ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৩৯তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৩৯)

#জেরিন_আক্তার

রুদ্র রেডি হয়ে অধরাকে সাথে নিয়ে ছাদে এলো। দুজনের এন্ট্রি দেখে সবাই খুশি। আরমান নেওয়াজ তো মশকরা করে রুকাইয়াকে আস্তে আস্তে বললেন,

“তোমার ছেলে, দেখো! বলেছিলো তো আমি বিয়ে করবো না। দেশেই যাবো না, তোমাদের ভাতিজিকে বিয়ে করবো না। দেশে গেলেই তোমাদের ভাতিজির সাথে বিয়ে দিবে। আর এখন দেখো বিয়ের জন্য পাগল। অবশেষে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে এবং করছেও। তাহলে জেদ ধরে থাকায় লাভটা হলো কি?”

রুকাইয়া তাকিয়ে রইলেন। এরপরে বললেন,

“আল্লাহ ভালো জানে এইছেলে কার মতো হয়েছে। এখন আবার বাপের মতো মিশুক হচ্ছে। আর আদ্রকে দেখো কবে এসে বলে বাবা আমি বিয়ে করে ফেলেছি।”

আরমান নেওয়াজ কপাল কুঁচকে বললেন,

“ও তো বললই যে ঝিলিককে বিয়ে করবে। বলেছি তো সেটা নিয়ে কথা বলবো। তাহলে আবার একথা বলছো কেনো?”

রুকাইয়া ঝাড়ি মেরে বললেন,

“বয়স হয়েছে এখনও চোখ-কান খোলা থাকে না। ছেলে কি করছে না করছে জানেন না দেখেই বলছেন ঝিলিকের সাথে বিয়ের কথা বলবেন। ওর হাবভাব দেখে বুঝতে পারছেন না ও কাকে ভালোবাসে, কাকে বিয়ে করতে চাইছে!”

“কি বলছো কিছুই তো বুঝতে পারছি না।”

“বুঝতে হবে না। চুপ করে রুদ্র আর অধরাকে দেখেন।”

রুদ্র অধরা একসাথে ছবি তুলছে আর বাকিরা নিজেদের মতো। আবার বাড়ির বড়রা এসে ওদের সাথে ছবি তুলছে। আরিফ নেওয়াজ এসে রুদ্র-অধরার মাঝখানে বসলেন। রুদ্র আস্তে করে বলল,

“শশুর আব্বু তাহলে ফাইনালি আপনার মেয়েকে বিয়ে করছি!”

“হুমম।”

রুদ্র শয়তানি হেসে বলল,

“তো যৌতুক দিবেন না?”

আরিফ নেওয়াজ না হেসে পারলেন না। বললেন,

“যৌতুক চাইছো দাড়াও পুলিশকে কল করছি। সে এসে যৌতুক বুঝিয়ে দিবে।”

রুদ্র হাসলো।

অনুষ্ঠানের শেষের দিকে,

সবাই রুদ্র আর অধরাকে মাঝখানে রেখে চারিদিকে ঘুরে ঘুরে নাচানাচি করছে। জীবন ইচ্ছে করেই সোহার কাছাকাছি ঘুরছে। আর মিটিমিটি হাসছে। যা দেখে আদ্র চোখ পাকিয়ে সোহার দিকে তাকালো। সোহা সেই তালেই নেই। রুদ্র নাচতে নাচতে সোহার হাত ধরে টান দিয়ে ওর সামনে আনলো। সোহাকে যে কিছু বলবে তারও উপায় নেই। কেননা বক্স বাজছে খুব জোরে। আর সবার সামনে বলাও যাবে না। এর থেকে ভালো সোহার হাত ধরে তালে তালে নাচা শুরু করলো। এক হাতে সোহাকে আরেক হাতে অধরার হাত ধরে রইলো।

আদ্র আর কি নাচবে ওর মাথায় প্রায় রক্ত উঠে গিয়েছে। ওকে বারবার করে বলা হয়েছে কালকে নাচানাচি কম করতে আর ওই জীবনের থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু এই মেয়ে দেখে দেখে জীবনের কাছেই যাচ্ছে বারবার।

সবাই একটা সময়ে প্রায় টায়ার্ড। অধরা আর রুদ্র ওখানেই স্টেজে বসে রইলো। আদ্র এসে ওদের দুজনের জন্য দুই গ্লাসে করে শরবত দিয়ে গেলো। রুদ্র আদ্রকে জিজ্ঞাসা করলো,

“সোহা কোথায় রে?”

আদ্র যেতে যেতে রাগী কণ্ঠে বলল,

“জাহান্নামে যাক আমার কাছে জিজ্ঞাসা করছো কেনো?”

রুদ্র বিড়বিড় করে বলল, “এহ রাগ দেখাচ্ছে। একটু পরেই তো আবার চুমু খেতে ওর ঘরে যাবে। ওকে আমার হারে হারে চেনা আছে।”

অধরা মুখের উপরে বলে দিলো,

“আপনি আবার কাকে বলছেন! দুজনই তো একই পথের পথিক।”

রুদ্র ফিচেল হাসলো। অধরা জিজ্ঞাসা করলো,

“ওদের আবার কি হলো?”

রুদ্র বলল,

“কি আবার হবে রাগ করেছে।”

“কেনো?”

“সোহা নাচার সময় জীবনের সামনে ছিলো বলে আদ্র জেলাস হয়ে এমন করছে।”

“ওহ।”

রুদ্র অধরার কানে কানে বলল,

“কালকে কি জানিস?”

অধরা অবলীলায় বলল,

“কি আবার, কালকে আমাদের বিয়ে।”

রুদ্র বাকা হেসে বলল,

“এর থেকেও বড় বিষয় কালকে আমাদের বাসর রাত।”

অধরা লজ্জা পেয়ে রুদ্রর কাঁধে চাপর মেরে বলল,

“সরুন, বিয়ের আগে কাছে আসবেন না তো! নাহলে বিয়ে করবো না আপনাকে।”

রুদ্র ভয় পাওয়ার ভঙ্গিতে বলল,

“এমা তাই! বিশ্বাস করবে কেউ?”

এই বলে পরপর গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“তু্ই বললেই কি, আর না বললেই কি! বিয়ে আমার সাথে আগেও হয়েছে আর এখনও হবে, ইনশাআল্লাহ।”

রুদ্র অধরাকে সাথে নিয়ে নিচে এলো। অধরাকে রুমে রেখে নিজেও রুমে চলে গেলো। এরপরেই অধরার রুমে এলো ঝিলিক। ঝিলিক রুমের দরজার লাগিয়ে দিয়ে শাড়ি খুলতে খুলতে অধরাকে বলল,

“এই তু্ই শীতের মধ্যে বিয়ে করতে পারলি না। এই গরমে বিয়ে করতে হলো! শাড়ি পড়ে কি থাকা যায়।”

অধরা কোমরে হাত রেখে বলল,

“এটা তোর দুলাভাইকে গিয়ে বল! তারই তো দোষ। সে গরমে বিয়ে করতে গেলো কেনো?”

ঝিলিক হাসতে হাসতে অধরার কাভার্ড খুলে একসেট টু-পিস বের করে ওয়াশরুমে ঢুকলো। এরপরে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে ফোন স্ক্রল করতে করতে বিছানায় এসে শুলো। অধরাও ড্রেস চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে নিলো। ঝিলিক বলল,

“অধরা তোর ফোন কোথায় রে?”

অধরা মনে করে বলল,

“আমার ফোন কোথায় যে। ও হ্যা রুদ্র ভাইয়ের কাছে। নাচানাচির সময় সে নিয়ে পকেটে রেখেছিলো।”

ঝিলিক বিছানায় থেকে নেমে বলল,

“দাড়া নিয়ে আসছি। তোর ফোনটা দরকার। ছবি তুলেছি সেগুলো নিবো।”

“ঠিক আছে, যা নিয়ে আয়।”

ঝিলিক দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো। রুদ্রর ঘরের সামনে এসে বলল,

“দুলাভাই আসবো?”

ভিতরে থেকে রুদ্র বলল,

“হ্যা এসো। দরজা খোলাই আছে।”

ঝিলিক রুমে এসে বলল,

“ভাইয়া অধরার ফোনটা নাকি আপনার কাছে। একটু দিন তো ছবিগুলো আমার ফোনে পাঠাবো।”

“দেখো সোফায় রেখেছি ফোন।”

ঝিলিক ফোনটা নিয়ে বের হলো। সামনেই আবার সোহার রুমে ঢুকলো। সোহা বসে আছে। ঝিলিক বলল,

“সোহা চলো অধরার রুমে আজ একসাথে থাকি। আর এরপরে তো একসাথে থাকা হয়েও, হয়ে উঠবে না।”

সোহা উঠে দাড়িয়ে বালিশটা নিয়ে বলল,

“হুমম, ঠিক বলেছো। চলো!”

দুজনে রুম থেকে বের হলো। চলে এলো অধরার রুমে। তিনজনেই শুয়ে পড়লো। অধরা মাঝখানে শুয়েছে আর দুপাশে দুজন। তিনজনে আবার ভালো গল্প করছে।

হঠাৎ দরজায় কেউ চাপর মারে। অধরা ঝিলিককে বলল দেখতে কে এসেছে। ঝিলিক বিছানায় থেকে নেমে ওড়নাটা ঠিক করে দরজা খুলে দিলো। আদ্র বলল,

“অধরা কই?”

“শুয়ে আছে।”

আদ্র একটা ব্যাগ এগিয়ে দিয়ে বলল,

“এইটায় কিছু জিনিস আছে। অধরাকে দিও।”

ঝিলিক বলল,

“আরে এসো না। আমরা ঘুমাইনি। তুমিই দিয়ে যাও।”

আদ্র ভিতরে ঢুকলো। সোহা ফট করে উঠে বসলো। এরপরে অধরা। আদ্র ব্যাগটা অধরাকে দিয়ে বলল,

“এগুলো মা দিতে বলেছিলো। আমারই মনে ছিলো না। আর বাদবাকি গুলো কালকে সকালে।”

“ঠিক আছে।”

আদ্র সোহার দিকে একপলক তাকিয়ে ওকে জেলাস ফিল করাতে ঝিলিককে বলল,

“তো ম্যাডাম দরজাটা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।”

আদ্র চলে গেলো। ঝিলিক হেসে দরজা লাগাতে যাবে ঠিক তখন আদ্র একটু জোরেই ঝিলিককে ডাকে।

“শোনো তো, কথা আছে।”

ঝিলিক বেরিয়ে গেলো। সোহা অধরাকে বলল,

“এটা কি হলো আপু।”

অধরা ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,

“আমি এর মধ্যে নেই বোন। আমার বিয়ে কালকে। আর এসব নিয়ে চিন্তা করিস না।”

ঝিলিক এসে দরজাটা বন্ধ করে বিছানায় এলো। সোহা ঝিলিকের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে নিয়ে কথাটা গিলে অধরাকে ধরে শুয়ে পড়লো।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন