ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমারই হাত ধরে রবের পথে

৩য় পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

তোমারই হাত ধরে রবের পথে




পর্ব–৩




> "যে হৃদয় রবের জন্য নিজেকে সংযত রাখে, আল্লাহ তার জন্য এমন প্রাপ্তি লিখে দেন, যা সে কল্পনাও করেনি।"










ফজরের নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হতেই মুসআব অনুভব করল ভোরের বাতাসে এক অন্যরকম প্রশান্তি মিশে আছে। রাতের বৃষ্টিতে রাস্তার ধুলো ধুয়ে গেছে। মসজিদের সামনের কদমগাছের পাতায় জমে থাকা পানির ফোঁটাগুলো প্রথম সূর্যের আলোয় মুক্তোর মতো ঝলমল করছে।




পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন গ্রামের প্রবীণ মানুষ হাজী আবদুল করিম। তিনি মুসআবকে দেখে মুচকি হেসে বললেন,




— "বাবা মুসআব, আজকাল তোমাকে দেখে আমার যৌবনের কথা মনে পড়ে। তখনও আমরা দিনের শুরু করতাম মসজিদ দিয়ে। এখনকার ছেলেদের মধ্যে এমন অভ্যাস খুব কমই দেখি।"




মুসআব লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল।




— "চাচা, আমি ভালো মানুষ নই। শুধু চেষ্টা করি আল্লাহ যেন আমাকে তাঁর অবাধ্য বান্দাদের দলে না রাখেন।"




বৃদ্ধ লোকটি তার কাঁধে হাত রেখে বললেন,




— "এই কথাটাই তো বড় হওয়ার লক্ষণ। যে নিজেকে ভালো মনে করে, সে আর এগোতে পারে না।"




কথাগুলো মুসআবের হৃদয়ে গেঁথে গেল।







---




বাসায় ফিরতেই রান্নাঘর থেকে ভেসে এলো গরম রুটির গন্ধ।




মা, আমেনা খাতুন, নাস্তা বানাচ্ছিলেন। ছেলেকে দেখেই হাসিমুখে বললেন,




— "এত ভোরে বের হয়েছিস, এখন একটু গরম গরম নাস্তা খেয়ে কলেজে যাস।"




মুসআব ব্যাগটা রেখে রান্নাঘরে ঢুকল।




— "মা, আমি আগে তোমাকে একটু সাহায্য করি?"




— "তোর তো ক্লাস আছে বাবা।"




— "আপনাকে সাহায্য করাটাও তো আমার দায়িত্ব।"




ছেলের কথায় মায়ের চোখে জল চিকচিক করে উঠল।




তিনি মনে মনে বললেন,




"হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে দুনিয়ার সফলতার আগে দ্বীনের সফলতা দান করুন।"







---




অন্যদিকে...




শহরের এক শান্ত মহল্লায় আয়াতও ফজরের পর নিজের পড়ার টেবিলে বসে ছিল।




তার সামনে খোলা কুরআন।




আজ সে সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত করছিল।




"ফাবি আয়্যি আলা-ই রাব্বিকুমা তুকাযযিবান..."




আয়াতটি পড়তে পড়তে তার চোখ ভিজে উঠল।




সে মনে মনে ভাবল,




"আল্লাহ আমাকে এত কিছু দিয়েছেন। সুস্থতা, পরিবার, ঈমান— অথচ আমি কত কম শুকরিয়া আদায় করি!"




ঠিক তখনই দরজায় নক করলেন তার মা।




— "আয়াত, নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাবে মা।"




আয়াত কুরআন বন্ধ করে চুমু খেল। তারপর ধীরে ধীরে ডাইনিং টেবিলে গিয়ে বসল।




তার বাবা সংবাদপত্র পড়ছিলেন।




মেয়েকে দেখে বললেন,




— "শোনো মা, পড়াশোনা অবশ্যই করবে। কিন্তু কখনো এমন সফলতা চাইবে না, যে সফলতার জন্য আল্লাহকে ভুলে যেতে হয়।"




আয়াত মাথা নত করে বলল,




— "ইনশাআল্লাহ আব্বু।"




এই একটি বাক্যই ছিল তার প্রতিজ্ঞা।







---




কলেজে যাওয়ার জন্য আজ একটু আগে বের হলো আয়াত।




আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।




রাস্তার দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল ফুল ফুটে আছে। বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ।




বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই সে লক্ষ্য করল, আজ মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম।




কিছুক্ষণ পর পরিচিত একটি ছায়া এসে দাঁড়াল একটু দূরে।




মুসআব।




আজও দু'জনের মধ্যে কোনো কথা হলো না।




কিন্তু আজকের নীরবতা গতকালের মতো অচেনা ছিল না।




দু'জনই নিজের দৃষ্টি সংযত রাখছিল।




কারণ তারা দু'জনই জানত—




যে অনুভূতির শুরুতে আল্লাহর ভয় থাকে, সে অনুভূতিই মানুষকে সীমা লঙ্ঘন করতে দেয় না।




ঠিক তখনই এক ছোট্ট ছেলে হাতে ফুল নিয়ে সবার কাছে বিক্রি করতে শুরু করল।




সে এসে মুসআবের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,




— "ভাইয়া, একটা ফুল নেন না। সারাদিনে একটা ফুলও বিক্রি করতে পারিনি।"




মুসআব পকেট থেকে কিছু টাকা বের করল।




একটি ফুল নিল।




তারপর বলল,




— "বাকি টাকাটা তোমার কাছেই থাক। আজ ভালো করে নাস্তা খেয়ো।"




ছেলেটির মুখ আনন্দে ভরে উঠল।




— "আল্লাহ আপনাকে অনেক সুখ দিক ভাইয়া!"




মুসআব শুধু মুচকি হাসল।




তার হাতে থাকা সাদা ফুলটির দিকে একবার তাকিয়ে আবার ব্যাগের ভেতর রেখে দিল।




সে জানত না—




দূরে দাঁড়িয়ে আয়াত এই পুরো দৃশ্যটাই দেখেছে।




তার মনে হলো,




"ভালো মানুষ হওয়া আসলে বড় বড় কথা বলার মধ্যে নয়; ছোট ছোট কাজের মধ্যেই তার পরিচয় লুকিয়ে থাকে।"




ঠিক তখনই বাস এসে থামল...







---




চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন