ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৩৮তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩৮)

#জেরিন_আক্তার

পরদিন সকাল সকাল বিয়ে বাড়িতে হইহুল্লোড় বেধে গেলো। বড়রা কাজের চাপে এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করছে। আর ছেলেমেয়েরা একেকজন একেকটা করছে। ছেলেরা ছাদে ডেকোরেশন সাজানোতে সাহায্য করছে। আর মেয়েরা হলুদ সন্ধ্যায় কোন শাড়ি পড়বে সেটা নিয়ে ব্যাস্ত।

দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পরে রুদ্র অধরার রুমের দিকে এলো। অধরা বিছানায় শুয়ে একটু রেস্ট নিচ্ছিলো। পাশেই ঝিলিক বসেছিলো। রুদ্র রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো। ঝিলিক রুদ্রকে দেখে হেসে হেসে বলল,

“দুলাভাইয়ের মনে হয় বিয়ে পর্যন্তও ধৈর্য হচ্ছে না।”

রুদ্র ঘাড় চুলকাতে চুলকাতে বিড়বিড় করে আওড়ালো,

“সেটা যদি আগে বুঝতাম তাহলে তো এখন বাচ্চার বাপ হয়ে যেতাম।”

কথাটা অধরা বা ঝিলিকের কানে গেলো না। অধরা উঠে বসলো। রুদ্র এগিয়ে আসতে আসতে ঝিলিককে বলল,

“শ্যালিকা, তাহলে আমার বউয়ের সাথে একটু কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে একটু বাহিরে যান।”

ঝিলিক হেসে বলল,

“হুমম, কথা বলুন। আমি বরং যাই আপনার ছোট ভাই কি করে? আমার সাথে তো তার আবার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।”

রুদ্র হেসে বলল,

“হুমম, যান।”

ঝিলিক চলে গেলো। রুদ্র এগিয়ে এসে বিছানায় বসে অধরার দিকে তাকিয়ে হেসে হেসে বলল,

“ব্যাগপত্র গোছানো শুরু কর। কালকে ইনশাআল্লাহ, তোকে বউ করে সসম্মানে আমার ঘরে নিয়ে যাবো। অপমান করার পরে তো আর গেলিই না। এবার বউ হয়ে যাবি।”

অধরা হেসে বলল,

“ঠিক আছে।

অধরা হাত দুটো রুদ্রর সামনে এনে উৎফুল্ল কণ্ঠে বলল,

“দেখুন মেহেদী পড়েছি। আপনার নামও আছে।”

রুদ্র হাত দুটো ধরে আলতো করে চুমু দিয়ে বলল,

“খুব সুন্দর হয়েছে। আচ্ছা অধরা তোর কি মনে আছে?”

“কি?”

“ঐযে কয়েক বছর আগে আমাদের যেদিন বিয়ে হলো। তু্ই না বুঝেই কবুল বলেছিলি।”

“হুমম মনে আছে।”

রুদ্র জড়ানো গলায় বলল,

“সেদিন না বুঝেশুনে কবুল বলেছিলি আর কালকে জেনেশুনে কবুল বলবি। আমার অফিসিয়াল বউ হবি। সবাইকে বলতে পারবো আমার বউ ও। রুদ্র নেওয়াজের বউ।”

রুদ্রর এমন কথায় অধরার চোখের কোণায় জল জমা হলো। চোখ মিটমিট করে বিছানায় থেকে নেমে গেলো। যাতে চোখের পানি রুদ্রর সামনে না আসে। তবে রুদ্রকে ভীষণ করে বলতে ইচ্ছে করছে, “হ্যা মনে আছে আমার সব মনে আছে। কত অপেক্ষা করেছি আপনার জন্য। অবশেষে পাচ্ছি আপনাকে। আলহামদুলিল্লাহ।”

রুদ্র এসে অধরাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানে ফিসফিস করে বলল,

“খুব কষ্ট দিয়েছি তাইনা। এবার আর কষ্ট দিবো না। তোর কাছে, তোর হয়েই থাকবো।”

অধরা চোখে জল নিয়ে হাসলো। রুদ্র হেসে হেসে রসিকতা করে বলল,

“আপনার বিয়েতে মত আছে তো?”

অধরা তাড়াহুড়ো করে চোখ মুছে পেছন ফিরে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“উহু মত নেই। আব্বু-আম্মু জোর করে বিয়ে দিচ্ছে।”

রুদ্রও তালে তাল মিলিয়ে বলল,

“এতো ভারী অন্যায় করছে। তাঁদের নামে তো মামলা করা উচিত।”

অধরা রুদ্রর কাঁধে হালকা চাপর মেরে বলল,

“এসব বন্ধ করুন। এবার বলুন কিসের জন্য এসেছেন?”

রুদ্র বাকা হেসে বলল,

“একটু জড়িয়ে ধরবো, চুমু খাবো তাই এসেছিলাম।”

“ঝিলিক তো দেখি ঠিকই বলেছে আপনার তো দেখি ধৈর্য হচ্ছে না। দাঁড়ান বড় আম্মুকে ডাকছি।”

“মাকে আবার কিসের জন্য ডাকবি?”

“বলবো তোমার ছেলে….”

“হ্যা, থামলি কেনো বল! তোমার ছেলে তারপর কি?”

অধরা লজ্জা পেয়ে বলল,

“এই সরুন তো রুমে যান।”

এদিকে ঝিলিক সত্যি সত্যি এসেছে আদ্রর ঘরে। আদ্র মাত্র রুমে ঢুকে বিছানায় এসে বসে আছে। ঝিলিক এসে বলল,

“তো হবু বর কি করছে? আসা যাবে কি?”

“ওহ তুমি, এসো। মাত্র এসে বসলাম।”

ঝিলিক এসে বিছানার এক কোণে বসলো। আদ্র বলল,

“কিছু বলবে?”

“কি বলবো। ভালো লাগছিলো না। সোহা কোথায় জানো?”

আদ্র বলল,

“শাওয়ার নিচ্ছে মনে হয়!”

“বাব্বাহ, সোহার খবর দেখি আগে আগে বলে দিচ্ছো। তো বিয়ে করছো কবে?”

“ভাইয়ার বিয়েটা হয়ে যাক। তারপর সবাইকে জানাবো।”

“ওহহ। ভালোই। আমাকে কিন্তু আগে ইনভাইট করতে হবে।”

আদ্র হেসে হেসে বলল,

“তুমি হলে আমার আগের ওয়াইফ। তোমাকে তো আগেই ইনভাইট করতে হবে।”

“করো, সমস্যা নেই।”

বিকেলে পার্লার থেকে লোক এসে অধরাকে সাজিয়ে দিয়ে গেলো। ওর সাজা শেষ হতেই রুদ্র এসে হাজির। অধরাকে এতো সুন্দর লাগছে হলুদ সাজে, ও দেখে কিছুক্ষন টাসকি খেয়ে বসে রইলো। অধরা এগিয়ে এসে রুদ্রর মুখের সামনে হাত উপর-নিচ নাড়িয়ে বলল,

“এই কি হলো আপনার?”

রুদ্র গভীর কণ্ঠে বলল,

“তোকে খুব সুন্দর লাগছে।”

অধরা শয়তানি হেসে বলল,

“তো বউকে হলুদ সাজে দেখলেন কিছু দিলেন না?”

রুদ্র উঠে দাড়িয়ে বলল,

“তোকে কি দিবো, তু্ই জীবনটাই নিয়ে নে।”

এই বলতে বলতে রুদ্র পাঞ্জাবীর পকেট থেকে কিছু হাজার টাকার নোট বের করে অধরার হাতে দিয়ে বলল,

“আপাতত রাখেন এগুলো। এরপরে ভরপুর টাকা, ভালোবাসা সবই পাবেন।”

অধরা রুদ্রর সাথে কিছুক্ষন কথা বলে চলে গেলো ওর বাবার সাথে কথা বলতে। আরিফ নেওয়াজ পাঞ্জাবী পড়ছেন আর অনিমা চুল বাঁধছেন। অধরা রুমের সামনে দাড়িয়ে বলল,

“আব্বু আসবো?”

আরিফ নেওয়াজ আর অনিমা দুজনেই অধরার দিকে তাকালেন। আরিফ নেওয়াজ হেসে বললেন,

“এসো, অনুমতি নিতে না করেছি না?”

অধরা এগিয়ে এসে আরিফ নেওয়াজের সামনে দাঁড়িয়ে আদুরে গলায় বলল,

“আব্বু হলুদ সাজে তোমার মেয়েকে কেমন লাগছে?”

আরিফ নেওয়াজের মুখটা শুকনো হয়ে গেলো। অনিমা হেসে বললেন,

“খুব সুন্দর লাগছে।”

অধরা গাল ফুলিয়ে বলল,

“তোমাকে বলিনি। আব্বুকে বলেছি।”

আরিফ নেওয়াজ অধরার মাথায় হাত রেখে হেসে বললেন,

“আমার মেয়েকে খুব খুব সুন্দর লাগছে।”

অতঃপর মেয়ের কপালে চুমু দিলেন। অধরা কথা বলে চলে যেতেই আরিফ নেওয়াজ বিছানায় বসে রইলেন। মুখটা গম্ভীর। অনিমা পাশে বসে বললেন,

“কি হলো আপনার?”

আরিফ নেওয়াজ নরম হয়ে বললেন,

“সত্যি সত্যিই মেয়ের বিয়ে হবে তাইনা?”

অনিমা বুঝলেন তার এমন চুপচাপ থাকার মানে। একটাই মেয়ে তার, তাও আবার একটু বকা দেওয়া তো দূরে মেয়ের উপরে উঁচু গলায় কথাও যে সহ্য করে না। সেই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে বলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

অনিমা শুধানো গলায় বললেন,

“মেয়ে মানুষ যখন বিয়ে তো দিতেই হতো। আর মেয়ে কি আমাদের থেকে দূরে থাকবে নাকি? চোখের সামনে আমাদের কাছেই তো থাকবে। আপনি আর মন খারাপ করবেন না। মন খারাপ করলে অধরাও মন খারাপ করবে।”

কথাটা শুনে আরিফ নেওয়াজ উঠে দাঁড়ালেন। স্বাভাবিক গলায় বললেন,

“চলো ওদের কাছে যাই।”

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন