ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমারই হাত ধরে রবের পথে

৫ম পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

তোমারি হাত ধরে রবের পথে




Nahid Matabbor 




পর্ব–০৫




> "যে হৃদয় আল্লাহর জন্য অপেক্ষা করতে শেখে, আল্লাহ তার অপেক্ষাকে কখনোই বৃথা যেতে দেন না।"










ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ রাতকে বিদায় জানাচ্ছিল। চারপাশে এখনো আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। দূরের তালগাছের মাথায় বসে থাকা পাখিগুলো ডানা ঝাপটাতে শুরু করেছে। রাতের শেষ প্রহরের শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর প্রথম সূর্যের আলো পড়তেই প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।




মুসআব মসজিদ থেকে ফিরে নিজের ঘরে ঢুকল। দরজার পাশে রাখা বুকশেলফ থেকে কুরআন মাজিদ নামিয়ে কিছুক্ষণ তিলাওয়াত করল। প্রতিটি আয়াতের অর্থ নিয়ে ভাবা তার বহুদিনের অভ্যাস। আজ সূরা আল-হাদীদের একটি আয়াত পড়ে তার মনটা কেমন যেন আলোয় ভরে উঠল।




সে আস্তে করে কুরআন বন্ধ করে বলল,




— "হে আল্লাহ, আমার হৃদয়কে এমনভাবে গড়ে দিন, যেন মানুষের প্রশংসায় আমি অহংকারী না হই, আর মানুষের অবহেলায় ভেঙেও না পড়ি।"




এমন সময় দরজায় কড়া নাড়লেন তার মা।




— "বাবা, নাস্তা করে নিস। আজ তোর আব্বুর সঙ্গে একটু বাজারেও যেতে হবে।"




— "আচ্ছা আম্মু, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছি।"




মুসআব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পোশাক ঠিক করল। সাধারণ সাদা পাঞ্জাবি, পরিচ্ছন্ন টুপি আর শান্ত হাসি—এটাই ছিল তার পরিচয়। বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে চরিত্রের সৌন্দর্যকেই সে বেশি মূল্য দিত।







---




অন্যদিকে, আয়াতও ফজরের পর মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে কাজ করছিল।




তার মা মুচকি হেসে বললেন,




— "তুই চাইলে একটু পরে উঠলেও পারতিস।"




আয়াত হাসল।




— "আপনি একা কাজ করবেন আর আমি ঘুমাব? সেটা কীভাবে হয়?"




মা স্নেহভরা চোখে তাকিয়ে রইলেন।




— "যে মেয়ে সংসারের ছোট ছোট কাজকে ইবাদত মনে করে, আল্লাহ তার জীবনেও বরকত দেন।"




আয়াত চুপচাপ কথাটা মনে গেঁথে নিল।







---




কলেজে যাওয়ার আগে সে নিজের বইগুলো গুছিয়ে নিল। ব্যাগের ভেতর কুরআনের ছোট একটি অনুবাদসহ কপি সবসময়ই থাকে। ক্লাসের ফাঁকে দু-এক পৃষ্ঠা পড়া তার অভ্যাস।




বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে আজ একটু দেরি হয়ে গেল।




ঠিক তখনই বাসটা এসে থামল।




লোকজন দ্রুত উঠে পড়ছে। ভিড়ের মধ্যে এক ছোট্ট বাচ্চা তার মায়ের হাত ছেড়ে কেঁদে উঠল।




মুহূর্তের জন্য চারদিকে অস্থিরতা তৈরি হলো।




মুসআব দ্রুত নিচু হয়ে শিশুটিকে শান্ত করল।




— "ভয় পেও না। তোমার আম্মু এখানেই আছেন।"




শিশুটির মা ছুটে এসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।




চোখ ভেজা কণ্ঠে বললেন,




— "ভাই, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।"




মুসআব শুধু বলল,




— "সব প্রশংসা আল্লাহর।"




দূরে দাঁড়িয়ে আয়াত ঘটনাটা দেখল।




তার মনে হলো, একজন মানুষের চরিত্রকে বোঝার জন্য দীর্ঘ পরিচয়ের দরকার হয় না। ছোট ছোট কাজই মানুষকে বড় করে তোলে।




কিন্তু সে আবারও নিজের দৃষ্টি নিচু করল।




সে জানে, শ্রদ্ধা আর আসক্তির মাঝে খুব সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য আছে। সেই সীমারেখা অতিক্রম করতে সে চায় না।







---




বাস চলতে শুরু করল।




জানালার বাইরে মেঘে ঢাকা আকাশ, সবুজ গাছের সারি আর ভেজা রাস্তা—সব মিলিয়ে যেন এক শান্ত সকালের ছবি।




মুসআব নিজের ব্যাগ থেকে একটি ছোট বই বের করল—"রিয়াদুস সালেহীন"।




বাসের কোলাহলের মাঝেও সে মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগল।




সামনের সিটে বসা এক বৃদ্ধ বইটির দিকে তাকিয়ে বললেন,




— "বাবা, এখনকার ছেলেমেয়েদের হাতে তো শুধু মোবাইলই দেখি। তোমার হাতে হাদিসের বই দেখে খুব ভালো লাগল।"




মুসআব বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিল,




— "চাচা, আমিও অনেক ভুল করি। বইগুলো শুধু আমাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—আমি যেন আল্লাহকে ভুলে না যাই।"




বৃদ্ধ মানুষটি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন।







---




এদিকে আয়াত ব্যাগ থেকে নিজের নোটবুক বের করলেও তার চোখ আটকে গেল জানালার বাইরে।




মনের ভেতর একটা কথাই ঘুরছিল—




"হে আল্লাহ, আমাকে এমন মানুষ বানিয়ে দিন, যার চরিত্র দেখে মানুষ আপনার কথা স্মরণ করে।"




তার এই দোয়ার উত্তর কীভাবে, কখন, কোন পথে আসবে—তা সে জানত না।




কিন্তু ভাগ্যের অদৃশ্য পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে...




চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন