ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়বেলায় তোমার আগমন

৪০তম পর্ব

লেখক: জেরিন আক্তার

#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৪০)

#জেরিন_আক্তার

পরদিন সকালবেলা—

সবাই সকালের খাবার খেয়ে ড্রইং রুমে গোল হয়ে বসে কথা বলছিলো। বাড়ির বড় থেকে ছোট সবাই ছিলো। যেহেতু ছেলে-মেয়ের বাড়ি একটাই তাই রিসেপশন তাঁরা কেউ করবেন না। আজই লোকদের খাওয়ানো হবে। আরিফ নেওয়াজের একটাই মেয়ে তাই বিয়েটা খুব ধুমধাম করেই দিচ্ছেন। অনেক লোক বলেছেন। আবার এউ ভেবে দেখলেন রিসেপশন অনুষ্ঠান ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানটাই সম্পূর্ণ নয়। তাই ছেলেমেয়েদের মন যেনো না খারাপ হয় তাই ছোট করে গেট টুগেদার ইভেন্ট করবেন।

এই মুহূর্তে কথার মাঝে আরমান নেওয়াজ বললেন,

“ভাগ্গিস বিয়েটা একই বাড়িতে নাহলে আরও কত কাজ থাকতো। তবে যাই বলো আমার আদ্রর বিয়েতে আশা রাখাই যায়। ছোট ছেলের বউ আনতে যাবো সবাই মিলে।”

উনার শেষের কথা শুনে আদ্র বিষম খেয়ে উঠল। রুকাইয়া ছেলের মাথায় চাপর মেরে আরমান নেওয়াজকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“রুদ্রর বিয়েটা হয়ে যাক, এরপরে আদ্রর কথা চিন্তা করবে।”

পাশ থেকে রুদ্র শয়তানি হেসে আরমান নেওয়াজকে বলল,

“বাবা পুত্রবধূ তো, তোমার ছোট ছেলের পছন্দ করাই আছে। সেদিন না বলল।”

আদ্র ঢোক গিলে অনিমার দিকে তাকালো। সেদিন অনিমাই ঠাস করে বলে ফেলেছিলো আদ্র ঝিলিককে পছন্দ করে আর সেখানে থেকেই সবাই জেনে গেলো। আদনান নেওয়াজ আড়চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে ওর প্রতিক্রিয়া দেখতে চাইছে। সোহা অধরার সাথে চুপচাপ বসে আছে বলতে অধরাই জোর করে বসিয়ে রেখেছে।

আপাতত ঝিলিক আর আদ্রর প্রসঙ্গটা পাল্টাতে অধরা উঠে দাড়িয়ে বলল,

“আদ্র ভাই, ঝিলিক, সোহা, তোমরা আমার সাথে এসো তো। ছাদে কাজ আছে একটা।”

রুদ্র ফট করে বলে দিলো,

“আমাকে ডাকবি না?”

ওর কথা সবাই হেসে উঠল। অধরা লজ্জা পেয়ে উপরে যেতে যেতে বলল,

“গেলে আসুন না গেলে নাই।”

রুদ্র সাথে সাথে ওর পিছু পিছু চলে এলো। অধরা বুদ্ধি করে রুমে এলো। রুদ্রও এলো। অধরা রুদ্রর দিকে তেড়ে এসে বলল,

“আপনার আর বড় আব্বুর সমস্যা টা কি বলুন তো? আদ্র ভাই আর সোহার প্রেমটা বুঝি সহ্য হচ্ছে না।”

রুদ্র হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,

“নাহ! ইচ্ছে তো করছে সবাইকে বলে দেই। আর ওদের বিয়েটা হোক।”

আদ্র এলো অধরাকে ডাকতে।

“অধরা আমাদের ডেকে রুমে এসে কথা বলছিস চল!”

অধরা রুদ্রর হাত ধরে যেতে যেতে বলল,

“চলুন আমার সাথে।”

“কোথায়?”

“জঙ্গলে।”

“তোর সাথে জঙ্গলে কেনো, আকাশ-পাতাল সব জায়গায় যেতেই রাজি। যদি তু্ই থাকিস।”

আদ্র পেছন ফিরে বলল,

“আপাতত ছাদে আয় দুজনে। এরপরে আকাশ-পাতাল ট্যুরে যাস।”

রুদ্র, আদ্র আর অধরা ছাদে স্টেজে এলো। ঝিলিক, সোহা সেখানেই ছিলো। সবাই বিয়ের বর-কনের এন্ট্রির সময় নাচবে। রুদ্রও নাচবে। এরপরে এলো জীবন। তারপর সবাই নাচের রিহার্সেল করছিলো।

রিহার্সেল শেষ হলে আদ্র আগেই নিচে নেমে আসে। কালকে থেকে সোহার সাথেও কথা বলেনি। সোহাও বলেনি এই ভেবে যে, আদ্র হয়তো আগে কথা বলবে।

আদ্র রুমে ফিরে এসে কাউকে কল দিয়ে কথা বলতে থাকে। এরপরেই সোহা আসে। আদ্রকে কথা বলতে দেখে দাঁড়িয়ে থাকে। আদ্র কল কেটে দিয়ে ভারী গলায় বলল,

“কি হয়েছে?”

“তুমি রাগ করে আছো?”

আদ্র ফোন রেখে বিছানায় থেকে টাওয়াল নিয়ে সোফায় রাখতে রাখতে বলল,

“আমি কেনো রাগ করে থাকবো? রাগ করার আমি কে?”

সোহা নরম গলায় বলল,

“সত্যিই রাগ করে নেই তুমি?”

আদ্র হতবাক। ও তো বলবেই রাগ করে নেই। তাই কি সোহা বুঝবে না, বুঝে কি এগিয়ে আসবে না? কথাটা ভাবতে ভাবতেই সোহা বলল,

“আমি আরও ভাবলাম রাগ করে আছো।”

আদ্র কোনো উত্তর দেওয়ার মুডে নেই। সোহা কি পারে না আদ্রকে জোর দেখিয়ে কোনো কথা বলতে। একবার জড়িয়েও তো ধরতে পারে। কিন্তু এই মেয়ের মাথায় তা ঢুকবেই না। আদ্র রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ঘাড়টা হালকা ঘুরিয়ে নিরেট কণ্ঠে বলল,

“যে বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকে তাকে যদি আস্ত একটা রচনা লিখে বোঝাই তাও সে কোনো কিছুই বুঝবে না।”

বলে আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না। চলে গেলো। সোহার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। কথাটা মোটেও অন্য কাউকে নয়, বরং ওকেই বলে গিয়েছে। ওই বা কি বলবে, বলল তো রাগ করেছে কিনা।

সোহা কাঁদতে কাঁদতে চলে এলো নিজের ঘরে।

দুপুরের পরপরই পার্লার থেকে দুটো মেয়ে এলো অধরাকে সাজাতে। ঝিলিক ওদেরকে নিয়ে এলো উপরে একটা রুমে। এরপরে দুজনকে কফি, হালকা নাস্তা এনে দিলো। তাঁদের থেকে একজন মেয়ে বলল বিয়ের কনেকে এখানে আনতে। ঝিলিক ওই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো অধরার রুমে।

“অধরা তোকে সাজাতে এসে পড়েছে। আমি ওদেরকে কফি, নাস্তা দিয়ে এসেছি।ওরা তোকে নিয়ে যেতে বলল।”

অধরা ফোনটা হাতে নিয়ে বলল,

“চল ঐখানে সব রেডিই।”

রুকাইয়া রুমে ঢুকতে ঢুকতে বললেন,

“সব রেডি মানে, আসল জিনিসই তো নিসনি!”

হাতে তার একটা শাড়ি। এই শাড়িটাই অধরা সেদিন দেখেছিলো। রুকাইয়া বলেছিলেন এইটা রুদ্রর বউয়ের জন্য। অধরা হেসে মনে মনে বলল,

“বড় আম্মু তোমার রুদ্রর বউই আজ এই শাড়ি পড়বে। যাক সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।”

রুকাইয়া শাড়িটা দিলেন অধরার হাতে। তার চোখে পানি। অধরা জিজ্ঞাসা করলো,

“কাঁদছো তুমি?”

রুকাইয়া নাক টেনে বললেন,

“কই কাঁদছি? আজ আমার থেকে খুশি কে বল। এতদিনে কত কেঁদেছি আল্লাহর কাছে বলেছি ছেলেটাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনো। ও এলেই বিয়ে হবে। আর হলোও।”

অধরা ডানহাত দিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,

“কাঁদলে কিন্তু বিয়ে করবো না।”

রুকাইয়া হেসে উঠলেন। অধরার কাঁধে হাত রেখে বললেন,

“সুন্দর করে সাজবি। আমি কাজ সেরে তোর কাছে আসছি।”

রুকাইয়া চলে গেলেন। সাথে সাথে রুমে ঢুকলো রুদ্র। ঝিলিক বলল,

“অধরা তাহলে তু্ই আয় আমি গিয়ে দেখছি ওদের অসুবিধা হচ্ছে নাকি?”

“হুমম যা।”

ঝিলিক চলে যেতেই রুদ্র অধরাকে জিজ্ঞাসা করলো,

“কোথায় যাবি এখন?”

“বউ সাজতে। পার্লার থেকে লোক এসেছে সাজাতে।”

“ওহহ, এতো আগেই সাজবি?”

“কই এতো আগে? একটা ব্রাইড সাজাতে অনেক সময় লাগে বুঝলে।”

“তোদের কতকিছুই লাগে! আমার আবার এতো লাগবে না। শুধু সেরোয়ানিটা পড়বো শেষ। তু্ই এখন সাজবি, তাহলে আমি কি করবো এখন?”

“কি আর করবেন, আমার রুমে ঘুমান।”

“ঠিক আছে যা। আর বউ সেজে এসে ডাক দিবি কিন্তু।”

“আচ্ছা।”

অধরা চলে যাবে তখন রুদ্র ওর হাত ধরে টেনে কাছে এনে বলল,

“উফ, বউ না সাজলেও কেনো যেনো বউ বউই লাগছে তোকে।”

“জি নাহ! বউ সাজবো তখনই পরিপূর্ণ বউ বউ লাগবে। বুঝলেন!”

রুদ্র না বোঝার ভান করে মাথা দুলিয়ে বলল,

“না তো বুঝিনি। একটু চুমু দে বুঝে যাবো।”

“পারবো না এখন। বাড়ি ভর্তি লোকজন।”

রুদ্র শয়তানি হেসে বলল,

“তাহলে দরজা বন্ধ করে আসি।”

অধরা ঝাড়ি মেরে বলে,

“এই ছাড়ুন তো দেরি হচ্ছে!”

অধরা চলে গেলো রুদ্র ওর দিকে তাকিয়ে একটু জোরেই বলল,

“এখন ঝাড়ি মেরে যেতে পারলি। তবে কবুল বলার পরে ঝাড়ি মেরে দেখিস রাস্তায় ফেলে দিয়ে আসবো।”

আরিফ নেওয়াজ এদিকেই মেয়ের ঘরে আসছিলেন। কথাটা শুনে রুদ্রর মুখোমুখি হয়ে বললেন,

“কি বললে?”

রুদ্র হেসে বলল,

“চুমু খেতে চেয়েছিলাম খেতে দেয়নি। ঝাড়ি মেরে চলে গেলো। তাই বললাম এই কথা।”

আরিফ নেওয়াজ হতবিহবল। বিয়ের আনন্দে এই ছেলের লাজ-লজ্জা নেই নেই। রুদ্র টি-শার্ট খুলে বিছানার দিকে গিয়ে বলল,

“তোমার মেয়ের সাজতেই নাকি অনেক সময় লাগবে। আমি কি করবো তাহলে একটু রেস্ট নেই।”

আরিফ নেওয়াজ শ্বাস ছেড়ে বললেন,

“হ্যা নাও।”

সন্ধ্যার দিকে —

রুদ্র আর অধরার ছবি তোলা হয়ে গেলে ওরা গ্রূপ ডান্স করবে। সবাই এখানে রয়েছে। সোহা আসেনি এখনও। রুদ্র আদ্রকে যেতে বলল যেনো ওকে ডেকে নিয়ে আসে। আদ্র অমত করলো। রুদ্র ইচ্ছে করে জীবনকে যেতে বলল। যা দেখে আদ্র রাগে নিজেই চলে গেলো ডাকতে। বিড়বিড় করে বলল, শালার এমন একটা জায়গায় আছি, এই মেয়ে অবুঝ টাকে হাতেকলমে শিখিয়ে দিতে হয় রাগ করেছি কিনা। আর আরেকদিকে এই জীবনের বাচ্চা এসেছে। আরে ভাই এ যাবে কবে?

বলতে বলতে ঝিলিকের সাথে দেখা হলো। ও ঝিলিককে কিছু একটা বলে চলে এলো সোহার রুমের দিকে। সোহা রেডি হয়ে বের হলো। আদ্র বলল,

“তু্ই জানিস না অধরা তোকে আশেপাশে না পেলে কেমন করে, এখনও যাসনি কেনো? খুঁজছে।”

সোহা মিনমিন করে বলল,

“যাচ্ছি। ওই একটু দেরি হয়ে গেলো। চলো।”

আদ্র আগে আগে যাচ্ছে আর সোহা ওর পেছনে। ছাদে আসার সিঁড়ির কাছে আসতেই দেখা হলো ঝিলিকের সাথে। ঝিলিক ইচ্ছে করেই পড়ে যাওয়ার ভান করে আদ্রর দুইকাধে হাত রাখলো। আদ্র বলল,

“দেখে হাটবে না। ঠিক আছো?”

“হুমম ঠিক আছি।”

“তো কোথায় যাচ্ছিলে?”

“তোমাকেই ডাকতে যাচ্ছিলাম।”

“কেনো কিছু বলবে?”

ঝিলিক বলল,

“হুমম।”

আদ্র ব্যাস্ত কণ্ঠে বলল,

“উপরে চলো পরে কথা বলবো, সময় নেই। সবাই ওয়েট করছে।”

বলে আদ্র আগে আগে চলে গেলো। সোহা সেখানেই ঠাই দাঁড়িয়ে আছে। ঝিলিক ওর চিন্তা দূর করতে হেসে বলল,

“সোহা ডোন্ট মাইন্ড। তোমার আদ্রকে আমি নিচ্ছি না, ও তোমারই থাকবে।”

সোহা হেসে উপরে চলে এলো। কিন্তু বুকের ভিতরে যে ঝড় বইছে সেটা কি করে সামাল দিবে। আদ্র খুব রাগ করেছে ওর ব্যবহারেই বোঝা যাচ্ছে। কি করে রাগ ভাঙাবে এখন! অধরা আপুর কাছে শুনবে কি? কিন্তু ও তো বিয়ে নিয়েই বিজি থাকবে, বলবে কি করে!

__________

বিবাহ পর্ব সম্পূর্ণ হওয়ার পরপরই আত্মীয়রা চলে গেলো। আরিফ নেওয়াজের ইচ্ছা অনুযায়ী অনেক বড় করেই হলো অনুষ্ঠান। রাত ১০ টার দিকে প্রায় বাড়িটা অনেকটাই খালি হয়েছে। কাছের আত্মীয়রাই রয়েছে শুধু।

রাত ১০ টা….

আরিফ নেওয়াজ ড্রইং রুমে বসে আছেন একা। মনটা ভার। শুধু থেকে থেকে গভীর শ্বাস ছাড়ছেন। বাড়ির বাহিরে সবাই। প্রথমে অনিমা, আরমান নেওয়াজ, আদনান নেওয়াজ আর আদ্র এলো। অনিমা আরিফ নেওয়াজকে দেখে এগিয়ে এসে পাশে বসলেন। আদ্র এসে বলল,

“অধরার জন্য মন খারাপ করছো? মন খারাপ করো না। ও তো আমাদের সাথেই থাকবে। দূরে তো বিয়ে দাওনি।”

আরিফ নেওয়াজ ভারী শ্বাস ছেড়ে বললেন,

“সামনে তো থাকবেই তবুও থেকে থেকে মনে হচ্ছে মেয়েটাকে পর করে দিলাম।”

আদ্র হেসে বলল,

“কই পর করে দিলে তোমার বাড়িতে তোমার সামনেই তো থাকবে। শুধু অনুষ্ঠান করে কবুল বলল ওরা। মন খারাপ করো না, নাহলে অধরাও মন খারাপ করবে। আর ধরে নাও মেয়ে তোমারই ঘরে আছে, রুদ্র ভাই ঘরজামাই।”

ওর কথা আরিফ নেওয়াজ হাসলেন। আরমান নেওয়াজ বললেন,

“আদ্র ঠিকই বলেছে।”

এরপরে বাড়িতে ঢুকলো রুদ্র, অধরা সহ বাড়ির বাকি সবাই। আদ্র সবার সামনে অধরাকে বলল,

“তু্ই এখন থেকে আমায় মারতে পারবি না। আমি এখন থেকে তোর দেবর লাগি, একটু সম্মান দিয়ে কথা বলিস।”

আদনান নেওয়াজ ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বললেন,

“আদ্র! বাপ তু্ই যেহেতু বললি তু্ই অধরার দেবর সেহেতু অধরা তোকে এখন বোন হয়ে না, বড় ভাবি হয়ে দিনরাত মারবে। আর তু্ই দেবর হয়ে কি ভাবির গায়ে হাত তুলতে পারবি? যদি তুলিস উল্টো তোকেই রুদ্র, অধরা ধরে মারবে।”

উনার কথায় বাড়ির বাকি সবাই হাসলেন। কথাটা ভুল বলেননি। যথেষ্ট যুক্তি দিয়েই বলছেন। আদ্র হতাশ হয়ে বসে অধরার দিকে তাকালো। অধরা শয়তানি হাসছে।

………

আদ্র, জীবন, ঝিলিক, সোহা আর রুদ্রর দুই বন্ধু মোট ৬ জন, এরা সবাই মিলে রুদ্রর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। রুকাইয়া এলেন রুদ্র আর অধরাকে সাথে নিয়ে। রুকাইয়াকে আর ভিতরে যেতে দিলো না কেউ। ওখানে থেকে পাঠিয়ে দিলো। তিনিও চলে এলেন, ছোটদের মাঝে থেকে তিনি আর কি করবেন। ওরা আনন্দ করুক।

রুদ্র ওদের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

“তো কত টাকা দিলে যেতে দিবেন আপনারা?”

ঝিলিক বলল,

“বাহ্, দুলাভাইকে আর বলতে হলো না, উনি বুঝেই নিলো। তো দুলাভাই বেশি টাকা চাইছি না, বিয়ে যেহেতু ধুমধাম করেই হলো সেহেতু আমরাও ধুমধাম করেই, ভিআপি ভাবে, বাসর ঘর সাজিয়েছি। টাকা দিবেন ৮০ হাজার।”

রুদ্র অবাক কণ্ঠে বলল,

“৮০ হাজার? একটু কম নিলে হতো না?”

আদ্র ভাবুক গলায় বলল,

“হুম, কম। আমরা আছি ৬ জন, দশ হাজার করে দাও।”

রুদ্র ফটাফট মানিব্যাগ খুলে দশ হাজার টাকা বের করে দিয়ে বলল,

“এই যে টাকা এবার ভিতরে যাই?”

ঝিলিক টাকা নিয়ে বলল,

“দুলাভাই দশ হাজার কেনো?”

রুদ্র না বোঝার ভান করে বলল,

“আদ্রই না বলল দশ হাজার।”

আদ্র বলল,

“না ভাই, জন প্রতি দশ হাজার করে চাইছি। অনেক টাকা ঢেলেছি এই বাসর ঘর সাজাতে। শুধু দশ হাজারে লস হয়ে যাবে। জন প্রতি ১০ হাজার লাগবে।”

রুদ্রর কাছে আর ক্যাশ নেই। রুমে আছে কিন্তু রুমে যেতে দিবে না। রুদ্র বুদ্ধি করে ফোনটা বের করে একে একে সবার বিকাশ নাম্বার নিয়ে দশ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলো। ঝিলিক ক্যাশ ১০ হাজার টাকা রুদ্রকে ফিরিয়ে দিতে নিলে রুদ্র বলল,

“এইটা তোমরা নিয়ে পার্টি করো।”

ওরা সবাই রুমের দরজা ছেড়ে রুমের ভিতরে ঢুকলো। রুদ্র আর অধরাকে যেতে বলল। ঝিলিক আদ্ররা রুমের ভিতরে থেকেই ওদের দিকে গোলাপের পাঁপড়ি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানালো। রুদ্র অধরার হাত ধরে রুমে ঢুকলো।

রুদ্র যেই চাচাতো বোনকে ঘরে থেকে অপমান করে বের করে দিয়েছিলো, আজ তাকে সত্যিই বউ করে সম্মানের সাথে ঘরে তুলল।

আর রুদ্র আর অধরা দেখলো রুমটা আসলেই খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন