ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৩৩তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩৩)

#জেরিন_আক্তার

আরিফ নেওয়াজ কেবিন থেকে বেরোলেন। সামনে কে ছিলো, না ছিলো কাউকে দেখার প্রয়োজনও মনে করলেন না। এই মুহূর্তে মেয়েই তার সব। আদ্র সামনে এসে বলল,

“মেঝো আব্বু বেরোচ্ছো কোথাও? এখনই তো মিটিং শুরু হবে।”

আরিফ নেওয়াজ গম্ভীর শ্বাস ছেড়ে বললেন,

“আদ্র তোমরা ম্যানেজ করে নাও।”

“মানে? কি বলছো? তোমার থাকাটা ইম্পরট্যান্ট।”

আরিফ নেওয়াজ হনহন করে বেরিয়ে গেলেন। পার্কিংয়ে এসে নিজের গাড়ি নিয়ে চলে গেলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। তখনও চোয়ালে শক্ত করেই গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে আছেন। এখন তার কাছে কোনো মিটিংই গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর না কিছু হবে। তার মেয়ে কাঁদছে। যে মেয়েকে নিজে কোনোদিন কাঁদতে দেননি। একটা ধমকও দিয়ে দেখেননি সেই মেয়ের চোখে পানি। তার দিন-দুনিয়ার কোনো চিন্তা নেই। তার মেয়ের কাছে পৌঁছাতে পারলেই হয় এখন।

আরিফ নেওয়াজ দ্রুত ড্রাইভ করলেন।

এদিকে অধরা চোখ মুছে উঠে দাড়িয়ে দারোয়ানকে বলল,

“আংকেল তুমি কিন্তু কাউকে বলবে না।”

“কিন্তু মামনি ওই মেয়ে যা বলে গেলো রুদ্রকে জানাতে হবে না!”

“জাহান্নামে যাক ওই মেয়ে। রুদ্র ভাই অমন না। তুমি কাউকে বলবে না।”

“ঠিক আছে।”

অধরা বাড়িতে ঢুকলো। রুদ্র নিচে নামছিল। অধরা ওকে দেখতেই নায়রার কথাগুলো মাথায় এলো। কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সোজা সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেলো। রুদ্র ভ্রু কুঁচকে ভাবছিলো—এই মেয়ের মাঝে মাঝে হয় কি? এই ভালো, এই আবার বিড়ালের কত মুখ করে রাখে।

তার কিছুক্ষন পরেই আরিফ নেওয়াজ বাড়িতে ঢুকলেন। অনিমাকে সামনে দেখে জোর গলায় বললেন,

“অধরা কোথায়?”

অনিমা কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে বললেন,

“ও ও রুমেই তো!”

আরিফ নেওয়াজ উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন,

“ও রুমেই তো মানে? মেয়ে কোথায় থাকে, কি করে খেয়াল থাকে না নাকি? সারাদিন করো টা কি, যে মেয়ের খবর থাকে না তোমার কাছে?”

অনিমা বুঝতে পারছেন না তার এমন রাগের কারণ কি? কিছু যে বলবেন তারও সুযোগ দিলেন না আরিফ নেওয়াজ। গট গট করে উপরে চলে গেলেন। আরিফ নেওয়াজ অধরার রুমের সামনে এসে কয়েকটা বড় বড় শ্বাস নিলেন। এরপরে স্বাভাবিক কণ্ঠে ডাকলেন,

“অধরা! মা! অধরা!”

অধরা উঁবু হয়ে শুয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদছিলো। বাবার কণ্ঠ পেয়ে তড়িৎ বেগে উঠে বসে চোখ মুছে স্বাভাবিক হয়ে নিলো। এরপরে মুখে হাসি এনে দরজা খুলে দাড়ালো। আর বলল,

“আব্বু তুমি চলে এসেছো? ওহ তুমি তো তখন কল দিতে বলেছিলে আমিই দিলাম না। কিছু বলবে আব্বু?”

আরিফ নেওয়াজ গভীর শ্বাস ছেড়ে বললেন,

“তুমি ঠিক আছো?”

অধরা মলিন হেসে বলল,

“হ্যা ঠিক আছি। আব্বু হঠাৎ এমন কথা?”

আরিফ নেওয়াজ বললেন,

“ওই আসলে, কেনো যেনো মনে হলো তুমি ঠিক নেই। আর তুমি কাঁদছিলে? চোখে পানি কেনো?”

অধরার গলা থেকে কথা বের হতে চাইছে না। ওর মনে খুঁতখুঁত লাগছে ওর বাবা তখন কি কলে ছিলো। কথাগুলো শুনেই কি এমন তাড়াহুড়ো করে চলে এসেছে। অধরা ওর বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। কাঁদতেও পারছে না। আরিফ নেওয়াজ মেয়েকে সোজা করে বললেন,

“এনি প্রবলেম?”

“উহু। তুমি অফিসে যাবে না? নাকি সবাই চলে এসেছে?”

“আমি একা চলে এসেছি। আর যাবো না আজকে।”

“ওহ তাহলে ফ্রেশ হয়ে নাও।”

“হুমম।”

আরিফ নেওয়াজ কয়েক সেকেন্ড ভেবে বললেন,

“তুমি যে তখন ওই মেয়ের সাথে কথা বললে সেগুলো আমি শুনেছি। তুমি কি সেটার জন্যই কাঁদছো?”

অধরা কান্না আর আটকে রাখতে পারলো না। কাঁদতে কাঁদতে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো। একপ্রকার ভয়েই কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“আব্বু রুদ্র ভাই ওই মেয়েকে ভালোবাসে না। তুমি কিন্তু তার উপরে রেগে যাবে না। ওই মেয়ে ভালো না। ঐদিন এই মেয়ের সাথেই রুদ্র ভাই কথা বলছিলো। রুদ্র ভাই ওই মেয়েকে বলেছে সে আমাকে ভালোবাসে। এইটা শুনে মেয়েটা বলে যে দেশে আসবে। আর এসেছে। রুদ্র ভাই ওকে ভালোবাসে না। তুমি উনার উপরে রেগে যেও না প্লিজ।”

আরিফ নেওয়াজ মেয়েকে সোজা করে শুধালেন,

“কাঁদছো কেনো? কিছুই হয়নি তো! ওই মেয়ে ভালো না। ভালো হলে কি এরকম করে আসতে পারতো। রুদ্র কি বলেছে যে ও ওই মেয়েকে ভালোবাসে। আর যদি ভালোবেসেই থাকতো তাহলে কেনো আসবে এখানে? আমি রুদ্রর সাথে কথা বলবো। আমি রেগে যাবো না। প্রমিস ”

“আব্বু আমি বলছি রুদ্র ওই মেয়েকে ভালোবাসে না। আমাকে ওই ইফতি, ইফতি বলেছে রুদ্র আমাকেই ভালোবাসে।”

“ওসব ছাড়ো। ওই মেয়েকে দেখো তোমার সামনে আনবো। আমার মেয়েকে এরকম করে বলা আমি তো মেনে নিবো না। আর রুদ্র ওইরকম না মা। নিশ্চই ওই মেয়ের সাথে কোনো ঝামেলা হয়েছে তাই ওই মেয়ে এখানে এসেছে। যদি আমার কাছে রুদ্রকে সন্দেহ হতো তাহলে আমি চুপ হয়ে থাকতাম না, নিশ্চই উল্টো-পাল্টা বাঁধিয়ে দিতাম।”

রুদ্র অধরার রুমের রুমের সামনে দাড়িয়ে সবই শুনলো। এগিয়ে এসে বলল,

“কি হয়েছে মেঝো আব্বু?”

আরিফ নেওয়াজ পেছন ফিরে রুদ্রকে কিছু বলবে তখন রুদ্রর ফোন বেজে উঠে। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলো আরমান নেওয়াজ কল দিয়েছে। রিসিভ করে বলল,

“হ্যালো বাবা বলো!”

“কোথায় তুমি?”

“আমি বাড়িতে।”

“একটু এসো তো অফিসে। তোমার মেঝো আব্বু চলে গিয়েছে। তোমাকে এখানে দরকার।”

“ঠিক আছে আসছি।”

রুদ্র ফোন রেখে আরিফ নেওয়াজকে বলল,

“কি হয়েছে মেঝো আব্বু। অধরা কাঁদছে কেনো?”

আরিফ নেওয়াজ বললেন,

“তেমন কিছু না, তুমি অফিসে যাও। আমি আর এখন যাবো না। অফিসে থেকে ফিরে এসো সব বলবো।”

“এখনই বলো মেঝো আব্বু! আর তু্ই কাঁদছিলি কেনো? কে এসেছিলো? কোন মেয়ে এসেছিলো? কি বলেছে?”

আরিফ নেওয়াজ রুদ্রকে বললেন,

“ওসব বলতে গেলে তোমার দেরি হবে রুদ্র। অধরা পরে নাহয় বলবে।”

রুদ্র অধরার দিকে তাকিয়ে আরিফ নেওয়াজকে বলল,

“আমি আসছি। ওকে কাঁদতে মানা করো।”

“ঠিক আছে যাও, ও কাঁদবে না।”

রুদ্র চিন্তিত হয়ে চলে গেলো। আরিফ নেওয়াজ মলিন হেসে অধরাকে বললেন,

“পাগলী মেয়ে, আমি রুদ্রকে বকবো না। তুমি ভয় পেওনা। ফ্রেশ হও এখন আসছি।”

“হুমম।”

আরিফ নেওয়াজ রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। নিজের রুমে যেতে যেতে বিড়বিড় করে বললেন,

“রুদ্র ভালো বলে চুপ আছি। নাহলে এতক্ষনে নেওয়াজ বাড়িতে যুদ্ধ লাগিয়ে দিতাম। আর রইলো ওই মেয়ে, ওই মেয়েকে যদি আমার মেয়ের পা ধরিয়ে মাফ না চাইয়েছি আমিও আরিফ নেওয়াজ না।”

আরিফ নেওয়াজ রুমে ফিরেই ওয়ালেট, ফোনটা ছুড়ে মারলেন বিছানায়, কাভার্ড খুললেন শব্দ করে, শার্ট বের করে নিয়ে এসে এসি বাড়িয়ে দিলেন। অনিমা বললেন,

“কি হয়েছে আপনার? শরীর খারাপ লাগছে কি?”

আরিফ নেওয়াজ হাতে থাকা শার্টটা অনিমাকে দিয়ে বললেন,

“আয়রন করে দাও!”

শার্ট আয়রন করাই। অনিমা বলতে গিয়েও বললেন না, চুপচাপ শার্টটা নিয়ে আয়রন করে দিলেন। আরিফ নেওয়াজ সেই শার্ট আর পড়লেন না। অন্য একটা শার্ট বের করে পড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। অনিমা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে আয়রন করা শার্টটা কাভার্ডে তুলে রাখলেন। ঘটনা টা নতুন না। রাগ উঠলেই তিনি এমন করেন। অনিমাও জেনেশুনেই চুপচাপ থাকেন।

সন্ধ্যার আগ দিয়ে অধরা এলো রুদ্রর রুমে। ও আসেনি এখনও। অধরা রুদ্রকে না পেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই রুকাইয়া সামনে এলো। অধরা জিজ্ঞাসা করলো,

“বড় আম্মু তোমার ছেলে আসেনি এখনও।”

“না রে!”

“ওহহ।”

সন্ধ্যায় আরমান নেওয়াজ, রুদ্র আর আদ্র বাড়িতে ঢুকলো। গেটের দারোয়ান এসে রুদ্রকে ডেকে বলল,

“রুদ্র তোমার সাথে কথা আছে, একটু শুনে যাও তো!”

“একটু পরে আসি আংকেল।”

“না এখনই বলতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ।”

রুদ্র অনীহা জানালো কারণ এখন বাড়িতে ঢুকেই অধরার সাথে কথা বলবে। ওর মনে এই নিয়ে অস্থিরতা কম নয়। আরমান নেওয়াজ আর আদ্র চলে গেলো ভিতরে। আর রুদ্র দারোয়ানের সামনে এসে বলল,

“হ্যা আংকেল বলো।”

“দুপুরে অধরা আমার কাছে আসে পার্সেল নিতে। তখন একটা মেয়ে এসেছিলো। নাম সুনায়রা বলল।”

রুদ্র সাথে সাথে জিজ্ঞাসা করলো,

“তারপর মেয়েটা কি কিছু বলেছে অধরাকে?”

“মেয়েটা তোমার কথা জিজ্ঞাসা করছিলো অধরাকে। অধরা মেয়েটার পরিচয় জানতেই মেয়েটা বলে যে, আমি আর রুদ্র লন্ডনে একসাথেই পড়াশোনা করেছি। দুজন-দুজনাকে ভালোবাসি। অধরা এই কথা শোনার পরে বিশ্বাস করেনি। মেয়েটার কাছে প্রমান চেয়েছে, এরপরে মেয়েটা বলে যে, আমি কেনো তোমাকে প্রমান দেখাবো। সেটা আমার আর রুদ্রর পার্সোনাল ব্যাপার। রুদ্রকেই গিয়ে জিজ্ঞাসা করো আমি কে? অধরা অতটাও কষ্ট পায়নি তবে শেষে যখন বলল তোমাকে কেনো বলবো, তুমি কে তারপর কষ্ট পেয়েছে।”

রুদ্র কপালে বৃদ্ধাঙ্গুল ঠেকিয়ে বলল,

“ও মাই গড! এতদূর এসে গিয়েছে ওই বেয়াদবটা।”

দারোয়ান বলল,

“এরপরে না অধরা মামনি অনেক কেঁদেছে। মনে হয় আরিফ ভাইও জানে।”

রুদ্র রাগে কি করবে বুঝতে পারছে না। আপাতত অধরার কাছে যাওয়াই ওর প্রথম কাজ। ও হন্তদন্ত হয়ে বাড়িতে ঢুকলো। এরপরে স্বাভাবিক ভাবেই উপরে উঠে অধরার রুমে এলো। তার আগেই আবার আরিফ নেওয়াজ বের হয়ে গিয়েছে। রুদ্র রুমে ঢুকে সোজা ব্যালকনিতে চলে এলো। অধরা সেখানেই বসে আছে। এমন একটা পরিস্থিতি হয়ে গিয়েছে যে রুদ্র ওকে কি বলবে ওর জানা নেই। অধরা উঠে দাঁড়ালো রুদ্রকে দেখে। অধরা কিছু বলার আগেই রুদ্র বলল,

“নায়রা এসেছিলো আমাকে জানাসনি কেনো?”

অধরা নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপনি অফিসে গেলেন তাই বলিনি।”

রুদ্র পরপর বলল,

“তু্ই কি ভাবছিস না ভাবছিস সেগুলো নিয়ে আমি প্রশ্ন করবো না। আমি বলবো ও যা বলেছে এর কিছুই সত্যি নয়। ও জাস্ট আমাকে পাওয়ার জন্যই এমন কথা বলেছে।”

অধরা রুদ্রকে খুব বিশ্বাস করে। জানতো এমন কিছুই হবে না। রুদ্র এগিয়ে এসে অধরার দুগালে হাত ঠেকিয়ে মোলায়েম কণ্ঠে বলল,

“এই তু্ই কি সন্দেহ করছিস আমাকেও? বিশ্বাস কর আমি তোকে ভালোবাসি। শুধুই তোকে। এর আগে কেউ আমার জীবনে ভালোবাসা হয়ে আসেনি। তু্ই আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা। তু্ই আমাকে সন্দেহ করিস না, আমার সহ্য হবে না। আমি মরে যাবো।”

রুদ্রর শেষের কথাটা শুনে অধরার বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। সাথে সাথে ডানহাতটা তুলে রুদ্রর মুখ ছাপিয়ে নিচু কণ্ঠে বলল,

“মরার কথা বলবেন না। যদি বলেন তাহলে আমি বিয়ে করবো না আপনাকে।”

রুদ্র খুব শক্ত করে অধরাকে জড়িয়ে ধরলো। যেনো কোথাও পালাতে না পারে। অধরা রুদ্রর পিঠে হাত উঠালো। রুদ্র চোখ বন্ধ করে বলল,

“একটু জড়িয়ে ধরে থাকি, খুব ক্লান্ত লাগছে রে। সরে যেতে বলিস না প্লিজ।”

,,

রুদ্র রুমে ফিরে শাওয়ার নিয়ে বের হলো শুধু টাওয়াল পড়ে। ফোনটা হাতে নিয়ে হোয়াটস্যাপ থেকে নায়রার নাম্বারটা ব্লক থেকে ছাড়িয়ে কল দিলো। নায়রা রুদ্রর কল পেয়ে তো মহাখুশি। নায়রা বলল,

“হ্যালো রুদ্র তুমি কল দিয়েছো?”

“হুমম, দিতেই হলো। কই তু্ই?”

রুদ্র ডিরেক্ট তু্ই করে বলল। নায়রা সেটা মনেই নিলো না। বলল,

“আমি বাড়িতেই।”

রুদ্র বলল,

“বাড়ির ঠিকানা টা দে।”

“কেনো কি করবে?”

রুদ্র মুখে বাকা হাসি ফুটিয়ে বলল,

“তু্ই যে আমার বাড়িতে এসে আমার কাজিনকে বলেছিস তু্ই নাকি আমাকে ভালোবাসিস। সেটা আবার আমার কাজিন এসে বাড়িতে বলে দিয়েছে। বাড়ির সবাই তো তোকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছে। তু্ই বাড়ির ঠিকানাটা দে, আমরা মিষ্টি নিয়ে আসছি।”

নায়রা খুশিতে অজ্ঞান হওয়ার পর্যায়ে। আসফাঁস সুরে বলল,

“তু তুমি আসবে। আমি এক্ষুনি বাড়িতে বলছি। আর ঠিকানাটা এক্ষুনি পাঠিয়ে দিচ্ছি।”

“ওকে।”

নায়রা কিছু বলার আগেই রুদ্র মুখের উপরে কলটা কেটে দিলো। এরপরে কল দিলো অধরাকে,

“হ্যালো অধরা!”

“হুম বলুন!”

“রেডি হ, ঘুরতে যাবো। শশুর আব্বুর থেকে পারমিশন নিয়ে নিয়েছি।”

“ঠিক আছে রেডি হচ্ছি।”

রুদ্র কল কেটে দিয়ে টাওয়াল পড়া অবস্থায়ই চলে গেলো আরিফ নেওয়াজের ঘরে। আরিফ নেওয়াজ বিছানায় বসে ফোন স্ক্রল করছেন। রুদ্র তাকে বলল,

“মেঝো আব্বু একটা জায়গায় যাবো। রেডি হয়ে নাও।”

আরিফ নেওয়াজ কপাল কুঁচকে বললেন,

“কোথায় যাবে?”

“নায়রার বাসায়।”

আরিফ নেওয়াজ সাথে সাথে বললেন,

“ঠিক আছে। রেডি হচ্ছি।”

“একটু তাড়াতাড়ি করো।”

এই বলে রুদ্র এগিয়ে এসে ফিচেল হেসে বলল,

“আমার বউ মানে তোমার মেয়েকেও বলেছি, রেডি হচ্ছে।”

আরিফ নেওয়াজ গলা খাকারি দিয়ে বললেন,

“ঠিক আছে নিয়ে চলো।”

পরপর আরিফ নেওয়াজ দাঁত চেপে বললেন,

“ওই মেয়েকে যদি আমার মেয়ের পায়ের সামনে না বসাতে পেরেছি আজকে।”

রুদ্র এই কথা শুনে বলল,

“চলো একসাথেই মিশন সাকসেস করবো। সাথে বাবাকে নিতে হবে।”

আরিফ নেওয়াজ বললেন,

“হুমম। তাই করো।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন