উঠে গেল সে।

অন্ত এতক্ষণ থেকে চুপ করে পাশের দুজনের ঠান্ডা ঝগড়া দেখছিল।মাহির উঠে যেতেই সাহিত্যকে জিজ্ঞেস করল সে,

"কালকে যে বউয়ের সাথে এতো আলাপ করলে,তা কি হলো?তোমার বউ কি বলেছে?"

সাহিত্য মাথা নিচু করে মিনমিনিয়ে উঠল,

"কি আবার বলবে?আমার নাম ধরে ডাকছিল"

অন্ত সাহিত্যের অস্ফুট কথা বুঝতে পারেনি।তাই তো বেচারা আবার জিজ্ঞেস করল,

"কি বলেছে?"

ভড়কালো সাহিত্য।গলা খাকাড়ি দিল সে।অন্তর দিকে ঘুরে হালকা হেসে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,

"চিন্তা করিস না।কল্পনা আমাকে ডিভোর্স দিবে না"

অন্ত যেন এতক্ষণ পর স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারল।আশেপাশে মাথা ঘুরিয়ে সাহিত্যের গা ঘেঁষে বসে বলল সে,

"তাহলে তো মেঝো বাবা বেকার চিল্লাচ্ছে।জাব মিয়া-বিবি রাজি,তো ক্যা কারেগা বিবি কা পিতাজি"

কথাটা বলেই মৃদু হেসে উঠল অন্ত।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

সেদিন দুপুরে শিকদার বাড়ির সবার সাথে কথা বলে সাহিত্য আর অন্ত শেষ দুপুরেই চলে যায়।শিকদার বাড়িতে থাকার আর কোনো মানে নেই তাদের।সাহিত্য তো প্রথমে কল্পনাকেও নিয়ে যেতে চাইছিল।কিন্তু সুবা থামিয়ে দেয়।পরিস্থিতি এখন একটু স্বাভাবিক আছে।এখন সে কাজ করলে আরো খারাপ হতে পারে।তার উপর কল্পনাও যেতে চাইছিল না।তাই সাহিত্য অন্তকে নিয়েই শেখ ভিলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

গত পরশু সাহিত্যকে বিদায় দেওয়ার পর থেকে কল্পনা আবার একটু মনমরা হয়ে যায়।সবার সাথে কথা বললেও সেটা যেন সীমিত।কিন্তু সেই যে রুমে জানালার কাছে বসে থাকতো,সেই স্থান পরিবর্তন করেছে কল্পনা।আজ এই রাতটায় ছাদে এসেছে সে।সুবা কিছুক্ষণ আগেই ফ্লাইটের জন্য এয়ার্পোরটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।ছুটি শেষে অফিসের ব্যস্ততার কারণেই এতো তাড়াতাড়ি সুইজারল্যান্ড ফিরতে হচ্ছে তাকে।বাড়ির পরিবেশ দেখে প্রথম দিকে না যেতে চাইলে হেনা শেখ আর কল্পনা নিষেধ করে তাকে।তাই সুবাও আর কথা বাড়ায়নি।তবে প্রতিবারের মতো যাওয়ার সময়ও সুবা কল্পনাকে অনেক বুঝিয়েছে।তার মন যেটা বলে সেটাই যেন করে সে।ফাহাদ শেখের কথায় একদম যেন না গলে।

ইফতি কল্পনাকে বলেছে সে যেন ছাদে থাকে।প্লেন থেকে তাকে হাই দিবে ইফতি।কল্পনা তার আদরের ভাগিনার কথা কেমন করে টালতো?তাই তো ছাদে এসেছে সে।সেই সাথে প্রকৃতির ঠান্ডা হাওয়া একটু শরীরে লাগা হয়ে যাবে।

পাতলা একটা শাল জড়িয়ে ছাদে অন্ধকারেই দাড়িয়ে আছে কল্পনা।এমন সময় পেছন থেকে মাহিরের কন্ঠ শুনতে পেল সে,

"রাতে এখানে একা কি করছিস"

কল্পনা ভড়কে উঠে পেছনে ঘুরে।মাহিরকে দেখে সংযত হয় সে।হালকা ঠোঁট বাকিয়ে বলল,

"ইফতি নাকি প্লেন থেকে হাই দিবে।সেটা দেখার জন্যই দাঁড়িয়ে আছি"

মাহির হাসতে নিয়েই ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকালো।এসে কল্পনা পাশে দাড়ালো সে।সময় নিয়ে হাসিটা যেন মিলিয়ে এলো তার।অন্ধকারে ভারী শ্বাস ফেলে বলে উঠল,

"ওই দিন চুপ ছিলি কেন?"

কল্পনা মাহিরের দিকে ঘুরলো।তবে কিছু বলল না।মাহির আবার বলে উঠল,

"ওই দিন যদি তুই একবার বলতি যে সাহিত্য তোকে জোর করে বিয়ে করেছে,তাহলেই সব ঠিক হয়ে যেত....আমি হেল্প করতে পারতাম তোকে"

কল্পনা পর মুহুর্তেই কিছু বলল না।আকাশের দিকে নজর ফেলে সময় নিয়ে বলে উঠল সে,

"বিয়েটা জোর করে হলেও...সংসারটা আমি নিজ ইচ্ছায় করছি।কিন্তু...বাবার কথা আমি কখনো অমান্য করিনি।তাই বুঝছিলাম না কি বলব"

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন