ফন্ট সাইজ:
থিম:
একখণ্ড আসক্তি

৯৩তম পর্ব

লেখক: রশনি করিম

#পর্ব_৯৩(🚫রোমান্টিক এলার্ট)

গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি

#লেখিকা_রশনি_করিম

[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বৃষ্টির সাথের ঝড়ো বাতাসটা এখন অনেকটাই কমেছে।যার দরুন বৃষ্টিটাও স্বাভাবিক হয়েছে।হালকা শিরশিরানি হাওয়া প্রবেশ করছে বেলকুনির দাড় পার করে। কিন্তু সেই শীতল হাওয়া যেন দরজার কাছে উপস্থিত নর-নারী কাউকেই ছুতে পারছে না।নিজেদের উষ্ণতায় তারা আবদ্ধ।

কল্পনা একটু নড়ে উঠতেই সাহিত্য হাতের বাধন আরো দৃঢ় করে মুখটা কল্পনার গলায় আরো গভীরভাবে গুজে দিল।যার প্রতিক্রিয়া স্বরুপ কল্পনার পুরো শরীরে শিহরণ বয়ে গেল।হৃদপিণ্ডটার যেন পুর্ণ এক স্পন্দন বাদ পরে গেল তার। শুকিয়ে কাট হয়ে যাওয়া গলাটা দিয়ে খেকরিয়ে কোনো মতে মিনমিনিয়ে উঠল কল্পনা,

"রাত গভীর হচ্ছে।আমার রুমে যাওয়া উচিত "

"হুম.....রাত গভীর হচ্ছে"

এই সুরের কন্ঠ শোনার জন্য কল্পনা একদম প্রস্তুত ছিল না।সাহিত্যের স্বাভাবিক কন্ঠের থেকে অনেক বেশিই ভারি।কন্ঠের মধ্যে যেন মাদক মিশ্রিত।যাতে এক আকাশ পরিমাণ আবদার বিরাজ করছে।কীসের আবদার সেটা হয়তো বুঝতে কল্পনা অক্ষম হলো না।যার দরুণ চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে ভারি নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল সে।

সাহিত্যের চোখ এড়ালো না প্রেয়সীর তপ্ত শ্বাস।প্রতিবারের মতো এবারও যে তার প্রেয়সী পালাতে চাইছে।কিন্তু আজ যে ধৈর্যটা ক্ষণে ক্ষণে ভেঙে যাচ্ছে সাহিত্যের।যেখানে প্রেয়সীর থেকে ক্ষণিকের দূরত্বটাও সাহিত্য একদম সহ্য করতে পারে না,সেখানে এই কয়দিন যেন হাতের নাগালেই পাচ্ছে না তাকে।

'⚜️ওহে সাহিত্যের কল্পনায় রাজত্ব করা একমাত্র প্রেয়সী,

আমার জীবনে তুমি সুধা ও নেশা দুটো হিসেবেই আছো।

যেই সুধাকে গ্রহণ করার জন্য এই সাহিত্য নিজেকে যোগ্য মনে করে না,

আর যেই নেশাকে গ্রহণ করার জন্য এই সাহিত্য মরিয়া হয়ে থাকে সব সময়⚜️'

মনের মধ্যেই নিজের প্রেয়সীকে নিয়ে অভিব্যক্তি জ্ঞাপন করল সাহিত্য।অতঃপর কল্পনার গলদেশে একটা টুকরো চুমু দিয়ে আবার মুখ গুজে দিয়ে নেশালো কন্ঠে শুধালো,

"আজ কিন্তু নুপুর খুলবো না.......খুলতে চাই না"

কল্পনাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরেই শেষের কথাটা শুধালো সাহিত্য।

কল্পনা বুঝতে অক্ষম হলো না সাহিত্য কি বুঝিয়েছে।সে তার প্রেয়সীকে আজ মন খুলে আদর করতে চায়।

কল্পনার কিছু বুঝে উঠার আগেই সাহিত্য তাকে পাজা কোলে তুলে নিল।

"আরে কি করছে..."

রুমের সুক্ষ্ম কৃতিম আলোয় সামনের চোখ জোড়ার পাশে দেখে আর কথা শেষ করতে পারল না কল্পনা।এই মাটিয়া-সবুজাভাব চোখ জোড়ার চাহনি যেন আজ অন্য কিছুই বলছে কল্পনাকে।এই নেশালো চাহনির দিকে বেশিক্ষণ দেখে থাকার সাধ্য নেই তার।স্নায়ু কোষগুলো যেন একদম অকেজো হয়ে আসে কল্পনার।কিন্তু আজ যেন অক্ষিজোড়া সেপাশ থেকে নড়তেই চাচ্ছে না।যেন সেই চাহনি কল্পনাকেই চাইছে।শুধুই কল্পনাকে।

কল্পনার হাবিজাবি ভাবনার মাঝেই সাহিত্য নিজের কপাল কল্পনার কপালের সাথে ঠেকালো।খুবই এলোমেলোভাবে নিঃশ্বাস ফেলছে সাহিত্য।

এতোটুকুই যেন যথেষ্ট ছিল না,যার দরুণ পুরুষালী ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউমটাও যুক্ত হলো আশেপাশের রোমাঞ্চকর ভারি বাতাসে।গোলাপি অধর জোড়া তীরতীর করে কাপছে মেয়েটার। সাহিত্যের পড়নের টিশার্টটা সেই কতক্ষণ আগেই দুইহাত দিয়ে খামচে ধরেছে কল্পনা।

"তোর মাঝে এমন কি আছে?পাগল করে দিস তুই আমাকে।নিজের মাঝে থাকি না আমি তোর কথা চিন্তা করলে।তুই কাছে থাকলে মনে হয় শ্বাসটাও নেওয়ার প্রয়োজন নেই "

হাস্কি স্বরে সাহিত্যের কথাগুলো যেন কল্পনাকে আজ পুরো দমে কাবু করে দিল।মাথা ঠেকিয়ে আর থাকতে পারলো না কল্পনা। সাহিত্যের বুকে মুখ গুজে পুরো শরীরের ভার ছেড়ে দিল।সুপ্ত নারী সত্ত্বাটাকে যে আজ কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রেয়সীকে আগলে ধরে বিছানার দিকে পা বাড়ালো সাহিত্য।আলতো হাতে লজ্জারাঙা প্রেয়সীকে বিছানায় বসিয়ে দিল।বাহিরের হালকা কৃতিম আলোয় জ্বলজ্বল করছে সাহিত্যের ললনার মুখশ্রী।এই মুখখানা গত কয়েক দিন না দেখতে পেরে যেন তীব্র রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল সাহিত্যের হৃদপিণ্ডের।

পুরুষালি খড়খড়ে এক হাত কল্পনার কোমল গাল আবদ্ধ করতেই শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেল কল্পনার। দূরত্বকে উপেক্ষা করে প্রেয়সীর দিকে ঝুকে এলো সাহিত্য।ক্ষীণ দূরত্ব বজায় রাখতেই কল্পনা হালকা একটু পেছনে পিছালো।লজ্জা যেন ভার করে বসেছে মেয়েটার উপর।

আরো গভীর, আরো অধিক মাদক পুর্ণ ভারি কন্ঠ কানে বেজে উঠল কল্পনার

"তোকে আমি প্রচন্ড রকমের ভালোবাসি কল্পনা। যা পরিমাপ করা আমার সাধ্যের বাহিরে।হয়তোবা আমার সমস্ত অনুভুতি আমি মুখে প্রকাশ করতে পারব না।কিন্তু বিশ্বাস কর।এই সাহিত্য শুধু তার কল্পনার মধ্যেই ডুবে থাকতে ভালোবাসে।তোকে ছাড়া এই সাহিত্যের কোনো অস্তিত্ব নেই।আমরণ আমি শুধু তোকেই চেয়ে যাব।আমাকে তুই এক স্বার্থপরই বলতে পারিস।আমার জানপাখিটার ভালোবাসা পাওয়ার দিক দিয়ে যে আমি বড়ই স্বার্থপর।এই তুই নামক নেশা থেকে আমি বেড়িয়ে আসতে যতটা অনিচ্ছুক,এই নেশা থেকে আমার বেড়িয়ে আসা তার থেকেও বেশি দুষ্কর।তুই যে আমার বাধ্য নেশায় পরিনত হয়েছিস"

এবার যেন লজ্জাটাকে পাশে রেখে চোখের তৃষ্ণা মেটাতেই কল্পনা চোখ তুলে সাহিত্যের পাশে দেখল।এই পুরুষটা একান্তই তার।একমাত্র যার স্পর্শে রমণির অন্তর আত্মা দুলে ওঠে।

প্রেয়সীর আদুরে আদলখানা যে আজ একটু বেশিই আবেদনময়ী লাগছে সাহিত্যের কাছে।যেন আর এক মুহুর্তের জন্যও ক্ষনিকের এই দূরত্ব সহ্য হচ্ছে না সাহিত্যের।বুকে যেন যন্ত্রণা করছে এই সুক্ষ্ম দূরত্ব।যার দরুণ তীব্র আকাঙ্খায় প্রেয়সীর সুক্ষ্ম কাপতে থাকা অধর জোড়া আকড়ে ধরল সে।কল্পনা যেন নিজেকে প্রস্তুত করেই রেখেছিল।তার একান্ত ব্যক্তিগত এই পুরুষের ছোয়ায় যেন আজ আবেশিত হতে মরিয়াই হয়ে উঠল সে।সাহিত্যের প্রশস্ত বুকের উপরে রাখা হাত দুইখানা আরো দৃঢ় হলো তার।প্রেয়সীর কাছ থেকে বাধা না পেয়ে দুই হাত দিয়ে তার কমোড় জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল সাহিত্য।অধর জোড়ার বন্ধন যেন আরো বেশি গভীর হতে লাগলো।যে বন্ধন হয়তোবা সীমাহীন হতেও দ্বিধা বোধ করবে না।

★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................

বৃষ্টি তো সেই ভোর রাতেই থেমে গিয়েছে।ভোরের হালকা সুর্যের রোশনাইয়ে ভেজা সবুজ অরণ্য থেকে চুইয়ে চুইয়ে পরা পানির কণাগুলো ঠিক মুক্তর দানার মতোই লাগছে।থাই জানালার গ্রিলে ঝুলানো মানিপ্লান্ট গাছটা বাতাসে হালকা দুলতে থাকায় সেই মুক্তর দানার একটা ছটা এসে সাহিত্যের মন গহীনে রাজত্ব করা একমাত্র প্রেয়সীর গোলাপি আভারাঙা গালে পড়ল।

এতে কল্পনাকে পরখ করতে থাকা সাহিত্য একটু বিরক্তই হলো সেই বর্ণহীন তরলের উপর।তার ললনার যদি ঘুম ভেঙে যায়,তাহলে? আলতো চুমুর সাহায্যে পানির ছটাটা নিজের ঠোঁটের মাঝে নিয়ে আবার প্রেয়সীর চুলগুলো হাতের ভাজে নিয়ে নাড়তে লাগলো সাহিত্য।

পাশ ফিরে শোয়ায় কল্পনার হাটু অব্দি সিল্কি চুলগুলো সাহিত্যের উপর আছড়ে পরেছে।ঘুমের মাঝে প্রেয়সী ক্ষানিকটা দূরে শোয়ায় কিছুটা অভিমানই করেছিল সাহিত্য।কিন্তু পর মুহূর্তেই সুঘ্রাণ রেশমি কালো চুলের মাঝে ব্যতিব্যস্ত হয়ে যায়।তার প্রেয়সীর চুলের আগা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সবকিছুই যেন মারাত্মক সুন্দর।প্রেয়সীর প্রত্যেকটা জিনিসই যেন তাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে দুর্বল করে দেয়।যার দরুণ বর্তমানে কল্পনার চুলগুলোকে গাঞ্জাখোরের মতোই শুকে যাচ্ছে সাহিত্য।

প্রেয়সীর নড়াচড়া দেখে তার চুল থেকে তার দিকে নজর দিল সাহিত্য।কল্পনা আড়মোড়া ভাঙতে নিয়েই সাহিত্যের দিকে ঘুরে পিটপিট করে চোখ খুলে দেখতে লাগলো।অমনি সাহিত্য ক্ষনিকের জন্য প্রেয়সীর ঠোঁট জোড়া দখলে নিয়ে শুধালো,

"গুড মর্নিং জানপাখি"

কল্পনা শুনল কি না কে জানে?অস্ফুটস্বরে হু হা করে সাহিত্যের উন্মুক্ত ঢেউ খেলানো বুকে মাথা গুজে দিল। এই সুযোগে প্রেয়সীকে আরেকবার নিজের সাথে মিশিয়ে নিল সাহিত্য।কল্পনার পড়নে থাকা নিজের নেভিব্লু টিশার্টের কলারটা ঠিক করে দিল সে।মেয়েটাকে তার কাপড়গুলোতে বরাবরই মারাত্মক লাগে।

সামনের ছোট চুলগুলো কল্পনার আলতা রাঙা মুখখানা অনেকটাই ঢেকে রেখেছে।স্বযত্নে সেগুলো কানের পেছনে গুজে দিয়ে নরম গালে বার কয়েকটা চুমু খেয়ে নেশালো কন্ঠে শুধালো সাহিত্য,

"ঘুম হয়নি?"

আবার হালকা অস্ফুট আওয়াজ করল কল্পনা।হ্যাঁ বলল নাকি না বলল বুঝাই গেল না।আশেপাশে সব দিকে চিরপরিচিত ল্যাভেন্ডার পারফিউমটা আবারো লম্বা শ্বাস টেনে বক্ষগহীনে নিয়ে নিল কল্পনা। ঘুমের মাঝেও যেন সেই ঘ্রাণে মাতাল মাতাল লাগছে তার।

কল্পনার উঠার লক্ষণ না দেখে সাহিত্য যেন আরেক দফা সুযোগ পেল।সময় নিয়ে-নিয়ে কল্পনার উন্মুক্ত গাল,ঘাড়,গলায় অবিরাম শব্দ করে গাঢ় চুমু খেতে লাগলো সে।আর যার কারনেই হয়তো কল্পনার ঘুমের রেশটা একটু কমে এলো। মুখখানা সাহিত্যের দিকে ঘুরাতেই ঠোঁট জোড়ায়ও এক গাঢ় চুমু দিয়ে আবার ঘাড়, গলায় মনোযোগ দিল সাহিত্য।ক্রমাগত আক্রমণ থামাতেই ঘুমের মধ্যেই হাত বাড়িয়ে সাহিত্যের মুখে থাবা মারল কল্পনা।কিন্তু তাতেও যেন তার আসক্তে পরা উন্মাদ স্বামীটা দমলো না।হাতের তালুতেও টুকরো চুমু খেতে লাগলো সে।

বিদ্যুৎ বেগে চোখ খুলে ধরফরিয়ে উঠে বসল কল্পনা।কল্পনার এহেন কান্ডে সাহিত্যও একটু ভড়কালো।দ্বিধাগ্রস্থ নজর কল্পনার দিকে রেখে নিজের হাতে আবদ্ধ কল্পনার হাতে টুকরো চুমু দেওয়ার কাজ চালিয়ে গেল সে।কল্পনা চোখ-মুখ কুচকে সাহিত্যের পাশে ঘুরল,

"ছাড়বেন কি হাতটা?"

সাহিত্য ভ্রু জোড়া কুচকালো,

"আমার জিনিস আমার কাছে আছে।তাতে তোর কি রে?"

অযথা সাহিত্যের সাথে লাগতে গেল না কল্পনা।ঘুম চোখেই শুধালো,

"কয়টা বাজে?"

আড় চোখে দেয়াল ঘড়ির দিকে দেখে শুধালো সাহিত্য,

"সাড়ে ছয়টা"

এটা শোনার পর কল্পনার বাকি ঘুমের রেশটুকুও কেটে গেল।চোখ জোড়া রসগোল্লার মতো বানিয়ে তড়িৎ গতিতে সাহিত্যের দিকে ঝুকে এলো,

"কিহ!আমি কোথায় এখন?"

কল্পনার ব্যতিব্যাস্ত কন্ঠে সাহিত্যকে একদম বিচলিত দেখালো না।সে তো এখনো তার গভীর ঘোর থেকেই বের হয়নি।কল্পনার অধরে আলতো চুমু খেয়ে ধীরস্থিরভাবেই শুধালো,

"তোর বিয়ে করা বরের রুমে"

"হায় আল্লাহ!! বাবা জানতে পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে"

কল্পনার এবারের চিল্লানিতে সাহিত্য একটু বিরক্তই হলো,

"কল্পনা,আমি মনে হয় বলেছি তোর বিয়ে করা বরের রুমে।বিয়ে করা বর"

কল্পনা আবার ব্যতিব্যাস্ত কন্ঠে বলল,

" তো আমি আবার কখন বললাম আপনি আমার বিয়ে না করা বর? সাতটার দিকে সবাই উঠবে।আমাকে এখানে দেখলে নিশ্চই বড় বাবা ও বাবা ২-৩ টা কথা শুনাবে।আর আমি কথা শুনার মুডে একদম নেই"

কল্পনা তড়িঘড়ি করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো।পর মুহূর্তেই খেয়াল করল তার পড়নে শুধু গত কালকে সাহিত্যের পড়ে থাকা টিশার্টটা।টেনেটুনে সেটাকে আরেকটু হাটুর নিকটে নেওয়ার চেষ্টা করে পেছনে সাহিত্যের দিকে ঘুরল সে।পেছনে ঘুরতেই ভড়কে গেল কল্পনা।গোলগাল মুখখানা লজ্জায় লাল হয়ে উঠল তার।সাহিত্য ঠোঁটের কোনে দুষ্ট হাসি নিয়ে কেমন বেহায়ার মতো কল্পনার দিকে দেখছে।

গত রাতের কথা চিন্তা করতেই জড়োসড়ো হয়ে গেল মেয়েটা।সাহিত্যের প্রতিটা গভীর স্পর্শ এখনো যেন অনুভব করতে পারছে সে।কাল রাতে সাহিত্য যেন এক ভিন্ন ব্যক্তি হয়ে গিয়েছিল।যেই ব্যক্তির মনে হয় এক মাত্র লক্ষ ও উদ্দেশ্যই ছিল কল্পনাকে মন উজাড় করে ভালোবাসা।প্রেয়সীকে আদর করার কোনো কমতিই রাখেনি।কল্পনা মাঝে মাঝে ভেবে পায় না,সে কি কখনো সেই ভালোবাসা পুষিয়ে দিতে পারবে?হয়তো পারবে না।তার জন্য পাগল প্রায় এই পুরুষের ভালোবাসার মাত্রা দেখে বরাবরই অবাক হয় কল্পনা।নিজেকে হয়তো ধরণীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবতীও মনে করে মাঝে মাঝে।

প্রেয়সীকে কাল এতো কাছে পাওয়ার পরেও যেন তৃষ্ণা মেটেনী সাহিত্যের।কেমন আবেগি চাহনিতে দেখে আছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভাবনায় বিভোর প্রেয়সীকে।এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে নেশালো কণ্ঠে কল্পনাকে কাছে ডাকল সে,

"জান কাছে আয় না,একটা চুমু খাব"

ভাবনায় বড় রকমের ছেদ পরল কল্পনার।ভাবনার সব ভালো কথা উপেক্ষা করে তেতে উঠলো সে,

"কিছুক্ষণ আগের এতগুলো দিয়ে পেট ভরেনি?"

সাহিত্য কল্পনাকে মাথা থেকে পা অব্দি একবার পরখ করল,

"এই গেটাপে পুরাটাই আমার প্রপাটি ফিল দিচ্ছিস।তোর এই মারাত্মক গেটাপ দেখার পর ওগুলো সব কতক্ষণেই হজম হয়ে গিয়েছে"

সাহিত্যের নেশা ধরা কন্ঠ ও চাহনিতে আরেক দফা যেন কাবু হয়ে গেল মেয়েটা।টিশার্টটা আরেকটু টেনে কোনো রকম নজর সাহিত্যের দিকে শীথিল রেখে আবার হালকা তেতে উঠল,

"আমার কাপড় কই?"

মুখে হাসি রেখেই ঠোঁট উল্টালো সাহিত্য,

"আমি কি জানি?"

সরু চোখে সাহিত্যকে দেখল কল্পনা। লোকটা দিনকে দিন ফাজিল হয়ে যাচ্ছে।

"তো আমি কি পড়ে বাইরে যাব এখন?"

"কেন তোর গায়ে কি কাপড় নেই?"

সাহিত্যের অসভ্যমার্কা কথায় তেতে উঠল কল্পনা,

"আমি এটা পড়ে রুম থেকে বের হবো?"

মুখ দিয়ে 'চ' বর্গীয় শব্দ বের করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সাহিত্য,

"এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারি না আমি"

সাহিত্যের কথা শুনে কল্পনার ঠোঁট কিঞ্চিত ফাঁক হয়ে গেল।এটা তো কল্পনার বলা উচিত। দিন দিন অসভ্য হচ্ছে লোকটা।

কল্পনার ভাবনা ভেঙেচুড়ে দিয়ে তাকে কোলে তুলল সাহিত্য।পাজা কোলে নয়।সাহিত্যের এহেন কান্ডে কল্পনা কিছু মুহুর্ত স্তব্ধ রইল।আড় চোখে সাহিত্যের কমোড় জড়িয়ে ধরে রাখা তার পা দুটো দেখে কাপা গলায় তেতে উঠল সে,

"কি করছেন?নামান আমাকে?"

"তুই ই তো বললি তুই নাকি তোর রুমে যাবি"

সাহিত্যের কথা শুনে কল্পনা সাহিত্যের বুকে এলোপাথারি কিল বসাতে লাগলো,

"একদম আমাকে বাইরে নিয়ে যাবেন না।অন্তত এভাবে নাআআআ"

সাহিত্য কল্পনার কথার তোয়াক্কা না করে দরজার দিকে এগোতে লাগলো।এই লোকটা কল্পনার কথা শোনে না কেন? ঠোঁট উল্টিয়ে খুত খুত করে উঠল কল্পনা।দরজা পার হতেই সাহিত্যকে আষ্টেপিষ্টে ধরে গলায় মুখ লুকালো সে। এভাবে কেউ দেখলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।এর থেকে তো ভালো ছিল বাবার কাছে দুটা কথা শুনে নিতো।

কল্পনা হাবিজাবি ভাবতে ভাবতেই সাহিত্য কল্পনার রুমে ঢুকলো।সেটা বুঝতে পেরে শিং মাছের মতো লাফাতে লাগলো কল্পনা,

"নামিয়ে দেন আমাকে"

ঠোঁট বাকিয়ে কল্পনাকে দাড় করিয়ে দিল সাহিত্য।ওমনি কল্পনা তাকে তাড়া দিতে লাগলো,

"এখন বের হন তাড়াতাড়ি"

সাহিত্য গা ঝাড়া ভাব নিয়ে চোখ উল্টালো।ট্রাউজারের পকেটে হাত গুজে বলল,

"আমার টিশার্ট?"

ভ্রু কুচকালো কল্পনা,

"এটা এখনে নিতে হবে আপনাকে?পরে দেবোনি। ভাগেন এখন"

"ওই রুম থেকে এই রুমে যে ডেলিভারি করলাম,অন্তত ডেলিভারি চার্জ টা তো দে"

"কিসের চার্জ?..."

কল্পনার কুচকানো ভ্রু জোড়া নেতিয়ে গেল যখন সাহিত্য ঝুকে কল্পনার মাথার পেছনে এক হাত রেখে নিজের অধর জোড়া কল্পনার অধরে ছুয়ে দিল।ক্ষনিকের জন্য যেন কল্পনাও ঘোরে চলে গেল।হাত দুইখানা সাহিত্যের উন্মুক্ত পুরুষালী বুকে ঠেকিয়ে পা দুটো আলোক করে ধরল।সেকেন্ড কয়েক ওমনই যেন প্রেম বিনিময় চলল তাদের।

ক্ষণিক বাদে কল্পনা সাহিত্যের বুকে হালকা ধাক্কা দিয়ে দূরে সড়িয়ে দিল।মেয়েটার মুখখানা আবার লাল বর্ণ ধারন করেছে।নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে মিনমিনিয়ে বলল,

"হয়েছে,যান এখন"

প্রেয়সীকে পরম আবেগের নয়নে দেখে দরজা লাগিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল সাহিত্য।

দরজার দিকে তাকিয়ে থেকেই ঠোঁটে হাসি নিয়ে এক হাত দিয়ে বুকের কাছের টিশার্টখানা নাকে ধরলো কল্পনা। অমনি যেন ভ্যানিলা মিক্সড ল্যাভেন্ডার পারফিউম মিশ্রিত পুরুষালী ঘ্রাণটা শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেল তার।আপনা আপনি চোখ বুঝে এলো রমণীর।পুরো মুখো মন্ডল টিশার্টটা দিয়ে ঢেকে ধরে পা জোড়া হালকা দাপাদাপি করে উঠল সে।টিশার্টখানা আর ফেরতই দিবে না।গায়েব করে দিবে একদম।

#চলবে

রিচেক দেইনি।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন