ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

১৬তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (১৬)

#জেরিন_আক্তার

আরও একটা নতুন দিন….

আজ অধরা আর সোহার কলেজ খোলা। দুজনেই ঘুম থেকে উঠে যে যার মতো ব্যাস্ত রেডি হতে। রেডি হয়ে নিচে এসে দুজনের দেখা হলো। অধরা হাসিখুশি থাকলেও সোহার মনটা আজ ভীষণ ভার। রাতের সেই ঘটনার জন্যই এমন। তবে অধরা জানে না। সোহা ঠিক করেছে বাড়ি থেকে বের হয়ে ওকে বলে দেবে।

রুদ্রও আজ প্রথম নিজেদের অফিসে যাবে। সাথে যাবে আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ। আদ্র যাবে না। ও ভার্সিটিতে যাবে। প্রতিদিনের মতো আদ্র আজকেও অধরা আর সোহাকে সাথে নিয়ে যাবে।

আদ্র রেডি হয়ে নিচে এলো। অধরা ওকে দেখে দাঁত চেপে খাবার টেবিলে বসে রইলো। আদ্র রুদ্রর পাশে বসতে নিলে অধরা ডেকে বলল,

“ভাইয়া আমার পাশে বসো।”

আদ্র পা বাড়াতে নিলে রুদ্র আদ্রর হাত ধরে বলল,

“এখানেই যখন বসতে চেয়েছিলি, এখানেই বস।”

আদ্র রুদ্রর পাশেই বসলো। আর কেউ না জানলেও রুদ্র জানে অধরা আদ্রকে কি করতে পারে। রাতের ওই ভয় দেখানোর জন্য এখন নিশ্চই মারবে। তাই রুদ্র আদ্রকে যেতে দিলো না।

রুদ্র, আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ খাওয়া শেষ করে চলে গেলো অফিসের উদ্দেশ্যে। ওরা চলে যেতেই অধরা আদ্রকে একা পেলো। আর নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,

“ভাইয়া জানো রাতে না একটা ভূত এসেছিলো।”

আদ্রর গলা দিয়ে আর খাবার নামতে চাইলো না। তবে কি বুঝে গিয়েছে। আদ্র অধরার কথার উত্তর দিতে স্বাভাবিক হয়ে বলল,

“কি বলছিস ভূত? যা পাগল ভূত বলতে কিছু হয়না।”

অধরা হেসে বলল,

“হয় হয় আমি দেখেছি।”

“তাই?”

“হুমম। আর জানো সে ভূতটা কে?”

আদ্র আর সোহা দুজনে চোখ চাওয়া-চাওয়ি করলো। অধরা হেসে বলল,

“আরে তোমরাও না, এমনেই বললাম। সিরিয়াস হচ্ছো নাকি? আসলে ভূত বলতে কিছু হয়ই না।”

আদ্র হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“হুম, ঠিক বলেছিস। ভূত বলতে কিছু নেই।”

অধরা মনে মনে বলল—আজকে ভূত সেজে তোমাদের দুজনকে ভয় দেখাবো। তখন বুঝবে কেমন লাগে।

তিনজনে খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে গেলো। আদ্র গাড়িতে উঠল ড্রাইভ করতে। অধরা আদ্রর পাশে সোহাকে বসিয়ে নিজে ব্যাক সিটে চলে গেলো। ফোন নিয়ে স্ক্রল করতে শুরু করলো অধরা। সোহা থেকে থেকে আদ্রর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে। আদ্র শেষে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

“কিছু বলবি?”

“হুমম। রুদ্র ভাইয়া কি রাতে কিছু বলেছিলো?”

“না, তারপর আর কিছু বলেনি।”

“ওহ আচ্ছা।”

আদ্র ওদের দুজনকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে ভার্সিটিতে চলে গেলো। সোহা গাড়ি থেকে নেমেই অধরাকে বলল,

“আপু জানো রাতে কি হয়েছে?”

“কি হয়েছে।”

সোহা হাঁসফাঁস করতে করতে বলল,

“জানো রাতে আদ্র ভাই একটা কথা বলে ফেলেছিলো। সেটা আবার রুদ্র ভাই শুনে নিয়েছে।”

“তো কি বলেছিলো তোর আদ্র ভাই?”

“আসলে ইয়ে মানে আদ্র ভাই রাতে তোমাকে ভূতের ভয় দেখাতে ভূত সেজেছিলো। প্ল্যানটা রুদ্র ভাইয়েরই ছিলো। তো তোমাকে ভয় দেখানো শেষ হলে আমি আদ্র ভাইয়ের মেকআপ রিমুভ করে দিচ্ছিলাম আর ভাইয়ার ঠোঁটে লিপস্টিক পড়া দেখে হাসছিলাম। ভাইয়া তখন বলেছিলো যে আমার ঠোঁট থেকে তোর ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে দেই ভালো লাগবে। সেটাই রুদ্র ভাই শুনে নিয়ে বলেছে ছি ছি শেষমেষ তোরাও। এরপরে মনে হয় আদ্র ভাইকেও সাবধান করে দিয়েছে।”

অধরা ভাবুক গলায় বলল,

“করুক, তোরা প্রেম চালিয়ে যা। আমি আছি তোদের সাথে।”

__________________

কলেজ শেষ করে অধরা আর সোহা একটা রিক্সা নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো। ইচ্ছে করেই ড্রাইভারকে আসতে না করেছে। ওদেরও তো একটু স্বাধীনভাবে আরও পাঁচটা মানুষের মতো একা একা চলে আসতে। আজ তাইই করেছে। তার মধ্যে আবার আজকে মেঘলা মেঘলা ওয়েদার। ওদের বাড়িতে আসার পরপরই রুদ্র ফিরে এসেছে। তবে অধরা জানে না।

অধরা শাওয়ার নিতে যাবে ঠিক তখন বৃষ্টি শুরু হলো। অধরা রুম থেকে বেরিয়ে সোহার রুমে চলে গেলো। এসে দেখলো সোহা মাত্র শাওয়ার নিয়ে বের হলো। অধরা তবুও জিজ্ঞাসা করলো,

“সোহা বৃষ্টিতে ভিজবি?”

“আপু মাত্র গোসল করলাম। আরেকটু আগে বললে ভিজতে পারতাম।”

“ঠিক আছে থাক তাহলে, একাই যাচ্ছি।”

অধরা ছাদে চলে গেলো। এদিকে রুদ্রর দৃষ্টি থেকেও রেহাই পেলো না। রুদ্র ফরমাল ড্রেস চেঞ্জ করে টিশার্ট আর শর্ট প্যান্ট পড়ে চলে গেলো।

অধরা ছাদে এসে মুক্ত পাখির মতো বৃষ্টিতে ভিজছে। রুদ্র এসে ছাদের দরজা বন্ধ করে দাড়ালো। নাহলে আবার কোনো কথা বললে রেগে চলে যেতেও পারে অধরা। অধরা এগিয়ে এসে বলল,

“বৃষ্টিতে ভিজবেন নাকি?”

“হুমমম।”

অধরা রুদ্রর সাথে কথা বলে পুনরায় ফিরে এলো ফাঁকা জায়গায়। রুদ্র ঠাই দাড়িয়ে ঘাড় চুলকে বিড়বিড় করলো—ইশ বিয়ে করা বউটাকে এগিয়ে গিয়ে হাতটাও ধরতে পারছিনা। ইচ্ছে করছে এখনই বিয়ে করে ফেলি। যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।

রুদ্র তৎক্ষণাৎ অধরাকে ডাকলো,

“এই শোন আর ভিজিস না। ঠান্ডা লেগে যাবে নিচে চল!”

“আরেকটু থাকি।”

“না এখনই চল। আর একটা জায়গায় যেতে হবে।”

“কোথায়?”

“আছে, পরে বলবো। এখন নিচে চল!”

“আপনি চলে যান। আমি আরেকটু পরে যাবো।”

রুদ্র ধমক দিয়ে বলল,

“আবার বেশি কথা বলিস! নিচে চল!”

অধরা মিনমিন করে বলল,

“যাচ্ছি। ভালো করে বলতে পারেন না।”

অধরা গট গট করে এসে ছাদের দরজা খুলে চলে গেলো। রুদ্র ছাদের দরজা ভিতরে থেকে লাগিয়ে চলে এলো নিচে। দুজনকে একই সাথে ভিজে আসতে দেখে অনিমা দাঁড়িয়ে পড়লেন। মনে মনে ভাবলেন হয়তো দুজনের মাঝে ভালোবাসা জন্মাচ্ছে। অতঃপর অধরা আর রুদ্র তার মুখোমুখি হওয়ার আগেই চলে গেলেন। অধরা নিজের রুমে চলে এলো। আর রুদ্র ওর রুমে। দুজনেই শাওয়ার নিয়ে নিলো। সোহা এলো অধরাকে ডাকতে। অধরা শাওয়ার নিয়ে বের হতেই সোহা বলল,

“খাবে না?”

“হুম, দাড়া রেডি হয়ে নেই।”

“ঠিক আছে।”

অধরা আয়নার সামনে এসে চুলগুলো শুকাতে শুকাতে সোহাকে বলল,

“আদ্র ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে?”

“হুমম। ভাইয়াই ডাকতে পাঠালো। বলল যে অধরাকে ডেকে নিয়ে আয়, একসাথে খাই।”

“ওহ, দাড়া হয়ে এসেছে প্রায়। এখন চুল না শুকালে আর শুকবে না।”

“হুম।”

অধরা হেয়ার ড্রায়ারটা দিয়ে চুল শুকিয়ে ওড়নাটা গলায় পেঁচিয়ে বের হলো।

খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ হতেই রুদ্র সিঁড়ির কাছে এসে অধরাকে বলল,

“তোকে কি বলেছি মনে আছে?”

“কি বলেছেন?”

“ভুলে গিয়েছিস? বললাম না একটা জায়গায় যাবো।”

অধরা কোমরে হাত গুজে বলল,

“এখন বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে কি করে যাবেন শুনি?”

“যাবি না তাহলে?”

“উহু। পরে যাবো।”

“ঠিক আছে।”

সন্ধ্যার পরে আরমান নেওয়াজ, রুকাইয়া আর অনিমা আদ্রর সাথে কথা বলতে এলেন ওর রুমে। আদ্র শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিলো। মা-বাবা আর মেঝো চাচিকে দেখে উঠে বসলো। তিনজনই বিছানায় বসলেন। অনিমা আবার উঠে দরজা লাগিয়ে দিয়ে এলেন। আদ্র জিজ্ঞাসা করলো,

“কিছু বলবে তোমরা?”

রুকাইয়া বললেন,

“হুম। দরকারি কথা।”

“কি বলো!”

আরমান নেওয়াজ বললেন,

“তোমার বড় ভাইয়ের বিয়ের জন্য তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।”

“তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু কি কাজ?”

আরমান নেওয়াজ বুঝিয়ে বললেন,

“শোনো, রুদ্র এসেছে অনেকদিন পার হলো। বিয়ের কথাটা তো ঠিক সেভাবে উঠছেই না। সে হিসেবে তোমার কাজ অনেক। একটু পরে তুমি সবার সামনে আমাকে বলবে, বাবা আমি বিয়ে করতে চাই।”

আদ্র কপাল কুঁচকে বলল,

“আমি বিয়ে করতে চাই সেটাই বলতে হবে?”

“হুমম। তাই বলতে হবে। আর কিচ্ছু বলতে হবে। এরপরে তোমার মা আর মেঝো ভাবিই সব ম্যানেজ করে ফেলবে।”

“বাবা আমাকে আরও একটু ভালো করে বোঝাও।”

রুকাইয়া বললেন,

“শোন তু্ই সবার সামনে বলবি বিয়ে করতে চাস। মেয়ের বাড়ি থেকে চাপ দিচ্ছে। আমরা বলবো রুদ্র বিয়ে করেনি তু্ই কেনো আগে বিয়ে করবি। সেই হিসেবে তো রুদ্রর উপরে চাপ পড়বে। ও আর উঠে-পড়ে লাগবে বিয়ে করতে।”

আদ্র কিছু একটা ভেবে বলল,

“ঠিক আছে, তোমাদের প্ল্যান মতোই কাজ করবো।”

_____________

রাতের খাবার খেতে বসেছে সবাই। আদ্র ওর বাবার কথা অনুযায়ী এখন বিয়ের কথা বলবে। অধরাকে আগেই বলেছে ও একটা বিয়ের কথা নিয়ে একটু নাটক করবে। সোহাকে জানায়নি বলতে ওর অব্দি যেতেই পারেনি।

আদ্র সবার সামনেই আরমান নেওয়াজকে বলল,

“বাবা একটা বলতে চাই!”

“হুমম বলো!”

“বাবা আমি বিয়ে করতে চাই।”

সোহা কথাটা শুনতেই আদ্রর দিকে তাকালো। লাজুক চোখে তাকিয়ে একটু হেসে মাথাটা নত করে রইলো। আরমান নেওয়াজ আদ্রকে বললেন,

“বিয়ে করবে রুদ্র তো এখনও বিয়ে করেনি।”

পাশ থেকে রুকাইয়া এসে বললেন,

“রুদ্র বিয়ে করেনি এখন আদ্রর উপরেও বিয়ের চাপ পড়ছে। যে মেয়েকে ভালোবাসে সে মেয়ের বাড়িতে চাপ দিচ্ছে।”

সোহা তৎক্ষণাৎ আদ্রর দিকে তাকালো। আদ্র চোখ সরিয়ে ওর বাবার দিকে তাকালো। সোহা টলমল চোখে প্লেটের দিকে তাকালো। না উঠতে পারছে, না ওর গলা দিয়ে খাবার নামছে।

আরমান নেওয়াজ খেতে খেতে বললেন,

“রুদ্র আগে বিয়ে করুক। আদ্রর বিয়ে নাহয় ঠিক করে রাখবো।”

আরিফ নেওয়াজ এতক্ষন কোনো কথা বলেননি। শেষে আদ্রকে বললেন,

“আদ্র মেয়েটার বাড়ি কোথায়? তুমি ঠিকানা দিও, আমরা নাহয় বিয়ে ঠিক করে আসবো।”

আদ্র মনে মনে বলল—নাটক করতে গিয়ে ফেঁসে গেলাম নাকি? ও অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো রুকাইয়ার দিকে। রুকাইয়া আবার অনিমার দিকে তাকালো। অনিমা এগিয়ে এসে আরিফ নেওয়াজকে বললেন,

“আপনি আমার বোনের মেয়ে ঝিলিককে দেখেছেন না। জীবনের বোন। ঐতো ঝিলিককেই আদ্র পছন্দ করে। আসলে দুলাভাই ঝিলিকের জন্য ছেলে দেখেছে, বিয়েটাও তাড়াতাড়ি দিতে চায়। সেক্ষেত্রে বুঝতেই তো পারছেন।”

আরিফ নেওয়াজ আরমান নেওয়াজকে বললেন,

“ভাইজান কি বলেন, কথা বলতে যাবেন?”

“হুমম। ছেলে যখন পছন্দই করেছে তাহলে তো বিয়ের কথা বলতে যেতেই হবে। কিন্তু রুদ্রকে বিয়ে না করিয়ে ওর বিয়েটা ঠিক করে রাখবো কি করে?”

রুদ্র ওর বাবার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে গেলো। কথাটা গিলে প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইলো। ভাবতে লাগলো যা করার তাড়াতাড়িই করতে হবে। তবে আদ্রর প্রেমটা ওর মাথায় ঢুকছে না। যতদূর জেনেছিলো ও সোহাকে ভালোবাসে। এখন আবার অন্যদিকে ঘুরে গেলো কেনো?

সোহা আর খাবার খেলো না উঠে চলে গেলো। আদ্র সেদিকে তাকিয়ে অধরাকে ইশারা করলো। ইশারা মাথা নাড়িয়ে বোঝালো-ও সোহাকে বোঝাবে।

অধরা খাওয়া শেষ করে। সোজা সোহার রুমে চলে গেলো। সোহা ওর রুমে নেই। অধরা ওর রুমের ব্যালকনি আর ওয়াশরুমে খুজলো কিন্তু পেলো না। তাহলে গেলো কোথায়? অধরা দৌড়ে চলে গেলো ছাদে। কিন্তু ছাদের দরজা ভিতরে থেকে বন্ধ। সেখানে থেকেও চলে এলো অধরা। পরপর সব রুমগুলোতে উঁকি দিয়ে দেখলো কিন্তু কোথাও পেলো না। অধরা রুমে এলো। সেখানে এসে দেখলো সোহা শুয়ে কাঁদছে। অধরা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,

“তু্ই এখানে আর আমি তোকে কোথায় না খুঁজেছি।”

সোহা উঠে বসে অধরাকে ধরে কাঁদতে লাগলো। অধরা কোনোরকম ওকে ছাড়িয়ে দরজা বন্ধ করে এসে সোহাকে ধরলো। সোহা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“আদ্র ভাই আমাকে ভালোবাসে না। ঠিকই অন্যজনকে বিয়ে করে নিবে।”

অধরা সোহার মাথায় হাত রেখে বলল,

“শোন আমার কথা, আদ্র ভাই বিয়ে করবে না। বিয়ে তোকেই করবে।”

“মিথ্যে বলো না আপু। আমি জানি ভাইয়া ওই ঝিলিক আপুকেই ভালোবাসে। আর আমার সাথে ঝাড়ি মেরে কথা বলে। আমাকে ভালোবাসে না।”

“তোকে বলেছি না ভাইয়া তোকে ভালোবাসে। তু্ই কি আমার কথা বিশ্বাস করিস না। এতই অবিশ্বাস আমার উপরে।”

“তাহলে বলো, ভাইয়া কেনো সবার সামনে ঝিলিককে বিয়ের কথা বলল?”

অধরার কাছে এই প্রশ্নর উত্তর নেই। তাই ও চুপ হয়ে রইলো। আদ্র বলেছিলো বিয়ের নাটক করবে কিন্তু এমন নাটক সেটা ওর ধারণাতেই ছিলো না। সোহা অধরার বুক থেকে উঠে চোখ-মুখ মুছতে মুছতে বলল,

“আমি আব্বুকে কল দিবো। বলবো এসে যেনো আমাকে নিয়ে যায়। আমি থাকবো না এইখানে। আমি সহ্য করতে পারবো না এতকিছু।”

অধরা সোহাকে শান্তনা দিতে বলল,

“আমি আছি না, তু্ই এতো হাইপার হচ্ছিস কেনো? শুয়ে থাক আমি একটু আসছি। এক্ষুনি আসবো কাদঁবি না একদম।”

অধরা বিছানায় থেকে নেমে দরজা খুলে চলে গেলো। এসে ঠেকলো রুদ্রর ঘরের সামনে। নক না করেই ঢুকলো। রুদ্র বিছানায় শুয়ে ইফতির সাথে কথা বলছিলো। অধরা এসে বিছানার এক কোণে দাড়িয়ে রইলো। রুদ্র কল কেটে দিয়ে বলল,

“কিছু বলবি?”

“হুমম।”

“বল!”

অধরা বিছানার এক কোণে বসে বলল,

“আদ্র ভাইয়া না সোহাকে ভালোবাসে। এখন সবার সামনে ঝিলিক আপুকে বিয়ের কথা বলছে। তারপর থেকে সোহা কেঁদেই চলেছে। এখন কি করবো?”

রুদ্র উঠে বসে বলল,

“তু্ই কি ওদের প্রেমের ওকালতি করিস?”

“কিহ?”

“না মানে, আদ্রর কিছু হলে তোর কাছে সাহায্য নেয়। আবার সোহার কিছু হলে তোর সাহায্য নেয়। তাই বলছিলাম।”

“বাজে কথা বন্ধ করে একটা আইডিয়া দিন।”

রুদ্র গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“আইডিয়া পরে। আগে আমার কেসটা সল্ভ করতো।”

“আপনার আবার কি হলো?”

“একটা মেয়েকে ভালোবাসি, মেয়েটার বাবা একটা একটা আতঙ্ক বলতে পারিস। উনার মনজয় করবো কি করে রে?”

অধরা ছোট-ছোট চোখ করে তাকিয়ে রইলো। কথাটা যেনো ওর গায়েই বিধলো। রুদ্র মনে মনে বলল—এই যা কি বলে ফেললাম।

অধরা উঠে দাড়ালো। আর শক্ত গলায় বলল,

“যেদিন ওই মেয়ের নামসহ বলতে পারবেন আমাকে। সেদিন সাহায্যের কথা বলবেন। এর আগে অহেতুক ভনিতা করে কথা বলবেন না।”

কথাটা শেষ করে গট গট করে বেরিয়ে গেলো। রুদ্র বিছানায় থেকে নামতে নামতে বলল,

“বাপ একটা আতঙ্ক। আর মেয়ে আরও বড় আতঙ্ক। এই অধরা…দাড়া মেয়ের নাম বলছি। যাস না!”

রুদ্র অধরার পেছন পেছন ছুটলো।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন