ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

১৫তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (১৫)

#জেরিন_আক্তার

অনিমা রুদ্রর কথার উত্তরে হেসে বললেন,

“রুদ্র অধরা তো কফি বানায় না। যদিও বানায় ওর আব্বুর জন্যই।”

রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“সেটা কথা না। যদি আমি কফি খাই তাহলে অধরার বানানো কফিই খাবো।”

আরমান নেওয়াজ হেসে হেসে ছেলেকে বললেন,

“রুদ্র ও আশা বাদ দিয়ে দাও। অধরা কারো জন্য কফি বানায় না।”

রুদ্র অধরার দিকে তাকালো। অধরা চলে গেলো সিঁড়ির দিকে। সিঁড়ি বেয়ে মাঝখানে যেতেই আদ্র নামলো। অধরা শুধু শুধুই আদ্রর পিঠে কিল মেরে উপরে চলে গেলো। আদ্র পিঠে হাত দিয়ে বিড়বিড় করে বলল,

“উফ শয়তানটায় খালি খালি মারে।”

আদ্র নিচে নামলো। অনিমা আদ্রকে দেখে বললেন,

“ব্যাথা পেয়েছিস?”

আদ্র হেসে বলল,

“নাহ ব্যাথা পাবো কেনো? তোমার মেয়ের হাত না অক্টপাস। আমাকে দেখলেই পেঁচিয়ে মারতে মনে চায়।”

ওর কথায় আরমান নেওয়াজ, আরিফ নেওয়াজ দুজনেই হাসলেন। অধরা আর কিছু পারুক বা না পারুক, আদ্রকে দেখলে একটা না একটা কান্ড করবেই। আদ্রও অভ্যস্থ।

রুদ্র সবার থেকে উঠে রুমে ফিরে এলো। ফোনটা নিয়ে ব্যালকনিতে চলে গেলো। বেতের চেয়ারে বসে ইফতিকে কল দিলো।

“ইফতি কেমন আছিস?”

“এই ভালো। তু্ই কেমন আছিস?”

“ভালো।”

“তোর চাচাতো বউ অধরা কেমন আছে?”

“ভালোই। শুধু থেকে থেকে কেমন যেনো রেগে যায়। তবে এক ধমক দিলে আবার ঠিক হয়, নাহলে বুঝিয়ে বললে ঠিক হয়।”

“ওর রাগ তু্ইই কন্ট্রোল করতে পারবি। আর তাহলে সত্যিই তোদের পারিবারিক ব্যাবসায় অফিসে জয়েন করবি? বিদেশে যাবি না?”

“হুমম।”

“আর ইউ ম্যাট? রুদ্র তু্ই বিদেশে গিয়ে তিলে তিলে গড়ে তোলা নিজের স্বপ্নগুলো এভাবে নষ্ট করবি?”

রুদ্র শ্বাস ছেড়ে বলল,

“দরকার হলে তাই করবো। অধরাকে আমার চাই।”

“চাইতে তো কোনো দোষ নেই। তাই আর ফিরে যাবি না এটা মানা যাচ্ছে না ভাই।”

“না মানলেও মানতে হবে।”

“তবুও ভেবে দেখিস ভাই।”

“হুমম।”

ইফতির সাথে কথা বলতে বলতে রুদ্রর ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে মনে পড়লো অধরার কথা। সেদিন অধরা বলেছিলো ব্যালকনিটায় ফুলের গাছ এনে লাগাতে। ব্যালকনিটা নাকি ওর খালি খালি লাগে। আসলেই খালি খালিই তো। রুদ্র ইফতিকে বলল,

“ফুলের গাছ কোথায় পাওয়া যায় রে?”

“কেনো নার্সারিতে।”

“নার্সারিতে পাওয়া যায় সেটা তো আমিও জানি। কিন্তু নার্সারিটা কোথায়?”

“কালকে বের হোস দেখাবোনি।”

“ঠিক আছে।”

এদিকে আরিফ নেওয়াজ অধরার রুমে এলেন। অধরাকে কিছু নিয়ে চিন্তিত দেখে কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন,

“কি নিয়ে এতো ভাবছো?”

“রুদ্র ভাই তখন যে কফি বানিয়ে খাওয়ানোর কথা বলল সেটা নিয়ে। তুমি ছাড়া আমি তো কাউকে কফি বানিয়ে খাওয়াই না। একটা জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। সেটা কি করে পাল্টাবো?”

আরিফ নেওয়াজ মেয়ের পাশে বসে হেসে বললেন,

“কাউকে খাওয়াও না এখন থেকে খাওয়াবে।”

“উহু পারবো না।”

“পারবে না কেনো? সবাই কি বলেছে কফি খাবে! শুধু রুদ্র বলেছে। প্রতিদিন এক কাপ করে বানাও, কালকে থেকে নাহয় দুই কাপ বানাবে। রুদ্রও তো জেদ ধরে আছে। আর তুমিও জেদ ধরে রয়েছো।”

অধরা অনীহা জানিয়ে বলল,

“পারবো না আব্বু। দরকার হলে উনি সারাজীবন কফি না খেয়ে থাক, আমার কি!”

আরিফ নেওয়াজ মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে মোলায়েম কণ্ঠে বললেন,

“তোমার কিচ্ছু এসে যায় না আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু এতে কি বা হবে বলো মা। তুমি ওকেও কফি বানিয়ে খাওয়িও। ধরে নিও তোমার বাবার আদেশ এটা।”

অধরা জানে এখানে আর ওর কোনো কথা খাটবে না। বাবার কথাই শেষ কথা। শেষে অধরা মাথা নাড়িয়ে বলল,

“ঠিক আছে। তবে তোমাকে আগে এরপরে উনাকে।”

“আচ্ছা।”

রাত তখন ৯ টা বেজে ৪৭ মিনিট। সারাদিনের ব্যাস্ততা শেষ করে সবাই যে যার যার মতো শুয়ে পড়েছে। আদ্র নিজের রুমের ব্যালকনিতে বসে বসে সোহার ছবি দেখছিলো। আরেক হাতে ছিলো সিগারেট। রুদ্র একটা দরকারে এই রুমে এলো। ছোট ভাইয়েরই তো রুম। তাই আর নক করেনি। রুমে না পেয়ে সোজা ব্যালকনিতে চলে গেলো। আদ্র তড়িঘড়ি করে ফোনটা পকেটে নিয়ে উঠে দাড়ালো। রুদ্র আদ্রর হাতে সিগারেট দেখে অবাক কণ্ঠে বলল,

“তু্ই সিগারেট খাস?”

আদ্র সিগারেটটা ফেলে দিয়ে বলল,

“ওই আর কি মাঝে মাঝে। সবসময় না।”

রুদ্র আদ্রকে একটু ভয় দেখাতে শক্ত কণ্ঠে বলল,

“আমি তোর বড় হয়ে সিগারেট খাইনা। আর তু্ই আমার ছোট হয়ে সিগারেট খাস।”

আদ্র আস্তে করে বলল,

“সরি ভাইয়া।”

রুদ্র হেসে বলল,

“যা পাগল সরি বলতে হবে না। এমনেই মজা নিলাম। খা সমস্যা নেই। আসলে একটা দরকারে এসেছিলাম।”

“হ্যা বলো!”

“ল্যাপটপের চার্জার হবে? আমার টা যে কই রেখেছি মনে করতে পারছি না।”

আদ্র বলল,

“হ্যা চার্জার আছে। দাড়াও দিচ্ছি।”

রুদ্র আদ্রর থেকে চার্জারটা নিয়ে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার সময় অধরার রুমের দরজায় টোকা দিয়ে গেলো দুবার। অধরা বিছানায় থেকে নেমে দরজার খুলে দাড়ালো। আশেপাশে কাউকে দেখতে না পেয়ে বড়ই অবাক হলো। এতো রাতে কে নক করলো? আর নক করেই বা কোথায় হাওয়া হয়ে গেলো?

রুদ্র একটু উঁকি দিয়ে মুখটিপে হাসলো। অধরা পুনরায় রুমে ঢুকে গেলো। রুদ্র চার্জার দিয়ে ল্যাপটপ যেই চার্জ দিবে ঠিক তখন চোখে পড়লো ওর নিজের চার্জারটা সাইড টেবিলের কর্নারে পড়ে আছে। আদ্রর চার্জার রেখে নিজেরটা দিয়েই চার্জ দিলো। এরপরে আদ্রর চার্জারটা দিতে চলে গেলো। আদ্রর রুমে যেতে আবারও অধরার রুমের দরজায় নক করে গেলো। অধরা এবারও বের হলো। তবে কাউকেই পেলো না। এবার রেগে গেলো অধরা। সেখানেই দাড়িয়ে রইলো মিনিট পাঁচেক। এরপরে রুমে ঢুকে শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিলো।

রুদ্র আদ্রর চার্জারটা দিয়ে বলল,

“আদ্র একটা প্রাঙ্ক করবি?”

“কার সাথে ভাইয়া?”

“অধরা।”

“অধরা। তো কি নিয়ে প্রাঙ্ক করবে?”

“ভূতের ভয় দেখাবো।”

আদ্র ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,

“হবে না ভাইয়া। অধরা ভূতে ভয় পায়না।”

রুদ্র আদ্রর কাঁধে হাত রেখে বলল,

“পায়না, এবার পাবে।”

“কিন্তু ভূত সাজবে কে?”

“কেনো তু্ই।”

“না ভাইয়া আমি পারবো না। সোহাকে ডাকি, সোহা সাজবে।”

“না তু্ই।”

“কিন্তু….!”

“কোনো কিন্তু না। তু্ইই সাজবি।”

“ঠিক আছে। কি আর করার।”

“হুমম। আর যা সোহাকে ডেকে নিয়ে আয়।”

“তুমি বসো, যাচ্ছি।”

“হুমম।”

আদ্র সোহাকে ডেকে নিয়ে এলো। সোহা সাথে নিয়ে এসেছে সাদা একটা শাড়ি, আরেকটা সাদা ওড়না, ফেস পাউডার, কাজল, লিপস্টিক আর যা যা লাগে সব মেকআপই নিয়ে এলো। আদ্র অনেকবার না করেছে ভূত সাজবে না কিন্তু রুদ্রর জোরাজোরিতে সাজতেই হলো। রুদ্র আর সোহা মিলে আদ্রকে ভূত সাজালো। এখন অধরাকে ডাকার পালা। রুদ্র, আদ্র আর সোহা ছাদে চলে গেলো। আদ্র ভয় দেখাবে। আর সোহা রুদ্রর ফোন দিয়ে ভিডিও করবে। দুজনেই পজিশন মতো লুকিয়ে পড়লো। রুদ্র সোহাকে ফোনটা দেওয়ার আগে অধরাকে কল দিলো—

“অধরা ঘুমিয়ে পড়েছিস?”

“না, ঘুমাবো।”

“ওহ, একটু ছাদে আয় না।”

“হঠাৎ ছাদে কেনো?”

“একটু আয় না। বৃষ্টি আসবে একটু পরে, ওয়েদারটা সেই। সাথে তু্ই থাকলে আরও ভালো লাগবে। বেশি না জাস্ট দশমিনিট। রিকোয়েস্ট করছি তোর কাছে।”

“ঠিক আছে আসছি।”

অধরা ফোনটা রেখে বিছানায় থেকে নেমে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো। এদিকে রুদ্র ওর ফোনটা সোহাকে দিয়ে ছাদের মাঝখানে এসে দাড়ালো।

মিনিট পাঁচেক পরে অধরা এলো। রুদ্র ওকে দেখে ডাকলো,

“এখানে আয়।”

অধরা রুদ্রর সামনে এসে দাড়ালো। ওদের মাঝে দূরত্ব তাও দুইহাত। রুদ্র এক পা এগিয়ে এসে পকেটে হাত গুজে দাড়ালো। মিটিমিটি হেসে হেসে অধরাকে বলল,

“আচ্ছা অধরা আজকে সারারাত ছাদে থাকবি আমার সাথে? আই মিন তোর কাছে এটা কু-প্রস্তাবই দিলাম।”

“বৃষ্টি আসবে মনে হচ্ছে। এখনই চলে যেতে হবে। আর বলছেন সারারাত থাকতে।”

“বৃষ্টিতে ভিজেই নাহয় থাকলি। আর তোর কি মনে হয় তোকে ভিজতে দিবো।”

অধরা কোমরে হাত রেখে বলল,

“তাহলে কি করতেন শুনি?”

রুদ্র বাকা হেসে বলল,

“এই বুকে জড়িয়ে রাখতাম। বৃষ্টিকে ছুঁতেই দিতাম না।”

অধরা মুখ ভেঙচি দিয়ে অন্যদিক হয়ে দাড়ালো। রুদ্র অধরার পেছনে দাড়িয়ে বলল,

“ভালোবাসি।”

অধরা সামনের দিকে তাকিয়েই জিজ্ঞাসা করল,

“কাকে?”

“আছে একজন।”

“কে সে? আমাকে বলা যাবে না নাকি?”

“বিষয়টা তেমন না। সারপ্রাইজ থাকুক, জেনে যাবি।”

অধরা না বোঝার ভান করে বলল,

“আমি জানবো কি করে?”

রুদ্র জড়ানো গলায় বলল,

“বেশি সময় নিবো না। জানিয়ে দিবো তোকে।”

অধরা মনে মনে বলল—আমি জানি আপনি কাকে ভালোবাসেন। দেখা যাক কতদিন সময় নেন।

রুদ্র বলল,

“আমার দিকে ঘুরে দাড়া। তু্ইই যদি অন্যদিক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকিস তাহলে তোকে এখানে এনে কি লাভ হলো?”

অধরা ঘুরে দাড়ালো। টুকটাক কথাও বলতে শুরু করলো। রুদ্র আদ্রকে ইশারা করে আসতে বলল। আদ্র টিপটিপ পায়ে অধরার পেছনে এসে দাড়ালো। রুদ্রও অধরাকে কথার মাঝে এমনভাবে ডুবিয়ে রেখেছে যে এখন আদ্র ভয় দেখালে ভয় পাবেই। আদ্র অধরার কাঁধে হাত রাখলো। অধরা চুপ হয়ে গেলো। রুদ্র সামনে দাঁড়িয়ে, তাহলে কাঁধে হাত রাখলো কে? কথাটা ভাবতে ভাবতে পেছনে ফিরতেই আদ্র দুহাত তুলে শব্দ করে ভয় দেখায়। অধরা ভয় পেয়ে চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করে সামনে রুদ্রকে জড়িয়ে ধরলো। আচমকা এমন হওয়ায় রুদ্র কিছু সেকেন্ড শকড হয়ে দাড়িয়ে রইলো। পরক্ষনেই আবার মুচকি হাসলো।

আদ্র সেখানে থেকে চলে এলো সোহার কাছে। সোহাকে ফিসফিস করে বলল,

“এই নিচে চল! ওরা ওদের মতো থাকুক। ভিডিও টা এইপর্যন্ত রেখেই চল।”

সোহা ভিডিও বন্ধ করে ফোনটা পাশে রেখে রুদ্রকে ইশারা করে দেখালো। এরপরে আদ্রর সাথে চলে গেলো। দুজনেই দোতালায় এসে থামলো। আদ্র সোহাকে জিজ্ঞাসা করলো,

“এই সোহা মুখের এই লিপস্টিক, সাদা রঙ এগুলো কি করে উঠাবো? এগুলো কি যাবে?”

“যাবে, একটু দাড়াও আমি আসছি।”

সোহা দৌড়ে চলে গেলো। আদ্র সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। আরমান নেওয়াজ বাহিরে থেকে বাড়িতে এলেন। মেইন দরজা বন্ধ করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে এলেন। আর সামনে ভূতরূপে আদ্রকে দেখে একটু ছিটকে উঠলেন। আদ্র সাথে সাথে হাই তুলে বলল,

“বাবা আমি আমি আদ্র। ভয় পেওনা। প্রাঙ্ক করতে এমন সেজেছি।”

আরমান নেওয়াজ কপাল কুঁচকে এগিয়ে এসে আদ্রকে ধরে বললেন,

“তুমি তুমি এমন হয়েছো কেনো?”

“আসলে ওই ট্রুথ, ডেয়ার খেলছিলাম। সেখানে রুদ্র ভাই ভূত সাজতে বলেছিলো।”

“ওহ, মাত্র যদি না বলতে আমি আদ্র তাহলে আমিও ভয় পেয়ে যেতাম।”

“ওহ।”

সোহা এলো। হাতে মেকআপ রিমুভ করার জিনিস। আদ্র সোহাকে বলল,

“এগুলো দিয়ে কি আবার মেকআপ করে দিবি নাকি?”

“আরে এগুলো দিয়ে মেকআপ রিমুভ করে। তোমার মুখের লিপস্টিক, মেকআপ উঠিয়ে দিবো।”

“ওহ।”

আরমান নেওয়াজ বললেন,

“যাই করো একটা রুমে গিয়ে করো, নাহলে কেউ এসে দেখলে হৈচৈ বাঁধিয়ে দিবে।”

আদ্র বলল,

“হুমমম, ঠিক বলেছো। এই সোহা আমার রুমে আয়।”

“চলো!”

এদিকে অধরা ভয় পেয়ে রুদ্রকে শক্ত করে ধরে আছে। রুদ্রও কিছু বলছে না, বললেই হয়তো চলে যাবে। থাকুক না এই বুকে যতক্ষণ থাকতে পারে। রুদ্র আরও মিনিট পাঁচেক কোনো কথা ছাড়াই দাড়িয়ে রইলো। অধরা তখনও রুদ্রর শার্ট খামচে ধরে থরথর করে কাঁপছে। রুদ্র হাতটা উঠিয়ে অধরার মাথায় রাখলো। কোমল কণ্ঠে শুধালো,

“অধরা! অধরা! ভূত চলে গিয়েছে ভয় পাসনা।”

অধরা আমতা আমতা করে বলল,

“চ চলে গিয়েছে। উফ কি রকম দেখতে।”

“হুম। আর ভয় নেই।”

অধরা চোখ পিটপিট করে তাকালো। রুদ্রর বুকে নিজেকে দেখে ছিটকে দূরে সরে এলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখতে দেখতে আবার এক পা এগিয়ে এসে বলল,

“কোনোদিন ভূতে ভয় পাইনা। আজকে না ভয় পেয়ে গিয়েছি। কিন্তু ভূত বলতে তো কিছু নেই। তাহলে!”

রুদ্র তালে তালে বলে দিলো,

“আদ্র ভয় দেখিয়েছে।”

অধরা রেগে গিয়ে বলল,

“আজকে তো আদ্র ভাইয়ের খবর করে ছাড়বো।”

বলে হনহন করে চলে যেতেই রুদ্র পেছন থেকে অধরার হাত ধরলো। অধরা পেছনে ফিরে বলল,

“কি হলো হাত ধরলেন কেনো যেতে দিন।”

“এখন কি আদ্রকে মারতে যাবি?”

“মারবো না তো কি করবো? কতটা ভয় পেয়েছি আমি।”

“মারতে হবে না। এখন রুমে যাবি। যা করার সকালে।”

“কিন্তু!”

রুদ্র দাঁত চেপে বলল,

“আবার বেশি কথা বলিস, যা রুমে যা!”

অধরা পিটপিট করে তাকিয়ে চলে গেলো। রুদ্র ফোনটা হাতে নিয়ে অধরাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তোর পেছন পেছনই আসছি। যদি অন্যরুমে যেতে দেখেছি তাহলে আমার রুমে নিয়ে যাবো।”

অধরা বিড়বিড় করে বকতে বকতে নিজের রুমে চলে এলো।

এদিকে সোহা আদ্রর মেকআপ রিমুভ করছে আর হাসছে। আদ্র রেগে গিয়ে বলল,

“হাসি থামাবি! ভালো লাগছে না কিন্তু!”

“ঠিক আছে হাসবো না। তবে তোমাকে লিপস্টিক পড়ে ভালোই লাগছে।”

বলে আবার খিলখিল করে হেসে উঠল সোহা। আদ্র উঠে দাড়িয়ে বলল,

“আয় আমার ঠোঁট থেকে তোর ঠোঁটেও একটু দিয়ে দেই। তোকেও ভালো লাগবে।”

রুদ্র রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলল,

“ছি ছি শেষমেষ তোরাও।”

সোহা পেছনে ফিরে রুদ্রকে দেখে ঘাবড়ে গিয়ে আদ্রর দিকে তাকালো। আদ্র ঠাস করে কি ঠোঁটকাটা কথা বলে ফেললো। ওর কথাটা বলা ঠিক হয়নি। এই মুহূর্তে আদ্রই সোহাকে তাড়া দিয়ে বলল,

“তু্ই তোর রুমে যা, বাকিটা আমি করে নিবো।”

সোহা মাথা নিচু করে চলে গেলো। রুদ্র গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আদ্রর দিকে এগিয়ে এলো। আদ্রকে বলল,

“যা বলার আজই বলেছিস। এরপরে যেনো এমন বিহেব করতে না দেখি।”

আদ্র মাথা চুলকে বলল,

“আসলে ওইভাবে বলিনি কথাটা। ও অনেকক্ষণ ধরে হাসছিলো তাই রাগ করেই বলে ফেলেছি।”

রুদ্র শক্ত গলায় বলল,

“যে ভাবেই বলিস না কেনো? এখন যদি আমি না এসে অন্য কেউ আসতো তখন?”

আদ্র দৃষ্টি নিচে নামিয়ে বলল,

“সরি ভাইয়া, আর হবে না।”

রুদ্র তপ্ত শ্বাস ছেড়ে চলে গেলো। যা বলতে এসেছিলো তা আর বলল না।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন