ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৩২তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩২)

#জেরিন_আক্তার

অধরা আশাবাদী হয়েই আছে যে রুদ্র ওকে বিয়ে করার জন্য এখানে এনেছে। কিন্তু বিয়ে করবে রুদ্রর বন্ধু মেহেদী। অধরা তা বুঝতে পেরে হাফ ছেড়ে রুদ্রর হাত টান দিলো। রুদ্র একটু ঝুঁকতেই অধরা ফিসফিস করে বলল,

“আপনার বন্ধু বিয়ে করবে তাতে আমরা এখানে এসেছি কেনো?”

“কেনো আবার, বিয়ের সাক্ষী হবো আমরা দুজন।”

“কিহ! আমরা কেনো?”

“একটা বিয়ে হতে গেলে দুজন সাক্ষী লাগে। আর একটা কাপলই তো আরেকটা কাপলের সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে দিবে, এটাই কি স্বাভাবিক নয়?”

মেহেদী আর ওই মেয়েটা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো। এর বিয়ের সাক্ষী হলো রুদ্র আর অধরা। এর আধঘন্টা পরে অধরা আর সোহাকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে রুদ্র অফিসে চলে গেলো। অফিসে আসতেই আদ্র জিজ্ঞাসা করলো,

“ভাইয়া এতো দেরি হলো কেনো তোমার?”

“কাজী অফিসে গিয়েছিলাম একটু?”

আদ্র জিজ্ঞাসা করলো,

“কেনো?”

রুদ্র খোঁচা মেরে বলল,

“অধরা পড়া বোঝে না। তাই পড়া বোঝাতে কাজী অফিস দিয়ে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে এলাম। দেখি যদি মনটা ভালো হয়। বুঝিসই তো আমি এসেছি না, তাই পড়ালেখা করছেই না।”

আদ্র আর পুনরায় প্রশ্ন করলো না। ঐদিন রাতে সোহার রুম থেকে বেরিয়ে বলেছিলো পড়া বোঝাতে এসেছিলো। এরপরে থেকে রুদ্র এই এককথা নিয়েই পড়ে আছে। আদ্র রুদ্রর দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে ল্যাপটপ খুলল। আবার ফোনটা নিয়ে অধরাকে মেসেজ দিলো,

—তোরা নাকি কাজী অফিসে গিয়েছিলি? বিয়ে করে ফেলেছিস তোরা? আমাকে জানালিও না।

অধরা ক্লাসে থাকায় ফোনটা সাইলেন্ট করে রেখেছিলো। তাই মেসেজটা যে এসেছে টের পেলো না।

দুপুরে কলেজ ছুটির সময় অধরা ফোন বের করতেই আদ্রর মেসেজ দেখে লিখলো,

—না ভাইয়া বিয়ে করিনি আমরা। রুদ্র ভাইয়ের বন্ধু মেহেদী বিয়ে করলো। সেখানে সাক্ষী বানিয়েছে আমাদের।

অধরা ফোন স্ক্রল করতে করতে এসে গেটের সামনে দাড়ালো। রুদ্র আগেই এসে দাড়িয়ে আছে। সাথে ফোনে কথা বলছে। অধরা রুদ্রর অগোচরে মুচকি হেসে এগিয়ে এসে গাড়িতে উঠে বসলো। সাথে সোহাও। দুজনেই ব্যাক সিটে বসেছে। এরপরে রুদ্রও ফোনে কথা বলতে বলতে এসে গাড়িতে উঠল। কথা বলা শেষ করে গাড়ি স্টার্ট দিলো। স্টিয়ারিংটা ধরে লুকিং গ্লাসে বারবার অধরার দিকেই তাকাচ্ছিলো। সোহা আবার মশকরা করে বলল,

“ভাইয়া আপুকে দেখার জন্য সারাজীবন পড়ে আছে। তুমি এখন সামনে তাকিয়ে ড্রাইভ করো। বাড়িতে যাবো আব্বু-আম্মুর কাছে।”

রুদ্র সামনে তাকিয়ে মিনিট পাঁচেক ভালো করে ড্রাইভ করলো। আবারও লুকিং গ্লাসে অধরাকে দেখলো। সোহা দেখার আগেই আবার সামনে তাকালো। অতঃপর গভীর গলায় গুনগুন করে গান আওড়ালো—

“টাল মাটাল মনটা কিছু…..

তোমায় বলতে চায়…..!

বেসামাল ভাবনা গুলো…..

তোমায় ছুতে চায়…..!

আমি শুধু চেয়েছি তোমায়…..

আমি শুধু চেয়েছি তোমায়…..!

আমি শুধু চেয়েছি তোমায়…..

আমি শুধু চেয়েছি তোমায়…..!”

অধরা পেছনে থেকে লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে আছে রুদ্রর চোখের দিকে। রুদ্রও তাকালো। দুজনের চোখা-চোখি হতেই অধরা মিটিমিটি হাসতে হাসতে জানালার দিকে তাকালো। রুদ্রও মিটিমিটি হেসে ঘাড় চুলকিয়ে ড্রাইভে মনোযোগ দিলো।

রাতে সোহা চলে গেলো ওর মায়ের ঘরে। ওর মা-বাবা বসে কথা বলছিলেন রুকাইয়ার সাথে। সোহা সবার মাঝখানে গিয়ে ওর মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। আর বলল,

“আম্মু ঘুমিয়ে পড়লে ডাকবে না কিন্তু। আমি এখানেই ঘুমাবো।”

নাজমা হেসে বললেন,

“ঠিক আছে তু্ই ঘুমা।”

আদনান নেওয়াজ মেয়েকে বললেন,

“আমরা চেষ্টা করছি, যদি আশেপাশে একটা কলেজে ট্রান্সফার হতে পারি। তোমার আম্মুকে এবার সাথে নিবো না। তোমার সাথেই থাকবে।”

সোহা উঠে বসে বলল,

“আব্বু…সমস্যা নেই তো। আমি তো বাচ্চা না, আর বাড়ির সবাই তো আছেই। কত মানুষ তো মেসে, হোস্টেলে থাকে আর আমি তো বাড়িতেই সবার সাথেই আছি। সবাই বেশি দেখাশোনা করে আমাকে। তুমি নিশ্চিন্তে থাকো। আর আম্মু এখানে থাকলে তোমার ঐখানে অসুবিধা হবে।”

আদনান নেওয়াজ বললেন,

“দেখি ভেবে-চিন্তে।”

রুকাইয়া একটু পরে চলে গেলেন। আদনান নেওয়াজ শুয়ে পড়বেন বলে দরজা লাগিয়ে বিছানায় এসে বসলেন। তখন রুদ্রর মেসেজ পেলো একটা। মেসেজটা দেখে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে নাজমাকে বললেন,

“তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো আমি আসছি।”

আদনান নেওয়াজ ড্রইং রুমে এসে রুদ্রর পাশে বসে বললেন,

“অফিস কেমন কাটলো আজকে?”

“ভালোই।”

“তোরাই ভালো একসাথে থাকতে পারিস। কেনো যে চাকরি করতে গেলাম, দূরে দূরে থাকা লাগতেছে।”

“আবার কাছে চলে আসবে, চিন্তা করো না তো এতো। ভালো চাকরিই তো করছো। চলো একটু বাহিরের দিকে যাই, কথা আছে তোমার সাথে।”

আদনান নেওয়াজ উঠে দাঁড়ালেন। রুদ্র তাকে ধরে নিয়ে গেলো বাহিরের দিকে। আদনান নেওয়াজ বললেন,

“বল এখন।”

“চাচ্চু, সোহাকে বিয়ে দেবে এখন?”

“বয়স আর কতই! এইচএসসি টা শেষ করুক।”

“চাচ্চু তোমার মেয়ে যদি শোনো প্রেম করছে তখন!”

“এটা তো প্রেম করারই বয়স। করছে, আমরাও দেখবো ছেলে কেমন।”

“সোহা প্রেম করছে চাচ্চু।”

“ছেলেকে দেখেছিস?”

রুদ্র বলল,

“ছেলেটা আর কেউ নয় সে আমারই ভাই আদ্র।”

আদনান নেওয়াজ কপালে ভাজ ফেলে বললেন,

“মজা করছিস। যা!”

“মজা না। আমি ওদের কেসটা ধরেছি। আর ওদের প্রেমের ওকালতি করে অধরা।”

আদনান নেওয়াজ অবাক কণ্ঠে বললেন,

“তাই নাকি?”

“হুমম। এখন বলো তুমি কি চাও? ওদের সম্পর্ক মানবে? আমার কাছে ডিরেক্ট এনসার দিবে।”

আদনান নেওয়াজ ভাবুক গলায় বললেন,

“এতক্ষনে তো চিন্তা ধরিয়ে দিলি বাপ। আমি মানলাম তারপর তোর বাবা যদি না মানে?”

“মানবে মানবে। আমি আছি, চিন্তা করো না। এখন একটা কাজ করতে হবে তোমাকে।”

“কি কাজ?”

“প্রথমত তুমি কাউকেই এই কথা আগেই বলবে না। ছোট আম্মুকেও না।”

“ঠিক আছে বিশ্বাস রাখ, বলবো না। কি কাজ সেটা বল!”

রুদ্র বলল,

“তুমি যেদিন চলে যাবে, তার আগের রাতে হুট্ করে সোহাকে বলবে তোমাদের সাথে যেতে। এমন ভাবে বলবে যেনো ও যেতে একপ্রকার বাধ্যই হয়। এরপরে দুদিন পরে বাড়িতে বলবে সোহাকে ঐখানেই রাখবে। এরপরে দেখবে আদ্র কি করে।”

আদনান নেওয়াজ রুদ্রর পিঠে চাপর মেরে বলল,

“বাপ তোর বুদ্ধি আছে বলা যায়।”

রুদ্র আবারও বলল,

“তুমি কিন্তু কাউকে বলবে না। ওই অধরার ওকালতি বের করবো।”

আদনান নেওয়াজ হেসে হেসে বললেন,

“নিজের বউয়ের বিপক্ষে যাস না। পরে বুঝবি এর মজা কি।”

ঠিক তখন গেট দিয়ে বাড়িতে ঢুকলেন আরমান নেওয়াজ, আরিফ নেওয়াজ। দুজনেই এগিয়ে এলেন রুদ্রদের কাছে। আরিফ নেওয়াজ আদনান নেওয়াজের কাধে হাত রেখে বললেন,

“মনে হচ্ছে গভীর আলোচনা?”

“তেমন কিছুই না রে!”

আরিফ নেওয়াজ রুদ্রকে বললেন,

“রুদ্র কালকে অধরাকে নিয়ে শপিংয়ে যেও!”

আদনান নেওয়াজ বললেন,

“কিসের শপিং যাবে ওরা?”

আরিফ নেওয়াজ বললেন,

“বিয়ের শপিং। দুজনে গায়ে হলুদে থেকে বিয়ের রিসেপশন পর্যন্ত যা যা লাগবে কিনে ফেলো।”

রুদ্র খুশিই হলো। মনে মনে বলল– রুদ্র তু্ই অবশেষে বউ পাবি। শশুর আব্বু থ্যাংকইউ।

রুদ্র খুশিতে যে কি করবে বুঝতে পারছে না। এরপরে হেসে আরিফ নেওয়াজকে বলল,

“তোমার মেয়েকে জানিয়ে আসি হ্যা। আর অফিসে বিয়ের পরে যাবো। টা টা।”

বলেই রুদ্র চলে গেলো। ওর কথায় তিনজনেই হাসলো। আরমান নেওয়াজ আদনান নেওয়াজকে বললেন,

“কয়েকদিনের জন্য ছুটি নে ভাই। বিয়ের পরে যাবি কলেজে।”

“হুমম, দেখছি ভাইজান।”

রুদ্র অধরার রুমে সামনে এসে জোরে জোরে দরজা ধাক্কাচ্ছে। অধরা তাড়াহুড়ো করে এসে দরজা খুলে দিলো। রুদ্র ফিচেল একটা হাসি দিয়ে বলল,

“কি করছিলি?”

“শুয়ে পড়বো।”

“আমাকে রেখেই?”

অধরা মশকরা করে বলল,

“তাহলে আসুন! আমিও আপনার অপেক্ষাই করছিলাম।”

রুদ্র পট করে এগিয়ে ভিতরে ঢুকলো। এরপরে প্রতিবারের মতো অধরার বিছানায় শুয়ে বলল,

“শশুর আব্বু মানে তোর আতঙ্ক নামের বাপটা। সে আমাকে বলল কালকে থেকে যেনো শপিং শুরু করে দেই বিয়ের।”

অধরা বুকে হাত গুজে দাঁড়িয়ে বলল,

“করবো না বিয়ে আপনাকে।”

“কেনো?”

“আপনি আমাকে বলেছেন আপনার ঘরে না যেতে। আপনি যদি বিয়ে করেন তাহলে তো আপনার ঘরে যেতে হবে। আর আমি অপমানিত জায়গায় ফিরে যাই না।”

রুদ্র উঠে বসে বলল,

“তু্ই এখনও সেই কথা নিয়ে পড়ে আছিস? এমনেই বলেছিলাম রে।”

অধরা এগিয়ে এসে বলল,

“মোটেও এমনি এমনি বলবেন না। আপনি বড় আম্মুর সামনে বলেছেন। ধমক দিয়ে বলেছেন।”

রুদ্র সে কথা গায়েই নিলো না। যেনো ও মজা করেই বলেছে। রুদ্র হাত বাড়িয়ে অধরাকে হেঁচকা টান দিলো। যেনো অধরা ওর গায়ের উপরেই পড়ে। আর তাই পড়লো। অধরা রুদ্র উপরে পড়ে যেতেই, রুদ্র অধরাকে জড়িয়ে ধরে বলল,

“একটু ধমক নাহয় দিয়েছি তাই রাগ করে থাকতে হবে। আয় একটু আদর করে দেই।”

অধরা ঝাড়ি মেরে বলল,

“অসভ্য লোক ছাড়ুন। এভাবে রাতের বেলা একটা মেয়ের রুমে আসতে লজ্জা করে না। আবার কু-প্রস্তাব দিচ্ছেন। আগে বিয়ে করুন তারপর বলবেন।”

রুদ্র অবাক কণ্ঠে বলল,

“তু্ই বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করছিস? আগে ভাবতাম শুধু আমিই এমন তাড়াহুড়ো করছি। আসলে তু্ইও আমার মতো…..”

কথাটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই অধরা বলল,

“উফ! সবসময় বেশি কথা বলেন। সরুন তো! সরুন!”

অধরা উঠার চেষ্টা করছে কিন্তু রুদ্র ওর কোমর পেঁচিয়ে ধরে আছে। ঠিক তখনই হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকতে চেয়েছিলো আদনান নেওয়াজ। রুদ্রকেই ডাকতে এসেছিলো। ওদের এমন ইঁদুর-বিড়ালের মতো ঝগড়া দেখে বিষম খেয়ে ওমনেই বেরিয়ে গেলেন। অধরা ওর ছোট চাচ্চুকে বেরিয়ে যেতে দেখে দাঁত চেপে বলল,

“ছোট চাচ্চু দেখে গেলো এবার তো ছাড়ুন। কি ভেবলো উনি আল্লাহ জানে।”

রুদ্র ছেড়ে দিয়ে শয়তানি করে বলল,

“যা ধরবোই না তোকে। বিয়ের পরেই ধরবো।”

অধরা উঠে বসে বালিশ ছুড়ে মেরে বলল,

“অসভ্য লোক, এখন বলে ধরবোই না। বিয়ের পরে ছুঁতেই দিবো না।”

রুদ্র মুখ বাকিয়ে বলল,

“আমাকে কি বাংলা সিনেমার নায়ক পেয়েছিস? তু্ই ছুঁতে দিবি না আর আমি ঘর থেকে বেরিয়ে মদ খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবো। অসম্ভব! এই রুদ্র নেওয়াজ নিজের জিনিস আদায় করবেই।”

অধরা উঠে গিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে বলল,

“ঝাড়ুটা যে কই রেখেছি!”

রুদ্র বিছানায় থেকে নেমে দৌড়েই চলে গেলো। অধরা বেশ রেগে আছে। আর রাগানো ঠিক হবে না। রুদ্র চলে যেতেই অধরা রাগে ফুসতে ফুসতে দরজা লাগিয়ে দিলো।

পরদিন দুপুরবেলা—

আরিফ নেওয়াজ অফিসে ছিলেন। তখন ডেলিভারি ম্যান কল দিলো। আরিফ নেওয়াজ টাকা ফোন পে করে দিয়ে পার্সেলটা দারোয়ানের কাছে দিয়ে যেতে বললেন। ডেলিভারি ম্যান তাই করলো।

এরপরে আরিফ নেওয়াজ অধরাকে কল দিলেন। বললেন,

“কি করছো আম্মু?”

“শপিং থেকে ফিরলাম আব্বু। আবার সন্ধ্যায় নিয়ে যাবে। তুমি কি করছো?”

“কাজ করছিলাম। শোনো তোমার কি যেনো পার্সেল সেটা মাত্রই দিয়ে গিয়েছে দারোয়ানের কাছে।”

“ওহ দিয়ে গিয়েছে। আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।”

“আচ্ছা যাও। আর পার্সেল নিয়ে কল দিও একটু কথা বলবো।”

“ঠিক আছে।”

অধরা ফোনটা নিয়ে বের হলো রুম থেকে। এরপরে চলে এলো দারোয়ানের কাছে। এর মাঝে আরিফ নেওয়াজ নিজেই কল দিলেন অধরাকে। কারণ এরপরে আর কথা বলার সুযোগ পাবেন না, মিটিং আছে একটা। এদিকে অধরা কলটা রিসিভ করে কাঁধ আর কানের মাঝখানে ঠেকিয়ে পার্সেলটা খুলতে লাগলো। আর বলল,

“হ্যা আব্বু বলো।”

ঠিক তখনই হলুদ রঙের থ্রি-পিস পড়া একটা মেয়ে এসে দাড়ালো। এ যুগের মর্ডান মেয়েও বলা যায়। চুলগুলো আবার কালার করা। অধরাকে জিজ্ঞাসা করলো,

“হাই!”

অধরা ফোনটা কানে থেকে নামিয়ে বলল,

“হ্যালো!”

মেয়েটা বাড়ির সাইনবোর্ডে ইশারা করে বলল,

“এটা তো নেওয়াজ বাড়ি।”

“হুমম। কাউকে দরকার?”

“আসলে এটা কি রুদ্রর বাড়ি?”

“হ্যা।”

“ও ভিতরে আছে?”

অধরা সন্দীহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

“কি দরকার ওকে? আর আপনার পরিচয় কি?”

মেয়েটা হেসে বলল,

“আমার নাম সুনায়রা, নায়রা বলেই ডাকে সবাই। আমি রুদ্রকে খুজছিলাম।”

অধরা শক্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,

“কি দরকার সেটা বলুন?”

নায়রা ভাবলো এটা হয়তো রুদ্রর কোনো কাজিন হবে। এই মেয়ের কাছে এইটা-সেইটা বললে হয়তো বিশ্বাসও করে নিবে। তাই একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,

“আমি আর রুদ্র একসাথে থেকেছি লন্ডনে। দুজন-দুজনাকে ভালোবাসি। ও রিসেন্ট দেশে এসে ফোন-টোন সব বন্ধ করে ফেলেছে তাই আমার এই পর্যন্ত আসা।”

দারোয়ান কিছু বলার জন্য প্রস্তুত হলো। অধরা হাত ইশারা করে থামিয়ে দিয়ে নায়রাকে বলল,

“আপনি যে এসব বলছেন এর কি কোনো সত্যতা বা প্রমান আছে?”

উত্তরে নায়রা বলল,

“আপনার কি মনে হয় আমি সেই লন্ডনে থেকে এই পর্যন্ত এসে মিথ্যে বলবো। আর প্রমান সেগুলো আপনাকে কেনো বলবো বা দেখাবো? সেটা আমার রুদ্রর পার্সোনাল বিষয়। ও এলেই বলবে আমি কে? রুদ্র আছে কিনা সেটা বলুন?”

রুদ্রকে নিয়ে এতো কনফিডেন্স হয়ে বলা কথাগুলো শুনে অধরার শক্তপোক্ত মুখশ্রী মলিন হলো। চোখেও পানি চলে এলো। মস্তিষ্কেও কিছুই ঢুকছে না। দারোয়ান অধরাকে খেয়াল করে নায়রাকে বলল,

“এই মেয়ে তুমি জানো কাকে কি বললে? তুমি যদি রুদ্রকে ভালোবাসতে তাহলে ও কেনো দেশে এলো? মানে একটা কথা বানিয়ে বানিয়ে বললেই হলো তাইনা! ফালতু ফালতু সময় নষ্ট করো না, যাও তো!”

নায়রা উত্তেজিত হয়ে বলল,

“আপনার মনে হয় আমি মিথ্যে বলছি? ডাকুন রুদ্রকে!”

দারোয়ান জোরে ধমক দিয়ে বলল,

“এই যাই তো! অসহ্য তোমার কথাবার্তা।”

নায়রা অপমানিত হয়েই চলে গেলো। সামনেই গাড়ি রেখে এসেছিলো। সেটায় উঠেই চলে গেলো।

এদিকে অধরা দারোয়ানের চেয়ারটায় বসে পড়লো। চোখ দিয়ে টুপ্টুপ্ করে পানি পড়ছে। দারোয়ান এসে অধরার মাথায় হাত রেখে বললেন,

“মামনি কেঁদো না।”

আরিফ নেওয়াজ সবই শুনেছেন। কারণ সেই মুহূর্তে অধরা কলটা কাটেনি। তিনিও কৌতূহল নিয়ে শুনেছেন। তার উপরে মেয়ের কাঁদার শব্দ পেয়ে আরিফ নেওয়াজের মেজাজ তিরিক্ষে উঠে গিয়েছে। তিনি চোয়ালে শক্ত করে সেইমুহূর্তে কলটা কেটে দিয়ে কেবিন থেকে বেরোলেন।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন