#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (১৮)
#জেরিন_আক্তার
রুদ্র ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে দেখলো অধরা রুম থেকে চলে গিয়েছে। বিছানা গোছানো দেখে বুঝলো অধরাই গুছিয়ে দিয়ে গিয়েছে। রুদ্র ভাবলো অধরার মাঝে এতো চেঞ্জ কি কালকে ভালোবাসি কথাটা বলার পর থেকে নাকি। ভাবতে ভাবতে কফিতে চুমুক দিলো রুদ্র। পরক্ষনেই মাথা নাড়িয়ে বলতে বাধ্য হলো—হুম, মন্দ না। ভালোই কফি বানায়। এর জন্যই হয়তো ওর হাতের কফি এতো এক্সপেন্সিব।
এদিকে অধরা রুমে ফিরে রেডি হলো। এর মাঝে আরিফ নেওয়াজ এলেন। অধরার দিকে মনভরে তাকিয়ে রইলেন। এই এক মেয়েই যেনো তার সব। মেয়ের কাছে এলেই সব চিন্তা দূর হয়ে যায়। তিনি অধরার সাথে টুকটাক কথা বলে চলে গেলেন। অধরা পুরোপুরি রেডি হয়ে চলে গেলো সোহার কাছে। সোহাকে ডেকে নিচে নামলো।
রুদ্র রেডি হয়ে নিচে নেমে দেখলো আরমান নেওয়াজ, আরিফ নেওয়াজ আর আদ্রর খাওয়া প্রায় শেষ। রুদ্র খাবার টেবিলে বসতে বসতে আরমান নেওয়াজকে বলল,
“বাবা আমার অফিসে যেতে দেরি হবে তোমরা অপেক্ষা করো না চলে যাও।”
আরমান নেওয়াজ বললেন,
“ঠিক আছে, সাবধানে এসো।”
আরমান নেওয়াজ, আরিফ নেওয়াজ চলে গেলেন বাহিরে। আদ্র গাড়ির চাবি নিয়ে সোহার দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে চলে গেলো। সোহা লাজুক হেসে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। এই দেখে রুদ্র মনে মনে বলল—আমারও সময় আসবে তখন তোরাও চেয়ে চেয়ে দেখবি। শুধু আর কয়টা দিন সময় দে।
অনিমা রুদ্রর প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে দিতে অধরাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“অধরা আজকে কলেজ ছুটি হলে কোথাও ঘুরাফিরা না করে তাড়াতাড়ি চলে আসিস তো।”
অধরা মাথা তুলে বলল,
“কেনো? কোথাও যাবে নাকি?”
“না এমনেই কাজ আছে একটু।”
“ঠিক আছে, চলে আসবো।”
----------------
অধরা গাড়ির কাছে এসে আগেই রুদ্রর পাশের সিটে বসলো। রুদ্র এই দেখে কপাল কুঁচকে গাড়িতে উঠল। প্রতিদিন তো বলে বলে পাশে বসাতে হয় ওকে আর আজকে আপনাআপনিই বসলো। অধরার এই পরিবর্তন খুব ভাবাচ্ছে রুদ্রকে। তবে কি অধরা ভালোবাসে বলবে।
রুদ্র স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে অধরাকে বলল,
“তোকে না আজ অন্যরকম লাগছে।”
অধরা তাকিয়ে রইলো। রুদ্র পরপর বলল,
“আচ্ছা তোর থেকে কিন্তু এখনও কোনো উত্তর পেলাম না।”
অধরা সিটে গা এলিয়ে দিয়ে বলল,
“আপনার একটুও ধৈর্য নেই। অপেক্ষা করতে চান না আপনি।”
রুদ্র ক্ষীণ হেসে বলল,
“হুমম। ধৈর্য নেই। তো আরও কি অপেক্ষা করতে হবে একটা উত্তরের জন্য?”
অধরা গভীর শ্বাস ছেড়ে হেসে বলল,
“ধৈর্য ধরুন। সঠিক সময় সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন।”
রুদ্র গভীর গলায় বলল,
“তবে নিরাশ করিস না। তোর জন্য সব ছেড়ে চলে এসেছি।”
অধরা রুদ্রর দিকে তাকিয়ে গভীর শ্বাস ছেড়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে রইলো।
দুপুরের দিকে রুদ্র একটু তাড়াহুড়ো নিয়েই আরমান নেওয়াজের কেবিনে ঢুকলো। সেখানে আরিফ নেওয়াজও ছিলেন। দুজনে কথা বলছিলেন। রুদ্র সোজা আরমান নেওয়াজকে বলল,
“বাবা আমি আধঘন্টার জন্য একটু বাহিরে থেকে আসছি। একটা কাজ পড়ে গিয়েছে।”
পাশ থেকে আরিফ নেওয়াজ বললেন,
“কোনো জরুরি নাকি?”
রুদ্র অবলীলায় বলে উঠল,
“মেঝো আব্বু অধরার কলেজ ছুটি হবে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। বাড়িতে গাড়ি নেই। দুটো গাড়িই অফিসে। এখন অধরাকে বাড়িতে রেখে আসতে যাবো।”
আরিফ নেওয়াজ কিছু বললেন না। তাজ্জব হয়ে বসে রইলেন। রুদ্রকে যত দেখছেন ততই অবাক হচ্ছেন। কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। মুখে গাম্ভীর্য ভাব নিয়ে বসে রইলেন। আরমান নেওয়াজ রুদ্রকে বললেন,
“যাও অধরাকে বাড়িতে রেখে এসো।”
………………
রুদ্র অধরার কলেজের সামনে এসে দেখলো গেটের কাছে কোনো স্টুডেন্ট নেই। ভাবলো কলেজ কি ছুটি হয়ে গিয়েছে। সাথে সাথে ডেস্কে থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখলো। কলেজ ছুটি হতে আরও ১০ মিনিট বাকি আছে। রুদ্র হাফ ছেড়ে ফোনটা নিয়ে গাড়ি থেকে নামলো। গাড়িতে হেলান দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।
এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো রুদ্রর এক ক্লাসমেট মীরা। মাঝে মাঝে মেসেজে কথা হয় ওর সাথে আর এই অনেকদিন পরে দেখা হলো। মীরা এগিয়ে এসে বলল,
“রুদ্র কেমন আছিস? কতদিন পরে দেখা হলো।”
“ভালো আছি। তু্ই কেমন আছিস?”
“ভালো। তো দেশে কবে এলি?”
“এই ১৫ দিনের মতো হবে।”
“জানালি না তো!”
“হুট্ করে এসেছি তো কাউকেই জানানো হয়নি।”
“ওহ। তো কলেজের সামনে কি করছিস? গার্লফ্রেন্ড আছে নাকি?”
রুদ্র হেসে বলল,
“গার্লফ্রেন্ড না বউ।”
“মানে? বিয়ে করলি কবে?”
“করেছিলাম কয়েকবছর আগে। এখন আবার অফিসিয়ালি বিয়ে করতে এসেছি।”
মীরা হেসে বলল,
“ওহ এবার বুঝতে পেরেছি।”
ওদের কথা বলতে বলতে কলেজ ছুটি হলো। অধরা সোহার সাথে বের হলো। গেটের কাছে এসে প্রথমেই অধরার চোখ গেলো রুদ্রর পাশে থাকা মেয়েটার দিকে। অধরা রাগে দাঁত চেপে এগিয়ে এলো। রুদ্র অধরার হাত ধরে মীরাকে বলল,
“মীরা ও অধরা। ওর কথাই বলছিলাম। আর অধরা.. ও মীরা। আমার ভার্সিটি লাইফের ক্লাসমেট।”
অধরা হেসে বলল,
“ভালো আছেন আপু?”
“হ্যা ভালো। তুমি ভালো আছো?”
“হুমমম।”
রুদ্র অধরা আর সোহাকে গাড়িতে উঠে বসতে বলল। ওরা তাই করলো। এদিকে রুদ্র মীরার কাছে বিদায় জানিয়ে বলল,
“তাহলে পরে কথা হবে ইনশাআল্লাহ। এখন যাই রে! আবার অফিসে যেতে হবে।”
“আচ্ছা। ভালো থাকিস।”
“তু্ইও। আর বিয়ের দাওয়াত রইলো।”
“অবশ্যই। তবে শোন, তোর পছন্দ আছে। খুব ভালো মানাবে তোর সাথে।”
“থ্যাংকস।”
“ওয়েলকাম।”
রুদ্র গাড়িতে উঠে বসলো। অধরা তো আলুর মতো মুখটা ফুলিয়ে রেখেছে। বাড়িতে আশা পর্যন্ত ওদের আর মাঝে আর কথা হয়নি। রুদ্র খুব তাড়াহুড়ো করেই ওদের নামিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে।
সন্ধ্যার দিকে আরমান নেওয়াজ, আরিফ নেওয়াজ, রুদ্র আর আদ্র বাড়িতে ফিরে এলো। আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ রুমে ফিরলেন। আদ্রও চলে গেলো। আর রুদ্র নিজের ঘরে না গিয়ে অধরার রুমে গেলো। ও তো বাড়িতেই নেই। ও গিয়েছে ওর মায়ের সাথে জীবনদের বাসায়। রুদ্র অধরাকে না পেয়ে সোহার রুমে এসে ওকে জিজ্ঞাসা করলো,
“অধরা কই রে?”
“আপু বড় খালামনির বাসায় গিয়েছে।”
“ওহ। জীবনদের বাসায় নাকি?”
“হুমম।”
“সাথে কে গিয়েছে?”
“মনি।”
“ফিরবে কখন বলে গিয়েছে?”
“হুমম, আজই ফিরবে।”
রুদ্র রুমে চলে এলো। অফিসের ফরমাল ড্রেস খুলতে খুলতে ভাবলো, আমি যদি দেশে থাকতাম তাহলে অধরা আজ আমার বউ হয়ে থাকতো। এমনকি কোথাও যাওয়ার আগে ওর কাছে বলেও যেতো। আজকের মতো এভাবে না বলে খালার বাড়িও যেতে পারতো না। পরক্ষনে ভাবলো আদ্র সেদিন শয়তানি করে যে মেসেজ দিয়েছিলো, সেটাও সত্যি হতো। ও যদি এই কয়বছর দেশে থাকতো তাহলে সত্যিই বাচ্চার বাপ হতো। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে রুদ্র নিজেই নিজের মাথায় গাট্টা মেরে বলল, “ছি রুদ্র তু্ই কিসব চিন্তা করছিস। আগে বিয়ে কর তারপর বাকিটা আল্লাহ ভরসা।”
এর পরপরই রুদ্র শাওয়ার নিয়ে, স্কাই ব্লু রঙের টি-শার্ট আর সাদা শর্ট প্যান্ট পড়ে নিলো। রুকাইয়া খাবার খেতে ডাকলেন। রুদ্র খাবার খেয়ে আবার রুমে চলে ফিরলো। তখনই ইফতি কল দিলো-
“রুদ্র কই তু্ই?”
“বাড়িতে কেনো?”
“একটু আয় তো একটা জায়গায় যাবো।”
“এখন?”
“হুমম, বেশি দূরে যাবো না। যা পড়ে আছিস ঐভাবেই আয়।”
“ওকে।”
রুদ্র আয়নার সামনে এসে চুলটা ঠিক করে, পারফিউম নিয়ে চলে গেলো। তার ঠিক আধঘন্টা পরেই অধরা আর অনিমা ফিরে এলো। অধরা রুমে ফিরে বোরখাটা খুলে সোহার রুমে এলো। সোহার রুমে আসার আগে আবার রুদ্রর রুমেও উঁকি দিয়ে এসেছে। তবে রুদ্রকে দেখতে পায়নি।
সোহা অধরাকে দেখতেই বলে উঠল,
“আপু এসেছো। তোমাকে রুদ্র ভাই খুঁজছিলো।”
“তাই নাকি?”
“হুমম।”
“তো কিছু বলেছে কি?”
“শুধু বলল অধরা কোথায় গিয়েছে, কখন আসবে? সাথে কে গিয়েছে।”
“ওহহ।”
অধরা সোহার সাথে মিনিট দুই কথা বলে রুমে এসে পড়তে বসলো। তবে মন কি আর পড়ার মধ্যে আছে! মনটা ঠিকই রুদ্রর কাছে। অধরা বই চাপিয়ে ফোনটা নিয়ে রুদ্রকে কল দিলো। রুদ্র যদি জিজ্ঞাসা করে কি জন্য কল দিয়েছিস বা কি হয়েছে সমাচার। এর উত্তরে অধরা কি বলবে এটাও ভাবলো না।
রুদ্র আর ইফতি গাড়িতে পাশাপাশি বসে কথা বলছিলো। দুজনের ফোনই ডেস্কে। রুদ্রর ফোন বেজে উঠল। ইফতি সোজা হয়ে সিগারেটটা ফেলে দিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বলল,
“ভাই তোর পিচ্চি বউ কল দিয়েছে।”
“কই দেখি!”
রুদ্র ফোনটা নিয়ে কল রিসিভ করতেই অধরা বলল,
“কোথায় আপনি?”
“কেনো মিস করছিস?”
“আসলে সোহা বলছিলো আমাকে নাকি খুঁজছিলেন তাই কল দিলাম। কিছু বলতে চেয়েছিলেন নাকি?”
রুদ্র বাকা হেসে বলল,
“এটা বাহানা দিচ্ছিস। আসলেই মিস করছিলি তাই কল দিয়েছিস।”
অধরা মুচকি হেসে বলল,
“মোটেও না।”
“তাহলে কি জন্যে কল দিয়েছিস বল শুনি!”
“ফিরবেন কখন?”
রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,
“কেনো আমাকে দেখতে পরাণ ছটফট করছে নাকি?”
অধরা হেসে ঝাড়ি মেরে বলল,
“ধুর, ভালো কথা জিজ্ঞাসা করছি আর আপনি কিসব উল্টো-পাল্টা কথা বলছেন। আমার কল দেওয়াটাই বেকার। থাকুন আপনি।”
“আরে শোন শোন! যা আর বলবো না। এখন কথা বল!”
“বললাম ফিরবেন কখন?”
“এই ১০টা-১১টা বাজবে।”
“ওহ।”
তখন রুদ্রর গাড়ির সামনে দিয়ে গেলো একটা ফুচকার স্টল। ও ফোনে থাকা অধরাকে বলল,
“অধরা ফুচকা খেতে আসবি?”
“কি করে যাবো?”
“আমি তোকে নিয়ে আসবো।”
অধরা অনীহা জানালো,
“না, এখন যাবো না। রাখলাম।”
“আরে শোন না, তু্ই রেডি হ। আমি ২০ মিনিটের মধ্যে আসছি।”
“পারবো না এখন।”
“কেনো পারবি না?”
“এখন আব্বু যেতে দিবে না। আর কি বলবো আব্বুকে।”
“তু্ই কি পরপুরুষের সাথে যাচ্ছিস নাকি? আমার সাথে যাবি। এখন ঝটপট বোরখা পড়ে গেটের সামনে আয়!”
অধরা জোর গলায় বলল,
“পারলে আব্বুকে বলে আমাকে নিয়ে যান। আমি নিজে নিজে বলে যেতে পারবো না।”
“ওকে আসছি।”
রুদ্র টুস করে কলটা কেটে দিলো। ইফতি বলল,
“তু্ই এখন সত্যিই বাড়িতে গিয়ে অধরাকে নিয়ে আসবি?”
“হুমম।”
ইফতি আফসোস ভরা কণ্ঠে বলল,
“আশেপাশে শুধু দেখেই গিয়েছি বন্ধুরা প্রেমে পড়লে তাঁদের আর ফ্রেন্ডশিপ আগের মতো থাকে না। তু্ইও তাই করলি! কই ভাবলাম তোর সাথে একটু ঘুরবো আর তু্ই এখানেও অধরাকে আনবি। বলি সারাদিন তো চোখের সামনে দেখতেই পাস। এখন আমার সাথে থাকলে হয়না!”
রুদ্র বলল,
“আরে তু্ই বুঝবি না। একটা প্রেম কর, নাহয় বিয়ে কর তাহলে তু্ইও বুঝবি।”
“উপায় নেই ভাই। বিয়েই করতে হবে।”
___________
রুদ্র গেটের কাছে গাড়ি থামিয়ে নামলো। ইফতি গাড়িতেই রইলো। রুদ্রই থাকতে বলেছে। রুদ্র তড়িৎ পায়ে বাড়িতে ঢুকে চলে গেলো অধরার বাবা-মায়ের রুমের দিকে। আরিফ নেওয়াজ রুমেই বিছানায় বসে ফোন স্ক্রল করছিলেন আর অনিমার সাথে টুকটাক কথা বলছিলেন। রুদ্র দরজার সামনে এসে দাড়িয়ে বলল,
“মেঝো আব্বু আসবো?”
আরিফ নেওয়াজ সোজা হয়ে বসে বললেন,
“ওহ, রুদ্র এসো।”
রুদ্র তার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বলল,
“মেঝো আব্বু একটা কথা বলতে এসেছি।”
“হ্যা বলো!”
রুদ্র সোজা গলায় বলল,
“মেঝো আব্বু অধরাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাই!”
আরিফ নেওয়াজ অনিমার দিকে তাকালেন। রুদ্র তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পরপর বলল,
“অধরাকে বলেছি কিন্তু ও বলল, যদি আমি তোমাদের থেকে পারমিশন নিয়ে ওকে নিয়ে যেতে পারি তাহলেই যাবে। তবে বেশি দূর নিয়ে যাবো না। সামনেই একটা প্লেস আছে, সেখানে ওকে ফুচকা খাইয়ে নিয়ে চলে আসবো।”
কথাগুলো বলে থামলো রুদ্র। অনিমা অনেকটা আশাবাদী হয়ে তাকিয়ে রইলেন আরিফ নেওয়াজের দিকে। আরিফ নেওয়াজ কিছু সেকেন্ড ভাবলেন। রুদ্রর মাঝে অধরার জন্য তৈরী হওয়া অনুভূতি, ভালোবাসা, টান তাকে এবারের মতোও মুগ্ধ করলো। তিনি স্বাভাবিক গলায় বললেন,
“ঠিক আছে নিয়ে যাও। তবে রাত হয়েছে কিন্তু। বেশি দূর নিয়ে যেও না। সাবধানে রেখো।”
রুদ্র খুশি হয়ে হেসে বলল,
“আচ্ছা। তাহলে তুমি একটু আমার সাথে এসে অধরাকে বলোনা যেতে।”
আরিফ নেওয়াজ বিছানায় থেকে নেমে বললেন,
“চলো দেখি।”
চলবে....