#প্রণয়বেলায়_তোমার_আগমন (৪১)
#জেরিন_আক্তার
রুদ্র আর দেরি করলো না সাথে সাথে সবার উদ্দেশ্যে বলল,
“এই তোমরা এখন বের হও। আমরা ঘুমাবো।”
রুদ্রর বন্ধু সাদিক বলল,
“যাবোই তো তোদের বাসর রাতে আমরা থেকে কি করবো। আর তু্ই যে ঘুমাবি এরকম মিথ্যে বলিস না। তু্ই ঘুমাবি না কি করবি ও আমাদের জানা আছে।”
রুদ্র বাকা হেসে বলল,
“তোদের যখন জানা আছে তাহলে যা।”
ঝিলিক হেসে বলল,
“আমি বলি না দুলাভাইয়ের ধৈর্য নেই। এই তার আরেকটা প্রমান।”
আদ্র সবার উদ্দেশ্যে বলল,
“হুমম তা সচক্ষেই দেখছি। এখন সবাই চলো। আমরা পার্টি দিবো।”
সবাই বের হয়ে আসবে ঠিক তখন সাদিক বলল,
“বন্ধু বেস্ট অফ লাক। তোদের জন্য রাতটা আরও বড় হোক। সকাল ১০ টার আগে যেনো কারো ঘুম না ভাঙে।”
অধরার কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে। লজ্জায় রুদ্র পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। অতঃপর সবাই চলে গেলে রুদ্র দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে ব্যালকনির দরজা খুলে ভিতরে কেউ আছে কিনা দেখে আবার লাগিয়ে দিলো। আবার ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা খুলে ভিতরে দেখে দরজা লাগিয়ে দিলো। অধরা জিজ্ঞাসা করলো,
“কি কিছু খুঁজছেন নাকি?”
“আরে না দেখছি কেউ আবার রয়ে গেলো নাকি।”
অধরা এর মানে বুঝতে পেরে লজ্জায় আর কিছু বলল না। লাগেজ খুলে থ্রি-পিস বের করে দাঁড়াতেই রুদ্র জিজ্ঞাসা করলো,
“কি করবি এই জামাকাপড়?”
“কেনো পড়বো।”
“থ্রি-পিস না। শাড়ি পড়!”
অধরা থ্রি-পিস রেখে শাড়ি বের করছে। রুদ্র ওর দিকে তাকিয়ে কাঠ গলায় বলল,
“এখন আমার সাথে বিয়ে হয়েছে। আমি তোর স্বামী। আমি যা বলবো তাই পড়তে হবে। সামনে যতক্ষণ থাকবি ততক্ষন শাড়িই পড়ে থাকতে হবে। আর যখন অফিসে থাকবো তখন থ্রি পিস পড়িস সমস্যা নেই।”
অধরা বিশ্বজয় করা হাসি দিয়ে বলল,
“ঠিক আছে। তাই হবে। এমনেও আমার শাড়ি পছন্দ তবে আমার সমস্যা নেই। আপনার সামনে যতক্ষণ থাকবো শাড়িই পড়ে থাকবো। আর আপনি অফিসে থাকতে এমন বাড়িতে থ্রি-পিসই পড়বো।”
রুদ্র এগিয়ে এসে বলল,
“শোন আরেকটা কথা, এখন থেকে শাড়ি অর্ডার করলে আমার নাম্বার দিস। মেঝো আব্বুর নাম্বার দিসনা। নাহলে আমি লজ্জায় পড়ে যাবো।”
অধরা ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
“আচ্ছা তাই দিবো। তবে ডেলিভারি ম্যান যখন-তখন কল দিলে আসতে হবে।”
রুদ্র হেসে বলল,
“বউ যখন আমার, তখন আসতেই হবে। সে খুশি থাকলেই আমি খুশি। তাকে কষ্টে রাখলে তো আবার তার বাবা নামের আতঙ্ক আমার খুশি চাঙ্গে উঠাবে।”
অধরা ওয়াশরুমের দরজা একটুখানি খুলে উঁকি দিয়ে বলল,
“কি বললেন আপনি?”
রুদ্র ফিচেল হেসে বলল,
“আই লাভ ইউউউউ বললাম শুনিসনি নাকি?”
“হুমম শুনলাম মাত্র।”
অধরা ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে দিলো। রুদ্র স্কাই ব্লু রঙের টি-শার্ট আর কালো প্যান্ট বের করে বিছানায় রাখলো। পাক্কা আধঘন্টা পরে অধরা বের হলো গোলাপি রঙের একটা শাড়ি পড়ে। আর বিয়ের শাড়ি, চুরি, গয়নাগুলো এনে সোফায় রাখলো।
রুদ্র ওয়াশরুমে ঢুকলো। ফ্রেশ হবে কি ও একবারে শাওয়ার নিয়ে শার্ট-প্যান্ট পড়েই বের হলো। চুলগুলো ভেজা। ও কিছু একটা ভেবে বিছানায় এসে বসলো। অধরা এগিয়ে এসে বলল,
“চুল মুছবেন না নাকি?”
রুদ্র যেনো এই প্রশ্নের অপেক্ষায়ই ছিলো। সাথে সাথে হাতের টাওয়ালটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “মুছে দে!”
অধরা টাওয়াল নিয়ে আরও এক কদম এগিয়ে রুদ্র চুল মুছে দিতে শুরু করলো। রুদ্র দুহাত দিয়ে অধরার কোমর ধরে নিজের একবারে কাছে এনে দাঁড় করালো। এরপরে অধরাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“দূরে দাঁড়িয়ে থাকলে কি মুছতে পারবি, কাছে আসতে হবে তো!”
অধরা মুচকি হেসে আশেপাশে তাকালো। রুদ্র ওর চাহনি দেখে বলল,
“লজ্জা পাওয়া তো কেবল শুরু আরও কত কিছুই না হবে।”
অধরা মুচকি হেসে চুল মুছে দিয়ে টাওয়ালটা সোফায় রাখতে গেলো। আর গয়না গুলো একটা বক্সে রেখে কাভার্ডে রাখছে। এদিকে রুদ্র সাইড টেবিলে থেকে ফোনটা নিতে নিলে দেখতে পায় গ্লাসে দুধ রাখা। অবশ্য রুদ্র বুঝতে পারছে কিসের জন্য এটা। বাসর রাত বলে কথা এগুলো থাকবেই। দুধের গ্লাসের পাশে একটা ছোট্ট কাগজ। সেখানে লেখা,,
“স্বামী-স্ত্রী দুজনে ভাগাভাগি করে খাবেন।”
ইতি,
সিঙ্গেল জনগণ
রুদ্র মুচকি হেসে কাগজটা পাশেই রাখলো। অধরা ওর দিকে এগিয়ে আসতেই বলল,
“অধরা দুধটা কিসের জানিস? একটা কাগজে লিখে দিয়েছে আমাদের ভাগাভাগি করে খেতে হবে।”
অধরা লজ্জা পেয়ে বলল,
“আমি দুধ খাই না। আপনি খান।”
রুদ্র শয়তানি হেসে বলল,
“না বাবা, আমি আজ রাতে কিচ্ছু খাবো না। যদি এই দুধের মধ্যে কিছু মিশিয়ে দিয়ে থাকে, আর আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম তখন আমার বাসর করা হবে না।”
অধরা মুচকি হেসে বিছানায় থেকে ফুলের পাঁপড়িগুলো সরিয়ে মাঝখানে বসলো। রুদ্র হেসে ওর কোলে মাথা রেখে শুলো। আবার মিনিট দুই যেতেই উঠে বসলো অধরার মুখোমুখি। পলকহীন দৃষ্টিতে অধরাকে দেখছে। অধরা ওর এভাবে তাকিয়ে থাকা দেখে আসফাঁস করলো। রুদ্র অধরার আঁচল দিয়ে ওর মাথায় ঘোমটা দিয়ে বলল,
“এখন রুদ্র নেওয়াজের বউ লাগছে।”
অধরা মাথা নিচু করে মুচকি মুচকি হাসছে। রুদ্র অধরার দুগালে হাত রেখে আরও এগিয়ে এসে ঠোঁটে-ঠোঁট মিশিয়ে নিলো। অধরা আর আটকালো না, আটকানোর মতো কোনো বাহানাই নেই। আজ ও ওর নামেই কবুল বলেছে, এখন থেকে রুদ্রর অর্ধাঙ্গিনী ও।
………………
এদিকে আদ্ররা পার্টি বলতে ছাদে স্টেজে বসে কোল্ড্রিংকস, কেক, চিপস, চকলেট আরও অনেক কিছুই মিলেঝিলে খেলো। রাত প্রায় ১২ টার উর্ধে। সাদিক আদ্রকে কানে কানে কিছু একটা বলতেই ও হাসলো। এরপরে সাদিক জীবনকেও একই ভাবে বলল। জীবন মাথা নাড়িয়ে বোঝালো-ঠিক আছে, সমস্যা নেই।
আদ্র সোহা আর ঝিলিককে বলল,
“তোমরা দুজন চলে যাও। রাত অনেক হলো। P”
সোহা আর ঝিলিক চলে এলো। নিচে এসে ঝিলিক অধরার রুমে এলো। আর সোহা ওর নিজের ঘরে। সোহা ড্রেস চেঞ্জ করে চলে গেলো ঝিলিকের কাছে। ঝিলিকই বলেছিলো ড্রেস চেঞ্জ করে দেখা করতে। সোহা ঝিলিকের সাথে প্রায় আধঘন্টার মতো কথা বলে বের হলো। সামনে দিয়ে গেলো আদ্র। মোটেও ওকে স্বাভাবিক লাগছে না। কেমন এলোমেলো পায়ে যাচ্ছে। চোখ-মুখও স্বাভাবিক না। সোহা ওর পিছু পিছু রুমে ঢুকলো। আদ্রর মাথা কিচ্ছু ঠিক নেই। রুমে ঢুকে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়লো। সোহা দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে এগিয়ে এসে বলল,
“তোমাকে এমন লাগছে কেনো?”
আদ্র কিছু বলতে যাবে ঠিক তখন ওর গা গুলিয়ে উঠল। সাথে সাথে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো। শেষে বমি করে দিলো। সোহা চিন্তিত হয়ে এগিয়ে এসে ওকে ধরলো। আদ্র চোখে-মুখে পানি দিয়ে টলমল পায়ে বের হয়ে এসে বিছানায় শুলো। খুব জোরে জোরে শ্বাস ছাড়ছে। সোহা ওর অবস্থা দেখে কেঁদে দিয়েছে। ওর শার্টটাও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সোহা ওর শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে বুকে হাত দিয়ে বলল,
“এই তোমার কি খারাপ লাগছে? এমন করছো কেনো? বড় আম্মুকে ডাকবো? দেখি তাকাও আমার দিকে। কি হয়েছে?”
আদ্রর কেমন একটা লাগছে। ও পানির দিকে হাত ইশারা করে বলল,
“পানি দে!”
সোহা পানির গ্লাস এনে দিয়ে বলল,
“এই নাও! বড় আম্মুকে ডাকবো?”
“না। ওই দেখ সাইড টেবিলে ওষুধ আছে। এনে দে।”
সোহা তড়িঘড়ি করে সাইড টেবিলের ড্রয়ার খুলে ওষুধ বের করে আদ্রর সামনে দিলো। আর বলল,
“কোনটা দিবো।”
আদ্র খুঁজে খুঁজে একটা ওষুধের পাতা নিয়ে সেখানে থেকে ২ টা ওষুধ খেয়ে নিলো। সোহা বলল,
“কিসের ওষুধ খেলে? একটা খেলেই তো হবে দুটো খেলে কেনো?”
“তু্ই বুঝবি না। রুমে যা।”
আদ্রর আবার গুলিয়ে উঠল। ও আবারও ওয়াশরুমে চলে এলো। এবারও বমি করে বের হলো। সোহা এগিয়ে এসে ধরার আগেই আদ্র বিছানায় এসে বসে আবারও দুটো ওষুধ খেয়ে উঁবু হয়ে শুয়ে পড়লো। এতো জোরেই শ্বাস নিচ্ছিলো যে ওর বুক অনেকটাই উপর-নিচ উঠানামা করছিলো। আদ্র ঐভাবেই বলল,
“তু্ই রুমে যা, এভাবে কেউ দেখলে সমস্যা হবে। বিয়ে বাড়ি অনেক লোকই আছে।”
সোহা কেঁদে কেঁদে বলল,
“তোমার শরীর ঠিক নেই আর আমাকে বলছো চলে যেতে! যাবো না আমি। লোকে দেখলে দেখুক। বলবো ভালোবাসি।”
আদ্র ঘাড় ঘুরিয়ে সোহার দিকে তাকালো। সোহা এগিয়ে এসে ওর হাতটা ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলল,
“বেশি খারাপ লাগছে। ওষুধ খেয়েছো না, ঠিক হবে। তুমি আস্তে আস্তে শ্বাস নাও।”
আদ্র সামনের দিকে ফিরে শুলো। তখন সোহা, ঝিলিক চলে আসার পরেই আদ্ররা ড্রিঙ্কস করেছিলো। বেশ অনেক দিন পরে আদ্র ড্রিঙ্কস করার ফলে এরকম অবস্থা হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে শ্বাস স্বাভাবিকভাবে নিতে নিতে ঘুমিয়ে গেলো।
সোহা পাশেই বসে রইলো।
শেষ রাতের দিকে….
রুদ্র অধরাকে বুকে জরিয়ে শুয়ে আছে। মাথায় হাতও বুলিয়ে দিচ্ছে। অধরা রুদ্রর উন্মুক্ত বুকে মুখ গুজে আছে। এরপরেই রুদ্র ওকে ছাড়িয়ে বিছানায় থেকে নেমে দাঁড়ালো। এরপরে অধরাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে। অধরা আমতা আমতা করে বলল,
“ক কি করছেন!”
“শাওয়ার নিবো দুজনে।”
“মা মানে?”
“গেলেই বুঝতে পারবে সোনা।”
অধরা লজ্জা পেলো। রুদ্র অধরাকে ঝর্ণার কলের নিচে দাঁড় করিয়ে পানি ছাড়লো। অধরার শরীরে পানি পড়তেই ও রুদ্রকে বলল,
“আপনি বাহিরে যান আমি আসছি।”
রুদ্র বিনাবাক্যে বেরিয়ে এলো। অধরা বের হয়ে আসতে আসতে রুদ্র বিছানায় থেকে ফুলের পাঁপড়িগুলো সরিয়ে চাদরটা উঠিয়ে বাস্কেটে রাখলো। এরপরে আরেকটা চাদর বিছিয়ে নিলো। অধরা ওয়াশরুমের দরজাটা অল্প একটু খুলে ডাকলো,
“শুনছেন! একটু এদিকে আসুন না!”
রুদ্র এগিয়ে গেলো।
“বলো!”
“বলছি লাগেজ থেকে আমার জামাকাপড় বের করে দিননা।”
“দিচ্ছি একটু দাড়াও।”
রুদ্র অধরার লাগেজ কি নিবে বুঝতে পারলো না। তাই বড় টাওয়ালটা নিয়ে ওয়াশরুমের কাছে এসে বলল,
“আপাতত তুমি টাওয়াল পড়ে বের হও, এরপরে কি পড়বে বের করো। আমি ঠিক পাচ্ছি না কি কি দিবো।”
অধরা টাওয়াল নিয়ে ভেজা কাপড়গুলো ছেড়ে টাওয়াল পেঁচিয়ে বের হলো। রুদ্র আরেকটা টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। অধরা লাগেজ থেকে জামাকাপড় বের করে ফটাফট পড়ে নিলো। এরপরে চুলটা টাওয়াল দিয়ে পেঁচিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে ভালো করে পড়তে শুরু করলো। এর পরপরই রুদ্র বের হলো টাওয়াল পড়ে। কাভার্ড খুলে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়ে চুল মুছে নিলো। অধরার শাড়ি পড়া তখনও হয়নি। রুদ্র হেল্প করলো। শাড়ি পড়িয়ে রুদ্র অধরাকে পাজা কোলে করে এনে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে কপালে চুমু খেয়ে বলল,
“ভোর হয়ে আসছে, এখন চুপচাপ ঘুমা।”
“আপনি?”
“একটু কাজ আছে।”
ঠিক আছে।”
রুদ্র ফোনটা নিলো আগে। এরপরে ওয়ালেট নিয়ে রুমের লাইট অফ করে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার পথে আদ্রকে ডাকতে ওর রুমে ঢুকলো। সোহাকে বিছানার নিচে বসে থাকতে দেখে অবাক হলো বৈকি। ও দরজা চাপিয়ে দিলো, এরপরে দরজায়ই শব্দ করতেই সোহা সজাগ হলো। আশপাশ তাকিয়ে রুদ্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উঠে দাড়ালো। মাথাটা নত করে বলল,
“রাতে ভাইয়ার শরীর খারাপ ছিলো তাই এখানে বসে ছিলাম। কখন ঘুমিয়ে গিয়েছি বুঝতে পারিনি।”
রুদ্র তেমন কিছু বলল না। হালকা হেসে বলল,
“কাউকে জানাতি, শুধু শুধু একা কষ্ট করতে গেলি। ভোর হয়ে আসছে এখন রুমে ফিরে শুয়ে পড়।”
“আচ্ছা।”
রুদ্র আবার কি যেনো ভেবে বলল,
“এই আগেই যাসনা। কেউ দেখলে অযথা সন্দেহ করবে আমার সাথে যাস। কেউ দেখলেও কিচ্ছু বলবে না। দাড়া!”
সোহা হাফ ছাড়লো। রুদ্র উপরে উপরে যতই শয়তানি করুক না কেনো, ভিতরে ভিতরে টান আছে। রুদ্র আদ্রর কাছে এসে ওকে ডাকলো,
“এই আদ্র! উঠ তো ভাই! আদ্র!”
সোহা বলল,
“ভাইয়াকে রাতে কয়েকবার ডেকেছি কিন্তু উঠেনি।”
রুদ্র এগিয়ে এসে আদ্রর নাকের সামনে হাত রাখলো। শ্বাস চলছে। পরপর ওর হাতে পালস চেক করলো। সবই ঠিক আছে। রুদ্র ভাবুক হয়ে গেলো। পরক্ষনেই কোমরে হাত রেখে বলল,
“এ ঘুমের ওষুধ খেয়েছে চিন্তা করিস না।”
“ওহহ।”
রুদ্র সোহার হাত ধরে বাহিরে নিয়ে এসে ওর রুমে পৌঁছে দিয়ে বেরিয়ে গেলো। তখন বাহিরে অন্ধকার।
চলবে....