ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

৫ম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্পঃ #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #এইশাত_রাদিয়া

পর্ব :৫

রুপা:"ভাইয়া...."

কারো ডাকে ইরা-উদয় দুজনেই ছিটকে দূরে সরে যায়। উদয় পিছন ঘুরে দেখে রুপা তাদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। উদয় বুঝে যাই রুপার এইরকম রিয়াকশন এর কারণ। উদয় বিচলিত ভঙ্গিতে বললো,

উদয়: "তুই যা ভাবছিস তা নয়, আমরা তো জাস্ট.."

রুপা: "যদি সেটা না হয় তাহলে আমি কি ভুল দেখলাম ভাইয়া??"

উদয় এবার রাগী গলায় বলল,

উদয়:"যা বুঝিস না তা নিয়ে কথা বলিস না। আর একটা কথা মনে রাখবি যেটা চোখে দেখা যায় তা সবসময় সত্যি হয় না, মাইন্ড ইট।"

উদয়ের রাগ দেখে রুপা আর কিছু বলার সাহস পেলো না।

উদয়: "বায় দ্যা ওয়ে, এই মেয়েটা কে??"

এইবার রুপা উৎফুল্লতার সাথে বলে,

রুপা: "ভাইয়া ওকে চিনতে পারোনি.. না চিনেই এতো কিছু "

শেষের কথাটা একটু বিড়বিড় করেই বললো ।

উদয়:" চিনলে কি তোকে ঢোল পিটিয়ে জিজ্ঞেস করতাম?"

রুপা:" ও তো তোমার ই.."

তখনি উদয়ের ফোন বেজে উঠল । রিফাত কল করেছে, রিফাত তার ছোট বেলার বন্ধু। উদয় ফোন পাওয়ার সাথে সাথে ধব ধব পা ফেলে বেরিয়ে গেলো। উদয় বেরিয়ে যেতেই রুপা মিটিমিটি হেসে ইরার পাশে বসল। ইরা বুঝতে পারছে না এইরকম হাসির কারণ ।

রুপা:" কিরে,, আমার ভাই আসার পর থেকে রুম থেকেই বের হলি না আর এখন সরাসরি কিস?? তো ভাই কি কিস দিয়ে তোর রাগ ভাঙ্গাচ্ছিল??"

রুপার কথা শুনে ইরা যেনো আকাশ থেকে পড়ল। এই মেয়ে কি আবোল তাবোল বলে যাচ্ছে।

ইরা:"কি সব বলছো তুমি?? কিসের কিস?? আর এইটা উদয় ভাই "

রুপা:"এমন ঢং করছিস যেনো চিনিসই না, অথচ লুকিয়ে লুকিয়ে কি সব করছিলি "

ইরা: আরে আপু,, তুমি ভুল বুঝতেছো। আমি ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় আর দেখি উদয় ভাই একদম আমার মুখের উপরে ঝুঁকে আছে, আমিতো ভয় পেয়ে গেছিলাম, তাই চিৎকার করে ফেলেছি,সাথে সাথেই উদয় ভাই হাত দিয়ে আমার মুখে চেপে ধরে। আর তুমি পেছন থেকে দেখে কি না কি ভাবলে ।"

ইরার কথা শুনে রুপার হাসি হাসি মুখটা শুকিয়ে গেলো। সে যেনো কোনো জটিল ভাবনায় ডুব দিয়েছে। রুপার এই অবস্থা দেখে ইরা ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গেলো। রোকেয়া চৌধুরীর ডাকে কিছুক্ষণ পরে রুপাও নিচে চলে গেলো। ইরা মুখে ফেসওয়াশ মেখে কাবার্ট থেকে জামাকাপড় নিতে এলো। আজ বিকেলেই রহিমা এসে ইরার জামা কাপড় দিয়ে গেছে।

ইরা যখন কাবার্ড বদ্ধ করে পেছনে ঘুরতে যাবে তখনই পেছন থেকে একটা পুরুষালি কণ্ঠস্বর শোনা যায়,

সিয়াম:" আমার ময়না পাখি রাগ করছে নাকি। আসার পর থেকে আমার দিকে একবার তাকালেও না।আমার অন্যায়টা যদি বলতেন মহারানী।"

ইরা তো এবার অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল।

সিয়াম ইরাকে রুপা ভেবে এইসব বলছিল। যখন সে দেখল ইরা কোন কথা বলছে না তখন সে ইরাকে জড়িয়ে ধরতে গেল আর বলল,

সিয়াম:" আসো তোমাকে একটা হাগ দেই,তাহলেই তোমার রাগ সব গলে পানি হয়ে যাবে।"

তখনই ইরা চিৎকার দিল আর রুপাও পিছনে এসে দাঁড়িয়েছিল,সেও চিৎকার দিল। দুজনের চিৎকারে মাঝখান থেকে সিয়াম ভয় পেয়ে কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে সেও একি ভাবে চিৎকার দিল। কি একটা অবস্থা ।

সিয়াম পিছনে ঘুরে রুপাকে দেখে বলল,

সিয়াম: "ময়না পাখি,তুমি এখানে তাহলে সামনে কে??"

এই বলে সিয়াম যেই পিছনে ঘুরল অমনি ইরাও পেছনে ঘুরলো। দুজন এর চোখাচোখি হতেই সিয়াম আবার জোরে চিৎকার দিয়ে উঠলো। কারণ ইরার মুখে ফেসওয়াস মাখা ছিল। সিয়াম চিৎকার দিয়ে বলল,

সিয়াম: "ভূত,ভূত কে আছো বাঁচাও , ভূতে আমার ঘাড় মটকে দিলো ।"

রুপা তাড়াতাড়ি করে এসে সিয়ামের মুখ চেপে ধরল, আর রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

রুপা: "আরে শালা এটা ভূত না এটা আমাদের ইরা।"

সিয়াম:" কিহ্, এটা ইরা?? তাহলে ইরা তুমি এই রাতে ভূত সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলে কেনো??"

বিস্ময়ে ইরার মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না।

ইরা: "তুমি সিয়াম ভাইয়া?? তোমরা দুই ভাই এইরকম অদ্ভুত কেনো??"

সিয়াম:"দুই ভাই মানে?? তুমি আর কার কথা বলছো??"

ইরা:"উদয় ভাই"

রুপা:" ইরা এখন যা তুই আগে ফ্রেশ হয়ে আয়। যা ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি তুই আমার...."

রুপা থেমে গেলো, কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। ইরা সিয়ামের কথা জানে না। শুধু জানত রুপার একজনের সাথে রিলেশন আছে। ইরা অনেকবার রূপাকে জিজ্ঞেস করেছে ছেলেটা কে, কিন্তু রুপা বলেনি । শুধু বলতো একেবারে সামনাসামনি দেখবো।

কিন্তু আজকে যে এভাবে দেখা হয়ে যাবে এটা কে জানতো। ,,,

ইরা:" তোমার কি হ্যাঁ??"

ইরা ব্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলো। রুপা ইরাকে ধাক্কা দিয়ে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিলো। রুপা এসে সিয়ামের সামনে দাঁড়ালো।

রুপা: 'এই তোমার সমস্যা কি। তুমি আমার রুমে কি করছো, তোমাকে না বারণ করেছি আমার সাথে কথা বলবে না। তাহলে কেনো এসেছো, যাও বেরিয়ে যাও আমার রুম থেকে "

রুপা সিয়ামকে সজোরে ধাক্কা দিলো। সিয়াম তাল সামলাতে না পেরে পিছনে রাখা কাউচ এর উপর গিয়ে পড়ল। রুপা সিয়ামকে টেনে তুলে রুম থেকে বের করতে যাবে ওই সময়ই সিয়াম রূপাকে টেনে তার উপরে ফেলে দিলো রুপা যেই কিছু বলতে যাবে অমনি সিয়াম রুপার ঠোঁট নিজের দখলে নিয়ে নিলো। রুপা নিজেকে ছাড়ানোর ব্যার্থ চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্তু রুপার শক্তি সিয়ামের বলিষ্ঠ দেহের শক্তির কাছে কিছুই না। এইদিকে রুপার শক্তি প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, তার দম আটকে আসছে কিন্তু সিয়ামের সেইদিকে খেয়ালই নেই। তখনই বাথরুমের দরজায় ইরা ধাক্কাতে লাগলো আর বলতে লাগলো,

ইরা: "আপু দরজাটা খুলো, আমার হয়ে গেছে।"

ইরার ডাক শুনে সিয়ামের ধ্যান ভাঙ্গে। সে রূপাকে ছেড়ে দিলো।

সিয়াম:" আমি জানি না আমার কি ভুল, তবুও সরি। বাট কখনো আমাকে ইগনোর করো না ময়না পাখি, তাহলে সেটা তোমার জন্যে ভালো হবে না।"

সিয়াম চলে গেলো। রুপা নিজেকে স্বাভাবিক করে তাড়াতাড়ি গিয়ে ওয়াশরুমের দরজা খুলে দিলো।

--

ওই দিনের পর তিন দিন কেটে গেছে,

এই তিন দিনে কামরুল হকের অবস্থা অনেকটা ভালো হয়েছে, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও প্রায় সাত দিনের মতো লাগবে।

কাল ইরার কলেজ খুলা। তাই নিশিকে ফোন দিয়ে তাকে নিতে আসতে বলেছে।

উদয় সেই যে বেড়িয়ে ছিলো এখনও বাড়িতে ফিরেনি। কেউ ফোন করলে বলেছে রিফাতের সাথে একটা কাজে সিলেট গেছে,কাল ফিরে আসবে। এই রকম বলতে বলতে আজ তিন দিন কেটে গেছে।

ইরা সকালে নাস্তা করে ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছিল তখন লতিফা চৌধুরী এসে তার পাশে বসে। ইরা তাঁকে দেখে একটা মুচকি হাঁসি দেই লতিফা চৌধুরীও হাসে।

তাদের এই ভালো সম্পর্কে দেখে রান্না ঘর থেকে লুৎফা বেগম রূপাকে বলল,

লুৎফা: "আম্মার এই মেয়ের সাথে এতো আদিখ্যেতা দেখানোর কারণ তো আমি খুঁজে পাই না। এই মেয়ের সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলার কি আছে, কই আমাদের সাথে তো এইভাবে কথা বলে না সবসময় গম্ভীর থাকে।"

রুপা শক্ত কণ্ঠে উত্তর দিলো,

রুপা:"কারণটা নিশ্চয় তোমার অজানা নয় ফুপ্পী? হয়তো ইরা জানে না কিন্তু আমরা সবাই তো জানি আসল কারণটা। তাহলে ওকে দেখে এতো বিরক্ত হওয়ার কি আছে"

লুৎফা: "বিরক্ত হবো না তো খুশিতে নাচবো, তুই ভালো করেই জানিস এই মেয়ের জন্যই উদয় এতো বছর দেশে ফিরেনি এবং কি এই মেয়ের জন্যই দেশ ছেড়েছিল। আর সাথে আমার ছেলেটাও ফিরেনি, তার এক কথা সে তার ভাইকে ছাড়া আসবে না। আম্মা যদি অসুস্থ হওয়ার অভিনয়টা না করতো তাহলে কি এবারও ওদের দেশে ফিরাতে পারতি?? আচ্ছা উদয়ের সাথে কি ইরার দেখা হয়নি এখনও, ও কি জানে না ইরা এই বাড়িতেই আছে এখন?"

রুপা:" না জানে না। আর ভাইয়ার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পিছনে ইরার কোনো দোষ নেই, সেটা তুমিও জানো আমিও জানি, তাই অকারণে ইরাকে দোষ দিও না"

লুৎফা:" দোষ দিতে না করছিস? যেই মেয়ের কারণে ছেলে মায়ের সাথে দুই বছর যাবৎ কথা বলে না, ওই মেয়েকে দোষ দিবো না"

রুপা:"না দিবে না।"

এই বলে রুপা রান্নাঘর থেকে চা নিয়ে বেরিয়ে যায়। সে রান্নাঘরে চা বানাতে এসেছিল।

সে চা নিয়ে এসে লতিফা চৌধুরীকে দিতে যাবে ওই সময়েই দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে। ইরা গিয়ে দরজা খুলে আর দরজা খোলার সাথে সাথে সে অবাক হয়ে যায়। কারণ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে উদয়।

--

চলবে .??

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন