#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩৪)
#জেরিন_আক্তার
রুদ্র রেডি হচ্ছে। অধরা এসে ওর রুমের বাহিরে দাড়িয়ে আছে। রুদ্র আয়নায় দেখলো অধরা রুমের বাহিরে দাড়িয়ে আছে। রুদ্র ডাক দিলো,
“অধরা রুমে আয়!”
অধরা মিনমিন করে আওড়ালো,
“এই রুম থেকে অপমান বের করে দিয়েছিলেন। আর অপমানিত জায়গায় আমি দ্বিতীয়বার যাবো? অসম্ভব।”
রুদ্র এগিয়ে এসে ধমক দিয়ে বলল,
“এতো জেদ কেনো রে? রুমে আয়!”
“যাবো না। আপনি রেডি হয়ে আসুন।”
“তু্ই ভিতরে এলে রেডি হবো নাহলে এভাবেই দাড়িয়ে থাকবো।”
“থাকুন তবুও আমি যাবো না।”
রুদ্র বিছানায় এসে বসলো। পরপর শুয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে বলল,
“না এলি ওভাবেই দাড়িয়ে থাক। আমার কি! আমি শুয়ে পড়েছি, এখনই ঘুমাবো। যা!”
অধরা রাগে দাঁত চেপে দাড়িয়ে রইলো। রুকাইয়া এগিয়ে এসে বললেন,
“কিরে অধরা বাহিরে দাড়িয়ে আছিস, আবার রেডি হয়েছিস কোথাও যাবি নাকি?”
“তোমার ছেলে বাহিরে নিয়ে যাবে বলেছে। আমি রেডি হয়ে এসেছি এখন তোমার ছেলে শুয়ে পড়েছে।”
রুদ্র গলা উঁচিয়ে বলল,
“না মিথ্যে কথা। আমি বলেছি রুমে আয়। বলে যে আপনি বলেছিলেন রুমে না আসতে তাই যাবো না। এরপরে দুইবার বলেছি রুমে আসতে ও আসেনি। তাই আমি শুয়ে পড়েছি।”
রুকাইয়া অধরাকে যেতে বললে ও বলল,
“বড় আম্মু আমি যাবো না। উনি আমাকে সেদিন কিরকম করলো।”
রুকাইয়া অধরাকে বললেন,
“তু্ই নিচে যা, আমি ওকে পাঠাচ্ছি।”
“ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি আসতে বলো। নাহলে আমি হিজাব-বোরখা খুলে পড়তে বসবো।”
অধরা চলে গেলো। রুকাইয়া এগিয়ে এসে রুদ্রর কান ধরে বললেন,
“মেয়েটার সাথে সবসময় এমন করা না! ভালো করে বুঝিয়ে বললেই তো শুনে।”
“উফ মা কান ছাড়ো।”
রুকাইয়া কান ছেড়ে দিয়ে বললেন,
“ওর সাথে রেগে যাওয়ার কথা বলিস কেনো, ওকে ভালো করে নরম করে বললেই তো ও শুনে।”
“আমি তা জানি কিন্তু ও রুমে আসছিলো না বলেই শুয়ে পড়েছিলাম।”
অতঃপর রুদ্র কথা বলতে বলতে উঠে ওয়ালেট, ফোন পকেটে ভরলো। আর গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে হেসে বলল,
“রুম থেকে যখন অপমান বের করে দিয়েছিই এরপরে সম্মানের সাথেই বউ করে রুমে আনবো।”
রুকাইয়া বললেন,
“একটু তাড়াতাড়ি কর, বুড়ো হয়ে গেলাম।”
রুদ্র যেতে যেতে বলল,
“আয়োজন শুরু করে দাও। আমি কি আর নিজের বিয়ের আয়োজন নিজেই করতে পারি। লজ্জা লাগে যে।”
রুকাইয়া ফিক করে হেসে দিলেন। এরপরে রুদ্রর সাথে কথা বলতে বলতে নিচে এলেন। অধরা সদর দরজার কাছে গিয়ে মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে ছিলো। রুদ্র এসে পেছনে থেকে চোখ ধরে রইলো। অধরা ঝাড়ি মেরে বলল,
“এখন তো ঠিকই এলেন, আর শুধু শুধু তখন শুয়ে পড়লেন।”
রুদ্র চোখ ছেড়ে দিয়ে সামনে এসে অবাক কণ্ঠে বলল,
“বুঝলি কি করে আমি এসেছি?”
“কেমন করে আবার, শরীরের মধ্যে একগাধা পারফিউম মেরে এসেছেন।”
রুকাইয়া মুখ টিপে হাসছেন। আদ্র এগিয়ে এসে অধরাকে বলল,
“থাক বোন আর রাগ করিস না। ঘুরে আয়। রাগ করলে চুল পাকে।”
অধরা দুরুম করে আদ্রর পিঠে কিল মারলো। আদ্র পিঠে হাত দিয়ে কিছু বলতে নিলে রুদ্র অধরাকে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
“চল তাড়াতাড়ি নাহলে আদ্র মারবে তোকে।”
অধরা যেতে যেতে বলল,
“মারুক আমিও দিবো।”
রুদ্র দাড়িয়ে গিয়ে বলল,
“আচ্ছা তু্ই আমার ভাইকে মারিস কেনো বলতো!”
“কই মেরেছি?”
“আমি দেখেছি তু্ই যখন-তখন ওকে মারিস।”
অধরা অবলীলায় বলল,
“ও আমার ভাই। তাই মারি ওকে। ও কি কম মারে আমাকে।”
রুদ্র হেসে বলল,
“আদ্র নাহয় তোর ভাই। তাহলে আমি কে তোর?”
অধরা বুদ্ধিমত্তার সাথে উত্তর দিয়ে বলল,
“আদ্র ভাই আমার ভাই। আপন ভাই। আর আপনি আমার চাচার ছেলে।”
“উফ, চাচার ছেলে তাহলে কি হই সম্পর্কে?”
“কেনো চাচাতো ভাই।”
রুদ্র মাথা নাড়িয়ে বলল,
“না হচ্ছে না। আমি তোর চাচাতো ভাই না। অন্য কিছু?”
অধরা মুখটিপে হেসে বলল,
“কি অন্য কিছু যদি বলতেন?”
রুদ্র ফিচেল হেসে বলল,
“আচ্ছা গাড়িতে উঠ, বলছি!”
অধরা মনে মনে খুশিই হলো। রুদ্রর থেকে ভালো কোনো উত্তরের আশায়ই গাড়িতে উঠে চুপচাপ বসে রইলো। ওর মুখে লাজুক হাসি। এর পরপরই এলেন আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ। আরিফ নেওয়াজ, আরমান নেওয়াজকে সবই বলে দিয়েছেন। আরমান নেওয়াজও মেয়েটার উপরে রেগেই আছেন। অবশ্য নায়রা রেগে যাওয়ার মতোই কাজ করেছে। রুদ্র বারবার রিজেক্ট করার পরও ওর পিছু নিয়ে দেশে এসে, বাড়ি পর্যন্ত এসেছে।
অধরা ওর বাবা-চাচাকে দেখে রুদ্রকে জিজ্ঞাসা করলো,
“বড় আব্বু আর আব্বুও তো এদিকে আসছে।”
“হুমম। আমাদের সাথে যাবে।”
“আপনি না বললেন আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবেন। তাহলে উনারা কেনো যাবে?”
“উনাদের কি বাহিরে ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করে না। তাই আমাদের সাথেই নিয়ে যাবো।”
অধরা সন্দীহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“আপনার উদ্দেশ্য টা কি বলুন তো?”
“আমার আবার কি উদ্দেশ্য থাকবে! তোকে বউ বানানোরই ফায়দা খুঁজছি। ওইটাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য।”
আরমান নেওয়াজ আর আরিফ নেওয়াজ এসে গাড়িতে বসলেন। রুদ্র গাড়ি ড্রাইভ করছে। আরমান নেওয়াজ রুদ্রকে বললেন,
“রুদ্র ওই বেয়াদব মেয়েটার বাড়ির ঠিকানা জানো?”
“হুমমম।”
আরমান নেওয়াজ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলেলন,
“ওই মেয়ের সাহস দেখে অবাক হচ্ছি,বাড়িতে এসে এসব কথা বলে যায়।”
অধরা বুঝতে পারছে এখন সবাই মিলে ওই নায়রার বাড়িতেই যাবে। অধরার ইচ্ছে করছে এই রুদ্রকেই ধরে মারতে। ও মনে মনে বলল, বিদেশ পড়তে গিয়েছে ভালো কথা সেখানে গিয়ে মেয়ে ফ্রেন্ড বানাতে হবে কেনো? শুধু আল্লাহ আজ বাড়ি ফিরিয়ে আনুক সবাইকে। বাড়িতে ফিরে তখন ইচ্ছে মতো বকবো রুদ্র ভাইকে।
রুদ্র অধরার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “আল্লাহ ভালো জানে এই মেয়ের মাথায় আবার কি চলছে। নিশ্চই আমার সাথে ঝগড়া করার বাহানা খুঁজছে। এই কয়েকদিনে এই মেয়েকে এইটুকু চিনে নিশ্চিত হতে পেরেছি।”
রুদ্র নায়রার বাড়িতে এসে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালো। নায়রা ওর অপেক্ষাতেই ছিল। ওর বাবা শফিক সাহেব ও মা নাইমা বেগমও দাঁড়িয়ে ছিলেন। নাইরা খুশিতে সাথে সাথে দরজা খুলে দাঁড়ালো। রুদ্র কোনো কথা না বলে পরপর নাইরার গালে পরপর ৬-৭ টা থাপ্পড় মারলো। প্রতিটা থাপ্পড়ে অধরা চোখ বন্ধ করে ছিলো। নায়রা তাল সামলাতে না পেরে পিছিয়ে গেলো। আরিফ নেওয়াজ দাঁত চেপে রইলেন। নায়রা বলল,
“রুদ্র এভাবে মারছো কেনো?”
রুদ্র নায়রাকে কর্কশ কণ্ঠে বলল,
“তোকে মেরেছি তাই কম হয়ে গিয়েছে।”
শফিক সাহেব এগিয়ে এসে বললেন,
“কি হয়েছে রুদ্র?”
রুদ্র তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলল,
“জানেন আংকেল ও কি করেছে? আপনারা তো জানতেন আমরা ভালো ফ্রেন্ড। এন্ড এর বাইরে কিছু না।”
শফিক সাহেব বললেন,
“হ্যা রুদ্র। ও কি করেছে?”
“আংকেল ও বিদেশে থাকতে বলে ও আমাকে ভালোবাসে। আমিই পাত্তা দেইনি। আমি দেশে আসার পরেও বলেছে, আমি বলেছি এসব সম্ভব না আমি একজনকে ভালোবাসি। ও সেটা জানার পরেও দেশে এসেছে। আর আমার বাড়িতে গিয়ে দেখা হয়েছে আমার কাজিন মানে আমার বউয়ের সাথে।”
এই কথা বলে রুদ্র অধরাকে সামনে আনলো। শক্ত করে অধরার হাতটা ধরে জোর গলায় বলল,
“হ্য। ও আমার কাজিন না, আমার ওয়াইফ। আমার ভালোবাসা। তিন কবুল বলে বিয়ে করেছি। আর আপনার মেয়ে ওর কাছে গিয়ে বলেছে আমি নাকি ওকে ভালোবাসি। এগুলো কোনো কথা আংকেল বলুন।”
শফিক সাহেব মেয়ের দিকে তাকালেন। নায়রা মাথা নত করে আছে। অতঃপর নাইমা বেগম শক্ত কণ্ঠে নায়রাকে বললেন,
“নায়রা তুমি এসব জানার পরে ওই ফ্যামিলিতে গিয়ে প্রেসার ক্রিয়েট করলে কি করে? যে কেউ একথা শুনলে মন খারাপ করবেই। যাও রুদ্রর বউকে সরি বলো!”
নায়রা ঠাই দাড়িয়ে রইলো। রুদ্র ধমক দিয়ে বলল,
“সরি বল! নাহলে পা ধরাবো কিন্তু!”
নায়রা থতমত খেয়ে অধরার সামনে এসে বলল,
“সরি। আমি বুঝতে পারিনি আপনি রুদ্রর বউ।”
আরিফ নেওয়াজ স্বস্তির শ্বাস ছাড়লেন। শফিক সাহেব আরমান নেওয়াজকে বললেন,
“ভাই ভিতরে আসুন না। বাহিরে দাড়িয়ে থাকা ভালো দেখাচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের ঝামেলা ওরাই শুধরে নিয়েছে।”
আরমান নেওয়াজ কাজের বাহানা দিয়ে বললেন,
“না এখন বসার সময় নেই ভাই। একটা জায়গায় ইভেন্ট এটেন্ট করতে হবে।”
রুদ্র নায়রাকে বলল,
“তোকে এভাবে না বুঝলে তু্ই বুঝতি না। তাই থাপ্পড়ই কাজে লাগাতে হলো।”
নায়রা কোনো কথাই বলল না। কাঁদতে কাঁদতে ভিতরে চলে গেলো। রুদ্ররাও আর কিছু টুকটাক কথা বলে চলে এলো। অধরার তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে। সবার সামনে কত জোর দেখিয়ে বলল ও আমার বউ। তিন কবুল বলে বিয়ে করেছে। ইশ, অধরা যত বার মনে করছে ততই যেনো খুশি হচ্ছে।
ওরা ফিরে আসছে বাড়ির দিকে। মাঝ রাস্তায় আরমান নেওয়াজ রুদ্রকে গাড়ি থামাতে বললেন। রুদ্র গাড়ি থামাতেই আরমান নেওয়াজ বললেন,
“রুদ্র আমরা নামবো, তোমরা বাড়ি চলে যাও। আর যদি ঘুরতে যেতে ইচ্ছে হয়, তাহলে ঘুরতে যাও। আমাদের কাজ আছে।”
আরিফ নেওয়াজ কপালদ্বয়ে ভাজ ফেলে বললেন,
“এখন আবার কিসের কাজ?”
আরমান নেওয়াজ হাসার চেষ্টা করে আরিফ নেওয়াজের হাত টেনে ধরে বললেন,
“আরে ভুলে গেলি, বাড়ি থেকে বের হয়ে কি বললাম তোকে!”
আরমান নেওয়াজ আরিফ নেওয়াজকে সাথে নিয়ে নামলেন। আর রুদ্রদের জোর করেই পাঠিয়ে দিলেন। রুদ্র ওদের জন্য অপেক্ষাও করতে চেয়েছিলো। কিন্তু আরমান নেওয়াজ শুনলেন না। বললেন দেরি হবে চলে যাও।
রুদ্র আর অধরা চলে যেতেই আরিফ নেওয়াজ বললেন,
“ভাইজান তুমি তো তখন কোনো কথাই বলোনি তাহলে মিথ্যে বললে যে?”
আরমান নেওয়াজ বললেন,
“আরে ওসব মিথ্যে বলেছি যাতে ওরা দুজন একসাথে কোথাও একটা ঘুরতে যেতে পারে। আমরা গেলে তো ওরা বোরিং ফিল করে বাড়িতেই চলে যাবে।”
“কথাটা মন্দ বলোনি। তাহলে বাড়িতে যাবো কি করে?”
“আমি আদনানকে মেসেজ দিয়েছি। ও গাড়ি নিয়ে আসছে। আর অনেকদিন পরে তিনভাই মিলে ঘুরবোও।”
“ঠিক আছে।”
এদিকে রুদ্র একটা সুন্দর জায়গায় গাড়িটা থামালো। চারিদিকে লাইটের আলো, নিস্তব্ধ রাস্তা, সাথে মনজুড়ানো বাতাস। রুদ্র অধরাকে বলল,
“দেখলি তোর জন্য কিভাবে ওকে মারলাম।”
অধরা মুখ ফুলিয়ে বলল,
“মারতে বলেছিলো কে? আপনার তো ভালো ফ্রেন্ড ছিলো।”
রুদ্র কিছু বলল না। ও ভেবেই রেখেছিলো অধরা কিছু নিয়ে গুমোট বেধে থাকবেই। আর তাই হলো। অধরা জানালার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, “এতগুলো বছরে আমার সাথে একটা বলার প্রয়োজন মনে করেনি আর ওই দেশে মেয়ে ফ্রেন্ড বানিয়েছে। আবার মেয়েটা উনাকে ভালোও বাসে।”
রুদ্রর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। আসলেই তো ও এতগুলো বছরে অধরাকে বিয়ে করার ভয়েই কথা বলেনি। অধরার এইটুকু অভিমান করা স্বাভাবিক। রুদ্র গায়ে মাখলো না। চুপ করে থাকলো। অধরা রুদ্রর চুপচাপ থাকায় ওর দিকে তাকালো, নিরেট কণ্ঠে বলল,
“রাগ করেছেন? ঐভাবে বলিনি আমি। কথা বলুন! আমি সিরিয়াস হয়ে বলিনি। কথা বলুন।”
রুদ্র ইচ্ছে করেই চুপ রইলো। এরপরে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখলো। অধরা রুদ্রর হাতটা শক্ত করে ধরে বলল,
“যাবেন না প্লিজ। আর কিছুক্ষন থাকি?”
এমন করে বললে কেউ কি না শুনতে পারে। রুদ্র গাড়ি থামালো। এরপরে হেসে বলল,
“বাব্বাহ রাগও করিস। আবার আমি চুপ করে থাকলে তু্ই কথা শোনার জন্য উতলা হয়ে যাস। আবার আবদার করিস। এরপরে না আমার একটা শখ জাগছে পূরণ করবি?”
অধরা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“কি?”
রুদ্র কি যেনো ভেবে বলল,
“না থাক পরে বলবো। এখন অন্য কথা বল! আচ্ছা নায়রাকে থাপ্পড় মারলাম তোর কেমন লাগছিলো?”
“ভালো না। ১ টা কি ২ টা ঠিক ছিলো তাই ৭ টা।”
রুদ্র গভীর শ্বাস ছেড়ে বলল,
“তু্ই আমার জীবনে এমন একটা জিনিস হয়ে গিয়েছিস যে তোকে কেউ কিছু বললে আমার সহ্য হয়না। আগে তোকে বিয়ে করতে চাইনি, আর এখন তোকে ছাড়া একটা মুহূর্তও ভালো লাগে না। শুধু জানি তু্ই আমার মানে আমার।”
অধরা ঘাড় কাত করে বলল,
“এতো ভালোবাসেন আমায়?”
“হুমম। অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি।”
অধরা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। রুদ্র ওর ধ্যান ভাঙাতে বলল,
“আচ্ছা এসব ছাড়! এখন একটা কিস কর!”
অধরার মাথায় শয়তানি বুদ্ধি চাপলো। ও মুচকি হেসে বলল,
“চোখটা বন্ধ করুন।”
রুদ্র তো আশাবাদী হয়ে চোখটা বন্ধ করলো। অধরা পট করে রুদ্রর গলা চেপে ধরে বলল,
“মেয়ে ফ্রেন্ড বানানো না! একদম মেরে ফেলবো।”
রুদ্র ওর হাতটা ছাড়িয়ে শক্ত করে ধরে নিজের কাছে এনে বলল,
“এই ছিলো তোর মনে? দাড়া!”
চলবে....