ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (০৬)

#জেরিন_আক্তার

অধরা রুদ্রর পিছু নিয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত এলো। রুদ্র বুঝতে পারলো অধরা ওর পেছন পেছন আসছে। ও পেছন ফিরে দাড়ালো। অধরাও দাড়ালো। রুদ্র ভ্রু উঠিয়ে বলল,

“কিছু বলবি?”

অধরা থমথমে গলায় বলল,

“আসলে আমি না আব্বু ছাড়া আর কারো জন্য কফি বানাই না।”

রুদ্র হেয়ালি কণ্ঠে বলল,

“বেশ ভালো। তু্ই বানিয়ে খাওয়াবি কিনা সবই তোর ইচ্ছা। তবে মনে রাখিস আমার রুমে যেনো কফি না আসে। আর যদি আসে তাহলে নিজে বানিয়ে নিয়ে আসবি।”

অধরা হাবার মতো তাকিয়ে রইলো। রুদ্র চলে গেলো। নিচে এসে মা রুকাইয়াকে বলে বেরিয়ে গেলো গ্যারেজের দিকে। গ্যারেজে গাড়ি দুটো, একটা আরমান নেওয়াজ, আরেকটা আরিফ নেওয়াজের। আরমান নেওয়াজের গাড়িটা আবার নতুন। পনেরো দিনের মতো হয়েছে বাড়িতে এনেছে। রুদ্র চলাফেরার জন্য এটাই নিয়েছে। কয়েকদিন যাক দরকার হলে নাহয় কিনবে। আর তাছাড়াও একটা গাড়ি পড়েই থাকে।

ও গাড়িটা গ্যারেজ থেকে বের করে ড্রাইভ করে চলে গেলো। মিনিট দশেক পরে সামনে থেকে ইফতিকেও নিয়ে গেলো। ইফতি ওর মুখপানে তাকিয়ে বলল,

“কিরে এমন মুখ বানিয়ে রেখেছিস কেনো?”

“ধুর, আর বলিস না কিচ্ছু ভালো লাগে না।”

“কেনো কি হলো আবার? তোর ওই চাচাতো বোন কি রিজেক্ট করে দিলো?”

“না সেসব না। আসলে মেয়ে মানুষ পটানো ভাই এতো সোজা না। ওই অধরাকে বলেছি কফি বানিয়ে খাওয়াবি। ও বলল আমি শুধু আব্বুর জন্য বানাই। তাই বলে এসেছি আমার কাছে কফি এলে তু্ই বানিয়ে নিয়ে আসবি। এছাড়া যেনো কফি না আসে।”

ইফতি ভাবুক গলায় বলল,

“বাব্বাহ এতো বড় কথা বললি! তবে শিওর থাক বানিয়ে খাওয়াবে।”

রুদ্র ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,

“না রে ওর অনেক জেদ। আর ও ওর বাবার জন্যই কফি বানায়। আর কারো জন্য ছুঁয়েও দেখে না।”

ইফতি হেসে বলল,

“আরে ভাই চিন্তা করিস না। যে কথা বলে এসেছিস না, খাওয়াবে খাওয়াবে।”

“দেখা যাক কি হয়। একমাসের মধ্যে এই মেয়েকে পটাতেই হবে। নাহলে ওকে বিয়ে দিয়ে দিবে। এখন আর কি কি করে পটানোর ট্রাই করবো বলে দে তো!”

ইফতি ভাবুক গলায় বলল,

“শুনেছি মেয়েরা কেয়ারিং পার্টনার পছন্দ করে। সেক্ষেত্রে তু্ই ওকে সময়-অসময় কল দে। কল দিয়ে বলবি কি করছো, খেয়েছো কিনা, কিছু লাগবে কিনা।”

রুদ্র ভাবলো কথাটা। আসলেই তো ভালোই আইডিয়া। ইফতি বলল,

“নাম্বার থাকলে এখনই কল দে!”

“আছে, দাড়া।”

রুদ্র ফোনটা বের করলো। কালকে আদ্রর থেকে অধরার নাম্বারটা নিয়েছিল। তবে কল দিতে গিয়ে ওর মাথায় ভূত চাপলো। ও ইফতিকে বলল,

“ইফতি তোর ফোনটা দে তো! তোর নাম্বার থেকে কল দিয়ে একটু শয়তানি করি।”

ইফতি ফোনটা দিলো। রুদ্র নাম্বারটা উঠিয়ে বলল,

“নে তু্ই কথা বল!”

ইফতি ফোনটা হাতে নিয়ে বলল,

“আমি?”

“হুমম, তু্ই।”

“ভাই কি বলবো?”

“একটু ভালোভাবে কথা বলবি, বলবি আপনি প্রেম-টেম করেন নাকি? এটা-সেটা জিজ্ঞাসা করবি।”

ইফতি শয়তানি হেসে বলল,

“ঠিক আছে। তোর চাচাতো বোনকে নাহয় তোর আগে আমিই পটিয়ে ফেলবো।”

রুদ্র চোখ পাকিয়ে তাকালো। ইফতি হেসে বলল,

“সত্যিই পটিয়ে ফেলবো।”

ঠিক তখন অধরা কলটা রিসিভ করলো। এবং আননোন নাম্বার দেখে সালামও দিলো,

“আস্সালামুআলাইকুম!”

ইফতি স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

“ওয়ালাইকুম আসসালাম। অধরা বলছো?”

“হ্যা। কিন্তু আপনি কে?”

“আমাকে তুমি চিনবে না।”

অধরা ধরা গলায় বলল,

“কেনো? আপনার বাবা-মা কি নাম, ঠিকানা কিচ্ছু করে দেয়নি?”

“বিষয়টা তেমন না।”

“তাহলে কেমন?”

“আসলে অধরা তোমাকে না প্রতিদিন দেখি, কথা বলার চেষ্টা করি কিন্তু বলতে পারিনা। অনেক অনেক ইচ্ছে করে কথা বলতে কিন্তু কেমন একটা ভয় লাগা কাজ করে।”

অধরা কপাল কুচকলো,

“আমাকে কোথায় থেকে দেখেন? আসলে আপনার ধান্দা কি বলুন তো?”

“কি আবার ধান্দা থাকবে? আমি তোমাকে দেখি, তোমার সাথে কথা বলার বাহানা খুজি তুমি কি এর ধান্দা বুঝতে পারোনি? আচ্ছা তুমি কি রিলেশন করো?”

অধরা এবার বুঝতে পারলো এই ছেলের কথার ধরণ। ও রেগে গিয়ে বলল,

“এমন সাথে ওসব ফ্লার্ট মারতে আসবেন না। ফোন রাখুন। নাহলে আব্বুকে বলে হসপিটালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো।”

“আরে এমন করে বলছো কেনো? কাউকে ভালোবাসো কিনা বলোই না!”

অধরা টুস করে ফোনটা কেটে দিয়ে নাম্বারটা ব্লক করে দিলো। এসব ছেলেদের ওর ভালো করে চেনা আছে। ওর দরকার নেই এসব।

এদিকে ইফতি অধরার নাম্বারটায় আবার কল দিলো। যখন বুঝতে পারলো নাম্বারটা ব্লক করা হয়েছে তখন ও ভাবলেস কণ্ঠে বলল,

“কি মেয়েরে বাবা! এতো ডেঞ্জারাস। পাত্তাই দিলো না।”

রুদ্র হেসে বলল,

“যাক আলহামদুলিল্লাহ। চাচাতো বোনটা কত ভালো। আর ভাই তোকে থ্যাংকস।”

ইফতি রেগে গিয়ে বলল,

“এপর্যন্ত কোনো মেয়ের সাথে এমন করে কথা বলিনি। আর তোর চাচাতো বোন মুখের উপরে ব্লক করে দিলো।”

“ভালোই করেছে।”

“যা থাকবোই না। গাড়ি থামা। নেমে যাবো।”

“আরে সোনা ভাই আমার। রাগ করে না।”

______________

পরদিন সকালবেলা অধরা আর সোহা বাধ্য মেয়ের মতো পড়তে এসেছে। অধরা আজকেও রুদ্রর পাশের চেয়ারটায় সোহাকে বসিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলে রুদ্র আজকেও জানায় ও অধরাকে নিতে যাবে। অধরা আজকে না করলো না। কারণ প্রতিদিন না করলে সন্দেহ করতে পারে। যা ও কোনোমতেই করাতে চায় না।

পরীক্ষা শেষ করে অধরা বাহিরে এলো। সাথে জুঁই ও রাইমাও আছে। অধরা আশেপাশে তাকিয়ে দেখছে রাকিব আছে কিনা। ঠিক তখন চোখে পড়লো রাকিবকে। সাথে দুটো ছেলেকে নিয়ে এগিয়ে আসছে। অধরা দমে গেলো না। সাহস নিয়ে হাঁটা দিলো। রাকিব ওর সামনে দাড়িয়ে বলল,

“পরীক্ষা শেষ?”

অধরা হ্যা বা না কিছুই বলল না। অন্যদিক মুখ করে রইলো। রাকিব জুঁই আর রাইমাকে বলল,

“এই তোমরা যাও তো! সবসময় অধরার পেছনে পড়ে থাকো কেনো? একটু আলাদা হতে দাও না।”

অধরা কড়া গলায় বলল,

“এই তোরা কোথাও যাবি না?”

রাকিব ভ্রু উঠিয়ে পাশের ছেলেটাকে বলল,

“দেখ দেখ তোদের ভবিষ্যত ভাবির কিরকম রাগ। ঠিক আমার মতোই।”

কথাটা শুনে অধরা মুখ ভেঙচি দিলো। মনে মনে বলল—যদি আব্বুকে বলে দেইনা তাহলে তোর কথা বলার শক্তি থাকবে না।

রাকিব অধরাকে বলল,

“সবসময় এতো রাগ করো কেনো?”

অধরা আরও রেগে গিয়ে বলল,

“বাসায় যাবো। নাহলে দেরি হবে।”

রাকিব ওর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,

“তাও ঠিক। তাছাড়াও পরীক্ষা দিয়েও তো অনেক টায়ার্ড তাই না। যাও বাসায় গিয়ে রেস্ট নাও! আর পারলে একবার কল দিও।”

অধরা ওর কথা শুনে হনহন করে চলে গেলো। পেছন পেছন জুঁই আর রাইমাও গেলো। গেটের কাছে এসে দেখলো রুদ্র আসেনি। ও জুঁই আর রাইমাকে বিদায় দিয়ে দাড়িয়ে রইলো রুদ্রর অপেক্ষায়।

ওদিকে রাকিবকে ওর একটা বন্ধু বলল অধরা নাকি গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে। হয়তো কারো অপেক্ষায়। রাকিব কৌতূহল নিয়ে গেটের সামনে এলো। কোনো কথা ছাড়া অধরার থেকে দুই কদম পেছনে দাড়ালো। আর ওর দিকে তাকিয়ে হাসছিলো।

রুদ্রও এলো গাড়ি নিয়ে। আজকে আবার বেশ হাসিখুশি দেখা যাচ্ছে। ও গাড়ি থেকে নেমে অধরার কাছে এগিয়ে এলো। সাথে তীক্ষ্ণ চোখে ওর পেছনে থাকা ছেলেটাকেও খেয়াল করতে ভুল করলো না। রুদ্র অধরাকে বলল,

“গাড়িতে উঠ!”

অধরা গাড়িতে উঠলেই রুদ্র ওর পাশে এসে দাড়ালো। অধরার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,

“কিছু খাবি?”

“উহু। গাড়িতে উঠে আসুন।”

রুদ্র পাশ ফিরে গিয়ে গাড়িতে উঠল। অধরার চোখে পড়লো রাকিবকে। ও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। রাকিব রাগে ফুসতে ফুসতে ক্যাম্পাসে ঢুকলো। এই দেখে অধরা গভীর শ্বাস ছেড়ে রুদ্রকে বলল,

“দেরি করলেন কেনো?”

“অপেক্ষা করছিলি বুঝি?”

“হুমম। আপনিই তো বললেন যে আসবেন।”

“যদি না আসতাম তখন কি করতিস?”

“কি আর করতাম একাই চলে যেতাম।”

রুদ্র গাড়ি স্টার্ট দিলো। কিছুদূর আসার পরে একটা জায়গায় গাড়ি থামালো। আসার সময় অনিমা কিছু ওষুধ আনতে দিয়েছিলো রুদ্রর কাছে। ও সেগুলোই আনতে একটা ফার্মেসিতে গেলো। অধরা বসে আশেপাশে তাকিয়ে ছিলো। মিনিট দশেক পরে রুদ্র এলো। ও গাড়িতে উঠে বসলো। গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার সময় ওর জানালার পাশে এসে দাড়ালো একটা পিচ্চি মেয়ে। হাতে তার বেলী ফুলের মালা। রুদ্র জানালার কাচ নামিয়ে নিতেই একটা একটা ফুলওয়ালি মেয়ে বলল,

“ভাইজান ভাবির জন্য ফুলের মালা নিবেন?”

রুদ্র পাশ ফিরে অধরার দিকে তাকালো। অধরা কথাটা শুনেও না শোনার ভান করে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। রুদ্র মুচকি হেসে অধরাকে বলল,

“ফুল নিবি?”

অধরা হালকা মাথা নাড়িয়ে বলল,

“উহু!”

ও মুখে যতই বলুক নিবে না। কিন্তু ওর ফুলের প্রতি টানটা ছিলো। আর ফুল দেখলে কেই বা নিতে চাইবে না। ও ভাবলো রুদ্র যদি আরেকবার বলে তাহলে ও নিয়ে নিবে।

রুদ্র অধরার চোখের দিকে তাকালো। অতঃপর ঘাড় ঘুরিয়ে মেয়েটাকে বলল,

“সবগুলো দিয়ে দাও আমাকে।”

মেয়েটা খুশিই হলো একটু। বলল,

“সবগুলা নিবেন ভাইজান?”

“হুমমম।”

রুদ্র মেয়েটার থেকে সবগুলো মালা নিলো। অতঃপর ওয়ালেট থেকে চকচকে ১ হাজার টাকার একটা নোট দিয়ে দিলো। মেয়েটা এতো টাকা নিতে চাইছিলো না। অনীহা জানালো কয়েকবার। এরপরে রুদ্রই বলল ও খুশি হয়ে দিয়েছে।

রুদ্র ফুলের মালাগুলো অধরার দিকে এগিয়ে দিয়ে হেসে বলল,

“তু্ই এক ফুল। আর তোর জন্য এই ফুল নে।”

অধরা অনীহা জানালো না। হাতে নিলো। ওউ মনে মনে ফুলগুলো চেয়েছিলো। কিন্তু এতগুলো না কিনলেও পারতো। একটা হলেই হতো। ও একটা ফুলের মালা হাতে পড়ে রুদ্রকে বলল,

“একটা কিনলেই তো পারতেন। সবগুলো নিয়ে নিলেন কেনো? নষ্ট হবে না?”

উত্তরে রুদ্র বলল,

“নষ্ট হলে হোক। মেয়েটার কাছে থাকলেও তো নষ্ট হতো। তাই নিয়ে নিলাম। আর সবগুলো নেওয়ায় হয়তো মেয়েটা একটু বিশ্রাম নিতে পারবে।”

অধরা রুদ্রর কথা শুনে একটু মুগ্ধই হলো। রুদ্রকে দূর থেকে যতটা কঠোর ভেবেছিলো ঠিক অতটাও কঠোর নয়। মনের দিক থেকেও ভালো আছে।

রুদ্র কি যেনো একটা ভেবে ফট বলল,

“আচ্ছা অধরা, এই ফুলগুলো কি নিয়ে আবার সোহাকে দিবি?”

“অনেকগুলোই তো আছে। দুটো দিবোনি?”

রুদ্র নিরেট দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে বলল,

“সব জিনিসই কি ভাগ করে দিস ওকে?”

“হুমম।”

“কেনো?”

“বোন হয়তো আমার। ওকে আমি না দিলে কে দিবে?”

“ভালোই। তবে ফুলগুলো দিসনা।”

অধরা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

“কেনো?”

রুদ্র গভীর গলায় বলল,

“বলতে গেলে ধরে নে এটা তোর কাছে আমার ছোট্ট একটা আবদার। আমার কিনে দেওয়া ফুলগুলো তু্ই নিজের কাছেই রাখিস।”

অধরা মনে মনে বলল-আমি এমনিতেও দিতাম না, বুঝলেন।

রুদ্র পরপর বলল,

“আমার আবদার কি রাখবি না?”

অধরা ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,

“ঠিক আছে। আমার কাছেই রাখবো।”

রুদ্র ওর ডান হাতটা অধরার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

“প্রমিস কর!”

অধরা ইতস্তত হয়ে হাত রেখে বলল,

“ঠিক আছে। প্রমিস।”

প্রথমবার অধরার হাতে হাত রাখতে পেরে রুদ্রর একটু আনন্দই লাগলো। আপাতত এই আনন্দটা মনের মধ্যে চাপা দিয়ে গাড়ি ড্রাইভে মনোযোগ দিলো। গাড়িটা মিনিট বিশেক পরে নেওয়াজ বাড়িতে এসে থামলো। অধরা নেমে চলে গেলো ভিতরে। রুদ্র গাড়িটা পার্ক করলো না। গাড়িতে থেকে নেমে ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রল করতে করতে বাড়ির ভিতরে ঢুকলো।

রাত তখন ৯ টা বেজে ২০ মিনিট। অনিমা আর রুকাইয়া ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছেন। আর টুকিটাকি সংসারের কথা আলোচনা করছিলেন। একটু পরেই রুমে চলে যাবেন। পাশে অধরা বসে সোহাকে মেহেদী পড়িয়ে দিচ্ছিলো।

ওদিকে সিঁড়ির উপরে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অধরাকে দেখছে রুদ্র। কেউই খেয়াল করছে না বা কারো ধারণাতেই নেই রুদ্র ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্র ভাবতে লাগলো কি করে একটু অধরাকে কাছে আনা যায়। ঠিক করলো নিচে গিয়ে অধরাকে বলবে মাথাটা একটু ম্যাসাজ করে দিতে। তাছাড়া আর তেমন কোনো আইডিয়া মাথায় আসছে না।

যেই ভাবা, সেই কাজ। রুদ্র নিচে নেমে সোফায় বসলো। আর সোহাকে বলল,

“সোহা মাথাটা সেদিনের মতো একটু ম্যাসাজ করে দে তো!”

অধরা অমনি রুদ্রর দিকে তাকালো। মনে মনে বলল, সেদিন কি সোহা ম্যাসাজ করে দিয়েছিলো? আমি নিজেই তো দিয়েছিলাম। আর কি মিথ্যে কথা বলছে। আর উনি কি দেখতে পাচ্ছে না সোহার হাতে মেহেদী।

সোহা হাত উঠিয়ে বলেই উঠল,

“ভাইয়া, দেখো আমার হাতে মেহেদী। আর সেদিন তো অধরা আপুই তোমাকে মাথা ম্যাসাজ করে দিলো ভালো করে। আপুকে বলো।”

পাশ থেকে অনিমা মেয়েকে বললেন,

“অধরা রুদ্র কি বলছে শোন। সেদিনের মতো মাথাটা ম্যাসাজ করে দে।”

অধরা মেহেদী রেখে উঠে রুদ্রর পেছনে এসে দাড়ালো। আলতো করে হাত রাখলো রুদ্রর কপালে। এর একটু পরে অনিমা আর রুকাইয়া চলে গেলেন। সোহারও ভালোই ঘুম পাচ্ছে। ঘুম ঘুম মুখশ্রী নিয়ে বলল,

“আপু আমার না ঘুম পাচ্ছে। চলে গেলাম।”

“আরেকটু থাক! আমাকে ফেলে চলে যাবি?”

“আপু খুব ঘুম পাচ্ছে।”

রুদ্র বলল,

“যা গিয়ে ঘুমা। ওকে বলার কি আছে। রাতে কি ওকে নিয়ে ঘুমাবি?”

সোহা চলে গেলো। বেচারি অধরা শেষে একাই রইলো। রুদ্র চোখ বন্ধ করে বলল,

“এই শোন না অধরা!”

“হ্যা বলো!”

“কালকে ঘুরতে যাবি?”

“আমার পরীক্ষা আছে কালকে।”

“পরীক্ষা দিয়ে সন্ধ্যার পরে যাবো।”

“বাড়ির সবাই কি মনে করবে? কি বলে নিয়ে যাবেন?”

“ওটা আমার উপরে ছেড়ে দে। শুধু বল তু্ই যাবি কি না?”

“কিন্তু আব্বু যদি কিছু বলে?”

রুদ্র গম্ভীর কণ্ঠে শুধালো,

“বললাম তো আমি সামলে নিবো। তু্ই যাবি কিনা সেটা বল?”

অধরা নিশ্চুপ হয়ে কিছুক্ষণ পরে উত্তর দিলো,

“ঠিক আছে যাবো। আর সোহাকে সাথে নিবেন?”

রুদ্র ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,

“সকালে বলবো।”

“ঠিক আছে।”

এরপরে দুজনেই নিশ্চুপ। আধঘন্টা পার হলো। অধরার হাত ব্যাথা করতে শুরু করলো। সাথে ওর ঘুমও পাচ্ছে। ও বলল,

“রুদ্র ভাই, এখন না ঘুম পাচ্ছে। চলে যাই!”

রুদ্র চোখ বন্ধ করেই বিড়বিড় করে বলল,

“চলে গেলেই তো গেলি। আবার সেই সকালে দেখা পাবো।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন