ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

১০ম পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প: #তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা: #সুহাসিনী(এইশাত_রাদিয়া)

#পর্ব : ১০

রুপা: "ভাইয়া.. কিছু বলবে?"

উদয়:"তুই এখনে?"

রুপা: "আমি আমার রুমের সামনে থাকবো না তো কি তোমার রুমের সামনে থাকবো!"

উদয়:"এইভাবে কথা বলছিস কেনো?"

রুপা:" তো কীভাবে কথা বলবো? তুমি একটা নিষ্ঠুর ভাইয়া"

উদয়:"আমি আবার তোর সাথে কী নিষ্ঠুরতাগিরি করলাম?? আজব তো"

রুপা:"আমার সাথে করোনি, আমার সাথে করতে আসলেও আমি করতে দিতাম নাকি। তুমি আমার ছোটো বনু প্লাস ভাবির সাথে নিষ্ঠুরতাগিরি করেছো। তাই আজকে থেকে তোমার সাথে আমার আড়ি"

উদয়:"ছোটো বনু প্লাস ভাবি মানে?"

রুপা: "তোমাকে বুঝাতে হবে না। তুমি এখন আমার রুমের সামনে থেকে যাও, নয়তো আমার বনুভাবির ঘুম ভেঙে যাবে। আম্মু বলেছে তোমাকে যেনো এই ঘরে আসতে না দেই।"

উদয়:"হোয়াট দা বনুভাবি? কি তখন থেকে পাগলের প্রলাপ বলে যাচ্ছিস। তোর কি মাথার তার সব ছিড়ে গেছে নাকি আগে থেকেই ছেড়া ছিলো।"

রুপা:"দেখো ভাইয়া মজা করবে না। এখান থেকে যেতে বলছি যাও, নয়তো আমি কিন্তু আম্মুকে ডাকবো।"

উদয়:"যাবো না।কি করবি কর। আম্মুকে ডাকবি ডাক। কিন্তু আমি আমার বউ এর সাথে দেখা করবই।"

এইবার যেনো রুপা অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেল। কি বলে ছেলে। সকালেই তো কত রাগ দেখিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। আর এখন ফিরে এসে আবোল তাবোল বলছে। একে কি জ্বিনে ধরলো নাকি।

রুপা:"ভাইয়া তুমি কি নেশা টেশা করে এসেছো নাকি? আমি আম্মুকে এক্ষুণি বলে দিবো তুমি নেশা করেছো।"

উদয়:" চুপ বেয়াদব "

উদয়ের ধমকে রুপা একেবারে চুপসে গেল। যাও এতক্ষণ সাহস নিয়ে মুখে মুখে কথা বলছিলো এখন আর সেই সাহসটুকুও বোধহয় গায়েব হয়ে গেছে।

উদয় এবার শান্ত কণ্ঠে বলল,

উদয়:" তোর রুমে কি এমন আছে যে ঢুকতে দিচ্ছিস না?"

রুপা একটু আমতা আমতা করে বলল,

রুপা:"তু..তুমি ঢুকতেই বা চাইছো কে..কেনো?"

উদয়:"সেই কৈফিয়ৎ আমি তোকে দিবো না।"

উদয় আর কথা না বাড়িয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে গেলো। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো রুমে কেউ নেই।

বাইরে উদয় আর রুপার কথা শুনে ইরার ঘুম ভেঙে যায়। যখন সে শুনে উদয় রুপাকে ধমক দিচ্ছে আর ভেতরে আসার চেষ্টা করছে তখনই ভয়ে সে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়, যেনো উদয় তাকে খুজে না পায়।

ওয়াশরুমে বসে বসে ইরা বিরবির করে বলতে থাকে,

ইরা: "কি আজব লোক রে বাবা, সকালেই ধমক দিলো, সামনে যেতে মানা করলো আর এখন নিজেই দেখা করতে চলে এসেছে। নিশ্চয় আমাকে আবার ধমকাতে এসেছে খবিশ বেটায়। আল্লাহ্ এই ছেলেকে নাকি আমি আগে ভালোবাসতাম। আর এই নাকি আমার জামাই। এই খবিশের সাথে আমি সংসার করবো কি ভাবে।"

উদয় রুমে কাউকে খুঁজে না পেয়ে চলে যেতে নিলো, তখনই ওর চোখ গেলো ওয়াশরুমের দরজার দিকে। উদয় বুঝে যায় ইরা ইচ্ছে করেই লুকিয়ে আছে। উদয় রুপার দিকে তাঁকিয়ে ইশারায় বলে ইরাকে ডাকতে।

রুপা প্রথমে ডাকতে চায়নি কিন্তু যখন দেখলো উদয় তার দিকে বড়ো বড়ো চোখ করে তাঁকিয়ে আছে তখন ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও তাকে ডাকতে হলো।

রুপা ইরাকে তিন থেকে চার বার ডাকার পরে ইরা ভেতর থেকে বলে,

ইরা: "কি হয়েছে আপু, এইভাবে ডাকছো কেনো? জরুরি কাজ সারছি এখন বাইরে আসতে পারব না।"

রুপা এবার অসহায় মুখ করে উদয়ের দিকে তাকায়। উদয় ফিসফিস করে রুপার কানে কানে বললো,

উদয়:" বল যে, ভাইয়া চলে গেছে এখন বের হয়।"

রুপাও তাই বলল। ইরা বেরিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে পা মুছতে মুছতে বলল,

ইরা: "তোমার ভাইটা এমন অদ্ভুত কেনো গো? আস্ত একটা খবিশ বেটা।"

ইরা যেই মাথা তুলে পা বাড়াতে গেলো তখনই শক্তপোক্ত একটা কিছুর সাথে ধাক্কা খেলো। বিরক্তিতে ইরার নাক মুখ কুচকে এলো। সে মাথা তুলে দেখতে নিলো যে কিসের সাথে ধাক্কা খেলো। ইরা সামনের দিকে তাকাতেই উদয়কে দেখে তার চোখ দুটো যেন বেরিয়ে আসার উপক্রম। তার মানে রুপা আপু তার সাথে চিটিং করেছে। তাকে এই লোকটার হাতে মার খাওয়াতে ওয়াশরুম থেকে বের করলো।

ইরা রুপার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকাতেই রুপা অসহায় মুখ করে কানে ধরে সরি বলল। উদয় দৃষ্টি ইরার দিকে স্থির রেখেই বলল,

উদয়: "এই যে মেয়ে,এতক্ষণ ওয়াশরুমে লুকিয়ে ছিলে কেন?আমার সামনে আসতে চাইছিলে না কেন?"

ইরা কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। সে আমতা আমতা করে কোন রকমে বলল,

ইরা: "আআমি তো ইয়ে ককরছিলাম উদয় ভাই, লুকিয়ে ছিলাম না তো।"

উদয়:" চুপ, একটা কথা বলি মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে রাখো, আমার সাথে কখনো মিথ্যা বলো না আর বলার চেষ্টাও করো না। আন্ডারস্ট্যান্ড"

ইরা সম্মতিসূচক শুধু মাথা নাড়ালো।

উদয়: বায় দ্যা ওয়ে, ইয়ে মানে কি?

ইরা: "ইয়ে মানে ইয়ে, যেটা সবাই ওয়াশরুমে করে থাকে।"

উদয়:"যেটা সবাই ওয়াশরুমে করে সেটাকে যে ইয়ে বলে আজকে প্রথম জানলাম।"

ইরা: "বাংলাদেশে এটায় বলে।"

উদয়:" রুপা, আমি মনে হয় ভিন দেশের।"

তখনই রোকেয়া বেগম খাবার হাতে রুমে প্রবেশ করলো।

রোকেয়া:"উদয় তুই এখানে?"

উদয়:" আমাকে আশা করোনি বুঝি"

রোকেয়া: "আশা করার কথা ছিলো নাকি"

উদয়: "আজকে থেকে অভ্যাস করে নাও।"

ইরার দিকে তাকিয়ে,

উদয়:"এই মেয়ে, এখন থেকে আমি যতক্ষণ বাসায় থাকবো ততক্ষণ যেনো তোমাকে আমার সামনে দেখি।"

ইরা:"আপনি তো আমাকে আপনার সামনে যেতে না করেছেন সকালে "

উদয়:"সকালে না করেছিলাম, এখন তো যেতে বলেছি। আর হ্যাঁ, আমি ছাড়া অন্য কোনো ছেলের সামনে হিজাব বিহীন বা মাথায় ওড়না বিহীন যেনো না দেখি। যতদূর সম্ভব অন্য ছেলেদের সামনে না যাওয়ার চেষ্টা করবে। বুঝেছো "

উদয়ের কথা গুলো যেনো রুমের উপস্থিত সকলের মাথার উপর দিয়ে গেলো।

ইরাকে কথা বলতে না দেখে উদয় ধমকের সুরে বলল,

উদয়:"কি হলো বুঝেছো?"

ভয়ে ইরা তাড়াতাড়ি করে বলল,

ইরা:"হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝেছি উদয় ভাই"

উদয়:"গুড গার্ল"

বলেই উদয় রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। উদয় চলে যেতেই উপস্থিত সবাই সবার মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো।

--

সকাল 9 টা কি 9:30,

নিশি চৌধুরী বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ঢুকছিল। তার পড়নে নীল রঙের একটা শাড়ি, হাতে শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে চুড়ি পড়েছে, চুল গুলো পিঠে ছড়িয়ে আছে।

নিশি কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পরে যাচ্ছিলো কিন্তু ওই ব্যক্তিটি ওকে ধরে নেয় । লোকটি ভাবলেশহীন ভাবে তার পাশ দিয়ে চলে গেলো । ও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে মনে বিড়বিড় করলো,

নিশি:"কেমন লোক রে বাবা, ধাক্কা দিলো নিজে কিন্তু তার মধ্যে কোনো অনুশোচনায় নেই, অন্তত সরি টা বলতে পারতো, তা না, উল্টো রোবটের মতো চলে গেলো। যাই হোক, শালা কিন্তু হ্যান্ডসাম আছে।"

ততক্ষণে হাসান নিশির চোখের আড়াল হয়ে গেছে। পেছন থেকে কারো ডাক শুনে তার ধ্যান ভাঙলো। সে পিছনে ঘুরে তাকাতেই তার দুই ঠোঁট দুই দিকে সরে গেলো।

--

চলবে..?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন