ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমারই হাত ধরে রবের পথে

১১তম পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

তোমারই হাত ধরে রবের পথে

লেখক: নাহিদ মাতাব্বর

পর্ব: ১১

«“যে মানুষ নিজের ভুল বুঝতে শেখে, সে আসলে বদলে যাওয়ার প্রথম ধাপেই পৌঁছে যায়।”»

পরদিন সকালটা শুরু হলো এক অদ্ভুত ঘটনা দিয়ে।

মাহিরা কলেজে ঢুকতেই দেখল গেটের সামনে বেশ ভিড়। কয়েকজন ছাত্রছাত্রী গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখান থেকে কারও উত্তেজিত কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে।

মাহিরা ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখল, একজন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দুজন সিনিয়র তর্ক করছে।

— “কী হয়েছে?” মাহিরা জিজ্ঞেস করল।

একজন বলল, “ও আমাদের নিয়ে খারাপ কথা বলেছে।”

ছেলেটা কাঁপা গলায় বলল, “আমি কিছু বলিনি।”

মাহিরার রাগ সঙ্গে সঙ্গে উঠে গেল।

— “প্রমাণ আছে?”

দুজন সিনিয়র একটু থেমে গেল।

মাহিরা বলল, “প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ করছেন কেন?”

একজন রেগে বলল, “আপনি মাঝখানে আসছেন কেন?”

মাহিরা এক পা এগিয়ে বলল, “কারণ অন্যায় দেখলে আমি চুপ থাকি না।”

ঠিক তখনই পেছন থেকে মুসআবের কণ্ঠ শোনা গেল,

— “মাহিরা, একটু থামুন।”

মাহিরা ঘুরে তাকাল।

— “কেন?”

মুসআব শান্তভাবে বলল, “রাগ করে কথা বললে বিষয়টা আরও খারাপ হবে।”

মাহিরা তীক্ষ্ণ গলায় বলল, “আপনি আবার শুরু করলেন?”

— “আমি শুধু বলছি, আগে পুরো ঘটনা শুনি।”

মাহিরা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।

মুসআব ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি কী বলেছিলে?”

ছেলেটা বলল, “আমি শুধু বলেছিলাম, ওনারা যেন ছোটদের সঙ্গে একটু ভালো ব্যবহার করেন।”

মুসআব দুজন সিনিয়রের দিকে তাকাল। “তাহলে এখানে অপমানের কিছু নেই।”

একজন বলল, “কিন্তু ও আমাদের সামনে কথা বলেছে।”

মুসআব শান্তভাবে বলল, “ছোট হওয়া মানে কি সত্য কথা বলার অধিকার নেই?”

চারপাশের সবাই চুপ হয়ে গেল।

মুসআব আরও বলল, “আমরা যদি বড় হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের আচরণেও সেটা দেখা উচিত।”

কথাটা শুনে দুজন সিনিয়র আর কিছু বলল না।

ভিড় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে গেল।

মাহিরা দাঁড়িয়ে ছিল।

তার মুখে রাগ নেই। বরং অদ্ভুত একটা ভাব।

মুসআব তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি ঠিক কাজটাই করতে চেয়েছিলেন। শুধু রাগটা একটু কমিয়ে বললে আরও ভালো হতো।”

মাহিরা বলল, “আমি জানি।”

মুসআব অবাক হলো।

— “জানেন?”

— “হ্যাঁ।”

— “তাহলে?”

মাহিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “সবসময় নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।”

মুসআব বলল, “চেষ্টা করলে পারবেন।”

মাহিরা তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনি সবকিছুর সমাধান এত সহজে বলে দেন কীভাবে?”

— “সমাধান বলা সহজ। নিজের জীবনে প্রয়োগ করা কঠিন।”

মাহিরা প্রথমবার মুসআবের কথায় হেসে ফেলল।

খুব ছোট্ট একটা হাসি।

কিন্তু মুসআব সেটা লক্ষ্য করল।

হামজা দূর থেকে সবকিছু দেখছিল।

সে কাছে এসে মুসআবের কানে কানে বলল, “আজ তো সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠেছে।”

মুসআব ভ্রু কুঁচকে বলল, “কেন?”

হামজা মাহিরার দিকে তাকিয়ে বলল, “মাহিরা হাসছে!”

মুসআব হাসি চেপে বলল, “চুপ কর।”

মাহিরা শুনে ফেলেছিল।

সে সঙ্গে সঙ্গে বলল, “আমি হাসলে আপনার কী সমস্যা?”

হামজা বলল, “আমার কোনো সমস্যা নেই। বরং খুব ভালো লাগছে।”

মাহিরা চোখ রাঙাল।

— “আপনিও বেশি কথা বলেন।”

হামজা হাত তুলে বলল, “আচ্ছা, চুপ।”

---

দুপুরে আয়াত মাহিরাকে একা পেয়ে বলল, “আজ তোকে অন্যরকম লাগছে।”

— “কীভাবে?”

— “জানি না। একটু শান্ত।”

মাহিরা বলল, “আজ একটা ঘটনা ঘটেছে।”

— “মুসআব?”

মাহিরা তাকিয়ে বলল, “তুই কীভাবে জানলি?”

আয়াত হেসে বলল, “তোর মুখ দেখলেই বোঝা যায়।”

মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে পুরো ঘটনাটা বলল।

আয়াত মন দিয়ে শুনল।

তারপর বলল, “দেখলি? মানুষকে দূর থেকে বিচার করা ঠিক না।”

মাহিরা ধীরে মাথা নাড়ল।

— “হুম।”

— “তুই কি ওকে এখন ভালো মনে করিস?”

মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে বলল, “ভালো মানুষ মনে হয়। কিন্তু...”

— “কিন্তু?”

— “জানি না।”

আয়াত তার দিকে তাকিয়ে রইল।

মাহিরা এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “এই নিয়ে আর প্রশ্ন করিস না।”

---

সন্ধ্যায় মুসআব বাড়ি ফিরছিল। রাস্তার মোড়ে হঠাৎ তার সামনে একটা রিকশা থামল।

রিকশা থেকে মাহিরা নামল।

দুজনের চোখাচোখি হলো।

মাহিরা অবাক হয়ে বলল, “আপনি?”

মুসআব বলল, “জি।”

— “আপনি কি আমাকে অনুসরণ করছেন?”

মুসআব অবাক হয়ে বলল, “না তো!”

মাহিরা হেসে ফেলল।

— “মজা করলাম।”

মুসআবও মৃদু হাসল।

এই প্রথম তাদের কথোপকথনে কোনো ঝগড়া হলো না।

মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, “আজকের জন্য ধন্যবাদ।”

— “কিসের?”

— “সকালের ব্যাপারটার জন্য।”

মুসআব মাথা নাড়ল।

— “আপনিও তো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।”

— “কিন্তু আপনি না এলে আমি হয়তো ঝগড়া করেই ফেলতাম।”

মুসআব বলল, “তাহলে আজকে দুজনেরই একটু উপকার হলো।”

মাহিরা হাসল।

তারপর রিকশায় উঠে চলে গেল।

মুসআব রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইল।

তার মুখে অল্প একটা হাসি।

সে বুঝতে পারছিল না, কেন আজকের ছোট্ট কথোপকথনটা তার মনে এতটা ভালো লাগছে।

আর মাহিরাও রিকশায় বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল।

তার নিজের মনকে সে একটা কথাই বলছিল—

“আমি শুধু ওকে সম্মান করি। এর বেশি কিছু না।”

কিন্তু হৃদয় তখনো কোনো উত্তর দেয়নি।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন