ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ের কোণে শুধু তুই

২য় পর্ব

লেখক: Afifa Maksura Esha

ইশান আর সাফওয়ান—দুজন যেন দুইদেহের এক প্রাণ। জীবনের তাগিদে আর পড়াশোনার সূত্রে গত পাঁচ বছর ধরে ইশান দেশের বাইরে। দীর্ঘ এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সে দেশে ফিরছে। তবে আসার আগে সাফওয়ানকে ও কড়া করে একটা শর্ত দিয়ে রেখেছিল—এয়ারপোর্টে আসার সময় সাফওয়ান যেন অবশ্যই ওর ‘বাটারফ্লাই’কে (ইরাকে) সঙ্গে নিয়ে আসে।

​এদিকে ময়মনসিংহ শহরের চৌধুরী বাড়িতে আজ উৎসবের আমেজ। শাহরিয়ার চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা দম্পতির বড় ছেলে, পুরো চৌধুরী পরিবারের নয়নের মণি ইশান আরমান চৌধুরী দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বাড়ি ফিরছে! ইশানদের যৌথ পরিবারে তার এক ছোট বোন রয়েছে—ছোল্লা বছরের মিষ্টি মেয়ে নাজিফা নুরি, যে সবেমাত্র নবম শ্রেণিতে পড়ছে।

​ইশানের ছোট চাচা ইকবাল চৌধুরী ও চাচি রাজিয়া সুলতানার দুই সন্তান। বড় মেয়ে তাসফিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে, আর ছোট ছেলে তাহসিন পনেরো বছরের কিশোর, পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে। অন্যদিকে, ইশানের ফুফু তানজিলা চৌধুরীও এ বাড়িতেই থাকেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে ফারহানা বৃষ্টি, সবেমাত্র ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।

​ইশান ভাই বাড়ি ফিরছে শুনে সবচেয়ে বেশি লাফাচ্ছিল ফারহানা আর নুরি। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ ও মহিলারা যখন রসুইঘরে ইশানের পছন্দের সব খাবার তৈরিতে ব্যস্ত, তখন ইশানের বাবা শাহরিয়ার চৌধুরী আর ছোট চাচা ইকবাল চৌধুরী তৈরি হচ্ছিলেন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য।

​বাড়ির ছোটদের মন কি আর ঘরে টেকে? নুরি আর ফারহানা এক পায়ে খাঁড়া—তারাও এয়ারপোর্টে যাবেই! বড়রা প্রথমে বেশ না করলেন, বিশেষ করে নুরির শরীরটা কয়েকদিন ধরে একটু দুর্বল। কিন্তু দুই বোনের মিষ্টি বায়নার কাছে অবশেষে হারের মুখ দেখতে হলো দুই অভিভাবককে। তাদের সঙ্গে নিয়েই গাড়ি ছুুটল এয়ারপোর্টের দিকে।

​ওদিকে সাফওয়ানও বোন ইরাকে নিয়ে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছে। প্রথমে ভিজে একসার হওয়া শরীর আর ক্লান্তি নিয়ে ইরা যেতে চায়নি, কিন্তু সাফওয়ানের বারবার অনুরোধে শেষমেশ না মেনে উপায় থাকল না। ময়মনসিংহ থেকে এয়ারপোর্টের দূরত্ব বেশ কিছুটা, তার ওপর রাস্তা জুড়ে আজ তীব্র যানজট। জ্যামের ধকল সয়ে যখন তারা পৌঁছাল, ততক্ষণে চৌধুরী বাড়ির লোকজনও এসে হাজির।

​ইরা ও সাফওয়ান এগিয়ে গিয়ে ইশানের বাবা ও চাচাকে সালাম দিল, কুশল বিনিময় করল। বেশ কিছুক্ষণ সাগ্রহে অপেক্ষা চলল ইশানের আসার জন্য।

​কিন্তু বাঁধ সাধল নুরির শারীরিক অসুস্থতা। হুট করেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিল সে। শরীরটা যে একেবারেই সঙ্গ দিচ্ছে না, তা আর বুঝতে বাকি রইল না। শাহরিয়ার চৌধুরী ও ইকবাল চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

​নুরির মন খারাপ, সে একা তো ফিরবেই না! অগত্যা ফারহানা আর বোনতুল্য ইরাকেও তার সাথে গাড়িতে উঠতে হলো।

​চৌধুরী বাড়িতে পা রাখতেই সবার প্রশ্ন—"কিরে? ইশান কোথায়?"

ফারহানা সবটা বুঝিয়ে বলল। ইরাও নাজনীন সুলতানার সঙ্গে হেসে কথা বলে নুরিকে রুমে পৌঁছে দিল। নাজনীন সুলতানা মেয়েকে কাছে পেয়ে একটু বকাঝকাও করলেন—অসুস্থ শরীর নিয়ে এতটা পথ খামখা দৌড়াদৌড়ি করার জন্য!

​ঠিক তখনই চৌধুরী বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে প্রবেশ করল সুপুরুষ যুবক— ইশান আরহাম চৌধুরী!

​পুরো ঘরে যেন এক নিমেষে আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল। পাঁচ বছর পর প্রিয় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে নাজনীন সুলতানা আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। ইশান শক্ত হাতে মাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করল, সবার সাথে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় সারল। সাফওয়ানের সাথেও হলো একপ্রস্থ হাসিঠাট্টা।

​জার্নির ক্লান্তিতে শরীরটা ভেঙে আসছিল ইশানের। তাই সবার শুভকামনা নিয়ে সে চলে গেল ফ্রেশ হতে।

​ইরা ততক্ষণে বাড়ির বসার ঘরে এসে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বসল। সাফওয়ানকে দেখে বলে উঠল,

"সাফওয়ান ভাইয়া, খুব ক্লান্তি লাগছে। চলো না এবার বাড়ি ফিরি?"

​বাড়ির অভিভাবকরা, বিশেষ করে ইশানের মা-চাচিরা খুব জোরাজোরি করলেন খেয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সাফওয়ান ও ইরা politely বুঝিয়ে আপাতত বিদায় চাইল।

​অদ্ভুত এক ভাগ্যের পরিহাস! যার জন্য ইশানের এই ব্যাকুলতা, সেই 'বাটারফ্লাই' অর্থাৎ ইরার সঙ্গে ইশানের একটিবারের জন্যও দেখা হলো না। ইরা যখন মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল, ইশান তখন শাওয়ার সেরে নিঝুম শান্তিতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

(চলবে..!!)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন