গল্পঃ #তোমায়_না_চিনেও_চেনা
লেখিকা: #এইশাত_রাদিয়া
পর্ব:৩
"তাহলেওরা কি ইরাকে সব জানিয়ে দিয়েছে"
তৎক্ষণাৎ নিশি রহিমাকে সন্ধিহান গলায় প্রশ্ন ছুড়লো,
"কে ইরাকে সব জানিয়ে দিয়েছে খালা ??আর কি বা জানাবে??"
তৎক্ষণাৎ এমন প্রশ্ন রহিমা কিছুটা ভরকে গেল, সে আবার কি জবাব দিবে ভেবে পেল না।
সে কোন রকম নিজেকে সামলে নিয়ে বোকার মত হাসি হাসি মুখ নিয়ে বলল,
"আসলে হইছে কি নিশি মামনি, খালুজান তো হাঁটতে গেছে আর এখন তো সন্ধ্যা হয়ে গেছে, আর ইরা মামনি তো এটা জানলে রাগ করব। তাই আমি মনে করছি কেউ ফোন দিয়া মামনিরে সব কইয়া দিছে।"
নিশি এখনো কিছুটা সন্ধিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রহিমার দিকে নিশির হাবভাব দেখে রহিমা বলে উঠলো,
"আমার রাতের রান্না করতে হইবো মামনিরা । আমি এখন যাই।"
এই বলে সে তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। ইরার সাথে এখন কথা বলা দরকার তাই নিশি রহিমার বিষয়টাকে নিয়ে কথা বাড়ালো না। এইদিকে ইরার কান্না কমে আসলেও পুরোপুরি থামেনি আর নিশি জানে ইরা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে ঠিক করে কথা বলতে পারবে না, উল্টো কান্না আরো বাড়বে। তাই নিশি ফোনটা ইরার দিকে ধরে ফানি রিলস দেখতে লাগলো আর ইরার চোখ সেইদিকে যেতেই তার কান্না আস্তে আস্তে থেমে গেল এবং সে ও রিলস দেখে হাসিতে মেতে উঠলো।
--
নিউইয়র্কে এখন সময় রাত ১:২০ মিনিট,,
উদয় রুমে এসে শাওয়ার নিতে চলে গেল। সে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর কোমরে তোয়ালে পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসলো। তারপর তার রুমে রাখা কফি মেকারে একটা ব্ল্যাক কফি বানিয়ে বিছানায় বসে ফোন স্ক্রল করতে লাগলো।
এমন সময়ের সিয়াম তার রুমে ঢুকলো। তখন উদয়ের সাথে সাথে সিয়ামও চলে এসেছিল। সে আর সিয়াম একই এপার্টমেন্টে থাকে। সিয়াম এসে উদয়ের পাশে বসলো। প্রায় দুই মিনিটের মতো নিশ্চুপ বসে থাকার পর উদয়ই মুখ খুলল, সে ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখেই বলল,
"কিরেহ্.কিছু বলবি? এইরকম হাবার মত বসে আছিস কেন??"
সিয়াম একটু রাগী ভাব নিয়ে বলে উঠলো,
"একদম মজা করবি না উদয়। আমি একটা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে কথা বলতে এসেছি।"
সিয়ামের কথা শুনে উদয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাতেই তার রাগী মনোভাব নিমিষেই মিলিয়ে গেল আর বোকা বোকা মুখ করে বলল,
"আসলে বলছিলাম কি.... আসলে...."
উদয় ক্ষিপ্ত মেসেজ বলল,
"কি গাধার মত আসলে আসলে করছিস! সরাসরি কথা বললে বল না বললে বের হ আমার রুম থেকে..আউট।"
"আরে এত রেগে যাচ্ছিস কেন ব্রো । আসলে বলতে চাইছিলাম...মামনি কল করেছিল আর অনেক কান্না করছিল।"
এই কথা শুনে উদয়ের কপালে ভাঁজ পড়ে আর সিয়ামের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়।
সিয়াম একটু থেমে উদয়ের দিকে তাকিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিমাতে বলতে শুরু করল,
"নানুর শরীর নাকি খুব একটা ভালো নেই। আজ দুপুরে খাওয়ার পরে নাকি মাথা ঘুরে পড়ে খিচুনি শুরু হয়, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার বলেছে, নানুর নাকি ব্রেইন ক্যান্সার ধরা পড়েছে। জ্ঞান ফেরার পর থেকে কাউকে চিনতে পারছে না। শুধু তোর আর ই..."
এইটুকু বলেই সিয়াম থামলো, দেখলো উদয় তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মুখ দেখে বলার উপায় নেই মনে এবং মাথায় কি চলছে। সিয়াম আমতা আমতা করে বলল,
"না মানে..শুধু তোর নাম ধরেই ডাকছে আর তোকে দেখতে চাচ্ছে। বাড়ির লোকেদের একবার চিনলে আরেকবার চিনতে পারছে না। তাই মামনি আমাকে বলেছে, তোকে নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরতে।"
সিয়াম তার কথা শেষ করে উদয়ের দিকে তাকালো, দেখল উদয় ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে মোবাইল স্ক্রল করছে। যেন কোন কিছুই হয়নি, সবকিছুই স্বাভাবিক। এবার উদয়ের হাব ভাব দেখে সিয়ামের রাগ উঠে যায়,সে ক্ষিপ্ত মেজাজে বলল,
"তুই গেলে যা আর না যা আমি যাচ্ছি।"
এটা বলে সে বেরিয়ে যেতে নেই, দরজার কাছাকাছি যেতেই উদয়ের কন্ঠ শোনা যায়, উদয় বলল,
"রাতের মধ্যে সব প্যাকিং করে নে, কাল সকালে আমাদের ফ্লাইট।"
এই কথা শুনেই সিয়াম খুশিতে গদ গদ হয়ে দৌড়ে এসে যেই উদয়কে জড়িয়ে ধরতে নিবে, তখনই উদয় হাত দিয়ে সিয়ামকে থামিয়ে নাক ছিটকানো ভাব নিয়ে বলে উঠলো,
"থাম...থাম... মেয়েদের মত এত ঢং করতে হবে না। আমি কেবল শাওয়ার নিলাম। তোর গা থেকে ঘামের গন্ধ প্লাস পারফিউম এর গন্ধ মিশে মরা ইঁদুরের গন্ধ বের হচ্ছে..ছ্যাহ্..."
উদয়ের এইরূপ কথায় সিয়াম না রেগে উল্টো খুশিতে আগের ন্যায় বলতে থাকলো,
"থ্যাংক ইউ ব্রো.. থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। কাল ফাইনালি আমরা দেশে ফিরছি। তাড়াতাড়ি প্যাকিং শেষ করে ঘুমাতে যাই, কাল সকাল সকাল উঠতে হবে।"
সিয়াম যেই আবার যেতে নিবে, ওমনি উদয় তার অবশিষ্ট ঠান্ডা হওয়ার কফি তার গায়ে ঢেলে দেয়। সিয়াম কিছু না বুঝে বোকার মত হা করে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। তখন উদয় বলল,
"এরকম গরুর মত হাঁ করে না থেকে যা এখন শাওয়ার নিয়ে, প্যাকিং করে ঘুমিয়ে পর।"
সিয়াম মুখ বন্ধ করে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল,
"ব্রো..এটা তুমি কি করলে!!? এখন তোমার জন্য আমার এত রাতে শাওয়ার নিতে হবে,, তুমি জানো আমার রাতে শাওয়ার নিতে কত কষ্ট হয়,,তবুও তুমি এরকমটা করলে। আমি অভিশাপ দিলাম তুমি জীবনেও বাসর করতে পারবে না।"
"আজেবাজে কথা বাদ দিয়ে এখন যা। তুই জানিস আমি ঘুমানোর আগে শাওয়ার না নিয়ে ঘুমাতে পারিনা, আর যারা শাওয়ার না নিয়ে ঘুমায় তাদের আমি সহ্য করতে পারিনা। যা এবার রুম থেকে,, বের হও।"
সিয়াম কিছু বলতে যাবে ওই মুহূর্তে উদয় উঠে সিয়ামকে বাইরে বের করে দরজা লাগাতে লাগাতে বললো,
" আউট"
--
ইরা আর নিশির রিলস দেখার মাঝখানে কামরুল হকের নাম্বার থেকে কল আসলো নিশির ফোনে। নিশি কল রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে ও পাশ থেকে পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। লোকটা কিছু একটা বলল কিন্তু ইরা শুনতে পেল না, লোকটার কথা শুনে নিশি অস্পষ্ট সুরে বলল,,
""এক্সিডেন্ট''"
--
চলবে..??