ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

১৪তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (১৪)

#জেরিন_আক্তার

অনিমা অধরার বিয়ের কথাটা বলে আরমান নেওয়াজের দিকে তাকালেন। সে যে রেগে গিয়েছে অনিমার সেটা বুঝতে বাকি রইলো না। এরপরে মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে আর কোনো কথা তুললেন না। আরমান নেওয়াজ গম্ভীর হয়ে গিয়ে আরিফ নেওয়াজের পাশে বসলেন। অধরা পার্সেলটা নিয়ে উপরে চলে গেলো। রুমে এসে পার্সেলটা খুলে শাড়িটা দেখলো। যেমন চেয়েছিলো তেমনই পেয়েছে। শাড়িটা আরও কিছুক্ষন দেখে কাভার্ডে তুলে রাখলো। আর ঠিক করে রাখলো কোনো একটা বিশেষ দিনে পড়বে এটা।

রাত প্রায় ১ টা ছুইছুই ………

রুদ্র আর ইফতি রুমে ফিরলো। দুজনে একই রুম নিয়েছে। ইফতি পাঞ্জাবী-পাজামা খুলে একটা টি-শার্ট আর শর্ট প্যান্ট পড়ে এসে ওর বেডে শুলো। রুদ্রও পাঞ্জাবী-পাজামা খুলে টি-শার্ট আর শর্ট প্যান্ট পড়ে ওর বেডে এসে শুলো। রুমটায় সিঙ্গেল দুটো বেড, দুজনেই কোনো কথা ছাড়া যে যার মতো শুলো। ইফতি নিজের মতো ঘুমিয়ে গেলো। রুদ্র ফোনটা হাতে নিলো। সেইযে অধরাকে মেসেজ দিয়ে সাইলেন্ট করে রেখেছিলো এরপরে আর মেসেজ দিয়েছে কিনা আর দেখাই হয়নি। অধরা কোনো মেসেজ দিয়েছে নাকি, তাই দেখতে হোয়াটস্যাপে ঢুকলো। কিন্তু কোনো মেসেজই দেয়নি। রুদ্র আশ্চর্য হলো। মেসেঞ্জারে ঢুকলো সেখানেও কোনো মেসেজ দেয়নি। মনে মনে বলল—আমি যেই মেসেজ দিয়েছি সেটা দেখে তো কোনো রিএক্ট করে মেসেজ দেওয়ার কথা। কিন্তু দিলো না কেনো?

এদিকে অধরা বিভরে ঘুমাচ্ছে। ফোনটা তখন ছুড়ে মেরে ডিসপ্লে নষ্ট করে ফেলেছে। সকালে তার বাবাকে বললেই ঠিক করে দেবে।

পরদিন সকালবেলা রুদ্রর ঘুম ভাঙতেই আবার ফোনটা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। অধরাকে এখনও একটিভ দেখতে পাচ্ছে না। ভাবলো অধরা কি রাগ করেছে! কিন্তু রাগের মতো তো কোনো কথা বলেনি।

দুপুরের দিকে আরিফ নেওয়াজ অধরার ফোনটা ঠিক করে ড্রাইভারকে দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ড্রাইভার এসে অধরাকে ফোনটা দিয়ে গিয়েছে। অধরা রুমে না গিয়ে ড্রইং রুমেই বসলো। ফোনটা উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখে শুরুতেই ফেসবুকে ঢুকলো। সামনেই পড়লো রুদ্রর দেওয়া স্টোরি। সাথে সাথে চাপ দিয়ে দেখলো, রুদ্র, ইফতি আর নাফিজ একসাথে ছবি তুলেছে। সবার গালেই হলুদ লাগানো। আশেপাশের লাইটে ছবিটা আরও বেশি ঝলমল করছে। অধরা স্টোরিটা স্ক্রিনশর্ট নিয়ে নিলো। এরপরে ছবিটায় হা হা রিএক্ট দিয়ে রাখলো। এতেই যেনো ওর খুশি দ্বিগুন হলো। এরপরে রুমে চলে এলো। এর কয়েক মিনিট পরেই সোহা এলো। অধরা ফোনটা রেখে বিছানায় বসে বলল,

“আয় বস!”

সোহা বিছানায় বসে বলল,

“কি করছো?”

“কিছুনা।”

“আপু রুদ্র ভাইকে মিস করছো?”

অধরা হেসে বলল,

“কিহ! মিস করবো!”

“কেনো করছো না বুঝি?”

“উহু।”

“সত্যিই?”

“হুমমম।”

রুদ্র ফোন হাতে নিয়ে অধরার হা হা রিএক্ট দেখে তৎক্ষণাৎ ফোন দিলো অধরাকে। আর এখন কল দিতেই পারে, ইফতির দেওয়া চ্যালেঞ্জের সময়ও শেষ। এদিকে সোহা চলে যাওয়ার পরে অধরা রিডিং টেবিলটা গুছিয়ে রাখছিলো। তখন রুদ্রর কল আসে। অধরা কলটা রিসিভ করলো। রুদ্র ভেবেছিলো হয়তো অধরা কলটা ধরবে না, বা সময় নিবে ধরতে। কিন্তু সাথে সাথে কল ধরায় রুদ্র বেশ অবাক। রুদ্র স্বাভাবিক গলায় অধরাকে বলল,

“কিরে কেমন আছিস?”

“ভালো। আপনি কেমন আছেন?”

“ভালো। তো স্টোরিতে হা হা রিএক্ট কেনো দিলি?”

“আমার হাসি পেয়েছে তাই দিয়েছি।”

“ওই পোস্টে হাসির কি পেলি? আমরা কি নাচছিলাম নাকি কোনো ফানি মোমেন্টের ছবি ছিলো?”

“দেখুন ছবিতে যাই ছিলো না কেনো, আমার হাসি পেয়েছে তাই হা হা রিএক্ট দিয়েছি।”

“তু্ই হা হা দিবি কেন? কয়েকশো লোক স্টোরি দেখলো কই তাঁরা তো হা হা দেয়নি, আর তোরই দিতে হবে। কেনো লাভ রিয়েক্ট চোখে পড়েনি?”

“না পড়েনি।”

“এরপরে শুধু দিয়ে দেখিস তোর হাড্ডিগুড্ডি ভেঙে ফেলবো।”

“এহ, আসছে হাড্ডিগুড্ডি ভাঙতে।”

“কথা তা না, সকালে থেকে এইপর্যন্ত একটিভ ছিলি না কেনো?”

“এমনেই।”

“তো এখন কি করছিস?”

“কিছুনা।”

রুদ্র বাকা হেসে জিজ্ঞাসা করলো,

“তো কালকে বয়ফ্রেন্ডের সাথে কেমন ঘুরলি?”

“ভালো।”

“আমি বাড়িতে গেলে ওই ছেলেকে ডাকিস তো, কথা বলবোনি।”

অধরা গাল ফুলিয়ে বলেই দিলো,

“ওইটা আদ্র ভাই ছিলো।”

রুদ্র না বোঝার ভান করে বলল,

“কিহ আদ্র হবে কেনো? মিথ্যে বলছিস। আমি জানি ওইটা তোর বয়ফ্রেন্ড।”

“মোটেও সত্যি কথা জানেন না। ওইটা আদ্র ভাইই ছিলো। দাঁড়ান আমাদের ছবি দিচ্ছি। কালকে দুজনে ছবি তুলেছি।”

রুদ্র হেসে বলল,

“ছবি দিতে হবে না। আমি জানি ওইটা আদ্র ছিলো। আমি মাকে ফোন দিয়ে তখনই খোঁজ নিয়েছি বুঝেছিস।”

“ভালো হয়েছে। এখন একটা ইম্পরট্যান্ট কথা বলবো আপনাকে।”

“হা বল!”

“ভাইয়া মনে আছে ঐদিন একটা মেসেজ ভুল করে গিয়েছিলো।”

“হুমম। আবার কি হয়েছে সেটা নিয়ে?”

“কিছু হয়নি। তবে ওই মেসেজটা আদ্র ভাই দিয়েছিলো। আমার কাছে ভাইয়া স্বীকার করেছে।”

“ওহ হয়তো মজা করে দিয়েছে।”

“দিয়েছি ইচ্ছে মতো মার। এরপরে আর দিবে না।”

“তু্ই আমার ভাইকে মেরেছিস?”

“হুমম।”

“আর তু্ই যে মেঝো আব্বুর কাছে আমার নামে বিচার দিতে চেয়েছিলি দিয়েছিস?”

“না।”

“কেনো?”

“এমনেই।”

“ভালোই হলো। আচ্ছা রাখছি ডাকছে ইফতি পরে ফোন করবো।”

“ঠিক আছে।”

রাত দশটায় আবার রুদ্র অধরাকে কল দেয়। অধরা ফোন রেখে ড্রইং রুমে এসে টিভি দেখছিলো। তাই ফোনটা ধরতে পারেনি। রুদ্র আর দুবার কল দিয়ে শুয়ে পড়লো। এর পরপরই আরমান নেওয়াজ রুদ্রকে কল দিলেন।

“হ্যালো বাবা বলো!”

“কি করছো?”

“রুমে এসে ব্যাগ গুছিয়ে শুয়ে পড়লাম।”

“ওহ, কালকে কখন আসবে?”

“সকালে ইফতিকে নিয়ে রওনা দিবো, পৌঁছাতে দুপুর তো হবেই।”

“ঠিক আছে। আর অধরাকে নিয়ে কিছু ভাবলে?”

“হুমম। ভেবেছি। বিয়ে করবো ওকে। কিন্তু এখনই মেঝো আব্বুকে বললে ভাববে যে তোমাদের চাপে পড়ে ওকে বিয়ে করতে চাইছি। এখন কালকে বাড়িতে এসে তোমার আর মায়ের সাথে আলোচনা করছি।”

“কথাটা ঠিকই বলেছো। আচ্ছা তাহলে বাড়িতে এসো।”

রুদ্র ফোনটা রেখে গভীর একটা শ্বাস ছাড়লো। ইফতি ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

“কিরে টেন্স মনে হচ্ছে?”

“হুমম। অধরাকে নিয়ে।”

“আবার কি হলো?”

“ওর সাথে কিছু হয়নি। হয়েছে ওর বাবাকে নিয়ে সমস্যা। ওকে পেতে হলে ওর বাবার মন জয় করতে হবে। কিন্তু সেটা করবো কি করে তাই তো ভেবে পাচ্ছি না।”

ইফতি কিছুক্ষন ভাবলো, সাথে রুদ্রও। ইফতি বলল,

“অধরার বাবার পছন্দের জিনিস কি রে?”

“উনার পছন্দের জিনিস তো অধরাই।”

“তাহলে তু্ই অধরার সাথে সাথেই থাকবি। ওকে কেয়ার করবি। মনে কর একটু বেহায়ার মতো অধরার পেছন পেছনই থাকবি।”

রুদ্র চোখ ছোট-ছোট করে বলল,

“একটু বেশিই ছ্যাচড়ামো হয়ে যাবে না।”

“আরে তাই করতে হবে। নাহলে মনজয় করবি কি করে?”

“ঠিক আছে। ভালো ভালো আইডিয়া দিস।”

…………..

পরদিন দুপুর দুপুরে রুদ্র বাড়িতে এলো। এসেই রুমে লাগেজটা রেখে ওর মায়ের সাথে দেখা করে চলে গেলো অধরার রুমের দিকে। অধরা রুমে ছিলো না, ছাদে সোহার সাথে ছিলো। রুদ্র খুঁজতে খুঁজতে সেখানেই গেলো। দেখলো অধরা আর সোহা অন্যদিকে দাড়িয়ে আছে। সোহা পেছনে ফিরে রুদ্রকে দেখে যেই ডাক দিবে ঠিক তখন রুদ্র চুপ থাকতে বলল, আর ইশারা করলো চলে যেতে। সোহা বুঝতে পেরে আলগোছে অধরার কাছ থেকে পিছিয়ে গিয়ে চলে গেলো। রুদ্র টিপটিপ পায়ে এগিয়ে অধরার চোখ ধরলো। অধরা চোখের উপরে থাকা রুদ্রর হাত ধরে বলল,

“কিরে সোহা! পাশে থেকে এমন মজার কোনো মানে হয়! আর তোর হাত এমন হয়ে গেলো কেনো? কেমন যেনো ছেলেদের হাতের মতো।”

রুদ্র মুখ টিপে হাসছে। অধরার নাকে গেলো রুদ্রর পারফিউমের ঘ্রান। পরক্ষনেই বলল,

“রুদ্র ভাই!”

“হুমম।”

রুদ্র চোখ ছেড়ে দিতেই অধরা পেছনে ফিরে বলল,

“আমি ভেবেছিলাম হয়তো সোহা।”

“ওহ, পরে বুঝলি কি করে?”

“ওই আপনার পারফিউমের স্মেল পেয়ে।”

“ওহ।”

রুদ্র হাতে থাকা বেলী ফুলের মালা অধরার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“আজকেও আসার সময় ফুলগুলো পেয়েছিলাম তাই তোর জন্য নিয়ে এলাম।”

অধরা হাতে নিলো। অতঃপর বেলী ফুলগুলো নাকের কাছে নিয়ে শুকে হালকা হেসে বলল,

“থ্যাংক ইউ।”

“ওয়েলকাম।”

“মাত্র এলেন?”

“হুমম।”

“ফ্রেশ হননি?”

“উহু।”

অধরা আদেশ করে বলল,

“এক্ষুনি গিয়ে ফ্রেশ হবেন।”

রুদ্র হেসে বলল,

“আদেশ করছিস?”

“হুমম করছি। আপনি যে আমাকে আদেশ করেন। তাহলে আমি কি এই ছোট্ট আদেশ করতে পারি না।”

রুদ্র মাথা নাড়িয়ে বলল,

“হুম, পারিস। হাজারবার পারিস।”

“তাহলে যান গিয়ে ফ্রেশ হন।”

রুদ্র চলে গেলো। অধরা ফুলগুলো নিয়ে খুশি মনে রুমে ফিরলো।

সন্ধ্যায় আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ বসেছিলেন ড্রইং রুমে। দুজনেই নিজেদের মতো ফোন স্ক্রল করছিলেন। রুদ্রও এসে বসলো। আরিফ নেওয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল,

“মেঝো আব্বু একটা কথা বলবো?”

আরিফ নেওয়াজ ফোনটা পাশে রেখে বললেন,

“হ্যা বলো!”

“মেঝো আব্বু আমি তো একেবারেই চলে এসেছি। আর যাবো না।”

আরিফ নেওয়াজ হেসে বললেন,

“এতো ভালো কথাই।”

রুদ্র ওর বাবা ও মেঝো আব্বু দুজনকেই উদ্দেশ্য করে বলল,

“বাবা, মেঝো আব্বু তোমাদের দুজনকেই বলছি, অনেক ভেবে দেখলাম আমার যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরি করতে গেলে ভালো জায়গায়ই চাকরি পাবো। কিন্তু আমি তা কাজ করবো না যেহেতু আমাদেরই একটা কোম্পানি রয়েছে। আমি চাচ্ছি তোমাদের ওইখানেই কাজ করতে। তোমরা কি বলো!”

আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ দুজনেই বেশ সন্তুষ্ট হলেন রুদ্রর কথায়। আরিফ নেওয়াজ বললেন,

“রুদ্র সব তো তোমাদেরই ভবিষ্যতের জন্য করা। এতে আবার বলার কি আছে। কালকে থেকে যেও।”

“থ্যাংক ইউ মেঝো আব্বু।”

এর একটু পরেই অধরা নিচে এলো। প্রতিদিনের মতো আজকেও ওর বাবার জন্য কফি বানালো। ওর পাশেই অনিমা আবার রুদ্র ও রুদ্রর বাবার জন্য কফি বানালো। অধরা কফি নিয়ে এসে আরিফ নেওয়াজকে দিলো। আর অনিমা দিলো রুদ্র আর আরমান নেওয়াজকে। আরমান নেওয়াজ কফি নিলেন। কিন্তু রুদ্র নিলো না। অনিমাকে জিজ্ঞাসা করলো,

“মেঝো আম্মু কফি কে বানিয়েছে?”

অনিমা উত্তরে বললেন,

“আমি বানিয়েছি। কেনো?”

“খাবো না নিয়ে যাও কফি।”

অনিমা কপালে ভাজ ফেলে বললেন,

“কেনো তোর আবার কি হলো?”

রুদ্র অধরার দিকে তাকিয়ে বলল,

“অধরা যে পর্যন্ত কফি না বানিয়ে দিবে সে পর্যন্ত কফিই খাবো না।”

আরমান নেওয়াজ ছেলের কথায় কেশে উঠলেন। আরিফ নেওয়াজ রুদ্রর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন