ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৩৫তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩৫)

#জেরিন_আক্তার

অধরা ঘাবড়ে গিয়ে সিটের সাথে নুইয়ে রুদ্রকে বলল,

“আ আমি বাড়ি যাবো।”

রুদ্র ওকে ছেড়ে দিয়ে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“যা আমাকে বলছিস কেনো?”

অধরা ড্যাব ড্যাব চোখে তাকিয়ে বলল,

“আমি এই রাত্রিবেলা একা যাবো কি করে?”

“কেনো আমাকে গলা চেপে ধরার সময় মনে ছিলো না। আমি তো বাড়িতে যাবো না। এখানেই থাকবো। তু্ই গেলে যা।”

“আমি কি কোনো কারণ ছাড়াই আপনার গলা চেপে ধরেছি? মেয়ে ফ্রেন্ড বানিয়েছেন কেনো? কই আমি তো এই এতগুলো বছরে একটাও ছেলে ফ্রেন্ড বানিয়ে দেখিনি। এমনকি আমার আশেপাশেও কাউকে ঘেঁষতে দেইনি।”

রুদ্রর এবার ভালো লাগছে না এই টপিক নিয়ে কথা শুনতে। যতবার নায়রার কথা শুনছে ওর রাগ উঠছে। ও শ্বাস ছেড়ে বলল,

“তোর আর আমার আলাদা আলাদা জায়গা। ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা কর।”

অধরা মুখটা গুটিয়ে নিলো। অভিমান ভরা চোখ নিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে রইলো। চেয়েছিলো রুদ্র ওকে বুঝুক এতগুলো বছরে ও রুদ্রকে ভালোবেসে গিয়েছে। ওর উনুপস্থিতিতে কোনো ছেলের সাথেও তো কথা বলার চেষ্টাও করেনি। আর সে তো দিব্যি ভালোই থেকেছে। অধরাকে জানারও চেষ্টা করেনি। অধরা কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মনে মনে বলল-অধরা তু্ই বেকার বেকার কথা বাড়াচ্ছিস। তখন তো রুদ্রর মাথায় ভূত চেপে ধরেছিলো। আর এখন এসে দেখ তোকে কত ভালোবাসে।

এরপরে রুদ্র জিজ্ঞাসা করলো,

“কিছু খাবি?”

“উহু।”

“রেস্টুরেন্টে যাবি?”

“না।”

“ফুচকা আনি?”

“না, কিছুক্ষন এইখানে বসে থাকতে চাই। ভালো লাগছে।”

রুদ্র মিনিট দশেক পরে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে ফোনটা হাতে নিলো। অধরা অভিমান করলো বৈকি। বলছিলো তো আর একটু থাকবে এইখানে। কিন্তু রুদ্র তো নিজের মতোই চলে যাচ্ছে।

অধরা অভিমান করে একটু ঘুরে বসে জানালার দিকে তাকিয়ে রইলো। যেতে যেতে ঘুমিয়েও পড়লো। আকাশের অবস্থা ভালো নয় বলেই রুদ্র বাড়িতে চলে এলো। হালকা হালকা বৃষ্টি শুরু হচ্ছে। রুদ্র অধরাকে ডাকতে গিয়েও ডাকলো না। ভালোই ঘুমাচ্ছে দেখা যায়। ঘুম ভাঙাতেও ইচ্ছে করছে না ওর। এউ মনে করলো তার আতঙ্ক এখনও খায়নি। খিদের চোটেই ঘুমাচ্ছে। আর বৃষ্টিও নামছে। বৃষ্টির কারণেই রুদ্রর আশা নাহলে কি ওইখানে থেকে এসে পড়ে।

রুদ্র অধরাকে আলগোছে পাজা কোলে তুলে নিলো। এরপরে তাড়াতাড়ি ভিতরে ঢুকলো। অধরার ঘুমন্ত মুখশ্রীর দিকে মুচকি হেসে ড্রইং রুমে সোফায় শুইয়ে দিয়ে পাশেই বসলো। রুকাইয়া রুম থেকে বেরোলেন। রুদ্র আস্তে আস্তে অধরাকে ডাকলো,

“এই অধরা! অধরা! অধরা!”

অধরা চোখ মেলে উঠে বসলো। সাথে সাথে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো মিনিট দুই। ঘুমের রেশ কাটতেই স্বাভাবিক হয়ে চলে গেলো উপরে। রুদ্র উঠে রুকাইয়াকে বলল,

“মা ও খায়নি। ওর জন্য খাবার নিয়ে যাও!”

রুকাইয়া চালাকি করে বললেন,

“আমি বাপু নিয়ে যেতে পারবো না। তোর বউ তু্ই নিয়ে যা!”

“ঠিক আছে, খাবার বেড়ে দাও। আমি গাড়িটা রেখে আসছি।”

রুকাইয়া খাবার বেড়ে দিলেন। রুদ্র এসে প্লেটটা নিয়ে উপরে এলো। অধরা হাত-মুখ মুছতে মুছতে ওয়াশরুম থেকে বেরোলো। রুদ্র সাইড টেবিলে খাবার রেখে বলল,

“খাবার রেখে গেলাম, খেয়ে নিস।”

অধরা এগিয়ে আসতে আসতে রুদ্র চলে গেলো। অধরা পেছন থেকে ডেকে বলল,

“আপনি খাবেন না?”

“হুমম।”

রুদ্র দাড়ালো না। নিচে চলে এলো। রুকাইয়া খাবার বেড়ে বসে আছেন। তিনিও খাননি। রুদ্র এসে বসলো। অধরাও খাবারের প্লেট টা নিয়ে নিচে এসে টেবিলে বসলো। রুদ্র আড়চোখে তাকালো অধরার দিকে। অধরা মনোযোগ দিয়ে খাচ্ছিলো। রুকাইয়া রুদ্রকে ইশারা করে বোঝালেন-কিছু হয়েছে নাকি?

রুদ্র মাথা নাড়িয়ে বোঝালো-না।

আরিফ নেওয়াজ আর অনিমা নিচে এলেন। দুজনেই গিয়ে বসলো সোফায়। আরিফ নেওয়াজ রুদ্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“রুদ্র একটা কথা বলছি শোনো?”

রুদ্র পেছন ফিরে বলল,

“হ্যা, বলো।”

“কালকেই দুজনে সব শপিং শেষ করে ফেলো। আশা করি আমার আর কিছু বলতে হবে না।”

রুদ্র হেসে বলল,

“আচ্ছা। বুঝতে পেরেছি। টেনশন নেই। কালকেই শপিং শেষ করবো, ইনশাআল্লাহ।”

রুকাইয়া বললেন,

“বিয়ের শাড়ি যাই কিনিস, সেটা কিন্তু অধরাকে পড়তে দিবো না।”

রুদ্র জিজ্ঞাসা করলো,

“কেনো?”

“শাড়ি আমি কিনে রেখেছি।”

অধরা মাথা তুলল না। লজ্জা পেলো। ও সেই শাড়িটা দেখেছে।

এদিকে সোহা ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ রুমে কারো উপস্থিতি টের পেতেই উঠে বসলো। আদ্র রুমের দরজা লাগিয়ে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো। সোহা ওকে দেখে হাফ ছেড়ে আস্তে করে বলল,

“তুমি এতো রাতে?”

আদ্র বিছানায় এসে বসে বলল,

“হ্যা, আমিই। তো!”

“তো কিছুনা। তুমি এতো রাতে এলে কেউ দেখলে। আর আব্বু-আম্মুও এসেছে। উনারা কেউ…”

আদ্র ধমক দিলো,

“চুপ! সবসময় বেশি কথা বলিস। এতো ভয় পাস কেনো? আমি কি ভয় পাই?”

সোহা পিট পিট করে তাকালো। আদ্র বলল,

“এতো ভয় পেলে আমাকে পাবি কি? ধর যেদিন জানাজানি হবে, সেদিন তু্ই ভয়ে রুম থেকে বের হলি না। আর আমি একা শুধু বললাম যে আমি সোহাকে ভালোবাসি। সবাই কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? বল? বিশ্বাস করবে না। আর তু্ই আমাকেও পাবি না। তখন কি থাকতে পারবি আমাকে ছাড়া?”

সোহা বুঝতে পারলো আসলেই ভয় পেলে আদ্রকে পাবে না। তাই সাহস রাখতে হবে। সোহা এগিয়ে এসে আদ্রর বুকে মাথা রাখলো। আদ্র বলল,

“কি বললাম বুঝতে পেরেছিস?”

“হুমম, বুঝতে পেরেছি। তুমি আমার হবে। আমি তোমাকে হারাতে পারবো না।”

“দাড়া শুধু রুদ্র-অধরার বিয়েটা হতে দে আমি সবাইকে বলে দিবো আমি তোকে ভালোবাসি। তোকে বিয়ে করতে চাই। তখন কিন্তু আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। ছাড়বি না কিন্তু।”

“ঠিক আছে। আমি তোমার পাশে থাকবো।”

পরদিন সকালেই অধরাকে নিয়ে বের হলো রুদ্র। শপিং করবে বলে। দুপুরের দিকে দুজনেই টায়ার্ড। তাই ফিরে এলো। আর একদিনে এতো শপিং করা সম্ভবও নয়। ওরা ফিরে এলো। সন্ধ্যায় যাবে, আদ্র আর সোহাকে সাথে নিবে।

বিকেলের দিকে অধরা রুমে নিজের শপিং করা ড্রেসগুলো একটা একটা করে কাভার্ডে তুলে রাখলো। আদ্র এসে বসলো সোফায়। অধরা কাজ করতে করতে জিজ্ঞাসা করলো,

“তোমাকে। চিন্তিত লাগছে কেনো?”

“বইন একটা বড়সড়ো চিন্তায় আছি।”

“কি চিন্তা বলো।”

“রুদ্র ভাই না, কেমন একটা খোঁচা মেরে মেরে কথা বলে।”

“যেমন?”

“আর বলিস না, যেদিন কক্সবাজার থেকে ফিরলাম সেদিন রাতে সোহার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওর রুম থেকে বের হতে গিয়ে রুদ্র ভাইয়ের সামনে পড়ি। এরপরে জিজ্ঞাসা করলে আমি বলেছিলাম যে, সোহা পড়া বোঝেনি, পড়া বোঝাতে এসেছি। এরপরে থেকে ভাইয়া এইটা নিয়েই খোঁচা মেরে কথা বলে। তু্ই খেয়াল করে দেখিস রুদ্র ভাই কেমন করে বলে।”

“ও এমনেই মজা করে তোমার সাথে।”

“মজা করে আর যাই করে তু্ই তোর জামাইকে বোঝাইস। এমন যেনো না বলে।”

অধরা হাতে থাকা জামা রেখে এগিয়ে এসে বলল,

“কি বললে তুমি?”

আদ্র হাত দুটো সামনে এনে ফিচেল হেসে বলল,

“প্লিজ বইন মারিস না। এমনেই বলে ফেলেছি। রাগ করলা। আর রুদ্রর সাথে বিয়ে হলে তো তোর জামাইই হবে। তাই আগে থেকেই বলছি। তাই কি রাগ করলি!”

অধরা কপাল কুঁচকে নিয়ে বলল,

“দেখো এইসব ডায়লগ দিবা না। রাগ উঠছে।”

রুদ্র রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলল,

“রাগ ভাঙাতে আমি এসেছি তো। আদ্র তু্ই যা তো দেখ, সোহার পড়াশোনার কি অবস্থা।”

আদ্র অধরাকে ইশারা করলো। বোঝালো এমন করেই রুদ্র ওকে খোঁচা মেরে কথা বলে। আদ্র উঠে চলে গেলো। রুদ্র দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে গান ধরলো….

“তুমি দিও না গো বাসর ঘরের বাত্তি নিভাইয়া…

আমি বন্ধ ঘরে অন্ধকারে যাবো মরিয়া।

তুমি ভয় কেনো পাও প্রাণসজনী আমায় দেখিয়া.. তোমায় প্রেম সোহাগে রাখবো আমার প্রেমে জড়াইয়া।”

অধরা নাক-মুখ কুঁচকে নিয়ে বলল,

“ছি ছি ছি আপনি না বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন। আর আপনার মুখে কিসব কথা। আল্লাহ এনাকে হেদায়েত দাও!”

রুদ্র প্রতিবারের মতো এবারও অধরার বিছানায় শুয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে বলল,

“হে আল্লাহ আমাকে একটা বউ দাও। তাহলেই আমি ভালো হয়ে যাবো।”

অধরা এগিয়ে এসে কোমরে হাত রেখে দাঁত চেপে বলল,

“একটা বউ মানে? আমাকে লাগবে না?”

রুদ্র ঢোক গিলে বলল,

“হ্যা তোকেই তো লাগবে বললাম।”

“কই বললেন? বললেন যে একটা বউ লাগবে। আমার নাম বলেছেন কি?”

“তোর নাম বলতে হবে না। আল্লাহ জানে তু্ই আমারই বউ।”

অধরা চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে থেকে আবারও জামাকাপড়ে হাত দিলো। রুদ্র অন্যদিক ফিরে শুয়ে রইলো। এর মাঝে কোনো কথা বলল না, ঘুমের ভান ধরে রইলো। অধরা সব কিছু গুছিয়ে রিডিং টেবিলে এসে বসলো। আর কি কি কেনা বাকি সেগুলো লিস্ট করে লিখে রাখলো। সবই কেনা শেষ এখন শুধু রিসেপশনের দুজনের ম্যাচিং করে ড্রেস কেনা বাকি আর তার সাথে জুয়েলারি কেনা বাকি।

অধরা লিস্টটা রেডি করে রেখে রুদ্রকে ডাকতে এলো। কিন্তু ও ঘুমিয়ে গিয়েছে। অধরা কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে পাশে এসে বসলো। রুদ্রর মুখপানে তাকিয়ে রইলো। বিশেষ করে রুদ্রর গোলাপি ঠোঁটটা বেশি নজর কাড়ছে। অধরা মিটিমিটি হাসছে তা দেখে। ছোট্ট করে একটা চুমু দেওয়ারও ইচ্ছে হচ্ছে ওর। অধরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে একটু এগোলো। পরক্ষনেই ভাবলো কি করতে যাচ্ছিলো ও। যদি রুদ্র উঠে যায় তাহলে খোঁচা মেরে কথা শোনাবে।

এই ভেবে বসে রইলো। ভাবলো কপালে একটা চুমু দিবে। তাই একটু এগোলো। রুদ্র ফট করে চোখটা খুলতেই অধরা ঘাবড়ে গেলো। তৎক্ষণাৎ উঠে দাড়িয়ে আমতা আমতা স্বরে বলল,

“ক কি বলুন তো, ম মশা বসেছিলো। তাই মারতে চেয়েছিলাম।”

রুদ্র উঠে বসে বলল,

“মশা মারতে এসেছিলি নাকি আমাকে একা পেয়ে…..”

এই বলে রুদ্র সাথে সাথে উঠে দাড়িয়ে শয়তানি করে বলল,

“এইবার বুঝেছি তোর মনে কি চলে। আল্লাহ বাঁচিয়েছে চোখটা খুলেছি নাহলে তো আজকে এই ছেলেটার সাথে কি না কি করতি।”

অধরা চোখ ছোট-ছোট করে তাকিয়ে রইলো। রুদ্র মুখ টিপে হাসলো। অধরা রুদ্রর সামনে এসে বলল,

“এসব কি কথা হ্যা!”

রুদ্র অধরাকে কাছে টেনে জড়িয়ে ধরে দুগালে হাত রেখে ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলো। অধরা সরিয়ে দিতে চাইলে রুদ্র ওর হাতটা শক্ত করে ধরে রইলো। এমন সময় দরজার সামনে এসে ডাকলেন অনিমা। রুদ্র অধরাকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় এসে উঁবু হয়ে শুয়ে বলল,

“কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলবি যে টায়ার্ড তাই ঘুমিয়েছে। আর সন্ধ্যার আগে ডাকবি না। একটু ঘুমাবো।”

অধরা মনে মনে বলল, “আমার ঘরে কেনো? কি ভাববে সবাই।”

অনিমা আবারও ডাকলেন। অধরা দরজা খুলে দিলো। অনিমা বললেন,

“এতক্ষন লাগে দরজা খুলতে। কি করছিলি?”

“আম্মু ব্যালকনিতে পড়তে বসেছিলাম। তাই শুনতে পাইনি। আর আস্তে কথা বলো রুদ্র ভাই এই রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়েছে।”

অনিমা এই কথা শুনে বিছানায় তাকালো। রুদ্র উঁবু হয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। অনিমা আর ডাকলেন না, হেসে চলে গেলেন।

রুদ্র হেসে মনে মনে বলল, “বাহ্, আমার বউ তো দেখি সবদিকেই পারদর্শী। ভালো মতোই হ্যান্ডেল করে নিলো।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন